মুহরিম ব্যক্তি র পোশাক, অস্ত্র, শিংগা লাগানো, গোসল, বিয়ে, শিকার করা

মুহরিম ব্যক্তি র পোশাক, অস্ত্র, শিংগা লাগানো, গোসল, বিয়ে, শিকার করা

মুহরিম ব্যক্তি র পোশাক, অস্ত্র, শিংগা লাগানো, গোসল, বিয়ে, শিকার করা >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ১১, অনুচ্ছেদঃ ৩১-৪৫=১৫টি

অনুচ্ছেদ-৩১ঃ আদব শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে মুহরিম কর্তৃক নিজ চাকরকে শাস্তি প্রদান
অনুচ্ছেদ-৩২ঃ কেউ পরনের কাপড়ে ইহরাম বাঁধলে
অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ মুহরিম ব্যক্তি কেমন পোশাক পরিধান করিবে?
অনুচ্ছেদ–৩৪ঃ মুহরিম ব্যক্তির অস্ত্র বহন প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ–৩৫ঃ ইহরাম অবস্হায় মহিলাদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখা
অনুচ্ছেদ–৩৬ঃ মুহরিম ব্যক্তিকে ছায়া প্রদান
অনুচ্ছেদ–৩৭ঃ মুহরিম ব্যক্তির শিংগা লাগানো
অনুচ্ছেদ–৩৮ঃ মুহরিম ব্যক্তির সুরমা লাগানো
অনুচ্ছেদ–৩৯ঃ মুহরিম ব্যক্তির গোসল করা
অনুচ্ছেদ–৪০ঃ মুহরিম বিয়ে করিতে পারবে কি?
অনুচ্ছেদ–৪১ঃ মুহরিম ব্যক্তি যেসব প্রাণী হত্যা করিতে পারবে
অনুচ্ছেদ–৪২ঃ মুহরিম ব্যক্তির জন্য শিকারকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া
অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ মুহরিম ব্যক্তির পঙ্গপাল শিকার করা প্রসঙ্গে
অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ ফিদয়া [ক্ষতিপূরণ] সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ যদি পথিমধ্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়

অনুচ্ছেদ-৩১ঃ আদব শিক্ষা দেয়ার উদ্দেশ্যে মুহরিম কর্তৃক নিজ চাকরকে শাস্তি প্রদান

১৮১৮

আসমা বিনতু আবু বাক্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] সাথে রওয়ান হলাম। আমরা আল-আরজ নামক স্থানে পৌঁছলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যাত্রাবিরতি করেন এবং আমরা ও যাত্রাবিরতি করি। আয়িশাহ [রাদি.] রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] পাশে বসলেন আর আমি আমার পিতা আবু বকর [রাদি.]-এর পাশে বসি। আবু বকর [রাদি.] এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মালপত্র একত্রে একটি উটের পিঠে আবু বকর [রাদি.] এর এক ক্রীতদাসের নিকট ছিলো। আবু বকর [রাদি.] তার আগমনের অপেক্ষায় ছিলেন। এমন সময় সে হাযির হলো, কিন্তু তার সাথে উট ছিল না। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার উট কোথায়? সে বললো, গত রাতে তা আমি হারিয়ে ফেলেছি। বর্ণনাকারী বলেন, আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, একটিমাত্র উট, সেটাও হারিয়ে ফেললে? এই বলে তিনি তাহাকে মারধর করিলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুচকি হেসে বলিলেনঃ তোমরা এই ইহরামধারী লোকটির দিকে দেখো, সে কি করছে? ইবনি আবু রিযমা বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুচকি হেসে শুধু বলিলেন, তোমরা এ মুহরিম লোকটির দিকে দেখো, সে কি করছে”। {১৮১৮}

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩২ঃ কেউ পরনের কাপড়ে ইহরাম বাঁধলে

১৮১৯

সাফওয়ান ইবনি ইয়ালা ইবনি উমাইয়্যাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি আল-জিইররানা নামক স্থানে নাবী [সাঃআঃ] এর খিদমতে উপস্থিত হলো। ঐ ব্যক্তির শরীরে খালূক কিংবা হলুদ রংয়ের কিছুটা চিহ্ন ছিলো এবং পরণে ছিলো জুব্বা। সে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি আমায় উমরাহ কিভাবে করিতে বলেন? এ সময় মহান আল্লাহ নাবী [সাঃআঃ] এর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ করেন। তাহাঁর থেকে ওয়াহী অবতীর্ণ হবার অবস্থা দূরীভূত হলে তিনি বলিলেনঃ যে লোকটি উমরাহ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিলো সে কোথায়? তোমার শরীর থেকে খালূক অথবা হলুদ রংয়ের চিহ্ন ধুয়ে ফেলো, তোমার পরিহিত জুব্বাটি খুলে ফেলো এবং হাজ্জের মধ্যে যা কিছু করেছো উমরাতেও তাই করো। {১৮১৯}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২০

সাফওয়ান ইবনি ইয়ালা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ ঘটনা বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছে ঃ অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ তোমার জুব্বাটি খুলে ফেলো। ফলে সে তার মাথার দিক থেকে জুব্বাটি খুলে ফেললো। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন।

সহিহ, তবে তার এ কথাটি বাদে তার মাথার দিক থেকে”। কেননা এ অংশটুকু মুনকার।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২১

সাফওয়ান ইবনি ইয়ালা ইবনি মুনাব্বিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার পিতা হইতে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে জুব্বাটি খুলে ফেলার নির্দেশ দেন এবং সুগন্ধির স্থান দুই বা তিনবার ধুয়ে ফেলতে বলিলেন। অতঃপর বর্ননাকারী পূর্ণ হাদিস বর্ণনা করেছেন। {১৮২১}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২২

সাফওয়ান ইবনি ইয়ালা ইবনি উমাইয়্যাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

এক ব্যক্তি আল-জিইররানা নামক স্থানে নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট আসলো। সে উমরাহ্‌র জন্য এমন অবস্থায় ইহরাম বেঁধেছে যে, তার গায়ে জুব্বা ছিলো এবং তার চুল ও দাঁড়ি ছিলো হলুদ রংয়ে রঞ্জিত। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদিসটি বর্ণনা করেন। {১৮২২}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৩ঃ মুহরিম ব্যক্তি কেমন পোশাক পরিধান করিবে?

১৮২৩

সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করলো, মুহরিম ব্যক্তি কি ধরনের কাপড় পরিহার করিবে? তিনি বলিলেনঃ মুহরিম ব্যক্তি জামা, টুপি, পায়জামা, পাগড়ী, জাফরান অথবা ওয়ারাস মাখা কোন কাপড় ও মোজা পরবে না। তবে যার জুতা নেই সে মোজা পরতে পারবে। কিন্তু মোজা দুটি সে এমনভাবে কেটে নিবে যাতে তা গোছাদ্বয়ের নীচে থাকে। {১৮২৩}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২৪

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে পূর্ব বর্ণিত হাদিসের সমার্থবোধক হাদিস বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২৫

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] সূত্রে পূর্ব বর্ণিত হাদিসের অর্থানুরূপ বর্ণিত। তাতে অতিরিক্ত রয়েছে ঃ মুহরিম নারী মুখাবরণ পরিধান করিতে পারবে না, হাতমোজাও পরতে পারবে না।

সহিহ।

ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, হাদিসটি হাতিম ইবনি ইসমাঈল…বিভিন্ন সূত্রে ইবনি উমার [রাদি.] হইতে মাওকূফভাবে বর্ণিত আছে এবং মারফূভাবেও। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মুহরিম নারী মুখাবরণ এবং হাতমোজা পরবে না।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২৬

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ মুহরিমা মুখাবরণ ও হাতমোজা পরবে না। {১৮২৬}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২৭

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে ইহরাম অবস্হায় নারীদের হাতমোজা ও মুখমন্ডলে নিকাব ঝুলাতে এবং ওয়ারস ঘাস ও জাফরান মিশ্রিত কাপড় পরতে নিষেধ করিতে শুনেছেন। তবে এগুলো বাদে অন্য কাপড় পরতে পারবে, যদিও তা রেশমী, কারুকার্য খচিত পায়জামা বা জামা কিংবা মোজা হয়। {১৮২৭}

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৮২৮

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা তিনি খুব শীত অনুভব করায় নাফিকে বলিলেনঃ আমাকে একখানা কাপড় দিয়ে ঢেকে দাও। আমি বোরকা সদৃশ একটি জুব্বা তাহাঁর উপর বিছিয়ে দিলাম। তিনি বলিলেন, তুমি এটা আমার উপর বিছালে? অথচ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুহরিম ব্যক্তিকে এটা পরতে নিষেধ করেছেন। {১৮২৮}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮২৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ঃ মুহরিম ব্যক্তির লুঙ্গি না থাকলে সে পায়জামা পরবে, জুতা না থাকলে সে মোজা পরবে। {১৮২৯}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৩০

আয়িশাহ বিনতু ত্বালহা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.] তাহাকে বলিয়াছেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ]-এর সাথে [মাদীনাহ থেকে] মক্কায় সফর করেছি এবং ইহরামের সময় আমরা আমাদের পরিধেয় বস্ত্রে উত্তম সুগন্ধি মেখেছি। আমাদের কেউ ঘর্মাক্ত হলে তা মুখমন্ডল বেয়ে পড়তো, নাবী [সাঃআঃ] তা দেখিতেন কিন্তু তা ব্যবহার করিতে নিষেধ করিতেন না। {১৮৩০}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৩১

সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] মুহরিম নারীর জন্য মোজার উপরের অংশ কেটে ব্যবহারের অনুমতি দিতেন। পরে সাফিয়্যাহ বিনতু আবু উবাইদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাকে বর্ণনা করেন যে, আয়িশাহ [রাদি.] তাহাকে বলিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নারীদেরকে মোজা পরার অনুমতি দিয়েছেন। এরপর তিনি তা কর্তন করা বাদ দেন। {১৮৩১}

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ–৩৪ঃ মুহরিম ব্যক্তির অস্ত্র বহন প্রসঙ্গে

১৮৩২

আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আল-বারাআ [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হুদায়বিয়াবাসীর সাথে সন্ধি করার সময় তাহাদের সাথে এই সন্ধি করিলেন যে, নাবী [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর সাহাবীরা কেবল কোষবদ্ধ তলোয়ার নিয়ে [মক্কায়] প্রবেশ করিতে পারবে। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তাহাকে জিজ্ঞেস করলাম, জুলবানুসসলাহ কি? তিনি বলিলেন, কোষবদ্ধ তলোয়ার। {১৮৩২}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ–৩৫ঃ ইহরাম অবস্হায় মহিলাদের মুখমন্ডল ঢেকে রাখা

১৮৩৩

আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, অনেক কাফেলা আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলো। তখন আমরা রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] সঙ্গে ইহরাম অবস্হায় ছিলাম। তারা আমাদের সামনা-সামনি আসলে আমাদের নারীরা নিজ মুখাবরণ মাথা থেকে নামিয়ে নিজ মূখমন্ডল ঢেকে ফেলতেন। অতঃপর তারা অতিক্রম করে চলে গেলে আমরা মুখ খুলতাম। {১৮৩৩}

দুর্বল ঃ মিশকাত [২৬৯০], ইরওয়া [১০২৪], যয়ীফ সুনান ইবনি মাজাহ [৬৩৭]।

{১৮৩৩} ইবনি মাজাহ, আহমাদ। সনদের ইয়াষীদ ইবনি আবু যিয়াদ সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রম্হে বলেনঃ যয়ীফ, বৃদ্ধ বয়সে তার স্মৃতি লোপ পেয়েছিল। ফলে তিনি তালকীন করিতেন।

মুহরিম ব্যক্তি -এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ–৩৬ঃ মুহরিম ব্যক্তিকে ছায়া প্রদান

১৮৩৪

উম্মুল হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা নাবী [সাঃআঃ] এর সঙ্গে বিদায় হাজ্জে উপস্হিত ছিলাম। আমি উসামাহ ও বিলাল [রাদি.]-কে দেখলাম, তাহাদের একজন নাবী [সাঃআঃ] এর উষ্ট্রীর লাগাম ধরে আছেন এবং অপরজন জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করা পর্যন্ত তার কাপড় উঠিয়ে নাবী [সাঃআঃ]-কে রোদের তাপ থেকে ছায়া প্রদান করেছেন। {১৮৩৪}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ–৩৭ঃ মুহরিম ব্যক্তির শিংগা লাগানো

১৮৩৫

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মুহরিম অবস্হায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। {১৮৩৫}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৩৬

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর কোনো রোগের কারণে মুহরিম অবস্হায় তাহাঁর মাথায় রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। {১৮৩৬}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৩৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ব্যাথার কারণে ইহরাম অবস্হায় তাহাঁর পায়ের উপরিভাগে রক্তমোক্ষণ করিয়েছেন। ইবনি আবু আরুবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ক্বাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে এটি মুরসালভাবে বর্ণনা করেছেন। {১৮৩৭}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ–৩৮ঃ মুহরিম ব্যক্তির সুরমা লাগানো

১৮৩৮

নুবাইহ্ ইবনি ওয়াহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনি উবাইদুল্লাহ ইবনি মামারের চোখের অসুখ হলো। তিনি আবান ইবনি উসমানের [রাদি.] কাছে জানতে চেয়ে পাঠালেন, এখন কি করণীয়? সুফিয়ান বলেন, তিনি [আবান] ছিলেন আমীরুল হাজ্জ। তিনি বলিলেন, সাবার নামক তিতা গাছের রস চোখে লাগাও। কেননা আমি উসমান [রাদি.]-কে এ বিষয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সূত্রে হাদিস বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি। {১৮৩৮}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৩৯

নাফি [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

নুবাইহ্ ইবনি ওয়াহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সূত্রে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। {১৮৩৯}

আমি এটি সহিহ এবং যঈফে পাইনি।

{১৮৩৯} আহমাদ। আহমাদ শাকির বলেনঃ এর সনদ সহিহ।

হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

অনুচ্ছেদ–৩৯ঃ মুহরিম ব্যক্তির গোসল করা

১৮৪০

ইবরাহীম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি হুনাইন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস ও আল-মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.]-এর মধ্যে আল-আবওয়া নামক স্হানে মতবিরোধ দেখা দিলে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে। আর মিসওয়ার [রাদি.] বলেন, মুহরিম ব্যক্তি মাথা ধুতে পারবে না। সুতরাং এ বিষয়ে জানার জন্য আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] আবদুল্লাহ ইবনি হুনাইনকে আবু আইয়ূব আল-আনসারী [রাদি.]-এর কাছে প্রেরণ করেন। তিনি গিয়ে তাহাকে দুই খুঁটির মাঝখানে একখানা কাপড়ের আড়ালে গোসল করিতে দেখলেন। তিনি বলেন, আমি তাহাকে সালাম দিলে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কে? আমি বলিলাম, আমি আবদুল্লাহ ইবনি হুনাইন। আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] আমাকে আপনার কাছে জানতে পাঠিয়েছেন যে, মুহরিম অবস্হায় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর মাথা কিভাবে ধুতেন? ইবনি হুনাইন বলেন, আবু আইয়ূব [রাদি.] তার হাত কাপড়ের উপর রেখে তা নিচু করিলেন, এমনকি আমি তার মাথা দেখিতে পেলাম। এরপর তিনি এক ব্যক্তিকে তার মাথায় পানি ঢালতে বললে সে পানি ঢালতে থাকলো। তখন তিনি মাথার চুলে দুই হাত দিয়ে একবার সামনে আনলেন, আবার পিছনে নিলেন। অতঃপর বলিলেন, আমি রাসূল [সাঃআঃ]-কে এরূপ করিতে দেখেছি। {১৮৪০}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ–৪০ঃ মুহরিম বিয়ে করিতে পারবে কি?

১৮৪১

নুবাইহ্ ইবনি ওয়াহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উমার ইবনি উবাইদুল্লাহ এক ব্যক্তিকে আবান ইবনি উসমানের নিকট প্রেরণ করিলেন এটা জিজ্ঞেস করার জন্য যে, আমি [আমার পুত্র] ত্বালহা ইবনি উমারকে শাইবাহ ইবনি জুবাইরের মেয়ের সাথে বিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করেছি। তখন আবান ছিলেন আমীরুল হাজ্জ এবং তারা উভয়েই মুহরিম ছিলেন। আমরা আশা করি আপনি এ অনুষ্ঠানে উপস্হিত থাকিবেন। আবান উমারের এ প্রস্তাব প্রত্যাখান করে বলিলেন, আমি আমার পিতা উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মুহরিম ব্যক্তি ইহরাম অবস্হায় বিয়ে করিতে পারবে না এবং কাউকে বিয়ে করাতেও পারবে না। {১৮৪১}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৪২

উসমান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেন, অতঃপর বর্ণনাকারী উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। তবে এ বর্ণনায় আরো রয়েছে ঃ বিবাহের প্রস্তাবও দিতে পারবে না। {১৮৪২}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৪৩

মায়মূনাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে সারিফ নামক স্হানে বিয়ে করেছেন। তখন আমর উভয়ে হালাল অবস্হায় ছিলাম। {১৮৪৩}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৪৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ইহরাম অবস্হায় মায়মূনাহ [রাদি.]-কে বিয়ে করেছেন। {১৮৪৪}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৪৫

সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ইহরাম অবস্হায় নাবী [সাঃআঃ]-এর সাথে মায়মূনাহ [রাদি.]-এর বিয়ে হওয়ার বিষয়ে ইবনি আব্বাস [রাদি.] সন্দেহে পড়েছেন। {১৮৪৫}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

অনুচ্ছেদ–৪১ঃ মুহরিম ব্যক্তি যেসব প্রাণী হত্যা করিতে পারবে

১৮৪৬

সালিম [রাদি.] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুহরিম ব্যক্তি কোন কোন প্রাণী হত্যা করিতে পারবে। তিনি বলিলেনঃ পাঁচ প্রকার প্রাণী হত্যা করিতে দোষ নেই, চাই ইহরাম অবস্হায় বা ইহরাম ব্যতিরেকে অথবা হেরেম এলাকায় বা হেরেমের বাইরে হোক। তা হল ঃ বিছা, কাক, ইদুঁর, চিল ও পাগলা কুকুর। {১৮৪৬}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৪৭

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ সাপ, বিছা, চিল, ইঁদুর ও পাগলা কুকুর- এ পাঁচ প্রকারের প্রাণী হারাম এলাকায় হত্যা করা জায়িয। {১৮৪৭}

হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৮৪৮

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করা হলো, মুহরিম ব্যক্তি কোন কোন প্রাণী হত্যা করিতে পারবে। তিনি বলিলেনঃ সাপ, বিছা, ইঁদুর, খ্যাপা কুকুর, চিল এবং হিংস্র জন্তু। আর কাক তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করিবে না। {১৮৪৮}

দুর্বল, এবং তার কথা “কাক তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করিবে না” এ অংশটুকু মুনকার। ইরওয়া [১০৩৬], যয়ীফ সুনান ইবনি মাজাহ [৬৬০], তার বর্ণনায় “কাক তাড়িয়ে দিবে, হত্যা করিবে না” কথাটুকু নেই।

{১৮৪৮} তিরমিজি, ইবনি মাজাহ, আহমাদ। ঈমাম তিরমিজি বলেন ঃ এই হাদিসটি হাসান। হাদিসের সানাদে ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ যয়ীফ।

মুহরিম ব্যক্তি -এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ–৪২ঃ মুহরিম ব্যক্তির জন্য শিকারকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া

১৮৪৯

ইসহাক্ব ইবনি আবদুল্লাহ ইবনিল হারিস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার হইতে বর্ণীতঃ

আল-হারিস [রাদি.] ছিলেন তায়িফে উসমানের [রাদি.] প্রতিনিধি গভর্ণর। হারিস উসমানের [রাদি.] জন্যে খাবার তৈরী করালেন, তন্মধ্যে হুযাল ও ইয়াকীব পাখির গোশত এবং বন্য গাধার গোশ্‌ত ছিলো। অতঃপর তিনি আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.]-কে ডেকে আনতে লোক পাঠান। লোকটি যখন তার [আলীর] কাছে এলো তখন তিনি [আলী] উটের জন্য গাছ থেকে পাতা জড়ো করছিলেন। তিনি হাত থেকে পাতা ঝাড়তে ঝাড়তে দাওয়াতে আসলেন। তারা তাহাকে বলিলেন, খাওয়া শুরু করুন। তিনি বলিলেন, এটা এমন ব্যক্তিদেরকে খেতে দিন যারা ইহরামমুক্ত। কেননা আমরা মুহরিম। অতঃপর আলী [রাদি.] উপস্থিত আশজা গোত্রীয় লোকদের শপথ দিয়ে বলেন, তোমরা কি জানো না, এক লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জংলী গাধার গোশত হাদিয়া দিয়েছিলেন, তখন তিনি মুহরিম ছিলেন এবং তিনি তা খেতে চাননি? তারা বললো, হ্যাঁ। {১৮৪৯}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৫০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হে যায়িদ ইবনি আরক্বাম! তুমি কি জানো যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে একটি শিকারী প্রাণীর এক টুকরা গোশত হাদিয়া দেয়া হলে তিনি সেটা গ্রহণ না করে এই বলে ফেরত পাঠালেন যে, আমরা মুহরিম? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। {১৮৫০}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৫১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি ঃ স্থলভাগের শিকার করা পশুর গোশত তোমাদের জন্য খাওয়া হালাল ততক্ষণ পর্যন্ত যতক্ষণ তোমরা [ইহরাম অবস্থায়] তা শিকার করে না থাকো কিংবা শুধু তোমাদের জন্যই কেউ শিকার না করে থাকে। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, নাবী [সাঃআঃ] হইতে পরস্পর বিরোধী হাদিস বর্ণিত হলে সাহাবীরা যেটা গ্রহণ করেছেন সেটাই প্রাধান্য পাবে। {১৮৫১}

দুর্বল ঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [৩৫২৪], মিশকাত [২৭০০], যয়ীফ সুনান আত-তিরমিজি [১৪৭/৮৫৪]।

{১৮৫১} তিরমিজি, নাসায়ী। সনদের আবু আবদুর রহমান ইবনি উমার বিন আবু আমর হাদিস বর্ণনায় শক্তিশালী নন। যদিও তার থেকে মালিক বর্ণনা করেছেন।

মুহরিম ব্যক্তি -এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৮৫২

আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] সফর সঙ্গী ছিলেন। মক্কার কোনো রাস্তা অতিক্রমের সময় তিনি তার কিছু মুহরিম সাথীসহ পেছনে রয়ে যান। তিনি ছিলেন ইহরাম মুক্ত। অতঃপর তিনি একটি বন্য গাধা দেখিতে পেয়ে নিজের ঘোড়ার পিঠে চড়লেন। তাহাঁর চাবুকটি নীচে পড়ে গেলে তিনি তার সঙ্গীদের তা তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালে তারা তুলে দিতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর তার তীরটি তুলে দেয়ার অনুরোধ জানালে তাও দিতে অস্বীকার করেন। অবশেষে তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং গাধাটিকে আক্রমণ করে হত্যা করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কিছু সাহাবী তার গোশত খেলেন, আর কিছু সাহাবী খেতে অস্বীকার করিলেন। অতঃপর যখন তারা রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] সাথে মিলিত হলেন, তখন তাঁকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেনঃ এটা তো খাদ্য, যা মহান আল্লাহ তোমাদেরকে খাইয়েছেন। {১৮৫২}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৩ঃ মুহরিম ব্যক্তির পঙ্গপাল শিকার করা প্রসঙ্গে

১৮৫৩

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ পঙ্গপাল হলো সামুদ্রিক শিকার। {১৮৫৩}

দুর্বল ঃ যয়ীফ আল-জামিউস সাগীর [২৬৪৭], মিশকাত [২৭০১], ইরওয়া [১০৩১]।

{১৮৫৩} বায়হাক্বীর সুনানুল কুবরা। সনদের মায়মূনকে যদিও ইবনি হিব্বান এবং আজালী সিক্বাহ বলিয়াছেন। কিন্তু তার সম্পর্কে ঈমাম বায়হাক্বী বলেন ঃ তিনি পরিচিত নন। আল্লামা মুনযিরী ও ঈমাম আযদী বলেন ঃ তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। উকায়লী বলেন ঃ তার হাদিস সহিহ নয়। ঈমাম যাহাবী তাহাকে যুআফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

মুহরিম ব্যক্তি -এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৮৫৪

আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা ফড়িংয়ের একটি বিরাট দলের মধ্যে পৌঁছলে জনৈক মুহরিম ব্যক্তি তার চাবুক দিয়ে সেগুলো মারতে লাগলো। কেউ বললো, মুহরিমের জন্য এরূপ করা উচিত নয়। অতঃপর তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে তা অবহিত করালে তিনি বলেনঃ এটা হচ্ছে সামুদ্রিক শিকার। {১৮৫৪}

খুবই দুর্বল ঃ ইরওয়া [১০৩১]।

[বর্ণনাকারী বলেন], আমি ঈমাম আবু দাউদকে বলিতে শুনিয়াছি, আবুল মুহাযযিম হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। তার বর্ণিত হাদিসদ্বয় সন্দেহযুক্ত।

{১৮৫৪} তিরমিজি, ইবনি মাজাহ, বায়হাক্বী, আহমাদ। সনদের আবু মুহাযযিম সম্পর্কে হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেন ঃ মাতরূক।

হাদিসের তাহকিকঃ খুবই দুর্বল

১৮৫৫

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, ফড়িং সামুদ্রিক শিকারের অন্তর্ভুক্ত। {১৮৫৫}

{১৮৫৫} এটি গত হয়েছে হা/১৮৫৩। সনদের মায়মূনকে যদিও ইবনি হিব্বান এবং আজালী সিক্বাহ বলিয়াছেন। কিন্তু তার সম্পর্কে ঈমাম বায়হাক্বী বলেন ঃ তিনি পরিচিত নন। আল্লামা মুনযিরী ও ঈমাম আযদী বলেন ঃ তার হাদিস দ্বারাদলীল গ্রহণযোগ্য নয়। উকায়লী বলেন ঃ তার হাদিস সহিহ নয়। ঈমাম যাহাবী তাহাকে যুআফা গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন।

মুহরিম ব্যক্তি -এই হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৪ঃ ফিদয়া [ক্ষতিপূরণ] সম্পর্কে

১৮৫৬

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হুদায়বিয়ার সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে তাহাকে বলিলেনঃ তোমর মাথার উকুন তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ মাথা মুণ্ডন করে ফেলো, অতঃপর একটি বকরী কুরবানী করো অথবা তিন দিন সাওম পালন করো অথবা তিন সা খেজুর ছয়জন মিসকীনকে বিতরণ করো। {১৮৫৬}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৫৭

কাব ইবনি উজারাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাকে বলিলেনঃ তুমি চাইলে একটি কুরবানী করো অথবা তিন দিন সওম রাখো অথবা তিন সা খেজুর ছয়জন মিসকিনকে দান করো। {১৮৫৭}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৫৮

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হুদায়বিয়ার সময় তার পাশ দিয়ে অতিক্রম করিলেন। অতঃপর বর্ণনাকারী পূর্ণ ঘটনা বর্ণনা করেন। তিনি [সাঃআঃ] জিজ্ঞেস করিলেন ঃ তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বলিলেন, না। তিনি বলিলেনঃ তাহলে তিন দিন সওম পালন করো অথবা তিন সা খেজুর ছয়জন মিসকীনকে বিতরণ করো, যেন প্রত্যেক দুজন মিসকীন এক সা করে পায়। {১৮৫৮}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৫৯

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তার মাথায় [উকুনের উপদ্রবের কারণে] কষ্ট হওয়ায় তিনি মাথা মুড়ে ফেলেন। নাবী [সাঃআঃ] তাহাকে একটি গরু কুরবানী করার নির্দেশ দিলেন। {১৮৫৯}

দুর্বল, এবং তার গরু কথাটি মুনকার।

{১৮৫৯} এর সানাদে নাম উল্লেখহীন জনৈক ব্যক্তি রয়েছে।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল মুনকার

১৮৬০

কাব ইবনি উজারাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি হুদায়বিয়ার বছরে রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] সাথে ছিলাম। আমার মাথায় উকুনের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলো। এমনকি আমি আমার দৃষ্টিশক্তি সম্পর্কে আশংকায় পড়লাম। এ সময় মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ অবতীর্ণ করিলেন ঃ “তবে যে ব্যক্তি অসুস্থ হওয়ার কারণে অথবা মাথায় কোনো প্রকার কষ্টদায়ক ব্যাপার থাকার কারণে মাথা মুড়িয়ে নেয়, ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার সওম পালন বা ফিদ্‌য়া প্রদান বা কুরবানী করা বিধেয়” [সূরাহ আল-বাক্বারাহ ঃ ১৯৬]। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে ডেকে বলিলেনঃ মাথা মুন্ডন করো এবং তিন দিন সওম পালন করো অথবা এক ফারাক কিশমিশ ছয়জন মিসকীনের মধ্যে বিতরণ করো অথবা একটি বকরী কুরবানী করো। কাব বলেন, সুতরাং আমি আমার মাথা মুণ্ডন করি এবং কুরবানী করি। {১৮৬০}

হাসান। কিন্তু কিশিমিশের উল্লেখ মুনকার। মাহফূয হলো ঃ খেজুর।

হাদিসের তাহকিকঃ অন্যান্য

১৮৬১

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। এতে রয়েছে ঃ তুমি এসবের কোন একটি করলেই তা তোমার জন্য যথেষ্ট হইবে।

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪৫ঃ যদি পথিমধ্যে বাধাপ্রাপ্ত হয়

১৮৬২

ইকরিমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি হাজ্জাজ ইবনি আমর আল-আনসারী [রাদি.]-কে বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যদি কারো চলার পথে পা ভেঙ্গে যায় বা খোঁড়া হয়ে যায় তবে সে ইহরাম খুলতে পারবে। অবশ্য পরবর্তী বছরে তাহাকে হাজ্জ করিতে হইবে। ইকরিমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, পরে এ বিষয়ে আমি ইবনি আব্বাস ও আবু হুরায়রা [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলে তারা উভয়ে বলিলেন, [হাজ্জাজ] সত্যই বলিয়াছেন। {১৮৬২}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৬৩

আল-হাজ্জাজ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ কারো পা ভেঙ্গে গেলে অথবা খোঁড়া হয়ে গেলে অথবা ব্যাধিগ্রস্ত হলে..; অতঃপর পূর্ববর্তী হাদিসের অর্থানুযায়ী বর্ণিত। {১৮৬৩}

হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৮৬৪

আবু মায়মূন ইবনি মিহরান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে বছর সিরিয়াবাসীরা ইবনিয যুবাইর [রাদি.]-কে মক্কায় অবরোধ করেছিলো আমি সেই বছর উমারাহ করিতে বের হই। আমার কওমের কতিপয় লোক আমার সাথে তাহাদের কুরবানীর পশুও প্রেরণ করলো। আমি সিরিয়াবাসীদের নিকট পৌঁছলে তারা আমাদেরকে হেরেমের এলাকাতে যেতে নিষেধ করলো। সুতরাং আমি ঐ স্থানেই সাথের পশুগুলো কুরবানী করি এবং ইহরাম খুলে ফিরে আসি। পরের বছর আমি আমার উমরাহ পূরণের জন্য রওয়ানা হই এবং ইবনি আব্বাস [রাদি.] এর নিকট উপস্থিত হয়ে সিরিয়াবাসীরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, কুরবানীর পরিবর্তে কুরবানী করো। কেননা হুদাইবিয়ার বছর লোকেরা যে কুরবানী করেছিলো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর সঙ্গীদেরকে তার পরিবর্তে উমরাতুল কাযার সময় কুরবানী করিতে আদেশ করেছিলেন। {১৮৬৪}

{১৮৬৪} সানাদে মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক্ব একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন আন্‌ শব্দে বর্ণনা করেছেন।

হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

Leave a Reply