নবী [সাঃআঃ] -এর মুজিযা প্রসঙ্গ

নবী [সাঃআঃ] -এর মুজিযা প্রসঙ্গ

নবী [সাঃআঃ] -এর মুজিযা প্রসঙ্গ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ] -এর মুজিযা প্রসঙ্গ

৫৮৩৫

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একবার নবী [সাঃআঃ] পানি আনতে বলিলেন, তখন একটি প্রশস্ত তল বিশিষ্ট অগভীর বর্তন নিয়ে আসা হলো। [তিনি তাতে হাত রেখে বারাকাতের দুআ করিলেন] এবং লোকেরা ওযূ করিতে লাগল। আমি তাদের সংখ্যা ষাট হইতে আশির মাঝে ধারণা করলাম। বর্ণনাকারী বলেন, আমি পানির দিকে চেয়ে থাকলাম- যা তার আঙ্গুলসমূহের মাঝ থেকে ফোয়ারার মতো বেরিয়ে আসছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪২, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৩]

৫৮৩৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে লক্ষ্য করলাম, তখন আসরের নামাজের সময় হয়ে গিয়েছিল আর লোকেরা ওযূর পানি সন্ধান করছিল; কিন্তু তারা খুঁজে পেল না। এ সময় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে কিছু ওযূর পানি আনা হলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সে পানির বর্তনে তাহাঁর হাত রেখে দিলেন এবং লোকদের তা হইতে ওযূ করিতে বলিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি দেখলাম, পানি তাহাঁর অঙ্গুলিসমূহের নিচ থেকে উচ্ছ্বল তরঙ্গের মত বেরিয়ে আসছে। তখন লোকেরা ওযূ করিল, এমনকি তাদের শেষ লোক পর্যন্ত সবাই অযূ করিতে সক্ষম হলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৩, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৪]

৫৮৩৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর সাহাবীগণ যাওরা নামক স্থানে ছিলেন। রাবী বলেন, যাওরা হলো মাদীনার বাজার ও মাসজিদের সন্নিকটে একটি স্থান। সে সময় তিনি একটি পাত্র নিয়ে আসতে বলিলেন, যাতে অল্প পানি ছিল। তিনি তাহাঁর [হাতের] মুষ্ঠি তাতে রাখলেন। তখন তাহাঁর অঙ্গুলিসমূহের মধ্য হইতে [পানি] উতড়িয়ে বের হইতে লাগল আর তাহাঁর সাহাবীগণ সবাই অযূ করিলেন। বর্ণনাকারী {কাতাদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]} বলেন, আমি প্রশ্ন করলাম, হে আবু হাম্যাহ্ [রাদি.]। তাঁরা কতজন ছিলেন? তিনি বলিলেন, তাঁরা ছিলেন তিনশ জনের মতো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৪, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৫]

৫৮৩৮

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] যাওরায় ছিলেন। সে সময় একটি পানির পেয়ালা নিয়ে আসা হলো, যার পানিতে তাহাঁর অঙ্গুলিসমূহ ডুবছিল না অথবা ঐ পরিমাণ, যা তাহাঁর অঙ্গুলিসমূহ ডুবাতে পারে না। তারপর [পূর্বোল্লিখিত হাদীসের] বর্ণনাকারী হিশাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বর্ণিত হাদীসের হুবহু বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৬]

৫৮৩৯

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

উম্মু মালিক [রাদি.] তাহাঁর একটি চামড়ার পেয়ালায় নবী [সাঃআঃ]-এর জন্য ঘি উপঢৌকন পাঠাতেন। [কোন কোন সময়] তার ছেলেরা তার নিকট এসে [রুটি মাখাবার জন্য] তরকারি চাইত। কিন্তু তখন তাদের নিকট কিছু থাকত না। তাই তিনি [উম্মু মালিক] সে পেয়ালাটির নিকট যেতেন যাতে তিনি নবী [সাঃআঃ]-এর জন্য উপঢৌকন প্রেরণ করিতেন। তখন তিনি তাতে কিছু ঘি পেয়ে যেতেন। তারপর তা তার ঘরের [রুটি মাখাবার] তরকারির কাজ দিতে থাকল। যে পর্যন্ত না সেটি [আঙ্গুল দিয়ে মুছে] নিংড়ে ফেললেন। সে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তুমি সেটি নিংড়ে ফেলেছ? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি সেটিকে [না মুছে] যথাবস্থায় রেখে দিলে তা কিছু মওজুদ থেকেই যেত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৭]

৫৮৪০

সালামাহ্ ইবনি শাবীব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জনৈক লোক খাবার চাইতে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলো। তিনি তাকে অর্ধ ওয়াস্ক যব খাবার জন্য দিলেন। লোকটি তা থেকে আহার করিতে থাকল আর তার স্ত্রী এবং তাদের [দুজনের] মেহমানরাও। পরিশেষে সে [একদিন] তা মেপে দেখল। ফলে তা ফুরিয়ে গেল। তারপরে সে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট [অভিযোগ নিয়ে] আসল। তিনি বলিলেন, যতি তুমি তা মেপে না দেখিতে, তাহলে তোমরা তা থেকে আহার করিতে থাকতে এবং তা তোমাদের জন্য [দীর্ঘ সময়] বিদ্যমান থাকত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৮]

৫৮৪১

মুআয ইবনি জাবাল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, তাবূক যুদ্ধের বছর আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে [যুদ্ধে] বের হলাম। [এ সফরে] তিনি [দু] নামাজ একসাথে আদায় করিতেন। অর্থাৎ, যুহ্র ও আস্র একসাথে আদায় করিতেন, আর মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করিতেন। পরিশেষে একদিন [এমন] হলো যে, নামাজ দেরিতে আদায় করিলেন। তারপর বের হয়ে এসে যুহর ও আস্র একসাথে আদায় করিলেন, তারপর [তাঁবুতে] ঢুকলেন। অতঃপর আবার বেরিয়ে এলেন এবং মাগরিব ও ইশা একসাথে আদায় করিলেন। অতঃপর বলিলেন, ইন্শাআল্লাহ তোমরা আগামীকাল তাবূক জলাশয়ে পৌঁছবে, তবে চাশ্‌তের সময় না হওয়া পর্যন্ত তোমরা সেখানে পৌঁছতে পারবে না। তোমাদের মাঝে যে [ই] সেখানে [প্রথমে] পৌঁছবে সে যেন তার পানির কিছুই স্পর্শ না করে- যতক্ষণ না আমি এসে পৌঁছি। আমরা [ঠিক সময়েই] সেখানে পৌঁছলাম। [কিন্তু] ইতোমধ্যে দু লোক আমাদের পূর্বে সেখানে পৌঁছে গিয়েছিল। আর প্রসবণটিতে জুতার ফিতার ন্যায় ক্ষীণ ধারায় সামান্য পানি বের হচ্ছিল। মুআয বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ঐ দুজনকে প্রশ্ন করিলেন, তোমরা তা হইতে কিছু পানি ছুঁয়েছো কি? ….. তারা উভয়ে বলিল, হ্যাঁ! তখন নবী [সাঃআঃ] তাদের দুজনকে ভর্ৎসনা করিলেন। আর আল্লাহর যা ইচ্ছা তাই তাদের বলিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর লোকেরা তাদের হাত দিয়ে অঞ্জলি ভরে ভরে প্রসবণ হইতে অল্প অল্প করে [পানি] তুলল, পরিশেষে তা একটি পাত্রে কিছু পরিমাণ জমা হলো। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার মাঝে তাহাঁর দুহাত এবং মুখ ধুলেন এবং তারপরে তা [পানি] তাতে [প্রসবণে] উল্টিয়ে [ঢেলে] দিলেন। ফলে পানির প্রসবণটি প্রবল পানি ধারায় কিংবা বর্ণনাকারী বলেছেন, অধিক পরিমাণে প্রবাহিত হইতে লাগল। আবু আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সন্দেহ করিয়াছেন যে, বর্ণনাকারী এর মধ্যে কোন্টি বলেছেন। এবার লোকেরা পানি প্রয়োজন মতো পান করিল। পরে নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, হে মুআয! তুমি যদি দীর্ঘায়ু হও, তবে আশা করা যায় যে, তুমি দেখিতে পাবে প্রসবণের এ জায়গাটি বাগানে ভরে গেছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৭৯]

৫৮৪২

আবু হুমায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে তাবূক যুদ্ধের জন্য বের হলাম। আমরা ওয়াদিল কুরা এলাকায় এক মহিলার একটি বাগানের নিকট পৌঁছলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা এর পরিমাণ ধারণা করো। আমরা এর পরিমাণ অনুমান করলাম। আর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দশ ওয়াস্ ক[প্রায় পঞ্চাশ মণ] পরিমাণ ধারণা করিলেন এবং [মেয়ে লোকটিকে] বলিলেন, ইন্শাআল্লাহ আমরা তোমার এখানে ফিরে আসা পর্যন্ত এ পরিমাণ ধরে রাখো। তারপরে আমরা অগ্রসর হলাম এবং তাবূকে পৌঁছে গেলাম। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আজ রাতে প্রচণ্ড বায়ু প্রবাহ তোমাদের উপর দিয়ে বয়ে যাবে। তাই তোমাদের কেউ যেন তার মধ্যে দাঁড়িয়ে না থাকে এবং যার উট আছে সে যেন তার দঁড়ি মজবুত করে বেঁধে রাখে। অতঃপর দেখা গেল, অনেক বাতাস প্রবাহিত হলো। জনৈক লোক দাঁড়ালে বাতাস তাকে তুলে নিয়ে পরিশেষে তাই নামক পাহাড়ে ফেলে দিল। আর [ঐ সময় নিকটবর্তী] আয়লার অঞ্চল প্রধান [শাসক] ইবনিল আলমা-র দূত রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট একটি পত্র নিয়ে আসলো এবং তিনি তাঁকে একটি সাদা খচ্চর উপঢৌকন পাঠালেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-ও তার নিকট চিঠি লিখে পাঠালেন এবং তাকে একটি চাদর উপঢৌকন হিসেবে প্রেরণ করিলেন। এরপর আমরা এগিয়ে চলতে চলতে ওয়াদিল কুরা পৌঁছলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্ত্রীলোকটিকে [বাগানের মালিক] তার বাগান সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন যে, তার ফল কি পরিমাণে পৌঁছেছে? সে বলিল, দশ ওয়াস্ক। তারপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমি দ্রুত যাচ্ছি। তোমাদের মাঝে যার ইচ্ছা হয় সে আমার সাথে অবিলম্বে যেতে পারে। আর যার ইচ্ছা সে থেকে যেতে পারে। অতঃপর আমরা বেরিয়ে গেলাম। পরিশেষে মাদীনার নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছলাম। সে সময় তিনি বলিলেন, এ [মাদীনাহ্] হলো তাবা-পবিত্র ও উত্তম জায়গা। আর এ হলো উহুদ। আর তা এমন পর্বত, যে আমাদের ভালবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি। এরপর বলিলেন, আনসারীদের শ্রেষ্ঠ পরিবার বানূ নাজ্জার, এরপর বানূ আবদুল আশ্হাল, তারপর বানূ হারিস ইবনি খাযরাজ, অতঃপর বানূ সাইদাহ্ পরিবার। আর আনসারদের প্রতিটি সম্প্রদায়ই ভাল। সাদ ইবনি উবাদাহ্‌ [রাদি.] আমাদের সঙ্গে এসে একত্রিত হলে [তাহাঁর সম্প্রদায়ের] আবু উসায়দ [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, আপনি কি দেখেননি যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আনসার সম্প্রদায়গুলোর মাঝে ধারাবাহিকভাবে শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করিয়াছেন এবং আমাদের সম্প্রদায়কে তালিকার শেষে রেখেছেন। তখন সাদ [রাদি.] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে গেলেন এবং বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনি আনসার সম্প্রদায়গুলোর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করিয়াছেন এবং আমাদের শেষে রেখেছেন! তখন তিনি বলিলেন, শ্রেষ্ঠ তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত হওয়াও কি তোমাদের জন্য যথেষ্ট নয়? [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৮০]

৫৮৪৩

আমর ইবনি ইয়াহ্ইয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত সূত্রে আনসারদের প্রতিটি সম্প্রদায়ের কল্যাণ আছে পর্যন্ত বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি পরবর্তী অংশ- সাদ ইবনি উবাদাহ্ [রাদি.] সম্বন্ধে বর্ণনা উল্লেখ করেননি। তবে উহায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর বর্ণিত হাদীসে বেশি উল্লেখ করিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার [ইবনিল আলমা]-র জন্য তাদের জনপদগুলো লিখে দিলেন। উহায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণিত হাদীসে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-ও তার নিকট চিঠি লিখে প্রেরণ করিলেন- উক্তিটি বর্ণনা করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫৭৫০, ইসলামিক সেন্টার- ৫৭৮১]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply