মাসজিদের দিকে অধিক পদচারণা ও যাতায়াতের ফাযীলত

মাসজিদের দিকে অধিক পদচারণা ও যাতায়াতের ফাযীলত

মাসজিদের দিকে অধিক পদচারণা ও যাতায়াতের ফাযীলত >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫০.অধ্যায়ঃ মাসজিদের দিকে অধিক পদচারণা ও যাতায়াতের ফাযীলত

১৩৯৯

আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যার হাঁটার পথ [অর্থাৎ-ঘর] মসজিদ থেকে বেশী দূরে সে নামাজের অধিক সাওয়াব লাভের হাক্বদ্বার আর যে ব্যক্তি নামাজের জন্য অপেক্ষা করে ইমামের সাথে [জামাআতে] নামাজ আদায় করে সে ঐ ব্যক্তির চেয়ে বেশী সাওয়াবের হাক্বদ্বার যে একাকী নামাজ আদায় করে ঘুমিয়ে পড়ে।

আবু কুরায়ব-এর বর্ণনাতে “জামাআতে ইমামের সাথে নামাজ আদায় করে” কথাটি উল্লেখ করা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৭]

১৪০০

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জৈনিক লোক সম্পর্কে জানি যার বাড়ী অপেক্ষা কারো বাড়ী মসজিদ থেকে অধিক দূরে ছিল বলে আমার জানা নেই। জামাআতের সাথে কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করা তিনি ছাড়তেন না। উবাই ইবনি কাব বলেনঃ তাকে বলা হলো অথবা [বর্ণনাকারী আবু উসমান নাহদীর সন্দেহ] আমি বললামঃ যদি তুমি একটি গাধা কিনে নাও এবং তার পিঠে আরোহণ করে রাতের অন্ধকারে এবং রোদের মধ্যে নামাজ আদায় করিতে আসো তাহলে তো বেশ ভালই হয়। একথা শুনে সে বললঃ আমার বাড়ী মাসজিদের পাশে হোক তা আমি পছন্দ করি না। আমি চাই মাসজিদে হেঁটে আসা এবং মাসজিদে থেকে ঘরে আমার পরিবার-পরিজনের কাছে যাওয়ার প্রতিটি পদক্ষেপ আমার জন্য [আমালনামায়] লিপিবদ্ধ হোক। তার এ কথা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মহান আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য অনুরূপ সাওয়াবই একত্রিত করে রেখেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৮]

১৪০১

আত্‌ তায়মী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ১৩৯৯]

১৪০২

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক আনসারী ছিল যার বাড়ী মাদীনার অন্য লোকদের বাড়ীর তুলনায় [মাসজিদে নাবাবী থেকে] দূরে অবস্থিত ছিল। কিন্ত সে জামাআতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর সাথে এক ওয়াক্ত নামাজও ছাড়ত না। উবাই ইবনি কাব বলেন, আমরা তার জন্য সমবেদনা অনুভব করলাম। তাই তাকে বললাম, হে অমুক! আপনি যদি একটি গাধা খরিদ করে নিতেন তাহলে সূর্যের খরতাপ থেকে রক্ষা পেতেন এবং বিষাক্ত পোকা-মাকড় থেকেও নিরাপত্তা লাভ করিতে পারতেন। সে বলিল, আল্লাহ্‌র শপথ!মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] ঘরের সাথেই আমার ঘর হোক তা আমি পছন্দ করি না। তার এ কথা আমার কাছে খুবই দুর্বিষহ মনে হলো। তাই আমি নবী [সাঃআঃ] -এর কাছে গিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানালাম। তিনি তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করিলেন- সে পুনরায় অনুরূপ কথা বলিল। সে এ কথাও বলিল যে, এভাবে সে তার প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব বা পুরস্কার আশা করে। এ কথা শুনে নবী [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ তুমি যা আশা করেছ তা তুমি অবশ্যই লাভ করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ১৪০০]

১৪০৩

আসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ১৪০১]

১৪০৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদের বাড়ী মসজিদ থেকে দূরে অবস্থিত ছিল। আমরা মাসজিদের আশে-পাশে বাড়ী নির্মাণের জন্য ঐ ঘর-বাড়ী বেঁচে ফেলতে মনস্থ করলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তা করিতে নিষেধ করেন। তিনি [আমাদের সম্বোধন করে] বললেনঃ [নামাজের জন্য মাসজিদের আসার] প্রতিটি পদক্ষেপের বিনিময়ে তোমাদের মর্যাদা ও সাওয়াব বৃদ্ধিপ্রাপ্ত হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৯০, ইসলামিক সেন্টার- ১৪০২]

১৪০৫

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাসজিদে নাবাবীর পাশে কিছু জায়গা খালি হলে বানূ সাল্যমাহ্‌ গোত্র সেখানে এসে বসতি স্থাপন করিতে মনস্থ করিল। বিষয়টি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর কাছে পৌছলে তিনি তাদের [বানূ সালিমাহ্‌ গোত্রের লোকদের] উদ্দেশে বললেনঃ আমি জানতে পেরেছি যে, তোমরা মাসজিদের কাছে চলে আসতে চাও। তারা বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তাই মনস্থ করেছি। এ কথা শুনে তিনি [সাঃআঃ] বললেনঃ হে বানূ সালিমাহ্‌ গোত্রের লোকেরা! তোমরা তোমাদের ঐ বাড়ীতেই থাকো। কারণ তোমাদের নামাজের জন্য মাসজিদে আসার প্রতিটি পদক্ষেপ লিপিবদ্ধ করা হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৯১, ইসলামিক সেন্টার- ১৪০৩]

১৪০৬

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বানূ সালিমাহ্‌ গোত্রের লোকজন মাসজিদে নাবাবীর কাছে এসে উক্ত খালি স্থানে বসতি স্থাপন করিতে মনস্থ করিল| মাসজিদের নাবাবীর পাশে কিছু খালি জায়গা ছিল। বিষয়টি নবী [সাঃআঃ] অবগত হলে তিনি তাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ হে বানূ সালিমাহ্‌ গোত্রের লোকজন ! তোমরা তোমাদের বর্তমান ঘর-বাড়ীতেই থাকো | নামাজের জন্য মাসজিদে আসতে তোমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ [পদক্ষেপের বিনিময়ে সাওয়াব] লিখিত হয় | নবী [সাঃআঃ] -এর কথা শুনে তারা বললঃ আমরা এতে [এ কথায় এতো খুশী হলাম যে] আমাদের বাড়ী-ঘর স্থানান্তরিত করে মাসজিদের কাছে আসলেও তত খুশী হতাম না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১৩৯২, ইসলামিক সেন্টার- ১৪০৪]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply