মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব কায়দা – রিয়াদুস সালেহীন

মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব কায়দা – রিয়াদুস সালেহীন

মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব কায়দা – রিয়াদুস সালেহীন >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর একটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

পরিচ্ছেদ – ১২৯: মজলিস ও বসার সাথীর নানা আদব-কায়দা

1/829 عَنِ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « لاَ يُقِيمَنَّ أحَدُكُمْ رَجُلاً مِنْ مَجْلِسِهِ ثُمَّ يَجْلِسُ فِيهِ، وَلَكِنْ تَوَسَّعُوا وَتَفَسَّحُوا ». وكَانَ ابْنُ عُمَرَ إِذَا قَامَ لَهُ رَجُلٌ مِنْ مَجْلِسِهِ لَمْ يَجْلِسْ فِيهِ . متفقٌ عَلَيْهِ

১/৮২৯। ইবনি উমার রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কোন ব্যক্তি অন্য কাউকে তার জায়গা থেকে উঠিয়ে দিয়ে সেখানে যেন অবশ্যই না বসে। বরং তোমরা জায়গা প্রশস্ত করে ও নড়ে-সরে জায়গা করে বসো।’’ ইবনি উমারের জন্য মজলিস থেকে কেউ উঠে গেলে সেখানে তিনি বসতেন না। [বুখারী ও মুসলিম][1]

2/830 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه: أنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: « إِذَا قَامَ أَحَدُكُمْ مِنْ مَجْلِسٍ، ثُمَّ رَجَعَ إِلَيْهِ، فَهُوَ أَحَقُّ بِهِ ». رواه مسلم

২/৮৩০। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘মজলিস থেকে কেউ উঠে গিয়ে আবার সেখানে ফিরে এলে সেই ঐ জায়গার বেশি হকদার।’’ [মুসলিম][2]

3/831 وَعَنْ جَابِرِ بنِ سَمُرَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: كُنَّا إِذَا أَتَيْنَا النَّبِيَّ ﷺ، جلَسَ أحَدُنَا حَيْثُ يَنْتَهِي. رواه أَبُو داود والترمذي، وقال: «حديث حسن »

৩/৮৩১। জাবের ইবনি সামুরাহ রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আমরা যখন নবী সাঃআঃ এর দরবারে আসতাম, তখন যেখানে মজলিস শেষ হত সেখানে বসে যেতাম।’ [আবূ দাঊদ, তিরমিযী, হাসান][3]

4/832 وَعَنْ أَبي عَبدِ اللهِ سَلْمَانَ الفَارِسِي رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « لاَ يَغْتَسِلُ رَجُلٌ يَوْمَ الْجُمُعَةِ، وَيَتَطهَّرُ مَا اسْتَطَاعَ مِنْ طُهْرٍ، وَيَدَّهِنُ مِنْ دُهْنِهِ، أَوْ يَمَسُّ مِنْ طِيبِ بَيْتِهِ، ثُمَّ يَخْرُجُ فَلاَ يُفَرِّقُ بَيْنَ اثْنَينِ، ثُمَّ يُصَلِّي مَا كُتِبَ لَهُ، ثُمَّ يُنْصِتُ إِذَا تَكَلَّمَ الإمَامُ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الجُمُعَةِ الأُخْرَى ». رواه البخاري

৪/৮৩২। আবূ আব্দুল্লাহ সালমান ফারেসী রাঃআঃ হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি জুমআর দিনে গোসল করে, যথাসম্ভব পবিত্রতা অর্জন করে, তেল ব্যবহার করে অথবা ঘরের সুগন্ধি নিয়ে লাগায়। অতঃপর জুমআর উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে মসজিদে প্রবেশ করে দু’জনের মধ্যে পৃথক করে না। তারপর তার ভাগ্যে যতটা লেখা হয়েছে, ততটা নামায আদায় করে, তারপর যখন ইমাম খুৎবা দেয় তখন সে চুপ থাকে, তাহলে তার জন্য এক জুমআহ থেকে অন্য জুমআহ পর্যন্ত কৃত পাপরাশি ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’’ [বুখারী][4]

5/833 وَعَنْ عَمرِو بنِ شُعَيْبٍ، عَن أَبِيهِ، عَن جَدِّهِ رضي الله عنه: أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ، قَالَ: « لاَ يَحِلُّ لِرَجُلٍ أَنْ يُفَرِّقَ بَيْنَ اثْنَيْنِ إِلاَّ بِإِذْنِهِمَا ». رواه أَبُو داود والترمذي، وقال:« حديث حسن » .

وفي رواية لأبي داود: « لاَ يُجْلسُ بَيْنَ رَجُلَيْنِ إِلاَّ بِإذْنِهِمَا ».

৫/৮৩৩। ‘আমর ইবনি শুয়াইব রাঃআঃ স্বীয় পিতা থেকে তিনি স্বীয় দাদা থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কোন ব্যক্তির জন্য এটা বৈধ নয় যে, সে দু’জনের মধ্যে তাহাদের বিনা অনুমতিতে তফাৎ সৃষ্টি করিবে। [আবূ দাউদ, তিরমিযী, হাসান ][5]

আবূ দাউদের এক বর্ণনায় আছে, ‘‘দু’জনের মধ্যে তাহাদের বিনা অনুমতিতে বসা যাবে না।’’

6/834 وعن حذيفة بن اليمان رضي الله عنه أنَّ رَسولَ اللهِ  ﷺلَعَنَ مَنْ جَلَسَ وَسَطَ الحَلْقَةَ . رواه أبو داود بإسناد حسن. وروى الترمذي عن أبي مِجْلزٍ أن رَجُلاً قَعَدَ وَسَطَ حَلقْة فقال حُذَيْفَةُ: مُلْعُونٌ عَلٰى لِسَانِ مُحَمَّدٍ ﷺ أوْ لَعَنَ الله عَلٰى لِسَانِ محُمَدٍ ﷺ مَنْ جَلَسَ وَسَطَ الْحَلْقةِ. قال الترمذي:  حديث حسن صحيح .

৬/৮৩৪। হুযাইফাহ ইবনুল ইয়ামান রাঃআঃ হতে বর্ণিত, এমন লোককে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ অভিশাপ দিয়েছেন, যে লোক মাজলিশের মধ্যখানে গিয়ে বসে পড়ে। হাদীসটি আবূ দাউদ উত্তম সনদে বর্ণনা করিয়াছেন। ইমাম তিরমিযী আবূ মিজলায [রাহঃ] হতে বর্ণনা করিয়াছেন, এক মাজলিসের মাঝখানে বসে পড়লে হুযাইফাহ রাঃআঃ বলিলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ [এ কাজটির উপর] অভিশাপ বর্ষণ করিয়াছেন অথবা সেই ব্যক্তির উপর আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ এর মুখ দিয়ে অভিশাপ বর্ষণ করেন যে মাজলিসের মাঝখানে বসে পড়ে। তিরমিযী বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।[6]

7/835 وَعَنْ أَبي سَعِيدٍ الخُدرِيِّ رضي الله عنه، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ ﷺ، يَقُولُ: « خَيْرُ المَجَالِسِ أوْسَعُهَا». رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح عَلَى شرط البخاري

৭/৮৩৫। আবূ সা‘ঈদ খুদরী রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে বলিতে শুনেছি যে, ‘‘যে সভা সবচেয়ে বেশি প্রশস্ত সেটা সবচেয়ে উত্তম সভা।’’ [আবূ দাঊদ, বুখারীর শর্তে সহীহ][7]

8/836 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: « مَنْ جَلَسَ فِي مَجْلِسٍ، فَكَثُرَ فِيهِ لَغَطُهُ فَقَالَ قَبْلَ أَنْ يَقُومَ مِنْ مَجْلِسِهِ ذَلِكَ: سُبْحَانَكَ  اَللهم وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إلَيْكَ، إِلاَّ غُفِرَ لَهُ مَا كَانَ فِي مَجْلِسِهِ ذَلِكَ». رواه الترمذي، وقال:«حديث حسن صحيح»

৮/৮৩৬। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এমন সভায় বসে, যাতে খুব বেশি হৈ-হল্লা হয়, অতঃপর যদি উক্ত সভা ত্যাগ করে চলে যাওয়ার আগে এই দো‘আ পড়ে, ‘‘সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা আস্তাগফিরুকা অ আতূবু ইলাইক্।’’ [অর্থাৎ তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে। আমি সাক্ষি দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে তওবা [প্রত্যাবর্তন] করছি।] তাহলে উক্ত মজলিসে কৃত অপরাধ তার জন্য ক্ষমা করে দেওয়া হয়। [তিরমিযী, হাসান সহীহ][8]

* [প্রকাশ থাকে যে, এই দো‘আকে ‘কাফফারাতুল মাজলিস’-এর দো‘আ বলা হয়।

9/837 وَعَنْ أَبي بَرْزَةَ رضي الله عنه، قَالَ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُولُ بِأَخَرَةٍ إِذَا أرَادَ أنْ يَقُومَ مِنَ الْمَجْلِسِ: «سُبْحَانَكَ  اَللهم وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ أَنتَ أسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيكَ ». فَقَالَ رَجُلٌ: يَا رَسُولَ اللهِ، إنَّكَ لَتَقُولُ قَوْلاً مَا كُنْتَ تَقُولُهُ فِيمَا مَضَى ؟ قَالَ: « ذَلِكَ كَفَّارَةٌ لِمَا يَكُونُ في المَجْلِسِ ». رواه أَبُو داود، ورواه الحاكم أَبُو عبد الله في ” المستدرك ” من رواية عائشة رَضِيَ اللهُ عَنهَا وقال: «صحيح الإسناد »

৯/৮৩৭। আবূ বার্যাহ রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ যখন কোন সভা থেকে উঠে চলে যাবার ইচ্ছা করিতেন, তখন শেষের বেলায় এই দো‘আ পড়তেন ‘‘সুবহা-নাকাল্লা-হুম্মা অবিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলা-হা ইল্লা আন্তা, আস্তাগফিরুকা অআতূবু ইলাইক।’’ অর্থাৎ তোমার পবিত্রতা বর্ণনা করি হে আল্লাহ! তোমার প্রশংসার সাথে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তুমি ছাড়া কোন সত্য উপাস্য নেই। আমি তোমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করছি এবং তোমার দিকে তওবা [প্রত্যাবর্তন] করছি।

একটি লোক নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আপনি যে দো‘আ পড়লেন অতীতে তো তা পড়তেন না।’ তিনি বলিলেন, ‘‘এই দো‘আটি মজলিসে [সংঘটিত ভুল-ত্রুটি]র কাফ্ফারাস্বরূপ।’’ [আবূ দাঊদ, আবূ আব্দুল্লাহ হাকেম আয়েশা রাযিবয়াল্লাহ আনহা হতে তাহাঁর মুস্তাদরাকনামক গ্রন্থে এই হাদীসটি বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন।][9]

10/838 وَعَنْ ابنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنهُمَا، قَالَ: قَلَّمَا كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ يَقُومُ مِنْ مَجْلِسٍ حَتَّى يَدْعُوَ بِهَؤُلاَءِ الدَّعَواتِ: «  اَللهم اقْسِمْ لَنَا مِنْ خَشْيَتِكَ مَا تَحُولُ بِهِ بَيْنَنَا وَبَيْنَ مَعَاصِيكَ، وَمِنْ طَاعَتِكَ مَا تُبَلِّغُنَا بِهِ جَنَّتَكَ، وَمِنَ الْيَقِينِ مَا تُهَوِّنُ عَلَيْنَا مَصَائِبَ الدُّنْيَا،  اَللهم مَتِّعْنَا بِأَسْمَاعِنَا، وَأَبْصَارِنَا، وَقُوَّتِنَا مَا أحْيَيْتَنَا، وَاجْعَلْهُ الوَارِثَ مِنَّا، وَاجْعَلْ ثَأرَنَا عَلَى مَنْ ظَلَمَنَا، وَانْصُرْنَا عَلَى مَنْ عَادَانَا، وَلاَ تَجْعَلْ مُصِيبَتَنَا فِي دِينِنَا، وَلاَ تَجْعَلِ الدُّنْيَا أَكْبَرَ هَمِّنَا، وَلاَ مَبْلَغَ عِلْمِنَا، وَلاَ تُسَلِّطْ عَلَيْنَا مَنْ لاَ يَرْحَمُنَا ». رواه الترمذي، وقال: «حديث حسن »

১০/৮৩৮। ইবনি উমার রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খুব কম মজলিসই এমন হতো, যেখান থেকে নবী সাঃআঃ এই দো‘আ না পড়ে উঠতেন, [অর্থাৎ অধিকাংশ মজলিস থেকে উঠার আগে এই দো‘আ পড়তেন,]

‘‘আল্লা-হুম্মাক্বসিম লানা মিন খাশ্য়্যাতিকা মা তাহূলু বিহী বাইনানা অবাইনা মা‘আ-স্বীক, অমিন ত্বা-‘আতিকা মা তুবাল্লিগুনা বিহী জান্নাতাক, অমিনাল য়্যাক্বীনি মা তুহাউবিনু বিহী আলাইনা মাস্বা-ইবাদ দুন্য়্যা। আল্লাহুম্মা মাত্তি‘না বিআসমা-‘ইনা অ আবস্বা-রিনা অ ক্বুউওয়াতিনা মা আহয়্যাইতানা, অজ্‘আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না। অজ‘আল সা’রানা আলা মান যালামানা, অনস্বুরনা ‘আলা মান ‘আ-দা-না, অলা তাজ‘আল মুস্বীবাতানা ফী দীনিনা। অলা তাজ‘আলিদ্দুন্য়্যা আকবারা হাম্মিনা অলা মাবলাগা ‘ইলমিনা, অলা তুসাল্লিত্ব ‘আলাইনা মাল লা য়্যারহামুনা।’’

অর্থাৎ আল্লাহ গো! আমাদের জন্য তোমার ভীতি বিতরণ কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের ও তোমার অবাধ্যাচরণের মাঝে অন্তরাল সৃষ্টি কর। তোমার আনুগত্য বিতরণ কর, যার দ্বারা তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে পৌঁছাও। আমাদের জন্য এমন একীন [প্রত্যয়] বিতরণ কর, যার দ্বারা তুমি আমাদের উপর দুনিয়ার বিপদসমূহকে সহজ করে দাও। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের কর্ণ, চক্ষু ও শক্তি দবারা যতদিন আমাদেরকে জীবিত রাখ, ততদিন আমাদেরকে উপকৃত কর এবং তা আমাদের মৃত্যু পর্যন্ত অবশিষ্ট রাখ। যারা আমাদের উপর অত্যাচার করেছে, তাহাদের নিকট আমাদের প্রতিশোধ নাও। যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে তাহাদের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য কর। আমাদের দ্বীনে আমাদেরকে বিপদগ্রস্ত করো না। দুনিয়াকে আমাদের বৃহত্তম চিন্তার বিষয় এবং আমাদের জ্ঞানের শেষ সীমা করো না, আর যারা আমাদের উপর রহম করে না, তাহাদেরকে আমাদের উপর ক্ষমতাসীন করো না। [তিরমিযী, হাসান][10]

11/839 وَعَنْ أَبِي هُرَيرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «مَا مِنْ قَوْمٍ يَقُومُونَ مِنْ مَجْلِسٍ لاَ يَذْكُرُونَ الله تَعَالَى فِيهِ، إِلاَّ قَامُوا عَنْ مِثْل جِيفَةِ حِمَارٍ، وَكَانَ لَهُمْ حَسْرَةٌ ». رواه أَبُو داود بإسنادٍ صحيح

১১/৮৩৯। আবূ হুরাইরা রাঃআঃ হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে জনগোষ্ঠীই কোন সভা থেকে, তাতে আল্লাহর যিকির না করেই উঠে যায়, আসলে তারা যেন মরা গাধা থেকে উঠে যায়। [অর্থাৎ যেন মৃত গাধার গোশ্ত ভক্ষণান্তে উঠে চলে যায়।] আর তাহাদের জন্য অনুতাপ হবে।’’ [আবূ দাঊদ বিশুদ্ধ সূত্রে][11]

12/840 وَعَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ، قَالَ: « مَا جَلَسَ قَوْمٌ مَجْلِساً لَمْ يَذْكُرُوا اللهِ تَعَالَى فِيهِ، وَلَمْ يُصَلُّوا عَلَى نَبِيِّهِمْ فِيهِ، إِلاَّ كَانَ عَلَيْهِمْ تِرَةٌ ؛ فَإنْ شَاءَ عَذَّبَهُمْ، وَإنْ شَاءَ غَفَرَ لَهُمْ ». رواه الترمذي، وقال: «حديث حسن »

১২/৮৪০। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে কোন জনগোষ্ঠী কোন মজলিসে বসে তাতে আল্লাহর যিকির না করে এবং তাহাদের নবী সাঃআঃ এর উপর দরূদ পাঠ না করে, তাহাদেরই নোকসান [দুর্ভোগ] হবে; আল্লাহ যদি ইচ্ছা করেন তো তাহাদেরকে শাস্তি দেবেন এবং যদি চান তো তাহাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। [তিরমিযী, হাসান][12]

13/841 وَعَنْهُ، عَن رَسُولِ اللهِ ﷺ، قَالَ: « مَنْ قَعَدَ مَقْعَداً لَمْ يَذْكُرِ الله تَعَالَى فِيهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللهِ تِرَةٌ، وَمَنِ اضْطَجَعَ مَضْجَعَاً لاَ يَذْكُرُ اللهَ تَعَالَى فِيهِ كَانَتْ عَلَيْهِ مِنَ اللهِ تِرَةٌ ». رواه أَبُو داود

১৩/৮৪১। উক্ত রাবী থেকেই বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন বৈঠকে বসে তাতে আল্লাহর যিকির করল না, তাহলে আল্লাহর পক্ষ থেকে তার ক্ষতি হবে। আর যে ব্যক্তি কোন শয্যায় শয়ন করে তাতে আল্লাহর যিকির করে না, তাহলে আল্লাহর তরফ থেকে তার ক্ষতি হবে।’’ [আবু দাঊদ][13]


[1] সহীহুল বুখারী ৯১১, ৬২৬৯, ৬২৭০, মুসলিম ২১৭৭, তিরমিযী ২৭৪৯, ২৭৫০, আবূ দাউদ ৪৮২৮, আহমাদ ৪৬৪৫, ৪৬৫০, ৪৭২১, ৪৮৫৬, ৫০২৬, ৫৫৪২, ৫৫৯৩, ৫৭৫১, ৫৯৮৮ , ৬০২৬, ৬০৪৯, ৬৩৩৫, দারেমী ২৬৫৩

[2] মুসলিম ২১৭৯, আবূ দাউদ ৪৮৫৩, মায ৩৭১৭, আহমাদ ৭৫১৪, ৭৭৫১, ৮৩০৪, ৮৮১০, ৯৪৬৩, ৯৪৮২, ৯৮৯৪, ১০৪৪২, ১০৫৫৯, দারেমী ২৬৫৪

[3] আবূ দাউদ ৪৮২৫, তিরমিযী ২৭২৫, আহমাদ ২০৪২৩, ২০৫৩৫

[4] সহীহুল বুখারী ৮৮৩, ৯১০, নাসায়ী ১৪০৩, আহমাদ ২৩১৯৮, ২৩২০৬, ২৩২১৩, দারেমী ১৫৪১

[5] আবূ দাউদ ৪৮৪৪, ৪৮৪৫, তিরমিযী ২৭৫২, আহমাদ ৬৯৬০

[6] আমি [আলবানী] বলছিঃ আবূ মিজলায হচ্ছেন লাহেক ইবনু হুমায়েদ। তিনি হুযাইফাহ্ হতে শুনেননি। যেমনটি ইবনু মা‘ঈন প্রমুখ বলেছেন। এছাড়া অন্য সমস্যাও রয়েছে। বিস্তারিত জানতে দেখুন ‘‘য‘ঈফা’’ [৬৩৮]।  আবূ দাউদ ৪৮২৬, তিরমিযী ২৭৫৩।

[7] আবূ দাউদ ৪৮২০, আহমাদ ১০৭৫৩, ১১২৬৬

[8] তিরমিযী ৩৪৩৩, আহমাদ ১০০৪৩

[9] আবূ দাউদ ৪৮৫৯, দারেমী ২৬৫৮

[10] তিরমিযী ৩৫০২

[11] আবূ দাউদ ৪৮৫৫, ৪৮৫৬, তিরমিযী ৩৩৮০, আহমাদ ৯৩০০, ৯৪৮২, ৯৮৮৪ , ৯৯০৭, ১০০৫০, ১০০৪৪

[12] তিরমিযী ৩৩৮০, আহমাদ ৯৩০০, ৯৪৭২, ৯৫৩৩, ৯৮৮৪, ৯৯০৭, ১০০৫০

[13] ৮৩৯ এর মত

By রিয়াদুস সালেহিন

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply