মিনায় নামাজ ক্বস্‌র করা

মিনায় নামাজ ক্বস্‌র করা

মিনায় নামাজ ক্বস্‌র করা >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২. অধ্যায়ঃ মিনায় নামাজ ক্বস্‌র করা

১৪৭৫

সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতা আবদুল্লাহ ইবনি উমর-এর মাধ্যমে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি মিনা এবং অন্যান্য স্থানে মুসাফিরের মতো দু রাকআত করে নামাজ আদায় করেছিলেন। আর আবু বকর, উমর তাদের খিলাফাত যুগে এবং উসামান তাহাঁর খিলাফাতের প্রথম দিকে সফরকালের নামাজ দু রাকআত করে আদায় করিয়াছেন এবং পরবর্তী সময়ে পূর্ণ চার রাকআত আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬০,ই.সে ১৪৬৯]

১৪৭৬

যুহ্‌রী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এতে মিনাতে কথাটি উল্লেখ করিয়াছেন। তবে অন্যান্য স্থানে কথাটি উল্লেখ করেননি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬১, ই.সে ১৪৭০]

১৪৭৭

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [বিদায় হাজ্জের সময়] রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মিনাতে [ফরয নামাজ চার রাকআতের পরিবর্তে] দু রাকআত আদায় করিয়াছেন। পরে আবু বাক্‌র তাহাঁর খিলাফাতকালে তাই করিয়াছেন। আবু বাক্‌রের পর উমরও তাই করিয়াছেন। কিন্ত পরে চার রাকআত আদায় করিয়াছেন। সুতরাং, আবদুল্লাহ ইবনি উমর ইমামের পিছনে নামাজ আদায় করলে চার রাকআত আদায় করিতেন। কিন্ত যখন তিনি একাকী নামাজ আদায় করিতেন দু রাকআত আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬২, ই.সে ১৪৭১]

১৪৭৮

উবায়দুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৩, ই.সে ১৪৭২]

১৪৭৯

আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] হাজ্জের সময় মিনাতে অবস্থানকালে মুসাফিরের ন্যায় দু রাকআত নামাজ আদায় করিয়াছেন। অতঃপর আবু বাক্‌র, উমর এবং উসমানও তাঁদের খিলাফাতকালে আট বছর অথবা [বর্ণনাকারীর সন্দেহে] ছয় বছর যাবৎ তাই করিয়াছেন। হাফস্‌ বর্ণনা করিয়াছেন, আবদুল্লাহ ইবনি উমর মিনাতে অবস্থানকালে নামাজ দু রাকআত আদায় করিতেন এবং পরে তাহাঁর বিছানায় চলে আসলে আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, চাচা, আপনি আরও দু রাকআত নামাজ আদায় করলে ভাল হত। তিনি বললেনঃ আমার যদি এরূপ করিতে হত তাহলে আমি ফরয নামাজ পূর্নাঙ্গ করে [চার রাকআত] আদায় করতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৪, ই.সে ১৪৭৩]

১৪৮০

শুবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে হাদীসটি বর্ণিত। তবে তারা তাঁদের বর্ণিত হাদীসে মিনাতে অবস্থাকালে কথাটি উল্লেখ করেননি। বরং বলেছেন, তিনি [সাঃআঃ] সফরে এভাবে নামাজ আদায় করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৫, ই.সে ১৪৭৪]

১৪৮১

আবদুর রহমান ইবনি ইয়াযীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উসমান মিনাতে অবস্থানকালে আমাদের সাথে নিয়ে ফারয্‌ নামাজ চার রাকআত আদায় করিলেন। বিষয়টি আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদকে অবহিত করা হলে তিনি ইন্না- লিল্লা-হি ওয়া ইন্না- ইলাই-হি র-জিঊন পরলেন। পরে তিনি বললেনঃ আমি মিনাতে অবস্থানকালে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে দু রাকআত নামাজ আদায় করেছি। আবু বাক্‌র সিদ্দীকের সাথেও দু রাকআত নামাজ আদায় করেছি। আমি মিনাতে অবস্থানকালে উমর ইবনিল খাত্ত্বাবের সাথেও দু রাকআত নামাজ আদায় করেছি। চার রাকআতের পরিবর্তে দু রাকআত নামাজই যদি আমার জন্য মাকবূল হত তাহলে কতই না ভাল হত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৬, ইসলামিক সেন্টার-১৪৭৫]

১৪৮২

আবু বাকর ইবনি আবু শায়বাহ্ ও আবু কুরায়ব, উসমান ইবনি আবু শায়বাহ্, ইসহাক্ব ও ইবনি খশ্রাম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. সকলেই আমাশ হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৭, ই.সে ১৪৭৬]

১৪৮৩

হারিসাহ্‌ ইবনি ওয়াহ্‌ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মিনাতে অবস্থানকালে আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দু রাকআত নামাজ আদায় করেছি। অথচ লোকজন নিরাপদ ও আতঙ্কহীন ছিল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৮,ই.সে ১৪৭৭]

১৪৮৪

হারিসাহ্‌ ইবনি ওয়াহ্‌ব আল খুযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি বিদায় হাজ্জের সময় মিনাতে অবস্থানকালে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর পিছনে নামাজ আদায় করেছি। তিনি তখন দু রাকআত নামাজ আদায় করেছিলেন। তখন তাহাঁর পিছনে বহু সংখ্যক লোক ছিল।

ঈমাম মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেনঃ হারিসাহ্‌ ইবনি ওয়াহ্‌ব খুযাঈ উবায়দুল্লাহ ইবনি উমর ইবনিল খাত্ত্বাবের ভাই। তারা একই মায়ের গর্ভজাত সন্তান। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৪৬৯, ই.সে ১৪৭৮]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply