মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ওফাত

মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ওফাত

মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস – রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর ওফাত , এই অধ্যায়ে হাদীস ১১ টি ( ২৯৫-৩০৫ পর্যন্ত ) << শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৫৪ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর ওফাত

১।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের দিন আবু বকর [রাদি.] লোকদের ঈমামতি করেন
২।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ওফাতের
৩।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-ও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন
৪।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে তাহাঁর মৃত্যুর স্থানেই দাফন করা হয়
৫।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের পর আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর কপালে চুম্বন করেন
৬।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যুতে সাহাবীদের কাছে সবকিছু অন্ধকার মনে হচ্ছিল
৭।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সোমবারের দিন ইন্তেকাল করেন
৮।পরিচ্ছদঃ মঙ্গলবারের দিন রাতে তাঁকে দাফন করা হয়
৯।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যু ও আবুবকর [রাদি.] এর বাইয়াত গ্রহণ
১০।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যুতে ফাতিমা [রাদি.] এর ক্ৰন্দন

১।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের দিন আবু বকর [রাদি.] লোকদের ঈমামতি করেন

২৯৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূল (সাঃআঃ) কে শেষবারের মতো দর্শন করলাম, যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত অবস্থায় সোমবার ফজরের নামাজের সময়; তখন তিনি পর্দা তুলে উম্মতের সালাতে অবস্থা দেখছিলেন। আমি তাহাঁর চেহারায় যেন আল-কুরআনের পৃষ্ঠা জ্বলজ্বল করিতে দেখেছিলাম। লোকেরা আবু বকর [রাদি.] এর পেছনে নামাজ আদায় করছিল। [লোকেরা সরে দাঁড়াতে চাইল] কিন্তু তিনি ইঙ্গিতে সকলকে স্থির থাকার নির্দেশ দিলেন এবং আবু বকর [রাদি.] ঈমামতি করিলেন। সেদিন শেষ বেলায় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইন্তেকাল করেন।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৬৮০; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৯৭১ ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৬২৪; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং/১২০৯৩; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৬৮৭৫; বায়হাকী, হাদিস নং/৪৮২৫; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৮২৪; মুসনাদে হুমাইদী, হাদিস নং/১২৪১। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ওফাতের

২৯৬. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের সময় তিনি আমার সিনায় বা আমার কোলে ঠেস লাগিয়ে ছিলেন। অতঃপর তিনি প্রস্রাব করার জন্য একটি পাত্র আনতে বলিলেন এবং তাতে প্রস্রাব করিলেন। এরপর তিনি ইন্তেকাল করেন।{১}

{১} ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/৬৫; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৬২৬; মুসনাদে আবু আওয়ানা, হাদিস নং/৫৭৫০। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-ও মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করেছিলেন

২৯৭. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যুর কষ্ট দেখার পর অন্য কারো মৃত্যুর সময় কষ্ট হলে আমার হিংসা হয় না।

মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৪।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে তাহাঁর মৃত্যুর স্থানেই দাফন করা হয়

২৯৮. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ইন্তিকাল হলো তখন তাহাঁর দাফন নিয়ে মতবিরোধ দেখা দিল। আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হতে এ সম্পর্কে এমন কিছু শুনিয়াছি, যা আমি আজও ভুলিনি। অতঃপর বলেন, আল্লাহ তাআলা নাবীদেরকে এমন স্থানেই মৃত্যু দেন, যেখানে দাফন করা তিনি পছন্দ করেন। অতএব রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে তাহাঁর মৃত্যুশয্যার স্থানেই দাফন করা হোক।{১}

{১} শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৮৩২। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

.৫।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের পর আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর কপালে চুম্বন করেন

২৯৯. ইবনি আব্বাস ও আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের পর আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর কপালে চুম্বন করেন।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৪৪৫৫; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৪৫৭; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/১৮৪০; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২০২৬; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৩০২৯; মুসান্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস নং/১২১৯৫। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০০. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ওফাতের পর আবু বকর [রাদি.] তাহাঁর নিকট এসে তাহাঁর দুই চোখের মাঝখানে মুখ লাগিয়ে চুম্বন করেন এবং তাহাঁর বাহুতে দুহাত রেখে বলেন, হায় নাবী! হায় অন্তরঙ্গ বন্ধু! হায় বন্ধু!{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৪০৭৫; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং/৪৮। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৬।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যুতে সাহাবীদের কাছে সবকিছু অন্ধকার মনে হচ্ছিল

৩০১. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যেদিন মদিনায় প্রবেশ করছিলেন, সেদিন সেখানকার প্রতিটি জিনিস আলোকোজ্জল হয়ে পড়েছিল। অতঃপর যেদিন তিনি ইন্তেকাল করেন, সেদিন আবার তথাকার প্রতিটি অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল। আমরা তাহাঁর দাফনকার্য শেষ করে কবরের মাটি থেকে হাত ঝাড়া না দেইত আমাদের অন্তরে পরিবর্তন অনুভব করলাম।{১}

{১} ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৬৩১; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৩৮৫৭; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৬৮৭১; মুসনানে আবু ইয়ালা, হাদিস নং/৩২৯৬; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৮৩৪; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৬৬৩৪; মুসনাদুত তায়ালুসী, হাদিস নং/১৪০৫। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৭।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সোমবারের দিন ইন্তেকাল করেন

৩০২. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সোমবারের দিন ইন্তেকাল করেন।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৪৮৩৪। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৮।পরিচ্ছদঃ মঙ্গলবারের দিন রাতে তাঁকে দাফন করা হয়

৩০৩. জাফর ইবনি মুহাম্মাদ [রহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সোমবারে ইন্তেকাল করেন। সোমবার ও মঙ্গলবার দাফন-কাফনের প্রস্তুতিতেই চলে যায়। অতঃপর মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তাঁকে দাফন করা হয়।

মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৯।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যু ও আবুবকর [রাদি.] এর বাইয়াত গ্রহণ

৩০৪. সাহাবী সালিম ইবনি উবাইদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) অসুস্থ অবস্থায় জ্ঞান হারিয়ে ফেলছিলেন। জ্ঞান ফিরে এলে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সালাতের সময় হয়েছে কি? সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তোমরা বেলালকে আযান দিতে নির্দেশ দাও এবং আবু বকরকে ঈমামতি করিতে বলো। অতঃপর তিনি আবার অজ্ঞান হয়ে পড়েন। জ্ঞান ফিরে এলে তিনি বলেন, সালাতের সময় হয়েছে কি? সাহাবীগণ বলেন, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তোমরা বেলালকে আযান দিতে বলো এবং আবু বকরকে ঈমামতি করিতে বলো। আয়েশাহ [রাদি.] বলেন, আমার পিতা কোমল হৃদয়ের লোক। যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবেন, তখন কেঁদে ফেলবেন এবং ঈমামতি করিতে সক্ষম হইবেন না। আপনি যদি তাঁকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন।

বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আবার জ্ঞান হারান। জ্ঞান ফিরে এ তিনি বলিলেন, তোমরা বেলালকে আযান দিতে বলো এবং আবু বকরকে লোকদের নামাজ পড়াতে বলো। পুনরায় আয়েশাহ [রাদি.] বলেন, আমার পিতা কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি ঐ ঈমামতের জায়গায় দাঁড়ালে কেদে ফেলবেন এবং ঈমামতি করিতে সক্ষম হইবেন না। আপনি যদি তাকে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমরা তো ইউসুফ [আঃ] এর ঘটনার সাথে জড়িত মহিলাদের মতো। বর্ণনাকারী বলেন, বেলাল [রাদি.]-কে আযান দেয়ার নির্দেশ দেয়া হলে তিনি আযান দেন এবং আবু বকর [রাদি.]-কে নির্দেশ দেয়া হলে তিনি লোকদের নামাজ পড়ান। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কিছুটা সুস্থতাবোধ করে বলেন, দেখতো! আমার ভর নেয়ার মতো কোন লোক পাওয়া যায় কি না? তখন বর্ণনাকারী ও অপর এক লোক এলে তিনি তাহাদের উপর ভর করেন [এবং মসজিদে যান]। তাঁকে দেখে আবু বকর [রাদি.] পেছনে সরে আসতে উদ্যোগী হলে তিনি তাকে স্বস্থানে স্থির থাকতে ইশারা করেন। এ অবস্থায় আবু বকর [রাদি.] নামাজ আদায় করান। অতঃপর সোমবার রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইন্তেকাল করলে উমার [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর কসম! যে ব্যক্তিকে এ কথা বলিতে শুনব যে, “রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইন্তেকাল করিয়াছেন” আমি আমার তরবারি দিয়ে তাকে আঘাত করব। আর লোকদের এ ব্যাপারে কোন অভিজ্ঞতা ছিল না। কারণ, তারা ইতোপূর্বে কোন নাবীর মৃত্যু দেখেনি। তাই তারা নীরব থাকেন।

কতিপয় সাহাবী বলেন, হে সালেম, তুমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর সাথীকে ডেকে আন। অতএব আমি আবু বকর [রাদি.] এর নিকট এলাম। তখন তিনি মসজিদে ছিলেন। আমি দিশেহারা হয়ে কান্নারত অবস্থায় আবু বকর [রাদি.] এর নিকট উপস্থিত হলাম। তিনি আমাকে দেখেই বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কি ইন্তেকাল করিয়াছেন? আমি বললাম উমার [রাদি.] বলেছেন, যাকে এ কথা বলিতে শুনবো যে, “রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইন্তেকাল করিয়াছেন” আমি আমার এ তরবারী দ্বারা তাকে আঘাত করব। আবু বকর [রাদি.] আমাকে বলিলেন, চলো। অতএব আমি তাহাঁর সাথে চললাম এবং তিনিও আসলেন। ইতোমধ্যে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে দেখার জন্য লোকজন এসে সমবেত হয়েছে। তিনি বলেন, হে লোক সকল, আমার জন্য রাস্তা করে দাও। তিনি এসে তাহাঁর প্রতি ঝুঁকে পড়েন এবং কপালে চুম্বন করে এ আয়াত পড়েন,

অর্থাৎ নিশ্চয় আপনি মরণশীল এবং তারাও [আপনার শক্ররা] মরণশীল।{১}

অতঃপর লোকেরা জিজ্ঞেস করিল, হে রাসূলের সাহাবী রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কি ইন্তেকাল করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তখন সবাই বিশ্বাস করিলেন, তিনি সত্য কথাই বলেছেন। তারা আবার জিজ্ঞেস করেন, হে রাসূল (সাঃআঃ) এর সাথী! আমরা কি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর জানাযা পড়ব? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তারা জিজ্ঞেস করেন, তা কী নিয়মে? তিনি বলিলেন, একদল লোক প্রবেশ করিবে, তারা তাকবীর বলবে, দুআ করিবে এবং দরূদ পাঠ করিবে। তারা বের হয়ে এলে আরেক দল প্রবেশ করে একই নিয়েম তাকবীর, দুআ ও দরূদ পড়ে বের হয়ে আসবে। এ নিয়মে জামাআত ছাড়া সকলে আলাদা আলাদা জানাযার নামাজ আদায় করিবে। তারা আবার জিজ্ঞেস করেন, হে রাসূল (সাঃআঃ) এর সঙ্গী! রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে কি দাফন করা হইবে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। তারা জিজ্ঞেস করেন, কোথায়? তিনি বলিলেন, যে স্থানে তাহাঁর ইন্তেকাল হয়েছে সেখানেই। আল্লাহ তাহাঁর পছন্দের স্থানেই তাহাঁর জান কবয করিয়াছেন। তখন সকলের বিশ্বাস হলো, তিনি সত্য কথাই বলেছেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে গোসল দেয়ার জন্য তাহাঁর পরিবারবর্গ ও আত্মীয়-স্বজনকে আদেশ করেন।

অতঃপর মুহাজিররা [খেলাফত প্রশ্নে] পরামর্শের জন্য মিলিত হন। মুহাজিররা আবু বকর [রাদি.]-কে বলিলেন, আমাদেরকে নিয়ে আনসার ভাইদের কাছে চলুন এবং এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আমাদের সাথে তাহাদেরকেও অন্তর্ভুক্ত করব। আনসারগণ বলিলেন, আমাদের মধ্য হতে একজন আমীর এবং আপনাদের [মুহাজিরদের] মধ্য থেকে একজন আমীর হোক। তখন উমার [রাদি.] বলিলেন, এমন কে আছে, যে এই ঘটনার তৃতীয়জন [যে ঘটনাটির ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেন]-

“দুজনের একজন যখন তারা ছিল গুহার মধ্যে, যখন সে তাহাঁর সাথীকে বলিল, বিচলিত হয়ো না; নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।{2}

কারা ছিলেন সে দুজন? বর্ণনাকারী বলেন, তারপর উমার [রাদি.] তাহাঁর হাত প্রসারিত করে দিয়ে আবু বকর [রাদি.]-এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন। তারপর লোকেরাও তাহাঁর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন।{3}

{১} সূরা যুমার- ৩০। {2} সূরা তাওবা- ৪০৷ {3} সুনানুল কুবরা লিন নাসাঈ, হাদিস নং/৭০৮১; সুনানুল কুবরা লিত তাবারানী, হাদিস নং/৬২৪৩। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১০।পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মৃত্যুতে ফাতিমা [রাদি.] এর ক্ৰন্দন

৩০৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন মৃত্যুর কষ্ট ভোগ করছিলেন, তখন ফাতেমা [রাদি.] বলিলেন, হায়! আমার আব্বার কতই না কষ্ট হচ্ছে! রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, আজকের পর তোমার পিতার আর কোন কষ্ট থাকিবে না। তোমার পিতার নিকট মৃত্যু নামক এমন এক বিষয় উপস্থিত হয়েছে, যা থেকে ক্বিয়ামত পর্যন্ত কেউ রেহাই পাবে না।{১}

{১} ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/১৬২৯। মুহাম্মদের মৃত্যু দিবস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply