রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর মিরাজ এবং সলাত ফারয হওয়া

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর মিরাজ এবং সলাত ফারয হওয়া

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর মিরাজ এবং সলাত ফারয হওয়া >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৭৪.অধ্যায়ঃ রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর মিরাজ এবং সলাত ফারয হওয়া

৩০০

আনাস ইবনি মালিক [রাঃআ:] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেনঃ আমার জন্য বুরাক পাঠানো হলো। {৬৮} বুরাক গাধা থেকে বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট একটি সাদা রঙের জন্তু। যতদূর দৃষ্টি যায় এক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেনঃ আমি এতে আরোহণ করলাম এবং বাইতুল মাকদাস পর্যন্ত এসে পৌছলাম। তারপর অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কিরাম তাহাদের বাহনগুলো যে খুঁটির সাথে বাঁধতেন, আমি সে খুঁটির সাথে আমার বাহনটিও বাঁধলাম। তারপর মাসজিদে প্রবেশ করলাম ও দূ রাকআত সলাত আদায় করে বের হলাম। জিবরীল [আ:] একটি শরাবের পাত্র এবং একটি দুধের পাত্র নিয়ে আমার কাছে এলেন। আমি দুধ গ্রহণ করলাম। জিবরীল [আ:] আমাকে বলিলেন, আপনি ফিত্‌রাহ্‌কেই গ্রহণ করিলেন। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বলোকে গেলেন এবং আসমান পর্যন্ত পৌছে দ্বার খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাঁকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। অতঃপর আমাদের জন্য দরজা খুলে দেয়া হলো। সেখানে আমি আদাম [আ:]-এর দেখা পাই। তিনি আমাকে মুবারাকবাদ জানালেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করিলেন। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে ঊর্ধ্বলোক নিয়ে চললেন। জিজ্ঞেস কর হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, তাঁকে কি আনতে পাঠানো হয়েছিল? বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হলো। সেখানে আমি ঈসা ইবনি মারইয়াম ও ইয়াহ্‌ইয়া ইবনি যাকারিয়্যা [আ:] দুই খালাত ভাইয়ের দেখা পেলাম। তারা আমাকে মারহাবা বলিলেন, আমার জন্য কল্যাণের দুআ করিলেন। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বলোকে চললেন এবং তৃতীয় আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বলিলেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাঁকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হলো। সেখানে ইউসুফ [আ:]-এর দেখা পেলাম। সমুদয় সৌন্দর্যের অর্ধেক দেয়া হয়েছিল তাঁকে। তিনি আমাকে মারহাবা বলিলেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করিলেন। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে চতুর্থ আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বলিলেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাঁকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হলো। সেখানে ইদরীস [আ:]-এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বলিলেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করিলেন। আল্লাহ তাআলা তাহাঁর সম্পর্কে ইরশাদ করেছেনঃ “এবং আমি তাকে উন্নীত করেছি উচ্চ মর্যাদায়”-[সূরাহ আল হাদীদ ৫৭ : ১৯]। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে পঞ্চম আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনি কে? {৬৯} তিনি বলিলেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাঁকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হলো। সেখানে হারূন [আ:]-এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বলিলেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করিলেন। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে ষষ্ঠ আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বলিলেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাঁকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হলো। সেখানে মূসা [আ:]-এর দেখা পেলাম। তিনি আমাকে মারহাবা বলিলেন এবং আমার কল্যাণের জন্য দুআ করিলেন। তারপর জিবরীল [আ:] সপ্তম আসমানের দ্বারপ্রান্তে পৌছে দরজা খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বলিলেন, জিবরীল। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মাদ। জিজ্ঞেস করা হলো, আপনাকে কি তাঁকে আনতে পাঠানো হয়েছিল? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ! পাঠানো হয়েছিল। তারপর আমাদের জন্য দ্বার খুলে দেয়া হলো। সেখানে ইবরাহীম [‘আ:]-এর দেখা পেলাম। তিনি বাইতুল মামূরে পিঠ ঠেকিয়ে বসে আছেন।{৭০} বাইতুল মামূরে প্রত্যেহ সত্তর হাজার ফেরেশ্‌তা তাওয়াফের উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন যাঁরা আর সেখানে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পান না। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে সিদ্‌রাতুল মুনতাহায় {৭১} নিয়ে গেলেন। সে বৃক্ষের পাতাগুলো হাতির কানের ন্যায় আর ফলগুলো বড় বড় মটকার মত। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, সে বৃক্ষটিকে যখন আল্লাহর নির্দেশে যা আবৃত করে তখন তা পরিবর্তিত হয়ে যায়। সে সৌন্দর্যের বর্ণনা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে কারোর পক্ষে সম্ভব নয়। এরপর আল্লাহ তাআলা আমার উপর যে ওয়াহী করার তা ওয়াহী করিলেন। আমার উপর দিনরাত মোট পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফরয করিলেন, এরপর আমি মূসা [আ:]-এর কাছে ফিরে আসলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উপর কি ফরয করিয়াছেন। আমি বললাম, পঞ্চাস ওয়াক্ত সলাত। তিনি বলিলেন, আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান এবং একে আরো সহজ করার আবেদন করুন। কেননা আপনার উম্মাত এ নির্দেশ পালনে সক্ষম হইবে না। আমি বানী ইসরাঈলকে পরীক্ষা করেছি এবং তাহাদের বিষয়ে আমি অভিজ্ঞতা লাভ করেছি। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলিলেন, তখন আমি আবার প্রতিপালকের কাছে ফিরে গেলাম এবং বললাম, হে আমার রব! আমার উম্মাতের জন্য এ হুকুম সহজ করে দিন। পাঁচ ওয়াক্ত কমিয়ে দেয়া হলো। তারপর মূসা [আ:]-এর নিকট ফিরে এসে বললাম, আমার থেকে পাঁচ ওয়াক্ত কমানো হয়েছে। তিনি বলিলেন, আপনার উম্মাত এও পারবে না। আপনি ফিরে যান এবং আরো সহজ করার আবেদন করুন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ এভাবে আমি একবার মূসা [আ:] ও একবার আল্লাহর মাঝে আসা-যাওয়া করিতে থাকলাম। শেষে আল্লাহ তাআলা বললেনঃ হে মুহাম্মাদ! যাও দিন ও রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নির্ধারণ করা হলো। প্রতি ওয়াক্ত সালাতে দশ ওয়াক্ত সলাতের সমান সাওয়াব রয়েছে। এভাবে [পাঁচ ওয়াক্ত হলো] পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাতের সমান। যে ব্যক্তি কোন নেক কাজের নিয়্যাত করিল এবং তা কাজে রূপান্তরিত করিতে পারল না, আমি তার জন্য একটি সাওয়াব লিখব; আর তা কাজে রূপায়িত করলে তার জন্য লিখব দশটি সাওয়াব। পক্ষান্তরে যে কোন মন্দ কাজের নিয়্যাত করিল অথচ তা কাজে পরিণত করিল না তার জন্য কোন গুনাহ লিখা হয় না। আর তা কাজে পরিণত করলে তার উপর লিখা হয় একটি মাত্র গুনাহ। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, তারপর আমি মূসা [আ:]-এর নিকট নেমে এলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে অবহিত করলাম। তিনি তখন বলিলেন, প্রতিপালকের কাছে ফিরে যান এবং আরো সহজ করার প্রার্থনা করুন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলিলেন, এ বিষয়টি নিয়ে বারবার আমি আমার প্রতিপালকের নিকট আসা-যাওয়া করেছি, এখন আবার যেতে লজ্জা হচ্ছে। [ই.ফা ৩০৮; ই.সে. ৩১৯]

{৬৮} কাযী ইয়ায [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন যে, মিরাজ স্বশ্বরীরে হয়েছিল না স্বপ্নযোগে হয়েছিল এটা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন, স্বপ্নযোগে হয়েছিল। এটা অত্যন্ত দুর্বল কথা। অধিকাংশ পূর্ব ও পরের উলামা, ফুকাহা ও মুহাদ্দিসীনের অভিমত হলো প্রিয়নবি [সাঃআ:] এর জাগ্রত অবস্থায় স্বশরীরে মিরাজ সংঘটিত হয়েছিল। হাদীসসমূহে প্রকাশ্যভাবে এর প্রমাণ পাওয়া যায়। এর বিপরীত হাদীসের অন্য ব্যাখ্যার কোন কারণ বা সুযোগ নেই যে, অন্য তাবীল করা যাবে। [সংক্ষিপ্ত নাবাবী]

খাদীজাহ্‌ [রাঃআ:]-এর মৃত্যু মিরাজের পূর্বেই হয়েছিল। তাহাঁর মৃত্যু নুবূওয়াতের দশম বর্ষের রমাযান মাসে হয়েছিল বলে জানা যায়। কাজেই মিরাজের ঘটনা এর পরেই ঘটেছে, আগে নয়। [আর রাহীকুল মাখতুম, অনুবাদ-খাদীজাহ আক্তার রেজায়ী ১৬৬ পৃঃ]

{৬৯} ইমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, এ হাদীস থেকে কয়েকটি কথা জানা যায়। [১] বাড়ীর মধ্যে হতে কোন আগন্তুককে যদি বলা হয় কে? তার উত্তরে বলবে নাঃ “আমি”; বরং নাম বলিতে হইবে। [২] আকাশের দরজা আছে [৩] দরজার নিকটে পাহারাদার আছে। [৪] মেহমানের সম্মানে মারহাবা বলে অভিবাদন জানানো যাবে। এটাই নবিদের আদর্শ।

{৭০} “বাইতুল মামুর” নামে বাইতূল্লাহ্‌র সামনে আকাশের উপরে একটি ঘর আছে। বাইতুল মামূর এজন্য বলা হয় যে, সব সময় এ ঘরটি সমৃদ্ধ থাকে অর্থাৎ প্রত্যেকদিন নতূনভাবে সত্তর হাজার ফেরেশ্‌তা ইবাদাতের জন্য আসে। বাইতুল মামুর সপ্তম আকাশে আছে। ইবরাহীম [আ:] বাইতুল মামুর-এর দিকে পিঠ ফিরে বসে ছিলেন। এ হাদীস হতে এটাও প্রমাণ হয় যে, বাইতুল্লাহ্‌র দিকে পিঠ করে বসা যাবে।

{৭১} “সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা” সপ্তম আকাশের উপরের একটি বরই গাছ এবং ফেরেশতাহাদের বিচরণের শেষ সীমা। অথবা গমনের শেষ সীমা। অর্থাৎ সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহার উপর কি আছে আল্লাহ ছাড়া কারও জ্ঞান নেই।

ইব্‌নু আব্বাস [রাঃআ:] বলেন, সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা এজন্য বলা হয় যে, ফেরেশতাহাদের জ্ঞান বিচরণ ওখান পর্যন্ত শেষ হয়েছিল। তার আগে তারা যেতে পারেনি, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] ব্যতীত। আর যারা উপরে আছে তারা এখানে এসে থেমে যায়। নিচে আসতে পারে না এবং যারা নিচে আছে তারা এখানে এসে থেমে যায়। উপরে যেতে পারে না। এটা আল্লাহর নির্দেশ।

এ হাদীস হতে প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ আর্‌শের উপর সমাসীন আছেন এবং প্রিয় নবির সাথে  কথা বলেছেন। যার কোন অপব্যাখ্যার সুযোগ নেই। এ কথোপকথনের মধ্যে পঞ্চাশ ওয়াক্ত হতে কমিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত ফারয করে নিয়েছেন। arbi

৩০১

আনাস ইবনি মালিক [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, আমার নিকট ফেরেশতা আসলেন এবং তাঁরা আমাকে নিয়ে যামযামে গেলেন। আমার বুক চিরে ফেলা হলো। তারপর যামযামের পানি দিয়ে আমাকে গোসল করানো হলো। এরপর নির্ধারিত স্থানে আমাকে ফিরিয়ে আনা হলো। [ই.ফা. ৩০৯; ই.সে. ৩২০]

৩০২

আনাস ইবনি মালিক [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] এর নিকট জিবরীল [আ:] এলেন, তখন তিনি শিশুদের সাথে খেলছিলেন। তিনি তাঁকে ধরে শোয়ালেন এবং বুক চিরে ফেরে তাহাঁর হৃদপিণ্ডটি বের করে আনলেন। তারপর তিনি তাহাঁর বক্ষ থেকে একটি রক্তপিণ্ড বের করিলেন এবং বলিলেন, এ অংশটি হলো শয়তানের। এরপর হৃদপিণ্ডটি একটি স্বর্ণের পাত্রে রেখে যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করিলেন এবং তার অংশগুলো জড়ো করে আবার তা যথাস্থানে পুনঃস্থাপর করিলেন। তখন ঐ শিশুরা দৌড়ে তাহাঁর দুধ মায়ের [হালীমা-এর] কাছে গেল এবং বললো, মুহাম্মাদ [সাঃআ:]-কে হত্যা করা হয়েছে। কথাটি শুনে সবাই সেদিকে এগিয়ে গিয়ে দেখল তিনি ভয়ে বিবর্ণ হয়ে আছেন। আনাস [রাঃআ:] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-এর বুকে সে সেলাই এর চিহ্ন দেখেছি। [ই.ফা. ৩১০; ই.সে. ৩২১]

৩০৩

শারীক ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি আবু নামির [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

যে রাতে রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:]-কে কাবার মাসজিদ থেকে মিরাজে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সে রাত সম্পর্কে আমি আনাস ইবনি মালিক [রাঃআ:]-কে বর্ণনা করিতে শুনিয়াছি যে, ওয়াহী প্রাপ্তির পূর্বে রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] একদিন মাসজিদুল হারামে নিদ্রিত অবস্থায় ছিলেন। এরূপে বর্ণনাকারী পূর্ব বর্ণিত সাবিতুল বুনানীর হাদীসেরই অনুরূপ বর্ণনা করে যান। তবে এ বর্ণনায় শব্দের কিছু আগপাছ ও কমবেশি রয়েছে। [ই.ফা. ৩১১; ই.সে. ৩২২]

৩০৪

আবু যার [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, আমি মাক্কাতে ছিলাম। আমার ঘরের ছাদ ফাঁক করা হলো। তখন জিবরীল [আ:] অবতরণ করিলেন। তিনি আমার বুক ছিড়ে ফেললেন। এরপর তা যমযমের পানি দিয়ে ধৌত করিলেন। তারপর হিকমাত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি পাত্র আনা হলো এবং এতে তা রাখা হলো, পুনঃ তা আমার বুকে ঢেলে বুক বন্ধ করে দিলেন। এরপর আমার হাত ধরলেন এবং ঊর্ধ্বাকাশে যাত্রা করিলেন। আমরা যখন প্রথম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম, তখন জিবরীল [আ:] এ আসমানের দারোয়ানকে বলিলেন, দরজা খুলুন, তিনি বলিলেন কে? বলিলেন, জিবরীল। দারোয়ান বলিলেন, আপনার সাথে কি অন্য কেউ আছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। আমার সাথে মুহাম্মাদ [সাঃআ:] আছেন। দারোয়ান বলিলেন, তাহাঁর কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দেয়া হলো। আমরা প্রবেশ করে দেখি, এক ব্যক্তি তাহাঁর ডানে একদল মানুষ এবং বাঁয়ে একদল মানুষ। যখন তিনি ডান দিকে তাকান তখন হাসেন, আর যখন বাঁ দিকে তাকান তখন কাঁদেন। তিনি আমাকে বলিলেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবি। হে সুযোগ্য সন্তান! রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, আমি জিবরীলকে বললাম, ইনি কে? তিনি বলিলেন, ইনি আদাম [আ:] আর ডান ও বাঁয়ের এ লোকগুলো তাহাঁর বংশধর। ডান দিকের লোকেরা হচ্ছে জান্নাতবাসী আর বাম দিকের লোকেরা হচ্ছে জাহান্নামবাসী। আর এ কারণেই তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন এবং বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে ঊর্ধ্বারোহণ করিলেন এবং দ্বিতীয় আসমানে পৌছলেন এবং এর দারোয়ানকে বলিলেন, দরজা খুলুন। তিনি প্রথম আসমানের দারোয়ানের ন্যায় প্রশ্নোত্তর করে দরজা খুলে দিলেন। আনাস [রাঃআ:] বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন যে, তিনি আসমানসমূহে আদাম, ইদ্‌রীস, মূসা এবং ইবরাহীম [আ:]-এর সাথে দেখা করিয়াছেন। আদাম [আ:] প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম [আ:] ৬ষ্ঠ আসমানে। এ ছাড়া অন্যান্য নবির অবস্থান সম্পর্কে এ রিওয়ায়াতে কিছু উল্লেখ নেই।

আনাস [রাঃআ:] বলেন, যখন রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] ও জিবরীল [আ:] ইদ্‌রীস [আ:]-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তিনি বলেছিলেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবি! সুযোগ্য ভ্রাতা! রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? জিবরীল [আ:] উত্তর দিলেন; ইনি ইদ্‌রীস [আ:]। তারপর আমরা মূসা [আ:]-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বলিলেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবি, সু্যোগ্য ভ্রাতা! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি মূসা [আ:]। তারপর আমরা ঈসা [আ:]-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনিও বলিলেন, ইনি ঈসা [আ:]। তারপর আমরা ইবরাহীম [আ:]-এর নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম তিনিও বলিলেন, মারহাবা হে সুযোগ্য নবি! সু্যোগ্য সন্তান! জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি বলিলেন, ইনি ইবরাহীম [আ:]।

ইবনি শিহাব, ইবনি হায্‌ম, ইবনি আব্বাস ও আবু হাব্বাহ্‌ আনসারী থেকে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে নিয়ে আরো ঊর্ধ্বে চললেন। আমরা এমন এক স্তরে পৌছলাম যে তথায় আমি কলম-এর খশখশ শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম।

ইবনি হাযম ও আনাস ইবনি মালিক বর্ণনা করেন, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, তখন আল্লাহ তাআলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করেন। আমি এ নিয়ে ফেরার পথে মূসা [আ:]-এর সাথে দেখা হয়। তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করিলেন, আপনার প্রতিপালক আপনার উম্মাতের উপর কি ফারয করিয়াছেন? আমি উত্তরে বললাম, তাহাদের উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করা হয়েছে। মূসা [আ:] আমাকে বলিলেন, আপনি আপনার প্রতিপালকের নিকট ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মাত এতে সক্ষম হইবে না। তাই আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলাম। তখন আল্লাহ এর অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি আবার ফিরে এসে মূসা [আ:]-কে জানালে তিনি বলিলেন, না। আপনি পুনরায় ফিরে যান; কেননা আপনার উম্মাত এতেও সক্ষম হইবে না। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেনঃ তারপর আমি আল্লাহর দরবারে ফিরে গেলে তিনি বলিলেন, এ নির্দেশ পাঁচ, আর পাঁচই পঞ্চাশের সমান করে দিলাম, আমার কথার কোন রদবদল নেই। এরপর আমি মূসা [আ:]-এর নিকট ফিরে আসি। তিনি তখনো বলিলেন, আপনি ফিরে যান আল্লাহর দরবারে। আমি বললামঃ আমার লজ্জা লাগছে। তারপর জিবরীল [আ:] আমাকে সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা নিয়ে চললেন, আমরা পৌছলাম। তা এর বিচিত্র রঙে আবৃত যে, আমি বুঝতে পারছি না যে, আসলে তা কী? তারপর আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হলো। তথায় ছিল মুক্তার গম্বুজ আর তার মাটি ছিল মিশকের। [ই.ফা. ৩১২; ই.সে. ৩২৩]

৩০৫

আনাস ইবনি মালিক [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রাবী বলেন, আনাস [রাঃআ:] সম্ভবত তাহাঁর সম্প্রদায়ের জনৈক মালিক ইবনি সাসাআহ্‌ [রাঃআ:] বলেন যে, নবি [সাঃআ:] বলেন, একদিন আমি কাবা শরীফের নিকটে নিদ্রা ও জাগরণের মাঝামাঝি ছিলাম। তখন তিন ব্যক্তির মধ্যবর্তী একজনকে কথা বলিতে শুনতে পেলাম। যা হোক তিনি আমার নিকট এসে আমাকে নিয়ে গেলেন। তারপর আমার নিকট একটি স্বর্ণের পাত্র আনা হলো, তাতে যমযমের পানি ছিল। এরপর তিনি আমার বক্ষদেশ এখান থেকে ওখান পর্যন্ত বিদীর্ণ করিলেন। বর্ণনাকারী কাতাদাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আমার পার্শ্বস্থ একজনকে জিজ্ঞেস করলাম, এখান থেকে ওখান পর্যন্ত বলে কি বুঝাতে চেয়েছেন? তিনি জবাব দিলেন, “বুক থেকে পেটের নীচ পর্যন্ত।” রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, এরপর আমার হৃদপিণ্ডটি বের করা হলো এবং যমযমের পানি দিয়ে তা ধুয়ে পুনরায় যথাস্থানে স্থাপন করে দেয়া হলো। ঈমান ও হিকমাতে আমার হৃদয় পূর্ণ করে দেয়া হলো। এরপর আমার নিকট বুরাক নামের একটি সাদা জন্তু উপস্থিত করা হয়। এটি গাধা থেকে কিছু বড় এবং খচ্চর থেকে ছোট। যতদূর দৃষ্টি যায় একেক পদক্ষেপে সে ততদূর চলে। এর উপর আমাকে আরোহণ করানো হলো। আমরা চললাম এবং দুনিয়ার আসমান পর্যন্ত পৌছলাম। জিবরীল [আ:] দরজা খুলতে বলিলেন। জিজ্ঞেস করা হলো, কে? তিনি বলিলেন, জিবরীল। জিজ্ঞস করা হলো, আপনার সাথে কে? তিনি বলিলেন, আমার সাথে মুহাম্মাদ [সাঃআ:] আছেন। দ্বাররক্ষী বলিলেন, তাহাঁর কাছে আপনাকে পাঠানো হয়েছিল কি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। এরপর দরজা খুলে দিলেন এবং বলিলেন, মারহাবা! কত সম্মানিত আগন্তুকের আগমন হয়েছে। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বললেনঃ তারপর আমরা আদাম [আ:]-এর নিকট আসলাম ….. এভাবে বর্ণনাকারী পূর্ণ হাদীসটি বর্ণনা করে যান। তবে এ রিওয়ায়াতে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] দ্বিতীয় আসমান ঈসা ও ইয়াহ্‌ইয়া, তৃতীয় আসমানে ইউসুফ, চতুর্থ আসমানে ইদ্‌রীস, পঞ্চম আসমানে হারূন [আ:]-এর সাথে সাক্ষাৎ করিয়াছেন। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, তারপর আমরা ষষ্ঠ আসমানে গিয়ে পৌছি এবং মূসা [আ:]-এর নিকট গিয়ে তাঁকে সালাম দেই। তিনি বলিলেন, মারহাবা, হে সুযোগ্য নবি, সুযোগ্য ভ্রাতা! এরপর আমরা তাঁকে অতিক্রম করে চলে গেলে তিনি কাঁদতে শুরু করিলেন। আওয়াজ এল, তুমি কেন কাঁদছো? তিনি জবাব দিলেন, প্রভু! এ বালককে আপনি আমার পরে পাঠিয়েছেন, অথচ আমার উম্মাত অপেক্ষা তাহাঁর উম্মাত অধিক সংখ্যায় জান্নাতে প্রবেশ করিবে। রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] বলেন, আমরা আবার চললাম এবং সপ্তম আসমানে গিয়ে পৌছলাম ও ইবরাহীম [আ:]-এর নিকট আসলাম। সহাবা তা এ হাদীসে আরো উল্লেখ করেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ [সাঃআ:] আরো বলেছেন, সেখানে তিনি চারটি নহর দেখেছেন। {৭২} তন্মধ্যে দুটি প্রকাশ্য ও দুটি অপ্রকাশ্য। সবগুলোই সিদরাতুল মুনতাহার গোড়া হতে প্রবাহিত। নবি [সাঃআ:] বলেন, আমি বললাম, হে জিবরীল! এ নহরগুলো কি? তিনি বলিলেন, অপ্রকাশ্য নহরদ্বয় তো জান্নাতের নহর আর প্রকাশ্যগুলো নীল ও ফুরাত। অর্থাৎ এ দুটি নহরের সাদৃশ্য রয়েছে জান্নাতের ঐ দুটি নহরের সাথে। এরপর আমাকে বাইতুল মামূর-এ উঠানো হলো। বললাম, হে জিবরীল! এ কি? তিনি বলিলেন, এ হচ্ছে বাইতুল মামূর। প্রত্যহ এতে সত্তর হাজার ফেরেশতা [তাওয়াফের জন্য] প্রবেশ করে। তারা একবার তাওয়াফ সেরে বের হলে কখনো আর ফের তাওয়াফের সুযোগ হয় না তাহাদের। তারপর আমার সম্মুখে দুটি পাত্র পেশ করা হলো- একটি শরাবের, অপরটি দুধের। আমি দুধের পাত্রটি গ্রহণ করলাম। তিনি আমাকে বলিলেন, আপনি ঠিক করিয়াছেন। আল্লাহ আপনার উম্মাতকেও আপনার ওয়াসীলায় ফিত্‌রাহ-এর উপর কায়িম রাখুন। তারপর আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সলাত ফারয করা হয় ….. এভাবে বর্ণনাকারী হাদীসের শেষ পর্যন্ত বর্ণনা করেন। [ই.ফা ৩১৩, ই.সে ৩২৪]

{৭২} প্রিয়নবি ৪টি নহর দেখলেন। ২টি যাহিরী আর ২টি বাত্বিনী। যাহিরী বা প্রকাশ্য নহর ছিল, নীল এবং ফুরাত।এর তাৎপর্য সম্ভবত এই যে, তাহাঁর দ্বীন নীল এবং ফুরাতে সজীব এলাকা সমূহে বিস্তার লাভ করিবে। অর্থাৎ এখানকার অধিবাসীরা বংশ পরম্পরায় মুসলিম হইবে। এটার অর্থ এ নয় যে, এই দুটি নহরের পানির উৎস জান্নাতে রয়েছে। নীল নদী আফ্রিকার মিসর রাজ্যের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে গেছে এবং ফুরাত নদী ইরাকের কুফার নিকটে অবস্থিত। [সংক্ষিপ্ত নাবাবী]

৩০৬

মালিক ইবনি সাসাআহ্‌ [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে রাবী এতে ….. এরপর আমার নিকট ঈমান ও হিকমাত ভর্তি একটি রেকাবী আনা হলো এবং আমার বুকের উপরিভাগ হতে পেটের নিম্নাংশ পর্যন্ত বিদীর্ণ করা হলো ও যামযামের পানি দিয়ে ধৌত করে হিকমাত ও ঈমান দিয়ে পরিপূর্ণ করে দেয়া হলো, এ অংশটুকু অতিরিক্ত বর্ণিত হয়েছে। [ই.ফা ৩১৪, ই.সে ৩২৫]

৩০৭

ইবনি আব্বাস [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] তাহাঁর মিরাজ ভ্রমনের কথা উল্লেখ করে বলেনঃ মূসা [আ:] হচ্ছেন শা্নূয়াহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায় দীর্ঘদেহী, গন্দুম [গম] বর্ণের। ঈসা [আ:] মধ্যমাকৃতি সুঠাম দেহ বিশিষ্ট। তাছাড়া রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] জাহান্নামের রক্ষী মালিক ও দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছিলেন। [ই.ফা. ৩১৫; ই.সে. ৩২৬]

৩০৮

ইবনি আব্বাস [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেনঃ মিরাজের রাত্রে আমি মূসা [আ:] এর নিকট দিয়ে গিয়েছি। তিনি দেখিতে গন্দুম বর্ণের, দীর্ঘদেহী অনেকটা দেখিতে শানূয়াহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায়। ঈসা ইবনি মারইয়াম [আ:] কে দেখেছি, তাহাঁর রং ছিল শ্বেত লোহিত, সুঠামদেহী আর তাহাঁর চুলগুলো ছিল স্বাভাবিক। বর্ণনাকারী বলেন, যে নিদর্শনসমুহ কেবল তাকেই দেখানো হয়েছিল সেগুলোর মধ্যে জাহান্নামের রক্ষী মালিককে এবং দাজ্জালকে দেখানো হয়। “অতএব তুমি তাহাঁর সাক্ষাত সম্পর্কে সন্দেহ করো না”। [arbi সূরাহ আস সাজদাহ ৪১ : ২৩]

এ আয়াতের তাফসীরে কাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলিতেন যে, নবি [সাঃআ:] মূসা [আ:] এর সাথে সাক্ষাৎ করিয়াছেন। [ই.ফা. ৩১৬, ই.সে. ৩২৭]

৩০৯

ইবনি আব্বাস [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] যখন আযরাক উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছিলেন, তখন বলিলেন, এটি কোন উপত্যকা? সঙ্গীগন উত্তর দিলেন, আযরাক উপত্যকা। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলিলেন, আমি যেন মূসা [আ:] কে গিরিপথ থেকে অবতরন করিতে দেখেছি, তিনি উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করছিলেন। {৭৩} তারপর রসূল [সাঃআ:] হারশা গিরিপথে আসলেন। তিনি বলিলেন, এটি কোন গিরিপথ? সঙ্গীগন বলিলেন, হারশা গিরিপথ। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলিলেন, আমি যেন ইউনুস ইবনি মাত্তা [আ:] কে দেখছি। তিনি সুঠামদেহী লাল ঊটের পিঠে আরোহিত। গায়ে একটি পশমী জোব্বা, আর তাহাঁর ঊটের রশিটি খেজুরের ছাল দিয়ে তৈরি।

ইবনি হাম্বাল তাহাঁর হাদীসে বলেনঃ হুশায়ম বলেছেন, এর অর্থ খেজুর বৃক্ষের ছাল। [ই.ফা. ৩১৭, ই.সে. ৩২৮]

{৭৩} প্রশ্ন হলো যে, নবি [আ:], যিনি মারা গেছেন তিনি কি করে হাজ্জ করবেন ও তালবিয়্যাহ পাঠ পড়বেন? কাযী ইয়ায কয়েকভাবে এর ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করিয়াছেন। তাহাঁর মধ্যে তিনি বলেছেন যে, হতে পারে রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] এট মিরাজ ছাড়া অন্য কোন রাতে স্বপ্নে দেখেছিলেন এবং রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] কে তাহাঁর পুর্ব নবিদের হাজ্জ উদাহরন স্বরুপ দেখিয়েছেন। [সংখিপ্ত নাবাবী]

{৭৩} প্রশ্ন হলো যে, নবি; যিনি মারা গেছেন, তিনি কি করে হাজ্জ করবেন ও তালবিয়্যাহ পাঠ করবেন? কাযী ইয়ায কয়েকভাবে এর ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করিয়াছেন। তার মধ্যে তিনি বলেছেন যে, হতে পারে রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] এটা মিরাজ ছাড়া অন্য কোন রাতে স্বপ্নে দেখেছিলেন এবং রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] কে তার পূর্ব নবিদের হাজ্জ উদাহরণ স্বরুপ দেখিছেন। [সংক্ষিপ্ত নাবাবী]

৩১০

ইবনি আব্বাস [রাযি :] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] এর সাথে আমরা মাক্কাহ ও মাদীনার মধ্যকার এক স্থানে সফর করছিলাম। আমরা একটি উপত্যকা অতিক্রম করছি, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] জিজ্ঞেস করিলেন, এটি কোন উপত্যকা? সঙ্গীগন উত্তর করিলেন, আযরাক উপত্যকা। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলিলেন, আমি যেন এখনো মূসা [আ:] কে দেখিতে পাচ্ছি, তিনি তাহাঁর কর্নদ্বয়ের ছিদ্রে অঙ্গুলি রেখে উচ্চৈঃস্বরে তালবিয়াহ পাঠ করে এ উপত্যকা অতিক্রম করে যাচ্ছেন। বর্ণনাকারী বলেন, এখানে রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] মূসা [আ:] এর দেহের বর্ন ও চুলের আকৃতি সম্পর্কে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু রাবী দাঊদ তা স্মরণ রাখতে পারেননি। ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] বলেন, তারপর আমরা সামনে আরো অগ্রসর হলাম এবং একটি গিরিপথে এসে পৌছলাম। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] জিজ্ঞেস করিলেন, এটি কোন গিরিপথ? সঙ্গীগন বলিলেন হারশা কিংবা লিফত। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলিলেন, আমি যেন এখনো ইউনুস [আ:] কে দেখিতে পাচ্ছি তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় তিনি গিরিপথে গিরিপথ অতিক্রম করে যাচ্ছেন। তাহাঁর গায়ে একটি পশমি জুব্বা, আর তিনি একটি লাল উটের পিঠে আরোহিত। তাহাঁর উটের রশিটি খেজুর বৃক্ষের ছাল দ্বারা তৈরি। [ই.ফা. ৩১৮, ই.সে. ৩২৯]

৩১১

মুজাহিদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

আমরা ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] এর কাছে উপস্থিত ছিলাম। উপস্থিত সবাই দাজ্জালের আলোচনা উঠালেন। তখন কোন একজন বলিলেন, তার [দাজ্জালের] দু চোখের মাঝামাঝিতে “কাফির” শব্দ খচিত আছে। তখন ইবনি আব্বাস [রাঃআ:] বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] এমন কিছু বলেছেন বলে আমি শুনিনি। তবে এতটুকু বলিতে শুনিয়াছি যে, ইবরাহীম [আ:] এর আকৃতি জানতে হলে তোমাদের এ সাথীরই [নিজের দিকে ইঙ্গিত] দিকে তাকাও। [তিনি অনুরুপই ছিলেন] আর মূসা [আ:] ছিলেন গন্দুমী বর্ণের সুঠামদেহী। তাকে লাল বর্ণের একটি ঊটের পিঠে আরোহিত দেখেছি। আমি যেন তাকে এখনো তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় উপত্যকার ঢালু দিয়ে নামতে দেখেছি। [ই.ফা. ৩১৯, ই.সে. ৩৩০]

৩১২

জাবির [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন য, আমার নিকট নবিগনকে উপস্থিত করা হলো, তখন মূসা [আ:] কে দেখলাম একজন মধ্যম ধরনের মানুষ, অনেকটা শানূয়াহ গোত্রীয় লোকদের ন্যায়। আর ঈসা ইবনি মারইয়াম [আ:] কে দেখলাম, তাহাঁর নিকটতম ব্যক্তি হলেন উরওয়াহ ইবনি মাসুদ। ইবরাহীম [আ:] কে দেখলাম, তাহাঁর অনেকটা কাছাকাছি সদৃশ ব্যক্তি হচ্ছেন তোমাদের এ সাথী অর্থাৎ স্বয়ং রসুলুল্লাহ [সাঃআ:]। জিবরীল [আ:] কে দেখলাম তাহাঁর কাছাকাছি সদৃশ ব্যক্তি হচ্ছেন দিহইয়া। ইবনি রুমহ-এর বর্ণনায় আছে, দিহইয়া ইবনি খলীফার ন্যায়। [ই.ফা. ৩২০; ই.সে. ৩৩১]

৩১৩

আবু হুরাইরাহ [রাযিঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নবি [সাঃআ:] বলেন, মিরাজ রজনীতে আমি মূসা [আ:] এর সাথে দেখা করেছি। এরপর নবি [সাঃআ:] তাহাঁর দেহের আকৃতি বর্ণনা করিয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেন, নবি [সাঃআ:] তাহাঁর দেহের আকৃতি বর্ণনা করিয়াছেন যে, তিনি মৃদু কোঁকড়ানো চুল বিশিষ্ট। দেখিতে শানুয়াহ গোত্রের লোকদের ন্যায়। নবি [সাঃআ:] বলেন, আমি ঈসা [আ:] এর সাথে দেখা করেছি। এরপর তিনি ঈসা আ এর আকৃতি বর্ণনা করিতে গিয়ে বলেন, তিনি মধ্যম ধরনের লোহিত বর্ণের পুরুষ। মনে হচ্ছিল এক্ষুনি যেন গোসলখানা থেকে বেরিয়ে আসলেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআ:] বলেন, আমি ইবরাহীম [আ:] কে দেখেছি। তাহাঁর সন্তানদের মধ্যে আমিই সবচেয়ে বেশী তাহাঁর সাদৃশ্যের অধিকারী। এরপর আমার সম্মুখে দুটি পাত্র পেশ করা হয়, এর একটি দুধের অপরটি শরাবের। আমাকে বলা হলো, এর মধ্যে যেটা আপনার ইচ্ছা সেটা গ্রহন করুন। আমি দুধ গ্রহন করে তা পান করলাম। জিবরীল [আ:] আমাকে বলিলেন, আপনাকে ফিতরাহ এরই হিদায়াত করা হয়েছে। আপনি যদি শরাব গ্রহন করিতেন তবে আপনার উম্মাত গোমরাহ হয়ে যেত। [ই.ফা. ৩২১; ই.সে. ৩৩২]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply