মানত করা । আল্লাহ ব্যতীত অন্য নামে শপথ করা নিষেধ

মানত করা । আল্লাহ ব্যতীত অন্য নামে শপথ করা নিষেধ

মানত করা । আল্লাহ ব্যতীত অন্য নামে শপথ করা নিষেধ এই অধ্যায়ে মোট ২৪টি হাদীস (১৫২৪-১৫৪৭) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-১৮ঃ মানত ও শপথ,অনুচ্ছেদঃ (১-১৯)=১৯টি

১. অনুচ্ছেদঃ গুনাহের কাজের উদ্দেশ্যে মানত করা বৈধ নয়
২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করিল সে যেন তার আনুগত্য করে।
৩. অনুচ্ছেদঃ যে জিনিসে আদম সন্তানের মালিকানা নেই তার মানত করা যায় না
৪. অনুচ্ছেদঃ অনির্দিষ্ট মানতের কাফফারা
৫. অনুচ্ছেদঃ শপথের বিপক্ষে কাজ করাকে কল্যাণকর মনে করলে
৬. অনুচ্ছেদঃ শপথ ভঙ্গের আগেই কাফফারা প্রদান করা।
৭. অনুচ্ছেদঃ শপথে ইনশাআল্লাহ বলা
৮. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা নিষেধ
৯. অনুচ্ছেদঃ কেউ হাঁটার শপথ করিল অথচ সে হাঁটতে অক্ষম
১০. অনুচ্ছেদঃ মানত করা অপছন্দনীয়
১১. অনুচ্ছেদঃ মানত পুরো করা
১২. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর শপথ কিরুপ ছিল?
১৩. অনুচ্ছেদঃ দাসমুক্তকারীর সাওয়াব
১৪. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার খাদেমকে থাপ্পড় মারলে
১৫. অনুচ্ছেদঃ ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের শপথ করা নিষেধ
১৬. অনুচ্ছেদঃ [পায়ে হেটে যাওয়ার শপথ ভঙ্গ করার কাফফারা]
১৭. অনুচ্ছেদঃ [জুয়া খেলার প্রস্তাবেও দান-খাইরাত করিতে হইবে]
১৮. অনুচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তির পক্ষে মানত আদায় করা
১৯. অনুচ্ছেদঃ দাস আযাদকারীর মর্যাদা

১. অনুচ্ছেদঃ গুনাহের কাজের উদ্দেশ্যে মানত করা বৈধ নয়

১৫২৪. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ গুনাহের কাজ সম্পাদনের উদ্দেশ্যে মানত করা বৈধ হইবে না। শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ এ কাফফারা।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২১২৫] ইবনি উমার, জাবির ও ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীস সহীহ্‌ নয়। কেননা আবু সালামার নিকট হইতে এ হাদীস ঈমাম যুহ্‌রী শুনেননি। আমি ঈমাম বুখারীকে এভাবে বলিতে শুনেছিঃ মূসা ইবনি উকবা, আবু আতীক প্রমুখ যুহ্‌রী হইতে, তিনি সুলাইমান ইবনি আরকাম হইতে, তিনি ইয়াহ্ইয়া ইবনি আবু কাসীর হইতে, তিনি আবু সালামা হইতে, তিনি আইশা [রাদি.] হইতে এবং তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। মুহাম্মাদ [বুখারী] বলেন, এটাই সেই হাদীস। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫২৫.আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলার নাফরমানী করার উদ্দেশ্যে মানত করা যাবে না এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারার মতই তার কাফফারা।

পূর্বের হাদীসের সহায়তায় সহিহ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা গারীব বলেছেন। এটা ইউনুস হইতে আবু সাফওয়ান কর্তৃক বর্ণিত হাদীসের চাইতে অনেক বেশি সহিহ। আবু সাফওয়ান মক্কার অধিবাসী। তার নাম আব্দুল্লাহ ইবনি সাঈদ ইবনি আব্দুল মালিক ইবনি মারওয়ান। তার নিকট হইতে হুমাইদী এবং আরো একাধিক হাদীস বিশারদ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর একদল সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ বলেছেন, আল্লাহ্‌র অবাধ্যাচরণ সম্পর্কিত কোন কাজের উদ্দেশ্যে মানত করা যাবে না। কোন ব্যক্তি এ ধরনের মানত করলে তবে শপথ ভঙ্গের কাফফারার অনুরূপ তার কাফফারা দিতে হইবে। এই কথা বলেছেন আহমাদ ও ইসহাক। আবু সালামার সূত্রে আইশা [রাদি.] -এর যে হাদীস যুহ্‌রী [রঃ] বর্ণনা করিয়াছেন, তারা দুজনেই সেটাকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করিয়াছেন। অপর একদল সাহাবী এবং অপরাপর আলিম বলেছেন, গুনাহের কাজ সম্পাদনের জন্য মানতও নেই এবং কাফফারাও নেই। এই মত ঈমাম মালিক ও শাফিঈরও। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যের মানত করিল সে যেন তার আনুগত্য করে।

১৫২৬. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ্ তাআলার আনুগত্যের উদ্দেশ্যে কোন লোক মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ করে। আর কোন লোক আল্লাহ্ তাআলার অবাধ্যাচরণের উদ্দেশ্যে মানত করলে সে যেন তা পূর্ণ না করে।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২১২৬], বুখারী, হাসান ইবনি আলী আল-খাল্লাল-আবদুল্লাহ ইবনি নুমাইর হইতে, তিনি উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার হইতে, তিনি তালহা ইবনি আবদুল মালিক হইতে, তিনি কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ হইতে, তিনি আইশা [রাদি.] সূত্রে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে [উপরের হাদীসের] অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। কাসিম ইবনি মুহাম্মাদের সূত্রে ইয়াহ্ইয়া ইবনি আবু কাসীরও এ হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। এই মত দিয়েছেন একদল সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ। ঈমাম মালিক এবং শাফিঈরও এই মত। তারা বলেন, আল্লাহ্ তাআলার নাফরমানী করা চলবে না, নাফরমানীর জন্য মানত করলেও তা পূর্ণ করা জায়িয নয় এবং তার জন্য কাফফারাও দিতে হইবে না। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ যে জিনিসে আদম সন্তানের মালিকানা নেই তার মানত করা যায় না

১৫২৭. সাবিত ইবনি যাহ্‌হাক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে জিনিসে বান্দার মালিকানা নেই তার মানত হয় না।

সহিহ, ইরওয়া [২৫৭৫], নাসা-ঈ, আবদুল্লাহ ইবনি আমর ও ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ অনির্দিষ্ট মানতের কাফফারা

১৫২৮. উকবা ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নাম উল্লেখ না করে মানত করা হলে তার কাফফারা শপথ ভঙ্গের কাফফারার মতই।

যঈফ, হাদীসে বর্ণিত “নাম উল্লেখ না করে” অংশ বাদে হাদীনটি সহিহ, ইরওয়া [২৫৮৬]। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ গারীব। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ শপথের বিপক্ষে কাজ করাকে কল্যাণকর মনে করলে

১৫২৯. আবদুর রাহমান ইবনি সামুরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ হে আবদুর রাহমান! শাসকের পদ চেয়ে নিও না। কেননা এ পদ চাওয়ার কারণে তোমার আয়ত্বে এলে তোমাকে এর যিম্মায় [সহায়হীনভাবে] ছেড়ে দেয়া হইবে। এ পদটি যদি না চাইতেই তোমার আয়ত্বে আসে তবে তুমি [দায়িত্বভার বহনে] সাহায্যপ্রাপ্ত হইবে। তুমি কোন কাজের মানত করার পরে তার বিপরীত করার মধ্যে কল্যাণ দেখিতে পেলে কল্যাণকর কাজটিই করিবে এবং শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করিবে।

সহিহ, ইরওয়া [৭/১৬৬], [৮/২২৮,২৬০১] সহিহ আবু দাউদ [২৬০১], নাসা-ঈ, আলী, জাবির, আদী ইবনি হাতিম, আবুদ দারদা, আনাস, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, আবু হুরাইরা, উম্মু সালামা ও আবু মূসা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আব্দুর রহমান ইবনি সামুরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ শপথ ভঙ্গের আগেই কাফফারা প্রদান করা।

১৫৩০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন বিষয়ে কেউ শপথ করার পর তার বিপক্ষে কাজ করার মধ্যে মঙ্গল দেখিতে পেলে সে যেন তার শপথ ভঙ্গের কাফফারা প্রদান করে এবং কল্যাণকর কাজটি সম্পাদন করে।

সহিহ, ইরওয়া [২০৮৪], রাওযুন নাযীর [১০২৯], মুসলিম, উম্মু সালামা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বির্ণত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক নাবী [সাঃআঃ] এর বেশির ভাগ অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তারা বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করা যায়। এই মত দিয়েছেন ঈমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। অপর কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, শপথ ভঙ্গের আগে কাফফারা আদায় করিবে না। সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, আমি শপথ ভঙ্গের পর কাফফারা প্রদানকে উত্তম মনে করি। তবে কোন লোক শপথ ভঙ্গের আগেই আগ্রিম কাফফারা প্রদান করলে তাও যথেষ্ট হইবে। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ শপথে ইনশাআল্লাহ বলা

১৫৩১. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন লোক শপথ করার সময় ইনশাআল্লাহ [যদি আল্লাহ চান] বললে শপথ ভঙ্গের অপরাধ তার উপর আসবে না।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২১০৫] আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বির্ণত আছে। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ইবনি উমারের এ হাদীসটি উবাইদুল্লাহ ইবনি উমার এবং আরো কয়েকজন বর্ণনাকারী নাফির সূত্রে ইবনি উমার হইতে মাওকূফভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। একইভাবে সালিমও এটি মাওকূফ হাদীস হিসাবে ইবনি উমার হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। এটিকে আইয়্যূব সাখতিয়ানী ব্যতীত আর কেউ মারফূ হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন বলে আমাদের জানা নেই। ইসমাঈল ইবনি ইবরাহীম বলেন, আইয়্যূব এটাকে কখনো মারফূ ভাবে বর্ণনা করিতেন, আবার কখনো মাওকূফ ভাবে বর্ণনা করিতেন। এ হাদীস মোতাবিক নাবী [সাঃআঃ] এর বেশির ভাগ সাহাবী ও অপরাপর আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তারা বলেছেন, শপথের সাথে ইনশাআল্লাহ শব্দটি যোগ করলে অর্থাৎ শপথ করার সাথে সাথে ইনশাআল্লাহ বললে শপথের বিপক্ষে কোন কিছু সংঘটিত হলে তাতে শপথ ভঙ্গ হইবে না এবং কাফফারাও আদায় করিতে হইবে না। এই মত প্রদান করিয়াছেন সুফিয়ান সাওরী, আওযাঈ, মালিক ইবনি আনাস, আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫৩২. আবু হুরাইরা [রা] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কেউ শপথ করে ইনশা-আল্লাহ বললে তার শপথ ভঙ্গের কারণে কোন আপরাধ হইবে না।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২১০৪] আমি [আবু ঈসা] এ হাদীস বিষয়ে ঈমাম বুখারীকে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এ হাদীসটি ভুল বর্ণনা করা হয়েছে। আবদুর রাজ্জাক এটাকে সংক্ষিপ্ত আকারে অন্য একটি হাদীস হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। সেই হাদীসটি এইঃ আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ সুলাইমান ইবনি দাঊদ [আঃ] বললেনঃ আমি আজকের রাত্রিতে সত্তরজন স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হব। প্রত্যেক স্ত্রীই একটি করে ছেলে সন্তান প্রসব করিবে। তিনি সকল স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হলেন। কিন্তু তাহাদের মধ্যে কেউই সন্তান প্রসব করিল না। শুধুমাত্র একজন স্ত্রী একটি অর্ধাঙ্গ বাচ্চা প্রসব করিল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তিনি যদি ইনশাআল্লাহ বলিতেন তাহলে তিনি যেরূপ বলেছিলেন সেরূপই হত। আবদুর রাজ্জাক লম্বা হাদীসটি উল্লেখিত সনদ সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। সুলাইমান [আঃ] – এর স্ত্রীর পরিমাণও তিনি সত্তরজন বলে উল্লেখ করিয়াছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর এ হাদীসটি আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “সুলাইমান ইবনি দাঊদ [আঃ] বলিলেন, আমি আজ রাতে একশতজন স্ত্রীর শয্যাসঙ্গী হব”। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ আল্লাহ তাআলা ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা নিষেধ

১৫৩৩. সালিম [রঃ] হইতে তার বাবার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] উমার [রাদি.]-কে আমার পিতার শপথ, আমার পিতার শপথ বলিতে শুনলেন। তিনি বললেনঃ সাবধান! অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের বাবার নামে শপথ করিতে আল্লাহ তাআলা নিষেধ করিয়াছেন। উমার [রাদি.] বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমি এরপর হইতে আর কখনো এভাবে শপথ করিনি বা অন্যের বরাতেও তা উল্লেখ করিনি।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২০৯৪], নাসা-ঈ, সবিত ইবনি যাহহাক, ইবনি আব্বাস, আবু হুরাইরা, কুতাইলা ও আবদুর রাহমান ইবনি সামুরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবু উবাইদ বলেন, ওলা আছিরান -এর অর্থ অন্যের বরাতেও আমি তা উল্লেখ করিনি। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫৩৪. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একটি কাফেলার সাথে উমার [রাদি.]-কে এরূপ অবস্থায় পেলেন যে, সে সময় তিনি তার বাবার নামে শপথ করছিলেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের বাবার নামে শপথ করিতে আল্লাহ তাআলা বারণ করছেন। হয় শপথকারী আল্লাহ্ তাআলার নামে শপথ করিবে না হয় নিরব থাকিবে।

সহিহ, প্রাগুক্ত, নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫৩৫. সাদ ইবনি উবাইদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি উমার [রাদি.] একজন লোককে বলিতে শুনলেন, না, কাবার শপথ! ইবনি উমার [রাদি.] বলিলেন, আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে শপথ করা যাবে না। কেননা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে আমি বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাআলার নাম ব্যতীত অন্য কিছুর নামে যে লোক শপথ করিল সে যেন কুফরী করিল অথবা শিরক করিল।

সহিহ, ইরওয়া [২৫৬১], সহীহা [২০৪২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসের ব্যাখ্যায় কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, সে কুফরী করিল অথবা শিরক করিল কথাটি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ধমকি এবং শাসনের সুরে বলেছেন। তারা নিম্নের হাদীসটি নিজেদের দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেনঃ উমার [রাদি.] -কে তার আব্বার নামে শপথ করিতে শুনে নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ সাবধান! তোমাদেরকে নিজেদের আব্বার নামে শপথ করিতে আল্লাহ তাআলা বারণ করিয়াছেন। দ্বিতীয়তঃ আবু হুরাইরা [রাদি.] বর্ণিত হাদীস-রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ “যে লোক নিজের শপথে বলে, লাতের শপথ! উযযার শপথ! সে যেন বলে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ!” আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের তাৎপর্য এরূপ যেমন রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “লোক দেখানোর মনেবৃত্তি শিরকের সমতুল্য।” যেমন কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম সূরা কাহ্‌ফের সর্বশেষ আয়াত- “যে লোক তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাতের আশা রাখে সে যেন সৎকাজ করে এবং প্রভুর ইবাদাতের মধ্যে অন্য কাউকে শরীক না করে”-এর ব্যাখ্যায় বলেছেন, লোক দেখানোর উদ্দেশ্যে যেন ইবাদাত না করে। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ কেউ হাঁটার শপথ করিল অথচ সে হাঁটতে অক্ষম

১৫৩৬. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন একজন মহিলা পায়ে হেঁটে বাইতুল্লাহ শারীফে যাওয়ার মানত করে। এ বিষয়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বললেনঃ আল্লাহ তাআলা তার হাঁটার মুখাপেক্ষী নন। তোমরা তাকে সাওয়ার হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দাও।

হাসান সহিহ, নাসা-ঈ, আবু হুরাইরা, উকবা ইবনি আমির ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা এই সূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম আমল করিয়াছেন। তারা বলেছেন, কোন মহিলা পায়ে হেটে হাজ্জ করার মানত করলেও সে সাওয়ারীতে চড়ে যাবে এবং একটি বকরী কুরবানী করিবে। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১৫৩৭. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একজন অতি বৃদ্ধ লোকের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে তার দুই ছেলের কাঁধে ভর করে যাচ্ছিল। তিনি প্রশ্ন করেনঃ তার কি হয়েছে? লোকেরা বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! সে [বাইতুল্লাহ শারিফে] হেঁটে যাওয়ার মানত করেছে। তিনি বললেনঃ এ লোকের নিজেকে কষ্টে নিক্ষেপ করা হইতে আল্লাহ তাআলা মুক্ত। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তাকে সাওয়ারীতে চড়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। এ হাদীস আনাস [রাদি.] হইতে অন্য এক সূত্রেও বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটি হাসান সহিহ।

সহীহ্‌, নাসা-ঈ, মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ মানত করা অপছন্দনীয়

১৫৩৮. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা মানত কর না। কেননা মানত ভাগ্যের পরিবর্তন করিতে অক্ষম। এর দ্বারা কৃপণ লোকের কিছু আর্থিক খরচ হয় মাত্র।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২১২৩], নাসা-ঈ, ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের একদল অভিজ্ঞ সাহাবী ও তৎপরবর্তী আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তারা মানতকে মাকরুহ বলেছেন। আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক বলেন, মানত করা মাকরুহ কথার তাৎপর্য এই যে, আনুগত্য ও নাফরমানী উভয় ক্ষেত্রেই মানত করা মাকরূহ। কোন লোক আনুগত্যমূলক কাজে নযর মানার পর তা সম্পন্ন করলে সে সাওয়াবের অধিকারী হলেও এ ধরনের মানত মাকরুহ। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ মানত পুরো করা

১৫৩৯. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! জাহিলী আমলে আমি এক রাত মাসজিদুল হারামে ইতিকাফের মানত করেছিলাম। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার মানত পূর্ণ কর।

সহীহ্‌, নাসা-ঈ, আবদুল্লাহ ইবনি আমর ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহী্‌হ্‌ বলেছেন। এ হাদীস মোতাবিক কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, যদি কোন লোক ইসলাম ক্ববূল করে এবং আল্লাহ তাআলার আনুগত্যমূলক কাজের মানত যদি তার উপর থেকে যায় তবে সে এ মানত পুরো করিবে। নাবী রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে] এর কয়েকজন সাহাবী ও তৎপরবর্তীগণ বলেছেন, তাকে রোযা সহকারে ইতিকাফ করিতে হইবে। তারা মনে করেন রোযা ব্যতীত ইতিকাফ সম্পন্ন হয় না। অপর কয়েকজন অভিজ্ঞ আলিম বলেছেন, ইতিকাফ আদায়কারীর জন্য রোযা রাখা জরুরী নয়। তবে সে লোক ইতিকাফের সাথে রোযা রাখার মানতও করলে তবে তাকে রোযাও আদায় করিতে হইবে। তাহাদের দলীলঃ “উমার [রাদি.] মুসলমান হওয়ার আগে কাবা শরীফে এক রাত ইতিকাফের মানত করেছিলেন। তাকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই মানত পুরো করার নির্দেশ দেন” [অথচ রাতে রোযা হয় না সুতরাং রোযা ব্যতীতও ইতিকাফ হয়]। এই মত দিয়েছেন ঈমাম আহমাদ ও ইসহাকও। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর শপথ কিরুপ ছিল?

১৫৪০. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রঃ] হইতে তার বাবার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [আবদুল্লাহ] বলেন, বেশির ভাগ সময় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এভাবে শপথ করিতেনঃ

 لاَ وَمُقَلِّبِ الْقُلُوبِ

লা ওয়া মুকাল্লিবিল কুলূবি” [না! অন্তরসমূহের পরিবর্তনকারীর শপথ!]।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২০৯২], বুখারী, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ দাসমুক্তকারীর সাওয়াব

১৫৪১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] কে আমি বলিতে শুনেছিঃ যদি কেউ কোন মুমিন গোলাম মুক্ত করে তবে আল্লাহ তাআলা তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের বিনিময়ে তার [আযাদকারীর] প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে জাহান্নামের আগুন হইতে মুক্ত করে দেন। এমনকি তার লজ্জাস্থানের বিনিময়ে আযাদকারীর লজ্জাস্থানকে মুক্ত করেন।

সহীহ্‌, ইরওয়া [১৭৪২], রাওযুন নাযীর [৩৫৩], নাসা-ঈ, আইশা, আমর ইবনি আবাসা, ইবনি আব্বাস, ওয়াসিলা ইবনিল আসকা, আবু উমামা, উকবা ইবনি আমির ও কাব ইবনি মুররা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা এই সূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। ইবনিল হাদের নাম ইয়াযীদ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উসামা ইবনিল হাদ। তিনি মদীনার অধিবাসী এবং সিকাহ বর্ণনাকারী। তার নিকট হইতে মালিক ইবনি আনাস ও আরো একাধিক অভিজ্ঞ আলিম হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার খাদেমকে থাপ্পড় মারলে

১৫৪২. সুয়াইদ ইবনি মুকাররিন আল-মুযানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা সাত ভাই ছিলাম। আমাদের মাত্র একজন খাদিম ছিল। আমাদের এক ভাই তাকে থাপ্পর মারে। নাবী [সাঃআঃ] আমাদেরকে হুকুম করিলেন তাকে মুক্ত করে দেয়ার জন্য।

সহীহ্‌, মুসলিম, ইবনি উমার [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। উল্লেখিত হাদীসটি একাধিক বর্ণনাকারী হুসাইন ইবনি আবদুর রাহমানের সুত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তাহাদের কেউ কেউ এতে “লাতামাহা আলা ওয়াজহিহা” [সে তার মুখে থাপ্পর মারে] বর্ণনা করিয়াছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৫. অনুচ্ছেদঃ ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের শপথ করা নিষেধ

১৫৪৩. সাবিত ইবনি যাহহাক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে মানুষ ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের নামে মিথ্যা শপথ করিল, সে যেরুপ বলেছে সে তদ্রুপ।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২০৯৮], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ইসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। যে মানুষ ইসলাম ধর্ম ব্যতীত অন্য ধর্মের শপথ করে তার ব্যাপারে আলিমদের মধ্যে দ্বিমত আছে। যেমন সে বলিল, যদি সে এরুপ করে বা এটা করে তবে ইয়াহূদী অথবা নাসারা হয়ে যাবে। শপথের পর সে অনুরুপ কাজ করিল। এ ব্যক্তির ব্যাপারে একদল আলিম বলেন, সে একটা মারাত্নক কথা বলেছে। তবে তার উপর কোন কাফফারা ধার্য হইবে না। এই মত দিয়েছেন মদীনার আলিমগণও। মালিক ইবনি আনাসেরও এই মত। আবু উবাইদেরও একই মত। রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর একদল সাহাবী, তাবিঈ ও পরবর্তীগণ মনে করেন তাকে কাফফারা প্রদান করিতে হইবে। এই মত প্রকাশ করিয়াছেন সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাকও। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ [পায়ে হেটে যাওয়ার শপথ ভঙ্গ করার কাফফারা]

১৫৪৪. উকবা ইবনি আমির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমার বোন খালি পায়ে, খালি মাথায় ওড়নাবিহীন অবস্থায় পায়ে হেটে বাইতুল্লাহ শরীফ যাওয়ার মানত করেছে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমার বোনের এমন কষ্ট স্বীকারে আল্লাহ তাআলার কিছু যায় আসে না। সে যেন, সাওয়ার হয়ে ওড়না পরে যায় এবং তিন দিন রোযা রাখে।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২১৩৪]। এ অনুচ্ছেদে ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। একদল বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। ঈমাম আহমাদ ও ইসহাকও একই রকম কথা বলেছেন [তিন দিন রোযা রাখতে হইবে]। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ [জুয়া খেলার প্রস্তাবেও দান-খাইরাত করিতে হইবে]

১৫৪৫. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন লোক হলফ করলে এবং লাতের শপথ, উযযার শপথ ইত্যাদি বললে তবে সে যেন সাথে সাথে উচ্চারণ করে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ [আল্লাহ তাআলা ছাড়া আর কোন প্রভু নেই]। আর যে লোক অন্য লোককে প্রস্তাব দেয়, এসো আমরা জুয়া খেলি, সে যেন [জরিমানাস্বরুপ] দান-খাইরাত করে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২০৯৬], নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। আবুল মুগীরার নাম আবদুল কুদ্দূস ইবনিল হাজ্জাজ। তিনি হিম্সে বসবাস করিতেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. অনুচ্ছেদঃ মৃত ব্যক্তির পক্ষে মানত আদায় করা

১৫৪৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি উবাদা [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কাছে এসে তার মায়ের একটি মানতের ব্যাপারে ফাতাওয়া জিজ্ঞেস করেন, যা আদায়ের আগেই তিনি মৃত্যু বরণ করেন। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি তার পক্ষে এটা পূর্ণ কর।

সহীহ্‌, নাসা-ঈ, এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ্‌ বলেছেন। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. অনুচ্ছেদঃ দাস আযাদকারীর মর্যাদা

১৫৪৭. আবু উমামা [রাদি.]-সহ নাবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] এর কয়েকজন সাহাবী হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন মুসলমান অন্য কোন মুসলমানকে আযাদ করলে সে তার জন্য জাহান্নামের আযাব হইতে মুক্তি পাওয়ার উপায় হইবে। আযাদকৃত ব্যক্তির একটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ মুক্তির জন্য আযাদকারীর এক একটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যথেষ্ট হইবে। কোন মুসলমান দুজন মুসলমান মহিলাকে আযাদ করলে তারা উভয়ে তার জন্য জাহান্নাম হইতে মুক্তি পাওয়ার মাধ্যম হইবে। তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মুক্তির জন্য এদের উভয়ের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যথেষ্ট হইবে। কোন মুসলমান মহিলাকে কোন মুসলমান মহিলা আযাদ করলে সে আযাদকারীণীর জন্য জাহান্নাম হইতে মুক্তির উপায় হইবে। তার প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মুক্তির জন্য এর প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ পর্যাপ্ত হইবে।

সহীহ্‌, ইবনি মা-জাহ [২৫২২] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা এই সূত্রে হাসান সহীহ্‌ গারীব বলেছেন। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীস হইতে জানা যায় যে, পুরুষের ক্ষেত্রে দাসীর তুলনায় দাস মুক্ত করাই উত্তম। কেননা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, “কেউ মুসলিম দাস মুক্ত করলে তার জন্য সে জাহান্নাম হইতে মুক্তি পাওয়ার উপায় হইবে। প্রতিটি অঙ্গ তার প্রতিটি অঙ্গ মুক্তি পাওয়ার জন্য যথেষ্ট হইবে” । হাদীসটি সব সনদসূত্রেই সহিহ। মানত করা – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply