মুনাফিকদের আচরণ এবং তাদের সম্পর্কে বিধান

মুনাফিকদের আচরণ এবং তাদের সম্পর্কে বিধান

 >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

পর্বঃ ৫১, য়ঃ মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত, অধ্যায়ঃ ১টি

১. অধ্যায়ঃ মুনাফিকদের বিবরণ সম্পর্কিত

৬৯১৭. যায়দ ইবনি আরকাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে কোন এক সফরে আমরা বের হলাম। এ সফরে মানুষজন অনেক কষ্টে পড়ে। সে সময় আবদুল্লাহ্‌ ইবনি উবাই তার সাথীদেরকে বলিল, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথীদের জন্যে তোমরা কিছু ব্যয় করো না, যাতে তারা তাহাঁর কাছ হইতে দূরে চলে যায়।

যুহায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ হলো ঐ লোকের তিলাওয়াত যে, من حوله  শব্দের পরিবর্তে مِنْ حَوْلِهِ  পড়ে শক্তিশালীগণ বেশি দুর্বলগণকে বহিষ্কার করে দিবে।

আর সে এটাও বলিল, আমরা মাদীনায় ফিরে আসলে সেখান থেকে নিশ্চয়ই বেশি দুর্বলকে বহিষ্কৃত করিবে শক্তিশালী ব্যক্তি। এ কথা শুনে আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে তার এ কথাবার্তার ব্যাপারে তাঁকে জানালাম। তখন তিনি আবদুল্লাহ ইবনি উবাইকে ডেকে পাঠালেন এবং তাকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিলেন। সে জোরদার শপথ করে বলিল যে, সে এমন কর্ম করেনি। আর বলিল, যায়দ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে মিথ্যা কথা বলেছে। যায়দ [রাদি.] বলেন, তাদের এ কথায় আমি মনে কঠিন কষ্ট পেলাম। তখন আল্লাহ তাআলা আমার সততার পক্ষে অবতীর্ণ করেন, …إِذَا جَاءَكَ الْمُنَافِقُونَ  তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাদেরকে এজন্য আহ্বান করলো যে, তিনি তাদের জন্যে মার্জনা প্রার্থনা করবেন।

তিনি বলেন, তখন তারা তাদের মাথা ঘুরিয়ে নিল। আল্লাহ তাআলা তাদের ব্যাপারে বলেছেন ,كَأَنَّهُمْ خُشُبٌ مُسَنَّدَةٌ‏  তারা দেয়ালে ভর দেয়া কাঠের স্তম্ভ স্বরূপ। যায়দ [রাদি.] বলেন, বাহ্যিকভাবে তারা ছিল খুবই সুন্দর মানুষ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২২]

৬৯১৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] আবদুল্লাহ ইবনি উবাই এর কবরের কাছে আসলেন এবং তাকে তার কবর থেকে উঠিয়ে নিজ হাঁটুর উপর রাখলেন এবং তিনি তার উপর থুথু দিলেন এবং তাকে নিজ জামা পরিয়ে দিলেন। আল্লাহই এ ব্যাপারে পূর্ণ অবগত।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৩]

৬৯১৯. জাবির ইবুন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি উবাইকে কবরে ঢুকানোর পর নবী [সাঃআঃ] তার কাছে আসলেন। হাদীসের পরবর্তী অংশটুকু সুফ্‌ইয়ান-এর হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৪]

৬৯২০. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনি উবাই-এর মৃত্যুর পর তার সন্তান আবদুল্লাহ ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে আসলেন এবং তাহাঁর পিতার কাফনের জন্যে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জামাটি চাইলেন। তিনি তাঁকে জামাটি দিয়ে দিলেন। তারপর তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে তাহাঁর পিতার সলাতে জানাযা আদায়ের জন্যে অনুরোধ করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার জানাযার নামাজ আদায়ের জন্য দাঁড়ালেন। এমতাবস্থায় উমর [রাদি.] দাঁড়িয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাপড় টেনে ধরে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! তার জানাযা কি আপনি আদায় করাবেন? আর আল্লাহ তাআলা তার সলাতে জানাযা আদায় করাতে আপনাকে বারণ করিয়াছেন। এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, এ ব্যাপারে তো আল্লাহ তাআলা আমাকে এ কথা বলে স্বাধীনতা দিয়েছেন যে, “আপনি তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন অথবা তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা না করুন- উভয়ই সমান, আপনি সত্তরবারও যদি তাদের জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করেন- সবই সমান। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি সত্তরের উপরে বাড়িয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করব। উমর [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! সে তো কপট ছিল। এরপরও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার সলাতে জানাযা আদায় করিলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন-

وَلاَ تُصَلِّ عَلَى أَحَدٍ مِنْهُمْ مَاتَ أَبَدًا وَلاَ تَقُمْ عَلَى قَبْرِهِ‏

“তাদের মাঝে কারো মৃত্যু হলে আপনি কখনো তার জন্যে জানাযার নামাজ আদায় করবেন না এবং তার কবরের পাশেও দণ্ডায়মান হইবেন না”- [সুরা আত্‌ তাওবাহ ৯ : ৮৪]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৫]

৬৯২১. উবাইদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে উক্ত সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তারপর হইতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুনাফিকদের সলাতে জানাযা আদায় করা পরিপূর্ণরূপে পরিত্যাগ করিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৬৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৬]

৬৯২২. ইবনি মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বাইতুল্লাহর কাছে তিন লোক একত্রিত হলো। এদের দুজন কুরাইশী এবং একজন সাকাফী অথবা দুজন সাকাফী এবং একজন কুরাইশী ছিল। তাদের অন্তরে সূক্ষজ্ঞান খুব কমই ছিল। তবে পেটে অনেক চর্বি ছিল। তাদের একজন বলিল, আমরা যা বলি আল্লাহ সব শুনেন, এ কথা কি তোমরা মনে করো? তখন দ্বিতীয় ব্যক্তি বলিল, আমরা উচ্চ আওয়াজে কথা বললে আল্লাহ তা শুনে থাকেন। তবে নিম্নস্বরে কথা বললে আল্লাহ তা শুনেন না। তখন তৃতীয় ব্যক্তি বলিল, উচ্চ আওয়াজে কথা বললে যদি তিনি শুনে থাকেন তবে নিম্নস্বরে কথা বললেও তিনি তা শুনতে পাবেন। এ প্রেক্ষিতেই আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন,

 وَمَا كُنْتُمْ تَسْتَتِرُونَ أَنْ يَشْهَدَ عَلَيْكُمْ سَمْعُكُمْ وَلاَ أَبْصَارُكُمْ وَلاَ جُلُودُكُمْ

“তোমরা গোপন করিতে পারবে না এজন্য যে, তোমাদের কান, চোখ এবং ত্বক তোমাদের বিপক্ষে সাক্ষ্য দিবে”- [সুরা ফুস্‌সিলাত ৪১ : ২২]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৭]

৬৯২৩. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

অবিকল বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৮]

৬৯২৪. যায়দ ইবনি সাবিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] উহুদ যুদ্ধের জন্যে বের হলেন। এমন সময় কতক লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সফরসঙ্গী হয়েও ফিরে আসলো। তাদের সম্পর্কে নবী [সাঃআঃ]-এর সহাবাগণ দুদলে ভাগ হয়ে গেল। কেউ বলিল, আমরা তাদেরকে হত্যা করে ফেলব; আর কেউ বলিল, আমরা তাদের হত্যা করব না। তখন অবতীর্ণ হলো,

‏ فَمَا لَكُمْ فِي الْمُنَافِقِينَ فِئَتَيْنِ‏

“তোমাদের কি হলো যে, তোমরা মুনাফিকদের ব্যাপারে দুদলে ভাগ হয়ে গেলে?” [সূরাহ আন্‌ নিসা ৪ : ৮৮]

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২৯]

৬৯২৫. শুবাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩০]

৬৯২৬. আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জীবিতাবস্থায় কতক মুনাফিক লোকের অভ্যাস এই ছিল যে, নবী [সাঃআঃ] যখন যুদ্ধের জন্যে বের হইতেন তখন তারা পিছনে গা ঢাকা দিয়ে থাকতো এবং রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিরূদ্ধে অবস্থান করাতেই তারা উচ্ছাস প্রকাশ করত। এরপর যখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ফিরে আসতেন তখন তারা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে গিয়ে বিভিন্ন অজুহাত পেশ করত, কসম করত এবং প্রত্যাশা করত যেন তারা প্রশংসিত হয় এমন কার্যের উপর যা তারা করেনি। তখন অবতীর্ণ হলোঃ “যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দোল্লাস করে এবং যা নিজেরা করেনি এমন কর্মের জন্য প্রশংসিত হইতে পছন্দ করে, তারা আযাব থেকে রেহাই পাবে- আপনি কক্ষনো এমন মনে করবেন না। তাদের জন্যে আছে কঠিন আযাব”-

 لاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا فَلاَ تَحْسَبَنَّهُمْ بِمَفَازَةٍ مِنَ الْعَذَابِ‏

[সুরা আ-লি ইমরান ৩ : ১৮৮]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩১]

৬৯২৭. হুমায়দ ইবনি আবদুর রহ্‌মান ইবনি আওফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা মারওয়ান তার দারোয়ান রাফিকে বলিলেন, তুমি ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর কাছে যাও এবং বলো, নিজে যা করেছে তাতে খুশী হয় এবং যা করেনি তাতে প্রশংসিত হইতে চেয়ে আমাদের মধ্যে কেউ যদি আযাব পায় তবে আমরা সবাই আযাবে পড়ব। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, এ আয়াতের সঙ্গে তোমাদের কি সম্পর্ক? এ আয়াত তো আহলে কিতাব সম্বন্ধে নাযিল হয়েছে। এরপর ইবনি আব্বাস [রাদি.] এ আয়াত পাঠ করিলেন-

 لاَ تَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَفْرَحُونَ بِمَا أَتَوْا وَيُحِبُّونَ أَنْ يُحْمَدُوا بِمَا لَمْ يَفْعَلُوا‏

“স্মরণ করো, যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছিল। আল্লাহ তাদের থেকে অঙ্গীকার নিয়েছিলেন- তোমরা মানুষের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রকাশ করিবে এবং তা গোপন করিবে না।” তারপর ইবনি আব্বাস [রাদি.] পড়লেন, “যারা নিজেরা যা করেছে তাতে আনন্দ প্রকাশ করে এবং যা নিজেরা করেনি তার জন্য প্রশংসিত হইতে ভালবাসে, তারা শাস্তি হইতে মুক্তি পাবে, এরূপ আপনি কক্ষনো মনে করবেন না। তাদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ আযাব।” তারপর ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, নবী [সাঃআঃ] কিতাবীদের নিকট কোন ব্যাপারে জানতে চাইলে তারা তা গোপন করলো এবং তার উত্তরে ভিন্ন কথা বলে দিল। তারপর তারা এমন ভনিতা করে বের হলো যে, জিজ্ঞাসিত বিষয়ের যথাযথ জবাব তারা নবী [সাঃআঃ]-কে দিয়েছে। তারা এতে নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে প্রশংসা কামনা করেছিল এবং জিজ্ঞাসিত বিষয়টি গোপন করার মাধ্যমে তারা খুবই আনন্দিত হয়েছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩২]

৬৯২৮. কায়স [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আম্মার [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলাম, তোমরা আমাকে সে সিদ্ধান্ত সম্পর্কে অবহিত করো যা তোমরা আলী [রাদি.]-এর ব্যাপারে গ্রহণ করেছো। একি তোমাদের সিন্ধান্ত না এ সম্পর্কে রসূল [সাঃআঃ] তোমাকে কোন আদেশ দিয়েছেন? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সর্বসাধারণকে যে কথা বলেননি, এমন কোন কথা তিনি আমাদেরকেও বলে যাননি। তবে হুযাইফাহ্‌ [রাদি.] আমাকে বলেছেন যে, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার সহাবাদের মাঝে বারোজন মুনাফিক লোক আছে। এদের আটজনের জান্নাতে প্রবেশ করা এমনিভাবে অসম্ভব যেমনিভাবে সূচের ছিদ্র দিয়ে উষ্ট্রের প্রবেশ করা অসম্ভব। দুবাইলাহ্‌ [এক প্রকার বড় ধরনের ফোড়া] আটজন লোককে শেষ করে দিবে। আসওয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, বাকী চার লোক সম্বন্ধে শুবাহ্‌ কি বলেছেন, আমার তা মনে নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৩]

৬৯২৯. কায়স ইবনি উবাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা আম্মার [রাদি.]-কে প্রশ্ন করলাম, আপনাদের এ সংগ্রামের ব্যাপারে বলুন তো, তা কি আপনাদের স্বীয় মতের ভিত্তিতে? যা ভুলও হইতে পারে, সঠিকও হইতে পারে। কিংবা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক্ষেত্রে বিশেষভাবে আপনাদের আদেশ দিয়েছেন? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সর্বসাধারণকে যে আদেশ দেননি, এমন কিছু তিনি বিশেষভাবে আমাদেরকেও বলেননি। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার উম্মাতের মাঝে বর্ণনাকারী শুবাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার মনে হয়, তিনি [সাঃআঃ] বলেছেন, আমার উম্মাতের মাঝে বারোজন মুনাফিক হইবে। তাদের জান্নাতে ঢুকা এবং জান্নাতের ঘ্রাণও পাওয়া তেমন অসম্ভব যেমন সূঁচের ছিদ্রপথে উষ্ট্রের ঢুকা অসম্ভব। তাদের মাঝে আটজনের [ধ্বংসের] জন্য দুবাইলাহ্‌ যথেষ্ট হইবে। দুবাইলাহ্‌ হলো অগ্নিশিখা, যা কাঁধের মাঝে প্রকাশ পেয়ে অন্তঃকরণকে ছেয়ে ফেলবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৪]

৬৯৩০. আবু তুফায়ল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আকাবায় উপস্থিত এক ব্যক্তির সাথে হুযাইফাহ্‌ [রাদি.]-এর মাঝে মানুষের মধ্যে যেমন মনোমালিন্য হয়ে থাকে তেমন কিছু ছিল। সে তাকে জিজ্ঞেস করিল, তোমাকে আল্লাহর শপথ করে বলছি, বলো, আকাবায় উপস্থিত লোকেদের সংখ্যা কত ছিল? হুযাইফাহ্‌ [রাদি.]-কে লোকেরা অনুরোধ করিল, সে যেহেতু প্রশ্ন করেছে, তাই আপনি বলে দিন। তিনি বলিলেন, আমাদের অবহিত করা হয়েছে যে, তাদের সংখ্যা ছিল চৌদ্দ। আর যদি তুমিও তাদের মধ্যে হয়ে থাকো, তবে তাদের সংখ্যা হইবে পনের। আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, এদের বারোজন দুনিয়া এবং আখিরাতের জীবনে আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূল [সাঃআঃ]-এর শত্রু। বাকী তিনজন অজুহাত পেশ করে বলিল, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ঘোষকের আওয়াজ শুনিনি এবং কওমের লোকেদের প্রয়াসও আমাদের জানা ছিল না। আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রস্তরময় মাঠে ছিলেন। অতঃপর তিনি সেখান থেকে এগিয়ে চললেন এবং বলিলেন, [আমাদের গন্তব্যস্থলের] পানি অতি সামান্য। কেউ আমার পূর্বে সেখানে যাবে না। কিন্তু তিনি সেখানে গিয়ে দেখলেন যে, কতক লোক তার আগমনের পূর্বেই চলে এসেছে। সেদিন তিনি তাদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৫]

৬৯৩১. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মুরার টিলাতে কে আরোহণ করিবে? যে আরোহণ করে, তার পাপসমূহ ক্ষমা করে দেয়া হইবে, যেমনভাবে বানী ইসরাঈলকে ক্ষমা করে দেয়া হয়েছিল।

জাবির [রাদি.] বলেন, প্রথমে ঐ টিলাতে আরোহণ করিল আমাদের বানী খাযরাজের ঘোড়াগুলো। তারপর অন্য লোকেরা তাদের পিছনে আসল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমাদের সকলকেই ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে, লাল উষ্ট্রের মালিক ছাড়া। তখন আমরা ঐ লোকটির নিকট গিয়ে বললাম, এসো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমার জন্য ক্ষমা কামনা করবেন। সে বলিল, আমি যদি আমার হারানো উটটি পেয়ে যাই তবে তা অবশ্য আমার জন্য তোমাদের সঙ্গীর দুআ থেকে উত্তম।

জাবির [রাদি.] বলেন, এ লোকটি তার হারানো উষ্ট্রির সন্ধানে ছিল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৬]

৬৯৩২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কে আরোহণ করিবে মুরার টিলাতে? পরবর্তী অংশটুকু মুআয-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এতে বর্ধিত রয়েছে যে, তখন তিনি এক বেদুঈনকে দেখলেন, সে তার হারানো উট সন্ধান করে আসছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৭]

৬৯৩৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বানী নাজ্জার-এর এক লোক আমাদের সাথে ছিল। সে সূরাহ্ আল-বাকারাহ্‌ এবং সূরাহ আ-লি ইমরান তিলাওয়াত করেছিল। সে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর পক্ষ থেকে কাতিবে ওয়াহীর দায়িত্ব পালন করত। পরে পালিয়ে গিয়ে সে কিতাবীদের সাথে মিলে যায়। রাবী বলেন, তারা তাকে খুব সমাদর করিল এবং বলিল, এ ব্যক্তিটি মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর কাতিব ছিল। এতে তারা খুবই আনন্দিত হলো। এরপর বেশি দেরী হয়নি, আল্লাহ তাআলা তাদের মাঝেই তাকে ধ্বংস করে দিলেন। তারপর তারা তার জন্য গর্ত করে তাকে ঢেকে দিলো। সকালে দেখা গেল যে, জমিন তার লাশ বের করে উপরে ফেলে দিয়েছে। তারপর আবার তারা গর্ত করে তাকে পুঁতে দিলো। সকালে দেখা গেল যে, জমিন তার লাশটি বের করে উপরে ফেলে দিয়েছে। তারপর পুনরায় তারা তার জন্য গর্ত করে তাকে তাতে পুঁতে রাখল। সকালে দেখা দেল, এবারও জমিন তার লাশ বের করে মাটির উপর ফেলে দিয়েছে। কাজেই তারা তাকে নিক্ষিপ্ত অবস্থায় পরিত্যাগ করলো।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৮]

৬৯৩৪. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[তিনি বলেন,] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কোন এক ভ্রমণ থেকে প্রত্যাগমন করে মাদীনার সন্নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলে এমনভাবে প্রচণ্ডবেগে বায়ু প্রবাহিত হয় যে, মনে হচ্ছিল যেন আরোহীকে ধূলায় ঢেকে ফেলবে। রাবী বলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কোন মুনাফিকের মৃত্যুর কারণে এ বায়ু প্রবাহিত হয়েছে। যখন তিনি মাদীনায় পৌঁছলেন, তখন দেখা গেল, একজন বড় মুনাফিকের মৃত্যু ঘটেছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩৯]

৬৯৩৫. ইয়াস [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমার পিতা বর্ণনা করিয়াছেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে জ্বরে আক্রান্ত এক লোকের সেবা-শুশ্রূষা করিতে গেলাম। আমি আমার হাত তার শরীরে রেখে বললাম, আল্লাহর শপথ! আজকের মতো এমন তাপে আক্রান্ত আর কোন লোক আমি দেখিনি। এ কথা শুনে নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ কিয়ামাতের দিন এর থেকেও অধিক তাপে আক্রান্ত লোকের খবর আমি কি তোমাদের দিব না? তারা ঐ দুজন আরোহী যারা ঘাড় ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। এ কথা তিনি বলিলেন, সে সময়কার তাহাঁর সাথীদের মধ্য থেকে দুজনের দিকে লক্ষ্য করে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৪০]

৬৯৩৬. ইবনি উমর [রাদি.]-এর সূ্ত্রে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুনাফিকের দৃষ্টান্ত ঐ বকরীর মতো, যা দু পালের মধ্যে উদ্ভ্রান্তের মতো ঘুরপাক করে। একবার এদিকে আবার অন্যদিকে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৪১]

৬৯৩৭. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী [সাঃআঃ] হইতে অবিকল হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এতে রয়েছে, একবার আসে এ পালে আবার যায় অন্য পালে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৮৭, ইসলামিক সেন্টার- নেই]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply