মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও উভয়ের মধ্যে কে তা পাওয়ার অধিক হাক্‌দার

মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও উভয়ের মধ্যে কে তা পাওয়ার অধিক হাক্‌দার

মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও উভয়ের মধ্যে কে তা পাওয়ার অধিক হাক্‌দার >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ মাতা-পিতার প্রতি সদ্ব্যবহার ও উভয়ের মধ্যে কে তা পাওয়ার অধিক হাক্‌দার

৬৩৯৪

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর নিকট এসে জিজ্ঞেস করিল, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা হাক্দার ব্যক্তি কে? তিনি বলিলেন, তোমার মা। সে বলিল, এরপর কে? তিনি বলিলেন, এরপরেও তোমার মা। সে বলিল তারপর কে? তিনি বলিলেন, তারপরও তোমার মা। সে বলিল, এরপর কে? তিনি বলিলেন, এরপর তোমার পিতা। আর কুতাইবাহ্ বর্ণিত হাদিসে “আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাপেক্ষা যোগ্য কে” – এর উল্লেখ আছে।

তিনি [কুতাইবাহ্] তাহাঁর রিওয়ায়াতে “মানুষ” শব্দটি উল্লেখ করেন নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৭ম খণ্ড, ৬২৬৯; ইসলামিক সেন্টার- ৮ম খণ্ড, ৬৩১৮]

৬৩৯৫

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিল, হে আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ]! [মানুষের মধ্যে] সদ্ব্যবহার পাওয়ার সর্বাধিক অধিকারী ব্যক্তি কে? তিনি বলিলেন, তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপরও তোমার মা। তারপর তোমার পিতা। অতঃপর তোমার নিকটবর্তী জন। এরপর তোমার নিকটবর্তী জন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭০; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩১৯]

৬৩৯৬

আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট আগমন করলো। এরপর তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করেন। এতে তিনি অতিরিক্ত বলেছেন, এরপর সে বলিল, হ্যাঁ। তোমার পিতার শপথ! তুমি অবশ্যই অবগত হইবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭১; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩২০]

৬৩৯৭

ইবনি শুব্‌রুমাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে উহায়ব বর্ণিত হাদীসে [সর্বাপেক্ষা সদ্ব্যবহার পাওয়ার যোগ্য কে?] উল্লেখ রয়েছে।

আর মুহাম্মাদ ইবনি তালহার হাদীসে মানুষের মধ্যে আমার সদ্ব্যবহারের সর্বাপেক্ষা বেশী অধিকার কার রয়েছে। এরপর তিনি জারীর বর্ণিত হাদীসের মতোই উল্লেখ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭২; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩২১]

৬৩৯৮

আব্দুল্লাহ ইবনি আম্‌র [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ] এর নিকট আসলো। এরপর সে তাহাঁর নিকট জিহাদে অংশগ্রহণের অনুমতি চাইল। তখন তিনি বলিলেন, তোমার মাতা-পিতা কি জীবিত আছেন? সে বলিল, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, তাহলে তাদের উভয়ের [খিদমাত করে] সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৩; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩২২]

৬৩৯৯

আবুল আব্বাস হইতে বর্ণীতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি যে, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]-এর দরবারে আসলো! এরপর বর্ণনাকারী আগের মতো উল্লেখ করেন।

ঈমাম মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আবুল আব্বাস-এর আসল নাম সায়িব ইবনি ফার্রুখ আল মাক্কী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৪; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩২৩]

৬৪০০

আবু কুরায়ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি], মুহাম্মাদ ইবনি হাতিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও কাসিম ইবনি যাকারিয়্যা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হাবীব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

এ সানাদে হুবহু বর্ণনা করেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৫; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩২৪]

৬৪০১

আবদুল্লাহ ইবনি আম্‌র ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি নবী [সাঃআঃ]- এর দরবারে আগমন করলো। এরপর সে বলিল, আমি আপনার নিকট হিজরত ও জিহাদের জন্য বাইআত গ্রহণ করব। [এর দ্বারা] আমি আল্লাহর কাছে পুরস্কার ও বিনিময় আশা করি। তিনি বলিলেন, তোমার পিতা-মাতার মধ্যে কেউ জীবিত আছে কি? সে বলিল, হ্যাঁ, তারা দুজনেই জীবিত। তিনি আবার বলিলেন, সত্যিই কি! তুমি আল্লাহর নিকট প্রতিদান আকাঙ্খা করছ? সে বলিল, হ্যাঁ! তিনি বলিলেন, তাহলে তুমি তোমার পিতা-মাতার কাছে ফিরে যাও এবং তাদের দুজনের সঙ্গে সদাচরণ কর। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬২৭৬; ইসলামিক সেন্টার- ৬৩২৫]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply