মালামাল ক্রয়ের ঠিক রাখা, না রাখার স্বাধীনতা

মালামাল ক্রয়ের ঠিক রাখা, না রাখার স্বাধীনতা

 মালামাল ক্রয়ের ঠিক রাখা, না রাখার স্বাধীনতা >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-২ঃ ক্রয়ের ঠিক রাখা, না রাখার স্বাধীনতা

পরিচ্ছেদ ০১. ক্রয়-বিক্রয়ের মালামাল ফেরত প্রদানকারী ব্যক্তিকে সুযোগ দেয়া মুস্তাহাব
পরিচ্ছেদ ০২. ক্রেতা এবং বিক্রেতার বেচা কেনার স্থান পরিত্যাগ করা পর্যন্ত সাওদা বাতিল করার অধিকার থাকা
পরিচ্ছেদ ০৩. চুক্তিভঙ্গের শঙ্কায় ক্রেতা-বিক্রেতার স্থান ত্যাগ করা নিষেধ
পরিচ্ছেদ ০৪. কেনা বেচায় প্রতারিত ব্যক্তির বিক্রয় বাতিল করার অধিকার থাকার বিধান

পরিচ্ছেদ ০১. ক্রয়-বিক্রয়ের মালামাল ফেরত প্রদানকারী ব্যক্তিকে সুযোগ দেয়া মুস্তাহাব

৮২৫ -আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কোন মুসলমানের [বা অনুতপ্ত ব্যক্তির অনুরোধে] চুক্তি ভঙ্গের সুযোগ দিলো, আল্লাহ তার ত্রুটি–বিচ্যুতি মাফ করবেন। – ইবনু হিব্বান ও হাকিম একে সহীহ্ বলেছেন। {৮৭৮}

{৮৭৮} আবূ দাউদ ৩৪৬০, ইবনু মাযাহ ২১৯৯, আহমাদ ৭৩৮৩। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. ক্রেতা এবং বিক্রেতার বেচা কেনার স্থান পরিত্যাগ করা পর্যন্ত সাওদা বাতিল করার অধিকার থাকা

৮২৬ -ইবনু `উমার [রাঃআঃ] সূত্রে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, যখন দু` ব্যক্তি ক্রয়-বিক্রয় করে, তখন তাহাদের উভয়ে যতক্ষণ বিচ্ছিন্ন না হইবে অথবা একে অপরকে ইখতিয়ার প্রদান না করিবে, ততক্ষণ তাহাদের উভয়ের ইখতিয়ার থাকিবে। এভাবে তারা উভয়ে যদি ক্রয়-বিক্রয় করে তবে তা সাব্যস্ত হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে ক্রয়-বিক্রয়ের পর বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং তাহাদের কেউ যদি তা পরিত্যাগ না করে তবে ক্রয়-বিক্রয় সাব্যস্ত হয়ে যাবে। – শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। {৮৭৯}

{৮৭৯} বুখারি ২১১২, ২১০৭, ২১০৯, ২১১১, ২১১৩, মুসলিম ১৫৩১, তিরমিজি ১২৪৫, নাসায়ী ৪৪৬৫, ৪৪৬৬, ৪৪৭১, আবূ দাউদ ৩৪৪৫, ৪৪৭০, মুয়াত্তা মালেক ১৩৭৪। হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. চুক্তিভঙ্গের শঙ্কায় ক্রেতা-বিক্রেতার স্থান ত্যাগ করা নিষেধ

৮২৭ -আম্‌র বিন শু`আইব হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাহাঁর পিতা থেকে, তিনি তাহাঁর দাদা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করেন যে, নবী [সাঃআঃ] বলেছেন- বিক্রেতা ও ক্রেতা উভয় বেচাকেনার স্থান ছেড়ে যাবার পূর্ব পর্যন্ত [ক্রয়-বিক্রয় বাতিল করার] অধিকারী থাকিবে। এ সুযোগ থাকিবে তাহাদের জন্য- যারা খেয়ার বা অধিকার দেয়ার চুক্তিতে ক্রয় বিক্রয় করিবে। ক্রয়-বিক্রয় প্রত্যাহার করিবে এ ভয়ে অন্যকে ছেড়ে চলে যাওয়া হালাল বা বৈধ হইবে না।

আর অন্য বর্ণনায় আছে- `এ অধিকার তাহাদের উভয়ের স্থান ত্যাগ না করা পর্যন্ত।` {৮৮০}

{৮৮০} আবূ দাউদ ৩৪৫৬, তিরমিজি ১২৪৭, নাসায়ী ৪৪৮৩, আহমাদ ৬৬৬২। হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. কেনা বেচায় প্রতারিত ব্যক্তির বিক্রয় বাতিল করার অধিকার থাকার বিধান

৮২৮ -আবদুল্লাহ ইবনু `উমার [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক সাহাবী নবী [সাঃআঃ] এর নিকট উল্লেখ করিলেন যে, তাকে ক্রয়-বিক্রয়ে ধোঁকা দেয়া হয়। তখন তিনি বলিলেন, যখন তুমি ক্রয়-বিক্রয় করিবে তখন বলবে কোন প্রকার ধোঁকা নেই। {৮৮১}

{৮৮১} বুখারির বর্ণনায় আরো রয়েছে, এরপর লোকটি ক্রয়-বিক্রয়ের সময় এই কথা বলত। আর মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, লোকটি বেচাকেনার সময় “ধোঁকা দিবে না” এ কথাটি বলত। লোকটির নাম হচ্ছেঃ হিব্বান বিন মুনকায আল আনসারী [রাঃআঃ]। বুখারি ২১১৭, ২৪০৭, ২৪১৪, ৬৯৬৪, মুসলিম ১৫৩৩ নাসায়ী ৪৪৮৪, আবূ দাউদ ৩৫০০৯। মালামাল হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইবনে হাজার আসকালানী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply