মুহাকালাহ , মুখাবারাহ্‌, খাবার যোগ্য হওয়ার আগেই ফল বিক্রি

মুহাকালাহ , মুযাবানাহ্‌, মুখাবারাহ্‌, খাবার যোগ্য হওয়ার আগেই ফল বিক্রি

মুহাকালাহ , মুযাবানাহ্‌, মুখাবারাহ্‌, খাবার যোগ্য হওয়ার আগেই ফল বিক্রি >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১৬. অধ্যায়ঃ মুহাকালাহ , মুযাবানাহ্‌, মুখাবারাহ্‌, খাবার যোগ্য হওয়ার আগেই ফল বিক্রি ও মুআ-ওয়ামাহ্‌ অর্থাৎ- কয়েক বছরের জন্যে ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ

৩৮০০

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালাহ, মুযাবানাহ্‌, মুখাবারাহ্‌ ও পরিণত হওয়ার আগে ফল ক্রয়-বিক্রয় নিষেধ করিয়াছেন। আর আরায়া প্রক্রিয়া ছাড়া দীনার ও দিরহামের বিনিময় ব্যতীত ফল বিক্রি করা যাবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৬৪]

৩৮০১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন- অতঃপর তিনি উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৬৫]

৩৮০২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুখাবারাহ্‌, মুহাকালাহ, মুযাবানাহ্‌ এবং খাওয়ার যোগ্য হওয়ার পূর্বেই ফল বিক্রি করিতে নিষেধ করেছেণ। আর দিরহাম ও দীনারের বিনিময়েই কেবল ফল বিক্রি করা যাবে, কিন্তু আরায়া প্রক্রিয়াটি স্বতন্ত্র [অর্থাৎ- এতে ফলের বদলে ফল বিক্রয় চলবে]।

আতা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ ক্রয়-বিক্রয়ের ঐ ধরণগুলো সম্পর্কে জাবির [রাদি.] আমাদেরকে খুলে বলেছেন; মুখাবারাহ্‌ হলো: এক ব্যক্তিকে শস্যহীন শুন্য ক্ষেত প্রদান করা হয়। এরপর সে তাতে ফসল উৎপন্ন করে তারপর মালিক উৎপন্ন ফসলে অংশগ্রহণ করে। আর মুযাবানাহ্‌ হলো- গাছের মাথায় থাকা তাজা খেজুর অনুমানে পরিমাপ করে খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা। আর মুহাকালাহ ফসলের মধ্যে অনুরূপ পদ্ধতিতে হয়ে থাকে অর্থাৎ-ক্ষেতের বিদ্যমান শস্যকে অনুমানে পরিমাপ করে ঘরে রাখা শস্যের বিনিময়ে বিক্রি করা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৬৬]

৩৮০৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালাহ, মুযাবানাহ্‌, মুখাবানাহ্‌, মুখাবারাহ্‌ এবং খেজুর লাল বা হলদে অথবা খাদ্যোপযোগী হওয়ার পূর্বে খরিদ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। মুহাকালাহ হলো- ক্ষেতের শস্য নির্ধারিত পরিমাণ খাদ্যের বিনিময়ে বিক্রি করা। মুযাবানাহ্‌ হচ্ছে- গাছের খেজুর কয়েক অসক খুরমার বিনিময়ে বিক্রি করা। মুখাবারাহ্‌ বলা হয়- এক তৃতীয়াংশ, এক চতুর্থাংশ বা এরূপ নির্দিষ্ট কোন অংশকে।

যায়দ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ আমি আতা ইবনি আবু রাবাহ্‌কে জিজ্ঞেস করলাম- আপনি কি জাবির ইবনি আবদুল্লাহকে বলিতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ বলেছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৬৭]

৩৮০৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুযাবানাহ্‌, মুহাকালাহ, মুখাবারাহ্‌ এবং ফল পাকার আগে বিক্রি করিতে নিষেধ করিয়াছেন।

রাবী বলেন, আমি সাঈদকে জিজ্ঞেস করলাম পাকার অর্থ কী? তিনি বলিলেন, লাল বর্ণ বা হলুদ বর্ণ ধারণ করা এবং খাওয়ার যোগ্য হওয়া। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৬৮]

৩৮০৫

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রা.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহাকালাহ, মুযাবানাহ্‌, মুআওয়ামাহ্‌ ও মুখাবারাহ নিষেধ করিয়াছেন। দুজনের একজনে বলেন কয়েক বছরের জন্যে বিক্রি করার নাম মুআওয়ামাহ্‌। তিনি [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন কিছু অংশ বাদ দেয়া হইতে {১৩} আর অনুমতি দিয়েছেন আরায়ার বেলায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৬৯]

{১‌৩} কিছু অংশ বাদ অর্থাৎ বিক্রেতা শস্যস্তুপ বা বাগানের গাছগুলো থেকে অজ্ঞাত পরিমাণ কিছু বাদ দিয়ে বিক্রি করিতে চাইলে সে বেচাকেনা বাতিল বলে গণ্য হইবে। [শারহে মুসলিম, ঈমাম নাবাবী, ২য় খণ্ড, ১১ পৃ]

৩৮০৬

জাবির [রা.]-এর সূত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে তিনি এ কথাটি উল্লেখ করেননি যে, কয়েক বছরের জন্যে বিক্রি করা হলো মুআওয়ামাহ্। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৭৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৭০]

৩৮০৭

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জমি বর্গা দিতে, কয়েক বছরের জন্যে বিক্রি করিতে এবং ফল পরিপক্ক হওয়ার আগে বিক্রি করিতে নিষেধ করিয়াছেন। [ই-ফা. ৩৭৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৩৭৭১]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply