মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম

মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম

মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৮. অধ্যায়ঃ মুহরিমের জন্য শিকার করা হারাম

২৭৩৫

সাব ইবনি জাসসামাহ্ আল লায়সী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে বন্য গাধা [গোশত] হাদিয়্যাহ্ স্বরূপ দিলেন। আর তিনি তখন আবওয়া অথবা ওয়াদ্দান নামক স্থানে অবস্থান করছিলেন। তিনি তার কাছে তা ফেরত পাঠালেন।

সাব [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমার চেহারা মলিন দেখে বলিলেন, আমি তোমাকে তা ফেরত দিতাম না, শুধু ইহরামের কারণেই তা ফেরত দিয়েছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১২, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১১]

২৭৩৬

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে উপরোক্ত সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি [সাব] তাঁকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিলাম। ঈমাম মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] যেরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। লায়স ও সালিহ এর বর্ণনায় রয়েছে- সাব ইবনি জাসসামাহ্ [রাদি.] তাকে অবহিত করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১২]

২৭৩৭

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে উক্তঃ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [সাব] বলেন, আমি তাঁকে বন্য গাধার গোশত হাদিয়্যাহ্ দিয়েছিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৩]

২৭৩৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাব ইবনি জাসসামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীত। তিনি বলেন, সাব ইবনি জাসসামাহ [রাদি.] রাসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]–এর জন্য বন্য গাধার গোশত উপঢৌকন পাঠিয়েছিলেন। আর তিনি তখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। রাবী বলেন, তাই তিনি এ উপঢৌকন তাকে ফেরত দিলেন এবং বলিলেন, আমরা যদি ইহরাম অবস্থায় না থাকতাম তবে তোমার এ উপঢৌকন অবশ্যই গ্রহণ করতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৪ ]

২৭৩৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাব ইবনি জাসসামাহ [রাদি.] নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে বন্য গাধার পায়ের গোশত হাদিয়্যাহ্ দেন। তখন তা থেকে রক্ত ঝরছিল।

আর হাকাম–এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে বন্য গাধার পেছনের অংশের কথা উল্লেখ আছে।

আর হাবীব–এর সূত্রে শুবাহ কর্তৃক অপর বর্ণনায় আছে, তিনি [সাব] বন্য গাধার উরুর পার্শ্বের গোশত নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর জন্য উপঢৌকন পাঠান। কিন্তু তিনি তা ফেরত দেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৫ ]

২৭৪০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যায়দ ইবনি আরক্বাম [রাদি.] তাহাঁর নিকট এলেন। তিনি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলিলেন, ইহরাম অবস্থায় রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে শিকার করা জন্তুর গোশত উপঢৌকন দেয়া হয়েছিল। সেটা যে হারাম এ কথা আপনি আমাকে কিভাবে অবহিত করেছিলেন? রাবী [ত্বাউস] বলেন, তিনি বলিলেন, তাঁকে শিকারকৃত জন্তুর একটি অঙ্গ হাদিয়্যাহ্ দেয়া হয়েছিল, তিনি তা ফেরত দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, আমরা এ গোশত খেতে পারি না, কারণ আমরা ইহরাম অবস্থায় আছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৭ , ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৬ ]

২৭৪১

আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে রওনা হলাম, এমনকি ক্বাহাহ্ নামক স্থানে গিয়ে পৌঁছলাম। আমাদের কতক ইহরাম অবস্থায় এবং কতক ইহরামবিহীন অবস্থায় ছিল। আমি লক্ষ্য করলাম, আমার সঙ্গীরা একটা কিছুর দিকে তাকাচ্ছে। আমি তাকিয়ে দেখলাম, তা একটি বন্য গাধা। অতএব আমি আমার ঘোড়ার জীন বাঁধলাম এবং বল্লম তুলে নিলাম। এরপর ঘোড়ার পিঠে চেপে বসলাম। এ অবস্থায় আমার চাবুক নিচে পড়ে গেল। আমি আমার সঙ্গীদের তা তুলে দিতে বললাম, তারা ইহরাম অবস্থায় ছিল। তাই তারা আল্লাহর শপথ করে বলিল, আমরা তোমাকে এ ব্যাপারে কিছুমাত্র সাহায্য করিতে পারব না। অতঃপর আমি নিচে নেমে এসে তা তুললাম। অতঃপর ঘোড়ায় চড়ে গাধার পশ্চাদ্ধাবন করলাম। তা ছিল একটি টিলার আড়ালে। আমি বল্লমের আঘাতে এটাকে হত্যা করলাম। অতঃপর আমার সঙ্গীদের কাছে নিয়ে এলাম। তাদের কতক বলিল, তা খাও, আর কতক বলিল, খেও না। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাদের সম্মুখভাগে ছিলেন। আমি ঘোড়া হাঁকিয়ে তাহাঁর নিকট উপস্থিত হলাম এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, তা হালাল, অতএব তোমরা তা খাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৭ ]

২৭৪২

আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি একবার রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে ছিলেন। মাক্কার একটি পথে যখন আমরা পৌছলাম তখন তিনি তার কতিপয় মুহরিম সঙ্গীসহ নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর পেছনে পড়ে গেলেন। তিনি ছিলেন ইহরামমুক্ত। তিনি একটি বন্য গাধা দেখিতে পেয়ে নিজের ঘোড়ায় চেপে বসলেন এবং সঙ্গীদেরকে তার চাবুকটি তুলে দিতে বলিলেন। তারা তা তুলে দিতে রাযি হলেন না। তিনি তাদেরকে নিজের বল্লমটি তুলে দিতে বলিলেন, এবারও তারা তার কথায় রাজী হলেন না। এরপর তিনি নিজেই তা তুলে নিলেন এবং ঘোড়া হাঁকিয়ে গাধাটি শিকার করিলেন। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর কতিপয় সাহাবী তার গোশত খেলেন এবং কতক তা প্রত্যাখ্যান করিলেন। অতএব তারা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর নিকট পৌছে তাঁকে এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি বলিলেন, এতো খাদ্য, মহামহিম আল্লাহ তোমাদের তা দান করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭১৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৮]

২৭৪৩

আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বন্য গাধা সম্পর্কিত হাদীসটি এ সূত্রেও আবু নাযর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হয়েছে। কিন্তু যায়দ ইবনি আসলামের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, এর কিছু গোশত তোমাদের সাথে আছে কি? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২০, ইসলামিক সেন্টার- ২৭১৯]

২৭৪৪

আবদুল্লাহ ইবনি আবু ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার পিতা হুদায়বিয়ার বছর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে গেলেন। তাহাঁর সঙ্গীগণ ইহরাম বাঁধলেন, কিন্তু আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] ইহরাম বাঁধলেন না। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-কে অবহিত করা হল যে, শত্রুরা গয়কাহ্ নামক স্থানে ওঁৎ পেতে আছে। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাঁদের যাত্রা অব্যাহত রাখলেন। আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] বলেন, আমি তাহাঁর সাহাবীগনের সঙ্গে ছিলাম, তাদের কতক আমার দিকে চেয়ে হাসছিল। আমি দৃষ্টি নিক্ষেপ করে একটি বন্য গাধা দেখিতে পেলাম। আমি বর্শার আঘাতে তার গতিরোধ করলাম এবং সাহাবীগণের সাহায্য চাইলাম। কিন্তু তারা আমাকে সাহায্য করিতে অস্বীকৃতি জানালেন। আমরা এর গোশত খেলাম এবং রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকাবোধ করলাম। অতএব আমি তাহাঁর কাছে পৌছার জন্য কখনো ঘোড়া হাঁকিয়ে, আবার কখনো পদব্রজে অগ্রসর হইতে লাগলাম। মধ্যরাতে গিফার গোত্রের এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ পেলাম এবং তাকে জিজ্ঞেগ করলাম, তুমি কোথায় রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সাক্ষাৎ পেয়েছো? সে বলিল, আমি তাঁকে তাহিন নামক স্থানে ছেড়ে এসেছি এবং তিনি সুফ্ইয়া নামক স্থানে দুপুরের সময়টা যাত্রা বিরতি করার মনস্থ করিয়াছেন। আমি [আবু ক্বাতাদাহ্] তাহাঁর সাথে মিলিত হয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনার সাহাবীগন আপনাকে সালাম জানিয়েছেন এবং আপনার জন্য আল্লাহর রহমাত কামনা করিয়াছেন। তারা আপনার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশংকা করিয়াছেন। অতএব আপনি তাদের জন্য অপেক্ষা করুন। অতএব তিনি তাদের জন্য অপেক্ষা করিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল!! আমি একটি শিকার ধরেছি এবং তার কিছু অংশ আমার কাছে অবশিষ্ট আছে। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] লোকদেরকে বলিলেন, তোমরা খাও। তারা ইহরাম অবস্থায় রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২১, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২০]

২৭৪৫

আবদুল্লাহ ইবনি আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] থেকে তার পিতার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হজ্জের উদ্দেশে রওনা হলেন এবং আমরাও তাহাঁর সফরসঙ্গী হলাম। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] ভিন্ন পথ ধরলেন এবং আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] সহ কতিপয় সাহাবাকে [অন্য পথ অনুসরণ করার নির্দেশ দিয়ে] বলিলেন, তোমরা আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ না করা পর্যন্ত সমুদ্র তীরবর্তী পথ ধরে অগ্রসর হও। আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] বলেন, অতএব তারা সমুদ্র উপকূল বরাবর পথ ধরলেন। তারা যখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর পথে মোড় নিলেন, তখন আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] ছাড়া আর সকলে ইহরাম বাঁধলেন, তিনি ইহরাম বাঁধলেন না। এ অবস্থায় পথ চলতে চলতে তারা কতকগুলো বন্য গাধা দেখিতে পেলেন এবং আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] এগুলোকে আক্রমণ করে একটি গাধী শিকার করিলেন। তারা যাত্রা বিরতি দিয়ে গাধীর গোশত খেলেন। আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] বলেন, তারা বলিলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারের গোশত খেলাম। এরপর তারা এর অবশিষ্ট গোশত সঙ্গে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম]-এর সঙ্গে মিলিত হয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা ইহরাম বেঁধেছি কিন্তু আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] ইহরাম বাঁধেননি। এ অবস্থায় আমরা কয়েকটি বন্য গাধা দেখিতে পেলাম। আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] এগুলোর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি গাধী শিকার করেন। আমরা যাত্রা বিরতি দিয়ে এর গোশত খেয়েছি। অতঃপর আমরা পরস্পর বললাম, আমরা ইহরাম অবস্থায় শিকারকৃত পশুর গোশত আহার করব কি অথচ আমরা মুহরিম? আমরা অবশিষ্ট গোশত সাথে করে নিয়ে এসেছি। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তোমাদের কেউ কি তা শিকার করার নির্দেশ অথবা ইঙ্গিত করেছে? তারা বলিলেন, না। তিনি বলিলেন, তাহলে অবশিষ্ট গোশতও খেতে পার। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২২, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২১]

২৭৪৬

উসমান ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি মাওহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে উপরোক্ত সানাদ সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

শায়বানের বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, “তোমাদের কেউ কি তাকে [গাধীটি] আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছে অথবা এর প্রতি ইঙ্গিত করেছে?” আর শুবাহর বর্ণনায় আছে, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, “তোমরা কি [শিকারের দিকে] ইঙ্গিত করেছিলে অথবা সাহায্য করেছিলে” অথবা “শিকার করেছিলে”। শুবাহ্ বলেন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] এ দুটো বাক্য বলেছেন কিনা তা আমার জানা নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২২]

২৭৪৭

আবদুল্লাহ ইবনি আবু ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তার পিতা তাকে অবহিত করিয়াছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর সঙ্গে হুদায়বিয়ার অভিযানে অংশগ্রহন করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি ছাড়া আর সকলেই উমরাহ্ করার জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। আমি একটি বন্য গাধা শিকার করলাম এবং আমার মুহরিম সঙ্গীদের এর গোশত্ খাওয়ালাম। অতঃপর আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাঁকে অবহিত করলাম যে, শিকারের অবশিষ্ট গোশ্ত আমাদের সাথে আছে। তিনি বলিলেন, “তোমরা তা খাও”; তখন তারা ছিলেন মুহরিম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২৩]

২৭৪৮

আবদুল্লাহ ইবনি আবু ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার পিতার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তারা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর সঙ্গে [সফরে] রওনা হলেন। তারা সবাই ইহরাম অবস্থায় ছিলেন, কিন্তু আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হালাল অবস্থায় ছিলেন। হাদীসের অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্ববৎ। তবে এ বর্ণনায় আরও আছে, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, এর কিছু গোশত্ তোমাদের সাথে আছে কি? তারা বলিলেন, এর পায়ের গোশত্ আমাদের সাথে আছে। রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তা নিয়ে আহার করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২৪]

২৭৪৯

আবদুল্লাহ ইবনি আবু ক্বাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] ইহরামকারী একটি দলের সঙ্গে ছিলেন, কিন্তু তিনি ইহরামমুক্ত ছিলেন। হাদীসের পরবর্তী বর্ণনা পূর্ববৎ। এতে আছেঃ রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, তোমাদের কেউ কি শিকারের দিকে ইঙ্গিত করেছে অথবা কোনরূপ নির্দেশ দিয়েছে? তারা বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! না। তিনি বলিলেন, তাহলে এটা খেতে পার। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২৫]

২৭৫০

মুআয ইবনি আবদুর রহমান ইবনি উসমান আত্ তায়মী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার পিতার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা ইহরাম অবস্থায় ত্বলহাহ্ ইবনি উবায়দুল্লাহ [রাদি.]-এর সঙ্গে ছিলাম। তাকে [শিকার করা] পাখির গোশ্ত উপঢৌকন দেয়া হল। এ সময় তিনি ঘুমে ছিলেন। আমাদের কতক তা খেল এবং কতক বিরত থাকল। ত্বলহাহ্ [রাদি.] ঘুম থেকে উঠে গোশ্ত আহরনকারীদের অনুকূলে মত প্রকাশ করিলেন এবং বলিলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর সঙ্গে [ইহরাম অবস্থায়] তা [শিকার করা প্রাণীর গোশ্ত] খেয়েছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭২৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৭২৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply