মাগরিবের সুন্নত – ফরয নামায এর পূর্বে ও পরের বিবরণ

মাগরিবের সুন্নত – ফরয নামায এর পূর্বে ও পরের বিবরণ

মাগরিবের সুন্নত – ফরয নামায এর পূর্বে ও পরের বিবরণ  >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ২০১: মাগরিবের সুন্নত – ফরয নামায এর পূর্বে ও পরের সুন্নতের বিবরণ

এ বিষয়ে ইবনি উমার ও হাদিসের [রাঃআঃমা] হইতে বিশুদ্ধ হাদিস [১১০৫, ১১২২ নম্বরে] গত হয়েছে; যাতে আছে যে, মাগরিবের পর নবী সাঃআঃ দু’ রাকআত নামায পড়তেন।

1/1129 وَعَنْ عبد الله بن مُغَفَّلٍ رضي الله عنه عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «صَلُّوا قَبْلَ المَغْرِبِ». قال في الثَّالِثَةِ: «لِمَنْ شَاءَ». رواه البُخَارِيُّ

১/১১২৯। আব্দুল্লাহ ইবনি মুগাফ্ফাল রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, একদা নবী সাঃআঃ [দু’বার] বলিলেন, “তোমরা মাগরিবের পূর্বে [দু’ রাকআত] নামায পড়।” অতঃপর তৃতীয় বারে তিনি বলিলেন, “যার ইচ্ছা হইবে, [সে পড়বে।]” [বুখারী][1]

*[যদিও মাগরিবের পূর্বে এটি সুন্নাতে রাতেবা নয় তবুও তিনবার এ সম্পর্কে রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ আদেশ করাতে এর গুরুত্ব প্রকাশ পাচ্ছে। এর প্রতি রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ উৎসাহ দান তথা জোর দেওয়ায় এর মুস্তাহাব হওয়ার কথা প্রতিপন্ন হয়।]

2/1130 وَعَنْ أَنَسٍ رضي الله عنه قَالَ: لَقَدْ رَأيْتُ كِبَارَ أَصْحَابِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ عِندَ المَغْرِبِ. رَوَاهُ البُخَارِيُّ

২/১১৩০। আনাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসূল সাঃআঃ-এর বড় বড় সাহাবীদেরকে দেখেছি, তাঁরা মাগরিবের সময় থামগুলোর দিকে দ্রুত বেগে অগ্রসর হইতেন।’ [দু’ রাকআত সুন্নত পড়ার উদ্দেশ্যে।] [বুখারী][2]

3/1131 وَعَنْه، قَالَ: كُنَّا نُصَلِّي عَلَى عَهدِ رَسُولِ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَكْعَتَيْنِ بَعْدَ غُرُوبِ الشَّمْسِ قَبْلَ المَغْرِبِ، فَقِيلَ: أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَّهُمَا ؟ قَالَ: كَانَ يَرَانَا نُصَلِّيهِمَا فَلَمْ يَأمُرْنَا وَلَمْ يَنْهَنَا . رواه مسلم

৩/১১৩১। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা রসুলুল্লাহ  সাঃআঃ-এর যুগে সূর্যাস্তের পর মাগরিবের ফরয নামাযের আগে দু’ রাকআত সুন্নত পড়তাম।’ তাঁকে জিজ্ঞাসা করা হল, ‘নবী সাঃআঃ ঐ দু’ রাকআত পড়তেন কি?’ তিনি বলিলেন, ‘তিনি আমাদেরকে ওই দু’ রাকআত পড়তে দেখিতেন, কিন্তু আমাদেরকে [তার জন্য] আদেশও করিতেন না এবং তা থেকে বারণও করিতেন না।’ [মুসলিম][3]

4/1132 وَعَنْه، قَالَ: كُنَّا بِالمَدِينَةِ فَإِذَا أَذَّنَ المُؤَذِّنُ لِصَلاَةِ المَغْرِبِ، ابْتَدَرُوا السَّوَارِيَ، فَرَكَعُوا رَكْعَتَيْنِ، حَتَّى إِنَّ الرَّجُلَ الغَرِيبَ لَيَدْخُلُ المَسْجِدَ فَيَحْسَبُ أَنَّ الصَّلاَةَ قَدْ صُلِّيَتْ مِنْ كَثْرَةِ مَنْ يُصَلِّيهِمَا . رواه مسلم

৪/১১৩২। উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতেই বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা মদিনাতে ছিলাম। যখন মুয়াজ্জিন মাগরিবের আযান দিত, তখন লোকেরা থামগুলির দিকে দ্রুত অগ্রসর হত এবং দু’ রাকআত নামায পড়ত। এমনকি কোন বিদেশী অচেনা মানুষ মসজিদে এলে, অধিকাংশ লোকের ঐ দু’ রাকআত পড়া দেখে মনে করত যে, [মাগরিবের ফরয] নামায পড়া হয়ে গেছে [এবং তারা পরের সুন্নত পড়ছে]।’ [মুসলিম][4]


[1] সহীহুল বুখারী ১১৮৩, ৭৩৬৮, আবূ দাউদ ১২৮১, আহমাদ ২০০২৯

[2] সহীহুল বুখারী ৫০৩, ৬২৫, মুসলিম ৮৩৬, ৮৩৭, নাসায়ী ৬৮২, আবূ দাউদ ১২৮২, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৬৫, ১৩৫৭১, ১৩৫৯৬, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, দারেমী ১৪৪১

[3] মুসলিম ৮৩৬, সহীহুল বুখারী ৫০৩, ৬২৫, ৪৩৭০, নাসায়ী ৬৮২, আবূ দাউদ ১২৮, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৪৫, ১৩৫৭১, দারেমী ১৪৪১

[4] সহীহুল বুখারী ৫০৩, ৬২৫, মুসলিম ৮৩৬, ৮৩৭, নাসায়ী ৬৮২, আবূ দাউদ ১২৮২, আহমাদ ১১৯০১, ১২৬৬৫, ১৩৫৭১, ১৩৫৯৬, ইবনু মাজাহ ১১৬৩, দারেমী ১৪৪১

Leave a Reply