মুতআহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়

মুতআহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়

মুতআহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয় >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ মুতআহ বিবাহ বৈধ ছিল, পরে তা বাতিল করা হয়, অতঃপর বৈধ করা হয়, আবার বাতিল করা হয় এবং ক্বিয়ামাত পর্যন্ত স্থির থাকিবে

৩৩০১

ক্বায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে জিহাদে অংশগ্রহণ করতাম এবং আমাদের সঙ্গে আমাদের স্ত্রীগণ থাকত না। আমরা বললাম, আমরা কি খাসী হব না? তিনি আমাদের তা থেকে নিষেধ করিলেন। অতঃপর তিনি পরিধেয় বস্ত্র দানের বিনিময়ে আমাদের নির্দিষ্ট কালের জন্য নারীদের বিবাহ করার রুখ্‌সত দিলেন। অতঃপর আবদুল্লাহ [রাদি.] পাঠ করলেনঃ

‏ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لاَ تُحَرِّمُوا طَيِّبَاتِ مَا أَحَلَّ اللَّهُ لَكُمْ وَلاَ تَعْتَدُوا إِنَّ اللَّهَ لاَ يُحِبُّ الْمُعْتَدِينَ‏

“হে মুমিনগণ! আল্লাহ তোমাদের জন্য উৎকৃষ্ট যেসব বস্তু হালাল করিয়াছেন, সে সমুদয়কে তোমরা হারাম করো না এবং সীমালঙ্ঘন করো না আল্লাহ সীমালঙ্ঘনকারীদের পছন্দ করেন না”- [সূরা আল মায়িদাহ্‌ ৫:৮৭]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭৪]

৩৩০২

ইসমাঈল ইবনি আবু খালিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। অতঃপর তিনি উক্ত আয়াত পাঠ করিলেন। তিনি বলেননি যে, আবদুল্লাহ [রাদি.] পড়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭৫]

৩৩০৩

ইসমাঈল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এতে আবদুল্লাহ [রাদি.] বলেন, আমরা ছিলাম যুবক। তাই আমরা বললাম, ইয়া রসূলুল্লাহ! আমরা কি খাসী হব না? এতে জিহাদ শব্দের উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭৬]

৩৩০৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ ও সালামাহ্‌ ইবনিল আক্‌ওয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তারা উভয়ে বলেন, আমাদের সামনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর ঘোষক বেরিয়ে এসে বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তোমাদের মুতআহ বিবাহ করার অনুমতি দিয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭৭]

৩৩০৫

সালামাহ্‌ ইবনিল আক্‌ওয়া [রাদি.] ও জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের নিকট এলেন এবং আমাদের মুত্‌আর [সাময়িক বিবাহের] অনুমতি দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭৮]

৩৩০৬

আত্বা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] উমরাহ্ পালন করিতে এলেন। তখন আমরা তাহাঁর আবাসে তাহাঁর নিকট গেলাম। লোকেরা তাহাঁর নিকট বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞেস করিল। অতঃপর তারা মুতআহ্ সম্পর্কে উল্লেখ করলে তিনি বলেন, হাঁ, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে এবং আবু বকর [রাদি.] ও উমর [রাদি.]-এর যুগে মুত্আহ[বিবাহ] করেছি।{৪৭} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭৯]

{৪৭} পরিভাষায় একটি নিদির্ষ্টি কালের জন্য মুহরের বিনিময়ে কোন মহিলার সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করা। নিদির্ষ্ট সময় পার হওয়ার সাথে সাথেই বিবাহের চুক্তি বাতিল গণ্য হয় এবং ত্বলাক্ব প্রদান ব্যতীতই স্ত্রী বিবাহ বন্ধন থেকে মুক্ত হয়ে যায়।

ইসলাম আবির্ভাবের পূর্বে আরবদের মাঝে এ ধরনের বিবাহের ব্যাপক প্রচলন ছিল এবং ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় ইসলামী শারীআতেও এটা জায়িয ছিল। আরব সমাজে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য কুপ্রথার ন্যায় মুত্আহ্ বিবাহের মতো কুপ্রথাকেও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ধীরে ধীরে বিলুপ্তি সাধন করেন। ৭ম হিজরীতে ১ম বার নিষিদ্ধ করেন, এরপর আওত্বাস যুদ্ধের সময় তিনদিনের জন্য অনুমতি দেন এবং পরে হারাম ঘোষণা করেন।

অতঃপর বিদায় হজ্জের সময় চিরকালের জন্য ইহা হারাম ঘোষণা করেন। অথচ এ হাদিসে দেখা যাচ্ছে, লোকেরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে এবং আবু বাক্র [রাদি.] ও উমর [রাদি.]-এর যুগে মুতআহ বিবাহ করিয়াছেন। এখানে উদ্দেশ্য হল যে সকল লোকদের কাছে রাসূল [সাঃআঃ]–এর মুত্আহ্ বিবাহ রহিত হওয়ার ফরমান পৌঁছেনি তারা মুত্আহ্ বিবাহ করিয়াছেন। অন্যথায় যাদের কাছে রহিত হওয়ার খবর পৌঁছেছিল তারা একে হারাম বিশ্বাস করিতেন এবং এ থেকে পরহেয করিতেন। সুতরাং না জানার কারনে মুত্আহ করা দলিল হইতে পারে না, যদিও তারা জীবনের শেষ পর্যন্ত তা করুন না কেন। বরং তাদের কথা ও কাজ দলিল হিসেবে গ্রহীত হইবে যাদের নিকট বিদায় হজ্জের সময়কার নিষেধাজ্ঞা পৌঁছেছে। এরপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইন্তেকাল ফরমান এবং এ সময়ের মধ্যে তা বৈধ হওয়ার কথা বলেন নি আর এই অবস্থায় তিনি পরপারে পাড়ি জমান। সুতরাং এর প্রতি প্রত্যাবর্তন এবং আমল করা জরুরী।

৩৩০৭

আবু যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি : আমরা এক মুঠো খেজুর অথবা ময়দার বিনিময়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে এবং আবু বকর [রাদি.]-এর যুগে মুতআহ্ বিবাহ করতাম। শেষ পর্যন্ত উমর [রাদি.] আম্‌র ইবনি হুরায়স–এর বিষয়টিকে কেন্দ্র করে তা নিষিদ্ধ করেন।{৪৮} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮০]

{৪৮} আম্‌র ইবন হুরায়স কুফায় তার মুক্তদাসীকে মুত্আহ বিবাহ করেন। এর ফলে সে গর্ভবতী হলে তাকে নিয়ে আম্‌র ইবন হুরায়স উমর ফারুক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] কাছে উপস্থিত হন, এ সময় তিনি মুত্আহ্ বিবাহ কে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করেন।

৩৩০৮

আবু নায্‌রাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর নিকত উপস্থিত ছিলাম। এক ব্যক্তি তার নিকট এসে বলিল, ইবনি আব্বাস [রাদি.] ও ইবনি যুবায়র [রাদি.] দু প্রকারের মুতআহ [তামাত্তু হাজ্জ ও মুতআহ বিবাহ]নিয়ে পরস্পর মতবিরোধ করিয়াছেন। তখন জাবির [রাদি.] বলিলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপস্থিতিতে দু প্রকারের মুতআহ করেছি। অতঃপর উমর [রাদি.] আমাদের উভয়টিই করিতে নিষেধ করিলেন। অতএব আমরা তা আর করেনি। [ই .ফা. ৩২৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮১]

৩৩০৯

ইয়াস ইবনি সালামাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার পিতার সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি[পিতা] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আওত্বাস যুদ্ধের বছর তিন দিনের জন্য মুত্আহ্ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলেন। অতঃপর তিনি তা নিষিদ্ধ করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮২]

৩৩১০

রাবী ইবনি সাবরাহ্ আল জুহানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তাহাঁর পিতা সাবরাহ [রাদি.]–এর সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মুত্আর অনুমতি দিলেন। অতঃপর আমি ও অপর এক ব্যক্তি বানূ আমির গোত্রের একটি মহিলার নিকট গেলাম। সে ছিল দেখিতে লম্বা ঘাড় বিশিষ্ট তরুণ উষ্ট্রীর ন্যায়। আমরা নিজেদেরকে তার নিকট [মুত্আহ্ বিবাহের জন্য] পেশ করলাম। সে বলিল, আমাকে কী দিবে? আমি বললাম , আমার চাদর। আমার সাথীও বলিল আমার চাঁদর। আমার চাদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাদরটি বেশি উৎকৃষ্টতর; কিন্তু আমি ছিলাম তুলনায় কম বয়সের যুবক। সে যখন আমার সঙ্গীর চাদরের প্রতি তাকায় তখন তা তার পছন্দ হয় এবং বলিল, তুমি এবং তোমার চাদর ই আমার জন্য যথেষ্ট। অতএব আমি তার সাথে তিন দিন অতিবাহিত করলাম। অতপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কারো কাছে মুত্আহ্ বিবাহের সূত্রে কোন স্ত্রী লোক থাকলে সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয় [ত্যাগ করে]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৩]

৩৩১১

রাবী ইবনি সাব্‌রাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাঁর পিতা মক্কা বিজয়াভিযানে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন। তিনি বলেন, আমরা তথায় ১৫ দিন অর্থাৎ পূর্ণ ১৩ দিন এবং এক দিন ও এক রাত অবস্থান করি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মুত্‌আর অনুমতি দিলেন। তখন আমি এবং আমার গোত্রের এক ব্যক্তি বেরিয়ে পড়লাম। আমি তার তুলনায় আকর্ষণীয় চেহারার অধিকারী ছিলাম এবং সে ছিল প্রায় কুৎসিত। আমাদের উভয়ের সাথে একটি করে চাদর ছিল। আমার চাদরটি ছিল পুরাতন এবং আমার চাচাত ভাইয়ের চাদরটি ছিল সম্পূর্ণ নতুন। অবশেষে আমরা মাক্কার নিম্নভূমিতে অথবা উচ্চভূমিতে পৌঁছে একটি যুবতী মেয়ের সাক্ষাৎ পেলাম, যাকে দেখিতে উঠতি বয়সের চালাক এবং লম্বাঘাড় বিশিষ্ট উষ্ট্রীর মত। আমরা প্রস্তাব দিলাম, আমাদের দুজনের কারো সাথে তোমার মুতআহ বিবাহ কি সম্ভব? সে বলিল, তোমরা কী বিনিময় দিবে? তাদের প্রত্যেকে কে নিজ নিজ চাদর মেলে ধরল। সে তাদের উভয়ের দিকে তাকাতে লাগল। আমার সঙ্গীও তার দিকে তাকাল। যখন স্ত্রীলোকটির দিকে তাকিয়ে বলিল, তার এ চাদর পুরাতন এবং আমার চাদর একেবারে নতুন। স্ত্রীলোকটি তিনবার কি দুবার বলিল, তার চাদরটি গ্রহনে কোন ক্ষতি নেই। অতঃপর আমি তাকে মুতআহ বিবাহ করলাম এবং রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] তা হারাম ঘোষণা না করা পর্যন্ত ফিরে আসিনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৪]

৩৩১২

সাবরাহ আল জুহানী [রাদি.]-এর সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ্ বিজয়ের বছর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে মাক্কায় রওনা হলাম ….. বাকী অংশ উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছে, স্ত্রীলোকটি বলিল, এটা কি ঠিক হইবে? তার চাদরটি পুরাতন এবং ছিঁড়ে গেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৫]

৩৩১৩

সাবরাহ আল জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে ছিলেন। তিনি বলিলেন, হে লোক সকল! আমি তোমাদেরকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্আহ্ বিবাহের অনুমতি দিয়েছিলাম। কিন্তু অচিরেই আল্লাহ্ তাআলা তা হারাম করিয়াছেন ক্বিয়ামাতের দিন পর্যন্ত। অতএব যার নিকট এ ধরনের বিবাহ সূত্রে কোন স্ত্রীলোক আছে, সে যেন তার পথ ছেড়ে দেয়। আর তোমরা তাদের যা কিছু দিয়েছ তা কেড়ে দিও না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৬]

৩৩১৪

আব্দুল আযীয ইবনি উমর [রাদি.] থেকে এ সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি {সাবরাহ আল জুহানী [রাদি.]} বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে [কাবার] দরজা ও রুকনের মাঝে দাড়িয়ে বলিতে শুনেছি ….. বাকীঅংশ উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৭]

৩৩১৫

আবদুল মালিক ইবনি রাবী ইবনি সাবরাহ আল জুহানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে পর্যায়ক্রমে তাহাঁর পিতা ও দাদা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি[দাদা] বলেন, মক্কা বিজয়ের বছর আমাদের মাক্কায় প্রবেশকালে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মুতআহ বিবাহের অনুমতি দান করেন। তিনি আমাদের তা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত [নারী সঙ্গ ত্যাগ করে] বের হয়ে আসিনি।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৮]

৩৩১৬

সাব্‌রাহ্‌ ইবনি মাবাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] মক্কা বিজয়ের বছর তাহাঁর সাহাবীগণকে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্‌আর অনুমতি দেন। সাব্‌রাহ্‌ [রাদি.] বলেন, তখন আমি এবং সুলায়ম গোত্রের আমার এক সাথী বের হয়ে পড়লাম এবং শেষ পর্যন্ত আমি গোত্রের এক যুবতীকে পেয়ে গেলাম। সে ছিল দীর্ঘাঙ্গী যুবতী উটনীর ন্যায়। আমরা তার নিকট মুতআহ বিবাহের প্রস্তাব দিলাম এবং আমাদের চাদর তার সামনে পেশ করলাম। তখন সে তাকিয়ে দেখল এবং আমাকে আমার সঙ্গীর তুলনায় সুন্দর দেখিতে পেল, অপরদিকে আমার চাদরের তুলনায় আমার সঙ্গীর চাদর উৎকৃষ্টতর দেখল। সে মনে মনে কিছুক্ষণ চিন্তা করিল। অতঃপর আমার সঙ্গীর চাইতে আমাকে অগ্রাধিকার দিল। তারা আমাদের সাথে তিনদিনের মুতআহ করিল। অতঃপর রসূলুল্লাহ[সাঃআঃ] তাদের বিদায় করে দেয়ার জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৮৯]

৩৩১৭

রাবী ইবনি সাবরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তার পিতার সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] মুতআহ [বিবাহ] করিতে নিষেধ করিয়াছেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯০]

৩৩১৮

রাবী ইবনি সাবরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তাহাঁর পিতার সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন মুত্আহ্ নিষিদ্ধ করেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯১]

৩৩১৯

রাবী ইবনি সাবরাহ আল জুহানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তাহাঁর পিতার সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কাহ্ বিজয়ের কালে স্ত্রীলোকদের সাথে মুত্আহ্ করিতে নিষেধ করিয়াছেন। তাহাঁর পিতা দুটি লাল চাদরের বিনিময়ে মুত্আহ্ করেছিলেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯২]

৩৩২০

উরওয়াহ্‌ ইবনি যুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ ইবনি যুবায়র [রাদি.] মাক্কায় [ভাষণ দিতে] দাঁড়িয়ে বলিলেন, কিছু লোক এমন আছে আল্লাহ্‌ তাআলা যেমন তাদের চোখ অন্ধ করে দিয়েছেন তেমনি অন্তরকেও অন্ধ করে দিয়েছেন। তারা মুত্‌আর পক্ষে ফাতাওয়া দেয়। এ কথা বলে তিনি এক ব্যক্তির প্রতি ইঙ্গিত করিলেন। সে ব্যক্তি ইবনি আব্বাস [রাদি.]। তাঁকে ডেকে বলিলেন, তুমি একটি অসভ্য ও কাণ্ডজ্ঞানহীন ব্যক্তি। আমার জীবনের শপথ! ইমামুল মুত্তাক্বীন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে মুতআহ প্রচলিত ছিল। ইবনি যুবায়র [রাদি.] তাকে বলিলেন, আপনি নিজে একবার করে দেখুন। আল্লাহর শপথ! আপনি যদি তা [মুতআহ] করেন তাহলে আপনার জন্য নির্ধারিত পাথর দিয়েই আপনাকে রজম [পাথর নিক্ষেপে হত্যা] করব।

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খালিদ ইবনিল মুজাহির ইবনি সাইফুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাকে জানিয়েছেন যে, তিনি এক ব্যক্তির নিকট বসা ছিলেন। এ সময় এক ব্যক্তি এসে তাকে মুতআহ সম্পর্কে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করে। তিনি তাকে মুত্‌আর অনুমতি দিলেন। ইবনি আবু আম্‌রাহ্‌ আল আনসারী [রাদি.] তাকে বলিলেন থামুন। সে বলিল, কেন? আল্লাহর শপথ! ইমামুল মুত্তাকীন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর যুগে তা করা হত।

ইবনি আবু আম্‌রাহ্‌ [রাদি.] বলিলেন, ইসলামের প্রাথমিক যুগে নিরুপায় অবস্থায় তার অনুমতি ছিল [যেমন নিরুপায় অবস্থায়] মৃত জীব, রক্ত ও শূকরের [গোশ্‌ত ভক্ষণের] ন্যায়। অতঃপর আল্লাহ্‌ তার দীনকে শক্তিশালী এবং সুদৃঢ় করিলেন এবং তা নিষিদ্ধ করিলেন।

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, রাবী ইবনি সাব্‌রাহ্‌ আল জুহানী আমাকে জানিয়েছেন যে, তাহাঁর পিতা বলেছেন, নবী [সাঃআঃ]-এর যুগে আমি দুটি লাল চাদরের বিনিময়ে আমির গোত্রের একটি স্ত্রীলোকের সাথে মুতআহ করেছিলাম। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের মুতআহ করিতে নিষেধ করেন।

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আরও বলেন, আমি রাবী ইবনি সাব্‌রাহ্‌কে উমর ইবনি আব্‌দুল আযীয [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর নিকট তা বর্ণনা করিতে শুনেছি, আমি তখন [সেখানে] বসা ছিলাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৩]

৩৩২১

রাবী ইবনি সাবরাহ আল জুহানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতার সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুত্আহ্ নিষিদ্ধ করিয়াছেন এবং বলেছেন, সাবধান! আজকের এ দিন থেকে ক্বিয়ামাত পর্যন্ত মুত্আহ্ হারাম। যে কেউ [ইতোপূর্বে] মুত্আহ্ বাবদ যা কিছু দিয়েছে, সে যেন তা ফেরত না দেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৪]

৩৩২২

আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বরের যুদ্ধের দিন মুতআহ ও গৃহপালিত গাধার গোশ্‌ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন।[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৫]

৩৩২৩

মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। এ সুত্রে আছে, মুহাম্মাদ ইবনি আলী বলেন, তিনি আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.]-কে জনৈক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বলিতে শুনেছেন, তুমি তো সৎপথ থেকে বিচ্যুত। কেননা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষিদ্ধ করিয়াছেন ….. উক্ত হাদিসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৬]

৩৩২৪

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] খায়বারের যুদ্ধের দিন মুতআহ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৭]

৩৩২৫

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি শুনতে পেলেন যে, ইবনি আব্বাস [রাদি.] নারীদের সাথে মুত্‌আর ব্যাপারে কিছুটা শিথিলতা প্রদর্শন করিয়াছেন। আলী [রাদি.] বলিলেন, থামো, হে ইবনি আব্বাস! কারণ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বারের যুদ্ধের দিন মুতআহ ও গৃহপালিত গাধার গোশ্‌ত নিষিদ্ধ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৩০০, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৮]

৩৩২৬

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি আব্বাস [রাদি.]-কে লক্ষ্য করে আলী [রাদি.]–কে বলিতে শুনেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খায়বারের যুদ্ধের দিন মুত্আহ্ এবং গৃহপালিত গাধার গোশত নিষিদ্ধ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৩০১, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৯৯]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply