মুসাফিরের রোজা

মুসাফিরের রোজা

মুসাফিরের রোজা >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৭, অধ্যায়ঃ ৪

  • অধ্যায়ঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ৪. প্রথম অনুচ্ছেদ

২০১৯.. আয়িশাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হামযাহ্ ইবনি আমর আল আসলামী নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে জিজ্ঞেস করিয়াছেন, আমি কি সফরে সওম পালন করব? হামযাহ্ খুব বেশী সওম পালন করিতেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ এটা তোমার ইচ্ছাধীন। চাইলে রাখবে, না চাইলে না রাখবে। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯৪৩, মুসলিম ১১২১, তিরমিজি ৭১১, নাসায়ী ২৩০৬, ইবনি মাজাহ ১৬৬২, আহমাদ ২৫৬০৭, ইবনি খুযায়মাহ্ ২০২৮, মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববারানী ২৯৬৪, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮১৫৬। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২০২০. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একবার] আমরা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে যুদ্ধে রওনা হলাম। সে সময় রমাযান [রমজান] মাসের ষোল তারিখ অতিবাহিত হয়েছিল। [এ সময়] আমাদের কেউ সওম রেখেছে, আবার কেউ রাখেনি। সায়িমগণ সওমে না থাকা লোকদেরকে খারাপ জানেনি আবার সওমে না থাকা লোকজনও সায়িমগণকে খারাপ মনে করেনি। ১}

{১} সহীহ : মুসলিম ১১১৬, আহমাদ ১১৭০৫, সহীহ আত তারগীব ১০৬২। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২০২১. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একবার এক সফরে ছিলেন। এক স্থানে তিনি কিছু লোকের সমাগম ও এক ব্যক্তিকে দেখলেন। [রোদের তাপ থেকে রক্ষা করার জন্য] ওই লোকটির ওপর ছায়া দিয়ে রাখা হয়েছে। [এ দৃশ্য দেখে] তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, ওখানে কী হয়েছে? লোকেরা বলিল, এ ব্যক্তি সায়িম [দুর্বলতার কারণে পড়ে গেছে]। এ কথা শুনে তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, সফর অবস্থায় সওম রাখা নেক কাজ নয়। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯৪৬, মুসলিম ১১১৫, দারিমী ১৭৫০, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮১৫৪। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২০২২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা [একবার] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে তাহাঁর সফরসঙ্গী ছিলাম। আমাদের কেউ সায়িম ছিলেন। আবার কেউ সওম রাখেননি। আমরা এক মঞ্জীলে পৌঁছলাম। এ সময় খুব রোদ ছিল। [রোদের প্রখরতায়] সায়িম ব্যক্তিগণ [মাটিতে] ঘুরে পড়ল। যারা সওমরত ছিল না, ঠিক রইল। তারা তাঁবু বানাল, উটকে পানি পান করাল। [এ দৃশ্য দেখে] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ সওম না থাকা লোকজন আজ সাওয়াবের ময়দান জিতে নিলো। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ২৮৯০, মুসলিম ১১১৯, নাসায়ী ২২৮৩, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৮৯৬১, ইবনি খুযায়মাহ্ ২০৩৩, সহীহ আত তারগীব ১০৬১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮১৫৫, ইবনি হিববান ৩৫৫৯, সহীহ আল জামি ৩৪৩৬। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২০২৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [মক্কা বিজয়ের বছর] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মাদীনাহ্ হইতে মক্কার দিকে রওনা হলেন। [এ সফরে] তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সওম রেখেছেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] যখন [মক্কা হইতে দু মঞ্জীল দূরে] উসফান-এ [নামক ঐতিহাসিক স্থানে] পৌঁছলেন তখন পানি চেয়ে আনালেন। এরপর তা হাতে ধরে অনেক উঁচুতে উঠালেন। যাতে লোকেরা পানি দেখিতে পায়। এরপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সওম ভাঙলেন। এভাবে তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মক্কায় পৌঁছলেন। এ সফর হয়েছিল রমাযান [রমজান] মাসে। ইবনি আব্বাস বলিতেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সফরে সওম রেখেছেন, আবার ভেঙেছেন। অতএব যার খুশী সওম রাখবে [যদি কষ্ট না হয়]। আর যার ইচ্ছা রাখবে না। ]{১}

{১} সহীহ : বোখারী ১৯৪৮, মুসলিম ১১১৩, আবু দাউদ ২৪০৪, নাসায়ী ২৩১৪, আহমাদ ২৬৫২, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮১৬০, ইবনি হিববান ৩৫৬৬। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২০২৪.

وَفِىْ رِوَايَةٍ لمُسْلِمٍ عَنْ جَابِرٍ أَنَّه شَرِبَ بَعْدَ الْعَصْرِ

সহীহ মুসলিমের হইতে বর্ণীতঃ

অন্য রিওয়ায়াতে জাবির হইতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আসরের পর পানি পান করিয়াছেন।{১}

{১} সহীহ : মুসলিম ১১১৪। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ৪. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২০২৫. আনাস ইবনি মালিক আল কাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আল্লাহ তাআলা মুসাফির থেকে অর্ধেক নামাজ কমিয়ে দিয়েছেন। এভাবে মুসাফির, দুগ্ধবতী মা ও গর্ভবতী নারীদের জন্য সওম [আপাতত] মাফ করে দিয়েছেন। [আবু দাউদ, তিরমিজি, নাসায়ী, ইবনি মাজাহ]{১}

{১} হাসান সহীহ : আবু দাউদ ২৪০৮, তিরমিজি ৭১৫, নাসায়ী ২৩১৫, ইবনি মাজাহ ১৬৬৭।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

২০২৬. সালামাহ্ ইবনি মুহাব্বাক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ [সফরের সময়] যে ব্যক্তির কাছে এমন সওয়ারী থাকিবে, যা তাকে তার গন্তব্য পর্যন্ত অনায়াসে ও আরামে পৌঁছে দিতে পারে [অর্থাৎ- সফরে কষ্ট না হয়]; যে জায়গায়ই রমাযান [রমজান] মাস আসুক সে ব্যক্তি যেন সওম পালন করে। {১}

{১} জইফ : আবু দাউদ ২৪১০, আহমাদ ১৫৯১২, জইফ আল জামি ৫৮১০, যঈফাহ্ ২/৯৮১। কারণ এর সানাদে হাবীব ইবনি আবদুল্লাহ একজন অপরিচিত বা মাজহূল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অধ্যায়ঃ ৪. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২০২৭. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমাযান [রমজান] মাসে [মাদীনাহ্ হইতে] মক্কা অভিমুখে রওনা হলেন। তিনি [মক্কা মাদীনার মধ্যবর্তী স্থান উসফানের কাছে] কুরা-আল গমীম পৌঁছা পর্যন্ত সওম রাখলেন। অন্যান্য লোকেরাও সওমে ছিলেন। [এখানে পৌঁছার পর] তিনি পেয়ালায় করে পানি চেয়ে আনলেন। পেয়ালাটিকে [হাতে উঠিয়ে এতো] উঁচুতে তুলে ধরলেন যে, মানুষেরা এর দিকে তাকাল। তারপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পানি পান করিলেন। এরপর কিছু লোক আরয করিল যে, [এখনো] কিছু লোক সওম রেখেছে [অর্থাৎ- রসূলের অনুসরণে সওম ভাঙেনি]। [এ কথা শুনে] তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ এসব লোক পাক্কা গুনাহগার, এসব লোক পাক্কা গুনাহগার। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ১১১৪, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ২০১৯, সহীহ ইবনি হিববান ৩৫৪৯, সহীহ আত তারগীব ১০৫৩। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২০২৮. আবদুর রহমন ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ রমাযান [রমজান] মাসে সফরের সায়িম, নিজের বাসস্থানে সায়িম না থাকার মতো। [ইবনি মাজাহ]{১}

{১} জইফ : ইবনি মাজাহ ১৬৬৬, যঈফাহ্ ৪৯৮, জইফ আত তারগীব ৬৪৩। কারণ প্রথমত এর সানাদে বিচ্ছিন্নতা রয়েছে যেহেতু আবু সালামাহ্ তার পিতা আবদুর রহমান হইতে শ্রবণ করেনি। আর দ্বিতীয়ত উসামাহ্ ইবনি যায়দণ্ডএর স্মরণশক্তিতে দুর্বলতা রয়েছে। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২০২৯. হামযাহ্ ইবনি আমর আল আসলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রসূল! সফর অবস্থায় আমি সওম পালনে সমর্থ। [না রাখলে] আমার কী কোন গুনাহ হবে? তিনি বললেন, এ ক্ষেত্রে আল্লাহ আযযা ওয়াজাল্লা তোমাকে অবকাশ দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ অবকাশ গ্রহণ করিবে, সে উত্তম কাজ করিবে। আর যে ব্যক্তি সওম রাখা পছন্দ করিবে [সে রাখবে], তার কোন গুনাহ হবে না। ]{১}

{১} সহীহ : মুসলিম ১১২১, নাসায়ী ২৩০৩, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ২০২৬, দারাকুত্বনী ২৩০১, সুনানুল কুবরা লিল বায়হাক্বী ৮১৫৮, সহীহ ইবনি হিববান ৩৫৬৭, ইরওয়া ৯২৬, সহীহাহ্ ১৯২। মুসাফিরের রোজা -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply