মিনা থেকে আরাফাত , মুযদালিফা ও জামরাতুল আকাবা

মিনা থেকে আরাফাত , মুযদালিফা ও জামরাতুল আকাবা

মিনা থেকে আরাফাত , মুযদালিফা ও জামরাতুল আকাবা >> সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

পর্বঃ ২৫, অধ্যায়ঃ (৫১-৭০)=২০টি

১৯/৫১. অধ্যায়ঃ মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া
১৯/৫২. অধ্যায়ঃ মিনায় অবস্থান
১৯/৫৩. অধ্যায়ঃ ভোরবেলা মিনা থেকে আরাফাতে যাত্রা
১৯/৫৪. অধ্যায়ঃ আরাফাতে অবতরণের স্থান
১৯/৫৫. অধ্যায়ঃ আরাফাতে অবস্থানস্থল
১৯/৫৬. অধ্যায়ঃ আরাফাতের দুআ
১৯/৫৭. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের পূর্বে আরাফাতে আসে
১৯/৫৮. অধ্যায়ঃ আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন
১৯/৫৯. অধ্যায়ঃ প্রয়োজনবোধে আরাফাত ও মুযদালিফার মাঝে যাত্রাবিরতি।
১৯/৬০.অধ্যায়ঃ মুযদালিফায় দুওয়াক্তের নামায একসঙ্গে পড়া।
১৯/৬১. অধ্যায়ঃ মুযদালিফায় অবস্থান।
১৯/৬২. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে মুযদালিফা থেকে আগেভাগে চলে যায়।
১৯/৬৩. অধ্যায়ঃ জামরায় নিক্ষেপের কঙ্করের আকার।
১৯/৬৪. অধ্যায়ঃ যেখানে দাঁড়িয়ে জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করিতে হয়।
১৯/৬৫. অধ্যায়ঃ জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর তথায় অবস্থান করিবে না।
১৯/৬৬. অধ্যায়ঃ আরোহিত অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করা।
১৯/৬৭. অধ্যায়ঃ ওজরবশত কংকর নিক্ষেপে বিলম্ব করা।
১৯/৬৮. অধ্যায়ঃ শিশুদের পক্ষ থেকে কংকর নিক্ষেপ
১৯/৬৯. অধ্যায়ঃ হজ্জ আদায়কারী কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করিবে ?
১৯/৭০. অধ্যায়ঃ জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর হাজ্জীদের জন্য যা বৈধ হয়

১৯/৫১. অধ্যায়ঃ মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হওয়া

৩০০৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহারবিয়ার দিন [৮ যিলহজ্জ] মিনায় যুহর, আসর, মাগরিব, এশা ও ফজরের সলাত আদায় করেন, অতঃপর ভোরবেলা আরাফাতে রওয়ানা হন। {৩০০৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০০৪} তিরমিজি ৮৭৯, ৮৮০, আবু দাউদ ১৯১১, আহমাদ ২৩০৬, সহীহ আবু দাউদ ১৬৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ইসমাইল বিন মুসলিম সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বাযযাহার বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, আমরা তাহার হাদিস দ্বারা দলীল পেশ করি না। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু আলী আল-হাফিয আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৮৩, ৩/১৯৮ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইসমাইল বিন মুসলিম এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ৪৮০ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ৭ টি জাল, ৬৩ টি খুবই দুর্বল, ১৮৮ টি দুর্বল, ১০৫ টি হাসান, ১১৭ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ বুখারী ১৬৭৪, ১৬৮২, ৪৪১৪, মুসলিম ১২৮৮, ১২৯০, তিরমিজি ৮৭৯, ৮৮০, ৮৮৭, আবু দাউদ ১৯১১, ১৯২৬, ১৯২৯, ১৯৩১, ১৯৩৩, ১৯৩৪, দারেমী ১৫১৬, ১৫১৮, ১৮৭১, ১৮৮৩, ১৮৮৪, আহমাদ ২৩০৬, ২৫৩০, ২৬৯৬, ৩৬৩০, সহীহ ইবনি খুযাইমাহ ২৫২১, ২৬৩১, ২৬৩৯, ২৬৬৫, ২৬৭৪।মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০০৫. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়তেন, অতঃপর সঙ্গীদের অবহিত করিতেন যে, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাই করিতেন। {৩০০৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{৩০০৫} মুয়াত্তা মালিক ৯১২, সহীহ আবু দাউদ ১৬৬৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল্লাহ বিন উমার সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি দুর্বল, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী ও আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৪০, ১৫/৩২৭ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৯/৫২. অধ্যায়ঃ মিনায় অবস্থান

৩০০৬. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি আপনার জন্য মিনায় একটি ঘর বানিয়ে দিবো না? তিনি বলেনঃ না, যারা আগে পৌছে যাবে মিনা তাহাদের ঠিকানা। {৩০০৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩০০৬} তিরমিজি ৮৮১, আবু দাউদ ২০১৯, আহমাদ ২৫০১৪, ২৫১৯০, দারেমী ১৯৩৭, জইফ আবু দাউদ ৩৪৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবরাহীম বিন মুহাজির সম্পর্কে আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার হিফয শক্তি দুর্বল। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০, ২/২২১ নং পৃষ্ঠা] ২. মুসায়কাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযায়মাহ বলেন, তাহার আদালাত ও জারাহ সম্পর্কে আমার জানা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯৩১, ৩৫/৩০৭ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩০০৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি মিনায় আপনার জন্য একটি ঘর বানাবো না, যা আপনাকে ছায়া দান করিবে? তিনি বলেনঃ না, মিনায় যারা আগে পৌছবে, তা তাহাদের ঠিকানা। {৩০০৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩০০৭} তিরমিজি ৮৮১, আবু দাউদ ২০১৯, আহমাদ ২৫০১৪, ২৫১৯০, জইফ আবু দাউদ ৩৪৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ইবরাহীম বিন মুহাজির সম্পর্কে আবু বকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার হিফয শক্তি দুর্বল। যাকারিয়্যা বিন ইয়াহইয়া আস-সাজী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার ব্যাপারে মতভেদ রয়েছে। সুফইয়ান বিন উয়াইনাহ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি সিকাহ। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০, ২/২২১ নং পৃষ্ঠা] ২. মুসায়কাহ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তাহার অবস্থা সম্পর্কে কিছু জানা যায়না। মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বিন খুযায়মাহ বলেন, তাহার আদালাত ও জারাহ সম্পর্কে আমার জানা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৯৩১, ৩৫/৩০৭ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৯/৫৩. অধ্যায়ঃ ভোরবেলা মিনা থেকে আরাফাতে যাত্রা

৩০০৮. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা আজকের [৯ যিলহজ্জ] ভোরবেলা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে মিনা থেকে আরাফাতে রওয়ানা হয়েছিলাম। আমাদের মধ্যে কতক তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করতো এবং কতক তাহলীল [লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ] উচ্চারণ করতো। এদের কেউই এজন্য পরস্পরের প্রতি দোষারোপ করেননি। অথবা তিনি এ কথা বলেছেন যে, না এরা ওদের ত্রুটি নির্দেশ করেছে, আর না ওরা এদের ত্রুটি ধরেছে। {৩০০৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০০৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ৯৭০, ১৬৫৯, মুসলিম ১২৮৫, নাসাঈ ৩০০০, ৩০০১, আহমাদ ১১৬৫৯, ১৩১০৯, মুয়াত্তা মালিক ৭৫৩, দারেমী ১৮৭৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৫৪. অধ্যায়ঃ আরাফাতে অবতরণের স্থান

৩০০৯. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরাফাতের ময়দানে নামিরা উপত্যকায় অবতরণ করেছিলেন। রাবী বলেন, হাজ্জাজ বিন ইউসুফ, যুবায়ের [রাদি.] কে হত্যা করার পর বিন উমার [রাদি.] কে জিজ্ঞেস করে পাঠায় যে, আজকের এ দিনের কোন সময় নবী [সাঃআঃ] [খোতবা দিতে মাঠের কেন্দ্রস্থলে] রওয়ানা হইতেন? তিনি বলেন, সেই সময় উপস্থিত হলে স্বয়ং আমরাই রওয়ানা হবো। অতএব তিনি কখন রওয়ানা হন তা লক্ষ্য করার জন্য হাজ্জাজ একজন লোক পাঠায়। বিন উমার [রাদি.] যখন রওয়ানা হওয়ার ইচ্ছা করিলেন, তখন জিজ্ঞেস করিলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? লোকেরা বলল এখনও ঢলেনি। তিনি বসে রইলেন। কিছুক্ষণ পর তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তাহারা বলল, এখনও ঢলেনি। কিছুক্ষণ পর তিনি পুনরায় জিজ্ঞেস করিলেন, সূর্য কি ঢলে পড়েছে? তাহারা বলল, হাঁ। তাহারা যখন বলল, সূর্য ঢলেছে তখন তিনি রওয়ানা হলেন। {৩০০৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।. {৩০০৯} আবু দাউদ ১৯১৪, সহীহ আবু দাউদ ১৬৭২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি সাঈদ বিন হাসসান সম্পর্কে আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ ও আহমাদ বিন সালিহ আল-জায়লী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তাহার মাঝে জারাহ আছে কিনা তা আমার জানা নেই। ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২২৫০, ১০/৩৮৪ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩০১০. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরাফাতে অবস্থান করেন এবং বলেনঃ এটাই অবস্থানস্থল, গোটা অরাফাতই অবস্থানস্থল। {৩০১০}

১৯/৫৫. অধ্যায়ঃ আরাফাতে অবস্থানস্থল

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০১০} তিরমিজি ৮৮৫, আবু দাউদ ১৯৩৫, আহমাদ ১৩৫১, হিজাবুল মারআহ ২৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আবদুর রহমান বিন আয়্যাশ সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাকবুল। ঈমাম যাহাবী তাহাকে সিকাহ বলেছেন।মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০১১. ইয়াযীদ বিন শায়বান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা এক স্থানেই অবস্থানরত ছিলাম, কিন্তু আরাফাত থেকে তা দূরে মনে হলো। ইতিমধ্যে বিন মিরবা [রাদি.] আমাদের নিকট আসেন এবং বলেন, আমি তোমাদের নিকট রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর দূত হিসাবে এসেছি। তিনি বলেনঃ তোমরা নিজ নিজ স্থানে অবস্থান করো। কারণ তোমরা আজকে ইবরাহীম [আঃ] এর উত্তরসূরি। {৩০১১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০১১} তিরমিজি ৪৪৩, আবু দাউদ ১৯১৯, আহমাদ ১৬৭৮২, মিশকাত ২৫৯৫, আত-তালীকুর রাগীব ২/১২৭, সহীহ আবু দাউদ ১৬৭৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০১২. জাবির বিন আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সমগ্র অরাফাতই অবস্থানস্থল, বাতনে আরাফাত থেকে উঠে যাও। গোটা মুযদালিফাই অবস্থানস্থল এবং বাতনে মুহাসসির থেকে উঠে যাও [সেখানে অবস্থান করো না]। সমস্ত মিনাই কুরবানীর স্থান, কিন্তু জামরাতুল আকাবার পশ্চাদভাগ নয়। {৩০১২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ [اِلاَّ ماَ وَرَاءَ الْمَقَبَةِ] অর্থাৎ কিন্তু জামরাতুল আকাবার পশ্চাদভাগ নয়; কথাটি ব্যতীত সহীহ।{৩০১২} আবু দাঊদ ১৯৩৬, ১৯৩৭, দারেমী ১৮৭৯। সহীহ আবু দাঊদ ১৬৬৫, ১৯২, ১৬৯৩, মিশকাত ২৫৯৬।উক্ত হাদিসের রাবি কাসিম বিন আবদুল্লাহ আল-উমারী সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবুল ফাতহ আল-আযদী ও আবু হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত। আবু দাঊদ আস সাজিসতানী বলেন, আমি তাহার থেকে কোন হাদিস গ্রহণ করিনি। আবু যুরআহ আর রাযী বলেন, তিনি দুর্বল ও মিথ্যা বলার অভিযোগে অভিযুক্ত। ঈমাম যাহাবী তাহাকে বর্জন করিয়াছেন। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৭৯৮, ২৩/৩৭৫ নং পৃষ্ঠা]মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৫৬. অধ্যায়ঃ আরাফাতের দুআ

৩০১৩. আব্বাস বিন মিরদাস আস-সুলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃ] আরাফাতে তৃতীয় প্রহরে তাহাঁর উম্মাতের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে দুআ করেন। জবাবে আল্লাহর পক্ষ থেকে তাহাঁকে জানানো হয়ঃ আমি তাহাদের ক্ষমা করে দিলাম, স্বৈরাচারী যালেম ব্যতীত। কারণ আমি অবশ্যই তাহার উপর নির্যাতিতের প্রতিশোধ নিবো। নবী [সাঃআঃ] বলেন, হে প্রভু! আপনি ইচ্ছা করিলে নির্যাতিত ব্যক্তিকে জান্নাত দান করিতে এবং যালেমকে ক্ষমা করিতে পারেন। কিন্তু রাত পর্যন্ত এর কোন জবাব পাওয়া গেলো না। ভোরবেলা তিনি মুযদালিফায় পুনরায় উপরোক্ত দুআ করেন। এবার তাহাঁর আবেদন কবুল হলো। রাবী বলেন, নবী [সাঃআঃ] আনন্দের হাসি দিলেন অথবা মুচকি হাসলেন। আবু বাকর [রাদি.] ও উমার [রাদি.] তাহাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোক! আপনি এ [হজ্জের] সময় কখনও হাসেননি, আজ কোন জিনিস আপনাকে হাসালো? আল্লাহ আপনাকে হাসিমুখে রাখুন। তিনি বলেনঃ আল্লাহর দুশমন ইবলীস যখন জানতে পারলো যে, মহামহিম আল্লাহ আমার দুআ কবুল করিয়াছেন এবং আমার উম্মাতকে ক্ষমা করিয়াছেন, তখন সে গুড়া মাটি তুলে নিজের মাথায় ঢালতে ঢালতে বলিতে লাগলো, হায় সর্বনাশ, হায় ধংস। আমি ওর যে অস্থিরতা দেখেছি তা আমাকে হাসিয়েছে। {৩০১৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দূর্বল।৩০১৩} আবু দাউদ ৫২৩৪, আহমাদ ১৫৭৭, মিশকাত ২৬০৩, আত-তালীকুর রাগীব ২/১২৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবদুল্লাহ বিন কিনায়হ বিন আব্বাস বিন মিরদান আস-সুলামী সম্পর্কে ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ইদতিরাব করেন। ঈমাম বুখারী বলেন, তাহার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৫০৫, ১৫/৪৭৮ নং পৃষ্ঠা] ২. কিনানাহ বিন আব্বাস বিন মিরদাস আস-সুলামী সম্পর্কে আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তাহার হাদিস মুনকার। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম বুখারী বলেন, তাহার হাদিস বিশুদ্ধ নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯৯৮, ২৪/২২৬ নং পৃষ্ঠা]হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩০১৪. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মহামহিমান্বিত আল্লাহ আরাফাতের দিন জাহান্নাম থেকে যতো অধিক সংখ্যক বান্দাকে নাজাত দেন, অন্য কোন দিন এতো অধিক বান্দাকে নাজাত দেন না। মহাপ্রতাপশালী আল্লাহ এ দিন [বান্দার] নিকটবর্তী হন, অতঃপর তাহাদের সম্পর্কে ফেরেশতাহাদের নিকট গৌরব করে বলেনঃ তাহারা কী চায়? {৩০১৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০১৪} মুসলিম ১৩৪৮, নাসাঈ ৩০০৩, সহীহাহ ২৫৫১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৫৭. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজরের পূর্বে আরাফাতে আসে

৩০১৫. আবদুর রহমান বিন ইয়ামার আদ-দীলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর আরাফাতে উপস্থিতকালে তাহাঁর নিকট উপস্থিত ছিলাম। নাজদ এলাকার কতক লোক তাহাঁর নিকট হাযির হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! হজ্জ কিভাবে সম্পন্ন হয়? তিনি বলেনঃ “আরাফাতে অবস্থান হচ্ছে হজ্জ”। অতএব যে ব্যক্তি মুযদালিফার রাতে ফজর সলাতের পূর্বেই আরাফাতে এসে পৌঁছলো তাহার হজ্জ পূর্ণ হলো। মিনায় তিন দিন [১১,১২ ও ১৩ যুলহিজ্জা] অবস্থান করিতে হয়। কিন্তু যদি কোন ব্যক্তি দুদিন অবস্থানের পর চলে আসে, তবে তাতে কোন গুনাহ নেই। অতঃপর তিনি কোন ব্যক্তিকে নিজ বাহনের পেছনে উঠিয়ে নিলেন এবং সে উচ্চৈঃস্বরে একথা ঘোষণা করিতে থাকলো।২/৩০১৫ [১] . আবদুর রহমান বিন ইয়ামার আদ-দীলী [রাদি.] , তিনি বলেন, আমি আরাফাতে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এলাম। তখন নাজদের একদল লোক তাহাঁর নিকট উপস্থিত হলো … অবশিষ্ট বর্ণনা পূর্বোক্ত হাদিসের অনূরূপ। মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বলেন, আমি সাওরীর কোন রিওয়ায়াত এ হাদিসের তুলনায় অধিক উত্তম পাইনি। {৩০১৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০১৫} তিরমিজি ৮৮৯, নাসাঈ ৩০৪৪,আবু দাউদ ১৯৪৯, আহমাদ ১৮২৯৬, ১৮২৯৮, ১৮৪৭৫, দারেমী ১৮৮৭, ইরওয়া ১০৬৪, মিশকাত ২৭১৪, সহীহ আবু দাউদ ১৭০৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০১৬. উরওয়া বিন মুদাররিস আত-তায়ী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর যুগে হজ্জ করেন। লোকেরা যখন মুযদালিফায় ছিল তখন তিনি পৌছেন। তিনি বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমি আমার উষ্ট্রীকে শীর্ণকায় করে ফেলেছি [দীর্ঘ সফরে] এবং নিজেও কষ্টক্লেশ করেছি। আল্লাহর শপথ! আমি এমন কোন ঢিলা ত্যাগ করিনি যাহার উপর অবস্থান করিনি। আমার হজ্জ হইয়াছে কি? নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তি আমাদের সাথে নামাযে শরীক হইয়াছে এবং আরাফাতে অবস্থানের পর রাতে অথবা দিনে প্রত্যাবর্তন করেছে সে নিজের ময়লা-মালিন্য [নখ-চুল ইত্যাদি] দূর করেছে এবং তাহার হজ্জ পূর্ণ হইয়াছে। {৩০১৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০১৬} তিরমিজি ৮৯১, নাসাঈ ৩০৩৯, ৩০৪০, ৩০৪১, ৩০৪২, ৩০৪৩, আবু দাউদ ১৯৫০, আহমাদ ১৫৭৭৫, ১৭৮৩৬, ১৭৮৪০, দারেমী ১৮৮৮, ইরওয়া ১০৬৬, রাওদুন নাদীর ৬৭১, সহীহ আবু দাউদ ১৭০৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৫৮. অধ্যায়ঃ আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তন

৩০১৭. উসামাহ বিন যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাহাকে জিজ্ঞেস করা হলো, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আরাফাত থেকে প্রত্যাবর্তনকালে কিভাবে পথ অতিক্রম করিতেন? তিনি বলিলেন, তিনি জন্তযানে আরোহিত অবস্থায় কিছুটা দ্রুত গতিতে পথ অতিক্রম করিতেন। উন্মুক্ত জায়গা পেলে তিনি দ্রুত চলতেন। ওয়াকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, অর্থাৎ প্রথমোক্ত গতিবেগের তুলনায় অধিক দ্রুত বেগে [চলতেন]। {৩০১৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।৩০১৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৬৬, ২৯৯৯, ৪৪১৩, মুসলিম ১২৮৬, নাসাঈ ৩০২৩, ৩০৫১, আবু দাউদ ১৯২৩, আহমাদ ২১২৭৬, ২১৩২৬, মুয়াত্তা মালিক ৮৯৩, ১৮৮০, সহীহ আবু দাউদ ১৬৭৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০১৮. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কুরাইশগণ বলিলেন, আমরা তো বায়তুল্লাহর অধিবাসী। তাই আমরা হারামের বাইরে যাই না [আরাফাত হারামের সীমার বাইরে হওয়াতে তাহারা আরাফাতে যেতো না]। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ্‌ বলেনঃ “আতঃপর অন্যান্য লোক যেখান থেকে প্রত্যাবর্তন করে, তোমরাও সেখান থেকে প্রত্যাবর্তন কর।” [সূরা বাকারাদি. ১৯৯]। {৩০১৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {৩০১৮} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৬৫, ৪৫২০, মুসলিম ১২১৯, তিরমিজি ৮৮৪, নাসাঈ ৩০১২, আবু দাউদ ১৯১০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মিনা থেকে আরাফাত – এই হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৫৯. অধ্যায়ঃ প্রয়োজনবোধে আরাফাত ও মুযদালিফার মাঝে যাত্রাবিরতি।

৩০১৯. উসামাহ বিন যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে [আরাফাত থেকে] প্রত্যাবর্তন করলাম। যখন তিনি সেই উপত্যকায় পৌঁছালেন যেখানে সম্ভ্রান্ত লোকেরা যাত্রাবিরতি করে, তখন সেখানে যাত্রাবিরতি দিয়ে পেশাব করেন, অতঃপর উযু করেন। আমি বললাম, [মাগরিবের] নামায পরে নিন। তিনি বলেনঃ আরও সামনে এগিয়ে গিয়ে নামায পড়বো। তিনি মুযদালিফায় পৌঁছলে আযান ও ইকামত দেওয়া হল এবং মাগরিবের সালাত আদায় করিলেন। অতঃপর কেউ জন্তুযানের পালান না খুলতেই তিনি দাঁড়িয়ে গেলেন এবং এশার সালাত আদায় করিলেন। {৩০১৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০১৯} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৩৯, ১৮১, ১৬৬৭, ১৬৭০, ১৬৭২, মুসলিম ১২৮০, নাসাঈ ৬০৯, ৩০২৪, ৩০২৫, ৩০৩১, আবু দাউদ ১৯২১, ১৯২৫, আহমাদ ২১২৩৫, ২১২৪২, ২১২৪৯, ২১২৫৪, ২১২৮৩, ২১২৯৬, ২১৩০৫, ২১৩২৪, মুয়াত্তা মালিক ৯০৪, দারেমী ১৮৮০, ১৮৮১, সহীহ আবু দাউদ ১৬৮১। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬০.অধ্যায়ঃ মুযদালিফায় দুওয়াক্তের নামায একসঙ্গে পড়া।

৩০২০. আবদুল্লাহ বিন ইয়াযীদ আল-খাতমী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আবু আয়্যূব [খালিদ বিন যায়দ] আল-আনসারী [রাদি.] কে বলিতে শুনেছেন, আমি বিদায় হজ্জের সফরে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে মুযদালিফায় মাগরিব ও এশার নামায পড়েছি। {৩০২০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৭৪, ৪৪১৪, মুসলিম ১২৮৭, নাসাঈ ৬০৫, ৩০২৬, আহমাদ ২৩০৩৭, ২৩০৫০, ২৩০৫৪, ২৩০৬০, মুয়াত্তা মালিক ৯১৫, দারেমী ১৫১৬, ১৮৮৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০২১. আবদুল্লাহ বিন উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] মুযদালিফায় মাগরিবের সালাত আদায় করিলেন। আমরা যখন উটগুলো বসাচ্ছিলাম তখন তিনি বলেনঃ [এশার] সালাতের ইকামাত হচ্ছে। {৩০২১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২১}

সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১০৯২, ১১০৮, ১১০৯, ১৬৬৮, ১৬৭৩, ১৬৭৫, ১৮০৫, ৩০০০ মুসলিম ৭০৩, ১২৮৮, ১২৮৯, তিরমিজি ৮৮৭, নাসাঈ ৬০৬, ৬০৭, ৬০৮, ৩০২৮, ৩০২৯, ৩০৩০, ৩০২৮, আবু দাউদ ১৯২৬, ১৯২৯, ১৯৩১, ১৯৩২, ১৯৩৩, আহমাদ ৪৪৪৬, ৪৪৫৮, ৪৬৬২, ৪৮৭৫, ৫১৬৪, ৫২৬৫, ৫৪৭১, ৫৪৮২, ৫৫১৩, ৬০৪৭, ৬৩৬৩, ৬৪৩৭, মুয়াত্তা মালিক ৯১৩, ৯১৬, দারেমী ১৫১৮, ১৮৮৪, সহীহ আবু দাউদ ১৬৮২, ১৬৮৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।উক্ত হাদিসের রাবি আবদুল আযীয বিন মুহাম্মাদ সম্পর্কে মুহাম্মাদ বিন সাদ বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করেন। ইবনি হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। মালিক বিন আনাস তাহাকে সিকাহ বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন নাসাঈ বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে নিজ কিতাব ছাড়া অন্যত্র থেকে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৭০, ১৮/১৮৭ নং পৃষ্ঠা] মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬১. অধ্যায়ঃ মুযদালিফায় অবস্থান।

৩০২২. আমর বিন মায়মূন হইতে বর্ণীতঃ

আমরা উমার ইবনূল খাত্তাব [রাদি.] -এর সাথে হজ্জ করেছি। আমরা যখন মুযদালিফা থেকে প্রত্যাবর্তন করলাম তখন তিনি বলেন, মুশরিকরা বলতো, হে সাবীর [মুযদালিফার একটি পাহাড়] ! উজ্জ্বল হও, আমরা প্রত্যাবর্তন করিব। তাহারা সূর্য না উঠা পর্যন্ত [মুযদালিফা থেকে] প্রত্যাবর্তন করতো না। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাদের বিপরীত আমল করেন এবং সূর্যোদয়ের পূর্বে [মিনার উদ্দেশ্যে] রওয়ানা করেন। {৩০২২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৮৪, ৩৮৩৮, তিরমিজি ৪৯৬, নাসাঈ ৩০৪৭, আবু দাউদ ১৯৩৮, আহমাদ ৮৫, ২০০, ২৭৭, ২৯৭, ৩৬০, ৩৮৭, দারেমী ১৮৯০, সহীহ আবু দাউদ ১৬৯৪, হিজাবুল মারআহ ৯০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা] ২. হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০২৩. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বিদায় হজ্জে ধীরেসুস্থে [মুযদালিফা থেকে] রওয়ানা করেন এবং লোকেদেরও শান্তভাবে রওয়ানা হইতে বলেন। [মিনায় পৌঁছার পর] তিনি তাহাদের নির্দেশ দেন যে, তাহারা যেন ক্ষুদ্র কাঁকর নিক্ষেপ করে। তিনি নিজে [মুযদালিফা ও মিনার মাঝখানে অবস্থিত] ওয়াদী মুহাসসির দ্রুত অতিক্রম করেন এবং বলেনঃ আমার উম্মাত যেন হজ্জের অনুষ্ঠানাদি শিখে নেয়। কারণ এ বছরের পর হয়তো আমি তাহাদের সাথে মিলিত হইতে পারবো না। {৩০২৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২৩} বুখারী ১৫৫৭, ১৫৬৮, ১৫৭০, ১৬৫১, ১৭৮৫, ২৫০৬, ৪৩৫২, ৭২৩০, ৭৩৬৭, মুসলীম ১২১৩, ১২১৫, ১২১৬/১-৫, ১২১৮/১-৩, ১২৬৩/১-২, ১২৭৩, ১২৭৯, ১২৯৯, তিরমিজি ৮১৭, ৮৫৬-৫৭, ৮৬২, ৮৬৯, ৮৮৬, ৮৯৭, ৯৪৭, ২৯৬৭, ৩৭৮৬, নাসাঈ ২১৪, ২৯১, ৩৯২, ৪২৯, ৬০৪, ২৭১২, ২৭৪০, ২৭৪৩-৪৪, ২৭৫৬, ২৭৬১-৬৩, ২৭৯৮, ২৮০৫, ২৮৭২, ২৯৩৯, ২৯৪৪, ২৯৬১, ২৯৬২-৬৩, ২৯৬৯-৭৫, ২৯৮১-৮৫, ২৯৯৪, ৩০২১-২২, ৩০৫৩-৫৪, ৩০৭৪-৭৬, ৪১১৯, আবু দাউদ ১৭৮৫, ১৭৮৭-৮৯, ১৮১২, ১৮৮০, ১৮৯৫, ১৯০৫-৭, ১৯৪৪, ৩৯৬৯, আহমাদ ১৩৭০২, ১৩৮০১, ১৩৮২৬, ১৩৮৬৭, ১৪০০৯, ১৪০৩১, ১৪১৬১, ১৪২৫০, ১৪৪৮৪, ১৪৫২৫, ১৪৫৮৯, ১৪৬২১, ১৪৬৬৭, ১৪৭৩৫, ১৪৮২১, ১৪৮৫১, মুয়াত্তা মালিক ৮১৬, ৮৩৫-৩৬, ৮৪০, দারেমী ১৮০৫, ১৮৪০, ১৮৫০, ১৮৯৯, ইরওয়া ১০৭৪, সহীহ আবু দাউদ ১৬৯৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০২৪. বিলাল বিন রাবাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মুযদালিফার দিন ভোরে নবী [সাঃআঃ] তাহাকে বলেনঃ হে বিলাল! লোকেদের চুপ করিতে বল। আতঃপর তিনি বলেনঃ এই মুযদালিফায় আল্লাহ তাআলা তোমাদের প্রতি যথেষ্ট অনুগ্রহ করিয়াছেন, তোমাদের উত্তম লোকেদের ওয়াসীলায় তোমাদের গুনাহগারদের ক্ষমা করিয়াছেন এবং তোমাদের মধ্যে সৎকর্মশীল ব্যক্তি যা প্রার্থনা করেছে তিনি তাহাকে তা দিয়েছেন। অতএব তোমরা আল্লাহর নাম নিয়ে প্রত্যাবর্তন কর। {৩০২৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২৪} দিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ১৬২৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. ইবনি আবু রাওওয়াদ সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার হাদিসের অনুসরণ করা যাবে না। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন, তাহার স্মৃতিশক্তি দুর্বলতাহার দিক থেকে তিনি পরিচিত। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন ও মুরজীয়া মতাবলম্বী। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৪৭, ১৮/১৩৬ নং পৃষ্ঠা] ২. আবু সালামাহ আল-হিমসী সম্পর্কে আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ঈমাম যাহাবী বলেন, তাহার পরিচয় সম্পর্কে জানা যায়না। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৭৪১১, ৩৩/৩৭৭ নং পৃষ্ঠা]উক্ত হাদিসটি সহীহ কিন্তু ইবনি আবু রাওওয়াদ ও আবু সালামাহ আল-হিমসী এর কারণে সানাদটি দুর্বল। হাদিসটির ১৫ টি শাহিদ হাদিস রয়েছে, ৩ টি খুবই দুর্বল, ৫ টি দুর্বল, ৪ টি হাসান, ৩ টি সহীহ হাদিস পাওয়া যায়। তন্মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলঃ মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক ৮৮৩১, মারিফাতুস সাহাবাহ ৩০৩৭।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬২. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি কংকর নিক্ষেপের উদ্দেশ্যে মুযদালিফা থেকে আগেভাগে চলে যায়।

৩০২৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে অর্থাৎ আবদুল মুত্তালিব গোত্রের অল্প বয়স্কদের আমাদের গাধাগুলোয় চড়িয়ে মুযদালিফা থেকে আগেভাগে পাঠিয়ে দেন। তিনি আমাদের উরুর উপর হালকা আঘাত করে বলিতেনঃ আমার কচিকাঁচা! সূর্য উদিত না হওয়া পর্যন্ত জামরায় পাথর নিক্ষেপ করো না। সুফইয়ান এর বর্ণনায় আরও আছে, সূর্যোদয়ের পূর্বে কেউ কাঁকর নিক্ষেপ করতো কিনা জানি না। {৩০২৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২৫} ইবনি মাজাহ ৩০২৬, সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৭৭, ১৬৭৮, ১৮৫৬, মুসলিম ১২৯৩, ১২৯৪, তিরমিজি ৮৯২, ৮৯৩, নাসাঈ ৩০৩২, ৩০৩৩, ৩০৩৪, ৩০৪৮, আবু দাউদ ১৯৩৯, ১৯৪০, ১৯৪১, ইরওয়া ৪/২৭৬, মিশকাত ২৬১৩, সহীহ আবু দাউদ ১৬৯৬,১৬৯৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০২৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর পরিবারের যেসব দুর্বল লোকেদের [মুযদালিফা থেকে মিনায়] আগেভাগে পাঠিয়ে দিয়াছিলেন, আমিও তাহাদের অন্তর্ভুক্ত ছিলাম। {৩০২৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২৬} ইবনি মাজাহ ৩০২৬, সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৭৭, ১৬৭৮, ১৮৫৬, মুসলিম ১২৯৩, ১২৯৪, তিরমিজি ৮৯২, ৮৯৩, নাসাঈ ৩০৩২, ৩০৩৩, ৩০৩৪, ৩০৪৮, আবু দাউদ ১৯৩৯, ১৯৪০, ১৯৪১, ইরওয়া ৪/২৭৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০২৭. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নিশ্চয় সাওদা বিনতু যামআহ [রাদি.] স্থূলকায় ছিলেন। তিনি মুযদালিফা থেকে লোকেদের রওনা হওয়ার আগেই চলে যাওয়ার জন্য রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট অনুমতি চাইলেন। তিনি তাহাকে অনুমতি দিলেন। {৩০২৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০২৭} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৬৮০, ১৬৮১, মুসলিম ১২৯০, নাসাঈ ৩০৩৭, ৩০৪৯, আবু দাউদ ২৩৪৯৫, ২৪১১৪, ২৪১৫২, ২৪৪৯৬, ২৪৭৮৬, ২৫২৬০, দারেমী ১৮৮৬। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬৩. অধ্যায়ঃ জামরায় নিক্ষেপের কঙ্করের আকার।

৩০২৮. উম্মু জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোরবানির দিন জামরাতুল আকাবার নিকটে আমি নবী [সাঃআঃ] কে খচ্চরের পিঠে আরোহিত অবস্থায় দেখেছি। তখন তিনি বলেছেনঃ হে লোকসকল! যখন তোমরা জামরায় [কংকর ] নিক্ষেপ করিতে যাবে তখন সেখানে ক্ষুদ্র আকারের কংকর নিক্ষেপ করিবে। {৩০২৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান।{৩০২৮} আবু দাউদ ১৯৬৬, আহমাদ ১৫৬৫৭, ২৬৫৯০, সহীহ আবু দাউদ ১৭১৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ তাহাকে সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৯১, ৩২/১৩৫ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩০২৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জামরাতুল আকাবার ভোরে তাহাঁর উষ্ট্রীর পিঠে আরোহিত অবস্থায় বলেনঃ আমার জন্য কংকর সংগ্রহ করে লও। আমি তাহাঁর জন্য সাতটি কংকর সংগ্রহ করলাম। তা ছিল আকারে ক্ষুদ্র। তিনি তা নিজের হাতের তালুতে নাড়াচাড়া করিতে করিতে বলেনঃ এই আকারের ক্ষুদ্র কংকর নিক্ষেপ করিবে। তিনি পুনরায় বলেনঃ দ্বীনের বিষয়ে বাড়াবাড়ি করা থেকে তোমরা সাবধান থাকো। কেননা তোমাদের পূর্বেকার লোকদেরকে দ্বীনের ব্যাপারে তাহাদের বাড়াবাড়ি ধ্বংস করেছে। {৩০২৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ {৩০২৯} নাসাঈ ৩০৫৯, আহমাদ ১৮৫৪, সহীহাহ ১২৮৩, যিলাল ৯৮। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৩০. আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল্লাহ বিন মাসঊদ [রাদি.] জামরাতুল আকাবায় পৌঁছে উপত্যকার নিম্নভূমিতে কাবাকে সামনে রেখে এবং জামরাতুল আকাবাকে ডান দিকে রেখে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করেন। তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে সাথে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন, অতঃপর বলেন, সেই মহান সত্তার শপথ যিনি ব্যতীত কোন ইলাহ নেই! যে মহান ব্যক্তির উপর সূরা বাকারা নাযিল হয়েছিল তিনি এখান থেকে কংকর নিক্ষেপ করেছিলেন। {৩০৩০}

১৯/৬৪. অধ্যায়ঃ যেখানে দাঁড়িয়ে জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করিতে হয়।

{৩০৩০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৭৪৭, ১৭৪৮, ১৭৪৯, ১৭৫০, মুসলিম ১২৯৬, তিরমিজি ৯০১, নাসাঈ ৩০৭০, ৩০৭১, ৩০৭২, ৩০৭৩, আবু দাঊদ ১৯৭৪, আহমাদ ৩৫৩৮, ৩৯৯২, ৪০৫১, ৪৩৪৬, ৪৩৫৭। আত তালীক আলা ইবনি খুমায়যাহ ২৮৮০, সহীহ আবু দাঊদ ১২৭৩।উক্ত হাদিসের রাবি আল-মাসঊদী সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি নুমায়র বলেন, তিনি সিকাহ তবে শেষ বয়সে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আহমাদ বিন হাম্বাল বলেন, তিনি সিকাহ তবে বাগদাদে হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ করিয়াছেন। আলী ইবনিল মাদানী তাহাকে সিকাহ বলেছেন। [তাহজিবুল কালামঃ রাবী নং ৩৮৭২, ১৭/২১৯ নং পৃষ্ঠা]।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৩১. উম্মু জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি কোরবানির দিন জামরাতুল আকাবার নিকটে উপত্যকার কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে নবী [সাঃআঃ] কে সাতটি কংকর নিক্ষেপ করিতে দেখেছি। তিনি প্রতিটি কংকর নিক্ষেপের সাথে সাথে তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করেন, অতঃপর প্রত্যাবর্তন করেন। {৩০৩১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। {৩০৩১} আবু দাউদ ১৯৬৬, আহমাদ ১৫৬৫৭, ২৬৫৯০, সহীহ আবু দাউদ ১৭১৫-১৭১৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ হাসান। উক্ত হাদিসের রাবি ইয়াযীদ বিন আবু যিয়াদ সম্পর্কে আহমাদ বিন সালিহ তাহাকে সিকাহ বললেও ইয়াহইয়া বিন মাঈন ও আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় নির্ভরযোগ্য নয়। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার থেকে হাদিস গ্রহন করা যাবে কিন্তু দলীল হিসেবে গ্রহণযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, কোন সমস্যা নেই। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৬৯৯১, ৩২/১৩৫ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৯/৬৫. অধ্যায়ঃ জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর তথায় অবস্থান করিবে না।

৩০৩২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর সেখানে আর অবস্থান করেন নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে , নবী [সাঃআঃ] ও এরূপ করেন। {৩০৩২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। {৩০৩২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৭৫১, ১৭৫৩, নাসাঈ ৩০৮৩, আহমাদ ৬৩৬৮, দারেমী ১৯০৩, সহীহাহ ২০৭৩, সহীহ আবু দাউদ ১৭২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি তালহাহ বিন ইয়াহইয়া সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল-কাত্তান বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। উসমান বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি সিকাহ। তাহরীরু তাকরীবুত তাহযীব এর লেখক বলেন, তিনি দুর্বল। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৯৮৫, ১৩/৪৪৪ নং পৃষ্ঠা] মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৩৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করে চলে যেতেন, অবস্থান করিতেন না। {৩০৩৩}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৩৩} হাদিসটি ঈমাম ইবনি মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহাহ ২০৭৩, সহীহ আবু দাউদ ১৭২২। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬৬. অধ্যায়ঃ আরোহিত অবস্থায় কংকর নিক্ষেপ করা।

৩০৩৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] তাহাঁর সওয়ারীতে আরোহিত অবস্থায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করেন। {৩০৩৪}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৩৪} তিরমিজি ৮৯৯, আহমাদ ২০৫৭, ২২৫৩, সহীহ আবু দাউদ ১৭১৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি ১. আবু খালিদ আল আহমার সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন বলেন, তিনি সত্যবাদী কিন্তু তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আলী ইবনিল মাদানী বলেন, তিনি সিকাহ। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী। ঈমাম নাসাঈ বলেন, কোন সমস্যা নেই। ইবনি আদী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় সালেহ কিন্তু হাদিস বর্ণনায় সংমিশ্রণ ও ভুল করেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ২৫০৪, ১১/৩৯৪ নং পৃষ্ঠা] ২. হাজ্জাজ বিন আরতা সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়, অন্যত্র তিনি তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় তাদলীস করেন। মুহাম্মাদ বিন সাদ তাহাকে দুর্বল বলেছেন। আহমাদ বিন শুআয়ব আন-নাসাঈ বলেন, তিনি দুর্বল তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহনযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১১১২, ৫/৪২০ নং পৃষ্ঠা] হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৩৫. কুদামাহ বিন আবদুল্লাহ আল-আমিরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে কোরবানির দিন লাল-সাদা মিশ্র বর্ণের একটি উষ্ট্রীতে সওয়ার অবস্থায় জামরায় কংকর নিক্ষেপ করিতে দেখেছি। এতে না ছিল আঘাত, না ছিল হাঁকানো, না এদিক, না ওদিক। {৩০৩৫}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৩৫} তিরমিজি ৯০৩, নাসাঈ ৩০৬১, আহমাদ ১৪৯৮৫, দারেমী ১৯০১, মিশকাত ২৬২৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবি আয়মান বিন নাবীল সম্পর্কে আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তাহার থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন সমস্যা নেই। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেতেন। আবু আবদুল্লাহ আল-হাকিম আন-নায়সাবুরী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় সন্দেহ করেন। ঈমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। সুফইয়ান আস-সাওরী বলেন, তিনি সিকাহ। মুহাম্মাদ বিন আম্মার তাহাকে সিকাহ বলেছেন। ইয়াকুব বিন শায়বাহ বলেন, তিনি মক্কায় সত্যবাদী ছিলেন। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫৯৯, ৩/৪৪৭ নং পৃষ্ঠা] মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬৭. অধ্যায়ঃ ওজরবশত কংকর নিক্ষেপে বিলম্ব করা।

৩০৩৬. আসিম বিন আদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] উট চারকদের একদিন কাঁকর নিক্ষেপ করার ও একদিন বিরতি দেয়ার অনুমতি দিয়েছেন। {৩০৩৬}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৩৬} ইবনি মাজাহ ৩০৩৭, তিরমিজি ৯৫৪, ৯৫৫, নাসাঈ ৩০৬৮, ৩০৬৯, আবু দাউদ ১৯৭৫, ১৯৭৬, আহমাদ ২৩২৬২, মুয়াত্তা মালিক ৯৩৫, দারেমী ১৮৯৭, ইরওয়া ১০৮০, সহীহ আবু দাউদ ১৭২৪, ১৭২৫। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৩৭. আসিম বিন আদী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উট চারকদের মিনায় অথবা তাহার বাইরে রাত যাপনের অনুমতি দিয়েছেন, যেন তাহারা কোরবানীর দিন কংকর নিক্ষেপ করে। এরপর কোরবানীর পরে দুদিনের কংকর একসাথে নিক্ষেপ করিবে। তাহারা ঐ দুদিনের যে কোন একদিন তা নিক্ষেপ করিবে। ঈমাম মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার মনে হয় আবদুল্লাহ দিন আবু বকর বলেছেন, প্রথম দিন [কোরবানির দিন] কংকর নিক্ষেপ করিবে, অতঃপর প্রস্থানের দিন কংকর নিক্ষেপ করিবে। {৩০৩৭}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৩৭} তিরমিজি ৯৫৪, ৯৫৫, নাসাঈ ৩০৬৮, ৩০৬৯, আবু দাউদ ১৯৭৫, ১৯৭৬, আহমাদ ২৩২৬২, মুয়াত্তা মালিক ৯৩৫, দারেমী ১৮৯৭, ইরওয়া ১০৮০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৬৮. অধ্যায়ঃ শিশুদের পক্ষ থেকে কংকর নিক্ষেপ

৩০৩৮. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে হজ্জ করলাম। আমাদের সাথে মহিলা ও শিশুরা ছিল। আমরা শিশুদের পক্ষ থেকে তালবিয়া পাঠ ও কংকর নিক্ষেপ করেছি। {৩০৩৮}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ দুর্বল।{৩০৩৮} তিরমিজি ৯২৭, হুজ্জাতুন নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পৃষ্ঠা নং ৫০। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ জইফ। উক্ত হাদিসের রাবি 3038 আশআস সম্পর্কে ইয়াহইয়া বিন মাঈন সিকাহ বললেও অন্যত্রে তিনি তাহাকে দুর্বল বলেছেন। উসমান বিন আবু শায়বাহ বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার হাদিস দলীলযোগ্য নয়। আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, তাহার মাঝে দুর্বলতা রয়েছে। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ৫২৪, ৩/২৬৪ নং পৃষ্ঠা] মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৯/৬৯. অধ্যায়ঃ হজ্জ আদায়কারী কখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করিবে ?

৩০৩৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] তালবিয়া পাঠ অব্যাহত রেখেছেন যতক্ষন না জামরাতুল আকাবায় [কোরবানীর দিন] কংকর নিক্ষেপ করিয়াছেন। {৩০৩৯}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৩৯} নাসাঈ ৩০৫৬, ১৯৮৭, ইরওয়া ৪/২৯৬, রাওদুন নাদীর ৮৩৪, সহীহ আবু দাউদ ১৫৯৩। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৪০. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ফাদল বিন আব্বাস [রাদি.] বলেছেন, আমি নবী [সাঃআঃ] এর সাথে একই বাহনে তাহাঁর পিছনে সওয়ার ছিলাম। আমি তাহাকে অনবরত তালবিয়া পাঠ করিতে শুনিয়াছি, যতক্ষন না তিনি জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপ করিয়াছেন। তিনি যখন তা নিক্ষেপ করেন, তখন তালবিয়া পাঠ বন্ধ করিয়াছেন। {৩০৪০}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৪০} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ১৫৪৪, ১৬৭০,১৬৮৫, ১৬৮৭, মুসলিম ১২৮১, ১২৮২, তিরমিজি ৯১৮, নাসাঈ ৩০২০, ৩০৫২, ৩০৫৫, ৩০৭৯, ৩০৮০, ৩০৮১, ৩০৮২, আবু দাউদ ১৮১৫, আহমাদ ১৭৯৪, ১৮০১, ১৮১১, ১৮২৪, ১৮৩৪, দারেমী ১৯০২, ইরওয়া ১০৯৮, রাওদুন নাদীর ৮৩৪। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।উক্ত হাদিসের রাবি খুসায়ফ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল-হাকিম বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু আহমাদ বিন আদী আল-জুরজানী বলেন, তিনি যখন সিকাহ রাবী থেকে হাদিস বর্ণনা করেন তখন তাহার হাদিস গ্রহন করিতে সমস্যা নেই। আবু বাকর আল-বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তাহার হিফযের দুর্বলতা সম্পর্কে সমালোচনা রয়েছে। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সিকাহ। ইবনি হাজার আল-আসকালনী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার স্মৃতিশিক্তি দুর্বল, তিনি মুরজিয়া মতাবলম্বী। ঈমাম যাহাবী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তাহার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন ইসহাক বলেন, তাহার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। [তাহজিবুল কামালঃ রাবী নং ১৬৯৩, ৮/২৫৭ নং পৃষ্ঠা] মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৯/৭০. অধ্যায়ঃ জামরাতুল আকাবায় কংকর নিক্ষেপের পর হাজ্জীদের জন্য যা বৈধ হয়

৩০৪১. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন তোমরা জামরায় কংকর নিক্ষেপ করিলে, তখন স্ত্রীসংগ ব্যাতীত সবকিছু হালাল হয়ে গেল। এক ব্যক্তি তাহাকে জিজ্ঞেস করেন, হে বিন আব্বাস! সুগন্ধিও? তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার বক্তব্য এই যে, আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে নিজ মাথায় কস্তুরী মাখতে দেখেছি [কংকর নিক্ষেপের পরে]। তা সুগন্ধি কি নয়? {৩০৪১}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৪১} নাসাঈ ৩০৮৪, আহমাদ ২০৯১, ৩১৯৪, সহীহাহ ২৩৯। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

৩০৪২. আয়েশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে ইহরাম বাঁধার আগে সুগন্ধি লাগিয়ে দিয়াছি এবং যখন তিনি ইহরাম খুলেছেন তখনও। {৩০৪২}

তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ।{৩০৪২} সহিহুল বুখারি হাদিস নং ২৬৭, ২৭০, ২৭১, ১৫৩৮, ১৫৩৯, ১৭৫৪, ৫৯১৮, ৫৯২২, ৫৯২৩, ৫৯২৮, ৫৯৩০, মুসলিম ১১৮৯, ১১৯০, ১১৯১, ১১৯২, তিরমিজি ৯১৭, নাসাঈ ৪১৭, ৪৩১, ২৬৮৪, ২৬৮৫, ২৬৮৬, ২৬৮৭, ২৬৮৮, ২৬৮৯, ২৬৯০, ২৬৯১, ২৬৯২, ২৬৯৩, ২৬৯৪, ২৬৯৫, ২৬৯৬, ২৬৯৭, ২৬৯৮, ২৬৯৯, ২৭০০, ২৭০৫, আবু দাউদ ১৭৪৫, ১৭৪৬, আহমাদ ২৩৫৯১, ২৩৬১৪, ২৪২৪০, ২৪১৩, ২৪৪৪৫, ২৪৪৬২, ২৪৭৫৯, ২৪৮৭৪, ২৪৮৯৩, ২৪৯৪৮, ২৪৯৯৫, ২৫০৫৮, ২৫০৭৪, ২৫১১৩, ২৫১৯৫, ২৫২২৪, ২৫২৪৭, ২৭৬৫৬, ২৫২৮৯, ২৫৩৪৬, ২৫৪০৬, ২৫৪০২, ২৫৪৭৫, ২৫৪৮৬, ২৫৫৪৭, ২৫৫৪৯, ২৫৫৯৮, ২৫৬৩০, ২৬৮৮, ২৫৭৪০, ২৫৭৭১, ২৫৮৬৪, মুয়াত্তা মালিক ৭২৭, দারেমী ১৮০১, ১৮০২, ১৮০৩, ইরওয়া ১০৪৭। তাহকিক নাসিরুদ্দিন আলবানীঃ সহীহ। মিনা থেকে আরাফাত হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By ইমাম ইবনে মাজাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply