কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয

কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয

কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১০. অধ্যায়ঃ কোন অসুবিধার কারনে ইহরাম অবস্থায় মাথা কামানো জায়িয, মাথা কামালে ফিদ্ইয়াহ্ দেয়া ওয়াজিব এবং ফিদ্ইয়ার পরিমাণ

২৭৬৭

কাব ইবনি উজরাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুদায়বিয়ার সময় রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমার কাছে এলেন এবং আমি তখন চুলায় আমার হাঁড়ি বা পাতিলের নীচে আগুন জ্বালাচ্ছিলাম-আর উকুন আমার চেহারার উপর গড়িয়ে পড়ছিল। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তোমার মাথার পোকাগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যা। তিনি বলিলেন, তাহলে মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে আহার করাও অথবা একটি কুরবানী কর। আইয়ূব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমার মনে নেই তিনি [মুজাহিদ] কোন্ শব্দটি আগে বলেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৪৪, ইসলামিক সেন্টার-২৭৪২]

২৭৬৮

আইয়ূব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

সূত্রে পূর্বোক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৪৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৩]

২৭৬৯

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার সম্পর্কে নিম্নোক্ত আয়াত নাযিল হয়েছে,

‏ فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ‏

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হইবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হইবে এবং এ কারণে সে মাথা মুড়িয়ে ফেলে, তবে তাকে ফিদ্ইয়্যাহ্ হিসেবে সওম পালন করিতে হইবে অথবা সদাক্বাহ্ দিতে হইবে অথবা কুরবানী করিতে হইবে”- [সূরাহ আল বাকারাদি. ১৯৬]। রাবী বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর নিকট এলাম এবং তিনি বলিলেন, আরও নিকটে আসো। অতএব আমি নিকটবর্তী হলাম এবং তিনি বলিলেন, পোকাগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে?

ইবনি আওন [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] [নিজস্ব সূত্র পরম্পরায়] বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, হ্যাঁ। কাব [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে সওম অথবা সদাক্বাহ্ কর ছয়জন মিসকীনের মাঝে এক ফারাক্ব [তিন সা] পরিমাণ, অথবা সহজলভ্য হলে কুরবানীর মাধ্যমে ফিদ্ইয়্যাহ্ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৪৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৪]

২৭৭০

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তার নিকট দাঁড়ালেন এবং তখন তার মাথা থেকে উকুন ঝরে পরছিল। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তাহলে তোমার মাথা কামিয়ে ফেল। রাবী বলেন, অতএব আমার সম্পর্কে এ নাযিল হয়ঃ

فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ‏

“তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হইবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হইবে [এবং এ কারণে মাথা মুড়িয়ে ফেলবে] তবে তাকে ফিদ্ইয়্যাহ্ হিসেবে সওম পালন করিতে হইবে অথবা সদাক্বাহ্ দিতে হইবে অথবা কুরবানী করিতে হইবে”- [সূরাহ্ আল বাকারা ২:১৯৬]। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] আমাকে বলিলেন, তুমি তিনদিন সওম পালন কর অথবা এক ফারাক্ব [তিন সা] খাদ্য ছয়জন মিসকিনকে দান কর অথবা করবানী কর- যা সহজলভ্য হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৪৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৫]

২৭৭১

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন- মাক্কায় প্রবেশের পূর্বে- তিনি যখন ইহরাম অবস্থায় ছিলেন এবং নিজের হাঁড়ির নিচে আগুন জ্বালাচ্ছিলেন। এ অবস্থায় তার [মাথা থেকে] মুখমণ্ডলে উকুন ঝরে পড়ছিল। রসূলুল্লাহ্ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, এগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ বলিলেন, তাহলে তোমার মাথা মুড়িয়ে ফেল এবং ছয়জন মিসকিনকে এক ফারাক খাদ্য দান কর [এক ফারাক্ব-এ তিন সা], অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা একটি কুরবানী কর। ইবনি আবু নাজীহ-এর বর্ণনায় আছে, “অথবা একটি বকরী কুরবানী কর।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৪৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৬]

২৭৭২

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] হুদায়বিয়ায় তার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বলিলেন, পোকাগুলো কি তোমার মাথায় উপদ্রব করছে? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে বলিলেন, মাথা মুড়িয়ে ফেল। অতঃপর একটি বকরী কুরবানী কর অথবা তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকিনকে তিন সা খেজুর খেতে দাও। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৪৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৭]

২৭৭৩

আবদুল্লাহ ইবনি মাক্বিল [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মসজিদে কাব ইবনি উজ্রাহ্ [রাদি.]-এর নিকট বসলাম। অতঃপর আমি তাকে এ আয়াত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম, “ফিদ্ইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করিতে হইবে অথবা সদক্বাহ্ দিতে হইবে অথবা কুরবানী করিতে হইবে।” কাব [রাদি.] বলিলেন, তা আমার সম্পর্কে নাযিল হয়েছে। আমার মাথায় কিছু কষ্ট ছিল। অতঃপর আমাকে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর নিকট নিয়ে যাওয়া হল এবং তখন আমার মুখমণ্ডলে উকুন গড়িয়ে পড়ছিল। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, আমি যা দেখছি তাতে মনে হয় যে, তোমার অসহনীয় কষ্ট হচ্ছে। তুমি কি একটি বকরী সংগ্রহ করিতে সক্ষম হইবে? আমি বললাম, না। তখন আয়াত নাযিল হয়, “ফিদ্ইয়াহ্ হিসেবে সওম পালন করিতে হইবে, সদাক্বাহ্ করিতে হইবে অথবা কুরবানী করিতে হইবে।” নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলিলেন, তিনদিন সওম পালন কর অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে অর্ধ সা করে খাদ্য দান কর। কাব [রাদি.] বলেন, আয়াতটি বিশেষভাবে আমার প্রসঙ্গে নাযিল হয়েছে কিন্তু এর নির্দেশ সাধারণভাবে তোমাদের সকলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৫০, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৮]

২৭৭৪

কাব ইবনি উজরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি ইহরাম অবস্থায় নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] -এর সাথে রওনা হলেন। তার মাথা ও দাঁড়িতে উকুন ধরে যায়। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তা জানতে পেরে তাকে ডেকে পাঠালেন এবং একজন নাপিতও ডাকলেন। সে তার মাথা মুড়িয়ে দিল। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমার সাথে কুরবানীর পশু আছে কি? তিনি বলিলেন, আমি তা সংগ্রহ করিতে সক্ষম নই। অতঃপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] তাকে তিনদিন সওম পালনের অথবা ছয়জন মিসকীনের প্রত্যেককে এক সা করে খাদ্য দান করার নির্দেশ দিলেন। আল্লাহ তাআলা বিশেষ করে তার প্রসঙ্গে নাযিল করিলেন, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রোগাক্রান্ত হইবে অথবা যার মাথায় কোন অসুখ হইবে…”। অতঃপর এ আয়াতের নির্দেশ সাধারণভাবে সকল মুসলিমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৭৫১, ইসলামিক সেন্টার- ২৭৪৯]

By najmulislam

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply