মদীনার ফযিলত এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী [স]এর দুআ

মদীনার ফযিলত এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী [স]এর দুআ

মদীনার ফযিলত এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী [স]এর দুআ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৮৫. অধ্যায়ঃ মদীনার ফযিলত , এ শহরে বারাকাত দানের জন্য নবী [স.]-এর দুআ, মাদীনাহ্ ও হারামের মর্যাদা এবং এখানে শিকার ও এখানকার গাছপালা কর্তন নিষিদ্ধ ও মদীনার হারামের সীমা

৩২০৪

আবদুল্লাহ ইবনি যায়দ ইবনি আসিম হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ ইব্রাহীম [আঃ] মাক্কাকে হারাম বানিয়েছেন এবং এখানকার বাসিন্দাদের জন্য দুআ করিয়াছেন। আর আমি নিশ্চয়ই মাদীনাকে হারামে পরিণত করলাম ঠিক যেভাবে ইবরাহীম [আঃ] মাক্কাকে হারামে পরিণত করিয়াছেন। আমি এখানকার মুদ্দ ও সা [ওজন পরিমাপের দুটি একক] এর জন্য দুআ করলাম যেরূপ ইব্রাহীম [আঃ] মক্কার অধিবাসীদের জন্য দুআ করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৭৬]

৩২০৫

আমর ইবনি ইয়াহ্ইয়া আল মাযিনী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে উক্ত হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮০, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৭৭]

৩২০৬

রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইব্রাহীম [আঃ] মাক্কাকে হারামে পরিণত করিয়াছেন, আর আমি দুটি কৃষ্ণ প্রস্তরময় ভূমির মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম ঘোষণা করছি। তিনি মাদীনাকে বুঝিয়েছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮১, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৭৮]

৩২০৭

নাফি ইবনি জুবায়র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

মারওয়ান ইবনি হাকাম লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি মাক্কাহ্ ও তার বাসিন্দা এবং এর হারামের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করিলেন। তখন রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] তাকে ডাক দিয়ে বলিলেন, কী ব্যাপার! আমি আপনাকে মাক্কাহ্, তার অধিবাসী এবং তার হারামের মর্যাদা সম্পর্কে উল্লেখ করিতে শুনছি, অথচ মাদীনাহ্, তার অধিবাসী এবং তার হারামের মর্যাদা সম্পর্কে আপনি কিছুই বলেননি; অথচ রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মদীনার দুপ্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তাহাঁর এ হাদীস আমাদের নিকট একটি খাওলানী চামড়ায় লিপিবদ্ধ আছে। আপনি চাইলে আমি তা আপনার সামনে পড়ে শোনাতে পারি। রাবী বলেন, মারওয়ান চুপ হয়ে গেলেন, অতঃপর বলিলেন, অবশ্য আমিও এ রকম কিছু শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮২, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৭৯]

৩২০৮

জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ নিশ্চয় ইব্রাহীম [আঃ] মক্কার হারাম নির্ধারণ করিয়াছেন, আর আমি মাদীনাকে হারাম বলে ঘোষণা করছি- এর দুপ্রান্তের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে। অতএবং এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮০]

৩২০৯

আমির ইবনি সাঈদ [রাদি.] তাহাঁর পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমি মদীনার দু পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশকে হারাম বলে ঘোষণা দিচ্ছি। এখানকার কাঁটাযুক্ত গাছও কাটা যাবে না এবং এখানকার জীবজন্তুও শিকার করা যাবে না। তিনি আরও বলেন, মাদীনাহ্ তার অধিবাসীদের জন্য কল্যাণকর স্থান, যদি তারা বুঝে। যে ব্যক্তি অনাগ্রহবশতঃ মাদীনাহ্ ত্যাগ করে, আল্লাহ তার চাইতে উত্তম ব্যক্তিকে তার স্থলবর্তী করেন। আর যে ব্যক্তি এখানে ক্ষুধা ও কষ্টের সময় ধৈর্যধারণ করে, আমি তার জন্য ক্বিয়ামাতের দিন শাফাআতকারী অথবা বলেছেন, সাক্ষী হব। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮১]

৩২১০

সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ তৎপরবর্তী অংশ উপরোক্ত ইবনি নুমায়রের অনুরূপ। তবে এ হাদীসে অতিরিক্ত আছে যে, {রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন} যে ব্যক্তিই মাদীনাবাসীদের ক্ষতি সাধনের ইচ্ছা করিবে আল্লাহ তাআলা তাকে জাহান্নামের আগুনে এমনভাবে বিগলিত করবেন, যেভাবে আগুনের তাপে সীসা গলে যায় অথবা লবণ পানিতে দ্রবীভূত হয়ে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮২]

৩২১১

আমির ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ [রাদি.] আল-আক্বীক্বে তার আবাসে রওনা হলেন। পথিমধ্যে তিনি একটি ক্রীতদাসকে একটি গাছ কাটতে অথবা [লাঠি দিয়ে] এর পাতা ঝরাতে দেখলেন। অতএব তিনি তার অস্ত্র কেড়ে নিলেন। তিনি ফিরে এলে ঐ গোলামের মনিব এসে তার সাথে আলাপ করিলেন এবং তাদের গোলামের নিকট থেকে তিনি যা কেড়ে নিয়েছেন তা তাদের কাছে অথবা তাদের গোলামের কাছে ফেরত দিতে অনুরোধ করিলেন। তিনি বলিলেন, যে জিনিস রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে উপহার স্বরূপ দিয়েছেন তা ফেরত দেয়ার ব্যাপারে আমি আল্লাহর আশ্রয় প্রার্থনা করি। অতএবং তিনি তা ফেরত দিতে অস্বীকার করিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৩]

৩২১২

আম্‌র ইবনি আবু আম্‌র [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু ত্বল্হাহ্ [রাদি.] কে বললেনঃ তোমাদের বালকদের মধ্য থেকে একজন বালক আমার খিদমাতের জন্য খুজে আন। অতএব আবু ত্বল্হাহ্ [রাদি.] আমাকে বাহনে তাহাঁর পিছনে বসিয়ে রওনা হলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখনই [বাহন থেকে] নামতেন, আমি তাহাঁর প্রয়োজনীয় সেবা করতাম। এ হাদীসে তিনি আরও বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] অগ্রসর হইতে থাকলেন এবং উহুদ পাহাড় তাহাঁর দৃষ্টিগোচর হল- তিনি বললেনঃ “এ পাহাড় আমাদের ভালোবাসে এবং আমরাও তাকে ভালবাসি”। তিনি যখন মদীনার নিকটবর্তী হলেন তখন বললেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أُحَرِّمُ مَا بَيْنَ جَبَلَيْهَا مِثْلَ مَا حَرَّمَ بِهِ إِبْرَاهِيمُ مَكَّةَ اللَّهُمَّ بَارِكْ لَهُمْ فِي مُدِّهِمْ وَصَاعِهِمْ

“হে আল্লাহ! তাদের [মদীনার অধিবাসীদের] মুদ্দ ও সা-এ বারাকাত দান করুন”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৪]

৩২১৩

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূ্ত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে অতিরিক্ত এই যে, নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “আমি মদীনার দু প্রান্তের কংকরময় মাঠের মধ্যবর্তী স্থানকে হারাম করছি।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৫]

৩২১৪

আসিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি মাদীনাকে হারাম করিয়াছেন? তিনি বলিলেন, হ্যাঁ, এখান থেকে ওখানের মধ্যবর্তী স্থান। অতএব যে ব্যক্তি এখানে কোন পাপ করে, তিনি পুণরায় আমাকে বলিলেন, তা খুবই ভয়ংকর ব্যাপার যে, এখানে কোন পাপ করে তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর মালাক্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তাআলা তাহাঁর ফরয অথবা নফল কোন ইবাদাতই কবুল করবেন না। {৩৮} রাবী বলেন, আনাস [রাদি.]-এর পুত্র বলিলেন, “অথবা যে কোন পাপীকে আশ্রয় দিল”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৮৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৬]

{৩৮} অন্য ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাওবাহ্ এবং ফিদ্য়্যাহ গ্রহণ করা হইবে না।

৩২১৫

আসিম আল আহওয়ার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আনাস [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কি মাদীনাকে হারাম করিয়াছেন? তিনি বলিলেন হ্যাঁ, তা হারাম। অতএব এখানকার উদ্ভিদ উপড়ানো যাবে না। যে বক্তি তা করিবে তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর মালাক্ব এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯০, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৭]

৩২১৬

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন: হে আল্লাহ! তাদের বারাকাত দান করুন দাঁড়িপাল্লায়, তাদের সা-এ এবং তাদের মুদ্দ-এ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯১, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৮]

৩২১৭

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দুআ করিলেন :

اللَّهُمَّ اجْعَلْ بِالْمَدِينَةِ ضِعْفَىْ مَا بِمَكَّةَ مِنَ الْبَرَكَةِ

“হে আল্লাহ! আপনি মাক্কাতে বারাকাত দান করিয়াছেন, মাদীনায় তার দ্বিগুণ বারাকাত দান করুন”। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯২, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৮৯]

৩২১৮

ইব্রাহীম আত্ তায়মী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে তাহাঁর পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আলী ইবনি আবু ত্বালিব [রাদি.] আমাদের উদ্দেশে ভাষণ দিলেন। তিনি বলিলেন, যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, আমাদের [আহলে বায়ত] কাছে আল্লাহ্‌র কিতাব ছাড়া যা আমরা পাঠ করি এবং এ সহীফাহ্ রাবী বলেন, অর্থাৎ ঐ সহীফাহ্ যা তাহাঁর তরবারির খাপে ঝুলন্ত ছিল তা ছাড়া কিছু আছে, সে মিথ্যা বলে। এ সহীফায় উটের বয়স {৩৯} এবং কিছু যখমের বর্ণনা ছিল। এর মধ্যে আরও ছিল, নবী [সাঃআঃ] বলেন, মদীনার আয়র ও সাওর এর মধ্যবর্তী স্থান হারাম। এখানে যে ব্যক্তি কোন বিদআতী কর্মে লিপ্ত হয় অথবা কোন বিদ্আতীতে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। ক্বিয়ামাতের দিন আল্লাহ তার কোন ফারয ও নফল ইবাদাত কবূল করবেন না। মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকর। যে অন্য পিতার সাথে নিজ বংশ দাবী করে অথবা নিজ মুনীবের পরিবর্তে অন্য মুনীবের সাথে নিজেকে সম্পর্কিত করে তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর ফেরেশতাদের ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। আল্লাহ তাআলা ক্বিয়ামাতরে দিন তার ফরয বা নফল কোন ইবাদাতই গ্রহণ করবেন না।

রাবী বলেন, আবু বকর ও যুহায়রের হাদীস শেষ হয়ে গেছে “তাদের নিন্মস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তাও কার্যকরী” এ কথা পর্যন্ত। তারা এর পরবর্তী অংশ উল্লেখ করেননি। তাদের উভয়ের বর্ণনায় “তাহাঁর তরবারির খাপে ঝুলন্ত” কথাটুকু উল্লেখিত হয়নি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯০]

{৩৯} যাকাত, ক্বিসাস ও দিয়াত সম্পর্কে।

৩২১৯

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে উল্লেখ আছে “যে ব্যক্তি কোন মুসলিমের সাথে [নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দেয়ার পর] বিশ্বাসঘাতকতা করে তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর মালায়িকার ও সমগ্র মানব জাতির লানাত। ক্বিয়ামাতের দিন তার ফারয বা নাফল কোন ইবাদাতই কবূল করা হইবে না। তাদের [আলী ও ওয়াকী] উভয়ের বর্ণনায় “যে ব্যক্তি নিজ পিতৃ পরিচয়ের পরিবর্তে অন্য পিতৃ পরিচয়ের দাবী করে” কথাটুকুর উল্লেখ এবং ওয়াকীর বর্ণনায় “ক্বিয়ামাতের দিন” কথাটুকুর উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯১]

৩২২০

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূ্ত্রে ইবনি মুসহির ও ওয়াকীর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এদের বর্ণনায় “গোলাম নিজের মুনীবের পরিবর্তে অন্যকে নিজের মুনীব বলে পরিচয় দেয়” কথাটুকু নেই। আর তার প্রতি লানাতের কথা উল্লেখিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯২]

৩২২১

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, মাদীনাহ্ হারাম। অতএব, যে এখানে কোন পাপে লিপ্ত হয় অথবা কোন পাপীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর মালায়িকাহ্ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। ক্বিয়ামাতের দিন তার ফারয বা নফল [কিছুই] কবূল করা হইবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯৩]

৩২২২

আমাশ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি ক্বিয়ামাতের দিন কথাটুকু বলেননি। তিনি বাড়িয়ে বর্ণনা করিয়াছেন, “মুসলিমদের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রদানে সকলে সমান। তাদের নিম্নস্তরের একজনের প্রদত্ত নিরাপত্তা ও কার্যকর। কেউ যদি মুসলিম প্রদত্ত নিরাপত্তার মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে তবে তার উপর আল্লাহ, তাহাঁর মালায়িকাহ্ এবং সমগ্র মানব জাতির লানাত। ক্বিয়ামাতের দিন তার ফারয বা নফল কিছুই কবূল হইবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯৪]

৩২২৩

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যদি মাদীনায় হরিণ বিচরণ করিতে দেখি তবে তাকে ভয় দেখাব না। [কেননা] রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মদীনার দু পার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯৫]

৩২২৪

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মদীনার দুপার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশ হারাম ঘোষণা করিয়াছেন। আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] বলেন, আমি যদি মদীনার দুপার্শ্বের কঙ্করময় মাঠের মধ্যবর্তী অংশে হরিণ বিচরণ করিতে দেখি, তবে আমি তাকে উত্যক্ত করব না এবং তিনি মদীনার চারপাশের বারো মাইল পর্যন্ত চরণভূমি ঘোষণা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯৬]

৩২২৫

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা যখন প্রথম [পাকা] ফল দেখিতে পেত, তা নিয়ে নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসত এবং রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন তা গ্রহণ করিতেন তখন তিনি নিম্নোক্ত দুআ পড়তেন :

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي ثَمَرِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي صَاعِنَا وَبَارِكْ لَنَا فِي مُدِّنَا اللَّهُمَّ إِنَّ إِبْرَاهِيمَ عَبْدُكَ وَخَلِيلُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنِّي عَبْدُكَ وَنَبِيُّكَ وَإِنَّهُ دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَإِنِّي أَدْعُوكَ لِلْمَدِينَةِ بِمِثْلِ مَا دَعَاكَ لِمَكَّةَ وَمِثْلِهِ مَعَهُ

“হে আল্লাহ! আপনি আমাদের ফলে [বা উৎপন্ন ফসলে] বারাকাত দান করুন, আমাদের মাদীনায় বারাকাত দান করুন, আমাদের সা-এ বারাকাত দান করুন এবং আমাদের মুদ্দ-এ বারাকাত দান করুন। হে আল্লাহ! নিশ্চয় ইব্রাহীম [আঃ] আপনার বান্দা, প্রিয় বন্ধু ও নবী। আর আমিও আপনার বান্দা ও নবী। তিনি মক্কার জন্য আপনার নিকট দুআ করিয়াছেন। আমিও আপনার নিকট মদীনার জন্য দুআ করছি- যেমন তিনি মক্কার জন্য আপনার নিকট দুআ করেছিলেন এবং তার সাথে অনুরূপ আরও কিছু”। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি কোন শিশুকে ডাকতেন এবং তাকে এ ফল দিয়ে দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২০০, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯৭]

৩২২৬

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মৌসুমের প্রথম ফল রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দেয়া হত। তিনি তখন বলিতেন :

اللَّهُمَّ بَارِكْ لَنَا فِي مَدِينَتِنَا وَفِي ثِمَارِنَا وَفِي مُدِّنَا وَفِي صَاعِنَا بَرَكَةً مَعَ بَرَكَةٍ 

“হে আল্লাহ! আমাদের মাদীনায়, আমাদের ফলে [বা উৎপন্ন ফসলে], আমাদের মুদ্দ-এ ও আমাদের সা-এ বারাকাত দান করুন, বারাকাতের উপর বারাকাত দান করুন”। অতঃপর তিনি ফলটি তাহাঁর নিকট উপস্থিত সবচেয়ে শিশুকে দিয়ে দিতেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২০১, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৯৮]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply