মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান – ঈমান পর্ব

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান – ঈমান পর্ব

মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান – ঈমান অধ্যায় , এই পর্বের হাদীস = ১২৯ টি (৫ – ১৩৩) >> আল লুলু ওয়াল মারজান এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্ব-১ঃ ঈমান

১/১. ঈমান কী এবং তার বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।
১/৩. সলাতের বর্ণনা যা ইসলামের অন্যতম রুকন।
১/৫. ঈমানের বর্ণনা যার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।
১/৬ নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্তিঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।
১/৭. আল্লাহ ও তদীয় রসূলের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ, দ্বীনের শারীআত এবং তার প্রতি আহ্বান।১/৮. যে পর্যন্ত লোকেরা “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহ্‌র রাসূল” না বলবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়ার নির্দেশ।
১/৯. লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলা ঈমানের প্রথম।
১/১০. যে ব্যক্তি নিঃসন্দেহ ঈমান সহকারে আল্লাহ্‌র সাথে মিলিত হইবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে এবং জাহান্নাম তার জন্য হারাম করে দেয়া হইবে।
১/১২. ঈমানের শাখা-প্রশাখা।
১/১৪. ইসলামের ফাযীলাতের বর্ণনা এবং তার কোন্ কাজটি সর্বোত্তম।
১/১৫. সে সকল গুণাবলী যেগুলো দ্বারা গুণান্বিত হলে কেউ ঈমানের স্বাদ পাবে।
১/১৬. কোন ব্যক্তির তার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং সকল লোকের চেয়ে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-কে বেশী ভালবাসা আবশ্যক হওয়ার বর্ণনা।
১/১৭. কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য যা ভালবাসবে সেটা তার ভাইয়ের জন্যও ভালবাসা ঈমানের বৈশিষ্ট্যের অন্যতম তার প্রমাণ।
১/১৯. প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং ভাল কথা বলা অথবা চুপ থাকার আবশ্যকতা আর এগুলোর প্রতিটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
১/২১. ঈমানদারগণের একের অপরের উপর মর্যাদা এবং এ ব্যাপারে ইয়েমেনবাসীদের প্রাধান্য।
১/২২ [ক]. কল্যাণ কামনা করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।
১/২২ [খ]. পাপাচারিতার মাধ্যমে ঈমানের হ্রাসপ্রাপ্তি, পাপী থেকে ঈমানের বিচ্ছিন্নতা এবং পাপকার্য সম্পাদনকালে ঈমানের পূর্ণতায় ঘাটতি
১/২৩. মুনাফিকের স্বভাবের বর্ণনা।
১/২৪. যে তার মুসলিম ভাইকে বলল, হে কাফির! তার ঈমানের অবস্থার বর্ণনা।
১/২৫. ঐ ব্যক্তির ঈমানের অবস্থা যে জ্ঞাতসারে তার পিতাকে বর্জন করে।
১/২৬. নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্তিঃ কোন মুসলিমকে গালি দেয়া পাপাচার আর তাকে হত্যা করা কুফরী।
১/২৭. আমার পর তোমরা একে অপরের গলা কেটে কুফরীতে ফিরে যেও না।
১/৩০. ঐ ব্যক্তি কুফরী করিল যে বলল অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে।
১/৩১. আনসারগণকে ভালবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত তার প্রমাণ।
১/৩২. আনুগত্যে অবহেলার মাধ্যমে ঈমানের হ্রাসপ্রাপ্তির বর্ণনা।
১/৩৪. আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনয়ন সর্বোত্তম কাজ।
১/৩৫. শিরক সবচেয়ে নিকৃষ্ট গুনাহ এবং তার পরবর্তী বড় গুনাহর বর্ণনা।
১/৩৬. কাবীরা গোনাহের বর্ণনা এবং তন্মধ্যে যেটি সবচেয়ে বড়।
১/৩৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ইবাদাতে কোন কিছুকে শারীক না করে মৃত্যুবরণ করিল সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।
১/৩৯. লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলেছে এমন কাফিরকে হত্যা করা হারাম।
১/৪০. নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্তিঃ যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিল সে আমাদের দলভুক্ত নয়।
১/৪২. গালে আঘাত করা, কাপড়চোপড় ছেঁড়া এবং জাহিলী যুগের [রীতি-প্রথার প্রতি] আহ্বান জানানো হারাম।
১/৪৩. চোগলখোরী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা।
১/৪৫. আত্মহত্যা কঠোরভাবে হারাম হওয়ার বর্ণনা, আর যে ব্যক্তি যা দ্বারা আত্মহত্যা করিবে তার দ্বারা জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেয়া হইবে, মুসলিম ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।
১/৪৬. গনীমতের মাল আত্মসাৎ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা আর মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।
১/৫১. জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ডের কারণে কি মানুষকে পাকড়াও করা হইবে।
১/৫২. ইসলাম তার পূর্বের মন্দ কর্মকাণ্ডকে বিনষ্ট করে, অনুরূপভাবে হিজরাত এবং হাজ্জও।
১/৫৩. কাফিরের ভাল আমালের বিধান যখন সে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে।
১/৫৪. ঈমানের সত্যতা ও বিশুদ্ধতা।
১/৫৬. আল্লাহ তাআলা কারো অন্তরের ঐ কথা ও মনষ্কামনাকে এড়িয়ে যান যা কার্যে পরিণত বা উচ্চারণ করা না হয়।
১/৫৭. বান্দা যখন কোন ভাল চিন্তা করে তার জন্য সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয় আর যখন কোন মন্দ চিন্তা করে তা লিপিবদ্ধ করা হয় না।

১/১. ঈমান কী এবং তার বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা।

৫. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] জনসমক্ষে উপবিষ্ট ছিলেন, এমন সময় তাহাঁর নিকট এক ব্যক্তি এসে জিজ্ঞেস করিলেন ঈমান কী? তিনি বললেনঃ ঈমান হল, আপনি বিশ্বাস রাখবেন আল্লাহ্‌র প্রতি, তাহাঁর ফেরেশতাগণের প্রতি, [কিয়ামাতের দিন] তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের প্রতি এবং তাহাঁর রাসূলগণের প্রতি। আপনি আরো বিশ্বাস রাখবেন পুনরুত্থানের প্রতি। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, ইসলাম কী? তিনি বললেনঃ ইসলাম হল, আপনি আল্লাহ্‌র ইবাদাত করবেন এবং তাহাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করবেন না, সলাত প্রতিষ্ঠা করবেন, ফারয যাকাত আদায় করবেন এবং রমাযান-এর সিয়ামব্রত পালন করবেন। ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিলেন, ইহসান কী? তিনি বললেনঃ আপনি এমনভাবে আল্লাহ্‌র ইবাদাত করবেন যেন আপনি তাঁকে দেখছেন, আর যদি আপনি তাঁকে দেখিতে না পান তবে [মনে করবেন] তিনি আপনাকে দেখছেন। ঐ ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিলেন, কিয়ামাত কবে? তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে যাকে জিজ্ঞেস করা হচ্ছে, তিনি জিজ্ঞেসকারী অপেক্ষা অধিক জ্ঞাত নন। তবে আমি আপনাকে কিয়ামাতের আলামতসমূহ বলে দিচ্ছিঃ বাঁদী যখন তার প্রভুকে প্রসব করিবে এবং উটের নগণ্য রাখালেরা যখন বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করিবে। [কিয়ামাতের বিষয়] সেই পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত কেউ জানে না। অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] এ আয়াতটি শেষ পর্যন্ত তিলাওয়াত করলেনঃ

إِنَّ الله عنده علم الساعة

কিয়ামাতের জ্ঞান কেবল আল্লাহ্‌রই নিকট……। [সূ-রা লুক্বমানঃ ৩৪]

এরপর ঐ ব্যক্তি চলে গেলে তিনি বললেনঃ তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। তারা কিছুই দেখিতে পেল না। তখন তিনি বলিলেন, ইনি জিবরীল [আঃ]। লোকেদেরকে তাদের দ্বীন শেখাতে এসেছিলেন।

[বুখারী পর্ব ২ : /৩৭ হাঃ ৫০, ৪৭৭৭, মুসলিম ১/১ হাঃ ৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩. সলাতের বর্ণনা যা ইসলামের অন্যতম রুকন।

৬. তালহাহ ইবনি উবায়দুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, এক নাজদবাসী আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর নিকট এলো। তার মাথার চুল ছিল এলোমেলো। আমরা তার কথার মৃদু আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম, কিন্তু সে কী বলছিল, আমরা তা বুঝতে পারছিলাম না। এভাবে সে নিকটে এসে ইসলাম সম্পর্কে প্রশ্ন করিতে লাগল। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বললেনঃ দিন-রাতে পাঁচ ওয়াক্ত সলাত। সে বলল, আমার উপর এ ছাড়া আরো সলাত আছে? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল আদায় করিতে পার। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বললেনঃ আর রমাযানের সওম। সে বলল, আমার উপর এ ছাড়া আরো সওম আছে? তিনি বললেনঃ না, তবে নফল আদায় করিতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তার নিকট যাকাতের কথা বলিলেন। সে বলল, আমার ওপর এছাড়া আরো আছে? তিনি বললেনঃ না; তবে নফল হিসেবে দিতে পার। বর্ণনাকারী বলেন, সে ব্যক্তি এই বলে চলে গেলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি এর চেয়ে অধিকও করব না এবং কমও করব না। তখন আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বললেনঃ সে কৃতকার্য হইবে যদি সত্য বলে থাকে।

[বুখারী পর্ব ২ : /৩৪ হাঃ ৪৬, মুসলিম ১/২ হাঃ ১১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫. ঈমানের বর্ণনা যার মাধ্যমে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

৭. আবু আইউব আনসারী হইতে বর্ণিতঃ

আবু আইউব আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি বললোঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাকে এমন একটি আমাল শিক্ষা দিন, যা আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবে। উপস্থিত লোকজন বললঃ তার কী হয়েছে? তার কী হয়েছে? আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বললেনঃ তার একটি বিশেষ প্রয়োজন আছে। এরপর নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি আল্লাহ্‌র ইবাদাত করিবে, তার সঙ্গে কাউকে শারীক করিবে না, সলাত কায়িম করিবে, যাকাত আদায় করিবে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করিবে। একে ছেড়ে দাও। বর্ণনাকারী বলেনঃ তিনি ঐ সময় তার সওয়ারীর উপর ছিলেন।

[বুখারী ৭৮/১০ হাঃ ৫৯৮৩, মুসলিম কিতাবুস সলাত হাঃ ৪৬৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] থেকে বর্ণিত যে, এক বেদুইন নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলল, আমাকে এমন একটি আমলের কথা বলুন যদি আমি তা সম্পাদন করি তবে জান্নাতে প্রবেশ করবো। রাসূল [সাঃআঃ] বললেনঃ আল্লাহর ইবাদাত করিবে আর তার সাথে অপর কোন কিছু শরীক করিবে না। ফারয সালাত আদায় করিবে, ফারয যাকাত প্রদান করিবে, রমাযান মাসে সিয়াম পালন করিবে। সে বলল, যাঁর হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তার শপথ করে বলছি, আমি এর চেয়ে বেশী করবো না। যখন সে ফিরে গেল, নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ যে ব্যক্তি কোন জান্নাতী ব্যক্তিকে দেখিতে পছন্দ করে সে যেন এই ব্যক্তিকে দেখে নেয়।

[বুখারী পর্ব ২৪ : /১ হাঃ ১৩৯৭, মুসলিম ১/৪, হাঃ ১৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬ নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্তিঃ ইসলাম পাঁচটি স্তম্ভের উপর প্রতিষ্ঠিত।

৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ইরশাদ করেন, ইসলামের স্তম্ভ হচ্ছে পাঁচটি। ১. আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং নিশ্চয়ই মুহাম্মদ [সাঃআঃ] আল্লাহর রাসূল-এ কথার সাক্ষ্য প্রদান। ২. সলাত কায়িম করা। ৩. যাকাত আদায় করা। ৪. হাজ্জ সম্পাদন করা এবং ৫. রমাযানের সওমব্রত পালন করা।

[বুখারী পর্ব ২ : /২ হাঃ ৮, মুসলিম ১/৫ হাঃ ১৬, আহমাদ ৬০২২, ৬৩০৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭. আল্লাহ ও তদীয় রসূলের প্রতি ঈমান আনার নির্দেশ, দ্বীনের শারীআত এবং তার প্রতি আহ্বান।

১০. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বর্ণনা করেন, যখন আবদুল কায়েস-এর একটি প্রতিনিধি দল আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর নিকট আগমন করিলেন তখন তিনি বললেনঃ তোমরা কোন্ গোত্রের? কিংবা বলিলেন, কোন্ প্রতিনিধি দলের? তারা বলল, রাবীআহ গোত্রের। তিনি বললেনঃ স্বাগতম সে গোত্র বা সে প্রতিনিধি দলের প্রতি, যারা অপদস্থ ও লজ্জিত না হয়েই আগমন করেছে। তারা বলল, হে আল্লাহর রাসূল! শাহরুল হারাম ব্যতীত অন্য কোন সময় আমরা আপনার নিকট আগমন করিতে পারি না। আমাদের এবং আপনার মধ্যে মুযার গোত্রীয় কাফিরদের বসবাস। তাই আমাদের কিছু স্পষ্ট নির্দেশ দিন, যাতে করে আমরা যাদের পিছনে ছেড়ে এসেছি তাদের অবগত করিতে পারি এবং যাতে করে আমরা জান্নাতে দাখিল হইতে পারি। তারা পানীয় সম্বন্ধেও জিজ্ঞেস করিল। তখন তিনি তাদেরকে চারটি বিষয়ের আদেশ এবং চারটি বিষয় হইতে নিষেধ করিলেন। তাদেরকে এক আল্লাহ্ তে বিশ্বাস স্থাপনের নির্দেশ দিয়ে বললেনঃ এক আল্লাহ্‌র প্রতি কিভাবে বিশ্বাস স্থাপন করা হয় তা কি তোমরা অবগত আছ? তাঁরা বলল, আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি বললেনঃ তা হচ্ছে এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহ্‌র রাসূল এবং সলাত প্রতিষ্ঠা করা, যাকাত আদায় করা, রমাযানের সওমব্রত পালন করা; আর তোমরা গানীমাতের সম্পদ হইতে এক-পঞ্চমাংশ আদায় করিবে। তিনি তাদেরকে চারটি বিষয় হইতে বিরত থাকতে বলিলেন। আর তা হচ্ছেঃ সবুজ কলস, শুকনো কদুর খোল, খেজুর বৃক্ষের গুড়ি হইতে তৈরী বাসন এবং আলকাতরা দ্বারা রাঙানো পাত্র। রাবী বলেন, বর্ণনাকারী [মুযাফ্ফাত-এর স্থলে] কখনও আন্নাক্বীর উল্লেখ করিয়াছেন [দুটি শব্দের অর্থ একইরূপ]। তিনি আরো বলেন, তোমরা এ বিষয়গুলো ভালো করে জেনে নাও এবং অন্যদেরও এগুলো অবগত কর।

[বুখারী পর্ব ২ : /৪০ হাঃ ৫৩, মুসলিম ১/৬ হাঃ ১৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] যখন মুআয [ইবনি জাবাল] [রাদি.]-কে শাসনকর্তা হিসেবে ইয়ামান দেশে পাঠান, তখন বলেছিলেনঃ তুমি আহলে কিতাব লোকদের নিকট যাচ্ছো। সেহেতু প্রথমে তাদের আল্লাহর ইবাদাতের দাওয়াত দিবে। যখন তারা আল্লাহর পরিচয় লাভ করিবে, তখন তাদের তুমি বলবে যে, আল্লাহ দিন-রাতে তাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত সলাত ফারয করে দিয়েছেন। যখন তারা তা আদায় করিতে থাকিবে, তখন তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ তাদের উপর যাকাত ফারয করিয়াছেন, যা তাদের ধন-সম্পদ হইতে গ্রহণ করা হইবে এবং তাদের দরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করে দেয়া হইবে। যখন তারা এর অনুসরণ করিবে তখন তাদের হইতে তা গ্রহণ করিবে এবং লোকের উত্তম মাল গ্রহণ করা হইতে বিরত থাকিবে।

[বুখারী পর্ব ২৪ : /৪১ হাঃ ১৪৫৮, মুসলিম ১/৭, হাঃ ১৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] যখন মুআয [রাদি.]-কে ইয়ামানে পাঠান এবং তাকে বলেন, মাযলূমের ফরিয়াদকে ভয় করিবে। কেননা, তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মাঝে কোন পর্দা থাকে না।

[বুখারী পর্ব ৪৬ : /৯ হাঃ ২৪৪৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮. যে পর্যন্ত লোকেরা “আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহ্‌র রাসূল” না বলবে ততক্ষণ তাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে যাওয়ার নির্দেশ।

১৩. আবু বকর ও উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর ও উমার [রাদি.]-এর হাদীস। আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন ইনতিকাল করিলেন এবং আবু বকর [রাদি.] খিলাফত লাভ করিলেন। আরবদের মধ্য হইতে যারা কাফির হওয়ার হলো তখন উমার [রাদি.] বলিলেন, কেমন করে তুমি মানুষদের সাথে যুদ্ধ করিবে? অথচ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, মানুষ

لا إِلهَ إِلاَّ اللهُ

লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলার আগ পর্যন্ত তাদের সাথে যুদ্ধ করার নির্দেশিত হয়েছি। যে ব্যক্তি এ কথা বলবে সে তার নিজের জান এবং মালকে রক্ষা করিল। কিন্তু ইসলামের অধিকারে [অর্থাৎ ইসলাম যদি তার জান ও মাল কুরবান করিতে চায় তাহলে এ হুকুম প্রযোজ্য নয়] তাকে হত্যা বা তার মাল কুরবান করিতে পারেন। আবু বকর [রাদি.] বললেনঃ আল্লাহ্‌র শপথ! তাদের বিরুদ্ধে নিশ্চয়ই আমি যুদ্ধ করবো যারা সলাত ও যাকাতের মধ্যে পার্থক্য করিবে, কেননা যাকাত হল সম্পদের উপর আরোপিত হাক্ব। আল্লাহর কসম, যদি তারা একটি মেষ শাবক যাকাত দিতেও অস্বীকৃতি জানায় যা আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর কাছে তারা দিত, তাহলে যাকাত না দেয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে আমি অবশ্যই যুদ্ধ করবো। উমার [রাদি.] বলেনঃ আল্লাহর কসম, আল্লাহ আবু বকর [রাদি.]-এর হৃদয় বিশেষ জ্ঞানালোকে উদ্ভাসিত করিয়াছেন বিধায় তাহাঁর এ দৃঢ়তা, এতে আমি বুঝতে পারলাম তাহাঁর সিদ্ধান্তই যথার্থ।

[বুখারী পর্ব ২৪ : কিতাবুয যাকাত/অধ্যায় ১ হাঃ ১৪০০, মুসলিম ১/৮, হাঃ ২০, আহমাদ ২৪, ১০৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, আমাকে ততক্ষণ পর্যন্ত লোকেদের সঙ্গে যুদ্ধ করার আদেশ দেয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা

لا إِلهَ إِلاَّ اللهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলে আর যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু বলবে সে তার জান ও মাল আমার হাত থেকে বাঁচিয়ে নিল। অবশ্য ইসলামের কর্তব্যাদি আলাদা, আর তার হিসাব আল্লাহর উপর ন্যস্ত।

[বুখারী পর্ব ৫৬ : /১০২ হাঃ ২৯৪৬, মুসলিম ১/৮ হাঃ ২১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি লোকেদের সাথে যুদ্ধ চালিয়ে যাবার জন্য নির্দেশিত হয়েছি, যতক্ষণ না তারা সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই ও মুহাম্মদ [সাঃআঃ] আল্লাহ্‌র রাসূল, আর সলাত প্রতিষ্ঠা করে ও যাকাত আদায় করে। তারা যদি এগুলো করে, তবে আমার পক্ষ হইতে তাদের জান ও মালের ব্যাপারে নিরাপত্তা লাভ করলো; অবশ্য ইসলামের বিধান অনুযায়ী যদি কোন কারণ থাকে, তাহলে স্বতন্ত্র কথা। আর তাদের হিসাবের ভার আল্লাহ্‌র ওপর অর্পিত।

[বুখারী পর্ব ৩ : /১৭ হাঃ ২৫, মুসলিম ১/৮ হাঃ ২২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৯. লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলা ঈমানের প্রথম।

১৬. মুসায়্যিব ইবনি হাযন্ হইতে বর্ণিতঃ

মুসায়্যিব ইবনি হাযন্ বলেন, যখন আবু তালেবের মৃত্যু ঘণিয়ে আসে তার নিকট রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসলেন এবং তার নিকট আবু জাহল বিন হিশাম ও আবদুল্লাহ ইবনি আবু উমাইয়াহ ইবনি মুগীরাকে পেলেন। রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আবু তালিবকে বলিলেন, হে চাচা! কালিমা

 لا إِلهَ إِلاّ الله

লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ বল, আমি তোমার জন্য কিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলার নিকট এর সাক্ষ্য দিবো। আবু জাহল ও আব্দূল্লাহ ইবনি আবু উমাইয়াহ বলল, হে আবু তালিব! তুমি আব্দূল মুত্তালিব এর দ্বীন থেকে বিমুখ হইবে? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে ঐ কালিমা বার বার উপস্থাপন করিতে থাকেন এবং তারা দুজন বার বার ঐ কথা পুনরাবৃত্তি করিতে থাকে। এবং আবু তালিবের সর্বশেষ কথা ছিল সে আব্দুল মুত্তালিবের ধর্মের উপরে [মৃত্যু বরণ করিল] এবং সে লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ বলিতে অস্বীকার করিল। রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেন, আমি অবশ্যই তোমার জন্য ক্ষমা চাইতে থাকবো। যতক্ষণ না আমাকে এ থেকে নিষেধ করা হয়। তখন মহান আল্লাহ তাআলা এই আয়াত অবতীর্ণ করেন।

[বুখারী পর্ব ২৩ : /৮১ হাঃ ১৩৬0] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১০. যে ব্যক্তি নিঃসন্দেহ ঈমান সহকারে আল্লাহ্‌র সাথে মিলিত হইবে সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে এবং জাহান্নাম তার জন্য হারাম করে দেয়া হইবে।

১৭. উবাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উবাদাহ [রাদি.] সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি সাক্ষ্য দিল-

مَنْ شَهِدَ أَنْ لا إِلهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لا شَريكَ لَهُ، وَأَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

আল্লাহ্ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই, তিনি একক, তাহাঁর কোন শরীক নেই আর মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] তাহাঁর বান্দা ও রাসূল আর নিশ্চয়ই ঈসা [আ.] আল্লাহ্‌র বান্দা ও তাহাঁর রাসূল এবং তাহাঁর সেই কালিমাহ যা তিনি মারইয়ামকে পৌঁছিয়েছেন এবং তাহাঁর নিকট হইতে একটি রূহ মাত্র, আর জান্নাত সত্য ও জাহান্নাম সত্য, আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন, তার আমাল যাই হোক না কেন। ওয়ালীদ [রহ.]….জুনাদাহ [রহ.] হইতে বর্ণিত হাদীসে জুনাদাহ অতিরিক্ত বলেছেন যে, জান্নাতে আট দরজার যেখান দিয়েই সে চাইবে।

[বুখারী পর্ব ৬০ : /৪৭ হাঃ ৩৪৩৫, মুসলিম ১/১০ হাঃ ২৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর পেছনে বসা ছিলাম। আমার ও তাহাঁর মাঝে লাগামের রশির প্রান্তদেশ ভিন্ন অন্য কিছুই ছিল না। তিনি বললেনঃ মুআয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অতঃপর কিছুক্ষণ চললেন। পুনরায় বললেনঃ হে মুআয! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! অতঃপর আর কিছুক্ষণ চললেন। আবার বললেনঃ হে মুআয ইবনি জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রাসূল তিনি বললেনঃ তুমি কি জান, বান্দার উপর আল্লাহ্‌র কী হক? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ বান্দার উপর আল্লাহ্‌র হক এই যে, তারা কেবল তাহাঁরই ইবাদাত করিবে, অন্য কিছুকে তাহাঁর শরীক করিবে না। এরপর কিছু সময় চললেন। অতঃপর বললেনঃ হে মুআয ইবনি জাবাল! আমি বললামঃ হাযির আছি, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তিনি বললেনঃ বান্দারা যখন তাদের দায়িত্ব পালন করে, তখন আল্লাহ্‌র প্রতি বান্দার অধিকার কি, তা জান কি? আমি বললামঃ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলই ভাল জানেন। তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌র উপর বান্দার অধিকার এই যে, তিনি তাদের আযাব দিবেন না।

[বুখারী পর্ব ৭৭ : /১০১ হাঃ ৫৯৬৭, মুসলিম হাঃ ৩০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর উফাইর নামক গাধার পিছনে সওয়ারী ছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে মুআয তুমি কি জান আল্লাহ্‌র তাহাঁর বান্দার উপর কী হক্ব এবং আল্লাহ্‌র উপর বান্দার কী হক্ব। আমি বললাম, আল্লাহ এবং তাহাঁর রাসূলই ভাল জানেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, বান্দার উপর আল্লাহ্‌র হক্ব হচ্ছে সে তাহাঁর ইবাদাত করিবে এবং তাতে কাউকে অংশীদার করিবে না। আর আল্লাহ্‌র উপর বান্দার হক্ব হচ্ছে তাহাঁর সাথে কাউকে অংশীদার না করলে তাকে শাস্তি না দেয়া। মুআয [রাদি.] বলিলেন, আমি কি মানুষদেরকে এর সুসংবাদ দেব না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাদেরকে এই সুসংবাদ দিও না। কেননা তারা এর উপর ভরসা করে বসে থাকিবে [তারা বেশী করে ভাল কাজ করিবে না]।

[বুখারী পর্ব ৫৬ : /৪৬ হাঃ ২৮৫৬, মুসলিম হাঃ ৩০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২০. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিত। একদা মুআয [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ]-এর পিছনে সওয়ারীতে ছিলেন, তখন তিনি তাকে ডাকলেন, হে মুআয ইবনি জাবাল! মুআয [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি আপনার সার্বিক সহযোগিতা ও খিদমাতে হাযির আছি। তিনি ডাকলেন, মুআয! মুআয [রাদি.] উত্তর দিলেন, আমি হাযির, ইয়া রাসূলুল্লাহ্ এবং প্রস্তুত। তিনি আবার ডাকলেন, মুআয। তিনি উত্তর দিলেন, আমি হাযির ইয়া রাসূলাল্লাহ্ এবং প্রস্তুত। এরূপ তিনবার করিলেন। অতঃপর বললেনঃ যে কোন বান্দা আন্তরিকতার সাথে এ সাক্ষ্য দেবে যে, আল্লাহ্ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ [সাঃআঃ] আল্লাহ্‌র রাসূল- তার জন্য আল্লাহ তাআলা জাহান্নাম হারাম করে দিবেন। মুআয [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি মানুষকে এ খবর দেব না, যাতে তারা সুসংবাদ পেতে পারে? তিনি বলিলেন, তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করিবে। মুআয [রাদি.] [জীবন ভর এ হাদীসটি বর্ণনা করেন নি] মৃত্যুর সময় এ হাদীসটি বর্ণনা করে গেছেন যাতে [ইলম গোপন রাখার] গুনাহ্ না হয়।

[বুখারী পর্ব ৩ : /৪৯ হাঃ ১২৮, মুসলিম ১/১০, হাঃ ৩২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১২. ঈমানের শাখা-প্রশাখা।

২১. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, ঈমানের ষাটেরও অধিক শাখা রয়েছে। আর লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা।

[বুখারী পর্ব ২ : /৩ হাঃ ৯, মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৫] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২২. আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত, একদা আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] এক আনসারীর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন। তিনি তাহাঁর ভাইকে তখন [অধিক] লজ্জা ত্যাগের জন্য নসীহাত করছিলেন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ ওকে ছেড়ে দাও। কারণ লজ্জা ঈমানের অঙ্গ।

[বুখারী পর্ব ২ : /১৬ হাঃ ২৪, মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৩. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, লজ্জাশীলতা মঙ্গল ছাড়া আর কিছু আনে না।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৭৭ হাঃ ৬১১৭, মুসলিম ১/১২ হাঃ ৩৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১৪. ইসলামের ফাযীলাতের বর্ণনা এবং তার কোন্ কাজটি সর্বোত্তম।

২৪. আবদুল্লাহ্ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত, এক ব্যক্তি আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিল, ইসলামের কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বলিলেন, তুমি খাদ্য খাওয়াবে ও চেনা অচেনা সকলকে সালাম দিবে।

[বুখারী পর্ব ২ : /৬ হাঃ ১২, মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

২৫. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, তারা [সাহাবীগণ] জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! ইসলামে কোন জিনিসটি উত্তম? তিনি বললেনঃ যার জিহ্বা ও হাত হইতে মুসলিমগণ নিরাপদ থাকে।

[বুখারী পর্ব ২ : /৫ হাঃ ১১, মুসলিম ১/১৪ হাঃ ৪২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১৫. সে সকল গুণাবলী যেগুলো দ্বারা গুণান্বিত হলে কেউ ঈমানের স্বাদ পাবে।

২৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিনটি গুণ যার মধ্যে রয়েছে, সে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করিতে পারেঃ ১। আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূল তার নিকট অন্য সকল কিছু হইতে অধিক প্রিয় হওয়া; ২। কাউকে একমাত্র আল্লাহ্‌র জন্যই ভালবাসা; ৩। কুফরীতে প্রত্যাবর্তনকে আগুনে নিক্ষিপ্ত হওয়ার মত অপছন্দ করা।

[বুখারী পর্ব ২ : /৯ হাঃ ১৬, মুসলিম ১/১৫ হাঃ ৪৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১৬. কোন ব্যক্তির তার পরিবার-পরিজন, সন্তান-সন্ততি, পিতা-মাতা এবং সকল লোকের চেয়ে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-কে বেশী ভালবাসা আবশ্যক হওয়ার বর্ণনা।

২৭. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হইতে পারবে না, যতক্ষণ না আমি তার নিকট তার পিতা, তার সন্তান ও সব মানুষের অপেক্ষা অধিক প্রিয় হই।

[বুখারী পর্ব ২ : /৮ হাঃ ১৫, মুসলিম ১/১৬ হাঃ ৪৪, আহমাদ ১২৮১৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১৭. কোন ব্যক্তি তার নিজের জন্য যা ভালবাসবে সেটা তার ভাইয়ের জন্যও ভালবাসা ঈমানের বৈশিষ্ট্যের অন্যতম তার প্রমাণ।

২৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত, নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হইতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করিবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।

[বুখারী পর্ব ২ : /৭ হাঃ ১৩, মুসলিম ১/১৭ হাঃ ৪৫, আহমাদ ১২৮০১, ১৩৮৭৫] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/১৯. প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান করার ব্যাপারে উৎসাহ প্রদান এবং ভাল কথা বলা অথবা চুপ থাকার আবশ্যকতা আর এগুলোর প্রতিটি ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

২৯. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। এবং যে আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে সে যেন তার মেহমানের সম্মান করে এবং যে আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসস্থাপন করে সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৩১ হাঃ ৬০১৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩০. আবু শুরায়হ আদাবী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু শুরায়হ আদাবী [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন বলেন তখন আমার দুচক্ষু দেখেছে এবং দুকান শুনেছে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার প্রতিবেশিকে সম্মান করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার মেহমানকে তার জায়েযাহ স্বরূপ সম্মান করে। আবু শুরায়হ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]! জায়িযাহ কী? তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, একদিন একরাত। মেহমানদারী তিন দিন, এর পরে [অর্থাৎ তিন দিনের অতিরিক্ত দিনগুলো] তার জন্য সদাকাহ। যে ব্যক্তি আল্লাহ তাআলা ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন উত্তম কথা বলে অথবা চুপ থাকে।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৩১ হাঃ ৬০১৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২১. ঈমানদারগণের একের অপরের উপর মর্যাদা এবং এ ব্যাপারে ইয়েমেনবাসীদের প্রাধান্য।

৩১. উকবাহ ইবনি উমার ও আবু মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উকবাহ ইবনি উমার ও আবু মাসউদ [রাদি.] থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিজ হাত দ্বারা ইয়ামানের দিকে ইশারা করে বলেন, “ঈমান তো ওদিকে ইয়ামানের মধ্যে। কঠোরতা ও মনের কাঠিন্য এমন সব বেদুইনদের মধ্যে যারা তাদের উট নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং ধর্মের প্রতি মনোযোগী হয় না, যেখান থেকে শয়তানের শিং দুটি বেরোয় রাবীআহ্ ও মুযার গোত্রদ্বয়ের মাঝে।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /১৫ হাঃ ৩৩০২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, ইয়ামানবাসীরা তোমাদের কাছে এসেছে। তাঁরা অন্তরের দিক থেকে অত্যন্ত কোমল। আর মনের দিক থেকে অত্যন্ত দয়ার্দ্র। ফিকহ্ হল ইয়ামানীদের আর হিকমাত হল ইয়ামানীদের

[বুখারী পর্ব ৬৪ : /৭৪ হাঃ ৪৩৯০ মুসলিম কিতাবুল ঈমান হাঃ ৫২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কুফরীর মূল পূর্বদিকে, গর্ব এবং অহংকার ঘোড়া এবং উটের মালিকদের মধ্যে এবং বেদুইনদের মধ্যে যারা তাদের উটের পাল নিয়ে ব্যস্ত থাকে, আর শান্তি বকরির পালের মালিকদের মধ্যে।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /১৫ হাঃ ৩৩০১, মুসলিম ১/২১ হাঃ ৫২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪. .আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] বলেন। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, গর্ব ও অহমিকা রয়েছে চিৎকার ও শোরগোলকারী বেদুঈনদের মধ্যে, স্বস্তি ও শান্তি বকরী পালকদের মধ্যে, ঈমান ইয়ামানবাসীদের মধ্যে এবং হিকমাতও ইয়ামানবাসীদের মধ্যে বেশী রয়েছে।

[বুখারী পর্ব ৬১ : /১ হাঃ ৩৪৯৯, মুসলিম ১/২১ হাঃ ৫২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২২ [ক]. কল্যাণ কামনা করা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত।

৩৫. জারীর ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জারীর ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আল্লাহ্‌র রাসূল্ [সাঃআঃ]-এর কাছে তাহাঁর কথা শোনা ও তাহাঁর আনুগত্য করা ও প্রত্যেক মুসলিমের জন্য কল্যাণ কামনার ব্যাপারে বায়আত গ্রহণ করলাম। তিনি আমাকে এ কথা বলিতে শিখিয়ে দিলেন যে, আমার সাধ্যানুযায়ী বিষয়ে।

[বুখারী পর্ব ৯৩ : /৪৩ হাঃ ৭২০৪, মুসলিম ১/২৩ হাঃ ৫৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২২ [খ]. পাপাচারিতার মাধ্যমে ঈমানের হ্রাসপ্রাপ্তি, পাপী থেকে ঈমানের বিচ্ছিন্নতা এবং পাপকার্য সম্পাদনকালে ঈমানের পূর্ণতায় ঘাটতি

৩৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] বলেন যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন ব্যক্তি ঈমান থাকা অবস্থায় যেনা করিতে পারে না এবং কোন ব্যক্তি ঈমান থাকা অবস্থায় মদ্যপান করিতে পারে না। আর কোন ব্যক্তি ঈমান থাকা অবস্থায় চুরি করিতে পারে না।

অন্য বর্ণনায় এটাও বৃদ্ধি করা হয়েছেঃ ছিনতাইকারী এমন মূল্যবান জিনিস যার দিকে লোকজন চোখ উঁচিয়ে তাকিয়ে থাকে- ছিনতাই করার সময়ে মুমিন থাকে না।

[বুখারী পর্ব ৭৪ : /১ হাঃ ৫৫৭৮, মুসলিম ১/২৪ হাঃ ৫৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২৩. মুনাফিকের স্বভাবের বর্ণনা।

৩৭. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত, নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ চারটি স্বভাব যার মধ্যে বিদ্যমান সে হইবে খাঁটি মুনাফিক। যার মধ্যে এর কোন একটি স্বভাব থাকিবে, তা পরিত্যাগ না করা পর্যন্ত তার মধ্যে মুনাফিকের একটি স্বভাব থেকে যায়। ১. আমানত রাখা হলে খিয়ানত করে; ২. কথা বললে মিথ্যা বলে; ৩. অঙ্গীকার করলে ভঙ্গ করে; এবং ৪. বিবাদে লিপ্ত হলে অশ্লীল গালি দেয়।

[বুখারী পর্ব ২ : /২৪ হাঃ ৩৪, মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] থেকে বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, মুনাফিকের চিহ্ন তিনটিঃ ১. যখন কথা বলে মিথ্যা বলে; ২. যখন অঙ্গীকার করে ভঙ্গ করে এবং ৩. আমানত রাখা হলে খিয়ানাত করে।

[বুখারী পর্ব ২ : /২৪ হাঃ ৩৩, মুসলিম ১/২৫ হাঃ ৫৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২৪. যে তার মুসলিম ভাইকে বলল, হে কাফির! তার ঈমানের অবস্থার বর্ণনা।

৩৯. আব্দূল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দূল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] থেকে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন লোক তার কোন ভাইকে হে কাফির বলে সম্বোধন করলে তাদের একজন কুফরীর শিকার হল।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৭৩ হাঃ ৬১০৩, মুসলিম হাঃ] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২৫. ঐ ব্যক্তির ঈমানের অবস্থা যে জ্ঞাতসারে তার পিতাকে বর্জন করে।

৪০. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছে, কোন ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যকে পিতা বলে দাবী করলে সে কুফরী করিল। এবং যে ব্যক্তি অন্য বংশের দিকে নিজেকে সম্বোধন করিল সে যেন তার ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নেয়।

[বুখারী পর্ব ৬১ : /৫ হাঃ ৩৫০৮, মুসলিম ১/২৭ হাঃ ৬১ ] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত।তিনি বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিও না [অস্বীকার করো না]। কেননা, যে ব্যক্তি আপন পিতা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় [পিতাকে অস্বীকার করে] সেটি কুফরী।

[বুখারী পর্ব ৮৫ : /২৯ হাঃ ৬৭৬৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪২. সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস ও আবু বাক্রাহ হইতে বর্ণিতঃ

সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস ও আবু বাকরাহ থেকে বর্ণিত, সাদ বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি জেনে শুনে অন্যকে পিতা হিসেবে দাবী করিল তার জন্য জান্নাত হারাম, এটা আবু বাকারের নিকট বর্ণনা করা হলো। তখন তিনি বলিলেন, আমি আমার দুকান দ্বারা শুনিয়াছি এবং আমার অন্তরের মধ্যে সংরক্ষণ করেছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে।

[বুখারী পর্ব ৮৫ : /২৯ হাঃ ৬৭৬৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২৬. নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্তিঃ কোন মুসলিমকে গালি দেয়া পাপাচার আর তাকে হত্যা করা কুফরী।

৪৩. আব্দুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন মুসলিমকে গালি দেয়া ফাসিকি এবং তাদের সাথে যুদ্ধ করা কুফরী।

[বুখারী পর্ব ২ : /৩৬ হাঃ ৪৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/২৭. আমার পর তোমরা একে অপরের গলা কেটে কুফরীতে ফিরে যেও না।

৪৪. জারীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জারীর [রাদি.] থেকে বর্ণিত যে, বিদায় হাজ্জের সময় নাবী [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তুমি লোকদেরকে চুপ করিয়ে দাও, তারপর তিনি বললেনঃ আমার পরে তোমরা একে অপরের গর্দান কাটাকাটি করে কাফির হয়ে যেও না।

[বুখারী পর্ব ৩ : /৪৩ হাঃ ১২১, [মুসলিম ১/২৯, হাঃ ৬৫, আহমাদ ১৯২৩৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ وَيْلَكُمْ ওয়াইলাকুম [অমঙ্গল] وَيْحَكُمْ ওয়াইহাকুম [ ধ্বংস]! আমার পরে তোমরা আবার কাফির হয়ে যেয়ো না যাতে তোমরা একে অন্যের গর্দান মারবে।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৯৫ হাঃ ৬১৬৬,] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩০. ঐ ব্যক্তি কুফরী করিল যে বলল অমুক নক্ষত্রের কারণে বৃষ্টি হয়েছে।

৪৬. যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রহ.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] রাতে বৃষ্টি হবার পর হুদায়বিয়াতে আমাদের নিয়ে ফাজরের সলাত আদায় করিলেন। সলাত শেষ করে তিনি লোকদের দিকে ফিরে বললেনঃ তোমরা কি জান, তোমাদের পরাক্রমশালী ও মহিমাময় প্রতিপালক কী বলেছেন? তাঁরা বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলই উত্তম জানেন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বললেনঃ [রব] বলেন, আমার বান্দাদের মধ্য কেউ আমার প্রতি মুমিন হয়ে গেল এবং কেউ কাফির। যে বলেছে, আল্লাহ্‌র করুণা ও রহমতের আমরা বৃষ্টি লাভ করেছি, সে হল আমার প্রতি বিশ্বাসী এবং নক্ষত্রের প্রতি অবিশ্বাসী। আর যে বলেছে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হয়েছে, সে আমার প্রতি অবিশ্বাসী হয়েছে এবং নক্ষত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপনকারী হয়েছে।

[বুখারী পর্ব ১০ : /১৫৬ হাঃ ৮৪৬, মুসলিম ১/৩২ হাঃ ৭১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩১. আনসারগণকে ভালবাসা ঈমানের অন্তর্ভুক্ত তার প্রমাণ।

৪৭. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিত, নাবী [সাঃআঃ] ইরশাদ করেনঃ ঈমানের আলামত হল আনসারকে ভালবাসা এবং মুনাফিকীর চিহ্ন হল আনসারের প্রতি শত্রুতা পোষণ করা।

[বুখারী পর্ব ২ : /১০ হাঃ ১৭, মুসলিম ১/৩৩ হাঃ ৭৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৪৮. বারা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

বারা [রাদি.] বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, মুমিনগণ ছাড়া আনসারগণকে আর কেউ ভালবাসে না। এবং মুনাফিক ছাড়া তাদের সাথে আর কেউ শত্রুতা করে না। যারা আনসারগণকে ভালবাসেন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে ভালবাসেন আর যারা তাদের সাথে শত্রুতা করে আল্লাহ তাআলা তাদের সাথে শত্রুতা করেন।

[বুখারী পর্ব ৬৩ : /৪ হাঃ ৩৭৮৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩২. আনুগত্যে অবহেলার মাধ্যমে ঈমানের হ্রাসপ্রাপ্তির বর্ণনা।

৪৯. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিত, একবার ঈদুল আযহা অথবা ঈদুল ফিতরের সলাত আদায়ের জন্য আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ঈদগাহের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি মহিলাদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় বললেনঃ হে মহিলা সমাজ! তোমরা সাদকা করিতে থাক। কারণ আমি দেখেছি জাহান্নামের অধিবাসীদের মধ্যে তোমরাই অধিক। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেনঃ কী কারণে, হে আল্লাহর রাসূল? তিনি বললেনঃ তোমরা অধিক পরিমাণে অভিশাপ দিয়ে থাক আর স্বামীর অকৃতজ্ঞ হও। বুদ্ধি ও দ্বীনের ব্যাপারে ত্রুটি থাকা সত্ত্বেও একজন সদাসতর্ক ব্যক্তির বুদ্ধি হরণে তোমাদের চেয়ে পারদর্শী আমি আর কাউকে দেখিনি। তাঁরা বললেনঃ আমাদের দ্বীন ও বুদ্ধির ত্রুটি কোথায়, ইয়া রাসূলাল্লাহ? তিনি বললেনঃ একজন মহিলার সাক্ষ্য কি একজন পুরুষের সাক্ষ্যের অর্ধেক নয়? তাঁরা উত্তর দিলেন, হাঁ। তখন তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের বুদ্ধির ত্রুটি। আর হায়য অবস্থায় তারা কি সলাত ও সিয়াম হইতে বিরত থাকে না? তাঁরা বলিলেন, হাঁ। তিনি বললেনঃ এ হচ্ছে তাদের দ্বীনের ত্রুটি।

[বুখারী পর্ব ৬ : /৬ হাঃ ৩০৪, মুসলিম ১/৩৪, হাঃ ৭৯, ৮০ আহমাদ ৫৪৪৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩৪. আল্লাহ্‌র প্রতি ঈমান আনয়ন সর্বোত্তম কাজ।

৫০. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন আমলটি উত্তম? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ ও তাহাঁর রসূলের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা। জিজ্ঞেস করা হলো, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করা। প্রশ্ন করা হল, অতঃপর কোনটি? তিনি বললেনঃ মাকবূল হাজ্জ সম্পাদন করা।

[বুখারী পর্ব ২ : /১৮ হাঃ ২৬, মুসলিম ১/৩৬ হাঃ ৮৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫১. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-কে আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ আমল উত্তম? তিনি বলিলেন, আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাহাঁর পথে জিহাদ করা। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ ধরনের ক্রীতদাস মুক্ত করা উত্তম? তিনি বলিলেন, যে ক্রীতদাসের মূল্য অধিক এবং যে ক্রীতদাস তার মনিবের কাছে অধিক আকর্ষণীয়। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ যদি আমি করিতে না পারি? তিনি বলিলেন, তাহলে কাজের লোককে [তার কাজে] সাহায্য করিবে কিংবা বেকারকে কাজ দিবে। আমি [আবারও] বললাম, এও যদি না পারি? তিনি বলিলেন, মানুষকে তোমার অনিষ্টতা হইতে মুক্ত রাখবে। বস্তুতঃ এটা তোমার নিজের জন্য তোমার পক্ষ হইতে সাদাকাহ।

[বুখারী পর্ব ৪৯ : /২ হাঃ ২৫১৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫২. আব্দূল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দূল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করেন সবচেয়ে কোন আমল আল্লাহ তাআলার নিকট প্রিয়, তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, যথাসময়ে সলাত আদায় করা। এরপর জিজ্ঞেস করিলেন, তারপর কোন আমাল, তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, পিতা-মাতার অনুগত হওয়া। অতঃপর জিজ্ঞেস করিলেন, তারপর কোন আমাল, তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহ্ তাআলার পথে জিহাদ করা। তিনি বলেন, এতটুকু তিনি [সাঃআঃ] আমাকে বলেছেন। যদি আমি আরো জিজ্ঞেস করতাম তাহলে তিনি [সাঃআঃ] আমাকে আরো বলিতেন।

[বুখারী পর্ব ৯ : /৫ হাঃ ৫২৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩৫. শিরক সবচেয়ে নিকৃষ্ট গুনাহ এবং তার পরবর্তী বড় গুনাহর বর্ণনা।

৫৩. আবদুল্লাহ [ইবনি মাসুদ] [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ [ইবনি মাসুদ] [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করলাম যে, কোন্ গুনাহ আল্লাহ্‌র কাছে সবচেয়ে বড়? তিনি বলিলেন, আল্লাহ্‌র জন্য অংশীদার দাঁড় করান। অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করিয়াছেন। আমি বললাম, এতো সত্যিই বড় গুনাহ। আমি বললাম, অতঃপর কোন্ গুনাহ? তিনি উত্তর দিলেন, তুমি তোমার সন্তানকে এই ভয়ে হত্যা করিবে যে, সে তোমার সাথে আহার করিবে। আমি আরয করলাম, এরপর কোনটি? তিনি উত্তর দিলেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে তোমার ব্যভিচার করা।

{বুখারী পর্ব ৬৫ : /৩ হাঃ ৪৪৭৭, মুসলিম ১/৩৭, হাঃ ৮৬} মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩৬. কাবীরা গোনাহের বর্ণনা এবং তন্মধ্যে যেটি সবচেয়ে বড়।

৫৪. আবু বাকরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বকর [রাদি.] বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে সবচেয়ে বড় পাপের কথা জানিয়ে দেব না? এ কথাটি তিন বার বলিলেন। সাহাবাগণ বলিলেন, অবশ্যই হে আল্লাহ্‌র রাসূল! রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহ্‌র সাথে শিরক্ করা ও পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া। রসূলুল্লাহ হেলান দেয়া থেকে সোজা হয়ে বসলেন। তারপর তিনি বলিলেন, তোমরা মিথ্যা কথা বলা থেকে সাবধান থাক। এ কথা তিনি [সাঃআঃ] বার বার বলিতে থাকেন। আমরা তখন বলিতে থাকি, আফসোস! তিনি [সাঃআঃ] যদি চুপ করিতেন [তাহলে আমাদের জন্যে মঙ্গল হত]।

[বুখারী পর্ব ৫২ : /১০ হাঃ ২৬৫৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৫. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে কাবীরাহ গুনাহ [বড় পাপ] সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহ তাআলার সাথে শিরক্ করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কোন মানুষকে হত্যা করা এবং মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া।

[বুখারী পর্ব ৫২ : /১০ হাঃ ২৬৫৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৬. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমরা সাতটি ধ্বংসকারী বস্তু থেকে সাবধান থাক। সাহাবাগণ জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সেগুলো কী রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আল্লাহ্‌র সাথে শিরক্ করা, যাদু করা, অন্যায়ভাবে কোন মানুষকে হত্যা করা, সুদ খাওয়া, ইয়াতিমের মাল [অন্যায়ভাবে] ভক্ষণ করা, রণাঙ্গণ থেকে পলায়ন করা, নির্দোষ সতীসাধ্বী মুমিনা মহিলাকে অপবাদ দেয়া।

[বুখারী পর্ব ৫৫ : /২৩ হাঃ ২৭৬৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৭. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কবীরা গুনাহসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো নিজের পিতা-মাতাকে অভিসম্পাত করা। জিজ্ঞেস করা হলোঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আপন পিতা-মাতাকে কোন লোক কিভাবে অভিসম্পাত করিতে পারে? তিনি বললেনঃ সে অন্য কোন লোকের পিতাকে গালি দেয়, তখন সে তার পিতাকে গালি দেয় এবং সে অন্যের মাকে গালি দেয়, অতঃপর সে তার মাকে গালি দেয়।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /অধ্যায় ৪ হাঃ ৫৯৭৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩৮. যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র ইবাদাতে কোন কিছুকে শারীক না করে মৃত্যুবরণ করিল সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

৫৮. আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করা অবস্থায় মারা যায়, সে জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। এবং আমি বললাম, যে আল্লাহ্‌র সঙ্গে কোন কিছুকে শিরক না করা অবস্থায় মারা যায়, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে।

[বুখারী পর্ব ২৩ : / অধ্যায় ১ হাঃ ১২৩৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৫৯. আবু যার [গিফারী] [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [গিফারী] [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একজন আগন্তুক {জিবরীল [আ.]} আমার প্রতিপালকের নিকট হইতে এসে আমাকে খবর দিলেন অথবা তিনি বলেছেন, আমাকে সুসংবাদ দিলেন, আমার উম্মাতের মধ্যে যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র সঙ্গে কাউকে শরীক না করা অবস্থায় মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আমি বললাম, যদিও সে যিনা করে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে? তিনি বললেনঃ যদিও সে যিনা করে থাকে এবং যদিও সে চুরি করে থাকে। [কৃত কর্মের শাস্তি ভোগ অথবা ক্ষমা লাভের পরই সে জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে। কারন কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হলেই মানুষ ইসলাম থেকে বেরিয়ে যায় না। হাদীসটি মুসলিম নামধারী চরমপন্থী দল খারিজীদের আকীদার প্রতিবাদে একটি মযবুত দলীল। ওদের ধারনা, মানুষ কাবীরাহ গুনাহে লিপ্ত হলেই কাফির হয়ে যায় [নাউযুবিল্লাহ]।]

[বুখারী পর্ব ২৩ : /১ হাঃ ১২৩৭, মুসলিম ১/৪০, হাঃ ৯৪, আহমাদ ২১৪৭১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৬০. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলাম। তাহাঁর পরিধানে তখন সাদা পোশাক ছিল। তখন তিনি নিদ্রিত ছিলেন। কিছুক্ষণ পর আবার এলাম, তখন তিনি জেগে গেছেন। তিনি বললেনঃ যে কোন বান্দা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে এবং এ অবস্থার উপরে মারা যাবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। আমি বললামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আমি জিজ্ঞেস করলামঃ সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ, সে যদি যিনা করে, সে যদি চুরি করে তবুও। আমি বললামঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও? তিনি বললেনঃ যদি সে যিনা করে, যদি সে চুরি করে তবুও। আবু যার এর নাসিকা ধূলায় ধূসরিত হলেও। আবু যার [রাদি.] যখনই এ হাদীস বর্ণনা করিতেন তখন আবু যারের নাসিকা ধূলায় ধূসরিত হলেও বাক্যটি বলিতেন। আবু আবদুল্লাহ [ঈমাম বুখারী] বলেনঃ এ কথা প্রযোজ্য হয় মৃত্যুর সময় বা তার পূর্বে যখন সে তাওবাহ করে ও লজ্জিত হয় এবং বলে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, তখন তার পূর্বের গুনাহ মাফ করে দেয়া হয়।

[বুখারী পর্ব ৭৭ : /২৪ হাঃ ৫৮২৭ মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৩৯. লা- ইলা-হা ইল্লাল্লাহ বলেছে এমন কাফিরকে হত্যা করা হারাম।

৬১. মিক্বদাদ বিন আসওয়াদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মিক্বদাদ বিন আসওয়াদ [রাদি.] [তিনি হলেন মিক্বদাদ ইবনি আমর আলকিন্দী] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]! আমাকে বলুন, কোন কাফিরের সঙ্গে আমার যদি [যুদ্ধক্ষেত্রে] সাক্ষাৎ হয় এবং আমি যদি তার সঙ্গে লড়াই করি আর সে যদি তলোয়ারের আঘাতে আমার একখানা হাত কেটে ফেলে এবং অতঃপর আমার থেকে বাঁচার জন্য গাছের আড়ালে গিয়ে বলে “আমি আল্লাহ্‌র উদ্দেশে ইসলাম গ্রহণ করলাম” এ কথা বলার পরেও কি আমি তাকে হত্যা করব? তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তাকে হত্যা করিবে না। এরপর তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সে তো আমার একখানা হাত কাটার পর এ কথা বলছে। আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] পুনরায় বলিলেন, না, তুমি তাকে হত্যা করিবে না। কেননা, তুমি তাকে হত্যা করলে হত্যা করার পূর্বে তোমার যে মর্যাদা ছিল সে সেই মর্যাদা লাভ করিবে, আর ইসলাম গ্রহণের ঘোষণা দেয়ার আগে তার যে মর্যাদা ছিল তুমি সেই স্তরে পৌঁছে যাবে।

[বুখারী পর্ব ৬৪ : /১২ হাঃ ৪০১৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৬২/ উসামাহ বিন যায়িদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উসামাহ বিন যায়িদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে হুরকাহ নামক স্থানে যুদ্ধের জন্য পাঠালেন। আমরা সেখানে প্রভাত করলাম এবং তাদের উপর আক্রমণ করলাম। আমি এবং একজন আনসার তাদের মধ্য থেকে একজনকে আক্রমণ করলাম। যখন তাকে আমরা কাবু করলাম তখন সে

 لا إِلهَ إِلاّ الله

লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলল, আনসার সাহাবী তাকে ছেড়ে দেয়। আমি তাকে আমার বল্লম দ্বারা আঘাত করলাম শেষ পর্যন্ত তাকে মেরে ফেলি। যখন আমরা ফিরে আসলাম আমাদের এ সংবাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট পৌছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, হে উসামাহ! তুমি তাকে লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পর হত্যা করলে! আমি বললাম, সে আত্মরক্ষার জন্য [ لا إِلهَ إِلاّ الله লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ] বলেছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এ কথাটা বার বার বলিতে থাকেন। আমি আশা করলাম [আফসোস করে] যদি আমি এদিনের পূর্বে ইসলাম গ্রহণ না করতাম। [সেটাই আমার জন্য মঙ্গলজনক হত]।

[বুখারী পর্ব ৬৪ : /৪৫ হাঃ ৪২৬৯,] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪০. নাবী [সাঃআঃ]-এর উক্তিঃ যে আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ করিল সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

৬৩. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি উম্মাতে মুহাম্মাদীর উপর অস্ত্র উঠালো, সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

[বুখারী পর্ব ৯২ : /৭ হাঃ ৭০৭০,] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৬৪. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যে ব্যক্তি উম্মাতে মুহাম্মাদীর উপর অস্ত্র উঠালো, সে আমার উম্মাতের অন্তর্ভুক্ত নয়।

[বুখারী পর্ব ৯২ : /৭ হাঃ ৭০৭১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪২. গালে আঘাত করা, কাপড়চোপড় ছেঁড়া এবং জাহিলী যুগের [রীতি-প্রথার প্রতি] আহ্বান জানানো হারাম।

৬৫. আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] ইরশাদ করেছেনঃ যারা শোকে গালে চপেটাঘাত করে, জামার বক্ষ ছিন্ন করে ও জাহিলী যুগের মত চিৎকার দেয়, তারা আমাদের দলভুক্ত নয়।

[বুখারী পর্ব ২৩ : /৩৯ হাঃ ১২৯৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৬৬. আবু বুরদাহ ইবনি আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু বুরদাহ ইবনি আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু মূসা আশআরী [রাদি.] কঠিন রোগে আক্রান্ত হলেন। এমনকি তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। তখন তাহাঁর মাথা তাহাঁর পরিবারভুক্ত কোন এক মহিলার কোলে ছিল। তিনি তাকে কোন জবাব দিতে পারছিলেন না। জ্ঞান ফিরে পেলে তিনি বলিলেন, সে সব লোকের সঙ্গে আমি সম্পর্ক রাখি না যাদের সাথে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] সম্পর্ক ছিন্ন করিয়াছেন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] সে সব নারীর সাথে সম্পর্কচ্ছেদের কথা প্রকাশ করিয়াছেন- যারা চিৎকার করে ক্রন্দন করে, যারা মস্তক মুণ্ডন করে এবং যারা জামা কাপড় ছিন্ন করে।

[বুখারী পর্ব ২৩ : /৩৮ হাঃ ১২৯৬, মুসলিম ১/৪৪, হাঃ ১০৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৩. চোগলখোরী কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা।

৬৭. হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] এর নিকট বলিতে শুনিয়াছি তিনি [সাঃআঃ] বলেন, চোগলখোর ব্যক্তি [যে একে অন্যের পরনিন্দা করে] জান্নাতে প্রবেশ করিবে না।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৫০ হাঃ ৬০৫৬,] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৪. কাপড় ঝুলিয়ে পরা, দান করে খোঁটা দেয়া, ব্যবসায়ে মিথ্যা কসম খাওয়া এবং ঐ তিন ব্যক্তি যাদের সাথে আল্লাহ তাআলা ক্বিয়ামাত দিবসে কথা বলবেন না তাদেরকে পবিত্র করবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি- এ সব বিষয়ে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা।

৬৮. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণীর লোকের প্রতি আল্লাহ তাআলা দৃষ্টিপাত করবেন না এবং তাদের পবিত্র করবেন না। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। এক ব্যক্তি- যার নিকট প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি আছে, অথচ সে মুসাফিরকে তা দিতে অস্বীকার করে। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে ইমামের হাতে একমাত্র দুনিয়ার স্বার্থে বায়আত হয়। যদি ঈমাম তাকে কিছু দুনিয়াবী সুযোগ দেন, তাহলে সে খুশী হয়, আর যদি না দেন তবে সে অসন্তুষ্ট হয়। অন্য একজন সে ব্যক্তি, যে আসরের সলাত আদায়ের পর তার জিনিসপত্র [বিক্রয়ের উদ্দেশে] তুলে ধরে আর বলে যে, আল্লাহর কসম, যিনি ছাড়া অন্য কোন মাবূদ নেই, আমার এই দ্রব্যের মূল্য এত এত দিতে আগ্রহ করা হয়েছে। [কিন্তু আমি বিক্রি করিনি] এতে এক ব্যক্তি তাকে বিশ্বাস করে [তা ক্রয় করে নেয়]। এরপর নাবী [সাঃআঃ] এই আয়াতটি তিলাওয়াত করেনঃ “যারা আল্লাহর সঙ্গে কৃত প্রতিশ্রুতি এবং নিজেদের শপথকে তুচ্ছ মূল্যে বিক্রয় করে” [আলু ইমরান ৭৭]

। [বুখারী পর্ব ৪২ : ৫ / হাঃ ২৩৫৮, মুসলিম ১/৪৪, হাঃ ১0৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৫. আত্মহত্যা কঠোরভাবে হারাম হওয়ার বর্ণনা, আর যে ব্যক্তি যা দ্বারা আত্মহত্যা করিবে তার দ্বারা জাহান্নামে তাকে শাস্তি দেয়া হইবে, মুসলিম ব্যতীত কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।

৬৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি পাহাড়ের উপর থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করে, সে জাহান্নামের আগুনে পুড়বে, চিরদিন সে জাহান্নামের মধ্যে অনুরূপভাবে লাফিয়ে পড়তে থাকিবে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করিবে, তার বিষ জাহান্নামের আগুনের মধ্যে তার হাতে থাকিবে, চিরকাল সে জাহান্নামের মধ্যে তা পান করিতে থাকিবে। যে ব্যক্তি লোহার আঘাতে আত্মহত্যা করিবে, জাহান্নামের আগুনের মধ্যে সে লোহা তার হাতে থাকিবে, চিরকাল সে তা দ্বারা নিজের পেটে আঘাত করিতে থাকিবে।

[বুখারী পর্ব ৭৬ : /৫৬ হাঃ ৫৭৭৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭০. সাবিত ইবনি যাহ্হাক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

সাবিত ইবনি যাহ্হাক [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি গাছের নীচে বাইআত গ্রহণকারীদের অন্যতম সাহাবী ছিলেন। আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য কোন ধর্মের উপর কসম খাবে, সে ঐ ধর্মেরই শামিল হয়ে যাবে, আর মানুষ যে জিনিসের মালিক নয়, এমন জিনিসের নযর আদায় করা তার উপর ওয়াজিব নয়। আর কোন ব্যক্তি দুনিয়াতে যে জিনিস দ্বারা আত্মহত্যা করিবে, ক্বিয়ামাতের দিন সে জিনিস দিয়েই তাকে আযাব দেয়া হইবে। কোন ব্যক্তি কোন মুমিনের উপর অভিশাপ দিলে, তা তাকে হত্যা করারই শামিল হইবে। আর কোন মুমিনকে কাফির বলে অপবাদ দিলে, তাও তাকে হত্যা করারই মত হইবে।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /৪৪ হাঃ ৬০৪৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭১. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে এক যুদ্ধে উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি ইসলামের দাবীদার এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলিলেন, এ ব্যক্তি জাহান্নামী অতঃপর যখন যুদ্ধ শুরু হল, তখন সে লোকটি ভীষণ যুদ্ধ করিল এবং আহত হল। তখন বলা হল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! যে লোকটি সম্পর্কে আপনি বলেছিলেন সে লোকটি জাহান্নামী, আজ সে ভীষণ যুদ্ধ করেছে এবং মারা গেছে। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, সে জাহান্নামে গেছে। রাবী বলেন, একথার উপর কারো কারো অন্তরে এ বিষয়ে সন্দেহ সৃষ্টির উপক্রম হয় এবং তাঁরা এ সম্পর্কিত কথাবার্তায় রয়েছেন, এ সময় খবর এল যে, লোকটি মরে যায়নি বরং মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে। যখন রাত্রি হল, সে আঘাতের কষ্টে ধৈর্যধারণ করিতে পারল না এবং আত্মহত্যা করিল। তখন নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এ সংবাদ পৌঁছানো হল, তিনি বলে উঠলেন, আল্লাহ্ আকবার! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি অবশ্যই আল্লাহ তাআলার বান্দা এবং তাহাঁর রাসুল। অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] বিলাল [রাদি.]-কে আদেশ করিলেন, তখন তিনি লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিলেন যে, মুসলিম ব্যতীত কেউ বেহেশতে প্রবেশ করিবে না। আর আল্লাহ তাআলা এই দীনকে মন্দ লোকের দ্বারা সাহায্য করেন।

[বুখারী পর্ব ৫৬ : /১৮২ হাঃ ৩০৬২, মুসলিম ১/৪৭ হাঃ ১১১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭২. সাহল ইবনি সাদ আস্-সাঈদী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

সাহল ইবনি সাদ আস্-সাঈদী [রাদি.] হইতে বর্ণিত, একবার আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ও মুশরিকদের মধ্যে মুকাবিলা হয় এবং উভয়পক্ষ ভীষণ যুদ্ধে লিপ্ত হয়। অতঃপর আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] নিজ সৈন্যদলের নিকট ফিরে এলেন, মুশরিকরাও নিজ সৈন্যদলে ফিরে গেল। সেই যুদ্ধে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর সঙ্গীদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তি ছিল যে কোন মুশরিককে একাকী দেখলেই তার পশ্চাতে ছুটত এবং তাকে তলোয়ার দিয়ে আক্রমণ করত। বর্ণনাকারী [সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] বলেন, আজ আমাদের কেউ অমুকের মত যুদ্ধ করিতে পারেনি। তা শুনে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, সে তো জাহান্নামের অধিবাসী হইবে। একজন সাহাবী বলে উঠলেন, আমি তার সঙ্গী হব। অতঃপর তিনি তার সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন, সে দাঁড়ালে তিনিও দাঁড়াতেন এবং সে শীঘ্র চললে তিনিও দ্রুত চলতেন। তিনি বলিলেন, এক সময় সে মারাত্মকভাবে আহত হলো এবং সে দ্রুত মৃত্যু কামনা করিতে লাগল। এক সময় তলোয়ারের বাঁট মাটিতে রাখল এবং এর তীক্ষ্ণ দিক বুকে চেপে ধরে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করিল। অনুসরণকারী ব্যক্তিটি আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলেন এবং বলিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, কী ব্যাপার? তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তিটি সম্পর্কে আপনি কিছুক্ষণ আগেই বলেছিলেন যে, সে জাহান্নামী হইবে, তা শুনে সাহাবীগণ বিষয়টিকে অস্বাভাবিক মনে করিলেন। আমি তাদের বললাম যে, আমি ব্যক্তিটির সম্পর্কে খবর তোমাদের জানাব। অতঃপর আমি তার পিছু পিছু বের হলাম। এক সময় লোকটি মারাত্মকভাবে আহত হয় এবং সে শীঘ্র মৃত্যু কামনা করিতে থাকে। অতঃপর তার তলোয়ারের বাঁট মাটিতে রেখে এর তীক্ষ্ণ ধার বুকে চেপে ধরল এবং তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করিল। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তখন বলিলেন, মানুষের বাহ্যিক বিচারে অনেক সময় কোন ব্যক্তি জান্নাতবাসীর মত আমাল করিতে থাকে, আসলে সে জাহান্নামী হয় এবং তেমনি মানুষের বাহ্যিক বিচারে কোন ব্যক্তি জাহান্নামীর মত আমাল করলেও প্রকৃতপক্ষে সে জান্নাতী হয়।

[বুখারী পর্ব ৫৬ : /৭৭ হাঃ ২৮৯৮, মুসলিম ১/৪৭ হাঃ ১১২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৭৩. জুনদুব ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জুনদুব ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]বলেন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের পূর্ব যুগে এক ব্যক্তি আঘাত পেয়েছিল, তাতে কাতর হয়ে পড়েছিল। অতঃপর সে একটি ছুরি হাতে নিল এবং তা দিয়ে সে তার হাতটি কেটে ফেলল। ফলে রক্ত আর বন্ধ হল না। শেষ পর্যন্ত সে মারা গেল। মহান আল্লাহ্ বলিলেন, আমার বান্দাটি নিজেই প্রাণ দেয়ার ব্যাপারে আমার হইতে অগ্রগামী হল। কাজেই, আমি তার উপর জান্নাত হারাম করে দিলাম।

[বুখারী পর্ব ৬০ : /৫০ হাঃ ৩৪৬৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৪৬. গনীমতের মাল আত্মসাৎ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ হওয়ার বর্ণনা আর মুমিন ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে না।

৭৪.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, খাইবার যুদ্ধে আমরা জয়ী হয়েছি কিন্তু গনীমত হিসেবে আমরা সোনা, রূপা কিছুই পাইনি। আমরা গানীমাত হিসেবে পেয়েছিলাম গরু, উট, বিভিন্ন দ্রব্য-সামগ্রী এবং ফলের বাগান। [যুদ্ধ শেষে] আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ওয়াদিউল কুরা পর্যন্ত ফিরে এলাম। তাহাঁর {নাবী [সাঃআঃ]} সঙ্গে ছিল মিদআম নামে তাহাঁর একটি গোলাম। বনী যিবাব [রাদি.]-এর এক ব্যক্তি আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]-কে এটি হাদিয়া দিয়েছিল। এক সময়ে সে আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ]-এর হাওদা নামানোর কাজে ব্যস্ত ছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অজ্ঞাত একটি তীর ছুটে এসে তার গায়ে পড়ল। তাতে গোলামটি মারা গেল। তখন লোকেরা বলিতে লাগল, কী আনন্দদায়ক তার এ শাহাদাত! তখন আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, আচ্ছা? সেই মহান সত্তার কসম! যাঁর হাতে আমার প্রাণ, বণ্টনের আগে খাইবারের গানীমাত থেকে যে চাদরখানা তুলে নিয়েছিল সেটা আগুন হয়ে অবশ্যই তাকে দগ্ধ করিবে। নাবী [সাঃআঃ]-এর এ কথা শুনে আরেক লোক একটি অথবা দুটি জুতার ফিতা নিয়ে এসে বলল, এ জিনিসটি আমি বণ্টনের আগেই নিয়েছিলাম। আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, এ একটি অথবা দুটি ফিতাও হয়ে যেত আগুনের [ফিতা]।


[বুখারী পর্ব ৬৪ : /৩৮ হাঃ ৪২৩৪, মুসলিম ১/৪৯, হাঃ ১১৫} মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস১/৫১. জাহিলী যুগের কর্মকাণ্ডের কারণে কি মানুষকে পাকড়াও করা হইবে।

৭৫. ইবনি মাস্উদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি মাস্উদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা কি জাহিলী যুগের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও হবো? তিনি বললেনঃ যে ব্যক্তি ইসলামী যুগে সৎ কাজ করিবে সে জাহিলী যুগের কৃতকর্মের জন্য পাকড়াও হইবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণের পর অসৎ কাজ করিবে, সে প্রথম ও পরবর্তী [ইসলাম গ্রহণের আগের ও পরের উভয় সময়ের কৃতকর্মের জন্য] পাকড়াও হইবে।

[বুখারী পর্ব ৮৮ : /১ হাঃ ৬৯২১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫২. ইসলাম তার পূর্বের মন্দ কর্মকাণ্ডকে বিনষ্ট করে, অনুরূপভাবে হিজরাত এবং হাজ্জও।

৭৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, মুশরিকদের কিছু লোক অত্যধিক হত্যা করে এবং অত্যধিক ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। অতঃপর তারা মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর কাছে এল এবং বলল, আপনি যা বলেন এবং আপনি যেদিকে আহ্বান করেন, তা অতি উত্তম। আমাদের যদি জানিয়ে দিতেন যে, আমরা যা করেছি, তার কাফফারা কী? এর প্রেক্ষিতে নাযিল হয় এবং যারা আল্লাহ্‌র সঙ্গে অন্য কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ্ যাকে হত্যা করা নিষেধ করিয়াছেন, তাকে না-হক হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না [সুরা আল-ফুরকান]। আরো নাযিল হলঃ “হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অন্যায় করে ফেলেছ, আল্লাহ্‌র অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না।”

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৩৯ হাঃ ৪৮১০, মুসলিম ১/৫৪, হাঃ ১২২} মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৩. কাফিরের ভাল আমালের বিধান যখন সে পরবর্তীতে ইসলাম গ্রহণ করে।

৭৭. হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হাকীম ইবনি হিযাম [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! ঈমান আনয়নের পূর্বে [সওয়াব লাভের উদ্দেশে] আমি সদাকাহ প্রদান, দাসমুক্ত করা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার ন্যায় যত কাজ করেছি সেগুলোতে সওয়াব হইবে কি? তখন নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি যে সব ভালো কাজ করেছ তা নিয়েই ইসলাম গ্রহণ করেছ [তুমি সেসব কাজের সওয়াব পাবে]।

[বুখারী পর্ব ২৪ : /২৪ হাঃ ১৪৩৬, মুসলিম ১/৫৫, হাঃ ১২৩, আহমাদ ১৫৩১৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৪. ঈমানের সত্যতা ও বিশুদ্ধতা।

৭৮. আবদুল্লাহ [ইবনি মাসুদ] [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ [ইবনি মাসুদ] [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন এ আয়াতে কারীমা নাযিল হলঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলমের দ্বারা কলুষিত করেনি- তখন তা মুসলিমদের পক্ষে কঠিন হয়ে গেল। তারা আরয করিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে কোন্ ব্যক্তি আছে যে নিজের উপর যুলম করেনি? তখন নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, এখানে অর্থ তা নয় বরং এখানে যুলমের অর্থ হলো শিরক। তোমরা কি কুরআনে শুননি লুকমান তাহাঁর ছেলেকে নাসীহাত দেয়ার সময় কী বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, “হে আমার বৎস! তুমি আল্লাহ্‌র সঙ্গে শিরক করো না। কেননা, নিশ্চয়ই শিরক এক মহা যুলম [সূরা লুকমানঃ১৩]।

[বুখারী পর্ব ৬ : /১ হাঃ ৩৪২৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৬. আল্লাহ তাআলা কারো অন্তরের ঐ কথা ও মনষ্কামনাকে এড়িয়ে যান যা কার্যে পরিণত বা উচ্চারণ করা না হয়।

৭৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] সূত্রে নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেছেনঃ আল্লাহ আমার উম্মতের অন্তরে জাগ্রত ধারণাসমূহ ক্ষমা করে দিয়েছেন, যতক্ষণ না সে তা কার্যে পরিণত করে বা ব্যক্ত করে।

[বুখারী পর্ব ৬৮ : /১১ হাঃ ৫২৬৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৭. বান্দা যখন কোন ভাল চিন্তা করে তার জন্য সওয়াব লিপিবদ্ধ করা হয় আর যখন কোন মন্দ চিন্তা করে তা লিপিবদ্ধ করা হয় না।

৮০. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] ইরশাদ করেনঃ তোমাদের মধ্যে কেউ যখন উত্তমরূপে ইসলামের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকে তখন সে যে আমালে সালেহ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে সাতশ গুণ পর্যন্ত [সওয়াব] লেখা হয়। আর সে যে পাপ কাজ করে তার প্রত্যেকটির বিনিময়ে তার জন্য ঠিক ততটুকুই পাপ লেখা হয়।

[বুখারী পর্ব ২ : /৩১ হাঃ ৪২, মুসলিম ১/৫৯ হাঃ ১২৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] [হাদীসে কুদসী স্বরূপ] তাহাঁর রব থেকে বর্ণনা করে বলেন যে, আল্লাহ্ তাআলা নেকী ও বদীসমূহ চিহ্নিত করিয়াছেন। এরপর সেগুলোর বর্ণনা দিয়েছেন। সুতরাং যে ব্যক্তি কোন সৎ কাজের ইচ্ছে করিল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করিল না, আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কাছে এর জন্য পূর্ণ নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। আর সে ইচ্ছে করিল ভাল কাজের এবং তা বাস্তবেও পরিণত করিল তবে আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কাছে তার জন্য দশ গুণ থেকে সাতশ গুণ পর্যন্ত এমন কি এর চেয়েও অনেক গুণ অধিক সাওয়াব লিখে দেন। আর যে ব্যক্তি কোন অসৎ কাজের ইচ্ছে করিল, কিন্তু তা বাস্তবে পরিণত করিল না, আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর কাছে তার জন্য পূর্ণ নেকী লিপিবদ্ধ করবেন। আর যদি সে ওই অসৎ কাজের ইচ্ছে করার পর বাস্তবেও তা করে ফেলে, তবে তার জন্য আল্লাহ্ তাআলা মাত্র একটা পাপ লিখে দেন।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৩১ হাঃ ৬৪৯১, মুসলিম ১/৫৯ হাঃ ১৩১ ] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৮. ঈমানের ব্যাপারে সংশয় এবং কেউ যখন এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হইবে তখন সে কী বলবে।

৮২. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের কারো নিকট শয়তান আসতে পারে এবং সে বলিতে পারে, এ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? ঐ বস্তু কে সৃষ্টি করেছে? এরূপ প্রশ্ন করিতে করিতে শেষ পর্যন্ত বলে বসবে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন ব্যাপারটি এ স্তরে পৌঁছে যাবে তখন সে যেন অবশ্যই আল্লাহর নিকট আশ্রয় চায় এবং বিরত হয়ে যায়।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /১১ হাঃ ৩২৭৬, মুসলিম ১/৬০ হাঃ ১৩৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৩. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ লোকেরা পরস্পরে প্রশ্ন করিতে থাকিবে যে, ইনি [আল্লাহ্] সবকিছুরই স্রষ্টা, তবে আল্লাহ্‌কে কে সৃষ্টি করিলেন

? [বুখারী পর্ব ৯৬ : /৩ হাঃ ৭২৯৬, মুসলিম ১/৬0 হাঃ ১৩৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৫৯. যে ব্যক্তি শপথের মাধ্যমে কোন মুসলিম ব্যক্তির অধিকার ছিনিয়ে নিবে তার ব্যাপারে [শাস্তির] হুমকি প্রদান।

৮৪.আবদুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃআবদুল্লাহ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, কোন মুসলিম ব্যক্তির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার উদ্দেশে যে ঠাণ্ডা মাথায় মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ্‌র সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহ তার উপর ক্রুদ্ধ থাকিবেন। এর সত্যতা প্রমাণে আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করেনঃ [আরবী] বর্ণনাকারী বলিলেন, এরপর আশআস ইবনি কাইস [রহ.] সেখানে প্রবেশ করিলেন এবং বলিলেন, আবু আবদুর রহমান [রাদি.] তোমাদের নিকট কোন হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন? আমরা বললাম, এ রকম এ রকম বলেছেন। তখন তিনি বলিলেন, এ আয়াত তো আমাকে উপলক্ষ করেই অবতীর্ণ হয়েছে। আমার চাচাত ভাইয়ের এলাকায় আমার একটি কূপ ছিল। [এ ঘটনা জ্ঞাত হয়ে] নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, হয়তো তুমি প্রমাণ হাজির করিবে নতুবা সে শপথ করিবে। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! সে তো শপথ করে বসবে। অনন্তর আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের সম্পত্তি আত্মসাতের উদ্দেশে ঠাণ্ডা মাথায় অবরোধ করে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহ্‌র সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এমন অবস্থায় যে, আল্লাহই তার উপর রাগান্বিত থাকিবেন।

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৩ হাঃ ৪৫৪৯-৪৫৫০, মুসলিম ১/৬১ হাঃ ১৩৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬০. যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পদ ছিনিয়ে নেয়ার ইচ্ছে করে তার রক্ত বিপদে পতিত তার প্রমাণ, এতে যদি সে নিহত হয় তবে সে জাহান্নামে যাবে। আর যে তার সম্পদ বাঁচাতে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে সে শহীদ।

৮৫. আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে ব্যক্তি তার সম্পদ রক্ষা করিতে গিয়ে নিহত হয়, সে শহীদ।

[বুখারী পর্ব ৪৬ : /৩৩ হাঃ ২৪৮০, মুসলিম ১/৬২ হাঃ ১৪১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬১. প্রজাবৃন্দকে বঞ্চনাকারী শাসকের জন্য জাহান্নামের আগুন নির্ধারিত।

৮৬. উবাইদুল্লাহ্ ইবনি যিয়াদ [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

উবাইদুল্লাহ্ ইবনি যিয়াদ [রহ.] মাকিল ইবনি ইয়াসারের মৃত্যুশয্যায় তাকে দেখিতে গেলেন। তখন মাকিল [রাদি.] তাকে বলিলেন, আমি তোমাকে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করছি যা আমি নাবী [সাঃআঃ] থেকে শুনিয়াছি। আমি নাবী [সাঃআঃ] থেকে শুনিয়াছি যে, কোন বান্দাকে যদি আল্লাহ্ তাআলা জনগণের নেতৃত্ব প্রদান করে, আর সে কল্যাণকামিতার সাথে তাদের তত্ত্বাবধান না করে, তাহলে সে বেহেশতের ঘ্রাণও পাবে না।

[বুখারী পর্ব ৯৩ : /৮ হাঃ ৭১৫০, মুসলিম ১/৬১ হাঃ ১8২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬২. কতিপয় ব্যক্তির অন্তর থেকে আমানাত ও ঈমান উঠিয়ে নেয়া আর অন্তরে ফিতনা গেড়ে যাওয়া।

৮৭. হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের কাছে দুটি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। একটি তো আমি প্রত্যক্ষ করেছি এবং দ্বিতীয়টির জন্য অপেক্ষা করছি। নাবী [সাঃআঃ] আমাদের কাছে বর্ণনা করিয়াছেন যে, আমানত মানুষের অন্তর্মূলে অধোগামী হয়। তারপর তারা কুরআন থেকে জ্ঞান অর্জন করে। এরপর তারা নাবীর সুন্নাহ থেকে জ্ঞান অর্জন করে। আবার বর্ণনা করিয়াছেন আমানত তুলে নেয়া সম্পর্কে, যে ব্যক্তিটি [ঈমানদার] এক পর্যায়ে ঘুমালে পর, তার অন্তর থেকে আমানত তুলে নেয়া হইবে, তখন একটি বিন্দুর মত চিহ্ন অবশিষ্ট থাকিবে। পুনরায় ঘুমাবে। তখন আবার উঠিয়ে নেয়া হইবে। অতঃপর তার চিহ্ন ফোস্কার মত অবশিষ্ট থাকিবে। তোমার পায়ের উপর গড়িয়ে পড়া অঙ্গার সৃষ্ট চিহ্ন, যেটিকে তুমি ফোলা মনে করিবে, অথচ তার মধ্যে আদৌ কিছু নেই। মানুষ কারবার করিবে বটে, কেউ আমানত আদায় করিবে না। তারপর লোকেরা বলাবলি করিবে যে, অমুক বংশে একজন আমানতদার লোক রয়েছে। সে ব্যক্তি সম্পর্কে মন্তব্য করা হইবে যে, সে কতই না বুদ্ধিমান, কতই না বিচক্ষণ, কতই না বাহাদুর? অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও থাকিবে না।

[বর্ণনাকারী বলেন] আমার উপর এমন এক যমানা অতিবাহিত হয়েছে যে, আমি তোমাদের কারো সাথে বেচাকেনা করলাম, সেদিকে ভ্রক্ষেপ করতাম না। কারণ সে মুসলিম হলে ইসলামই আমার হক ফিরিয়ে দেবে। আর সে নাস্রানী হলে তার শাসকই আমার হক ফিরিয়ে দেবে। অথচ বর্তমানে আমি অমুক অমুককে ব্যতীত বেচাকেনা করি না।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৩৫ হাঃ ৬৪৯৭, মুসলিম ১/৬৪ হাঃ ১৪৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৩. ইসলামের সূচনা হয়েছিল অপরিচিত অবস্থায় এবং তা অপরিচিত অবস্থায় ফিয়ে যাবে আর তা দু মাসজিদের মাঝে ফিরে যাবে।

৮৮. হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আমরা উমার [রাদি.]-এর নিকট উপবিষ্ট ছিলাম। তখন তিনি বলিলেন, ফিতনাহ-ফাসাদ সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর বক্তব্য তোমাদের মধ্যে কে মনে রেখেছো? হুযাইফাহ [রাদি.] বলিলেন, যেমনভাবে তিনি বলেছিলেন হুবহু তেমনিই আমি মনে রেখেছি। উমার [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর বাণী মনে রাখার ব্যাপারে তুমি খুব দুঢ়তার পরিচয় দিচ্ছো। আমি বললাম, [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছিলেন] মানুষ নিজের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, পাড়া-প্রতিবেশীদের ব্যাপারে যে ফিতনাহয় পতিত হয়, সলাত, সিয়াম, সাদকাহ, [ন্যায়ের] আদেশ ও [অন্যায়ের] নিষেধ তা দূরীভূত করে দেয়। হযরত উমার [রাদি.] বলিলেন, তা আমার উদ্দেশ্য নয়। বরং আমি সেই ফিতনাহর কথা বলছি, যা সমুদ্র তরঙ্গের ন্যায় ভয়াল হইবে। হুযাইফাহ [রাদি.] বলিলেন, হে আমীরুল মুমিনীন! সে ব্যাপারে আপনার ভয়ের কোনো কারণ নেই। কেননা, আপনার ও সে ফিতনাহর মাঝখানে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমার [রাদি.] জিজ্ঞেস করিলেন, সে দরজাটি ভেঙ্গে ফেলা হইবে, না খুলে দেয়া হইবে? হুযাইফাহ [রহ.] বলিলেন, ভেঙ্গে ফেলা হইবে। উমার [রাদি.] বলিলেন, তাহলে তো আর কোনো দিন তা বন্ধ করা যাবে না।

{হুযাইফাহ [রাদি.]-এর ছাত্র শাকীক [রহ.] বলেন}, আমরা জিজ্ঞেস করলাম, উমার [রাদি.] কি সে দরজাটি সম্বন্ধে জানতেন? হুযাইফাহ [রাদি.] বলিলেন, হাঁ, দিনের পূর্বে রাতের আগমন যেমন সুনিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবে তিনি জানতেন। কেননা, আমি তাহাঁর কাছে এমন একটি হাদীস বর্ণনা করেছি, যা মোটেও ক্রুটিযুক্ত নয়। [দরজাটি কী] এ বিষয়ে হুযাইফাহ [রাদি.]-এর নিকট জানতে আমরা ভয় পাচ্ছিলাম।

তাই আমরা মাসরূক [রাদি.] কে বললাম এবং তিনি তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন। তিনি বলিলেন, দরজাটি উমার [রাদি.] নিজেই।

[বুখারী পর্ব ৯ : /৪ হাঃ ৫২৫, মুসলিম ১/৬৫ হাঃ ১৪৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৮৯.আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত যে, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ঈমান মদিনাহ্ তে ফিরে আসবে যেমন সাপ তার গর্তে ফিরে আসে।

[বুখারী পর্ব ২৯ : /৬ হাঃ ১৮৭৬, মুসলিম ১/৬৫, হাঃ ১৪৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৫. ভীত-সন্ত্রস্ত ব্যক্তি ঈমান লুকাতে পারবে।

৯০. হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

হুযাইফাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, মানুষের মধ্যে যারা ইসলামের কালিমাহ উচ্চারণ করেছে, তাদের নাম লিখে আমাকে দাও। হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, তখন আমরা এক হাজার পাঁচশ লোকের নাম লিখে তাহাঁর নিকট পেশ করি।১ তখন আমরা বলিতে লাগলাম, আমরা এক হাজার পাঁচশত লোক, এক্ষণে আমাদের ভয় কিসের? [রাবী] হুযাইফাহ [রাদি.] বলেন, পরবর্তীকালে আমরা দেখেছি যে, আমরা এমনভাবে ফিতনায় পড়েছি যাতে লোকেরা ভীত-শংকিত অবস্থায় একা একা সলাত আদায় করছে।

[বুখারী পর্ব ৫৬ : /১৮১ হাঃ ৩০৬০, মুসলিম ১/৬৭ হাঃ ১৪৯] ১ ঘটনাটি উহুদ যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে অথবা খন্দক খননের সময়ের। মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৬. দুর্বল ঈমানের অধিকারী ব্যক্তিকে আকৃষ্ট করা এবং নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কাউকে ঈমানদার বলা নিষিদ্ধ।

৯১. সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হইতে বর্ণিতঃ

সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] একদল লোককে কিছু দান করিলেন। সাদ [রাদি.] সেখানে বসেছিলেন। সাদ [রাদি.] বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তাদের এক ব্যক্তিকে কিছু দিলেন না। সে ব্যক্তি আমার নিকট তাদের চেয়ে অধিক পছন্দের ছিল। তাই আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! অমুক ব্যক্তিকে আপনি বাদ দিলেন কেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। অতঃপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি, তা [ব্যক্ত করার] প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম, আপনি অমুককে দান থেকে বিরত রাখলেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ নীরব থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা [ব্যক্ত করার] প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আবার বললাম, আপনি অমুককে দান হইতে বিরত রাখলেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি তো তাকে মুমিন বলেই জানি। তিনি বললেনঃ না মুসলিম? তখন আমি কিছুক্ষণ চুপ থাকলাম। তারপর আমি তার সম্পর্কে যা জানি তা [ব্যক্ত করার] প্রবল ইচ্ছে হলো। তাই আমি আমার বক্তব্য আবার বললাম। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] পুনরায় সেই একই জবাব দিলেন। তারপর বললেনঃ সাদ! আমি কখনো ব্যক্তি বিশেষকে দান করি, অথচ অন্যলোক আমার নিকট তার চেয়ে অধিক প্রিয়। তা এ আশঙ্কায় যে [সে ঈমান থেকে ফিরে যেতে পারে পরিণামে], আল্লাহ্ তাআলা তাকে অধোমুখে জাহান্নামে ফেলে দেবেন।

[বুখারী পর্ব ২ : /১৯ হাঃ ২৭, মুসলিম ১/৬৮ হাঃ ১৫০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৭. দলীল প্রমাণাদি দেখলে ঈমানী শক্তি বৃদ্ধি পায়।

৯২. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, ইবরাহীম [আ.] তাহাঁর অন্তরের প্রশান্তির জন্য মৃতকে কিভাবে জীবিত করা হইবে, এ সম্পর্কে আল্লাহর নিকট জিজ্ঞেস করেছিলেন, [সন্দেহবশত নয়] যদি “সন্দেহ” বলে অভিহিত করা হয় তবে এরূপ “সন্দেহ” এর ব্যাপারে আমরা ইবরাহীম [আ.]-এর চেয়ে অধিক উপযোগী। যখন ইবরাহীম [আ.] বলেছিলেন, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে দেখিয়ে দিন, আপনি কিভাবে মৃতকে জীবিত করেন। আল্লাহ বলিলেন, তুমি কি বিশ্বাস কর না? তিনি বলিলেন, হাঁ। তা সত্ত্বেও যাতে আমার অন্তর প্রশান্তি লাভ করে [আল-বাকারাহঃ ২৬০]। অতঃপর {নাবী [সাঃআঃ] লূত [আ.]-এর ঘটনা উল্লেখ করে বলিলেন।] আল্লাহ লূত [আ.]-এর প্রতি রহম করুন। তিনি একটি সুদৃঢ় খুঁটির আশ্রয় চেয়েছিলেন। আর আমি যদি কারাগারে এত দীর্ঘ সময় থাকতাম যত দীর্ঘ সময় ইউসুফ [আ.] কারাগারে ছিলেন তবে তার [বাদশাহর] ডাকে সাড়া দিতাম। {১}

[বুখারী পর্ব ৬০ : /১১ হাঃ ৩৩৭২, মুসলিম ১/৬৯ হাঃ ১৫১]১ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর এ কথার দ্বারা ইউসুফ [আঃ] এর অসীম ধৈর্যের প্রশংসা করিয়াছেন। মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৮. সকল লোকদের জন্য আমাদের নাবী মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর রিসালাতের প্রতি ঈমান আনার আবশ্যকতা এবং ইসলামের মাধ্যমে অন্য সব ধর্ম রহিতকরণ।

৯৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, প্রত্যেক নাবীকে তাহাঁর যুগের চাহিদা মুতাবিক কিছু মুজিযা দান করা হয়েছে, যা দেখে লোকেরা তাহাঁর প্রতি ঈমান এনেছে। আমাকে যে মুজিযা দেয়া হয়েছে তা হচ্ছে, ওয়াহী- যা আল্লাহ্ তাআলা আমার প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন। সুতরাং আমি আশা করি, ক্বিয়ামাতের দিন তাদের অনুসারীদের তুলনায় আমার অনুসারীদের সংখ্যা অনেক অধিক হইবে।

[বুখারী পর্ব ৬৬ : /১ হাঃ ৪৯৮১, মুসলিম হাঃ ১/৭০, হাঃ ১৫২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৪. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিন ধরনের লোকের জন্য দুটি পুণ্য রয়েছেঃ [১] আহলে কিতাব- যে ব্যক্তি তার নাবীর ওপর ঈমান এনেছে এবং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর উপরও ঈমান এনেছে। [২] যে ক্রীতদাস আল্লাহ্‌র হক আদায় করে এবং তার মালিকের হকও [আদায় করে]। [৩] যার বাঁদী ছিল, যার সাথে সে মিলিত হত। তারপর তাকে সে সুন্দরভাবে আদব-কায়দা শিক্ষা দিয়েছে এবং ভালভাবে দীনী ইলম শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে; তার জন্য দুটি পুণ্য রয়েছে।

[বুখারী পর্ব ৩ : /৩১ হাঃ ৯৭, মুসলিম ১/৭০ হাঃ ১৫৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৬৯. আমাদের নাবী [সাঃআঃ]-এর শারীআত অনুযায়ী মানুষদের ফয়সালা দেয়ার জন্য ঈসা ইবনি মারইয়াম [আ.]-এর অবতরণ।

৯৫. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, শপথ সেই সত্তার, যাঁর হাতে আমার প্রাণ। অচিরেই তোমাদের মাঝে ন্যায় বিচারকরূপে মারইয়ামের পুত্র {ঈসা [আ.]} অবতরণ করবেন। তারপর তিনি ক্রুশ ভেঙ্গে ফেলবেন, শূকর হত্যা করবেন, জিযিয়াহ রহিত করবেন এবং ধন-সম্পদের এরূপ প্রাচুর্য হইবে যে, কেউ তা গ্রহণ করিবে না।

[বুখারী পর্ব ৩৪ : /১০২ হাঃ ২২২২, মুসলিম ১/৭১, হাঃ ১৫৫] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৬. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের অবস্থা কেমন হইবে যখন তোমাদের মধ্যে মারইয়াম পুত্র ঈসা [আ.] অবতরণ করবেন আর তোমাদের ঈমাম তোমাদের মধ্য থেকেই হইবে।

[বুখারী পর্ব ৬০ : /৪৯ হাঃ ৩৪৪৯, মুসলিম ১/১৭ হাঃ ১৫৫] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭০. ঐ সময়ের বর্ণনা যখন ঈমান গ্রহণযোগ্য হইবে না।

৯৭. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, যতক্ষণ না পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয় ঘটবে ততক্ষণ ক্বিয়ামাত হইবে না, যখন সেদিক থেকে সূর্য উদিত হইবে এবং লোকেরা তা দেখবে তখন সবাই ঈমান গ্রহণ করিবে, এটাই সময় যখন কোন ব্যক্তিকে তার ঈমান কল্যাণ দিবে না। অতঃপর তিনি আয়াতটি তিলাওয়াত করিলেন।

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৬ হাঃ ৪৬৩৬, মুসলিম ১/৭২ হাঃ ১৫৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

৯৮. আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি মাসজিদে নাবাবীতে প্রবেশ করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তখন সেখানে বসা ছিলেন। যখন সূর্য অস্ত গেল, তিনি বললেনঃ হে আবু যার! তোমার কি জানা আছে, এই সূর্য কোথায় যাচ্ছে? আবু যার [রাদি.] বলেন, আমি বললাম, আল্লাহ্ ও তাহাঁর রাসূলই সর্বাপেক্ষা অধিক জানেন। রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ এ সূর্য যাচ্ছে এবং অনুমতি চাচ্ছে সিজদাহর জন্য। অতঃপর সাজ্দাহর জন্য তাকে অনুমতি দেয়া হয়। একদিন তাকে হুকুম দেয়া হইবে, যেখান থেকে এসেছ সেখানে ফিরে যাও। তখন সে তার অস্তের স্থল থেকে উদিত হইবে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তিলাওয়াত করিলেন, “এটিই তার অবস্থান স্থল”।

[বুখারী পর্ব ৯৭ : /২২ হাঃ ৭৪২৪, মুসলিম ১/৭২ হাঃ ১৫৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭১. রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর প্রতি ওয়াহী অবতরণের সূচনা।

৯৯. উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

উম্মুল মুমিনীন আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ]-এর নিকট সর্বপ্রথম যে ওয়াহী আসে, তা ছিল নিদ্রাবস্থায় বাস্তব স্বপ্নরূপে। যে স্বপ্নই তিনি দেখিতেন তা একেবারে প্রভাতের আলোর ন্যায় প্রকাশিত হতো। অতঃপর তাহাঁর নিকট নির্জনতা প্রিয় হয়ে পড়ে এবং তিনি হেরার গুহায় নির্জনে অবস্থান করিতেন। আপন পরিবারের নিকট ফিরে এসে কিছু খাদ্যসামগ্রী সঙ্গে নিয়ে যাওয়া এভাবে সেখানে তিনি একাদিক্রমে বেশ কয়েক দিন ইবাদাতে মগ্ন থাকতেন। অতঃপর খাদীজাহ [রাদি.]-এর নিকট ফিরে এসে আবার একই সময়ের জন্য কিছু খাদ্যখাবার নিয়ে যেতেন। এভাবে একদিন হেরা গুহায় অবস্থানকালে তাহাঁর নিকট ওয়াহী আসলো। তাহাঁর নিকট ফেরেশতা এসে বললো, পাঠ করুন। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেনঃ {“আমি বললাম, আমি পড়তে জানি না।} তিনি [সাঃআঃ] বলেনঃ {অতঃপর সে আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললো, পাঠ করুন। আমি বললামঃ আমি তো পড়তে জানি না। সে দ্বিতীয়বার আমাকে জড়িয়ে ধরে এমনভাবে চাপ দিলো যে, আমার খুব কষ্ট হলো। অতঃপর সে আমাকে ছেড়ে দিয়ে বললোঃ পাঠ করুন। আমি উত্তর দিলাম, আমি তো পড়তে জানি না। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেন, অতঃপর তৃতীয়বারে তিনি আমাকে জড়িয়ে ধরে চাপ দিলেন। তারপর ছেড়ে দিয়ে বলিলেন, “পাঠ করুন আপনার রবের নামে, যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন। যিনি সৃষ্টি করিয়াছেন মানুষকে জমাট রক্ত পিণ্ড থেকে, পাঠ করুন, আর আপনার রব অতিশয় দয়ালু।” [সূরা আলাক্বঃ ১-৩]

অতঃপর এ আয়াত নিয়ে আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] প্রত্যাবর্তন করিলেন। তাহাঁর হৃদয় তখন কাঁপছিল। তিনি খাদীজাহ বিনতু খুওয়ায়লিদের নিকট এসে বলিলেন, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর। তাঁরা তাঁকে চাদর দ্বারা আবৃত করিলেন। এমনকি তাহাঁর শংকা দূর হলো। তখন তিনি খাদীজাহ [রাদি.]-এর নিকট ঘটনাবৃত্তান্ত জানিয়ে তাঁকে বলিলেন, আমি আমার নিজেকে নিয়ে শংকা বোধ করছি। খাদীজাহ [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ্‌র কসম, কখনই নয়। আল্লাহ্ আপনাকে কখনও লাঞ্ছিত করবেন না। আপনি তো আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সদাচরণ করেন, অসহায় দুঃস্থদের দায়িত্ব বহন করেন, নিঃস্বকে সহযোগিতা করেন, মেহমানের আপ্যায়ন করেন এবং হক পথের দুর্দশাগ্রস্তকে সাহায্য করেন। অতঃপর তাঁকে নিয়ে খাদীজাহ [রাদি.] তাহাঁর চাচাতো ভাই ওয়ারাকাহ ইবনি নাওফাল ইবনি আবদুল আসাদ ইবনি আবদুল উযযার নিকট গেলেন, যিনি অন্ধকার যুগে ঈসায়ী ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। তিনি ইবরানী ভাষায় লিখতে পারতেন এবং আল্লাহ্‌র তাওফীক অনুযায়ী ইবরানী ভাষায় ইনজীল হইতে ভাষান্তর করিতেন। তিনি ছিলেন অতিবৃদ্ধ এবং অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। খাদীজাহ [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, হে চাচাতো ভাই! আপনার ভাতিজার কথা শুনুন। ওয়ারাকা তাঁকে জিজ্ঞেস করিলেন, ভাতিজা! তুমি কী দেখ? আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] যা দেখেছিলেন, সবই বর্ণনা করিলেন।

তখন ওয়ারাকাহ তাঁকে বলিলেন, এটা সেই বার্তাবাহক যাঁকে আল্লাহ মূসা [আঃ]-র নিকট পাঠিয়েছিলেন। আফসোস! আমি যদি সেদিন থাকতাম। আফসোস! আমি যদি সেদিন জীবিত থাকতাম, যেদিন তোমার কওম তোমাকে বহিস্কার করিবে। আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলিলেন, {তারা কি আমাকে বের করে দেবে?} তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, তুমি যা নিয়ে এসেছো অনুরূপ [ওয়াহী] যিনিই নিয়ে এসেছেন তাহাঁর সঙ্গে বৈরিতাপূর্ণ আচরণ করা হয়েছে। সেদিন যদি আমি থাকি, তবে তোমাকে প্রবলভাবে সাহায্য করব

[বুখারী পর্ব ১ : /৩ হাঃ ৩, মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০০. জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ্ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ্ আনসারী [রাদি.] ওয়াহী স্থগিত হওয়া প্রসঙ্গে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেনঃ একদা আমি হাঁটছি, হঠাৎ আসমান হইতে একটি শব্দ শুনতে পেয়ে আমার দৃষ্টিকে উপরে তুললাম। দেখলাম, সেই ফেরেশতা, যিনি হেরা গুহায় আমার নিকট এসেছিলেন, আসমান ও যমীনের মাঝে একটি আসনে উপবিষ্ট। এতে আমি শংকিত হলাম। তৎক্ষণাৎ আমি ফিরে এসে বললাম, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর, আমাকে চাদর দ্বারা আবৃত কর। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা অবতীর্ণ করিলেন, “হে বস্ত্রাবৃত রাসূল! [১] উঠুন, সতর্ক করুন; আর আপনার রবের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করুন; এবং স্বীয় পরিধেয় বস্ত্র পবিত্র রাখুন; [৫] এবং অপবিত্রতা থেকে দূরে থাকুন।” [সূরাদি. মুদ্দাস্সিরঃ ১-৫] অতঃপর ওয়াহী পুরোদমে ধারাবাহিক অবতীর্ণ হইতে লাগল।

[বুখারী পর্ব ১ : /৩ হাঃ ৪, মুসলিম ১/৩৮ হাঃ ১৬১] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০১. ইয়াহ্ইয়াহ ইবনি কাসীর [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

ইয়াহ্ইয়াহ ইবনি কাসীর [রহ.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আবু সালামাহ ইবনি আবদুর রহমান [রহ.]-কে কুরআন মাজীদের কোন্ আয়াতটি সর্বপ্রথম নাযিল হয়েছে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলিলেন, يَا أَيُّهَا الْمُدَّثِّرُ প্রথম নাযিল হয়েছে। আমি বললাম, লোকেরা তো বলে اقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ প্রথম নাযিল হয়েছে। তখন আবু সালামাহ বলিলেন, আমি এ বিষয়ে জাবির ইবনি আবদুল্লাহ্ [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করেছিলাম এবং তুমি যা বললে আমিও তাকে হুবহু তাই বলেছিলাম। জবাবে জাবির [রাদি.] বলেছিলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] আমাদেরকে যা বলেছিলেন, আমিও অবিকল তাই বলব। তিনি বলেছেন, আমি হেরা গুহায় ইতিকাফ করিতে আরম্ভ করলাম। আমার ইতিকাফ শেষ হলে আমি সেখান থেকে অবতরণ করলাম। তখন আমাকে আওয়াজ দেয়া হল। আমি ডানে তাকালাম; কিন্তু কিছু দেখিতে পেলাম না, বামে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর আমার সামনে তাকালাম, এদিকেও কিছু দেখলাম না। এরপর পেছনে তাকালাম, কিন্তু এদিকেও আমি কিছু দেখলাম না। অবশেষে আমি উপরের দিকে তাকালাম, এবার একটা বস্তু দেখিতে পেলাম। এরপর আমি খাদীজাহ [রাদি.]-এর কাছে এলাম এবং তাকে বললাম, আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত কর এবং আমার শরীরে ঠাণ্ডা পানি ঢাল। তিনি বলেন, অতঃপর তারা আমাকে বস্ত্রাচ্ছাদিত করে এবং ঠাণ্ডা পানি ঢালে। নাবী [সাঃআঃ] বলেন, এরপর নাযিল হলঃ হে বস্ত্রাচ্ছাদিত! উঠ, সতর্কবাণী প্রচার কর এবং তোমার প্রতিপালকের শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা কর ।

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৭৪ হাঃ ৪৯২২, মুসলিম ১/৭৩ হাঃ ১৬০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭২. আসমানের দিকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উর্ধ্বাগমন এবং সলাত ফারজ হওয়া সম্পর্কে।

১০২. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ আবু যার [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ আমি মাক্কায় থাকা অবস্থায় আমার গৃহের ছাদ উন্মুক্ত করা হল। অতঃপর জিবরীল [আ.] অবতীর্ণ হয়ে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করিলেন। আর তা যমযমের পানি দ্বারা ধৌত করিলেন। অতঃপর হিকমাত ও ঈমানে ভর্তি একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বুকের মধ্যে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। অতঃপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আকাশের দিকে নিয়ে চললেন। পরে যখন দুনিয়ার আকাশে আসলাম জিবরীল [আ.] আসমানের রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। আসমানের রক্ষক বললেনঃ কে আপনি? জিবরীল [আ.] বললেনঃ আমি জিবরীল [আ.]। [আকাশের রক্ষক] বললেনঃ আপনার সঙ্গে কেউ রয়েছেন কি? জিবরীল বললেনঃ হাঁ মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] রয়েছেন। অতঃপর রক্ষক বললেনঃ তাকে কি ডাকা হয়েছে? জিবরীল বললেনঃ হাঁ। অতঃপর যখন আমাদের জন্য দুনিয়ার আসমানকে খুলে দেয়া হল আর আমরা দুনিয়ার আসমানে প্রবেশ করলাম তখন দেখি সেখানে এমন এক ব্যক্তি উপবিষ্ট রয়েছেন যার ডান পাশে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি রয়েছে আর বাম পাশে রয়েছে অনেকগুলো মানুষের আকৃতি। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন হেসে উঠছেন আর যখন বাম দিকে তাকাচ্ছেন কাঁদছেন। অতঃপর তিনি বললেনঃ স্বাগতম ওহে সৎ নাবী ও সৎ সন্তান। আমি [রসূলুল্লাহ] জিবরীলকে বললামঃ কে এই ব্যক্তি? তিনি জবাব দিলেনঃ ইনি হচ্ছেন আদম [আ.] । আর তার ডানে বামে রয়েছে তাহাঁর সন্তানদের রূহ। তাদের মধ্যে ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বাম দিকের লোকেরা জাহান্নামী। ফলে তিনি যখন ডান দিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বাম দিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর জিবরীল [আ.] আমাকে নিয়ে দ্বিতীয় আসমানে উঠলেন। অতঃপর তার রক্ষককে বললেনঃ দরজা খোল। তখন এর রক্ষক প্রথম রক্ষকের মতই প্রশ্ন করিলেন। পরে দরজা খুলে দেয়া হল। আনাস [রাদি.] বলেনঃ আবু যার [রাদি.] উল্লেখ করেন যে, তিনি {রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]} আসমানসমূহে আদাম, ইদরীস, মূসা, ঈসা এবং ইব্রাহীম [আলাইহিমুস সালাম] কে পান। কিন্তু আবু যার [রাদি.] তাদের স্থানসমূহ নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। তবে এতটুকু উল্লেখ করিয়াছেন যে, তিনি আদম [আ.]-কে দুনিয়ার আকাশে এবং ইব্রাহীম [আ.]-কে ষষ্ঠ আসমানে পান।

আনাস [রাদি.] বলেনঃ জিবরীল [আ.] যখন নাবী [সাঃআঃ] কে নিয়ে ইদরীস [আ.] এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করেন তখন ইদ্রীস [আ.] বলেনঃ মারহাবা ওহে সৎ ভাই ও পুণ্যবান নাবী। আমি [রসূলুল্লাহ] বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইদ্রীস [আ.]। অতঃপর আমি মূসা [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করা কালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নাবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল বললেনঃ ইনি মূসা [আ.]। অতঃপর আমি ঈসা [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করাকালে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে সৎ নাবী ও পুণ্যবান ভাই। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল [আ.] বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ঈসা [আ.]। অতঃপর আমি ইবরাহীম [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলে তিনি বলেনঃ মারহাবা হে পুণ্যবান নাবী ও নেক সন্তান। আমি বললামঃ ইনি কে? জিবরীল [আ.] বললেনঃ ইনি হচ্ছেন ইব্রাহীম [আ.]।

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অতঃপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হল অতঃপর এমন এক সমতল স্থানে এসে আমি উপনীত হই যেখানে আমি লেখার শব্দ শুনতে পাই। ইবনি হাযম ও আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] বলেনঃ রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অতঃপর আল্লাহ আমার উম্মাতের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করে দেন। অতঃপর তা নিয়ে আমি ফিরে আসি। অবশেষে যখন মূসা [আ.]-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করি তখন তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা আপনার উম্মাতের উপর কি ফারয করিয়াছেন? আমি বললামঃ পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করিয়াছেন। তিনি বললেনঃ আপনি আপনার পালনকর্তার নিকট ফিরে যান, কেননা আপনার উম্মাত তা আদায় করিতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ তাআলা কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা [আ]-এর নিকট পুনরায় গেলাম আর বললামঃ কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মাত এটিও আদায় করিতে পারবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেয়া হলো। আবারও মূসা [আ]-এর নিকট গেলাম, এবারও তিনি বললেনঃ আপনি পুনরায় আপনার প্রতিপালকের নিকট যান। কারণ আপনার উম্মত এটিও আদায় করিতে সক্ষম হইবে না। তখন আমি পুনরায় গেলাম, তখন আল্লাহ বললেনঃ এই পাঁচই [নেকির দিক দিয়ে] পঞ্চাশ [বলে গণ্য হইবে]। আমার কথার কোন রদবদল হয় না। আমি পুনরায় মূসা [আ]-এর নিকট আসলে তিনি আমাকে আবারও বললেনঃ আপনার প্রতিপালকের নিকট পুনরায় যান। আমি বললামঃ পুনরায় আমার প্রতিপালকের নিকট যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। অতঃপর জিবরীল [আ] আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে আবৃত ছিল, যার তাৎপর্য আমি অবগত ছিলাম না।

অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলে আমি দেখিতে পেলাম যে, তাতে রয়েছে মুক্তোমালা আর তার মাটি হচ্ছে কস্তুরী।

[বুখারী পর্ব ৮ : /১ হাঃ ৩৪৯, মুসলিম ১/৭৪, হাঃ ১৬৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৩. মালিক ইবনি সাসাআ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

মালিক ইবনি সাসাআ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ- এ দুঅবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর তিনি দুব্যক্তির মাঝে অপর এক ব্যক্তি অর্থাৎ নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বলিলেন, আমার নিকট সোনার একটি পেয়ালা নিয়ে আসা হল- যা হিকমত ও ঈমানে ভরা ছিল। অতঃপর আমার বুক হইতে পেটের নীচ পর্যন্ত চিরে ফেলা হল। অতঃপর আমার পেট যমযমের পানি দিয়ে ধোয়া হল। অতঃপর তা হিকমত ও ঈমানে পূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা রঙের চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হইতে ছোট আর গাধা হইতে বড় অর্থাৎ বোরাক। অতঃপর তাতে চড়ে আমি জিব্রাঈল [আ.] সহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেয়া হল, মুহাম্মদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা, তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি আদাম [আ.]-এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, পুত্র ও নাবী! তোমার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া [আ.]-এর নিকট আসলাম। তাঁরা উভয়ে বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনার প্রতি মারহাবা। অতঃপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। জিজ্ঞেস করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ইউসুফ [আ.]-এর নিকট গেলাম। তাঁকে আমি সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? জবাবে বলা হল, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ইদ্রীস [আ.]-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হল আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন হল আপনার সঙ্গে আর কে? বলা হল, মুহাম্মদ [সাঃআঃ]। প্রশ্ন করা হল, তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? বলা হল, হ্যাঁ। বলিলেন, তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমরা হারুন [আ.]-এর নিকট গেলাম। আমি তাকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞেস করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। প্রশ্ন করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা আর তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম। অতঃপর আমি মূসা [আ.]-এর নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী আপনাকে মারহাবা। অতঃপর আমি যখন তাহাঁর কাছ দিয়ে গেলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কাঁদছেন কেন? তিনি বলিলেন, হে রব! এ ব্যক্তি যে আমার পরে প্রেরিত, তাহাঁর উম্মাত আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহেশতে যাবে। অতঃপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। প্রশ্ন করা হল, এ কে? বলা হল, আমি জিব্রাঈল। জিজ্ঞেস করা হল, আপনার সঙ্গে কে? বলা হল, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]। বলা হল, তাঁকে আনার জন্য পাঠানো হয়েছে? তাঁকে মারহাবা। তাহাঁর আগমন কতই না উত্তম! অতঃপর আমি ইব্রাহীম [আ.]-এর নিকট গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, হে পুত্র ও নাবী! আপনাকে মারহাবা। অতঃপর বায়তুল মামূরকে আমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিব্রাঈল [আ.]-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, এটি বায়তুল মামূর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফেরেশতা সলাত আদায় করেন। এরা এখান হইতে একবার বাহির হলে দ্বিতীয় বার ফিরে আসেন না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। অতঃপর আমাকে সিদ্রাতুল মুনতাহা দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন হাজারা নামক জায়গার মটকার মত। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার উৎসমূলে চারটি ঝরণা প্রবাহিত। দুটি ভিতরে আর দুটি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিব্রাঈলকে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, ভিতরের দুটি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দুটির একটি হল ফুরাত আর অপরটি হল [মিশরের] নীল নদ। অতঃপর আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা [আ.]-এর নিকট ফিরে এলাম। তিনি বলিলেন, কী করে এলেন? আমি বললাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করা হয়েছে। তিনি বলিলেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বানী ইসরাঈলের রোগ সারানোর যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আপনার উম্মাত এত আদায়ে সমর্থ হইবে না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর আবেদন করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তাহাঁর নিকট আবেদন করলাম। তিনি সলাত চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। সলাত ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেয়া হল। আবার তেমন ঘটলে তিনি সলাত বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার তেমন ঘটল। তিনি সলাতকে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। অতঃপর আমি মূসা [আ.]-এর নিকট আসলাম। তিনি আগের মত বলিলেন, এবার আল্লাহ সলাতকে পাঁচ ওয়াক্ত ফারয করে দিলেন। আমি মূসার নিকট আসলাম। তিনি বলিলেন, কী করে আসলেন? আমি বললাম, আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত ফারয করে দিয়েছেন। এবারও তিনি আগের মত বলিলেন, আমি বললাম, আমি তা মেনে নিয়েছি। তখন আওয়াজ এল, আমি আমার ফারয জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের হইতে হালকা করেও দিয়েছি। আমি প্রতিটি নেকির বদলে দশগুণ সওয়াব দিব।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /৬ হাঃ ৩২০৭, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] বলেন, মিরাজের রাত্রে আমি মূসা [আ.]-কে দেখেছি। তিনি গোধুম বর্ণের পুরুষ ছিলেন, দেহের গঠন ছিল লম্বা। মাথার চুল ছিল কোঁকড়ানো। যেন তিনি শানূআ গোত্রের এক ব্যক্তি । আমি ঈসা [আ.]-কে দেখিতে পাই। তিনি ছিলেন মধ্যম গঠনের লোক। তাহাঁর দেহবর্ণ ছিল সাদা লালে মিশ্রিত। মাথার চুল ছিল অকুঞ্চিত। জাহান্নামের তত্ত্বাবধায়ক মালিক এবং দজ্জালকেও আমি দেখেছি। আল্লাহ তাআলা নাবী[সাঃআঃ]-কে বিশেষ করে যে সকল নিদর্শনসমূহ দেখিয়েছেন তার মধ্যে এগুলোও ছিল। সুতরাং তাহাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়ে তুমি সন্দেহ পোষণ করিবে না।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /৭ হাঃ ৩২৩৯, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬৫] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৫. মুজাহিদ [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

মুজাহিদ [রহ.] হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা ইবনি আব্বাস [রাদি.]-এর নিকটে ছিলাম, লোকেরা দাজ্জালের আলোচনা করে বলল যে, রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, তাহাঁর দু চোখের মাঝে [কপালে] কা-ফির লেখা থাকিবে। রাবী বলেন, ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, এ সম্পর্কে নাবী [সাঃআঃ] হইতে কিছু শুনিনি। অবশ্য তিনি বলেছেনঃ আমি যেন দেখছি মূসা [আ.] নীচু ভূমিতে অবতরণকালে তালবিয়া পাঠ করছিলেন।

[বুখারী পর্ব ২৫ : /৩০ হাঃ ১৫৫৫, মুসলিম ১/৭৩, হাঃ ১৬৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৬. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন, যে রাতে আমার মিরাজ হয়েছিল, সে রাতে আমি মূসা [আ.]-কে দেখিতে পেয়েছি। তিনি হলেন, হালকা পাতলা দেহের অধিকারী ব্যক্তি, তাহাঁর চুল কোঁকড়ানো ছিল না। মনে হচ্ছিল তিনি যেন ইয়ামান দেশীয় শানূআ গোত্রের এক ব্যক্তি, আর আমি ঈসা [আ.]-কে দেখিতে পেয়েছি। তিনি হলেন মধ্যম দেহবিশিষ্ট, গায়ের রং ছিল লাল। যেন তিনি এক্ষুণি গোসলখানা হইতে বের হলেন। আর ইব্রাহীম [আ.]-এর বংশধরদের মধ্যে তাহাঁর সঙ্গে আমার চেহারার মিল সবচেয়ে বেশি। অতঃপর আমার সম্মুখে দুটি পেয়ালা আনা হল। তার একটিতে ছিল দুধ আর অপরটিতে ছিল শরাব। তখন জিব্রাঈল [আ.] বলিলেন, এ দুটির মধ্যে যেটি চান আপনি পান করিতে পারেন। আমি দুধের পেয়ালাটি নিলাম এবং তা পান করলাম। তখন বলা হল, আপনি স্বভাব প্রকৃতিকে বেছে নিয়েছেন। দেখুন, আপনি যদি শরাব নিয়ে নিতেন, তাহলে আপনার উম্মাতগণ পথভ্রষ্ট হয়ে যেত

[বুখারী পর্ব ৬০ : /২৪ হাঃ ৩৩৯৪, মুসলিম ১/৭৪ হাঃ ১৬৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭৩. ঈসা মাসীহ [আ.] ও মাসীহ দাজ্জালের আলোচনা।

১০৭. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা নাবী [সাঃআঃ] লোকজনের সামনে মাসীহ দাজ্জাল সম্পর্কে আলোচনা করিলেন। তিনি বলিলেন, আল্লাহ্ ট্যারা নন। সাবধান! মাসীহ দাজ্জালের ডান চক্ষু ট্যারা। তার চক্ষু যেন ফুলে যাওয়া আঙ্গুরের মত।

[বুখারী পর্ব ৬০ : /৪৮ হাঃ ৩৪৩৯, মুসলিম ১/৭৫ হাঃ ১৬৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮. আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আমি এক রাতে স্বপ্নে নিজেকে কাবার নিকট দেখলাম। হঠাৎ সেখানে বাদামী রং এর এক ব্যক্তিকে দেখলাম। তোমরা যেমন সুন্দর বাদামী রঙের লোক দেখে থাক তার থেকেও অধিক সুন্দর ছিলেন তিনি। তাহাঁর মাথার সোজা চুল তাহাঁর দুস্কন্ধ পর্যন্ত ঝুলছিল। তার মাথা হইতে পানি ফোঁটা ফোঁটা পড়ছিল। তিনি দুজন লোকের কাঁধে হাত রেখে কাবা তওয়াফ করছিলেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে? তারা জবাব দিলেন, ইনি মসীহ ইবনি মারইয়াম। অতঃপর তাহাঁর পেছনে অন্য একজন লোককে দেখলাম। তার মাথায় চুল ছিল বেশ কোঁকড়ানো, ডান চক্ষু টেরা, আকৃতিতে সে আমার দেখা মত ইবনি কাতানের সঙ্গে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ। সে একজন লোকের দুস্কন্ধে ভর দিয়ে কাবার চারদিকে ঘুরছিল। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কে? তারা বলিলেন, এ হচ্ছে মাসীহ দাজ্জাল।

[বুখারী পর্ব ৬০ : /৪৮ হাঃ ৩৪৪০, মুসলিম ১/৭৫ হাঃ ১৬৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, যখন কুরাইশরা আমাকে অস্বীকার করিল, তখন আমি কাবার হিজর অংশে দাঁড়ালাম। আল্লাহ্ তাআলা তখন আমার সামনে বায়তুল মুকাদ্দাসকে তুলে ধরলেন, যার কারণে আমি দেখে দেখে বাইতুল মুকাদ্দাসের নিদর্শনগুলো তাদের কাছে ব্যক্ত করছিলাম।

[বুখারী পর্ব ৬৩ : /৪১ হাঃ ৩৮৮৬, মুসলিম ১/৭৫, হাঃ ১৭০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭৪. সিদরাতুল মুনতাহার আলোচনা।

১১০. আবু ইসহাক শায়বানী [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু ইসহাক শায়বানী [রহ.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি যির ইবনি হুবাইশ [রাদি.]-কে মহান আল্লাহর এ বাণীঃ

فَكَانَ قَابَ قَوْسَيْنِ أَوْ أَدْنَى فَأَوْحَى إِلَى عَبْدِهِ ما أَوْحَى

“অবশেষে তাদের মধ্যে দু ধনুকের দূরত্ব রইল অথবা আরও কম। তখন আল্লাহ স্বীয় বান্দার প্রতি যা ওয়াহী করার ছিল, তা ওয়াহী করিলেন” [আন্-নাজম ৯-১০]। এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বলিলেন, ইবনি মাসুদ [রাদি.] আমাদের নিকট বর্ণনা করিয়াছেন যে, নাবী [সাঃআঃ] জিব্রাঈল [আ.]-কে দেখেছেন। তাহাঁর ছয়শটি ডানা ছিল।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /৭ হাঃ ৩২৩২, মুসলিম ১/৭৬ হাঃ ১৭৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭৫. আল্লাহ তাআলার বাণীর অর্থঃ অবশ্যই তিনি {মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]} তাকে {জিবরীল [আ.]-কে} আরেকবার নাযিল অবস্থায় দেখেছেন আর নাবী [সাঃআঃ] কি মিরাজের রজনীতে তার পালনকর্তাকে দেখেছেন।

১১১. মাসরূক [রহ.] হইতে বর্ণিতঃ

মাসরূক [রহ.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আয়িশাহ [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, আম্মা! মুহাম্মদ [সাঃআঃ] কি তাহাঁর রবকে দেখেছিলেন? তিনি বলিলেন, তোমার কথায় আমার গায়ের পশম কাঁটা দিয়ে খাড়া হয়ে গেছে। তিনটি কথা সম্পর্কে তুমি কি অবগত নও? যে তোমাকে এ তিনটি কথা বলবে সে মিথ্যা বলবে। যদি কেউ তোমাকে বলে যে, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] তাহাঁর প্রতিপালককে দেখেছেন, তাহলে সে মিথ্যাবাদী। অতঃপর তিনি পাঠ করিলেন, তিনি দৃষ্টির অধিগম্য নহেন কিন্তু দৃষ্টিশক্তি তাহাঁর অধিগত; এবং তিনিই সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক পরিজ্ঞাত” “মানুষের এমন মর্যাদা নেই যে, আল্লাহ্ তাহাঁর সাথে কথা বলবেন, ওয়াহীর মাধ্যম ছাড়া অথবা পর্দার অন্তরাল ব্যতিরেকে”। আর যে ব্যক্তি তোমাকে বলবে যে, আগামীকাল কী হইবে সে তা জানে, তাহলে সে মিথ্যাবাদী। অতঃপর তিনি তিলাওয়াত করিলেন, “কেউ জানে না আগামীকাল সে কী অর্জন করিবে।” এবং তোমাকে যে বলবে যে, মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] কোন কথা গোপন রেখেছেন, তাহলে সেও মিথ্যাবাদী। এরপর তিনি পাঠ করিলেন, “হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের কাছ থেকে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা প্রচার কর। হ্যাঁ, তবে রাসূল জিবরীল [আ.]-কে তাহাঁর নিজস্ব আকৃতিতে দুবার দেখেছেন।

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৫৩ হাঃ ৪৮৫৫, মুসলিম ১/৭৭ হাঃ] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১২. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যে ব্যক্তি মনে করিবে যে, মুহাম্মদ [সাঃআঃ] তাহাঁর রবকে দেখেছেন, সে ব্যক্তি মহা ভুল করিবে। বরং তিনি জিব্রাঈল [আ.]-কে তাহাঁর আসল আকার ও চেহারায় দেখেছেন। তিনি আকাশের দিকচক্রবাল জুড়ে অবস্থান করছিলেন।

[বুখারী পর্ব ৫৯ : /৭ হাঃ ৩২৩৪, মুসলিম ১/৭৭ হাঃ ১৭৭] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭৮. ক্বিয়ামাত দিবসে মুমিনগণ তাদের প্রতিপালক সুবহানাহু ওয়া তাআলাকে দেখবেন তার প্রমাণ।

১১৩. আবদুল্লাহ ইবনি কায়স [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি কায়স [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল [সাঃআঃ] বলেছেন, [জান্নাতের মধ্যে] দুটি উদ্যান থাকিবে। এ দুটির সকল পাত্র এবং এর অভ্যন্তরের সকল বস্তু রৌপ্য নির্মিত হইবে এবং [জান্নাতে] আরো দুটি উদ্যান থাকিবে। এ দুটির সকল পাত্র এবং অভ্যন্তরীণ সমুদয় বস্তু সোনার তৈরী হইবে। জান্নাতি আদন এর মধ্যে জান্নাতী লোকেরা তাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করিবে। এ জান্নাতবাসী এবং তাদের প্রতিপালকের এ দর্শনের মাঝে আল্লাহ্‌র সত্তার ওপর জড়ানো তাহাঁর বড়ত্বের চাদর ব্যতীত আর কোন আড় থাকিবে না।

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /৫৫ হাঃ ৪৮৭৮, মুসলিম ১/৮০ হাঃ ১৮০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৭৯. প্রতিপালককে দেখার পদ্ধতি সম্পর্কিত জ্ঞান।

১১৪. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত যে, সাহাবীগণ নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা কি কিয়ামাতের দিন আমাদের রবকে দেখিতে পাব? তিনি বললেনঃ মেঘমুক্ত পূর্ণিমা রাতের চাঁদকে দেখার ব্যাপারে তোমরা কি সন্দেহ পোষণ কর? তাঁরা বলিলেন, না, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! তিনি বলিলেন, মেঘমুক্ত আকাশে সূর্য দেখার ব্যাপারে কি তোমাদের কোন সন্দেহ আছে? সবাই বলিলেন, না। তখন তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে তোমরাও আল্লাহ্‌কে অনুরূপভাবে দেখিতে পাবে। কিয়ামাতের দিন সকল মানুষকে সমবেত করা হইবে। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, যে যার উপাসনা করিতে সে যেন তার অনুসরণ করে। তাই তাদের কেউ সূর্যের অনুসরণ করিবে, কেউ চন্দ্রের অনুসরণ করিবে, কেউ তাগুতের অনুসরণ করিবে। আর অবশিষ্ট থাকিবে শুধুমাত্র উম্মাহ্, তবে তাদের সাথে মুনাফিকরাও থাকিবে। তাঁদের মাঝে এ সময় আল্লাহ তাআলা শুভাগমন করবেন এবং বলবেনঃ “আমি তোমাদের রব।” তখন তারা বলবে, যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের রবের শুভাগমন না হইবে, ততক্ষণ আমরা এখানেই থাকব। আর তাহাঁর যখন শুভাগমন হইবে তখন আমরা অবশ্যই তাঁকে চিনতে পারব। তখন তাদের মাঝে মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাআলা শুভাগমন করবেন এবং বলবেন, “আমি তোমাদের রব।” তারা বলবে, হাঁ, আপনিই আমাদের রব। আল্লাহ্ তাআলা তাদের ডাকবেন। আর জাহান্নামের উপর একটি সেতুপথ [পুলসিরাত] স্থাপন করা হইবে। রাসূলগণের মধ্যে আমিই সবার পূর্বে আমার উম্মাত নিয়ে এ পথ অতিক্রম করব। সেদিন রাসূলগণ ব্যতীত আর কেউ কথা বলবে না। আর রাসূলগণের কথা হবেঃ [আল্লাহুম্মা সাল্লিম সাল্লিম] ইয়া আল্লাহ্, রক্ষা করুন, রক্ষা করুন। আর জাহান্নামে বাঁকা লোহার বহু শলাকা থাকিবে; সেগুলো হইবে সাদান কাঁটার মতো। তোমরা কি সাদান কাঁটা দেখেছ? তারা বলবে, হাঁ, দেখেছি। তিনি বলবেন, সেগুলো দেখিতে সাদান কাঁটার মতোই। তবে সেগুলো কত বড় হইবে তা একমাত্র আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানে না। সে কাঁটা লোকের আমল অনুযায়ী তাদের তড়িৎ গতিতে ধরবে। তাদের কিছু লোক ধ্বংস হইবে আমলের কারণে। আর কারোর পায়ে যখম হইবে, কিছু লোক কাঁটায় আক্রান্ত হইবে, অতঃপর নাজাত পেয়ে যাবে। জাহান্নামীদের হইতে যাদের প্রতি আল্লাহ্ তাআলা রাহমত করিতে ইচ্ছে করবেন, তাদের ব্যাপারে মালাইকাকে নির্দেশ দেবেন যে, যারা আল্লাহ্‌র ইবাদাত করতো, তাদের যেন জাহান্নাম হইতে বের করে আনা হয়। ফেরেশতাগণ তাদের বের করে আনবেন এবং সাজদাহর চিহ্ন দেখে তাঁরা তাদের চিনতে পারবেন। কেননা, আল্লাহ্ তাআলা জাহান্নামের জন্য সাজদাহর চিহ্নগুলো মিটিয়ে দেয়া হারাম করে দিয়েছেন। ফলে তাদের জাহান্নাম হইতে বের করে আনা হইবে। কাজেই সাজদাহর চিহ্ন ছাড়া আগুন বনী আদমের সব কিছুই গ্রাস করে ফেলবে। অবশেষে, তাদেরকে অঙ্গারে পরিণত অবস্থায় জাহান্নাম হইতে বের করা হইবে। তাদের উপর আবে-হায়াত ঢেলে দেয়া হইবে ফলে তারা স্রোতে বাহিত ফেনার উপর গজিয়ে উঠা উদ্ভিদের মত সঞ্জীবিত হয়ে উঠবে। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা বান্দাদের বিচার কাজ সমাপ্ত করবেন কিন্তু একজন লোক জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে থেকে যাবে। তার মুখমণ্ডল তখনও জাহান্নামের দিকে ফেরানো থাকিবে। জাহান্নামবাসীদের মধ্যে জান্নাতে প্রবেশকারী সেই শেষ ব্যক্তি। সে তখন নিবেদন করিবে, হে আমার রব! জাহান্নাম হইতে আমার চেহারা ফিরিয়ে দিন। এর দূষিত হাওয়া আমায় বিষিয়ে তুলছে, এর লেলিহান শিখা আমাকে যন্ত্রণা দিচ্ছে। তখন আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, তোমার নিবেদন গ্রহণ করা হলে, তুমি এছাড়া আর কিছু চাইবে না ত? সে বলবে, না, আপনার ইয্যতের শপথ! সে তার ইচ্ছামত আল্লাহ্ তাআলাকে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দিবে। কাজেই আল্লাহ তাআলা তার চেহারাকে জাহান্নামের দিক হইতে ফিরিয়ে দিবেন। অতঃপর সে যখন জান্নাতের দিকে মুখ ফিরাবে, তখন সে জান্নাতের অপরূপ সৌন্দর্য দেখিতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ্‌র ইচ্ছে সে চুপ করে থাকিবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আপনি আমাকে জান্নাতের দরজার নিকট পৌঁছে দিন। তখন আল্লাহ তাআলা তাকে বলবেন, তুমি পূর্বে যা চেয়েছিলে, তা ছাড়া আর কিছু চাইবে না বলে তুমি কি অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দাওনি? তখন সে বলবে, হে আমার রব! তোমার সৃষ্টির সবচাইতে হতভাগ্য আমি হইতে চাই না। আল্লাহ্ তাৎক্ষণিক বলবেন, তোমার এটি পূরণ করা হলে তুমি এ ছাড়া কিছু চাইবে না তো? সে বলবে, না, আপনার ইয্যতের কসম! এছাড়া আমি আর কিছুই চাইব না। এ ব্যাপারে সে তার ইচ্ছানুযায়ী অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি দেবে। সে যখন জান্নাতের দরজায় পৌঁছবে তখন জান্নাতের অনাবিল সৌন্দর্য ও তার অভ্যন্তরীণ সুখ শান্তি ও আনন্দঘন পরিবেশ দেখিতে পাবে। যতক্ষণ আল্লাহ্ তাআলা ইচ্ছে করবেন, সে চুপ করে থাকিবে। অতঃপর সে বলবে, হে আমার রব! আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দাও! তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ্ বলবেনঃ হে আদম সন্তান, কী আশ্চর্য! তুমি কত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী! তুমি কি আমার সঙ্গে অঙ্গীকার করনি এবং প্রতিশ্রুতি দাওনি যে, তোমাকে যা দেয়া হয়েছে, তাছাড়া আর কিছু চাইবে না? তখন সে বলবে, হে আমার রব! আপনার সৃষ্টির মধ্যে আমাকে সবচাইতে হতভাগ্য করবেন না। এতে আল্লাহ্ হেসে দেবেন। অতঃপর তাকে জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি দিবেন এবং বলবেন, চাও। সে তখন চাইবে, এমন কি তার চাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুরিয়ে যাবে। তখন পরাক্রমশালী মহান আল্লাহ বলবেনঃ এটা চাও, ওটা চাও। এভাবে তার রব তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে থাকিবেন। অবশেষে যখন তার আকাঙ্ক্ষা শেষ হয়ে যাবে, তখন আল্লাহ্ তাআলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, এ সাথে আরো সমপরিমাণ [তোমাকে দেয়া হল]। আবু সাঈদ খুদ্রী [রাদি.] আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] কে বলিলেন, আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বলেছিলেন যে, আল্লাহ্ তাআলা বলবেনঃ এ সবই তোমার, তার সাথে আরও দশগুণ [তোমাকে দেয়া হল]। আবুহুরাইরা [রাদি.] বলিলেন, আমি আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] হইতে শুধু এ কথাটি স্মরণ রেখেছি যে, এ সবই তোমার এবং এর সাথে সমপরিমাণ। আবু সাঈদ [রাদি.] বলিলেন, আমি তাঁকে বলিতে শুনিয়াছি যে, এসব তোমার এবং এর সাথে আরও দশগুণ।

[বুখারী পর্ব ১০ : /১২৯ হাঃ ৮০৬, মুসলিম ১/৮১, হাঃ ১৮২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১৫. আবু সাঈদ খুদ্রী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদ্রী [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা ক্বিয়ামাতের দিন আমাদের প্রতিপালকের দর্শন লাভ করব কি? তিনি বললেনঃ মেঘমুক্ত আকাশে তোমরা সূর্য দেখিতে কোন বাধাপ্রাপ্ত হও কি? আমরা বললাম, না। তিনি বললেনঃ সেদিন তোমরাও তোমাদের প্রতিপালককে দেখিতে বাধাপ্রাপ্ত হইবে না। এতটুকু ব্যতীত যতটুকু সূর্য দেখার সময় পেয়ে থাক। সেদিন একজন ঘোষণাকারী ঘোষণা করবেন, যারা যে জিনিসের ইবাদাত করিতে, তারা সে জিনিসের কাছে গমন কর। এরপর যারা ক্রুশধারী ছিল, তারা যাবে তাদের ক্রুশের কাছে। মূর্তিপূজারীরা যাবে তাদের মূর্তির সঙ্গে। সকলেই তাদের উপাস্যের সঙ্গে যাবে। অবশিষ্ট থাকিবে একমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদাতকারীরা। নেক্কার ও গুনাহগার সবাই। এবং আহলে কিতাবের কিছু সংখ্যক লোকও থাকিবে। অতঃপর জাহান্নামকে আনা হইবে। সেটি তখন থাকিবে মরীচিকার মত। ইয়াহূদীদেরকে সম্বোধন করে জিজ্ঞেস করা হইবে, তোমরা কিসের ইবাদাত করিতে? তারা উত্তর করিবে, আমরা আল্লাহ্‌র পুত্র উযায়র [আ.]-এর ইবাদাত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হইবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। কারণ আল্লাহ্‌র কোন স্ত্রীও নেই এবং নেই তাহাঁর কোন সন্তান। এখন তোমরা কী চাও? তারা বলবে, আমরা চাই, আমাদেরকে পানি পান করান। তখন তাদেরকে বলা হইবে, তোমরা পানি পান কর। এরপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইতে থাকিবে। তারপর নাসারাদেরকে বলা হইবে, তোমরা কিসের ইবাদাত করিতে? তারা বলে উঠবে, আমরা আল্লাহ্‌র পুত্র মসীহের ইবাদাত করতাম। তখন তাদেরকে বলা হইবে, তোমরা মিথ্যা বলছ। আল্লাহ্‌র কোন স্ত্রীও ছিল না, সন্তানও ছিল না। এখন তোমরা কী চাও? তারা বলবে, আমাদের ইচ্ছে আপনি আমাদেরকে পানি পান করিতে দিন। তাদেরকে উত্তর দেয়া হইবে, তোমরা পান কর। তারপর তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হইতে থাকিবে। পরিশেষে অবশিষ্ট থাকিবে একমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদাতকারীগণ। তাদের নেক্কার ও গুনাহগার সবাই। তাদেরকে লক্ষ্য করে বলা হইবে, কোন্ জিনিস তোমাদেরকে আটকে রেখেছে? অথচ অন্যরা তো চলে গেছে। তারা বলবে, আমরা তো সেদিন তাদের থেকে পৃথক রয়েছি, সেদিন আজকের অপেক্ষা তাদের অধিক প্রয়োজন ছিল। আমরা একজন ঘোষণাকারীর এ ঘোষণাটি দিতে শুনিয়াছি যে, যারা যাদের ইবাদাত করত তারা যেন ওদের সঙ্গে যায়। আমরা প্রতীক্ষা করছি আমাদের প্রতিপালকের জন্য। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ এরপর মহাপরাক্রমশালী আল্লাহ্ তাদের কাছে আগমন করবেন। এবার তিনি সে আকৃতিতে আগমন করবেন না, যেটিতে তাঁকে প্রথমবার ঈমানদারগণ দেখেছিলেন। এসে তিনি ঘোষণা দেবেন : আমি তোমাদের প্রতিপালক, সবাই তখন বলে উঠবে আপনিই আমাদের প্রতিপালক। আর সেদিন নাবীগণ ছাড়া তাহাঁর সঙ্গে কেউ কথা বলিতে পারবে না। আল্লাহ্ তাদেরকে বলবেন, তোমাদের এবং তাহাঁর মাঝখানে পরিচায়ক কোন আলামত আছে কি? তারা বলবেন, পায়ের নলা। তখন পায়ের নলা খুলে দেয়া হইবে। এই দেখে ঈমানদারগণ সবাই সাজদায় পতিত হইবে। বাকি থাকিবে তারা, যারা লোক-দেখানো এবং লোক-শোনানো সাজদাহ্ করেছিল। তবে তারা সাজদাহর মনোবৃত্তি নিয়ে সাজদাহ্ করার জন্য যাবে, কিন্তু তাদের মেরুদণ্ড একটি তক্তার মত শক্ত হয়ে যাবে। এমন সময় পুল স্থাপন করা হইবে জাহান্নামের উপর। সাহাবীগণ আরয করিলেন, সে পুলটি কি ধরনের হইবে হে আল্লাহ্‌র রাসূল? তিনি বললেনঃ দুর্গম পিচ্ছিল জায়গা। এর ওপর আংটা ও হুক থাকিবে, শক্ত চওড়া উল্টো কাঁটা বিশিষ্ট হইবে, যা নাজদ দেশের সাদান বৃক্ষের কাঁটার মত হইবে। সে পুলের উপর দিয়ে ঈমানদারগণের কেউ অতিক্রম করিবে চোখের পলকের মতো, কেউ বিজলির মতো, কেউ বা বাতাসের মতো, আবার কেউ তীব্রগামী ঘোড়া ও সাওয়ারের মতো। তবে মুক্তিপ্রাপ্তগণ কেউ নিরাপদে চলে আসবেন, আবার কেউ জাহান্নামের আগুনে ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাবে। একবারে শেষে পার হইবে যে ব্যক্তিটি, সে হেঁচড়িয়ে কোন রকমে পার হয়ে আসবে। এখন তোমরা হকের ব্যাপারে আমার অপেক্ষা অধিক কঠোর নও, যতটুকু সেদিন ঈমানদারগণ আল্লাহ্‌র সমীপে হয়ে থাকিবে, যা তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট হয়ে গেছে। যখন ঈমানদারগণ এই দৃশ্যটি অবলোকন করিবে যে, তাদের ভাইদেরকে রেখে একমাত্র তারাই নাজাত পেয়েছে, তখন তারা বলবে, হে আমাদের রব! আমাদের সেসব ভাই কোথায়, যারা আমাদের সঙ্গে সলাত আদায় করত, সওম পালন করত, নেক কাজ করত? তখন আল্লাহ্ তাআলা তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে এক দীনার বরাবর ঈমান পাবে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আন। আল্লাহ্ তাআলা তাদের মুখমণ্ডল জাহান্নামের ওপর হারাম করে দিয়েছেন। এদের কেউ কেউ দুপা ও দুপায়ের নলার অধিক পর্যন্ত জাহান্নামের মধ্যে থাকিবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে, তাদেরকে বের করিবে। তারপর এরা আবার প্রত্যাবর্তন করিবে। আল্লাহ্ আবার তাদেরকে বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অর্ধ দীনার পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা গিয়ে তাদেরকেই বের করে নিয়ে আসবে, যাদেরকে তারা চিনতে পারবে। তারপর আবার প্রত্যাবর্তন করিবে। আল্লাহ্ তাদেরকে আবার বলবেন, তোমরা যাও, যাদের অন্তরে অণু পরিমাণ ঈমান পাবে, তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে। তারা যাদেরকে চিনতে পারে তাদেরকে বের করে নিয়ে আসবে।

বর্ণনাকারী আবু সাঈদ খুদ্রী [রাদি.] বলেন, তোমরা যদি আমাকে বিশ্বাস না কর, তাহলে আল্লাহ্‌র এ বাণীটি পড়ঃ “আল্লাহ্ অণু পরিমাণও যুলম করেন না এবং অণু পরিমাণ পুণ্য কাজ হলেও আল্লাহ্ তাকে দ্বিগুণ করেন”- [সূরাহ আন্-নিসা ৪/৪০]। তারপর নাবী [সাঃআঃ], ফেরেশ্তা ও মুমিনগণ সুপারিশ করিবে, তখন মহান পরাক্রমশালী আল্লাহ্ বলবেন, এখন একমাত্র আমার শাফাআতই অবশিষ্ট রয়েছে। তিনি জাহান্নাম থেকে একমুষ্টি ভরে এমন কতগুলো কওমকে বের করবেন, যারা জ্বলে পুড়ে দগ্ধ হয়ে গিয়েছে। তারপর তাদেরকে বেহেশতের সামনে অবস্থিত হায়াত নামক নহরে ঢালা হইবে। তারা সে নহরের দুপার্শ্বে এমনভাবে উদ্ভূত হইবে, যেমন পাথর এবং গাছের কিনারে বহন করে আনা আবর্জনায় বীজ থেকে তৃণ উদ্ভূত হয়। দেখিতে পাও তন্মধ্যে সূর্যের আলোর অংশের গাছগুলো সাধারণত সবুজ হয়, ছায়ার অংশেরগুলো সাদা হয়। তারা সেখান থেকে মুক্তার দানার মত বের হইবে। তাদের গর্দানে মোহর লাগানো হইবে। জান্নাতে তারা যখন প্রবেশ করিবে, তখন অপরাপর জান্নাতবাসীরা বলবেন, এরা হলেন রহমান কর্তৃক মুক্তিপ্রাপ্ত যাদেরকে আল্লাহ্ তাআলা কোন নেক আমাল কিংবা কল্যাণ কাজ ব্যতীত জান্নাতে দাখিল করিয়াছেন। তখন তাদেরকে ঘোষণা দেয়া হবেঃ তোমরা যা দেখেছ, সবই তো তোমাদের, এর সঙ্গে আরো সমপরিমাণ দেয়া হলো তোমাদেরকে।

[বুখারী পর্ব ৯৭ : /২৪ হাঃ ৭৪৩৯, মুসলিম ১/৮১, হাঃ ১৮৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮০. সুপারিশের আর একত্ববাদীগণের জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভের প্রমাণ।

১১৬. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিত, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ জান্নাতীগণ জান্নাতে এবং জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করিবে। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা [ফেরেশতাদের] বলবেন, যার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান আছে, তাকে জাহান্নাম হইতে বের করে আনো। তারপর তাদের জাহান্নাম হইতে এমন অবস্থায় বের করা হইবে যে, তারা [পুড়ে] কালো হয়ে গেছে। অতঃপর তাদের বৃষ্টিতে বা হায়াতের {বর্ণনাকারী মালিক [রহ.] শব্দ দুটির কোনটি এ সম্পর্কে সন্দেহ প্রকাশ করিয়াছেন} নদীতে নিক্ষেপ করা হইবে। ফলে তারা সতেজ হয়ে উঠবে, যেমন নদীর তীরে ঘাসের বীজ গজিয়ে উঠে। তুমি কি দেখিতে পাও না সেগুলো কেমন হলুদ বর্ণের হয় ও ঘন হয়ে গজায়

? [বুখারী পর্ব ২ : /১৫ হাঃ ২২, মুসলিম ১/৮২ হাঃ ১৮৪] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮১. সর্বশেষে যে জাহান্নাম থেকে বের হইবে।

১১৭. আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সর্বশেষ যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে বের হইবে এবং সর্বশেষ যে ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করিবে তার সম্পর্কে আমি জানি। কোন এক ব্যক্তি অধোবদন অবস্থায় জাহান্নাম থেকে বের হইবে। তখন আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। তখন সে জান্নাতের কাছে এলে তার ধারণা হইবে যে, জান্নাত পরিপূর্ণ হয়ে গেছে এবং সে ফিরে আসবে ও বলবে, হে প্রভু! জান্নাত তো ভরপুর দেখিতে পেলাম। তখন আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, যাও জান্নাতে প্রবেশ কর। কেননা জান্নাত তোমার জন্য পৃথিবীর সমতুল্য এবং তার দশগুণ। অথবা নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ পৃথিবীর দশ গুণ। তখন লোকটি বলবে, প্রভু! তুমি কি আমার সাথে বিদ্রুপ বা হাসি-ঠাট্টা করছ? [রাবী বলেন] আমি তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে এভাবে হাসতে দেখলাম যে তাহাঁর দন্তরাজি প্রকাশিত হয়ে গিয়েছিল এবং বলা হচ্ছিল এটা জান্নাতীদের নিম্নতম মর্যাদা।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৫১ হাঃ ৬৫৭১, মুসলিম ১/৮৩ হাঃ ১৮৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮২. জান্নাতবাসীর সর্বনিম্ন স্তর।

১১৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ্ তাআলা সমস্ত মানুষকে একত্রিত করবেন। তখন তারা বলবে, আমাদের জন্য আমাদের রবের কাছে যদি কেউ শাফাআত করত, যা এ স্থান থেকে আমাদের উদ্ধার করত। তখন তারা সকলেই আদাম [আ.]-এর কাছে এসে বলবে, আপনি ঐ ব্যক্তি যাঁকে আল্লাহ্ তাআলা স্বহস্তে সৃষ্টি করিয়াছেন। আপনার মাঝে নিজে থেকে রূহ্ ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদেরকে হুকুম করিয়াছেন, তাঁরা আপনাকে সাজদাহ করেছে। অতঃপর আপনি আমাদের জন্য আমাদের প্রভুর কাছে শাফাআত করুন। তখন তিনি বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই এবং স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন। এরপর বলবেন, তোমরা নূহ [আ.]-এর কাছে চলে যাও যাকে আল্লাহ্ তাআলা প্রথম রাসূল হিসাবে প্রেরণ করিয়াছেন। তখন তারা তাহাঁর কাছে আসবে। তিনিও স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই। তোমরা ইব্রাহীমের কাছে চলে যাও, যাঁকে আল্লাহ্ তাআলা খলীলরূপে গ্রহণ করিয়াছেন। অতঃপর তারা তাহাঁর কাছে আসবে। তিনিও স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করে বলবেনঃ আমি তোমাদের এ কাজের উপযোগী নই। তোমরা মূসা [আ.]-এর কাছে চলে যাও, যার সঙ্গে আল্লাহ্ তাআলা কথা বলেছেন। তখন তারা তাহাঁর কাছে আসবে। তিনিও বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই। এবং স্বীয় অপরাধের কথা উল্লেখ করবেন। তিনি বলবেনঃ তোমরা ঈসা [আ.]-এর কাছে চলে যাও। তারা তাহাঁর কাছে আসবে। তখন তিনিও বলবেনঃ আমি তোমাদের জন্য এ কাজের উপযোগী নই। তোমরা মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর কাছে চলে যাও। তাহাঁর পূর্বাপর সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেয়া হয়েছে। তখন তারা সকলেই আমার কাছে আসবে। তখন আমি আমার রবের কাছে অনুমতি চাইব। যখনই আমি আল্লাহ্ তাআলাকে দেখিতে পাব তখন সাজদায় পড়ে যাব। আল্লাহ্ তাআলার যতক্ষণ ইচ্ছে আমাকে এ অবস্থায় রাখবেন। এরপর আমাকে বলা হইবে, তোমার মাথা উঠাও। তুমি চাও, তোমাকে দেয়া হইবে। বল, তোমার কথা শ্রবণ করা হইবে। শাফাআত কর, তোমার মাথা উঠাও। সাওয়াল কর; তোমাকে দেয়া হইবে। বল, তোমার কথা শ্রবণ করা হইবে। শাফাআত কর, তোমার শাফাআত কবুল করা হইবে। তখন আমি মাথা উত্তোলন করব এবং আল্লাহ্ তাআলা আমাকে যে প্রশংসার বাণী শিক্ষা দিয়েছেন তার মাধ্যমে তাহাঁর প্রশংসা করব। এরপর আমি সুপারিশ করব, তখন আমার জন্য সীমা নির্ধারণ করে দেয়া হইবে। অতঃপর আমি তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে বেহেশ্তে প্রবেশ করিয়ে দেব। এরপর আমি পূর্বের ন্যায় পুনঃ তৃতীয়বার অথবা চতুর্থবার সাজদায় পড়ে যাব। অবশেষে কুরআনের বাণী মুতাবিক যারা অবধারিত জাহান্নামী তাদের ব্যতীত আর কেউই জাহান্নামে অবশিষ্ট থাকিবে না।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৫১ হাঃ ৬৫৬৫, মুসলিম ১/৮৪ হাঃ ১৯৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১১৯. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত, আমাদের কাছে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন যে, ক্বিয়ামাতের দিন মানুষ সমুদ্রের ঢেউয়ের মত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে পড়বে। তাই তারা আদাম [আ.]-এর কাছে এসে বলবে, আমাদের জন্য আপনার প্রতিপালকের কাছে সুপারিশ করুন। তিনি বলবেনঃ এ কাজের জন্য আমি নই। বরং তোমরা ইব্রাহীম [আ.]-এর কাছে যাও। কেননা, তিনি হলেন আল্লাহ্‌র খলীল। তখন তারা ইব্রাহীম [আ.]-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি এ কাজের জন্য নই। তবে তোমরা মূসা [আ.]-এর কাছে যাও। কারণ তিনি আল্লাহ্‌র সাথে বাক্যালাপ করিয়াছেন। তখন তারা মূসা [আ.]-এর কাছে আসবে, তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং ঈসা [আ.]-এর কাছে যাও। যেহেতু তিনিই আল্লাহ্‌র রূহ ও বাণী। তারা তখন ঈসা [আ.]-এর কাছে আসবে। তিনি বলবেনঃ আমি তো এ কাজের জন্য নই। তোমরা বরং মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর কাছে যাও। এরপর তারা আমার কাছে আসবে। আমি বলব, আমিই এ কাজের জন্য। আমি তখন আমার প্রতিপালকের কাছে অনুমতি চাইব। আমাকে অনুমতি দেয়া হইবে। আমাকে প্রশংসা সম্বলিত বাক্য ইলহাম করা হইবে যা দিয়ে আমি আল্লাহ্‌র প্রশংসা করব, যেগুলো এখন আমার জানা নেই। আমি সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে প্রশংসা করব এবং সাজদায় পড়ে যাব। তখন আমাকে বলা হইবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা ওঠাও। তুমি বল, তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, তা দেয়া হইবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হইবে। তখন আমি বলবো, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত। আমার উম্মাত। বলা হইবে, যাও, যাদের হৃদয়ে যবের দানা পরিমাণ ঈমান আছে, তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে দাও, আমি গিয়ে এমনই করব। অতঃপর আমি ফিরে আসব এবং পুনরায় সেসব প্রশংসা বাক্য দ্বারা আল্লাহ্‌র প্রশংসা করবো এবং সাজদায় পড়ে যাবো। তখন বলা হইবে, ইয়া মুহাম্মাদ! মাথা ওঠাও। তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, দেয়া হইবে। সুপারিশ কর, গ্রহণ করা হইবে। তখনো আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমার উম্মাত। আমার উম্মাত। অতঃপর বলা হইবে, যাও, যাদের এক অণু কিংবা সরিষা পরিমাণ ঈমান আছে তাদেরকে জাহান্নাম থেকে বের কর। আমি গিয়ে তাই করব।

অতঃপর আমি চতুর্থবার ফিরে আসবো এবং সেসব প্রশংসা বাক্য দিয়ে আল্লাহ্‌র প্রশংসা করব এবং সাজদায় পড়ে যাবো। তখন বলা হইবে, হে মুহাম্মাদ! মাথা উঠাও। বল, তোমার কথা শোনা হইবে। চাও, দেয়া হইবে। শাফাআত কর, গ্রহণ করা হইবে। আমি বলব, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে তাদের সম্পর্কে শাফাআত করার অনুমতি দান কর, যারা লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলেছে। তখন আল্লাহ্ বলবেন, আমার ইয্যত, আমার পরাক্রম, আমার বড়ত্ব ও আমার মহত্তের কসম! যারা

لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ

লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্ বলেছে, আমি অবশ্যই তাদের সবাইকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনব।

[বুখারী পর্ব ৯৭ : /৩৬ হাঃ ৭৫১০, মুসলিম ১/৮৪ হাঃ ১৯৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১২০. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে গোশত আনা হল এবং তাঁকে সামনের রান পরিবেশন করা হল। তিনি এটা পছন্দ করিতেন। তিনি তার থেকে কামড় দিয়ে খেলেন। এরপর বলিলেন, আমি হব ক্বিয়ামাতের দিন মানবকুলের সরদার। তোমাদের কি জানা আছে তা কেন? ক্বিয়ামাতের দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকল মানুষ এমন এক ময়দানে সমবেত হইবে, যেখানে একজন আহ্বানকারীর আহ্বান সকলে শুনতে পাবে এবং সকলেই এক সঙ্গে দৃষ্টিগোচর হইবে। সূর্য নিকটে এসে যাবে। মানুষ এমনি কষ্ট-ক্লেশের সম্মুখীন হইবে যা অসহনীয় ও অসহ্যকর হয়ে পড়বে। তখন লোকেরা বলবে, তোমরা কী বিপদের সম্মুখীন হয়েছ, তা কি দেখিতে পাচ্ছ না? তোমরা কি এমন কাউকে খুঁজে বের করিবে না, যিনি তোমাদের রবের কাছে তোমাদের জন্য সুপারিশকারী হইবেন? কেউ কেউ অন্যদের বলবে যে, আদমের কাছে চল। তখন সকলে তার কাছে এসে তাঁকে বলবে, আপনি আবুল বাশার১। আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে স্বীয় হাত দ্বারা সৃষ্টি করিয়াছেন, এবং তাহাঁর রূহ আপনার মধ্যে ফুঁকে দিয়েছেন এবং ফেরেশতাদের নির্দেশ দিলে তাঁরা আপনাকে সিজদাহ করেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কী অবস্থায় পৌঁছেছি। তখন আদম [আ.] বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত হয়েছেন যার পূর্বেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হননি আর পরেও এরূপ রাগান্বিত হইবেন না। তিনি আমাকে একটি বৃক্ষের কাছে যেতে নিষেধ করেছিলেন, কিন্তু আমি অমান্য করেছি, নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, [আমি নিজেই সুপারিশ প্রার্থী] তোমরা অন্যের কাছে যাও, তোমরা নূহ [আ.]-এর কাছে যাও। তখন সকলে নূহ্ [আ.]-এর কাছে এসে বলবে, হে নূহ্ [আ.]! নিশ্চয়ই আপনি পৃথিবীর মানুষের প্রতি প্রথম রাসূল।২ আর আল্লাহ্ তাআলা আপনাকে পরম কৃতজ্ঞ বান্দা হিসেবে অভিহিত করিয়াছেন। সুতরাং আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না যে, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলবেন, আমার রব আজ এত ভীষণ রাগান্বিত যে, পূর্বেও এরূপ রাগান্বিত হননি আর পরে কখনো এরূপ রাগান্বিত হইবেন না। আমার একটি গ্রহণীয় দুআ ছিল, যা আমি আমার কওমের ব্যাপারে করে ফেলেছি, [এখন] নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও তোমরা ইব্রাহীম [আ.]-এর কাছে। তখন তারা ইব্রাহীম [আ.]-এর কাছে এসে বলবে, হে ইব্রাহীম [আ.]! আপনি আল্লাহ্‌র নাবী এবং পৃথিবীর মানুষের মধ্যে আপনি আল্লাহ্‌র বন্ধু।৩ আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখিতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি তাদের বলবেন, আমার রব আজ ভীষণ রাগান্বিত, যার আগেও কোন দিন এরূপ রাগান্বিত হননি, আর পরেও কোনদিন এরূপ রাগান্বিত হইবেন না। আর আমি তো তিনটি মিথ্যা বলে ফেলেছিলাম। রাবী আবু হাইয়ান তাহাঁর বর্ণনায় এগুলোর উল্লেখ করিয়াছেন- [এখন] নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও মূসার কাছে। তারা মূসার কাছে এসে বলবে, হে মূসা [আ.]! আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল। আল্লাহ্ আপনাকে রিসালতের সম্মান দান করেন এবং আপনার সাথে কথা বলে সমগ্র মানব জাতির উপর মর্যাদা দান করিয়াছেন। আপনি আপনার রবের কাছে আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখিতে পাচ্ছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তিনি বলিলেন, আজ আমার রব অত্যন্ত রাগান্বিত আছেন, এরূপ রাগান্বিত পূর্বেও হননি এবং পরেও এরূপ রাগান্বিত হইবেন না। আর আমি তো এক ব্যক্তিকে হত্যা করে ফেলেছিলাম, যাকে হত্যা করার জন্য আমাকে নির্দেশ দেয়া হয়নি। এখন নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী। তোমরা অন্যের কাছে যাও- যাও ঈসা [আ.]-এর কাছে। তখন তারা ঈসা [আ.]-এর কাছে এসে বলবে, হে ঈসা [আ.]! আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল এবং কালেমা৪, যা তিনি মরিয়ম [আ.]-এর উপর ঢেলে দিয়েছিলেন। আপনি রূহ।৫ আপনি দোলনায় থেকে মানুষের সাথে কথা বলেছেন। আজ আপনি আমাদের জন্য সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না, আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন ঈসা [আ.] বলবেন, আজ আমার রব এত রাগান্বিত যে, এর পূর্বে এরূপ রাগান্বিত হননি এবং এর পরেও এরূপ রাগান্বিত হইবেন না। তিনি নিজের কোন গুনাহর কথা বলবেন না। নফ্সী, নফ্সী, নফ্সী, তোমরা অন্য কারও কাছে যাও- যাও মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর কাছে। তারা মুহাম্মদ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলবে, ইয়া মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! আপনি আল্লাহ্‌র রাসূল এবং শেষ নাবী। আল্লাহ্ তাআলা আপনার আগের, পরের সকল গুনাহ্ মাফ করে দিয়েছেন। আপনি আমাদের জন্য আপনার রবের কাছে সুপারিশ করুন। আপনি কি দেখছেন না আমরা কিসের মধ্যে আছি? তখন আমি আরশের নিচে এসে আমার রবের সামনে সিজদাহ দিয়ে পড়ব। অতঃপর আল্লাহ্ তাআলা তাহাঁর প্রশংসা ও গুণগানের এমন সুন্দর পদ্ধতি আমার সামনে খুলে দিবেন, যা এর পূর্বে অন্য কারও জন্য খোলেন নি। এরপর বলা হইবে, হে মুহাম্মদ [সাঃআঃ]! তোমার মাথা উঠাও। তুমি যা চাও, তোমাকে দেয়া হইবে। তুমি সুপারিশ কর, তোমার সুপারিশ কবূল করা হইবে। এরপর আমি আমার মাথা উঠিয়ে বলব, হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। হে আমার রব! আমার উম্মত। তখন বলা হইবে, হে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]! আপনার উম্মতের মধ্যে যাদের কোন হিসাব-নিকাশ হইবে না, তাদেরকে জান্নাতের দরজাসমূহের ডান পার্শ্বের দরজা দিয়ে প্রবেশ করিয়ে দিন। এ দরজা ছাড়া অন্যদের সাথে অন্য দরজায়ও তাদের প্রবেশের অধিকার থাকিবে। অতঃপর তিনি বলবেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, সে সত্তার শপথ! বেহেশতের এক দরজার দু পার্শ্বে মধ্যবর্তী প্রশস্ততা যেমন মক্কা ও হামীরের মধ্যবর্তী দূরত্ব, অথবা মক্কা ও বসরার মাঝখানে দূরত্ব।

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /১৭ হাঃ ৪৭১২, মুসলিম ১/৮৪ হাঃ ১৯৪]

১. আবুল বাশার অর্থ মানব জাতির পিতা। ২. যেহেতু তিনি শরীয়তের হুকুম-আহকামের প্রথম নাবী অথবা সমস্ত পৃথিবী প্রলয়ংকরী বন্যায় প্লাবিত হয়ে যাওয়ার পর পৃথিবীর সর্বপ্রথম নাবী নূহ্ [আ.] বিধায় তাকে প্রথম নাবী বলা হয়। তাহাঁর কওমকে ডুবিয়ে দেয়ার দুআর প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। ৩. খলীলুল্লাহ উপাধি একমাত্র আপনার। ৪. কালেমা-এর দ্বারা বোঝানো হয়েছে, = শব্দ। যেহেতু এ শব্দটি বলার সাথে সাথে ঈসা [আ.] আল্লাহ্‌র কুদরতে মাতৃগর্ভে আসেন। তাই তাকে তার কালেমা [আল্লাহ্‌র কালেমা] বলা হয়। ৫. রূহ দ্বারা ফেরেশতাদের মধ্যে সর্বাপেক্ষা মর্যাদাসম্পন্ন ফেরেশতা জিবরীল [আ.]-কে বোঝানো হয়েছে, যেহেতু তিনি এসে মরিয়মকে তাহাঁর পুত্রের সুসংবাদ দিয়েছিলেন, তাই বলা হয় তার রূহ। মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস. ১/৮৪. নাবী [সাঃআঃ ]-এর গোপনীয় বিশেষ প্রার্থনা যা হইবে তাহাঁর উম্মাতের জন্য শাফাআত কামনা।

১২১. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীর একটি [বিশেষ] দুআ রয়েছে। আমার সে দুআটি ক্বিয়ামাতের দিন আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য লুকিয়ে রাখার ইচ্ছে করছি ইনশা আল্লাহ্।

[বুখারী পর্ব ৯৭ : /৩১ হাঃ ৭৪৭৪, মুসলিম ১/৮৬ হাঃ ১৯৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১২২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন যে, প্রত্যেক নাবীই যা চাওয়ার তা তিনি চেয়ে নিয়েছেন। অথবা নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রত্যেক নাবীকে যে দুআর অধিকার দেয়া হয়েছিল তিনি সে দুআ করে নিয়েছেন এবং তা কবূলও হয়ে গিয়েছে। কিন্তু আমি আমার দুআকে ক্বিয়ামাতের দিনে আমার উম্মাতের শাফাআতের জন্য রেখে দিয়েছি।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /১ হাঃ ৬৩০৫, মুসলিম ১/৮৬ হাঃ২০০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮৭. আল্লাহ তাআলার বাণী প্রসঙ্গেঃ তুমি তোমার নিকটাত্মীয়দের ভয় প্রদর্শন কর।

১২৩. আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যখন আল্লাহ্ তাআলা কুরআনের এ আয়াতটি নাযিল করিলেন,

وَأَنْذِرْ عَشِيرَتَكَ الأَقْرَبِينَ

“আপনি আপনার নিকটাত্মীদেরকে সতর্ক করে দিন” [শুআরা ২১৪]। তখন আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] দাঁড়ালেন এবং বলিলেন, হে কুরায়শ সম্প্রদায়! কিংবা অনুরূপ শব্দ বলিলেন, তোমরা আত্মরক্ষা কর। আল্লাহ্‌র আযাব থেকে রক্ষা করিতে আমি তোমাদের কোন উপকার করিতে পারব না। হে বানূ আব্দ মানাফ! আল্লাহ্‌র আযাব থেকে রক্ষা করিতে আমি তোমাদের কোন উপকার করিতে পারব না। হে আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব! আল্লাহ্‌র আযাব থেকে রক্ষা করিতে আমি তোমার কোন উপকার করিতে পারব না। হে সাফিয়্যাহ! আল্লাহর রসূলের ফুফু, আল্লাহ্‌র আযাব থেকে রক্ষা করিতে আমি তোমার কোন উপকার করিতে পারব না। হে ফাতিমাহ বিন্তে মুহাম্মদ! আমার ধন-সম্পদ থেকে যা ইচ্ছে চেয়ে নাও। আল্লাহ্‌র আযাব থেকে রক্ষা করিতে আমি তোমার কোন উপকার করিতে পারব না।

[বুখারী পর্ব ৫৫ : /১১ হাঃ ২৭৫৩, মুসলিম ১/৮৯ হাঃ ২০৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১২৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, [আরবি] “তুমি তোমার কাছের আত্মীয়-স্বজনকে সতর্ক করে দাও” আয়াতটি নাযিল হলে রাসূল [সাঃআঃ] বের হয়ে সাফা পাহাড়ে গিয়ে উঠলেন এবং [আ-রবি] “সকাল বেলার বিপদ সাবধান” বলে উচ্চৈঃস্বরে ডাক দিলেন। আওয়াজ শুনে তারা বলল, এ কে? অতঃপর সবাই তাহাঁর কাছে গিয়ে সমবেত হল। তিনি বলিলেন, আমি তোমাদেরকে বলি, একটি অশ্বারোহী সৈন্যবাহিনী এ পাহাড়ের পেছনে তোমাদের উপর হামলার করার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে, তাহলে কি তোমরা আমাকে বিশ্বাস করিবে? সকলেই বলল, আপনার মিথ্যা বলার ব্যাপারে আমাদের অভিজ্ঞতা নেই। তখন তিনি বলিলেন, আমি তোমাদের আসন্ন কঠিন শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করে দিচ্ছি। এ কথা শুনে আবু লাহাব বলল, তোমার ধ্বংস হোক। তুমি কি এ জন্যই আমাদেরকে একত্র করেছ? অতঃপর রাসূল [সাঃআঃ] দাঁড়ালেন। অতঃপর নাযিল হলঃ [আরবি] “ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দু হাত এবং ধ্বংস হোক সে নিজেও।”

[বুখারী পর্ব ৬৫ : /১১১ হাঃ ৪৯৭১, মুসলিম ১/৮৯ হাঃ ২0৮] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮৮. আবু ত্বালিবের জন্য নাবী [সাঃআঃ]-এর সুপারিশ আর তার কারণে তার শাস্তি লঘুকরণ।

১২৫. আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আব্বাস ইবনি আবদুল মুত্তালিব [রাদি.] বলেন, আমি একদিন নাবী [সাঃআঃ]-কে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি আপনার চাচা আবু ত্বালিবের কী উপকার করিলেন অথচ তিনি আপনাকে দুশমনের সকল আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র থেকে রক্ষা করিয়াছেন। তাদের বিরুদ্ধে তিনি খুব ক্ষুব্ধ হইতেন। তিনি বলিলেন, সে জাহান্নামে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত আগুনে আছে। যদি আমি না হতাম তাহলে সে জাহান্নামের একেবারে নিম্ন স্তরে থাকত।

[বুখারী পর্ব ৬৩ : /৪০ হাঃ ৩৮৮৩, মুসলিম ১/৯০, হাঃ নং ২০৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১২৬. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিত যে, তিনি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন, যখন তাহাঁরই সামনে তাহাঁর চাচা আবু তালিবের আলোচনা করা হল, তিনি বলিলেন, আশা করি কিয়ামাতের দিনে আমার সুপারিশ তার উপকারে আসবে। অর্থাৎ আগুনের হালকা স্তরে তাকে ফেলা হইবে, যা তার পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত পৌঁছবে আর এতে তার মগয ফুটতে থাকিবে।

[বুখারী পর্ব ৬৩ : /৪০ হাঃ ৩৮৮৫, মুসলিম ১/৯০, হাঃ নং ২১০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৮৯. জাহান্নামীদের মধ্যে যে ব্যক্তি সবচেয়ে লঘু শাস্তি পাবে।

১২৭. নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, ক্বিয়ামাতের দিন ঐ ব্যক্তির সবচেয়ে হাল্কা আযাব হইবে, যার দুপায়ের তালুতে রাখা হইবে প্রজ্জ্বলিত অঙ্গার, তাতে তার মগয উথ্লাতে থাকিবে।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৫১ হাঃ ৬৫৬১, মুসলিম ১/৯১ হাঃ ২১৩] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৯১. মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন, অপরদের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ আর তাদের দায়-দায়িত্ব থেকে নিস্কৃতি।

১২৮. আমর ইবনি আস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমর ইবনি আস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] কে উচ্চঃস্বরে বলিতে শুনিয়াছি, আস্তে নয়। তিনি বলেছেনঃ অমুকের বংশ আমার বন্ধু নয়। আমর বলেনঃ মুহাম্মাদ ইবনি জাফরের কিতাবে বংশের পরে জায়গা খালি রয়েছে। [কোন বংশের নাম উল্লেখ নেই]। আমার বন্ধু বরং আল্লাহ ও নেককার মুমিনগণ। আনবাসাহ ভিন্ন সূত্রে আমর ইবনিল আস [রাদি.] থেকে বর্ণনা করেন যে, নাবী [সাঃআঃ] থেকে আমি শুনেছিঃ বরং তাদের সাথে [আমার] আত্মীয়তার হক রয়েছে, আমি সুসম্পর্কের রস দিয়ে তা সঞ্জীবিত রাখি।

[বুখারী পর্ব ৭৮ : /১৪ হাঃ ৫৯৯০, মুসলিম ১/৯৩ হাঃ ২১৫] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৯২. মুসলিমগণের কিছু সংখ্যকের বিনা হিসাবে এবং বিনা শাস্তিতে জান্নাতে প্রবেশের প্রমাণ।

১২৯. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনিয়াছি যে, আমার উম্মাত থেকে কিছু লোক দল বেঁধে বেহেশতে প্রবেশ করিবে। আর তারা হইবে সত্তর হাজার। তাদের চেহারাগুলো পূর্ণিমার চাঁদের আলোর ন্যায় উজ্জ্বল থাকিবে। আবু হুরাইরাহ [রাদি.] বলেন, এতদশ্রবণে উক্কাশা ইবনি মিহসান আসাদী তাহাঁর গায়ে চাদর উঠাতে উঠাতে দাঁড়ালেন, এবং বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমার জন্য দুআ করুন, আল্লাহ্ তাআলা যেন আমাকে তাঁদের অন্তর্ভুক্ত করেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুআ করলেনঃ

اللهُمَّ اجْعَلْهُ مِنْهُمْ

হে আল্লাহ্! আপনি একে তাদের অন্তর্ভুক্ত করুন। এরপর আনসার সম্প্রদায়ের এক লোক দাঁড়িয়ে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ্‌র নিকট দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে তাদের অন্তর্ভুক্ত করেন। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ উক্কাশাহ তো উক্ত দুআর ব্যাপারে তোমার চেয়ে অগ্রগামী হয়ে গেছে।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৫০ হাঃ ৬৫৪২, মুসলিম ১ হাঃ ২১৬] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩০. আবু সাঈদ খুদ্রী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন; যখন তাহাঁর কাছে তাহাঁর চাচা আবু ত্বালিব সম্বন্ধে আলোচনা হচ্ছিল। তখন তিনি বললেনঃ সম্ভবত ক্বিয়ামাতের দিন আমার শাফাআত তাঁকে উপকার প্রদান করিবে। আর তখন তাকে জাহান্নামের অগ্নিতেযা টাখনু পর্যন্ত পৌঁছে রাখা হইবে।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৫১ হাঃ ৬৫৫৪, মুসলিম হাঃ ২১৯] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক দিন নাবী [সাঃআঃ] আমাদের নিকট আগমন করেন এবং বলেনঃ আমার সামনে [পূর্ববর্তী নাবীগণের] উম্মাতদের পেশ করা হল। [আমি দেখলাম] একজন নাবী যাচ্ছেন, তাহাঁর সাথে রয়েছে মাত্র একজন লোক এবং আর একজন নাবী যাঁর সঙ্গে রয়েছে দুজন লোক। অন্য এক নাবীকে দেখলাম, তাহাঁর সঙ্গে আছে একটি দল, আর একজন নাবী, তাহাঁর সাথে কেউ নেই। আবার দেখলাম, একটি বিরাট দল যা দিগন্ত জুড়ে আছে। আমি আকাঙ্খা করলাম যে, এ বিরাট দলটি যদি আমার উম্মাত হত। বলা হলঃ এটা মূসা [আ.] ও তাহাঁর কওম। এরপর আমাকে বল হয়ঃ দেখুন। দেখলাম, একটি বিশাল জামাআত দিগন্ত জুড়ে আছে। আবার বলা হলঃ এ দিকে দেখুন। ও দিকে দেখুন। দেখলাম বিরাট বিরাট দল দিগন্ত জুড়ে ছেয়ে আছে। বলা হলঃ ঐ সবই আপনার উম্মাত এবং ওদের সাথে সত্তর হাজার লোক এমন আছে যারা বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। এরপর লোকজন এদিক ওদিক চলে গেল। নাবী [সাঃআঃ] আর তাদের [সত্তর হাজারের] ব্যাখ্যা করে বলেননি। নাবী [সাঃআঃ]-এর সাহাবীগণ এ নিয়ে জল্পনা-কল্পনা আরম্ভ করে দিলেন। তাঁরা বলাবলি করলেনঃ আমরা তো শির্কের মধ্যে জন্মলাভ করেছি, পরে আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলের উপর ঈমান এনেছি। বরং এরা আমাদের সন্তানরাই হইবে। নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এ কথা পৌঁছলে তিনি বলেনঃ তাঁরা [হইবে] ঐ সব লোক যাঁরা অবৈধভাবে মঙ্গল অমঙ্গল নির্ণয় করে না, ঝাড়-ফুঁক করে না এবং আগুনে পোড়ানো লোহার দাগ লাগায় না, আর তাঁরা তাঁদের রবের উপর একমাত্র ভরসা রাখে। তখন উক্কাশাহ ইবনি মিহসান [রাদি.] দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ হ্যাঁ। তখন আর একজন দাঁড়িয়ে বললঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি তাদের মধ্যে আছি? তিনি বললেনঃ এ ব্যাপারে উক্কাশাহ তোমাকে অতিক্রম করে গেছে।

[বুখারী পর্ব ৭৬ : /৪২ হাঃ ৫৭৫২, মুসলিম ১/৯৪ হাঃ ২২০] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১৩২.আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাযি. হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ্ ইবনি মাসুদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা কোন এক তাঁবুতে নাবী [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলাম। তখন তিনি বললেনঃ তোমরা বেহেশ্তীদের এক-চতুর্থাংশ হইবে, এটা কি তোমরা পছন্দ কর? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তিনি আবার বললেনঃ তোমরা বেহেশ্তীদের এক-তৃতীয়াংশ হইবে, এটা কি তোমরা পছন্দ কর? আমরা বললাম, হ্যাঁ। তখন নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ শপথ ঐ মহান সত্তার, যাঁর হাতে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-এর জান। আমি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাশী যে, তোমরা বেহেশ্তীদের অর্ধেক হইবে। আর এটা চিরন্তন সত্য যে বেহেশ্তে কেবলমাত্র মুসলিমগণই প্রবেশ করিতে পারবে। আর মুশরিকদের মুকাবিলায় তোমরা হচ্ছ এমন, যেমন কালো ষাঁড়ের চামড়ার উপর শুভ্র পশম। অথবা লাল ষাড়ের চামড়ার উপর কালো পশম।

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৪৫ হাঃ ৬৫২৮, মুসলিম ১/৯৫ হাঃ ২২১ ] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

১/৯৪. আল্লাহ তাআলা আদমকে বলবেন, জাহান্নামে প্রেরিতদের থেকে প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জনকে জাহান্নামের আগুন থেকে বের করে আনো।

১৩৩. আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু সাঈদ খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলা ডেকে বলবেন, হে আদাম! তিনি বলবেন, আমি তোমার খিদমতে হাযির। সমগ্র কল্যাণ তোমারই হাতে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, জাহান্নামীদের [জাহান্নামে দেয়ার জন্য] বের কর। আদাম [আ.] আরয করবেন, কী পরিমাণ জাহান্নামী বের করব? আল্লাহ্ তাআলা বলবেন, প্রতি এক হাজারে নয়শ নিরানব্বই জন। বস্তুত এটা হইবে ঐ সময়, যখন [ক্বিয়ামাতের ভয়াবহ অবস্থা দর্শনে] বাচ্চা বৃদ্ধ হয়ে যাবে। [আয়াত]: আর গর্ভবতীরা গর্ভপাত করে ফেলবে; মানুষকে দেখবে মাতাল সদৃশ যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুত আল্লাহ্‌র শাস্তি কঠিন- [সূ-রাহ হাজ্জ ২২/২]। এটা সাহাবাগণের কাছে বড় কঠিন মনে হল। তখন তাঁরা বললেনঃ হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের মধ্য থেকে সেই লোকটি কে হইবেন? তিনি বললেনঃ তোমরা এই মর্মে সুসংবাদ গ্রহণ কর যে ইয়ায়ুয ও মাযূয থেকে এক হাজার আর তোমাদের মাঝ থেকে হইবে একজন। এরপর তিনি বললেনঃ শপথ ঐ মহান সত্তার, যাঁর হাতের মুঠোয় আমার জান। আমি আকাঙক্ষা রাখি যে তোমরা বেহেশতীদের এক-তৃতীয়াংশ হয়ে যাও। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমরা আল হামদুলিল্লাহ্ ও আল্লাহু আকবার বললাম। তিনি আবার বললেনঃ শপথ ঐ মহান সত্তার, যাঁর হাতে আমার জান। আমি অবশ্যই আশা করি যে তোমরা বেহেশ্তীদের অর্ধেক হয়ে যাও। অন্য সব উম্মাতের মাঝে তোমাদের তুলনা হচ্ছে কাল ষাঁড়ের চামড়ার মাঝে সাদা চুল বিশেষ। অথবা সাদা চিহ্ন, যা গাধার সামনের পায়ে হয়ে থাকে

[বুখারী পর্ব ৮১ : /৪৬ হাঃ ৬৫৩০, মুসলিম ১/৯৬ হাঃ ২২২] মুত্তাফাকুন আলাইহি আল লুলু ওয়াল মারজান -এই হাদিসের তাহক্কিকঃ সহীহ হাদীস

By লুলু ওয়াল মারজান

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply