মুসাফিরদের নামাজ এবং তার ক্বস্‌র [সংক্ষিপ্ত করা]

মুসাফিরদের নামাজ এবং তার ক্বস্‌র [সংক্ষিপ্ত করা]

মুসাফিরদের নামাজ এবং তার ক্বস্‌র [সংক্ষিপ্ত করা] >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১.অধ্যায়ঃ মুসাফিরদের নামাজ এবং তার ক্বস্‌র [সংক্ষিপ্ত করা]

১৪৫৫

নবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাড়িতে কিংবা সফরে যে কোন অবস্থায় প্রথমে নামাজ দু দু রাকআত করে ফর্‌জ করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে সফরের নামাজ দু রাকআত ঠিক রাখা হলেও বাড়ীতে অবস্থানকালীন নামাজের রাকআত সংখ্যা বৃদ্ধি করা দেয়া হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪০ , ইসলামিক সেন্টার-১৪৫০]

{বিঃদ্রঃ হাদীস নং ১৪৫৫ দুইবার এসেছে, তাই প্রথমটি হাদীস নং ১৪৫৪ এর সাথে সংযুক্ত করে দেওয়া হল।}

১৪৫৬

নবী [সাঃআঃ] এর স্ত্রী আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নামাজ ফরয করার সময় আল্লাহ তাআলা দু  রাকআত করে ফরয করেছিলেন। তবে পরে বাড়ীতে অবস্থানকালীন সলাতে বৃদ্ধি করে পূর্নাঙ্গ করা হয়েছে এবং সফরকালীন নামাজ পূর্বের মত দু রাকআতই রাখা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪১, ইসলামিক সেন্টার-১৪৫১]

১৪৫৭

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

প্রথমে নামাজ ফর্‌য হয়েছিল দু রাকআত করে। পরবর্তী সময়ে সফরকালীন নামাজ দু রাকআত ঠিক রাখা হয়েছে কিন্ত বাড়ীতে অবস্থানকালীন নামাজ পূর্ণাঙ্গ [অর্থাৎ চার রাকআত] করা হয়েছে।

বর্ণনাকারী যুহরী বলেছেনঃ আমি উরওয়াহ্‌কে জিজ্ঞেস করলাম-তাহলে কী কারণে আয়িশা [রাদি.] সফরকালীন নামাজ পুরো আদায় করিতেন? জবাবে উরওয়াহ্‌ বললেনঃ আয়েশাহ উসমানের ব্যাখ্যার মতো এ হাদীসটির ব্যাখ্যা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪২,ই.সে ১৪৫২]

১৪৫৮

ইয়ালা ইবনি উমাইয়্যাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেনঃ আমি উমর ইবনিল খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম যে,আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “কাফিররা তোমাদেরকে কষ্ট দিবে এ আশঙ্কা থাকলে নামাজ ক্বস্‌র করে আদায় করিতে তোমাদের কোন দোষ হইবে না”-[সুরা আন্‌ নিসা ৪:১০১]। কিন্ত এখন তো লোকেরা নিরাপত্তা লাভ করিয়াছেন। [সুতরাং এখন ক্বস্‌র নামাজ আদায় করার প্রয়োজন কী?] এ কথা শুনে উমর ইবনিল খাত্ত্বাব বললেনঃ তুমি যে কারনে বিস্মিত হয়েছ আমিও ঠিক একই কারণে বিস্মিত হয়েছিলাম [অর্থাৎ আমিও ক্বস্‌র নামাজ আদায়ের কোন যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছিলাম না]। তাই উক্ত বিষয়ে আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এটি তোমাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে সদাক্বাহ্‌ বা দান। সুতরাং তোমরা তাহাঁর দেয়া সদাক্বাহ্‌ গ্রহণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৩,ই.সে ১৪৫৩]

১৪৫৯

ইয়ালা ইবনি উমাইয়্যাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি উমর ইবনিল খাত্ত্বাবকে জিজ্ঞেস করলাম। এ পর্যন্ত বর্ণনা করার পর তিনি আবদুল্লাহ ইবনি ইদরীস বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৪,ই.সে ১৪৫৪]

১৪৬০

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তোমাদের নবীর জবানীতে আল্লাহ তাআলা বাড়ীতে অবস্থানকালীন নামাজ চার রাকআত, সফরের নামাজ দু রাকআত এবং ভীতিকর অবস্থানকালীন নামাজ এক রাকআত ফারয্‌ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৫, ই.সে ১৪৫৫]

১৪৬১

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ তোমাদের নবী [সাঃআঃ] এর জবানীতে মুসাফিরের নামাজ দু রাকআত, মুকীম বা বাড়ীতে অবস্থানকালীন নামাজ চার রাকআত এবং ভীতিকর অবস্থায় নামাজ এক রাকআত ফরয করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৬, ই.সে ১৪৫৬]

১৪৬২

মূসা ইবনি সালামাহ্‌ আল হুযালী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,আমি আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, আমি মাক্কায় অবস্থানকালে যদি ইমামের পিছনে নামাজ আদায় না করি তাহলে কীভাবে নামাজ আদায় করব। জবাবে আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস বলিলেন, দু রাকআত নামাজ আদায় করিবে। এটি আবুল ক্বাসিম [সাঃআঃ]-এর সুন্নাত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৭, ই.সে ১৪৫৭]

১৪৬৩

ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানদে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৮, ই.সে ১৪৫৭-ক]

১৪৬৪

উমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,আমি মাক্কার কোন একটি পথে আসিম ইবনি উমর-এর সাথে চলছিলাম। এ সময় তিনি আমাদের সাথে করে যুহরের নামাজ আদায় করিলেন এবং মাত্র দু রাকআত আদায় করিলেন। তারপর তিনি তাহাঁর কাফিলার মধ্যে ফিরে আসলেন। আমরাও তাহাঁর সাথে ফিরে আসলাম। তিনি সেখানে বসে পড়লে আমরাও তাহাঁর সাথে বসে পড়লাম। এ সময় যে স্থানে তিনি নামাজ আদায় করেছিলেন সে স্থানে তাহাঁর দৃষ্টি পড়লে কিছু সংখ্যক লোককে সেখানে দাঁড়ানো দেখিতে পেয়ে তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, এরা ওখানে কী করছে? আমি বললাম, তারা সুন্নাত পড়ছে। তিনি এ কথা শুনে বললেনঃ ভাতিজা, আমাদেরকে যদি সুন্নাত আদায় করিতে হত তাহলে আমি ফরয নামাজ ও পূর্ণ আদায় করতাম। আমি সফরে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে থেকে দেখেছি আমৃত্যু তিনি দু রাকআতের অধিক আদায় করেননি। আমি সফরে আবু বাক্‌রের সাথে থেকে দেখেছি আল্লাহ তাকে ওফাত দান না করা পর্যন্ত তিনি দু রাকআত নামাজ আদায় করিয়াছেন। আমি সফরে উমারের সাথে দেখেছি তিনি দুরাকআত নামাজই আদায় করিয়াছেন। মহান আল্লাহ বলেছেনঃ “আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরনের উত্তম নমুনা রয়েছে”-[সূরাহ আল আহ্‌যাব ৩৩ : ২১]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৪৯,ই.সে ১৪৫৮]

১৪৬৫

হাফস্‌ ইবনি আসিম থেকে [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি সাংঘাতিকভাবে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লাম। আবদুল্লাহ ইবনি উমর আমাকে দেখিতে আসলেন। সে সময় আমি তাঁকে সফরে সুন্নাত নামাজ আদায় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন- আমি সফরে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গী হয়েছি। কিন্ত কখনো তাঁকে নাফ্‌ল নামাজ আদায় করিতে দেখেনি। আর আমি যদি সফরে সুন্নাত নামাজ আদায় করতাম তাহলে ফরয নামাজ ও পূর্ণ করে আদায় করতাম। কেননা আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ আল্লাহর রসূলের জীবনে তোমাদের অনুসরণের জন্য উত্তম নীতিমালা রয়েছে”-[সুরা আল আহ্‌যাব ৩৩ : ২১]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫০, ই.সে ১৪৫৯]

১৪৬৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

বিদায় হাজ্জের সফরে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাদীনাহ্‌ থেকে যুহরের নামাজ চার রাকআত আদায় করে রওয়ানা হয়েছিলেন এবং যুল-হুলায়ফাতে পৌছে আস্‌রের নামাজ দু রাকআত আদায় করেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫১, ই.সে ১৪৬০]

১৪৬৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বিদায় হাজ্জের সফরে আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে মাদীনায় যুহরের নামাজ চার রাকআত আদায় করে বের হয়েছি এবং যুল-হুলায়ফাতে পৌছে তাহাঁর সাথে আস্‌রের নামাজ মাত্র দু রাকআত আদায় করেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫২, ই.সে ১৪৬১]

১৪৬৮

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি ইয়াযীদ আল হুনায়ী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে সফররত অবস্থায় সলাতে ক্কস্‌র করা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন তিন মাইল অথবা তিন ফারসাখ দূরত্বের সফরে বের হইতেন তখনই দু রাকআত নামাজ আদায় করিতেন। ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি ইয়াযীদ আল হুনায়ী তিন মাইল দূরত্বের কথা বলেছেন, না তিন ফারসাখ দূরত্বের কথা বলেছেন তাতে শুবার সন্দেহ রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৩, ই.সে ১৪৬২]

১৪৬৯

জুবায়র ইবনি নুফায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি শুরাহ্‌বীল ইবনি আস্‌ সিম্‌ত্ব [রাদি.]-এর সাথে সতের বা আঠার মাইল দূরবর্তী এক গ্রামে গেলাম। তিনি সেখানে [চার রাকআতের পরিবর্তে] দু রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। আমি তাঁকে কারণ জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলেলনঃ আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে যা করিতে দেখেছি তাই করে থাকি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৪, ই.সে ১৪৬৩]

১৪৭০

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] এ সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি [শুবাহ্] শুরাহবীল না বলে মুহাম্মাদ ইবনিস্ সিম্ত্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] উল্লেখ করিয়াছেন। তিনি তার বর্ণিত হাদীসে এতটুকু কথা অতিরিক্ত বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি হিম্স-এর আঠার মাইল দূরবর্তী “দূমীন” নামে পরিচিত একটি স্থানে উপনীত হলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৫, ই.সে ১৪৬৪]

১৪৭১

আনাস ইবন মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [বিদায় হাজ্জের সফরে] আমরা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে মাদীনাহ্‌ থেকে মাক্কার দিকে বের হলাম। [এ সফরে] রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সব ওয়াক্তের নামাজই দু রাকআত করে আদায় করিয়াছেন এবং মাদীনায় ফিরে এসেছেন। বর্ণনাকারী ইসহাক্ব ইবনি ইয়াহ্‌ইয়া বর্ণনা করিয়াছেন- আমি আনাস ইবনি মালিককে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি মাক্কায় কদিন পর্যন্ত অবস্থান করেছিলেন? জবাবে আনাস ইবনি মালিক বললেনঃ দশদিন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৬, ই.সে ১৪৬৫]

১৪৭২

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] থেকে হুশায়ম বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৭,ই.সে ১৪৬৬]

১৪৭৩

ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি আবু ইসহাক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন,আমি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, আমরা মাদীনাহ্‌ থেকে হাজ্জের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলাম …। এরপর তিনি পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৮, ই.সে ১৪৬৭]

১৪৭৪

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এতে তিনি হাজ্জের কথা উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৫৯, ই.সে ১৪৬৮]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply