মৃতের নিকট কাঁদা

মৃতের নিকট কাঁদা

মৃতের নিকট কাঁদা  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৬. অধ্যায়ঃ মৃতের নিকট কাঁদা

২০১৯

উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন আবু সালামাহ্‌ [রাদি.] ইনতিকাল করিলেন আমি [আক্ষেপ করলাম] বললাম, আহ! নির্বাসিত ব্যক্তি! আহ! বিদেশ ভূমিতে মারা গেল! আমি তাহাঁর জন্য এমনভাবে [বুক ফাটিয়ে] কান্নাকাটি করব যা মানুষের মাঝে চর্চা হইতে থাকিবে। আমি কান্নার জন্যে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, এমন সময় একজন মহিলা আমাকে সঙ্গ দেয়ার মনোভাব নিয়ে মাদীনায় উঁচু এলাকা থেকে আসলেন এমন সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সামনে এগিয়ে এসে বললেনঃ আরে! তুমি কি শাইত্বনকে ঐ ঘরে ঢুকাতে চাচ্ছ যেখান থেকে মহান আল্লাহ তাকে দুবার তাড়িয়ে দিয়েছেন? [উম্মু সালামাহ্‌ বলেন] এ কথা শুনামাত্র আমি কান্না বন্ধ করলাম এবং আর কাঁদলাম না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৩, ইসলামিক সেন্টার- ২০১০]

২০২০

উসামাহ্‌ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকটে ছিলাম। এমন সময় তাহাঁর এক কন্যা তাহাঁর কাছে সংবাদ পাঠালেন যে, তাহাঁর একটা শিশু অথবা ছেলে মুমূর্ষু অবস্থায় আছে, তিনি যেন এখানে আসেন। নবী [সাঃআঃ] সংবাদ বাহককে বলিলেন, তুমি গিয়ে তাকে বল, আল্লাহ যা নিয়ে গেছেন তা তাহাঁরই আর যা দান করিয়াছেন তাও তাহাঁরই। আর প্রত্যেক বস্তুর জন্য তাহাঁর কাছে একটা নির্দিষ্ট মেয়াদ আছে। তাকে বলে দাও যেন সে সবর করে এবং আল্লাহর কাছে প্রতিদানের আশা করে। সংবাদদাতা ফিরে এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! তিনি আল্লাহর কসম দিয়ে বলেছেন, যাতে আপনি একটু আসেন। উসামাহ্‌ [রাদি.] বলেন, এরপর নবী [সাঃআঃ] উঠে রওয়ানা হলেন। সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.] ও মুআয্‌ ইবনি জাবাল [রাদি.] তার সাথে গেলেন আমিও তাদের সাথে গেলাম। সেখানে পৌছলে শিশুটিকে তাহাঁর কাছে উঠিয়ে আনা হল। বাচ্চাটির রূহ এমনভাবে ধড়ফড় করছে যেন পুরাতন মশকের মধ্যে ঝনঝন শব্দ হচ্ছে। এ করুণ অবস্থা দেখে তাহাঁর চোখ দিয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ল। সাদ [রাদি.] নবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, একি হে আল্লাহর রসূল? তিনি উত্তরে বলিলেন, এ হচ্ছে দয়া, যা আল্লাহ তাআলা তাহাঁর বান্দাদের অন্তঃকরণে সৃষ্টি করে রেখেছেন। আর নিশ্চয়ই আল্লাহ তাহাঁর বান্দাদের মধ্যে দয়ালু ও স্নেহপরায়ণদের প্রতি দয়া করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৪, ইসলামিক সেন্টার- ২০১১]

২০২১

মুহাম্মাদ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি নুমায়র, আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. সকলেই আসিম আল আহ্ওয়াল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে হাম্মাদের বর্ণিত হাদীসটি অপেক্ষাকৃত পূর্ণাঙ্গ ও লম্বা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৫, ইসলামিক সেন্টার- ২০১২]

২০২২

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.] কঠিন পীড়ায় আক্রান্ত হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবদুর রহমান ইবনি আওফ , সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস ও আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.]-কে সঙ্গে নিয়ে তাকে দেখিতে গেলেন। তিনি সেখানে পৌছে তাকে সংজ্ঞাহীন অবস্থায় পেলেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, অবস্থা কি শেষ? লোকেরা বলিল, না হে আল্লাহর রসূল! অবস্থা দেখে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কাঁদতে লাগলেন। উপস্থিত লোকেরা তাহাঁর কান্না দেখে কাঁদতে শুরু করিল। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা কি শোননি যে, আল্লাহ তাআলা চোখের অশ্রুর কারণে ও হৃদয়ের অস্থিরতার জন্যে বান্দাকে শাস্তি দিবেন না? বরং তিনি এ কারণে আযাব করবেন বা করুণা প্রদর্শন করবেন, তিনি জিহ্ববার দিকে ইঙ্গিত করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২০০৬, ইসলামিক সেন্টার- ২০১৩]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply