জানাযা অধ্যায়। মৃতের জন্য করনীয় বিষয় সমূহ

জানাযা অধ্যায়। মৃতের জন্য করনীয় বিষয় সমূহ

জানাযা অধ্যায়। মৃতের জন্য করনীয় বিষয় সমূহ , এই পর্বের হাদীস =৩৬ টি (৫৩১ – ৯৫৮) >> আল লুলু ওয়াল মারজান এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্ব-১১ঃ জানাযা

১১/৬. মৃত ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করা।
১১/৮. ধৈর্য ধারণ বিপদের প্রথম ধাক্কাতেই।
১১/৯. মৃতের উপর পরিবার-পরিজনের ক্রন্দনের কারণে আযাব হয়ে থাকে।
১১/১০. অধিক আর্তনাদ করা।
১১/১১. জানাযার পিছনে নারীদের অনুগমন নিষিদ্ধ।
১১/১২. মৃতের গোসল।
১১/১৩. মৃতের কাফন।
১১/১৪. মাইয়্যিতকে আবৃত করা।
১১/১৬. জানাযাহ দ্রুতসম্পন্ন করা।
১১/১৭. জানাযার সলাত ও তার পিছে অনুগমনের ফাযীলাত।
১১/২০. যে মৃত সম্পর্কে প্রশংসা করা হয়েছে অথবা মন্দ বলা হয়েছে।
১১/২১. যারা নিস্কৃতি পেয়েছে অথবা নিস্কৃতি দিয়েছে তাহাদের সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।
১১/২২. জানাযাহ্‌র তাকবীর সংক্রান্ত।
১১/২৩. ক্ববরের উপর [জানাযার] সলাত আদায়।
১১/২৪. জানাযাহ দেখলে দাঁড়ানো।
১১/২৭. জানাযাহ্‌ সলাত আদায়কালে ঈমাম মৃত ব্যক্তির কোন বরাবর দাঁড়াবে?

১১/৬. মৃত ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করা।

৫৩১. উসামাহ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর জনৈকা কন্যা [যায়নাব] তাহাঁর [সাঃআঃ] নিকট লোক পাঠালেন যে, আমার এক পুত্র মরণাপন্ন অবস্থায় রয়েছে, তাই আপনি আমাদের নিকট আসুন। তিনি বলে পাঠালেন, [তাঁকে] সালাম দিবে এবং বলবেঃ আল্লাহ্‌রই অধিকারে যা কিছু তিনি নিয়ে যান আর তাহাঁরই অধিকারে যা কিছু তিনি দান করেন। তাহাঁর নিকট সকল কিছুরই একটি নির্দিষ্ট সময় আছে। কাজেই সে যেন ধৈর্য ধারণ করে এবং সাওয়াবের অপেক্ষায় থাকে। তখন তিনি তাহাঁর কাছে কসম দিয়ে পাঠালেন, তিনি যেন অবশ্যই আগমন করেন। তখন তিনি দণ্ডায়মান হলেন এবং তাহাঁর সাথে ছিলেন সাদ ইবনি উবাদাহ, মুআয ইবনি জাবাল, উবাই ইবনি কাব, যাইদ ইবনি সাবিত [রাদি.] এবং আরও কয়েকজন। তখন শিশুটিকে রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর কাছে তুলে দেয়া হল। তখন সে ছটফট করছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমার ধারণা যে, তিনি এ কথা বলেছিলেন, যেন তার শ্বাস মশকের মত [শব্দ হচ্ছিল]। আর নাবী [সাঃআঃ]-এর দু চক্ষু বেয়ে অশ্রু ঝরছিল। সাদ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! একী? তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে রাহমাত, যা আল্লাহ্ তাহাঁর বান্দার অন্তরে গচ্ছিত রেখেছেন। আর আল্লাহ্ তো তাহাঁর দয়ালু বান্দাদের প্রতিই দয়া করেন।

[বোখারী পর্ব ৩২ : /৩৩ হাঃ ১২৮৪, মুসলিম ১১/৬, হাঃ ৯২৩] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৩২. আবদুল্লাহ্ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলে, সাদ ইবনি উবাদাহ [রাদি.] রোগাক্রান্ত হলেন। নাবী [সাঃআঃ] আবদুর রহমান ইবনি আওফ, সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস এবং আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসউদ [রাদি.]-কে সঙ্গে নিয়ে তাঁকে দেখিতে আসলেন। তিনি তাহাঁর ঘরে প্রবেশ করে তাঁকে পরিজনের মাঝে দেখিতে পেলেন। জিজ্ঞেস করিলেন, তার কি মৃত্যু হয়েছে! তাঁরা বলিলেন, না। হে আল্লাহর রসূল ! তখন নাবী [সাঃআঃ] কেঁদে ফেললেন। নাবী [সাঃআঃ]-এর কান্না দেখে উপস্থিত লোকেরা কাঁদতে লাগলেন। তখন তিনি ইরশাদ করলেনঃ শুনে রাখ! নিঃসন্দেহে আল্লাহ্ তাআলা চোখের পানি ও অন্তরের শোক-ব্যথার কারণে আযাব দিবেন না। তিনি আযাব দিবেন এর কারণে [এ বলে] জিহ্বার দিকে ইঙ্গিত করিলেন। অথবা এর কারণেই তিনি রহম করে থাকেন। আর নিশ্চয় মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনের বিলাপের কারণে আযাব দেয়া হয়। উমার [রাদি.] এ [ধরনের কান্নার] কারণে লাঠি দ্বারা আঘাত করিতেন, কঙ্কর নিক্ষেপ করিতেন বা মুখে মাটি পুরে দিতেন।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৫৪ হাঃ ১৩০৪, মুসলিম ১১/৬, হাঃ ৯২৪] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/৮. ধৈর্য ধারণ বিপদের প্রথম ধাক্কাতেই।

৫৩৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এক মহিলার পার্শ্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন, যিনি ক্ববরের পার্শ্বে ক্রন্দন করছিলেন। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি আল্লাহ্কে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর। মহিলাটি বলিলেন, আমার নিকট থেকে প্রস্থান করুন। আপনার উপর তো আমার মত বিপদ উপস্থিত হয়নি। তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে চিনতে পারেননি। পরে তাকে বলা হল, তিনি তো নাবী [সাঃআঃ]। তখন তিনি নাবী [সাঃআঃ]-এর দরজায় উপস্থিত হলেন, তাহাঁর কাছে কোন প্রহরী ছিল না। তিনি নিবেদন করিলেন, আমি আপনাকে চিনতে পারিনি। তিনি বললেনঃ ধৈর্য তো বিপদের প্রাথমিক অবস্থাতেই [ধারণ করিতে হয়]।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৩২ হাঃ ১২৮৩, মুসলিম ১১/৮ হাঃ ৯২৬]জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/৯. মৃতের উপর পরিবার-পরিজনের ক্রন্দনের কারণে আযাব হয়ে থাকে।

৫৩৪. উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে আযাব দেয়া হয়।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৩৪ হাঃ ১২৮৬, মুসলিম ১১/৯ হাঃ ৯২৭] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৩৫. আবু মূসা আশআরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন উমার [রাদি.] আহত হলেন, তখন সুহাইব [রাদি.] হায়! আমার ভাই! বলিতে লাগলেন। উমার [রাদি.] বলিলেন, তুমি কি অবহিত নও যে, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জীবিতদের কান্নার কারণে অবশ্যই মৃতদের আযাব দেয়া হয়?

[বোখারী পর্ব ২৩: /৩২ হাঃ ১২৯০, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৩৬.আবদুল্লাহ্ ইবনি উবাইদুল্লাহ্ ইবনি আবু মুলাইকাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহয় উসমান [রাদি.]-এর জনৈকা কন্যার মৃত্যু হল। আমরা সেখানে [জানাযায়] অংশগ্রহণ করার জন্য গেলাম। ইবনি উমার এবং ইবনি আব্বাস [রাদি.]-ও সেখানে উপস্থিত হলেন। আমি তাঁদের দুজনের মধ্যে উপবিষ্ট ছিলাম, অথবা তিনি বলেছেন, আমি তাঁদের একজনের পার্শ্বে গিয়ে উপবেশন করলাম, পরে অন্যজন আগমন করে আমার পার্শ্বে উপবেশন করিলেন। [ক্রন্দনের শব্দ শুনে] ইবনি উমার [রাদি.] আমর ইবনি উসমানকে বলিলেন, তুমি কেন ক্রন্দন করিতে নিষেধ করছ না? কেননা, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তিকে তার পরিজনদের কান্নার কারণে আযাব দেয়া হয়। তখন ইবনি আব্বাস[রাদি.]বলিলেন, উমার[রাদি.]ও এমন কিছু বলিতেন।

অতঃপর ইবনি আব্বাস[রাদি.]বর্ণনা করিলেন, উমার[রাদি.]-এর সাথে মাক্কাহ থেকে প্রত্যাবর্তন করছিলাম। আমরা বাইদা [নামক স্থানে] উপস্থিত হলে উমার[রাদি.]বাবলা বৃক্ষের ছায়ায় একটি কাফিলা দর্শন করতঃ আমাকে বলিলেন, গিয়ে দেখো এ কাফিলা কার? ইবনি আব্বাস[রাদি.]বলেন, আমি গিয়ে দেখলাম সেখানে সুহাইব [রাদি.]আছেন। আমি তাঁকে তা অবহিত করলাম। তিনি বলিলেন, তাঁকে আমার কাছে ডেকে নিয়ে এসো। আমি সুহাইব [রাদি.]-এর নিকটে আবার গেলাম এবং বললাম, চলুন, আমীরুল মুমিনীনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করুন। অতঃপর যখন উমার[রাদি.][ঘাতকের আঘাতে] আহত হলেন, তখন সুহাইব [রাদি.]তাহাঁর কাছে আগমন করতঃ এ বলে ক্রন্দন করিতে লাগলেন, হায় আমার ভাই! হায় আমার বন্ধু! এতে উমার[রাদি.]তাঁকে বলিলেন, তুমি আমার জন্য ক্রন্দন করছো? অথচ আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মৃত ব্যক্তির জন্য তার আপন জনের কোন কোন কান্নার কারণে অবশ্যই তাকে আযাব দেয়া হয়। [বোখারী পর্ব ২৩ : /৩৩ হাঃ ১২৯০, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭]

ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, উমার [রাদি.]-এর মৃত্যুর পর আয়িশাহ্ [রাদি.]-এর নিকট আমি উমার [রাদি.]-এর এ উক্তি উল্লেখ করলাম। তিনি বলিলেন, আল্লাহ্ উমার [রাদি.]-কে রহম করুন। আল্লাহ্‌র কসম! আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] এ কথা বলেননি যে, আল্লাহ্ ঈমানদার [মৃত] ব্যক্তিকে তার পরিজনের কান্নার কারণে আযাব দিবেন। তবে আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা কাফিরদের আযাব বাড়িয়ে দেন তার পরিজনের কান্নার কারণে। অতঃপর আয়িশাহ্ [রাদি.] বলিলেন, [এ ব্যাপারে] আল্লাহ্‌র কুরআনই তোমাদের জন্য যথেষ্ট। [ইরশাদ হয়েছে]: বোঝা বহনকারী কোন ব্যক্তি অপরের বোঝা বহন করিবে না- [আনআমঃ ১৬৪]। তখন ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ্ই [বান্দাকে] হাসান এবং কাঁদান। arbi

রাবী ইবনি আবু মুলাইকাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আল্লাহ্‌র কসম! [এ কথা শুনে] ইবনি উমার [রাদি.] কোন মন্তব্য করিলেন না।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৩২ হাঃ ১২৮৬, ১২৮৭, ১২৮৮, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯২৭, ৯২৮, ৯২৯] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৩৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

এ কথাটি ঐ কথাটিরই মত যা রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] ঐ কূপের পাশে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, যে কূপে বাদ্‌র যুদ্ধে নিহত মুশরিকদের নিক্ষেপ করা হয়েছিল। তিনি তাহাদেরকে যা বলার বলিলেন [এবং জানালেন] যে, আমি যা বলছি তারা তা সবই শুনতে পাচ্ছে। তিনি বলিলেন, এখন তারা ভালভাবে জানতে পারছে যে, আমি তাহাদেরকে যা বলেছিলাম তা ছিল সঠিক। এরপর আয়েশা [রাদি.] ==

[তুমি তো মৃতকে শুনাতে পারবে না] [সূরাহ নামল ২৭/৮০]

[এবং তুমি শুনাতে সমর্থ হইবে না তাহাদেরকে যারা কবরে রয়েছে] [সূরাহ ফাতির ৩৫/২২]

আয়াতাংশ দুটো তিলাওয়াত করিলেন। উরওয়াহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এর মানে হচ্ছে জাহান্নামে যখন তারা তাহাদের আসন গ্রহণ করে নেবে। arbi

[বোখারী পর্ব ৬৪: /৮ হাঃ ৩৯৭৬-৩৯৭৯, মুসলিম ১১/৯ হাঃ ৯৩১ ] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৩৮. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] এক ইয়াহুদী স্ত্রীলোকের [ক্ববরের] পার্শ্ব দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, যার পরিবারের লোকেরা তার জন্য ক্রন্দন করছিল। তখন তিনি বললেনঃ তারা তো তার জন্য ক্রন্দন করছে। অথচ তাকে ক্ববরে আযাব দেয়া হচ্ছে।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৩৪ হাঃ ১২৮৯, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩২] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৩৯. মুগীরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]- কে বলিতে শুনিয়াছি, যে [মৃত] ব্যক্তির জন্য বিলাপ করা হয়, তাকে বিলাপকৃত বিষয়ের উপর আযাব দেয়া হইবে।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৩৪ হাঃ ১২৯১, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩২] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১০. অধিক আর্তনাদ করা।

৫৪০. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন [মুতা-র যুদ্ধ ক্ষেত্র হইতে] নাবী [সাঃআঃ]-এর খিদমতে [যায়দ] ইবনি হারিসা, জাফর ও ইবনি রাওয়াহা [রাদি.]-এর শাহাদাতের খবর পৌঁছল, তখন তিনি [এমনভাবে] বসে পড়লেন যে, তাহাঁর মধ্যে দুঃখের চিহ্ন ফুটে উঠেছিল। আমি [আয়েশা [রাদি.]} দরজার ফাঁক দিয়ে তা প্রত্যক্ষ করছিলাম। এক ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হয়ে জাফর [রাদি.]-এর পরিবারের মহিলাদের কান্নাকাটির কথা উল্লেখ করিলেন। নাবী [সাঃআঃ] ঐ ব্যক্তিকে নির্দেশ দিলেন, তিনি যেন তাঁদেরকে [কান্নাকাটি করিতে] নিষেধ করেন, লোকটি চলে গেলো এবং দ্বিতীয়বার এসে [বলিল] তারা তাহাঁর কথা মানেনি। তিনি ইরশাদ করলেনঃ তাঁদেরকে নিষেধ করো। ঐ ব্যক্তি তৃতীয়বার এসে বলিলেন, আল্লাহ্‌র কসম! হে আল্লাহ্‌র রসূল ! তাঁরা আমাদের হার মানিয়েছে। আয়িশাহ্ [রাদি.] বলেন, আমার মনে হয়, তখন নাবী [সাঃআঃ] বিরক্তির সাথে বললেনঃ তাহলে তাহাদের মুখে মাটি নিক্ষেপ কর। আয়িশাহ্ [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ তোমার নাকে ধূলি মিলিয়ে দেন। তুমি আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-এর নির্দেশ পালন করিতে পারনি। অথচ তুমি আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে বিরক্ত করিতেও দ্বিধা করোনি।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৪১ হাঃ ১২৯১, মুসলিম ১১/৯, হাঃ ৯৩৩] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৪১. উম্মু আতিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বায়আত গ্রহণকালে আমাদের কাছ থেকে এ অংগীকার নিয়েছিলেন যে আমরা [কোন মৃতের জন্য] বিলাপ করব না।……. আমাদের মধ্য হইতে পাঁচজন মহিলা উম্মু সুলাইম, উম্মুল আলা, আবু সাবরাহর কন্যা মুআযের স্ত্রী, আরো দুজন মহিলা বা মুআযের স্ত্রী ও আরেকজন মহিলা ব্যতীত কোন নারীই সে ওয়াদা রক্ষা করেনি।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৪৬ হাঃ ১৩০৬, মুসলিম ১১/১০, হাঃ ৯৩৬] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৪২. উম্মু আতিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূল  [সাঃআঃ]-এর কাছে বায়আত গ্রহণ করেছি। এরপর তিনি আমাদের সামনে পাঠ করিলেন, “তারা আল্লাহ্‌র সাথে কোন কিছুকে শরীক স্থির করিবে না।” এরপর তিনি আমাদেরকে মৃত ব্যক্তির জন্য বিলাপ করে কাঁদতে নিষেধ করিলেন। এ সময় এক মহিলা তার হাত টেনে নিয়ে বলিল, অমুক মহিলা আমাকে বিলাপে সহযোগিতা করেছে, আমি তাকে এর বিনিময় দিতে ইচ্ছে করেছি। নাবী [সাঃআঃ] তাকে কিছুই বলেননি। এরপর মহিলাটি উঠে চলে গেল এবং পুনরায় ফিরে আসলো, তখন রসূল  [সাঃআঃ] তাকে বায়আত করিলেন।

[বোখারী পর্ব ৬৫ : /৬০ হাঃ ৪৮৯২, মুসলিম ১১/১০ হাঃ ৯৩৬] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১১. জানাযার পিছনে নারীদের অনুগমন নিষিদ্ধ।

৫৪৩. উম্মু আতিয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে জানাযার পশ্চাদানুগমণ করিতে নিষেধ করা হয়েছে। তবে আমাদের উপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়নি।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৩০ হাঃ ১২৭৮, মুসলিম ১১/১১ হাঃ ৯৩৮] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১২. মৃতের গোসল।

৫৪৪.çউম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-এর কন্যা যায়নাব [রাদি.] ইন্তিকাল করলে তিনি [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দিয়ে গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা [তিনি বলেছেন] কিছু কর্পুর ব্যবহার করিবে। তোমরা শেষ করে আমাকে খবর দাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাহাঁর চাদরখানি আমাদেরকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাহাঁর শরীরের সঙ্গে জড়িয়ে দাও।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৮ হাঃ ১২৫৩, মুসলিম ১১/১২, হাঃ ৯৩৯] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৪৫.উম্মু আতিয়্যাহ্ আনসারীয়্যাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-এর কন্যা যায়নাব [রাদি.] ইন্তিকাল করলে তিনি [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এসে বললেনঃ তোমরা তাঁকে তিনবার বা পাঁচবার বা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়ে অধিকবার বরই পাতাসহ পানি দ্বারা গোসল দাও। শেষবারে কর্পুর বা [তিনি বলেছেন] কিছু কর্পুর ব্যবহার করিবে। তোমরা শেষ করে আমাকে জানাও। আমরা শেষ করার পর তাঁকে জানালাম। তখন তিনি তাহাঁর চাদরখানি আমাদের দিকে দিয়ে বললেনঃ এটি তাহাঁর ভিতরের কাপড় হিসেবে পরিয়ে দাও। আইয়ুব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেছেন, হাফ্‌সাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাকে মুহাম্মাদ বর্ণিত হাদীসের ন্যায় হাদীস শুনিয়েছেন। তবে তাহাঁর হাদীসে আছে যে, তাকে বিজোড় সংখ্যায় গোসল দিবে। আরও আছে, তিনবার, পাঁচবার অথবা সাতবার করে; তাতে আরো আছে, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “তোমরা তার ডান দিক হইতে এবং তার উযূর স্থানগুলো থেকে আরম্ভ করিবে।” তাতে এ কথাও আছে। [বর্ণনাকারিণী] উম্মু আতিয়্যাহ্ [রাদি.] বলেছেন, আমরা তার চুলগুলো আঁচড়ে তিনটি গোছা করে দিলাম।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৯ হাঃ ১২৫৪, মুসলিম ১১/১২ হাঃ ৯৩৯] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৪৬, উম্মু আতিয়্যাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] তাহাঁর কন্যার গোসলের ব্যাপারে ইরশাদ করেনঃ তোমরা তাহাঁর ডান দিক হইতে এবং উযূর অঙ্গসমূহ হইতে শুরু করিবে

। [বোখারী পর্ব ৩৩ : /১১ হাঃ ১২৫৫, মুসলিম ১১/১২ হাঃ ৯৩৯] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১৩. মৃতের কাফন।

৫৪৭, খাব্বাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে মাদীনায় হিজরত করেছিলাম, এতে আল্লাহ্‌র সন্তুষ্টি কামনা করেছিলাম। আমাদের প্রতিদান আল্লাহ্‌র দরবারে নির্ধারিত হয়ে আছে। অতঃপর আমাদের মধ্যে অনেকে শহীদ হয়েছেন। কিন্তু তাঁরা তাঁদের বিনিময়ের কিছুই ভোগ করে যাননি। তাঁদেরই একজন মুসআব ইবনি উমাইর [রাদি.] আর আমাদের মধ্যে অনেকে এমনও আছেন যাঁদের প্রতিদানের ফল পরিপক্ক হয়েছে। আর তাঁরা তা ভোগ করছেন। মুসআব [রাদি.] উহুদের দিন শহীদ হয়েছিলেন। আমরা তাঁকে কাফন দেয়ার জন্য এমন একটি চাদর ব্যতীত আর কিছুই পেলাম না; যা দিয়ে তাহাঁর মস্তক আবৃত করলে তাহাঁর দু পা বাইরে থাকে আর তাহাঁর দু পা আবৃত করলে তাহাঁর মস্তক বাইরে থাকে। তখন নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর মস্তক আবৃত করিতে এবং তাহাঁর দুখানা পায়ের উপর ইয্‌খির [ঘাস] দিয়ে দিতে আমাদের নির্দেশ দিলেন।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /২৮ হাঃ ১২৭৬, মুসলিম ১১/১৩, হাঃ ৯৪০] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৪৮. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে তিনটি ইয়ামানী সাহুলী সাদা সূতী বস্ত্র দ্বারা কাফন দেয়া হয়েছিল। তার মধ্যে কামীস এবং পাগড়ী ছিল না।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /১৯ হাঃ ১২৬৪, মুসলিম ১১/১৩, হাঃ ৯৪১] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১৪. মাইয়্যিতকে আবৃত করা।

৫৪৯. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আল্লাহ্‌র রসূল  [সাঃআঃ] যখন ইন্তিকাল করেন, তখন ইয়ামনী চাদর দ্বারা তাঁকে ঢেকে রাখা হয়।

[বোখারী পর্ব ৭৭ : /১৮ হাঃ ৫৮১৪, মুসলিম ১১/১৪ হাঃ ৯৪২] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১৬. জানাযাহ দ্রুতসম্পন্ন করা।

৫৫০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমরা জানাযা নিয়ে দ্রুতগতিতে চলবে। কেননা, সে যদি পুণ্যবান হয়, তবে এটা উত্তম, যার দিকে তোমরা তাকে এগিয়ে দিচ্ছ, আর যদি সে অন্য কিছু হয়, তবে সে একটি আপদ, যাকে তোমরা তোমাদের ঘাড় হইতে জলদি নামিয়ে ফেলছ।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৫২ হাঃ ১৩১৫, মুসলিম ১১/১৬, হাঃ ৯৪৪]জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/১৭. জানাযার সলাত ও তার পিছে অনুগমনের ফাযীলাত।

৫৫১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি মৃতের জন্য সলাত আদায় করা পর্যন্ত জানাযায় উপস্থিত থাকিবে, তার জন্য এক কীরাত, আর যে ব্যক্তি মৃতের দাফন হয়ে যাওয়া পর্যন্ত উপস্থিত থাকিবে তার জন্য দু কীরাত। জিজ্ঞেস করা হল দু কীরাত কী? তিনি বলিলেন, দুটি বিশাল পর্বত সমতুল্য [সাওয়াব]।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৫৯ হাঃ ১৩২৫, মুসলিম ১১/১৭, হাঃ ৯৪৫] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৫২. আবু হুরায়রাহ ও আয়েশা [রাযি] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] বর্ণনা করিয়াছেন, আবু হুরায়রাহ [রাদি.] বলিতেন, যে ব্যক্তি জানাযার অনুসরণ করলো তার জন্য এক কীরাত। তিনি অতিরিক্ত বলেছেন এ বিষয়ে আবু হুরাইরা [রাদি.]-কে সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমিও আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ]-কে এ হাদীস বলিতে শুনিয়াছি। ইবনি উমার [রাদি.] বলিলেন, তা হলে তো আমরা অনেক কীরাত [সাওয়াব] হারিয়ে ফেলেছি। ………….. এর অর্থ আল্লাহ্‌র আদেশ খুইয়েছি।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৫৮ হাঃ ১৩২৪, মুসলিম ১১/১৭ হাঃ ৯৪৫] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/২০. যে মৃত সম্পর্কে প্রশংসা করা হয়েছে অথবা মন্দ বলা হয়েছে।

৫৫৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, কিছু সংখ্যক সাহাবী একটি জানাযার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন তাঁরা তার প্রশংসা করিলেন। তখন নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। একটু পরে অপর একটি জানাযা অতিক্রম করিলেন। তখন তাঁরা তার নিন্দাসূচক মন্তব্য করিলেন। [এবারও] নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ ওয়াজিব হয়ে গেল। তখন উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] আরয করিলেন, [হে আল্লাহর রসূল !] কী ওয়াজিব হয়ে গেল? তিনি বললেনঃ এ [প্রথম] ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা উত্তম মন্তব্য করলে, তাই তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেল। আর এ [দ্বিতীয়] ব্যক্তি সম্পর্কে তোমরা নিন্দাসূচক মন্তব্য করায় তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেল। তোমরা তো পৃথিবীতে আল্লাহ্‌র সাক্ষী

। [বোখারী পর্ব ২৩ : /৮৬ হাঃ ১৩৬৭, মুসলিম ১১/১৯, হাঃ ৯৪৯] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/২১. যারা নিস্কৃতি পেয়েছে অথবা নিস্কৃতি দিয়েছে তাহাদের সম্পর্কে যা কিছু বর্ণিত হয়েছে।

৫৫৪. ক্বাতাদাহ ইবনি রিবঈ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

একবার রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর পাশ দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাওয়া হলো। তিনি তা দেখে বললেনঃ সে শান্তি প্রাপ্ত অথবা তার থেকে শান্তিপ্রাপ্ত। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! মুস্তারিহ ও মুস্তারাহ মিনহু-এর অর্থ কী? তিনি বললেনঃ মুমিন বান্দা মরে যাবার পর দুনিয়ার কষ্ট ও যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেয়ে আল্লাহ্‌র রহমতের দিকে পৌঁছে শান্তি প্রাপ্ত হয়। আর গুনাহগার বান্দা মরে যাবার পর তার আচার-আচরণ থেকে সকল মানুষ, শহর-বন্দর, গাছ-পালা ও প্রাণীকুল শান্তিপ্রাপ্ত হয়।

[বোখারী পর্ব ৮১ : /৪২ হাঃ ৬৫১২, মুসলিম ১১/২১ হাঃ ৯৫০] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/২২. জানাযাহ্‌র তাকবীর সংক্রান্ত।

৫৫৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাজাশী যেদিন মারা যান সেদিন-ই আল্লাহর রসূল  [সাঃআঃ] তাহাঁর মৃত্যুর খবর দেন এবং জানাযাহ্র স্থানে গিয়ে লোকদের কাতারবন্দী করে চার তাক্‌বীর আদায় করিলেন।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৪ হাঃ ১২৪৫, মুসলিম ১১/২২, হাঃ ৯৫১] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৫৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]নাজাশীর মৃত্যুর দিনই আমাদের তাহাঁর মৃত্যুর খবর জানান এবং ইরশাদ করেনঃ তোমরা তোমাদের ভাই-এর [নাজাশীর] জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৬১ হাঃ ১৩২৭, মুসলিম ১১/২২ হাঃ ৯৫১] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৫৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] আসহামা নাজাশীর জানাযার সলাত আদায় করিলেন, তাতে তিনি চার তাক্‌বীর দিলেন। ইয়াযীদ ইবনি হারূন ও আবদুস্ সামাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সালীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে ====== শব্দটি উল্লেখ করেন

। [বোখারী পর্ব ২৩ : /৬৫ হাঃ ১৩৩৪, মুসলিম ১১/২২ হাঃ ৯৫২] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৫৮. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ আজ হাবাশা দেশের [আবিসিনিয়ার] একজন পুণ্যবান লোকের মৃত্যু হয়েছে, তোমরা এসো তাহাঁর জন্য [জানাযার] সলাত আদায় কর। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা তখন কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালে নাবী [সাঃআঃ] [জানাযার] সলাত আদায় করিলেন, আমরা ছিলাম কয়েক কাতার। আবু যুবাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণনা করেন, জাবির [রাদি.] বলেছেন, আমি দ্বিতীয় কাতারে ছিলাম

। [বোখারী পর্ব২৩ : /৫৫ হাঃ ১৩২০, মুসলিম ১১/২২ হাঃ ৯৫২] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/২৩. ক্ববরের উপর [জানাযার] সলাত আদায়।

৫৫৯. সুলাইমান আশ-শাইবানী হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি শাবী [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, তিনি বলেন, এমন এক ব্যক্তি আমাকে খবর দিয়েছেন, যিনি নাবী [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে একটি পৃথক কবরের নিকট গেলেন। নাবী [সাঃআঃ] সেখানে লোকদের ঈমামত করেন। লোকজন কাতারবন্দী হয়ে তাহাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে গেল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু আমর! কে আপনাকে এ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, ইবনি আব্বাস [রাযি আল্লাহু তাআলা আনহু]।

[বোখারী পর্ব ১০ : /১৬১ হাঃ ৮৫৭, মুসলিম ১১/২৩, হাঃ ৯৫৪] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৬০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

কালো এক পুরুষ বা এক মহিলা মাসজিদে ঝাড় দিত। সে মারা গেল। কিন্তু নাবী [সাঃআঃ] তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেননি। একদা তার কথা উল্লেখ করে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, এ লোকটির কী হল? সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! সে তো মারা গেছে। তিনি বললেনঃ তোমরা আমাকে জানাওনি কেন? সে ছিল এমন এমন বলে তাঁরা তার ঘটনা উল্লেখ করিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, তাঁরা তার মর্যাদাকে খাটো করে দেখলেন। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ আমাকে তার ক্ববর দেখিয়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেন, তখন তিনি তার ক্ববরের কাছে আসলেন এবং তার জানাযার সলাত আদায় করিলেন।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৬৭ হাঃ ১৩৩৭, মুসলিম ১১/২৩ হাঃ ৯৫৬] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/২৪. জানাযাহ দেখলে দাঁড়ানো।

৫৬১. আমির ইবনি রাবীআহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমরা জানাযা দেখলে তা তোমাদের পিছনে ফেলে যাওয়া পর্যন্ত দাঁড়িয়ে থাকিবে। হুমাইদী আরও উল্লেখ করিয়াছেন, তা তোমাদের পশ্চাতে ফেলে যাওয়া বা মাটিতে নামিয়ে রাখা পর্যন্ত

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৪৭ হাঃ ১৩০৭, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৫৮] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৬২. আমির ইবনি রাবীআহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমাদের কেউ জানাযা যেতে দেখলে যদি সে তার সহযাত্রী না হয়, তবে ততক্ষণ সে দাঁড়িয়ে থাকিবে, যতক্ষণ না সে ব্যক্তি জানাযা পিছনে ফেলে বা জানাযা তাকে পিছনে ফেলে যায় অথবা পিছনে ফেলে যাওয়ার পূর্বে তা [মাটিতে] নামিয়ে রাখা হয়।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৪৮ হাঃ ১৩০৮, মুসলিম ১১/২৪ হাঃ ৯৫৮] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৬৩. আবু সাঈদ খুদ্‌রী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তোমাদের কেউ যখন কোন জানাযা যেতে দেখবে, দাঁড়িয়ে যাবে, আর যদি সে তার সহযাত্রী হয় তাহলে সে ততক্ষণ বসবে যতক্ষণ তা নামিয়ে না রাখা হয়।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৪৯ হাঃ ১৩১০, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৫৯] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৬৪. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমাদের পার্শ্ব দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। নাবী [সাঃআঃ] তা দেখে দাঁড়িয়ে গেলেন। আমরাও দাঁড়িয়ে পড়লাম এবং নিবেদন করলাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল ! এ তো ইয়াহুদীর জানাযা। তিনি বললেনঃ তোমরা যে কোন জানাযা দেখলে দাঁড়িয়ে পড়বে।

[বোখারী পর্ব ২৩ : /৫০ হাঃ ১৩১১, মুসলিম ১১/২৪, হাঃ ৯৬০] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৬৫. আবদুর রহমান ইবনি আবু লাইলাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, সাহ্ল ইবনি হুনাইফ ও কায়স ইবনি সাদ [রাদি.] কাদিসিয়াতে উপবিষ্ট ছিলেন, তখন লোকেরা তাহাদের সামনে দিয়ে একটি জানাযা নিয়ে যাচ্ছিল। [তা দেখে] তারা দাঁড়িয়ে গেলেন। তখন তাহাদের বলা হল, এটা তো এ দেশীয় জিম্মী ব্যক্তির [অমুসলিমের] জানাযা। তখন তারা বলিলেন, [একদা] নাবী [সাঃআঃ]-এর সামনে দিয়ে একটি জানাযা যাচ্ছিল। তখন তিনি দাঁড়িয়ে গেলে তাঁকে বলা হল, এটা তো এক ইয়াহূদীর জানাযা। তিনি এরশাদ করলেনঃ সে কি মানুষ নয়?

[বোখারী পর্ব ২৩: /৫০ হাঃ ১৩১২, মুসলিম ১১/২৪ হাঃ ৯৬১] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১/২৭. জানাযাহ্‌ সলাত আদায়কালে ঈমাম মৃত ব্যক্তির কোন বরাবর দাঁড়াবে?

৫৬৬. সামুরাহ ইবনি জুন্দাব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর পশ্চাতে আমি এমন এক স্ত্রীলোকের জানাযার সলাত আদায় করেছিলাম, যে নিফাসের অবস্থায় মারা গিয়েছিল। তিনি [সাঃআঃ] তার [স্ত্রীলোকটির] মাঝ বরাবর দাঁড়িয়েছিলেন

। [বোখারী পর্ব ২৩ : /৬৩ হাঃ ১৩৩১, মুসলিম ১১/২৭, হাঃ ৯৬৪] জানাজা ও মৃতের জন্য করনীয় -এই হাদীসটির তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By লুলু ওয়াল মারজান

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply