আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ]-এর বাক-বিতণ্ডা

আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ]-এর বাক-বিতণ্ডা

আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ]-এর বাক-বিতণ্ডা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২. অধ্যায়ঃ আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ]-এর বাক-বিতণ্ডা

৬৬৩৫

তাউস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু হুরায়রা [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ]-এর মাঝে বাক-বিতণ্ডা হয়। মূসা [আঃ] বলিলেন, হে আদাম! আপনি আমাদের পিতা, আপনি আমাদেরকে মাহরুম করিয়াছেন এবং জান্নাত হইতে আমাদেরকে বের করে দিয়েছেন। এরপর আদাম [আঃ] তাঁকে বলিলেন, আপনি তো মূসা [আঃ]। আল্লাহ তাআলা তাহাঁর সঙ্গে কথা বলিতে আপনাকে চয়ন করিয়াছেন এবং আপনাকে লিখিত কিতাব [তাওরাত] দিয়েছেন। আপনি কি এমন বিষয়ে আমাকে ভর্ৎসনা করছেন যা আমার সৃষ্টির চল্লিশ বৎসর আগে আল্লাহ তাআলা নির্ধারণ করে রেখেছেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, আদাম [আঃ] মূসা [আঃ]-এর উপর বাক-বিতণ্ডায় জয়ী হলেন। আদাম [আঃ] মূসা [আঃ]-এর উপর বাক-বিতণ্ডায় জয়ী হলেন।

আর ইবনি আবু উমর ও ইবনি আব্দাহ্ বর্ণিত হাদীসে তাদের একজন বলেছেন, লিখে দিয়েছেন; অপরজন বলেছেন, তিনি তাহাঁর হস্তে আপনার জন্য তাওরাত লিখে দিয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫২]

৬৬৩৬

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ] পরস্পরের বাদানুবাদ করেন। এতে আদাম [আঃ] মূসা [আঃ]-এর উপর জয়ী হলেন। মূসা [আঃ] আদাম-কে বলিলেন, আপনি তো সে আদাম [আঃ] যিনি মানুষদেরকে পথভ্রষ্ট করিয়াছেন এবং জান্নাত হইতে তাদেরকে বের করিয়াছেন। তারপর আদাম [আঃ] বলিলেন, আপনি তো সে লোক [নবী] যাকে আল্লাহ তাআলা সকল বস্তুর জ্ঞান দান করিয়াছেন এবং তাকে মনোনীত করে রিসালাতের দায়িত্ব দিয়ে মানুষের নিকট প্রেরণ করিয়াছেন? মূসা [আঃ] বলিলেন, হ্যাঁ। আদাম [আঃ] বলিলেন, আপনি আমাকে এমন একটি বিষয়ে ভর্ৎসনা করিয়াছেন, যা আমার জন্মের আগেই আল্লাহ আমার জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৩]

৬৬৩৭

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ] তাঁদের রবের নিকট ঝগড়া করিলেন।৫ অতঃপর আদাম [আঃ] মূসা [আঃ]-এর উপর জয়ী হলেন। মূসা [আঃ] বলিলেন, আপনি তো সে আদাম [আঃ] যাকে আল্লাহ তাআলা নিজ হস্তে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং আপনার মধ্যে তিনি তাহাঁর রূহকে ফুঁকে দিয়েছেন, তিনি তাহাঁর ফেরেশ্তাদের দিয়ে আপনাকে সাজদাহ্ করিয়েছেন এবং তাহাঁর জান্নাতে আপনাকে আবাসন করে দিয়েছেন। তারপর আপনি আপনার ভুলের কারণে মানবজাতিকে দুনিয়াতে নামিয়ে দিয়েছেন? এরপর আদাম [আঃ] বলিলেন, আপনি তো সে মূসা [আঃ] যাকে আল্লাহ তাআলা রিসালাত দিয়েছেন তার সাথে কথা বলার জন্য বাছাই করিয়াছেন এবং আপনাকে দান করিয়াছেন তক্তিসমূহ, তাতে সব বিষয়ের বর্ণনা লিখিত রয়েছে এং নির্জনে আলাপচারিতার জন্যে নৈকট্য দান করিয়াছেন। সুতরাং আমার জন্মের কত বৎসর পূর্বে আল্লাহ তাআলা তাওরাত লিপিবদ্ধ করিয়াছেন তা-কি আপনি দেখেছেন? মূসা [আঃ] বলিলেন, চল্লিশ বৎসর পূর্বে। আদাম [আঃ] বলিলেন, আপনি কি তাতে পাননি- আদাম তাহাঁর রবের আদেশ অমান্য করিয়াছেন এবং পথভ্রষ্ট হয়েছেন। আদাম [আঃ] বলিলেন, এরপর আপনি আমাকে আমার এমন কর্মের জন্য কেন ভর্ৎসনা করছেন যা আমাকে সৃষ্টি করার চল্লিশ বৎসর পূর্বে আল্লাহ তাআলা আমার উপর লিখে রেখেছেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, এরপর আদাম [আঃ] মূসা [আঃ]-এর উপর জয়ী হলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৪]

৫ আবুল হাসান কাবিসী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আকাশমণ্ডলীতে আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ]-এর রূহ পরস্পর সাক্ষাৎ হয় এবং তাদের মধ্যে বিতর্ক হয়। কাযী আয়ায বলেন, এ সম্ভাবনাও থেকে যায় যে, উভয়েই স্বশরীরে সাক্ষাতে তর্ক বিতর্কে লিপ্ত হয়েছেন।

৬৬৩৮

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আদাম [আঃ] ও মূসা [আঃ] বাদানুবাদ করেন। তখন মূসা [আঃ] তাকে বলিলেন, আপনি তো সে আদাম [আঃ] যাকে তাহাঁর ভুলে জান্নাত হইতে বের করে দিয়েছে। এরপর আদাম [আঃ] তাকে বলিলেন, আপনি তো সে মূসা [আঃ] আল্লাহ তাআলা যাকে তাহাঁর রিসালাত ও কথা বলার জন্যে বাছাই করিয়াছেন। তারপরও তুমি আমাকে তিরস্কার করছ, এমন একটি ব্যাপারে, যা আমার জন্মের আগে আমার উপর ভাগ্যলিপিতে নির্ধারিত হয়েছিল। পরিশেষে আদাম [আঃ] মূসা [আঃ]-এর উপর জয়ী হলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৫]

৬৬৩৯

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে তাদের হাদীসের মর্মের হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৬]

৬৬৪০

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রা্ [রাদি.]-এর সানাদে নবী [সাঃআঃ] হইতে তাদের হাদীসের হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৭]

৬৬৪১

আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেন: আল্লাহ তাআলা সকল মাখলুকের তাকদীর আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবী সৃষ্টির পঞ্চাশ হাজার বৎসর পূর্বে লিখেছেন। তিনি বলেছেন, সে সময় আল্লাহর আর্শ পানির উপরে ছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৮]

৬৬৪২

আবু হানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হানী [রাদি.]-এর সানাদে তার হাদীসৈর হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তারা উভয়ে তাদের হাদীসে “তাহাঁর আর্শ পানির উপর ছিল” কথাটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫০৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৫৫৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply