রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর মীরাস বিষয়ক হাদীস

রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর মীরাস

রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর মীরাস , এই অধ্যায়ে হাদীস ৭ টি ( ৩০৬-৩১২ পর্যন্ত ) << শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৫৫ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মীরাস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মৃত্যুর সময় সবকিছু সাদাকা করে যান
পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোন ওয়ারিস রেখে যাননি

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মৃত্যুর সময় সবকিছু সাদাকা করে যান

৩০৬. আমর ইবনি হারিস, যিনি উম্মুল মুমিনীন জুয়াইরিয়া [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ইন্তিকালের সময় হাতিয়ার, একটি খচ্চর এবং কিছু জমি ছাড়া আর কিছু রেখে যাননি। সেগুলোও সাদাকা করে যান।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/২৯১২; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৮৪৮১; সুনানে দার কুতনী, হাদিস নং/৪৩৯৮; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হাদিস নং/১২২৪১। মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোন ওয়ারিস রেখে যাননি

৩০৭. আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা ফাতিমা [রাদি.] আবু বকর [রাদি.] এর নিকট এসে বলিলেন, আপনার [ত্যাজ্য সম্পত্তির] ওয়ারিস কে হইবে? তিনি বলিলেন, আমার পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততি। ফাতিমা [রাদি.] বলিলেন, তবে আমি কেন আমার পিতার ওয়ারিস হব না? আবু বকর [রাদি.] বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনিয়াছি, আমরা কাউকে ওয়ারিস করি না। তবে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যাদের ভরণ-পোষণ করিতেন, আমি তা বহাল রাখব এবং যাদের জন্য খরচ করে গিয়েছেন, আমিও তাহাদের জন্য খরচ করব।{১}

{১} সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হাদিস নং/১৩১১৯; মুসনাদে আহমদ, হাদিস নং/৬০; শারহুল মাআনী, হাদিস নং/৫৪৩৭। মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০৮. আবুল বুখতারী [রহঃ] হইতে বর্ণীতঃ

উমার [রাদি.]-এর খিলাফতকালে আব্বাস ও আলী [রাদি.] একে অপরের বিরূদ্ধে তাহাঁর কাছে অভিযোগ করেন। একে অপরকে বলিতে থাকেন, [তুমি এরূপ, তুমি এরূপ] তুমি এ করেছ, তুমি এ করেছ। উমার [রাদি.] তালহা, যুবায়ের, আবদুর রহমান ইবনি আওফ ও সাদ [রাদি.]-কে বলিলেন, আল্লাহর কসম দিয়ে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করছি, তোমরা কি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে বলিতে শুনোনি যে, নাবীদের সকল সম্পদ সাদাকা হয়? অবশ্য যা পরিবারের আহার বাবদ খরচ হইবে, তা এর অন্তর্ভুক্ত নয়। যেমন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এ উক্তি, “আমরা কাউকে উত্তরাধিকারী করি না”। এ হাদীসে একটি দীর্ঘ ঘটনা আছে।{১}

{১} আবু দাউদ, হাদিস নং/২৯৭৭; মুসনাদুল তায়ালুসী, হাদিস নং/৬১। মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩০৯. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, আমরা নাবীরা কাউকে ওয়ারিস করি না। আমাদের পরিত্যক্ত সকল সম্পদ সাদাকারূপে গণ্য।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৪৬৭৮ঃ আবু দাউদ, হাদিস নং/২৯৭৮; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৩৩৬; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৫১৬৮ সহিহ ইবনি খুযাইমা, হাদিস নং/২৩৫৩; জামেউস সগীর, হাদিস নং/১৩৫১৭। মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১০. আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, আমার উত্তরাধিকারী যেন আমার পরিত্যক্ত দীনার [স্বর্ণমুদ্রা] দিরহাম [রৌপ্যমুদ্রা] বণ্টন না করে। আমার পরিবার-পরিজন ও আমার কর্মচারীর খরচ দেয়ার পর যা কিছু থাকিবে, তা সাদাকা।{১}

{১} মুয়াত্তা মালেক, হাদিস নং/১৮০৩; সহিহ বোখারী, হাদিস নং/২৭৭৬; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৪৬৮২; আবু দাউদ, হাদিস নং/২৯৭৬; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/৭৩০১; সুনানুল কুবরা লিল বায়হাকী, হাদিস নং/১৩১১৭। মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১১. মালিক ইবনি আওস ইবনি হাদাসান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উমার [রাদি.] এর নিকট গেলাম। তখন আবদুর রহমান ইবনি আউফ, তালহা এবং সাদ [রাদি.] তাহাঁর নিকট উপস্থিত হন। কিছুক্ষণ পর আলী ও আব্বাস [রাদি.] বাদানুবাদ করিতে করিতে উপস্থিত হন। উমার [রাদি.] তাহাদের বলেন, আমি আপনাদেরকে সে সত্বার কসম দিয়ে জিজ্ঞেষ করছি, যাঁর ইচ্ছায় আসমান-জমিন কায়েম আছে, আপনারা কি জানেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, আমরা নাবীদের কোন ওয়ারিস নেই। আমরা যা কিছু রেখে যাই, তা সাদাকা। তারা সকলে বলিলেন, হ্যাঁ- নিশ্চয় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এ কথা বলেছেন। এ হাদীসে একটি দীর্ঘ ঘটনা রহিয়াছে।{১}

{১} সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৪৬৭৬; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৭২; বায়হাকী, হাদিস নং/১৩১৪৭ ৷ মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩১২. আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) দিনার, দিরহাম, বকরী ও উট কিছুই রেখে যাননি। বর্ণনাকারী বলেন, আয়েশাহ [রাদি.] দাস-দাসীর কথা উল্লেখ করিয়াছেন কি না তা আমার মনে পড়ছে না।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৪৪৬১; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং/৪৩১৬; আবু দাউদ, হাদিস নং/২৮৬৫; সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং/৩৬২১; ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/২৬৯৫; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৫৫৭৯; বায়হাকী, হাদিস নং/১২৩৩৩। মীরাস হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply