মিরাজের রাত্রি তে আল্লাহ তাহাঁর নাবীকে যা দেখিয়েছেন

মিরাজের রাত্রি তে আল্লাহ তাহাঁর নাবীকে যা দেখিয়েছেন

মিরাজের রাত্রি তে আল্লাহ তাহাঁর নাবীকে যা দেখিয়েছেন << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

ত্রয়োবিংশ পরিচ্ছেদ – ইসরা ও মিরাজের রাত্রি তে আল্লাহ তাহাঁর নাবীকে যা দেখিয়েছেন তা রাঃসাঃ  এর নবুওয়তের প্রমাণ

“পবিত্র মহান সে সত্তা, যিনি তাহাঁর বান্দাকে রাতে নিয়ে গিয়েছেন আল মাসজিদুল হারাম থেকে আল মাসজিদুল আকসা[1] পর্যন্ত, যার আশপাশে আমি বরকত দিয়েছি, যেন আমি তাকে আমার কিছু নিদর্শন দেখাতে পারি। তিনিই সর্বশ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা”। [কোরআনের সুরা আল-ইসরা: ১]

“আর সে তো তাকে[2] আরেকবার[3] দেখেছিল। সিদরাতুল মুনতাহার[4] নিকট। যার কাছে জান্নাতুল মা`ওয়া[5] অবস্থিত। যখন কুল গাছটিকে যা আচ্ছাদিত করার তা আচ্ছাদিত করেছিল। তার দৃষ্টি এদিক-সেদিক যায়নি এবং সীমাও অতিক্রম করেনি। নিশ্চয় সে তার রবের বড় বড় নিদর্শনসমূহ থেকে দেখেছে”। [কোরআনের সুরা আন্-নাজম: ১৩-১৮]

আনাস ইবনু মালিক রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবূ যার রাদি. আনহু রাঃসাঃ থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলিয়াছেন, আমার ঘরের ছাদ খুলে দেওয়া হল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। তারপর জিবরীল আলাইহিস সালাম এসে আমার বক্ষ বিদীর্ণ করিলেন। আর তা যমযমের পানি দিয়ে ধুইলেন। এরপর হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ একটি সোনার পাত্র নিয়ে আসলেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিয়ে বন্ধ করে দিলেন। তারপর হাত ধরে আমাকে দুনিয়ার আসমানের দিকে নিয়ে চললেন। যখন দুনিয়ার আসমানে পৌঁছালাম, তখন জিবরীল আলাইহিস সালাম আসমানের রক্ষক কে বলিলেন, দরজা খোল। তিনি বলিলেন, কে? উত্তর দিলেন, আমি জিবরীল, আবার জিজ্ঞাসা করিলেন, আপনার সঙ্গে আর কেউ আছে কি? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, আমার সঙ্গে মুহাম্মদ। তিনি আবার বলিলেন, তাঁকে কি আহ্বান করা হয়েছে? তিনি উত্তরে বলিলেন, হ্যাঁ। তারপর আসমান খোলা হলে আমরা প্রথম আসমানে উঠলাম। সেখানে দেখলাম, এক লোক বসে আছেন এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি তাহাঁর ডান পাশে রয়েছে এবং অনেকগুলো মানুষের আকৃতি বাম পাশেও রয়েছে। যখন তিনি ডান দিকে তাকাচ্ছেন, হাসছেন আর যখন তিনি বাম দিকে তাকাচ্ছেন, কাঁদছেন। তিনি বলিলেন, খোশ আমদেদ, হে পুণ্যবান নাবী রাঃসাঃ! হে নেক সন্তান! আমি জিবরীল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম, ইনি কে? তিনি বলিলেন, ইনি আদম আলাইহিস সালাম।। আর তাহাঁর ডানে ও বায়ে তাহাঁর সন্তানদের রুহ। ডান দিকের লোকেরা জান্নাতী আর বা দিকের লোকেরা জাহান্নামী। এজন্য তিনি ডান দিকে তাকালে হাসেন আর বাঁ দিকে তাকালে কাঁদেন। তারপর জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় আকাশে উঠলেন। সেখানে উঠে রক্ষক কে বলিলেন, দরজা খোল। তখন রক্ষক প্রথম আসমানের রক্ষকের অনুরূপ প্রশ্ন করিলেন। তারপর দরজা খুলে দিলেন। আনাস রাদি. আনহু বলেন, এরপর আবূ যার রাদি. আনহু বলেন, তিনি [নাবী রাঃসাঃ] আসমানসমূহে আদম আলাইহিস সালাম, ঈদরীস আলাইহিস সালাম, মূসা আলাইহিস সালাম, `ঈসা আলাইহিস সালাম, ও ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে পেলেন। আবূ যার রাদি. আনহু তাহাঁদের অবস্থান নির্দিষ্ট ভাবে বলেন নি। কেবল এতটুকু বলিয়াছেন যে, নাবী রাঃসাঃ আদম আলাইহিস সালামকে প্রথম আসমানে এবং ইবরাহীম আলাইহিস সালামকে ষষ্ঠ আসমানে পেয়েছেন। আনাস রাদি. আনহু বলেন, যখন জিবরীল আলাইহিস সালাম রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃকে ইদরীস আলাইহিস সালামের পাশ দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন ঈদরীস আলাইহিস সালাম বলিলেন, খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নাবী রাঃসাঃ ও নেক ভাই! আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল আলাইহিস সালাম বলিলেন, ইনি ঈদরীস আলাইহিস সালাম। তারপর আমি মূসা আলাইহিস সালামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বলিলেন, খোশ আমদেদ! পুণ্যবান রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ ও নেক ভাই। আমি বলিলাম ইনি কে? জিবরীল আলাইহিস সালাম বলিলেন, মূসা আলাইহিস সালাম। তারপর আমি ঈসা আলাইহিস সালামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বলিলেন, খোশ আমদেদ! পুণ্যবান রাসূলুল্লাহ্‌ রাঃসাঃ ও নেক ভাই। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল আলাইহিস সালাম বলিলেন, ইনি ঈসা আলাইহিস সালাম। তারপর ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম। তিনি বলিলেন, খোশ আমদেদ! পুণ্যবান নাবী রাঃসাঃ ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞাসা করলাম ইনি কে? জিবরীল আলাইহিস সালাম বলিলেন, ইনি ইবরাহীম আলাইহিস সালাম। ইবনু শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন যে, ইবনু হাযম আমাকে খবর দিয়েছেন ইবনু `আব্বাস ও আবূ হাব্বা আনসারী রাদি.মা আনহুমা উভয়ে বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তারপর আমাকে আরো উপরে উঠানো হ`ল, আমি এমন এক সমতল স্থানে উপনীত হলাম, যেখান থেকে কলমের লেখার শব্দ শুনতে পেলাম। ইবনু হাযম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও আনাস ইবনু মালিক রাদি. `আনহু বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, তারপর আল্লাহ তা`আলা আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করে দিলেন। আমি এ নিয়ে প্রত্যাবর্তনকালে যখন মূসা আলাইহিস সালামের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলাম, তখন মূসা আলাইহিস সালাম বলিলেন, আপনার উম্মতের উপর আল্লাহ কি ফরয করেছেন? আমি বলিলাম, পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করেছেন। তিনি বলিলেন, আপনি আপনার রবের কাছে ফিরে যান। কারণ আপনার উম্মত তা আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। আল্লাহ পাক কিছু অংশ কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা আলাইহিস সালামের কাছে আবার গেলাম আর বলিলাম, কিছু অংশ কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলিলেন, আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। আমি ফিরে গেলাম। তখন আরো কিছু অংশ কমিয়ে দেওয়া হল। আবার মূসা আলাইহিস সালামের কাছে গেলাম, এবারো তিনি বলিলেন, আপনি আবার আপনার রবের কাছে যান। কারণ আপনার উম্মত এও আদায় করতে সক্ষম হবে না। তখন আমি আবার গেলাম, তখন আল্লাহ বলিলেন, এই পাঁচই [সওয়াবের দিক দিয়ে] পঞ্চাশ [গণ্য হবে]। আমার কথার কোনো পরিবর্তন নেই। আমি আবার মূসা আলাইহিস সালামের কাছে আসলে তিনি আমাকে আবারো বলিলেন, আপনার রবের কাছে আবার যান। আমি বলিলাম, আবার আমার রবের কাছে যেতে আমি লজ্জাবোধ করছি। তারপর জিবরীল আলাইহিস সালাম আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। আর তখন তা বিভিন্ন রঙে ঢাকা ছিল, যার তাৎপর্য আমার জানা ছিল না। তারপর আমাকে জান্নাতে নিয়ে যাওয়া হ`ল। আমি দেখলাম তাতে মুক্তার হার রয়েছে আর তাহাঁর মাটি কস্তুরি।[6]

মালিক ইবনু সা`সা`আ রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, নাবী রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আমি কাবা ঘরের নিকট নিদ্রা ও জাগরণ-এ দু` অবস্থার মাঝামাঝি অবস্থায় ছিলাম। এরপর তিনি দু` ব্যক্তির মাঝে অপর এক ব্যক্তি অর্থাৎ নিজের অবস্থা উল্লেখ করে বলিলেন, আমার নিকট স্বর্ণের একটি তশতরী নিয়ে আসা হল-যা হিকমত ও ঈমানে পরিপূর্ণ ছিল। তাপর আমার বুক থেকে পেটের নীচ পর্যমত্ম বিদীর্ণ করা হল। এরপর আমার পেটে যমযমের পানি দ্বারা ধুয়ে ফেলা হল। তারপর হিকমত ও ঈমান পরিপূর্ণ করা হল এবং আমার নিকট সাদা চতুষ্পদ জন্তু আনা হল, যা খচ্চর হতে ছোট আর গাধা থেকে বড় অর্থাৎ বুরাক। এরপর তাতে আরোহণ করে আমি জিবরীল আলাইহিস সালামসহ চলতে চলতে পৃথিবীর নিকটতম আসমানে গিয়ে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা হল, এ কে? উত্তরে বলা হল, জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে আর কে? উত্তর দেওয়া হল মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল, তাঁকে ধন্যবাদ, তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি আদম আলাইহিস সালামের কাছে গেলাম। তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, পুত্র ও নাবী! তোমার প্রতি ধন্যবাদ। এরপর আমরা দ্বিতীয় আসমানে গেলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ঈসা ও ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের নিকট আসলাম। তাঁরা উভয়ে বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনার প্রতি ধন্যবাদ। তারপর আমরা তৃতীয় আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ইউসুফ আলাইহিস সালামের নিকট গেলাম। তাঁকে আমি সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর আমরা চতুর্থ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ইদ্রিস আলাইহিস সালামের নিকট গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর আমরা পঞ্চম আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমরা হারুন আলাইহিস সালামের কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী! আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর ষষ্ঠ আসমানে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি মূসা আলাইহিস সালামের কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, ভাই ও নাবী আপনাকে ধন্যবাদ। তারপর আমি যখন তাহাঁর কাছ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি কেঁদে ফেললেন। তাঁকে বলা হল, আপনি কাঁধছেন কেন? তিনি বলিয়াছেন, হে রব! এ ব্যক্তি যে আমার পপপ্রেরিত, তাহাঁর উম্মাত আমার উম্মাতের চেয়ে অধিক পরিমাণে বেহেশতে যাবে। এরপর আমরা সপ্তম আকাশে পৌঁছলাম। জিজ্ঞাসা করা হল, এ কে? তিনি বলিলেন, আমি জিবরীল। জিজ্ঞাসা করা হল, আপনার সঙ্গে কে? তিনি বলিলেন, মুহাম্মদ রাঃসাঃ। প্রশ্ন করা হল তাঁকে আনার জন্য কি পাঠানো হয়েছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। বলা হল তাঁকে ধন্যবাদ আর তাহাঁর শুভাগমন কতই না উত্তম। তারপর আমি ইবরাহীম আলাইহিস সালামের কাছে গেলাম। আমি তাঁকে সালাম করলাম। তিনি বলিলেন, হে পুত্র ও নাবী! আপনাকে ধন্যবাদ। এরপর বায়তুল মায়মারকে আমার সামনে প্রকাশ করা হল। আমি জিবরীল আলাইহিস সালামকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলিলেন, এটি বায়তুল মামুর। প্রতিদিন এখানে সত্তর হাজার ফিরিশতা নামায আদায় করেন। এরা এখান থেকে একবার বের হলে দ্বিতীয় বার ফিরে আসে না। এটাই তাদের শেষ প্রবেশ। তারপর আমাকে সিদরাতুল মুনতাহা দেখানো হল। দেখলাম, এর ফল যেন, হাজার নামক স্থানের মটকার ন্যায়। আর তার পাতা যেন হাতীর কান। তার মূল দেশে চারটি ঝরনা প্রবাহিত।` দু`টি অভ্যন্তরে আর দু`টি বাইরে। এ সম্পর্কে আমি জিবরাঈলকে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বলিলেন, অভ্যন্তরে দু`টি জান্নাতে অবস্থিত। আর বাইরের দু`টির একটি হল [ইরাকের] ফুরাত আর অপরটি হল [মিশরের] নীল নদ] তারপর আমি প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়। আমি তা গ্রহণ করে মূসা আলাইহিস সালামের কাছে ফিরে এলাম। তিনি বলিলেন, কি করে এলেন? আমি বলিলাম, আমার প্রতি পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামায ফরয করা হয়েছে। তিনি বলিলেন, আমি আপনার চেয়ে মানুষ সম্পর্কে অধিক জ্ঞাত আছি। আমি বনী ইসরাঈলের চিকিৎসার জন্য যথেষ্ট চেষ্টা করেছি আর আপনার উম্মাত এত [নামায আদায়ে] সমর্থ হবে না। অতএব আপনার রবের নিকট ফিরে যান এবং তা কমানোর অনুরোধ করুন। আমি ফিরে গেলাম এবং তাহাঁর নিকট আবেদন করলাম। তিনি নামায চল্লিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। পুনরায় অনুরূপ ঘটল। আর নামাযও ত্রিশ ওয়াক্ত করে দেওয়া হল। পুনরায় অনুরূপ ঘটলে তিনি নামায বিশ ওয়াক্ত করে দিলেন। আবার অনুরূপ হল। তিনি নামাযকে দশ ওয়াক্ত করে দিলেন। এরপর আমি মূসা আলাইহিস সালামের কাছে আসলাম। তিনি পূর্বের ন্যায় বলিলেন, এবার আল্লাহ নামাযকে পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করে দিলেন। আমি মূসা আলাইহিস সালামের নিকট আসলাম। তিনি বলিলেন, কি করে আসলেন? আমি বলিলাম, আল্লাহ পাঁচ ওয়াক্ত ফরয করে দিয়েছেন। এবারও তিনি পূর্বের ন্যায় বলিলেন, আমি বলিলাম, আমি তা মেনে নিয়েছে। তখন আওয়ায এল, আমি আমার ফরয জারি করে দিয়েছি। আর আমার বান্দাদের থেকে হালকা করে দিয়েছে। আর আমি প্রতিটি পূণ্যের জন্য দশ গুন সওয়াব দিব।[7]


[1] ফিলিস্তীনে অবস্থিত বাইতুল মাকদিস, যা মুসলমানদের প্রথম কিবলা ছিল।

[2] জিবরীলকে।

[3] মিরাজের সময়।

[4] সিদরাতুল মুনতাহা হল সপ্তম আকাশে আরশের ডান দিকে একটি কুল জাতীয় বৃক্ষ, সকল সৃষ্টির জ্ঞানের সীমার শেষ প্রান্ত। তারপর কি আছে, একমাত্র আল্লাহই জানেন।

[5] ফেরেশতা, শহীদদের রূহ ও মুত্তাকীদের অবস্থানস্থল।

[6] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৪৯।

[7] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩২০৭।

Leave a Reply