মাদক দ্রব্য সিরকা নাবীয দাজী দুধ মসক ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে

মাদক দ্রব্য সিরকা নাবীয দাজী দুধ মসক ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে

মাদক দ্রব্য সিরকা নাবীয দাজী দুধ মসক ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে , এই অধ্যায়ে হাদীস ৬৭ টি (৩৬৬৯ – ৩৭৩৫) >>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায় -২৭ঃ পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে, অনুচ্ছেদঃ ১-২২=২২টি, হাদীসঃ (৩৬৬৯-৩৭৩৫)=৬৭টি

অনুচ্ছেদ-১ঃ মদ হারাম হওয়ার বর্ণনা
অনুচ্ছেদ-২ঃ মদ তৈরির জন্য আঙ্গুর নিংড়ানো
অনুচ্ছেদ-৩ঃ মদের সিরকা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৪ঃ যেসব উপাদান দিয়ে মদ তৈরি হয়
অনুচ্ছেদ-৫ঃ নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি জিনিস হারাম
অনুচ্ছেদ-৬ঃ দাযী [বীজ] সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৭ঃ মদের পেয়ালা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৮ঃ দুই বস্তুর সংমিশ্রণ
অনুচ্ছেদ-৯ঃ কাঁচা খেজুরের শরবত
অনুচ্ছেদ-১০ঃ নাবীযের বৈশিষ্ট্য
অনুচ্ছেদ-১১ঃ মধুর শরবত
অনুচ্ছেদ-১২ঃ নাযীবে কড়া ভাব আসলে
অনুচ্ছেদ-১৩ঃ দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৪ঃ কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৫ঃ চামড়ার মশকের মুখ উল্টিয়ে পান করা
অনুচ্ছেদ-১৬ঃ পাত্রের ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পানি পান করা
অনুচ্ছেদ-১৭ঃ সোনা-রূপার পাত্রে পান করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-১৮ঃ চুমুক দিয়ে পান করা
অনুচ্ছেদ-১৯ঃ পরিবেশনকারী কখন পান করিবে
অনুচ্ছেদ-২০ঃ পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দেয়া এবং তাতে নিঃশ্বাস ফেলা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-২১ঃ দুধ পানের সময় কি বলবে
অনুচ্ছেদ-২২ঃ পাত্রের মুখ ঢেকে রাখা

অনুচ্ছেদ-১ঃ মদ হারাম হওয়ার বর্ণনা

৩৬৬৯

উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মদ হারাম হওয়ার বিধান যেদিন অবতীর্ণ হলো তখন তা পাঁচটি জিনিস থেকে তৈরি করা হতোঃ আঙ্গুর, খেজুর, মধু, গম ও বার্লি। মদ সেই পানীয় যা মানুষকে জ্ঞানশূন্য করে দেয়। তিনটি বিষয় সম্পর্কে আমি আশা করেছিলাম, তা সুস্পষ্টভাবে আমাদের নিকট বর্ণনা না করা পর্যন্ত যদি নাবী [সাঃআঃ] আমাদের হইতে বিদায় না নিতেন! সেগুলো হলো, দাদার মীরাস, কালালার ব্যাখ্যা ও সুদের কিছু বিষয়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৭০

উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মদ পান হারাম হওয়া সম্পর্কিত আদেশ তখনও অবতীর্ণ হয়নি। আমি বলিলাম, হে আল্লাহ! আমাদের জন্য মদের বিষয়টি সুস্পষ্ট করে দিন। অতঃপর সূরাহ আল-বাক্বারাহর [২১৯ নং] আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “[হে রাসূল]! তারা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করছে। আপনি বলুন, উভয়ের মধ্যে বড় বড় পাপের উপাদান আছে, যদিও এতে লোকদের জন্য কিছু উপকারিতাও আছে। কিন্তু উভয় কাজের পাপ ও অকল্যাণের পরিমাণ উপকারিতার চেয়ে অনেক বেশি।” অতঃপর উমার [রাদি.]-কে ডাকা হলো এবং তাহাকে এ আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ! মদের ব্যাপারে আমাদের সুস্পষ্টভাবে বলে দিন। অতঃপর সূরাহ আন-নিসার [৪২ নং] আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা মাতাল অবস্থায় সলাতের কাছেও যাবে না; সলাত তখন পড়বে যখন তোমরা বুঝতে পারো তোমরা কি পড়ছো।” এরপর হইতে যখন সলাতের জামাআত প্রস্তুত হতো, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ঘোষক ঘোষণা করিতেন, সাবধান! মাতাল অবস্থায় সলাতের কাছেও আসবে না। উমার [রাদি.]-কে ডেকে এনে এ আয়াত পড়ে শুনানো হলো। তিনি আবার দুআ করিলেন, হে আল্লাহ! মদের বিষয়ে সুস্পষ্টভাবে বলে দিন। তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে ঈমানদারগণ! মদ, জুয়া, আস্তানা ও পাশা এসবই নাপাক, শয়তানী কাজ। তোমরা এসব থেকে দূরে থাকো……”[সূরাহ আল-মায়িদাহঃ ৯০-৯১]। উমার [রাদি.] বলেন, আমরা এসব কাজ বর্জন করলাম।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৭১

আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আনসার গোত্রের এক লোক তাহাকে ও আবদুর রহমান ইবনি আওফ [রাদি.]-কে দাওয়াত করে উভয়কে মদ পান করালেন তা হারাম হওয়ার পূর্বে। অতঃপর মাগরিবের সলাতে আলী [রাদি.] তাহাদের ঈমামতি করিলেন। তিনি সূরাহ “ক্বুল ইয়া আয়্যুহাল কাফিরূন” পাঠ করিতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলেন। অতঃপর এ আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন মাতাল অবস্থায় থাকো তখন সলাতের কাছেও যেও না। সলাত তখনই পড়বে, যখন তোমরা কি বলছো তা সঠিকরূপে বুঝতে পারো” [সূরাহ আন-নিসাঃ ৪৩]।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৭২

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা যখন মাতাল অবস্থায় থাকো তখন সলাতের কাছেও যেও না…” এবং “লোকেরা আপনাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলুন, এর মধ্যে বড় বড় পাপের উপাদান আছে; যদিও এর মধ্যে লোকদের জন্য কিছুটা উপকারিতাও রয়েছে…” এ আয়াত দুটির হুকুম “হে ঈমানদারগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, আস্তানা…” দ্বারা রহিত করা হয়েছে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৬৭৩

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন মদ হারাম ঘোষিত হয় তখন আমি আবু ত্বালহার ঘরে মদ পরিবেশনকারী ছিলাম। আমাদের মদ ছিল ফাদীখ। এ সময় এক লোক এসে আমাদেরকে বললো, নিশ্চয়ই মদ হারাম করা হয়েছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ঘোষণাকারীও মদ হারাম হওয়ার ঘোষণা দিয়ে যাচ্ছিলেন। আমরা আওয়াজ শুনে বলিলাম, এ লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর ঘোষক।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২ঃ মদ তৈরির জন্য আঙ্গুর নিংড়ানো

৩৬৭৪

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ মদ, তা পানকারী, পরিবেশনকারী, বিক্রেতা, ক্রেতা, উৎপাদক ও শোধনকারী, যে উৎপাদন করায়, সরবরাহকারী এবং যার জন্য সরবরাহ করা হয়- এদের সকলকে আল্লাহ লানত করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩ঃ মদের সিরকা সম্পর্কে

৩৬৭৫

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু ত্বালহা [রাদি.] নাবী [সাঃআঃ] কে কতিপয় কয়েকটি ইয়াতীম সম্পর্কে প্রশ্ন করিলেন, তারা উত্তরাধিকার সূত্রে মদ পেয়েছিল। তিনি বলিলেনঃ তা ঢেলে ফেলে দাও। আবু ত্বালহা [রাদি.] বলিলেন, আমি কি একে সিরকায় রূপান্তরিত করিতে পারবো না? তিনি বলিলেনঃ না।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৪ঃ যেসব উপাদান দিয়ে মদ তৈরি হয়

৩৬৭৬

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আঙ্গুর হইতে মদ তৈরি হয়; খেজুর হইতে মদ তৈরি হয়; মধু হইতে মদ তৈরি হয়; গম হইতে মদ তৈরি হয় এবং বার্লি হইতে মদ তৈরি হয়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৭৭

নুমান ইবনি বাশীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ আঙ্গুরের রস, কিশমিশ, খেজুর, গম, বার্লি এবং এক প্রকার বীজ দ্বারা মদ তৈরি হয়। নেশা উদ্রেককারী সব ধরনের বস্তুর ব্যবহার হইতে আমি তোমাদের নিষেধ করছি।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৭৮

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ দুই প্রকার গাছ থেকে মদ তৈরি হয়। খেজুর গাছ ও আঙ্গুর গাছ।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৫ঃ নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি জিনিস হারাম

৩৬৭৯

ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি বস্তু মদের অন্তর্ভুক্ত এবং নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি জিনিস হারাম। যে ব্যক্তি সর্বদা মদপান করে এবং এ অবস্থায় মৃত্যু বরণ করে, আখিরাতে তাহাকে মদ পান করা হইতে বঞ্চিত রাখা হইবে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ নেশা উদ্রেককারী প্রতিটি বস্তু মদের অন্তর্ভুক্ত। আর নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তু হারাম। যে ব্যক্তি একবার নেশা উদ্রেককারী জিনিস পান করলো সে তার চল্লিশ দিনের সলাতের কল্যাণ হইতে বঞ্চিত হলো। সে যদি তাওবাহ করে আল্লাহ তার তাওবাহ কবুল করিতে পারেন। সে যদি চতুর্থবার তা পান করে তবে আল্লাহ তাহাকে জাহান্নামীদের ঘা হইতে নির্গত পুঁজ খাওয়াবেন। প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! তীনাতুল খাবাল কি? তিনি বলিলেনঃ জাহান্নামীদের পুঁজ। যে ব্যক্তি কোন বালককে যার হালাল-হারাম সম্পর্কিত জ্ঞান হয়নি, এটা পান করাবে আল্লাহ তাহাকে অবশ্যই জাহান্নামীদের পুঁজ-রক্ত পান করাবেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ যে জিনিসের অধিক পরিমাণ পান করলে নেশা সৃষ্টি হয় তার সামান্য পরিমাণও হারাম।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩৬৮২

আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে মধুর তৈরি শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেনঃ নেশা সৃষ্টিকারী যে কোন পানীয় হারাম। অপর বর্ণনায় রয়েছেঃ মধুর তৈরি শরবত। বর্ণনাকারী বলেন, ইয়ামানের অধিবাসীরা এই শরবত পান করতো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮৩

দায়লাম আল-হিম্‌যারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে প্রশ্ন করলাম, আমি বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা শীতপ্রধান এলাকায় বসবাস করি। আমাদেরকে সেখানে কঠোর পরিশ্রম করিতে হয়। আমরা গম হইতে তৈরি মদ পান করে ক্লান্তি দূর করি ও শীত প্রতিরোধ করি। তিনি প্রশ্ন করলেনঃ তাতে কি নেশার সৃষ্টি হয়? আমি বলিলাম, হ্যাঁ। তিনি বলেনঃ তবে তা বর্জন করো। আমি বলিলাম, কিন্তু লোকেরা তা বর্জন করিবে না। তিনি বলিলেন, যদি তারা এটা বর্জন না করে তাহলে তোমরা তাহাদের বিরূদ্ধে যুদ্ধ করো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮৪

আবু মুসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ] কে মধুর তৈরি শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ এটাকে বেত্‌উ বলা হয়। আমি বার্লি ও এক ধরনের বীজের তৈরি শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ এটা মিযর। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ তোমার গোত্রের লোকদের জানিয়ে দাও, নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮৫

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] মদ পান, জুয়া খেলা, কুবাহ ও গুবায়রা নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ নেশা সৃষ্টিকারী প্রতিটি বস্তুই হারাম।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮৬

উম্মু সালামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নেশা সৃষ্টিকারী সর্ব ধরনের বস্তু এবং অবসন্নকারী বস্তুর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছেন। {৩৬৮৬}

দুর্বলঃ যঈফাহ [৪৭৩২], মিশকাত [৩৬৫০]।

{৩৬৮৬} আহমাদ, বায়হাক্বী। সানাদে শাহর ইবনি হাওশাব সমালোচিত।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৬৮৭

আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ নেশা উদ্রেককারী যে কোন বস্তুই হারাম। যে বস্তুর এক ফারাক পরিমাণ পান করলে নেশার উদ্রেক হয় তার এক অঞ্জলি পরিমাণও হারাম।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৬ঃ দাযী [বীজ] সম্পর্কে

৩৬৮৮

মালিক ইবনি আবু মারইয়াম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আবদুর রহমান ইবনি গানম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আমাদের নিকট আসলে আমরা তিলাআ সম্পর্কে উল্লেখ করলাম। তিনি বলিলেন, আবু মালিক আল-আশআরী [রাদি.] আমাকে বলিয়াছেন যে, তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক মদ পান করিবে এবং তারা একে ভিন্ন নামে অভিহিত করিবে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৮৯

সুফিয়ান সাওরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একদা তাহাকে দাযী [দুষ্কৃতকারীদের শরাব] সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আমার উম্মাতের একদল লোক অবশ্যই মদ পান করিবে এবং তারা এর ভিন্নতর নামকরণ করিবে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৭ঃ মদের পেয়ালা সম্পর্কে

৩৬৯০

ইবনি আব্বাস ও ইবনি উমার [রাদি.]–এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তারা উভয়ে বলেন, আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করেছেন দুব্বা, হানতাম, মুযাফ্ফাত ও নাকীর পাত্রগুলো ব্যবহার করিতে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯১

সাঈদ ইবনি জুবাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]–কে বলিতে শুনলাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কলসে সংরক্ষিত নাবীয হারাম ঘোষণা করেছেন। আমি তার এ কথায়ঃ “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কলসে সংরক্ষিত নাবীয হারাম ঘোষণা করেছেন”, ভীত হয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আমি ইবনি আব্বাসের [রাদি.] নিকট উপস্থিত হয়ে বলিলাম, আপনি কি শুনেছেন ইবনি উমার [রাদি.] কি বলিয়াছেন? তিনি বলিলেন, কি বলিয়াছেন? তিনি বলিয়াছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কলসে সংরক্ষিত নাবীয হারাম ঘোষণা করেছেন। তিনি বলিলেন, ইবনি উমার [রাদি.] ঠিকই বলিয়াছেন যে, “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কলসে সংরক্ষিত নাবীয হারাম ঘোষণা করেছেন।” আমি বলিলাম, জার কি? তিনি বলেন, মাটির তৈরী পাত্র।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯২

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আবদুল ক্বায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]–এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা রবীআহ গোত্রের একটি শাখাগোত্র। আমাদেরও আপনার মাঝখানে কাফির মুদার গোত্রের এ জনপদ বাধা হয়ে আছে। এজন্য হারাম মাসে [মুহাররম, রজব, যিলক্বাদ ও যিলহাজ্জ] ব্যতীত অন্য কোন সময়ে আমরা আপনার নিকট আসতে পারি না। কাজেই আমাদেরকে এমন কিছু আদেশ দিন যা আমরা নিজেরা গ্রহন করবো এবং আমাদের অন্যান্য লোকদেরও সে দিকে আহবান করবো। তিনি বলিলেনঃ আমি তোমাদেরকে চারটি বিষয় গ্রহণের আদেশ দিচ্ছি এবং চারটি বিষয়ে নিষেধ করছি। আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা– এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তিনি নিজের হাত দিয়ে ইশারা করিলেন। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছেঃ আল্লাহর প্রতি ঈমান বলে তিনি তাহাদেরকে এর ব্যাখ্যা করে বলিলেনঃ এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই; নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহর রাসূল, সলাত ক্বায়িম করা, যাকাত দেয়া এবং গনীমাতের এক-পঞ্চমাংশ জমা দেয়া। আমি তোমাদেরকে নিষেধ করছি লাউয়ের খোল দ্বারা তৈরী পাত্র, মাটির সবুজ পাত্র, তৈলাক্ত পাত্র এবং কালো রং-এর পাত্র ব্যবহার করিতে। ইবনি উবাইদের বর্ণনায় মুকাইয়ার শব্দের স্থলে নাকীর শব্দ রয়েছে। মুসাদ্দাদ নাকীর ও মুকাইয়ার শব্দ বর্ণনা করেছেন কিন্তু মুযাফ্‌ফাত শব্দের উল্লেখ করেননি।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৩

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবদুল ক্বায়িস গোত্রের প্রতিনিধিদেরকে বলিলেনঃ আমি তোমাদের নাকীর মুকাইয়ার, হানতাম, দুব্বা এবং মাথা কাটা কলস ব্যবহার করিতে নিষেধ করছি। বরং তোমরা [অন্য] পাত্রে পান করো এবং পাত্রের মুখ উত্তমরূপে বেঁধে রাখো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৪

ইবনি আব্বাস [রাদি.] সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

আবদুল ক্বায়িস গোত্রের প্রতিনিধিদের ঘটনা প্রসঙ্গে বর্ণিত। তারা বললো, হে আল্লাহর নাবী! আমরা কিসে করে পান করবো? নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমাদের উচিত মুখ বন্ধ করে রাখা চামড়ার মশক ব্যবহার করা।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৫

আবুল কামূস যায়িদ ইবনি আলী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল ক্বায়িস গোত্রের প্রতিনিধি দলের সাথে যারা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসেছিল তাহাদেরই একজন আমাকে এ হাদিস বর্ণনা করেছেন। আওফের ধারণা তার নাম ক্বায়িস ইবনিল নুমান। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ কাঠের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে, লাউয়ের খোলের পাত্রে এবং মাটির সবুজ পাত্রে পান করো না। যদি তা [নাবীয] কড়া হয়ে যায় তবে পানি মিশিয়ে এর তেজী ভাব দূর করো। যদি কড়া কমাতে না পারো তবে তা ঢেলে ফেলে দাও।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৬

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল ক্বায়িসের প্রতিনিধি দল বললো, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কিসে করে পান করবো? তিনি বলেনঃ তোমরা লাউয়ের খোলের পাত্রে, তৈলাক্ত পাত্রে এবং কাঠের পাত্রে পান করিবে না। তোমাদের কলসে নাবীয প্রস্তুত করো। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! কলসের নাবীযে যদি তেজী ভাব আসে? তিনি বলেনঃ তাতে পানি ঢেলে দাও। তারা বললো, হে আল্লাহর রাসূল! [পূর্বের অনুরূপ]! তিনি তাহাদেরকে তৃতীয় বা চতুর্থবারে বলিলেনঃ তা ঢেলে ফেলে দাও। অতঃপর তিনি বলিলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার উপর হারাম করেছেন অথবা হারাম করা হয়েছে মদ, জুয়া এবং যাবতীয় বাদ্যযন্ত্র। তিনি আরো বলেনঃ নেশা উদ্রেককারী সকল জিনিস হারাম। সুফিয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আলী ইবনি বাযীমাকে কুবাহ সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, তা হলো তবলা বা ঢোল।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৭

আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে লাউয়ের খোলের পাত্র, মাটির সবুজ পাত্র, ও কাঠের পাত্র ব্যবহার করিতে নিষেধ করেছেন এবং জিআহ নামক নাবীয পান করিতেও নিষেধ করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৮

ইবনি বুরাইদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ আমি তোমাদেরকে তিনটি বিষয় হইতে বিরত থাকতে বলেছিলাম। এখন আমি সেসব বিষয়ে তোমাদেরকে অনুমতি দিচ্ছি। আমি তোমাদেরকে কবর যিয়ারত করিতে নিষেধ করেছিলাম। এখন তোমরা তা যিয়ারত করো। কেননা তা দর্শনে [মৃত্যুকে] স্মরণ হয়। আমি তোমাদেরকে পানপাত্র সম্পর্কে নিষেধ করেছিলাম যে, তোমরা চামড়ার পাত্রে নাবীয পান করিবে। এখন তোমরা যে কোন পাত্রে পান করিতে পারো। কিন্তু তোমরা কখনও মাদক দ্রব্য পান করো না। আমি তোমাদের উপর কুরবানীর গোশতের ব্যাপারে তা তিন দিনের পর না খেতে বলেছিলাম। এখন তোমরা তা [দীর্ঘদিন] খেতে পারো এবং তোমাদের সফরে তা কাজে লাগাতে পারো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৬৯৯

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন বিভিন্ন পাত্র সম্পর্কে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করিলেন, তখন আনসারগণ বলিলেন, এছাড়া আমাদের একেবারেই চলেনা। তিনি বলেনঃ তাহলে আপত্তি নেই।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭০০

আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] দুব্বা, হানতাম, মুযাফ্‌ফাত, নাকীর ইত্যাদি পাত্রের কথা উল্লেখ করিলেন [ব্যবহার করিতে বারণ করিলেন]। তখন এক বেদুঈন বললো, এছাড়া আমাদের অন্য কোন পাত্র নেই। তিনি বলেনঃ যা হালাল তা পান করো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭০১

শারীক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার সানাদে বর্ণনা করেন, নাবী [সাঃআঃ] বলিয়াছেনঃ তোমরা নেশা উদ্রেককারী বস্তু বর্জন করো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭০২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ] এর জন্য মশকে নাবীয ঢালা হতো। মশক না পাওয়া গেলে পাথরের তৈরী পাত্রে তাহাঁর জন্য নাবীয ঢালা হতো l

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৮ঃ দুই বস্তুর সংমিশ্রণ

৩৭০৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] খেজুর ও আঙ্গুরের সমন্বয়ে নাবীয তৈরী করিতে বারণ করেন। তিনি [সাঃআঃ] কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে করেও নাবীয বানাতে বারণ করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭০৪

আবু ক্বাতাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিশমিশ ও শুকনো খেজুর একত্রে মিশিয়ে এবং কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মিশিয়ে এবং পাকা রং ধারণকৃত ও শুকনো খেজুর একত্রে মিশিয়ে পানীয় বানাতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ প্রতিটি ফল দিয়ে ভিন্ন ভিন্নভাবে তোমরা নাবীয বানাও।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭০৫

ইবনি আবু লাইলাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে জনৈক ব্যক্তি সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] এর একদল সাহাবী নাবী [সাঃআঃ] এর সূত্রে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মিশিয়ে এবং আঙ্গুর ও খেজুর একত্রে মিশিয়ে নাবীয তৈরি করিতে নিষেধ করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭০৬

কাবশাহ বিনতু আবু মারইয়াম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উম্মু সালামাহ্‌ [রাদি.]–কে প্রশ্ন করলাম, নাবী [সাঃআঃ] কোন বস্তু থেকে নিষেধ করেছেন? তিনি বলিলেন, তিনি আমাদের খেজুরের আঁটি পাকাতে নিষেধ করেছেন এবং কাঁচা ও পাকা খেজুর একত্রে মিশ্রিত করে নাবীয তৈরি করিতে নিষেধ করেছেন। {৩৭০৬}

{৩৭০৬} আহমাদ, বায়হাক্বী । সনদের সাবিত ইবনি উমারাহ সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ সত্যবাদী, তবে হাদিস বর্ণনায় শিথিল । এবং সনদের রাইতাহ সম্পর্কে হাফযঃ আমি তাহাকে চিনি না । এছাড়া সনদের কাবশাহ বিন্তু আবু মারইয়ামের অবস্থাও অনুরূপ ।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৭০৭

আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ]-এর জন্য আঙ্গুরের নাবীয তৈরি করা হতো, অতঃপর তাতে খেজুর ছেড়ে দেয়া হতো বা খেজুরের নাবীয তৈরি করা হতো এবং তাতে আঙ্গুর ছেড়ে দেয়া হতো। {৩৭০৭}

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

৩৭০৮

সাফিয়্যাহ বিনতু আত্বিয়্যাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আবদুল ক্বায়িস গোত্রের মহিলাদের সঙ্গে আমি আয়িশাহ্‌হ্‌ [রাদি.]-এর নিকট উপস্থিত হলাম। আমরা তাহাকে খেজুর ও আঙ্গুর মিশ্রিত শরবত সম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমি এক মুষ্টি খেজুর ও এক মুষ্টি আঙ্গুর একটি পাত্রে ঢালতাম। তা আঙ্গুল দিয়ে চেপে রস বের করতাম, অতঃপর তা নাবী [সাঃআঃ] কে পান করাতাম। {৩৭০৮}

৩৭০৮ বায়হাক্বী। সনদের আত্তাব সম্পর্কে হাফিয বলেনঃ তিনি মাক্ববুল। এবং সাফিয়্যাহ বিনতু আত্বিয়্যাহ সম্পর্কে বলেনঃ অজ্ঞাত।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৯ঃ কাঁচা খেজুরের শরবত

৩৭০৯

ক্বাতাদাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে জাবির ইবনি যায়িদ ও ইকরামাহ্ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তারা দুজনেই কেবল কাঁচা খেজুরের তৈরী শরবত অপছন্দ করিতেন। তারা ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে এটা বর্ণনা করেন। ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, আমার আশংকা হচ্ছে- এটা যেন মুয্যাআ না হয়। কেননা আবদুল ক্বায়িস গোত্রকে তা পান করিতে নিষেধ করা হয়েছে। [বর্ণনাকারী হিশাম বলেন], আমি ক্বাতাদাহ্কে বলিলাম, মুয্যাআ কি? তিনি বলেন, মাটির সবুজ পাত্রে ও তৈলাক্ত পাত্রে ভিজানো নাবীয।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১০ঃ নাবীযের বৈশিষ্ট্য

৩৭১০

আবদুল্লাহ ইবনি দায়লামী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতার সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [পিতা] বলেন, একদা আমার নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলি, হে আল্লাহর রাসূল! আপনি জানেন যে, আমরা কারা, কোথাকার অধিবাসী এবং কার নিকট এসেছি। তিনি বলিলেনঃ আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের নিকট এসেছো। আমরা বলিলাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের এখানে আঙ্গুর উৎপাদিত হয়। আমরা এগুলো কি করবো? তিনি বলেনঃ এগুলো শুকিয়ে কিশমিশ বানাও। আমরা বলিলাম, কিশমিশ দিয়ে কি করবো? তিনি বলেনঃ শরবত তৈরীর জন্য তা সকালে ভিজাবে এবং রাতে পান করিবে অথবা রাতে ভিজাবে এবং সকালে পান করিবে। তা চামড়ার মশকে ভিজাবে। মাটির কলসীতে অথবা বড় পাত্রে নাবীয বানাবে না। কেননা নিংড়াতে দেরী হলে তা সিরকায় পরিণত হইবে। {৩৭১০}

{৩৭১০} নাসায়ী, আহমাদ, দারিমী।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান সহিহ

৩৭১১

আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ]-এর জন্য একটি পাত্রে নাবীয বানানো হতো, তার উপরের মুখ বন্ধ করে দেয়া হতো এবং এর নীচের দিকেও মুখ ছিল। তাহাঁর জন্য সকালে যে নাবীয বানানো হতো তিনি রাতের বেলা তা পান করিতেন। আবার রাতে যে নাবীয বানানো হতো তিনি তা সকালে পান করিতেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭১২

আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসূলুল্লাহ্‌র [সাঃআঃ]-এর জন্য সকালে নাবীয তৈরি করিতেন। যখন রাত হতো তিনি তা পান করিতেন। কিছু উদ্বৃত্ত থাকলে তিনি তা ঢেলে ফেলে দিতেন বা শেষ করে দিতেন। অতঃপর তিনি রাতে নাবীয তৈরি করিতেন। যখন সকাল হতো তিনি তা পান করিতেন। আয়িশা [রাদি.] বলেন, আমি সকাল-সন্ধ্যায় নাবীয পাত্র ধুয়ে নিতাম। মুকাতিল [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার পিতা তাহাকে বলিলেন, দৈনিক দুইবার? তিনি বলেন, হাঁ।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ হাসান হাদিস

৩৭১৩

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-এর জন্য আঙ্গুরের নাবীয বানানো হতো। তিনি তা সারা দিন পান করিতেন, দ্বিতীয় দিন এবং তৃতীয় দিনও বিকাল পর্যন্ত পান করিতেন। অতঃপর তিনি আদেশ দিলে অবশিষ্ট শরবত খাদেমদেরকে পান করানো হতো কিংবা ফেলে দেয়া হতো। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, খাদেমদের পান করানোর অর্থ হলো, তাতে নেশা প্রকাশ পাওয়ার আগে তারা তা পান করতো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১১ঃ মধুর শরবত

৩৭১৪

উবাইদ ইবনি উমাইর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী [সাঃআঃ]-এর স্ত্রী আয়িশা [রাদি.]-কে বলেতে শুনেছিঃ নাবী [সাঃআঃ] যাইনাব বিনতু জাহ্‌শ [রাদি.]-এর ঘরে আসতেন এবং সেখানে মধু খেতেন। একদিন আমি ও হাফসাহ পরামর্শ করলাম যে, আমাদের দুজনের যার ঘরেই নাবী [সাঃআঃ] প্রবেশ করবেন। সে যেন বলে, আমি আপনার মুখ হইতে মাগাফীরের গন্ধ পাচ্ছি। তিনি তাহাদের কোন একজনের ঘরে ঢুকলে তিনি তাঁকে ঐ কথা বলিলেন। নাবী [সাঃআঃ] বলিলেনঃ বরং আমি যাইনাব বিনতু জাহ্‌শের ঘরে মধু পান করেছি। ঠিক আছে আমি আজ হইতে কখনো তা পান করবো না। অতঃপর কুরআনের আয়াত অবতীর্ণ হলোঃ “হে নাবী! আল্লাহ আপনার জন্য যা হালাল করেছেন তা কেন হারাম করছেন? আপনি কি স্ত্রীদের সন্তুষ্টি লাভ করিতে চান?… তোমরা উভয়ে যদি আল্লাহর নিকট তাওবাহ কর” [সূরাহ তাহরীমঃ ১-৫], এ আয়াতগুলোতে আয়িশাহ্‌ ও হাফসাহ্‌ [রাদি.]-কে তাওবাহ করিতে বলা হয়েছে। “যখন নাবী [সাঃআঃ] একটা কথা স্বীয় এক স্ত্রীর নিকট সংগোপনে বলেছিলেন” এ আয়াতটি বরং আমি মধু পান করেছি কথার ব্যাখ্যায় অবতীর্ণ।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭১৫

আয়িশাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মিষ্টি জিনিস ও মধু অত্যন্ত পছন্দ করিতেন। অতঃপর বর্ণনাকারী উপরের হাদিসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করে বলেন, রসূলুল্লাহর [সাঃআঃ] শরীর হইতে কেউ কোনরূপ দুর্গন্ধ পাক তা তিনি খুবই অপছন্দ করিতেন। এ হাদিসে রয়েছেঃ সাওদা [রাদি.] বলিলেন, বরং আপনি মাগাফীর পান করেছেন। তিনি বলিলেনঃ আমি মধু পান করেছি, হাফসাহ আমাকে মধু পান করিয়েছে। আমি বলিলাম, তাহলে মৌমাছি উরফুতের রস শোষণ করেছে। যেসব গাছ হইতে মৌমাছি রস সংগ্রহ করে উরফুত সে ধরনের একটি গাছ। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, মাগাফীর হচ্ছে এক ধরনের বৃক্ষনির্যাস; জারাসাত অর্থ আহার করলো এবং উরফুত হলো এক ধরনের উদ্ভিদ যা হইতে মৌমাছি রস সংগ্রহ করে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১২ঃ নাযীবে কড়া ভাব আসলে

৩৭১৬

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জানতাম, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রায়ই সওম পালন করিতেন। সুতরাং আমি অপেক্ষায় ছিলাম তিনি কোন দিন সওম না রাখেন। আমি তাহাঁর জন্য লাউয়ের পাত্রে নাবীয তৈরী করে নিয়ে গেলাম। আমি তাঁকে তা পরিবেশন করলাম। কিন্তু তাতে তেজী ভাব আসায় তিনি বলিলেনঃ এগুলো দেয়ালের ওখানে ফেলে দাও। এটা তারাই পান করিতে পারে যারা আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি বিশ্বাসী নয়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৩ঃ দাঁড়িয়ে পান করা সম্পর্কে

৩৭১৭

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] কোন ব্যাক্তিকে দাঁড়িয়ে পান করিতে নিষেধ করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭১৮

আন-নায্‌যাল ইবনি সাবরাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একদা আলী [রাদি.] পানি চেয়ে নিয়ে তা দাঁড়িয়ে পান করিলেন। অতঃপর তিনি বলেন, কতিপয় লোক এটাকে অপছন্দ করে যে, তাহাদের কেউ এরূপ করুক। অথচ আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এরূপ [দাঁড়িয়ে পান করিতে] করিতে দেখেছি, যেরূপ তোমরা আমাকে করিতে দেখলে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৪ঃ কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পান করা সম্পর্কে

৩৭১৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কলসের মুখে মুখ লাগিয়ে পানি পান করিতে, জাল্লালায় সওয়ার হইতে এবং কোন প্রাণীকে বেঁধে তীর নিক্ষেপ করে হত্যা করিতে বারণ করেছেন। ঈমাম আবু দাউদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, জাল্লালা হলো, যে প্রাণী নাপাক বস্তু খায়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৫ঃ চামড়ার মশকের মুখ উল্টিয়ে পান করা

৩৭২০

আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মশকের মুখ উল্টিয়ে পানি পান করিতে নিষেধ করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭২১

আনসার গোত্রের ঈসা ইবনি আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে তার পিতা সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উহুদ যুদ্ধের দিন নাবী [সাঃআঃ] চামড়ার একটি ছোট মশক নিয়ে আহবান করিলেন। তিনি বলিলেনঃ পাত্রের মুখ উল্টাও। অতঃপর তিনি এর মুখ দিয়ে পানি পান করিলেন। {৩৭২১}

{৩৭২১} তিরমিজি। ঈমাম তিরমিজি বলেনঃ এই হাদিসের সনদ সহিহ নয়। আবুদুল্লাহ ইবনি উমার আল-উমরীকে হাদিসে দুর্বল বলা হয়। আমি জানি না তিনি ঈসা থেকে শুনেছেন কিনা।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ মুনকার

অনুচ্ছেদ-১৬ঃ পাত্রের ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পানি পান করা

৩৭২২

আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করেছেন পাত্রের ভাঙ্গা স্থান দিয়ে পানি পান করিতে এবং পানীয়ের মধ্যে ফুঁ দিতে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৭ঃ সোনা-রূপার পাত্রে পান করা সম্পর্কে

৩৭২৩

ইবনি আবু লাইলাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

বর্ণিত। তিনি বলেন, হুযাইফাহ [রাদি.] মাদায়েনে ছিলেন। তিনি পানি চাইলেন। তখন এক মহাজন একটি রূপার পাত্রে তার জন্য পানি আনলে তিনি পানি ফেলে দিয়ে বলিলেন, আমি এটা ফেলতাম না; ফেলেছি কেবল এজন্য যে, তাহাকে এ পাত্রে পানি পরিবেশন করিতে নিষেধ করেছি, কিন্তু তবুও বিরত হয়নি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] রেশমী কাপড় পরতে এবং সোনা-রূপার পাত্রে পান করিতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলিয়াছেনঃ ঐগুলো দুনিয়াতে কাফিরদের জন্য এবং আখিরাতে তোমাদের জন্য।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৮ঃ চুমুক দিয়ে পান করা

৩৭২৪

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা নাবী [সাঃআঃ] ও তাহাঁর এক সাহাবী এক আনসারীর নিকট গেলেন। সে তখন তার বাগানে পানি দিচ্ছিল। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমার নিকট পুরাতন কলসে রাখা গত রাতের বাসি পানি থাকলে নিয়ে আসো। নতুবা আমরা নালায় চুমুক দিয়ে পানি পান করে নিবো। লোকটি বললো, হাঁ আমার নিকট পুরাতন কলসে রাখা বাসি পানি আছে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-১৯ঃ পরিবেশনকারী কখন পান করিবে

৩৭২৫

আবদুল্লাহ ইবনি আবু আওফা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ দলের পানি পরিবেশনকারী সবশেষে পান করিবে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭২৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা নাবী [সাঃআঃ]-এর জন্য দুধ আনা হলো। তাতে পানি মিশানো ছিল। তাহাঁর ডান দিকে এক বেদুঈন বসা ছিল এবং বাম দিকে ছিলেন আবু বকর [রাদি.]। তিনি দুধ পান করার পর তা বেদুঈনকে দিয়ে বলিলেনঃ ডান দিকের ব্যক্তি, অতঃপর ডান দিকের ব্যক্তি।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭২৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] পান করার সময় তিনবার নিঃশ্বাস নিতেন। তিনি বলিতেন ঃ এতে পরিতৃপ্ত হয়ে পান করা যায়, পিপাসা দূরীভূত হয়, পরিপাক শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২০ঃ পানীয় দ্রব্যে ফুঁ দেয়া এবং তাতে নিঃশ্বাস ফেলা সম্পর্কে

৩৭২৮

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] পানির পাত্রের মধ্যে নিঃশ্বাস ফেলতে অথবা তাতে ফুঁ দিতে বারণ করেছেন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭২৯

সুলাইম গোত্রের আবদুল্লাহ ইবনি বুসর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার পিতার ঘরে এলে তিনি তাহাঁর সামনে খাদ্য পরিবেশন করিলেন। তিনি হাইস নামক খাবারের উল্লেখ করলে তা তাহাঁর নিকট নিয়ে আসা হলো। অতঃপর তিনি শরবত আনলেন এবং নাবী [সাঃআঃ] তা পান করিলেন। তারপর ডান দিক হইতে পরিবেশন করা হলো। তিনি খেজুর খেলেন এবং বীচিগুলো তর্জনী ও মধ্যমা আঙ্গুলের পেটের উপর রাখলেন। যখন তিনি বিদায় নিতে উঠলেন, আমার পিতাও দাঁড়ালেন। তিনি তাহাঁর জন্তুযানের লাগাম ধরে বলিলেন, আল্লাহ্‌র নিকট আমার জন্য দুআ করুন। তিনি দুআ করিলেন ঃ “হে আল্লাহ্! তাহাদেরকে দেয়া রিযিক্বে বরকত দিন, তাহাদেরকে ক্ষমা করুন এবং তাহাদের প্রতি অনুগ্রহ করুন।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২১ঃ দুধ পানের সময় কি বলবে

৩৭৩০

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি মাইমূনাহ [রাদি.]–এর ঘরে উপস্থিত ছিলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সেখানে আসলেন। তাহাঁর সাথে ছিল খালিদ ইবনিল ওয়ালীদ [রাদি.]। তখন এ সময় কতিপয় লোক দুটি গুইসাপ ভুনা করে দুটি কাঠের উপর রেখে নিয়ে এলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থুথু ফেললেন। খালিদ [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! মনে হয় আপনি গুইসাপের গোশত অপছন্দ করেন। তিনি বলিলেনঃ হাঁ। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর জন্য দুধ আনা হলো। তিনি তা পান করিলেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তোমাদের কেউ খাবার খাওয়ার সময় যেন বলে ঃ “হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এর মধ্যে বরকত দিন এবং এর চেয়েও উত্তম খাবার দান করুন”। এবং দুধ পানের সময় যেন বলে ঃ “হে আল্লাহ্! আমাদেরকে এর মধ্যে বরকত দিন এবং এর চেয়ে আরো বৃদ্ধি করে দিন”। কেননা একমাত্র দুধই খাদ্য ও পানীয় উভয়ের কাজ দেয়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-২২ঃ পাত্রের মুখ ঢেকে রাখা

৩৭৩১

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তোমার ঘরের দরজা বন্ধ করে ঘুমাও। কারণ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তোমার ঘরের আলো নিভিয়ে ঘুমাও। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তোমার পাত্রগুলোর মুখ ঢেকে রাখো, যদিও একটি কাছ দ্বারা হয়। তা পাত্রের মুখে আড়াআড়িভাবে রেখে দাও। আল্লাহ্‌র নাম নিয়ে তোমার পানপাত্রের মুখ বন্ধ করে রাখো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭৩২

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] হাদিসটি এভাবেই বলিয়াছেন। এ হাদিস পরিপূর্ণ বর্ণিত হয়নি। নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ শয়তান বন্ধ দরজা খুলতে পারে না, বন্ধ পাত্রে ঢুকতে বা তা খুলতে পারে না এবং ইঁদুর মানুষের ঘর বা ঘরগুলো জ্বালিয়ে দেয়।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭৩৩

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের শিশুদের রাতের বেলা ঘরে আবদ্ধ রাখো। মুসাদ্দাদের বর্ণনায় রয়েছে, সন্ধ্যা বেলায়। কেননা, এ সময় শয়তান বা জিন ছড়িয়ে পড়ে এবং নিজেদের থাবা বিস্তার করে।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭৩৪

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমরা নাবী [সাঃআঃ]–এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি পানি চাইলে দলের এক ব্যক্তি বললো, আমরা কি আপনাকে নাবীয পরিবেশন করবো না? তিনি বলেনঃ হাঁ। জাবির [রাদি.] বলেন, লোকটি দ্রুত চলে গিয়ে একটি নাবীয ভর্তি পাত্র নিয়ে ফিরে এলো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তুমি কেন পাত্রটির মুখ ঢাকলে না? অন্তত একটি কাঠ-এর উপর আড়াআড়িভাবে রাখলেও হতো।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

৩৭৩৫

আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ]–এর জন্য বুয়ূতুস-সুকইয়া হইতে মিষ্টি পানি সংগ্রহ করে আনা হতো। কুতাইবাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, বুয়ূতুস-সুকইয়া হলো একটি কূপের নাম, এর এবং মাদীনাহ্‌র মাঝে দুই দিনের পথের দূরত্ব।

মাদক দ্রব্য ও পানীয় দ্রব্য প্রসঙ্গে – হাদিস এর তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply