নবী [সাঃআঃ] -এর মসজিদ নির্মাণ

নবী [সাঃআঃ] -এর মসজিদ নির্মাণ

নবী [সাঃআঃ] -এর মসজিদ নির্মাণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ নবী [সাঃআঃ] -এর মসজিদ নির্মাণ

১০৪৮

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রসুল! পৃথিবীতে কোন্ মসজিদটি সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল? তিনি বলিলেন, মাসজিদুল হারাম। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম এরপর কোনটি [মসজিদটি]। তিনি বলিলেন, আল মাসজিদুল আক্বসা বা বায়তুল মাক্বদিস। আমি পুনরায় জিজ্ঞাসা করলাম, এ দুটি মাসজিদের নির্মাণকালের মধ্যে ব্যবধান কত? তিনি বলিলেন, চল্লিশ বছর। [তিনি আরো বললেনঃ] যে স্হানেই নামাজের সময় উপস্হিত হইবে, তুমি সেখানেই নামাজ আদায় করে নিবে। কারণ সে জায়গাটাও মসজিদ।

আবু কামিল বর্ণিত হাদীসে আছে, তাই যেখানেই নামাজের সময় হইবে, তুমি সেখানেই নামাজ আদায় করে নিবে। কারণ সেটিও মসজিদ। [ইসলামিক ফাঊন্ডেশন বাংলাদেশ ১০৪২, বাংলাদেশ ইসলামিক সেন্টার ১০৫২]

১০৪৯

ইবরাহীম ইবনি ইয়াযীদ আত্ তায়মী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার পিতাকে “সাদ্দাহ” অর্থাৎ মাসজিদের দরজার বাইরে কুরআন মাজীদ পাঠ করে শুনাতাম। আমি সাজদার আয়াত পড়লে তিনি তখন সাজদাহ্ করিতেন। আমি তাকে বলতাম, আব্বাজান! আপনি রাস্তায় সাজদাহ করছেন? তিনি বলিতেন, আমি আবু যার-কে বলিতে শুনেছি। তিনি বলেছেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে পৃথিবীতে নির্মিত সর্বপ্রথম মসজিদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিলেন, মাসজিদুল হারাম [সর্বপ্রথম নির্মিত হয়েছিল] আমি জিজ্ঞাসা করলাম, এর পর কোন মসজিদ [নির্মিত হয়েছিল?] তিনি বলিলেন, মাসজিদুল আক্বসা। আমি আবার জিজ্ঞাসা করলাম, এ দুটি মাসজিদের [নির্মিত কাজের] মধ্যে কতদিনের ব্যবধান? তিনি বলিলেন, চল্লিশ বছর। এছাড়া গোটা পৃথিবীইতো মসজিদ। সুতরাং যেখানেই নামাজের সময় হইবে, সেখানেই নামাজ আদায় করে নিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৩ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৩]

১০৫০

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ আল আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমাকে এমন পাঁচটি বিশেষ মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য দান করা হয়েছে যা অন্য কোন নবীকে দেয়া হয়নি, প্রত্যেক নবীকে শুধু তার কাওমের জন্য পাঠানো হতো। কিন্তু আমাকে সাদা ও কালো সবার জন্য নবী করে পাঠানো হয়েছে। আমার জন্য গণীমাত বা যুদ্ধলব্ধ অর্থ-সম্পদ হালাল করে দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমার পূর্বে আর কারো [কোন নবীর] জন্য তা হালাল ছিল না। আমার জন্য গোটা পৃথিবী পাক-পবিত্র ও মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। সুতরাং নামাজের সময় হলে যে কোন লোক যে কোন স্হানে নামাজ আদায় করে নিতে পারে। আমাকে একমাসের পথের দূরত্ব পর্যন্ত অত্যন্ত শান শাওকাত সহকারে [শত্রু ও অন্তর ভীতি দ্বারা] সাহায্য করা হয়েছে। আর আমাকে শাফাআতের সুযোগ দান করা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৪ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৪]

১০৫১

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নিশ্চয়ই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন….. অতঃপর তিনি উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৫ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৪]

১০৫২

হুযায়ফাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অন্য সব লোকের চেয়ে তিনটি বিষয়ে আমাদেরকে [উম্মাতে মুহাম্মাদীকে] মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাদের [নামাজের] কাতার বা সারি মালাকগণের [ফেরেশতাগণের] কাতার বা সারির মত করা হয়েছে। সমগ্র পৃথিবী আমাদের জন্য মসজিদ করে দেয়া হয়েছে। আর পানি না পেলে পৃথিবীর মাটিকে আমাদের পবিত্রতা অর্জনের উপকরণ করে দেয়া হয়েছে। এরপর তিনি আরেকটি বিষয়ও উল্লেখ করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৬ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৫]

১০৫৩

হুযায়ফাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [সাঃআঃ] বলেছেন, …….. এরপর এ কথা বলে তিনি পূর্ব বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৭ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৬]

১০৫৪

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অন্য সব নবীদের চাইতে আমাকে ছয়টি বিশেষ মর্যাদা দান করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমার জন্য গণীমাতের [যুদ্ধলব্ধ] অর্থ সম্পদ হালাল করা হয়েছে। আমার জন্য গোটা পৃথিবীর ভূমি বা মাটি পবিত্রতা হাসিলকারী বা মসজিদ করা হয়েছে। আমাকে সমগ্র সৃষ্টির জন্য [নবী করে] পাঠানো হয়েছে। আর আমাকে দিয়ে নবীদের আগমন-ধারা সমাপ্ত করা হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৮ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৭]

১০৫৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। আমাকে অত্যন্ত প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধনভান্ডারের চাবিসমূহ এনে আমার হাতে দেয়া হলো। আবু হুরায়রাহ্…… [এর ব্যাখ্যা করে] বলেছেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তো বিদায় নিয়ে চলে গিয়েছেন, আর তোমরা তা আহরণ {১} করে চলেছ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৪৯ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৮]

{১} দুনিয়ার দিক-দিগন্ত বিজিত হওয়া এবং ধনরাজী আহরণ করা। [শারহে নাবাবী – ১ম খন্ড, ১৯৯]

১০৫৬

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি যে, অতঃপর ইউনুছ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫০ ইসলামিক সেন্টার-১০৫৯]

১০৫৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] -এর মাধ্যমে নবী [সাঃআঃ] থেকে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫১ ইসলামিক সেন্টার-১০৬০]

১০৫৮

আবুত্ ত্বহির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি [সাঃআঃ] বলেছেন, আমাকে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দান করা হয়েছে। আর একদিন ঘুমের মাঝে স্বপ্নে আমার কাছে পৃথিবীর ধন-ভান্ডারের চাবিসমুহ এনে আমার হাতে দেয়া হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫২ ইসলামিক সেন্টার-১০৬১]

১০৫৯

হাম্মাদ ইবনি মুনাববিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] … রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে কিছু সংখ্যক হাদীস বর্ণনা করে আমাদের শুনালেন। তার মধ্যে একটি হাদীস হলো, তিনি বলিলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমাকে প্রবল প্রভাব দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে। আমাকে সংক্ষিপ্ত অথচ ব্যাপক অর্থবোধক কথা বলার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৩ ইসলামিক সেন্টার-১০৬২]

১০৬০

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হিজরাত করে মদিনায় আগমন করিলেন, মাদিনার উচ্চভূমিতে বানী আমর ইবনি আওফ গোত্রের এলাকায় অবতরণ করিলেন, এবং সেখানে চৌদ্দ রাত অবস্থান করিলেন। অতঃপর তিনি বানী নাজ্জার গোত্রের লোকজনকে ডেকে পাঠালেন তারা সবাই [খোলা] তরবারিসহ আগমন করলো। হাদীসের বর্ণনাকারী আনাস বলেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কে তাহাঁর সওয়ারী বা বাহনের উপর দেখিতে পাচ্ছি। আবু বাকর তাহাঁর পেছনে বসে আছেন এবং বানী নাজ্জারের লোকজন তাকে ঘিরে আছেন। অবশেষে তিনি আবু আইয়ুবের [আনসারী] বাড়ীর আঙীনায় অবতরণ করিলেন। বর্ণনাকারী আনাস বলেছেন, নামাজের সময় হলেই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নামাজ আদায় করে নিতেন। এমনকি তিনি বকরীর খোঁয়াড়েও নামাজ আদায় করিতেন। পরে তিনি মসজিদ নির্মাণ করিতে আদিষ্ট হলে বানী নাজ্জার গোত্রের নেতৃস্হায়ী লোকদের ডেকে পাঠালেন। তারা উপস্হিত হলে তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বলিলেন, হে বানী নাজ্জার! তোমরা তোমাদের এ বাগানটি অর্থের বিনিময়ে আমার কাছে বিক্রি কর। তারা বললো না, আল্লাহর শপথ, আমরা আল্লাহর নিকট ছাড়া আপনার কাছে এর মূল্য দাবী করব না। আনাস বলেন, ঐ বাগানটিতে যা ছিল তা আমি বর্ণনা করছি, ঐ বাগানে ছিল খেজুর গাছ, মুশরিকের কিছু কবর এবং কিছু ঘর-বাড়ির ধ্বংস স্তুপ। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নির্দেশে খেজুর গাছগুলো কেটে ফেলা হলো, মুশরিকদের কবরগুলো খুঁড়ে ফেলা হলো এবং ধ্বংসাবশেষ গুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হলো। তারা [কর্তিত] খেজুর গাছের গুড়িসমুহ ক্বিবলার দিকে সারি করে রাখল এবং দরজার দুপাশে পাথর স্হাপন করিল। আনাস ইবনি মালিক বর্ণনা করিয়াছেন। এসব কাজ করার সময় তারা একসুরে কবিতা আবৃতি করছিল। আর তাদের সাথে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] একসুরে কবিতা আবৃতি করছিলেন।

তারা বলছিল,

হে আল্লাহ ! আখিরাতের কল্যান ছাড়া প্রকৃত কোন কল্যান নেই।

তুমি আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করো [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৪ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৩]

১০৬১

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মসজিদ নির্মাণের পূর্বে বকরীর খোঁয়াড়েও নামাজ আদায় করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৫ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৪]

১০৬২

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উপরে বর্ণিত হাদীসটির বিষয়বস্তুর অনুরূপ করিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ১০৫৫ ইসলামিক সেন্টার-১০৬৪]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply