মুসা আঃ এর বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী এবং বর্ণনা

মুসা আঃ এর বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী এবং বর্ণনা

মুসা আঃ এর বিষয়ে মহান আল্লাহর বাণী এবং বর্ণনা >> বুখারী শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ৬০, আম্বিয়া কিরাম, অধ্যায়ঃ (২১-৩৩)=১৩টি

৬০/২১. অধ্যায়ঃ (আল্লাহ তাআলার বাণী): আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসার কথা। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন, বিশেষভাবে বাছাইকৃত রাসুল ও নাবী‎। তাকে আমি ডেকেছিলাম তূর পাহাড়ের দক্ষিণ দিক হইতে এবং আমি অন্তরংগ আলাপে তাকে নৈকট্য দান করেছিলাম। আমি নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারূনকে নাবী‎রূপে তাকে দিলাম। (মারইয়াম: ৫১-৫৩)
৬০/২২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ
৬০/২৩. অধ্যায়ঃ “ফিরআউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখত, ……।. নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (গাফির/আল-মুমিনঃ ২৮) [১]
৬০/২৪. অধ্যায়ঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? (ত্বা-হা: ৯) আর আল্লাহ মূসার সঙ্গে সাক্ষাতে কথাবার্তা বলেছেন। (আন-নিসাঃ ১৬৪)
৬০/২৫. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ
৬০/২৬. অধ্যায়ঃ বন্যার কারণে তুফান।
৬০/২৭. অধ্যায়ঃ মূসা (আঃ)-এর সম্পর্কিত খাযির (আঃ)-এর ঘটনা।
৬০/২৮. অধ্যায়ঃ
৬০/২৯. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: তারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির নিকট হাজির হয়। (আরাফ: ১৩৮)
৬০/৩০. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: স্মরণ কর, যখন মূসা তাহাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু যবেহ করিতে আদেশ দিয়েছেন। (আল-বাকারাহ: ৬৭)
৬০/৩১. অধ্যায়ঃ মূসা (আঃ)–এর মৃত্যু ও তৎপরবর্তী অবস্থার বর্ণনা।
৬০/৩২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করিয়াছেন ফিরআউনের স্ত্রীর। আর সে ছিল বিনয়ী ইবাদাতকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ( আত তাহরীম: ১১-১২)
৬০/৩৩. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই কারূন ছিল মূসা (আঃ)–এর সম্প্রদায় ভুক্ত।… (আল-কাসাস: ৭৬)

৬০/২০. অধ্যায়ঃ আল্লাহর বাণীঃ (আর স্মরণ কর) আইয়ুবের কথা। যখন তিনি তাহাঁর রবকে ডেকে বলিলেন, আমিতো দুঃখ কষ্টে পড়েছি, আর তুমিতো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু। (আম্বিয়াঃ ৮৩)।

(— অর্থ আঘাত কর। — অর্থ দ্রুত বলে)

৩৩৯১

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, একদা আইয়ুব (আঃ) নগ্ন শরীরে গোসল করছিলেন। এমন সময় তাহাঁর উপর স্বর্ণের এক ঝাঁক পঙ্গপাল পতিত হল। তিনি সেগুলো দুহাতে ধরে কাপড়ে রাখতে লাগলেন। তখন তাহাঁর রব তাঁকে ডেকে বলিলেন, হে আইয়ুব! তুমি যা দেখিতে পাচ্ছ, তা থেকে কি আমি তোমাকে অমুখাপেক্ষী করে দেইনি? তিনি উত্তর দিলেন, হাঁ, হে রব! কিন্তু আমি আপনার বরকত থেকে মুখাপেক্ষীহীন নই।

৬০/২১. অধ্যায়ঃ (আল্লাহ তাআলার বাণী): আর স্মরণ কর এই কিতাবে মূসার কথা। নিশ্চয়ই তিনি ছিলেন, বিশেষভাবে বাছাইকৃত রাসুল ও নাবী‎। তাকে আমি ডেকেছিলাম তূর পাহাড়ের দক্ষিণ দিক হইতে এবং আমি অন্তরংগ আলাপে তাকে নৈকট্য দান করেছিলাম। আমি নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারূনকে নাবী‎রূপে তাকে দিলাম। (মারইয়াম: ৫১-৫৩)

একবচন দ্বিবচন ও বহুবচনের ক্ষেত্রেও — বলা হয়। —- অর্থ অন্তরঙ্গ আলাপে নির্জনতা অবলম্বন করা। এর বহুবচন —- ব্যবহৃত হয়। — পরস্পর অন্তরঙ্গ আলাপ করে। — অর্থ গ্রাস করে।

(আল্লাহ তাআলার বাণী) “ফিরআউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি যে ঈমান গোপন রাখত…নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (গাফিরঃ ২৮)

৩৩৯২

আয়েশা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) খাদীজাহ (রাদি.)-এর নিকট ফিরে আসলেন তাহাঁর হৃদয় কাঁপছিল। তখন খাদীজাহ (রাদি.) তাঁকে নিয়ে ওয়ারাকা ইবনু নাওফলের নিকট গেলেন। তিনি খৃস্টান ধর্ম অবলম্বন করেছিলেন। তিনি আরবী ভাষায় ইঞ্জিল পাঠ করিতেন। ওয়ারাকা জিজ্ঞেস করিলেন, আপনি কি দেখেছেন? নাবী‎ (সাঃআঃ) তাঁকে সব ঘটনা জানালেন। তখন ওয়ারাকা বলিলেন, এতো সেই নামুস যাঁকে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ)-এর নিকট নাযিল করেছিলেন। আপনার সে সময় যদি আমি পাই, তবে সর্বশক্তি দিয়ে আমি আপনাকে সাহায্য করব।

নামূস শব্দের অর্থ গোপন তত্ত্ব ও তথ্যবাহী যাকে কেউ কোন বিষয়ে খবর দেয় আর সে তা অপর হইতে গোপন রাখে।

৬০/২২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ

আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? তিনি যখন আগুন দেখলেন…তুমি তুয়া নামক এক পবিত্র ময়দানে রয়েছ। (ত্ব-হা ৯-১৩)

— অর্থ আমি আগুন দেখেছি। সম্ভবতঃ আমি তোমাদের জন্য তা হইতে কিছু জ্বলন্ত আগুন আনতে পারব…(ত্বোয়া-হা ১০) ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, —– অর্থ বরকতময়। — একটি উপত্যকার নাম। — অর্থ তার অবস্থায়। — অর্থ আল্লাহভীরু। — অর্থ আমাদের ইচ্ছামত — অর্থ ভাগ্যাহত হয়েছে। — অর্থ মূসার স্মরণ ব্যতীত সব কিছু থেকে শুনা হয়ে গেল। — অর্থ সাহায্যকারী রূপে যেন সে আমাকে সমর্থন করে। এর অর্থ আরো বলা হয় আর্তনাদে সাড়াদানকারী বা সাহায্যকারী। ———– একই অর্থ উভয় কিরাআতে। — অর্থ পরস্পর পরামর্শ করা। — অর্থ সাহায্য করা। বলা হয় ———- অর্থাৎ আমি তার কাজে সাহায্য করেছি। — কাঠের বড় টুকরার অঙ্গার যাতে কোন শিখা। — অর্থ অচিরেই আমি তোমার সাহায্য করব। বলা হয় যখন তুমি কারো সাহায্য করিবে তখন তুমি যেন তার পার্শ্বদেশ হয়ে গেলে।

এবং অন্যান্যগণ বলেন যে কোন অক্ষর উচ্চারণ করিতে পারেনা অথবা তার মুখ হইতে তা, তা, ফা, ফা উচ্চারিত হয় তাকেই তোতলামি বলে। — অর্থ আমার পিঠ — অর্থ – সে তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিবে। — শব্দটি — শব্দের স্ত্রী লিঙ্গ। আয়াতে উল্লিখিত ——- অর্থ তোমাদের দ্বীন। বলা হয়, ———— অর্থ-উত্তমটি গ্রহণ করো। ————– অর্থাৎ তোমরা সারিবদ্ধ হয়ে এসো। বলা হয়, তুমি কি আজ ছফ্‌ফে উপস্থিত হয়েছিলে অর্থাৎ যেখানে নামায পড়া হয় সেখানে? — অর্থ- সে অন্তরে ভয় পোষণ করেছে। — মূলে — অক্ষরে যের হবার কারণে — তে পরিবর্তিত হয়েছে। ———– এখানে — অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। — অর্থ- তোমার অবস্থা। —- শব্দটি —- এর মাসদার। অর্থ- তোমার অবস্থা। —– অর্থ- আমি অবশ্যই তাকে উড়িয়ে দেব। —- অর্থ পূর্বাহ্ন, যখন সূর্যের উষ্ণতা বেড়ে যায়। — তুমি তার পিছনে পিছনে যাও। কখনো এ অর্থেও ব্যবহৃত হয় যে, তুমি তোমার কথা বলো যেমন, ———— এর মধ্যে এ অর্থ ব্যবহৃত হয়েছে। —- অর্থ- দূর থেকে। ——— একই অর্থে ব্যবহৃত হয়। আর মুজাহিদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, —- অর্থ- নির্ধারিত সময়ে। —- অর্থ দুর্বল হয়ো না। —– অর্থ- তাদের মধ্যবর্তী স্থান। —– অর্থ- শুক্‌না। ———- অর্থ- যে সব অলঙ্কার তারা ফিরআউনের লোকদের হইতে ধার নিয়েছিল। —— অর্থ- আমি তা নিক্ষেপ করলাম। —– অর্থ বানালো। —– অর্থ- তারা বল্‌তে লাগ্‌লো, মূসা রবের তালাশে ভুল পথে গিয়েছে। ————- অর্থ- তাদের কোন কথার প্রতি উত্তর সে দেয় না- এ আয়াতাংশ সামেরীর বাছুর সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে।

৩৩৯৩

মালিক ইবনু সাসাআ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) মিরাজ রাত্রির ঘটনা বর্ণনা করিতে গিয়ে তাঁদের নিকট এও বলেন, তিনি যখন পঞ্চম আকাশে এসে পৌঁছলেন, তখন হঠাৎ সেখানে হারূন (আঃ)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হল। জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, ইনি হলেন, হারূন (আঃ) তাঁকে সালাম করুন তখন আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বলিলেন, মারহাবা পুণ্যবান ভাই ও পুণ্যবান নাবী‎। সাবিত এবং আব্বাদ ইবনু আবু আলী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আনাস (রাদি.) সূত্রে নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে হাদীস বর্ণনায় ক্বাতাদা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-এর অনুসরণ করিয়াছেন।

৬০/২৩. অধ্যায়ঃ “ফিরআউন গোত্রের এক মুমিন ব্যক্তি যে তার ঈমান গোপন রাখত, ……।. নিশ্চয়ই আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারী মিথ্যাবাদীকে পথ প্রদর্শন করেন না।” (গাফির/আল-মুমিনঃ ২৮) [১]

[১] অন্যান্য অনেক অধ্যায়ের মত ইমাম বুখারী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এখানেও কোন হাদীস বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করেননি।

৬০/২৪. অধ্যায়ঃ হে মুহাম্মাদ! আপনার নিকট কি মূসার বৃত্তান্ত পৌঁছেছে? (ত্বা-হা: ৯) আর আল্লাহ মূসার সঙ্গে সাক্ষাতে কথাবার্তা বলেছেন। (আন-নিসাঃ ১৬৪)

৩৩৯৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা (আঃ)-কে দেখিতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি তাহাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যে ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের জনৈক ব্যক্তি, আর আমি ঈসা (আঃ)-কে দেখিতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রঙ ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হইতে বের হলেন। আর ইবরাহীম (আঃ)-এর বংশধরদের মধ্যে তাহাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দুটি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিবরাঈল (আঃ) বলিলেন, এ দুটির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করিতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত।

৩৩৯৫

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, কোন ব্যক্তির এ কথা বলা ঠিক হইবে না যে, আমি (নাবী‎) ইউনুস ইবনু মাত্তার চেয়ে উত্তম। নাবী‎ (সাঃআঃ) এ কথা বলিতে গিয়ে ইউনুস (আঃ)-এর পিতার নাম উল্লেখ করিয়াছেন।

৩৩৯৬

See previous Hadith

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আর নাবী‎ (সাঃআঃ) মিরাজের রাতের কথাও উল্লেখ করিয়াছেন এবং বলেছেন মূসা (আঃ) বাদামী রঙ বিশিষ্ট দীর্ঘদেহী ছিলেন। যেন তিনি শানুআহ গোত্রের লোকদের মত। তিনি আরো বলেছেন যে, ঈসা (আঃ) ছিলেন মধ্যমদেহী, কোকঁড়ানো চুলওয়ালা ব্যক্তি। আর তিনি [নাবী‎(সাঃআঃ)] জাহান্নামের দারোগা মালিক এবং দাজ্জালের কথাও উল্লেখ করিয়াছেন।

৩৩৯৭

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) যখন মদীনায় আগমন করেন, তখন তিনি মদীনাবাসীকে এমনভাবে পেলেন যে, তারা একদিন সাওম পালন করে অর্থাৎ সে দিনটি হল আশুরার দিন। তারা বলিল, এটি একটি মহান দিবস। এ এমন দিন যে দিনে আল্লাহ মূসা (আঃ) –কে নাজাত দিয়েছিলেন এবং ফিরআউনের সম্প্রদায়কে ডুবিয়ে দিয়েছিলেন। অতঃপর মূসা (আঃ) শুকরিয়া হিসেবে এদিন সাওম পালন করিয়াছেন। তখন নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, তাদের তুলনায় আমি হলাম মূসা (আঃ)–এর অধিক নিকটবর্তী। কাজেই তিনি নিজেও এদিন সাওম পালন করিয়াছেন এবং এদিন সাওম পালনের নির্দেশ দিয়েছেন।

৬০/২৫. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণীঃ

আর আমি মূসাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি ত্রিশ রাত্রির এবং সেগুলোকে পূর্ণ করেছি আরো দশ রাত দ্বারা। বস্তুত এভাবে চল্লিশ রাতের মেয়াদ পূর্ণ হয়ে গেছে। আর মূসা তাহাঁর ভাই হারূনকে বলিলেন, আমার সম্প্রদায়ে তুমি আমার প্রতিনিধি হিসাবে থাক। তাদের সংশোধন করিতে থাক এবং ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথে চলো না। অতঃপর মূসা যখন আমার প্রতিশ্রুতির সময় অনুযায়ী এসে হাযির হলেন এবং তাহাঁর সাথে তাহাঁর রবের কথা বলিলেন, তখন তিনি বলিলেন, হে আমার রব, আমাকে তোমার দর্শন দাও, যেন আমি তোমাকে দেখিতে পাই … (আয়াতের শেষ পর্যন্ত) আর আমিই প্রথম মুমিনদের মধ্যে প্রথম শ্রেণীর। (আরাফ ১৪২-৪৩)

বলা হয় —- অর্থ ভূকম্পন। আয়াতে উল্লেখিত —- দ্বিবচন বহুবচন অর্থে ব্যবহূত। এখানে —- শব্দটিকে এক ধরে নিয়ে —- সহ দ্বিচন রূপে —- বলা হয়েছে। যেমন মহান আল্লাহর বাণী : —— এর মধ্যে —— এক ধরে দ্বিবচনে উল্লেখ করা হয়েছে। —– বহুবচন বলা হয়নি। —– অর্থাৎ পরস্পর মিলিত। —— অর্থাৎ তাদের হৃদয়ে গোবৎস প্রীতি সিঞ্চিত হয়েছিল। বলা হয় —— অর্থ রঞ্জিত কাপড়। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, ——- অর্থ প্রবাহিত হয়েছিল। —- অর্থ আমি পাহাড়কে তাদের উপর উচিয়ে ছিলাম।

৩৩৯৮

আবু সাঈদ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, কিয়ামতের দিন সকল মানুষ বেহুশ হইবে। অতঃপর সর্বপ্রথম আমারই হুশ আসবে। তখন আমি মূসা (আঃ)-কে দেখিতে পাব যে, তিনি আরশের খুঁটিগুলোর একটি খুঁটি ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, আমার আগেই কি তাহাঁর হুশ আসল, না-কি তুর পাহাড়ে বেহুশ হবার প্রতিদান তাঁকে দেয়া হল।

৩৩৯৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, যদি বনী ইসরাঈল না হত, তবে গোশ্‌ত পচে যেত না। আর যদি (মা) হাওয়া (আঃ) না হইতেন, তাহলে কক্ষনো কোন নারী তার স্বামীর খেয়ানত করত না।

৬০/২৬. অধ্যায়ঃ বন্যার কারণে তুফান।

মহামারিকেও তুফান নামে অভিহিত করা হয়। —- কীট যা ছোট ছোট উকুনের মত হয়ে থাকে। —— স্থির নিশ্চিত। —– লজ্জিত। আর যে লজ্জিত হয়, সে অধোমুখে পতিত হয়।

৬০/২৭. অধ্যায়ঃ মূসা (আঃ)-এর সম্পর্কিত খাযির (আঃ)-এর ঘটনা।

৩৪০০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি এবং হুর ইবনু কাযেস ফাযারী মূসা (আঃ)-এর সাথীর ব্যাপারে বিতর্ক করছিলেন। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, তিনি হলেন, খাযির। এমনি সময় উবাই ইবনু কাব (রাদি.) তাদের উভয়ের কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন ইবনু আব্বাস (রাদি.) তাঁকে ডাকলেন এবং বলিলেন, আমি এবং আমার এ সাথী মূসা (আঃ)–এর সাথী সম্পর্কে বিতর্ক করছি, যাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (আঃ) পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। আপনি কি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) –কে তাহাঁর ঘটনা বর্ণনা করিতে শুনেছেন? তিনি বলিলেন, হাঁ। আমি আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। তখন তাহাঁর নিকট জনৈক ব্যক্তি আসল এবং জিজ্ঞেস করিল, আপনি কি এমন কাউকে জানেন, যিনি আপনার চেয়ে অধিক জ্ঞানী? তিনি বলিলেন, না। তখন মূসা (আঃ)–এর প্রতি আল্লাহ ওহী পাঠিয়ে জানিয়ে দিলেন, হাঁ, আমার বান্দা খাযির। তখন মূসা (আঃ) তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য পথের সন্ধান চেয়েছিলেন। তখন তাহাঁর জন্য একটি মাছ নিদর্শন হিসেবে ঠিক করে দেয়া হল এবং তাকে বলে দেয়া হল, যখন তুমি মাছটি হারাবে, তখন তুমি পিছনে ফিরে আসবে, তাহলেই তুমি তাহাঁর সাক্ষাৎ পাবে। তারপর মূসা (আঃ) নদীতে মাছের পিছে পিছে চলছিলেন, এমন সময় মূসা (আঃ) –কে তাহাঁর খাদিম বলে উঠল, “আপনি কি লক্ষ্য করিয়াছেন। আমরা যখন ঐ পাথরটির নিকট অবস্থান করছিলাম, তখন আমি মাছটির কথা ভুলে গিয়েছিলাম। বস্তুতঃ তার হইতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছিল”– (কাহফ ৬৩)। মূসা (আঃ) বলিলেন, আমরা তো সে স্থানেরই খোঁজ করছিলাম। অতএব তাঁরা উভয়ে পিছনে ফিরে চললেন, এবং খাযিরের সাক্ষাৎ পেলেন- (কাহফ ৬৪) তাঁদের উভয়েরই অবস্থার বর্ণনা ঠিক তাই যা আল্লাহ তাহাঁর কিতাবে বর্ণনা করিয়াছেন।

৩৪০১

সাঈদ ইবনু জুবায়র (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ইবনু আব্বাস (রাদি.)-কে বললাম, নাওফল বিক্কালী ধারণা করছে যে, খাযিরের সঙ্গী মূসা বনী ইসরাঈলের নাবী‎ মূসা (আঃ) নন; নিশ্চয়ই তিনি অপর কোন মূসা। তখন তিনি বলিলেন, আল্লাহর দুশমন মিথ্যা কথা বলেছে। উবাই ইবনু কাব (রাদি.) নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে আমাদের নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, একবার মূসা (আঃ) বনী ইসরাঈলের এক সমাবেশে ভাষণ দেয়ার জন্য দাঁড়িয়েছিলেন। তখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হল, কোন ব্যক্তি সবচেয় অধিক জ্ঞানী? তিনি বলিলেন, আমি। মূসা (আঃ)–এর এ উত্তরে আল্লাহ তাহাঁর প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ করিলেন। কেননা তিনি জ্ঞানকে আল্লাহর দিকে সম্পর্কিত করেননি। আল্লাহ তাঁকে বলিলেন, বরং দুই নদীর সংযোগ স্থলে আমার একজন বান্দা আছে, সে তোমার চেয়ে অধিক জ্ঞানী। মূসা (আঃ) আরয করিলেন, হে আমার রব! তাহাঁর নিকট পৌছতে কে আমাকে সাহায্য করিবে? কখনও সুফিয়ান এভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, হে আমার রব! আমি তাহাঁর সঙ্গে কিভাবে সাক্ষাৎ করব? আল্লাহ বলিলেন, তুমি একটি মাছ ধর এবং তা একটি থলের মধ্যে ভরে রাখ। যেখানে গিয়ে তুমি মাছটি হারিয়ে ফেলবে সেখানেই তিনি অবস্থান করছেন। অতঃপর মূসা (আঃ) একটি মাছ ধরলেন এবং থলের মধ্যে ভরে রাখলেন। অতঃপর তিনি এবং তাহাঁর সাথী ইউশা ইবনু নূন চলতে লাগলেন অবশেষে তাঁরা উভয়ে একটি পাথরের নিকট এসে পৌঁছে তার উপরে মাথা রেখে বিশ্রাম করিলেন। এ সময় মূসা (আঃ) ঘুমিয়ে পড়লেন আর মাছটি নড়াচড়া করিতে করিতে থলে হইতে বের হয়ে নদীতে চলে গেল। অতঃপর সে নদীতে সুড়ঙ্গ আকারে স্বীয় পথ করে নিল আর আল্লাহ মাছটির চলার পথে পানির গতি স্তব্ধ করে দিলেন। ফলে তার গমন পথটি সুড়ঙ্গের মত হয়ে গেল। এ সময় নাবী‎ (সাঃআঃ) হাতের ইঙ্গিত করে বলিলেন, এভাবে সুড়ঙ্গের মত হয়েছিল। অতঃপর তাঁরা উভয়ে অবশিষ্ট রাত এবং পুরো দিন পথ চললেন। শেষে যখন পরের দিন ভোর হল তখন মূসা (আঃ) তাহাঁর যুবক সঙ্গীকে বলিলেন, আমার সকালের খাবার আন। আমি এ সফরে খুব ক্লান্তিবোধ করছি। বস্তুতঃ মূসা (আঃ) যে পর্যন্ত আল্লাহর নির্দেশিত স্থানটি অতিক্রম না করিয়াছেন সে পর্যন্ত তিনি সফরে কোন ক্রান্তিই অনুভব করেননি। তখন তাহাঁর সঙ্গী তাঁকে বলিলেন, আপনি কি লক্ষ্য করিয়াছেন, আমরা যখন সেই পাথরটির নিকট বিশ্রাম নিয়েছিলাম মাছটি চলে যাবার কথা বলিতে আমি একেবারেই ভুলে গেছি। আসলে আপনার নিকট তা উল্লেখ করিতে একমাত্র শয়তানই আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছে। মাছটি নদীতে আশ্চর্যজনকভাবে নিজের রাস্তা করে নিয়েছে। (রাবী বলেন) পথটি মাছের জন্য ছিল একটি সুড়ঙ্গের মত আর তাঁদের জন্য ছিল একটি আশ্চর্যজনক ব্যাপার। মূসা (আঃ) তাকে বলিলেন, ওটাইতো সেই স্থান যা আমরা খুঁজে বেড়াচ্ছি। অতঃপর উভয়ে নিজ নিজ পদচিহ্ন ধরে পিছনের দিকে ফিরে চললেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরা দুজনে সেই পাথরটির নিকট এসে পৌঁছালেন এবং দেখলেন সেখানে জনৈক ব্যক্তি বস্ত্রাবৃত হয়ে আছেন। মূসা (আঃ) তাঁকে সালাম করিলেন। তিনি সালামের জবাব দিয়ে বলিলেন, এখানে সালাম কী করে এলো? তিনি বলিলেন, আমি মূসা। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, আপনি কি বনী ইসরাঈলের মূসা? তিনি বলিলেন, হাঁ, আমি আপনার নিকট এসেছি, সরল সঠিক জ্ঞানের ঐ সব কথাগুলো শিখার জন্যে যা আপনাকে শিখানো হয়েছে। তিনি বলিলেন, হে মূসা! আমার আল্লাহর দেয়া কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন, আপনি তা জানেন। আর আপনারও আল্লাহ প্রদত্ত কিছু জ্ঞান আছে যা আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন, আমি তা জানি না। মূসা (আঃ) বলিলেন, আমি কি আপনার সাথী হইতে পারি? খাযির (আঃ) বলিলেন, আপনি আমার সঙ্গে থেকে ধৈর্য ধারণ করিতে পারবেন না আর আপনি এমন বিষয়ে ধৈর্য রাখবেন কী করে, যার রহস্য আপনার জানা নেই? মূসা (আঃ) বলিলেন, ইন শা আল্লাহ আপনি আমাকে একজন ধৈর্যশীল হিসেবে দেখিতে পাবেন। আমি আপনার কোন আদেশই অমান্য করব না। অতঃপর তাঁরা দুজনে রওয়ানা হয়ে নদীর তীর দিয়ে চলতে লাগলেন। এমন সময় একটি নৌকা তাঁদের পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। তারা তাদেরকেও নৌকায় উঠিয়ে নিতে অনুরোধ করিলেন। তারা খাযির (আঃ) –কে চিনে ফেললেন এবং তারা তাঁকে তাহাঁর সঙ্গীসহ পারিশ্রমিক ছাড়াই নৌকায় তুলে নিল। তারা দুজন যখন নৌকায় উঠলেন, তখন একটি চড়ুই পাখি এসে নৌকাটির এক পাশে বসল এবং একবার কি দুবার পানিতে ঠোঁট ডুবাল। খাযির (আঃ) বলিলেন, হে মূসা (আঃ)! আমার ও তোমার জ্ঞানের দ্বারা আল্লাহর জ্ঞান হইতে ততটুকুও কমেনি যতটুকু এ পাখিটি তার ঠোঁটের দ্বারা নদীর পানি হ্রাস করেছে। অতঃপর খাযির (আঃ) হঠাৎ একটি কুঠার নিয়ে নৌকাটির একটি তক্তা খুলে ফেললেন, মূসা (আঃ) অকস্মাৎ দৃষ্টি দিতেই দেখিতে পেলেন তিনি কুঠার দিয়ে একটি তক্তা খুলে ফেলেছেন। তখন তাঁকে তিনি বলিলেন, আপনি এ কী করিলেন? লোকেরা আমাদের মজুরি ছাড়া নৌকায় তুলে নিল, আর আপনি তাদের নৌকার যাত্রীদেরকে ডুবিয়ে দেয়ার জন্য নৌকাটি ফুটো করে দিলেন? এতো আপনি একটি গুরুতর কাজ করিলেন। খাযির (আঃ) বলিলেন, আমি কি বলিনি যে, আপনি কখনও আমার সঙ্গে ধৈর্যধারণ করিতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বলিলেন, আমি যে বিষয়টি ভুলে গেছি, তার জন্য আমাকে দোষারোপ করবেন না। আর আমার এ ব্যবহারে আমার প্রতি কঠোর হইবেন না। মূসা (আঃ)–এর পক্ষ হইতে প্রথম এই কথাটি ছিল ভুলক্রমে। অতঃপর যখন তাঁরা উভয়ে নদী পার হয়ে আসলেন, তখন তাঁরা একটি বালকের পাশ দিয়ে অতিক্রম করিলেন সে অন্যান্য বালকদের সাথে খেলছিল। খাযির (আঃ) তার মাথা ধরলেন এবং নিজ হাতে তার ঘাড় আলাদা করে ফেললেন। এ কথাটি বুঝানোর জন্য সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) তাহাঁর হাতের আঙ্গুলগুলোর অগ্রভাগ দ্বারা এমনভাবে ইঙ্গিত করিলেন যেন তিনি কোন জিনিস ছিঁড়ে নিচ্ছিলেন। এতে মূসা (আঃ) তাঁকে বলিলেন, আপনি একটি নিষ্পাপ বালককে বিনা অপরাধে হত্যা করিলেন? নিশ্চয়ই আপনি একটি অন্যায় কাজ করিলেন। খাযির (আঃ) বলিলেন, আমি কি আপনাকে বলিনি যে আপনি আমার সঙ্গে ধৈর্য ধরতে পারবেন না? মূসা (আঃ) বলিলেন, অতঃপর যদি আমি আপনাকে আর কোন বিষয়ে জিজ্ঞেস করি তাহলে আপনি আমাকে আর আপনার সাথে রাখবেন না। কেননা আপনার উযর আপত্তি চূড়ান্ত হয়েছে। অতঃপর তাঁরা চলতে লাগলেন শেষ অবধি তাঁরা এক জনপদে এসে পৌঁছলেন। তাঁরা গ্রামবাসীদের নিকট খাবার চাইলেন। কিন্তু তারা তাঁদের আতিথ্য করিতে অস্বীকার করিল। অতঃপর তাঁরা সেখানেই একটি দেয়াল দেখিতে পেলেন যা ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছিল। তা একদিকে ঝুঁকে গিয়েছিল। খাযির (আঃ) তা নিজের হাতে সোজা করে দিলেন। রাবী আপন হাতে এভাবে ইঙ্গিত করিলেন। আর সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) এমনিভাবে ইঙ্গিত করিলেন যেন তিনি কোন জিনিস উপরের দিকে উঁচু করে দিচ্ছেন। “ঝুঁকে পড়েছে” এ কথাটি আমি সুফিয়ানকে মাত্র একবার বলিতে শুনিয়াছি। মূসা (আঃ) বলিলেন, তারা এমন মানুষ যে , আমরা তাদের নিকট আসলাম, তারা আমাদেরকে না খাবার দিল, না আমাদের আতিথ্য করিল আর আপনি এদের দেয়াল সোজা করিতে গেলেন। আপনি ইচ্ছা করলে এর বদলে মজুরি গ্রহণ করিতে পারতেন। খাযির (আঃ) বলিলেন, এখানেই আপনার ও আমার মধ্যে বিচ্ছেদ হল। তবে এখনই আমি আপনাকে জ্ঞাত করছি ওসব কথার রহস্য, যেসব বিষয়ে আপনি ধৈর্য ধরতে পারেননি। নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, আমাদেরতো ইচ্ছা যে, মূসা (আঃ) ধৈর্য ধরলে আমাদের নিকট তাঁদের আরো আনেক অধিক খবর বর্ণনা করা হতো। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বর্ণনা করেন নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেছেন, আল্লাহ মূসা (আঃ)–এর উপর রহমত বর্ষণ করুন। তিনি যদি ধৈর্য ধরতেন, তাহলে তাদের উভয়ের ব্যাপারে আমাদের নিকট আরো অনেক ঘটনা জানানো হতো। রাবী বলেন, ইবনু আব্বাস (রাদি.) এখানে পড়েছেন, তাদের সামনে একজন বাদশাহ ছিল, সে প্রতিটি নিখুঁত নৌকা জোর করে ছিনিয়ে নিত। আর সে ছেলেটি ছিল কাফির, তার পিতা-মাতা ছিলেন মুমিন। অতঃপর সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আমাকে বলেছেন, আমি এ হাদীসটি তাহাঁর (আমর ইবনু দীনার) হইতে দুবার শুনিয়াছি এবং তাহাঁর নিকট হইতেই মুখস্ত করেছি। সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) –কে জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কি আমর ইবনু দীনার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে শুনার পূর্বেই তা মুখস্ত করিয়াছেন না অপর কোন লোকের নিকট শুনে তা মুখস্ত করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, আমি কার নিকট হইতে তা মুখস্ত করিতে পারি? আমি ব্যতীত আর কেউ কি এ হাদীস আমরের নিকট হইতে বর্ণনা করিয়াছেন? আমি তাহাঁর নিকট হইতে শুনিয়াছি দুইবার কি তিনবার। আর তাহাঁর থেকেই তা মুখস্ত করেছি। আলী ইবনু খুশরম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সুফিয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) সূত্রে বর্ণিত দীর্ঘ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন।

৩৪০২

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী‎ (সাঃআঃ) বলেন, খাযির (আঃ) –কে খাযির নামে আখ্যায়িত করার কারণ এই যে, একদা তিনি ঘাস-পাতা বিহীন শুকনো সাদা জায়গায় বসেছিলেন। সেখান হইতে তাহাঁর উঠে যাবার পরই হঠাৎ ঐ জায়গাটি সবুজ হয়ে গেল।

৬০/২৮. অধ্যায়ঃ

৩৪০৩

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, বনী ইসরাঈলকে আদেশ দেয়া হয়েছিল, “তোমরা দরজা দিয়ে অবনত মস্তকে প্রবেশ কর আর মুখে বল, হিত্তাতুন (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দাও।)” (আল-বাকারা: ৫৮) কিন্তু তারা এ শব্দটি পরিবর্তন করে ফেলল এবং প্রবেশ দ্বারে যেন নতজানু হইতে না হয় সে জন্য তারা নিজ নিজ নিতম্বের ওপর ভর দিয়ে শহরে প্রবেশ করিল আর মুখে বলিল, হাব্বাতুন ফী শাআরাতিন” (অর্থাৎ হে আল্লাহ! আমাদেরকে যবের দানা দাও।)

৩৪০৪

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, মূসা (আঃ) অত্যন্ত লজ্জাশীল ছিলেন, সব সময় শরীর ঢেকে রাখতেন। তাহাঁর দেহের কোন অংশ খোলা দেখা যেত না, তা থেকে তিনি লজ্জাবোধ করিতেন। বনী ইসরাঈলের কিছু লোক তাঁকে খুব কষ্ট দিত। তারা বলত, তিনি যে শরীরকে এত অধিক ঢেকে রাখেন, তার একমাত্র কারণ হলো, তাহাঁর শরীরের কোন দোষ আছে। হয়ত শ্বেত রোগ অথবা একশিরা বা অন্য কোন রোগ আছে। আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করিলেন মূসা (আঃ) সম্পর্কে তারা যে অপবাদ ছড়িয়েছে তা হইতে তাঁকে মুক্ত করবেন। অতঃপর একদিন নিরালায় গিয়ে তিনি একাকী হলেন এবং তাহাঁর পরণের কাপড় খুলে একটি পাথরের ওপর রাখলেন, অতঃপর গোসল করিলেন, গোসল সেরে যেমনই তিনি কাপড় নেয়ার জন্য সেদিকে এগিয়ে গেলেন তাহাঁর কাপড়সহ পাথরটি ছুটে চলল। অতঃপর মূসা (আঃ) তাহাঁর লাঠিটি হাতে নিয়ে পাথরটির পিছনে পিছনে ছুটলেন। তিনি বলিতে লাগলেন, আমার কাপড় হে পাথর! হে পাথর! শেষে কাপড়টি বনী ইসরাঈলের একটি জন সমাবেশে গিয়ে পৌঁছল। তখন তারা মূসা (আঃ) –কে বস্ত্রহীন অবস্থায় দেখল যে তিনি আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সবচেয়ে সৌন্দর্যে ভরপুর এবং তারা তাঁকে যে অপবাদ দিয়েছিল সে সব দোষ হইতে তিনি পুরোপুরি মুক্ত। আর পাথরটি থামল, তখন মূসা (আঃ) তাহাঁর কাপড় নিয়ে পরলেন এবং তাহাঁর হাতের লাঠি দিয়ে পাথরটিকে জোরে জোরে আঘাত করিতে লাগলেন। আল্লাহর কসম! এতে পাথরটিতে তিন, চার, কিংবা পাঁচটি আঘাতের দাগ পড়ে গেল। আর এটিই হলো আল্লাহর এ বাণীর মর্ম: “হে মুমিনগণ! তোমরা তাদের মত হয়ো না যারা মূসা (আঃ)–কে কষ্ট দিয়েছিল। অতঃপর আল্লাহ তাঁকে নির্দোষ প্রমাণিত করেন তা হইতে যা তারা রটিয়েছিল। আর তিনি ছিলেন আল্লাহর নিকট মর্যাদার অধিকারী।” (আল-আহযাব: ৬৯)

৩৪০৫

আবদুল্লাহ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী‎ (সাঃআঃ) একদা কিছু জিনিস বণ্টন করেন। তখন এক ব্যক্তি বলিল, এতো এমন ধরনের বণ্টন যা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করা হয়নি। অতঃপর আমি নাবী‎ (সাঃআঃ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে বিষয়টি জানালাম। তিনি খুবই অসন্তুষ্ট হলেন, এমনকি তাহাঁর চেহারায় আমি অসন্তুষ্টির ভাব লক্ষ্য করলাম। অতঃপর তিনি বলিলেন, আল্লাহ মূসা (আঃ)–এর প্রতি রহম করুন তাঁকে এর চেয়ে অনেক বেশি কষ্ট দেয়া হয়েছিল, তবুও তিনি ধৈর্য অবলম্বন করেছিলেন।

৬০/২৯. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: তারা প্রতিমা পূজায় রত এক জাতির নিকট হাজির হয়। (আরাফ: ১৩৮)

—- অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত —- অর্থ যেন তারা ধ্বংস হয় —– অর্থ যা অধিকারে এনেছিল।

৩৪০৬

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ)–এর সঙ্গে কাবাস (পিলু) গাছের পাকা ফল বেছে বেছে নিচ্ছিলাম। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলিলেন, এর মধ্যে কালোগুলো নেয়াই তোমাদের উচিত। কেননা এগুলোই অধিক সুস্বাদু। সাহাবীগণ বলিলেন, আপনি কি ছাগল চরিয়েছিলে? তিনি বলিলেন, প্রত্যেক নাবী‎ই তা চরিয়েছেন।

৬০/৩০. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: স্মরণ কর, যখন মূসা তাহাঁর সম্প্রদায়কে বলেছিলঃ আল্লাহ তোমাদের একটি গরু যবেহ করিতে আদেশ দিয়েছেন। (আল-বাকারাহ: ৬৭)

আবুল আলিয়াহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন , —- বুড়ো ও বাছুর উভয়ের মাঝামাঝি, —- উজ্জ্বল গাঢ়। —- অর্থ , যা কাজে ব্যবহূত হয় নাই। ——– জমি চাষে অর্থাৎ গাভীটি এমন যা ভূমি কর্ষণে ও চাষের কাজে ব্যবহূত হয়নি। —- যা সকল ত্রুটি ও খুঁত মুক্ত। —- কোন দাগ নেই। হলুদ ও সাদা বর্ণের। তুমি ইচ্ছা করলে কালোও বলিতে পারো। আরও বলা হয় এর অর্থ হলুদ বর্ণের। যেমন মহান আল্লাহর বাণী: ——— পীতবর্ণের উটসমূহ। ——— তোমরা পরস্পর মত বিরোধ করেছিলে।

৬০/৩১. অধ্যায়ঃ মূসা (আঃ)–এর মৃত্যু ও তৎপরবর্তী অবস্থার বর্ণনা।

৩৪০৭

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, মালাকুল মাওতকে মূসা (আঃ)–এর নিকট তাহাঁর জন্য পাঠান হয়েছিল। ফেরেশতা যখন তাহাঁর নিকট আসলেন, তিনি তাহাঁর চোখে চপেটাঘাত করিলেন। তখন ফেরেশতা তাহাঁর রবের নিকট ফিরে গেলেন এবং বলিলেন, আপনি আমাকে এমন এক বান্দার নিকট পাঠিয়েছেন যে মরতে চায় না। আল্লাহ বলিলেন, তুমি তার নিকট ফিরে যাও এবং তাকে বল সে যেন তার একটি হাত গরুর পিঠে রাখে, তার হাত যতগুলো পশম ঢাকবে তার প্রতিটি পশমের বদলে তাকে এক বছর করে জীবন দেয়া হইবে। মূসা (আঃ) বলিলেন, হে রব! অতঃপর কী হইবে? আল্লাহ বলিলেন, অতঃপর মৃত্যু। মূসা (আঃ) বলিলেন, তাহলে এখনই হোক। (রাবী) বলেন, তখন তিনি আল্লাহর নিকট আরয করিলেন, তাঁকে যেন আরদে মুকাদ্দাস হইতে একটি পাথর নিক্ষেপের দূরত্বের সমান স্থানে পৌঁছে দেয়া হয়। আবু হুরাইরা (রাদি.) বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, আমি যদি সেখানে থাকতাম তাহলে অবশ্যই আমি তোমাদেরকে পথের ধারে লাল টিলার নীচে তাহাঁর কবরটি দেখিয়ে দিতাম। রাবী আব্দুর রায্‌যাক বলেন, মামার (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) …… আবু হুরাইরা (রাদি.) সূত্রে নাবী‎ (সাঃআঃ) হইতে একইভাবে বর্ণনা করিয়াছেন।

৩৪০৮

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একজন মুসলিম আর একজন ইয়াহূদী পরস্পরকে গালি দিল। মুসলিম ব্যক্তি বলিলেন, সেই সত্তার কসম! যিনি মুহাম্মাদ (সাঃআঃ)-কে তামাম জগতের উপর মনোনীত করিয়াছেন। কসম করার সময় তিনি একথাটি বলেছেন। তখন ইয়াহূদী লোকটিও বলিল, ঐ সত্তার কসম! যিনি মূসা (আঃ) –কে তামাম জগতের উপর মনোনীত করিয়াছেন। তখন সেই মুসলিম সাহাবী সে সময় তার হাত উঠিয়ে ইয়াহূদীকে একটি চড় মারলেন। তখন সে ইয়াহূদী নাবী‎ (সাঃআঃ)–এর নিকট গেল এবং ঘটনাটি জানালো যা তার ও মুসলিম সাহাবীর মধ্যে ঘটেছিল। তখন নাবী‎ (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমরা আমাকে মূসা (আঃ)–এর উপর বেশি মর্যাদা দিওনা। সকল মানুষ বেহুশ হয়ে যাবে। আর আমিই সর্বপ্রথম হুশ ফিরে পাব। তখনই আমি মূসা (আঃ) –কে দেখব, তিনি আরশের একপাশ ধরে রয়েছেন। আমি জানি না, যারা বেহুঁশ হয়েছিল, তিনিও কি তাদের অন্তর্ভুক্ত অতঃপর আমার আগে তাহাঁর হুশ এসে গেছে? কিংবা তিনি তাদেরই একজন, যাঁদেরকে আল্লাহ বেহুঁশ হওয়া থেকে অব্যাহতি দিয়েছিলেন।

৩৪০৯

আবু হুরাইরা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, আদম (আঃ) ও মূসা (আঃ) তর্ক-বিতর্ক করছিলেন। তখন মূসা (আঃ) তাঁকে বলছিলেন, আপনি সেই আদম যে আপনার ভুল আপনাকে বেহেশত হইতে বের করে দিয়েছিল। আদম (আঃ) তাঁকে বলিলেন, আপনি কি সেই মূসা যে, আপনাকে আল্লাহ তাহাঁর রিসালাত দান এবং বাক্যালাপ দ্বারা সম্মানিত করেছিলেন। অতঃপরও আপনি আমাকে এমন বিষয়ে দোষী করছেন, যা আমার সৃষ্টির আগেই আমার জন্য নির্ধারিত হয়ে গিয়েছিল। আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) দুবার বলেছেন, এ বিতর্কে আদম (আঃ) মূসা (আঃ)–এর ওপর বিজয়ী হন।

৩৪১০

ইবনু আব্বাস (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদিন নাবী‎ (সাঃআঃ) আমাদের সামনে আসলেন এবং বলিলেন, আমার নিকট সকল নাবী‎র উম্মতকে পেশ করা হয়েছিল। তখন আমি একটি বিরাট দল দেখলাম, যা দৃষ্টিসীমা পর্যন্ত আবৃত করে ফেলেছিল। তখন বলা হলো, ইনি হলেন মূসা (আঃ) তাহাঁর কওমের মাঝে।

৬০/৩২. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: আর আল্লাহ মুমিনদের জন্য দৃষ্টান্ত পেশ করিয়াছেন ফিরআউনের স্ত্রীর। আর সে ছিল বিনয়ী ইবাদাতকারীদের অন্তর্ভুক্ত। ( আত তাহরীম: ১১-১২)

৩৪১১

আবু মূসা (রাদি.) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সাঃআঃ) বলেছেন, পুরুষদের মধ্যে অনেকেই পূর্ণতা অর্জন করিয়াছেন। কিন্তু মহিলাদের মধ্যে ফিরআউনের স্ত্রী আসিয়া এবং ইমরানের কন্যা মারইয়াম ব্যতীত আর কেউ পূর্ণতা অর্জনে সক্ষম হয়নি। তবে আয়েশার মর্যাদা সব মহিলার উপর এমন, যেমন সারীদের (গোশতের সুরুয়ায় ভিজা রুটির) মর্যাদা সকল প্রকার খাদ্যের উপর।

৬০/৩৩. অধ্যায়ঃ মহান আল্লাহর বাণী: নিশ্চয়ই কারূন ছিল মূসা (আঃ)–এর সম্প্রদায় ভুক্ত।… (আল-কাসাস: ৭৬)

—- অর্থ অবশ্যই কষ্টসাধ্য ছিল। ইবনু আব্বাস (রাদি.) বলেন, —- অর্থ একদল বলবান লোকও তাহাঁর চাবিগুলো বহন করিতে পারতো না। বলা হয় —- অর্থ দাম্ভিক লোকগুলো। —- হচ্ছে —- এর মত, অর্থ তুমি দেখলেতো, আল্লাহ যাকে ইচ্ছা রিয্‌ক বেশি করে দেন, আর যাকে ইচ্ছা কম করে দেন …। (লুকমান: ৩৭)

By ইমাম বুখারী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply