নতুন লেখা

মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার

মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার

মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৮২. অধ্যায়ঃ মক্কার হারামে হওয়া, হারামের অভ্যন্তরে ও উপকণ্ঠে শিকার কার্য চিরস্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, এখানকার গাছপালা উপড়ানো ও ঘাস কাটা নিষেধ

৩১৯৩

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন বলেছেনঃ হিজরাতের আর প্রয়োজন নেই, কিন্তু জিহাদ ও নিয়্যাত অব্যাহত থাকিবে। তোমাদেরকে যখন জিহাদের আহ্বান জানানো হয় তখন জিহাদে যোগদান কর। মাক্কাহ্ বিজয়ের দিন তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা এ শহরকে সম্মানিত করিয়াছেন- যেদিন তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করিয়াছেন সেদিন থেকে। অতএব ক্বিয়ামাত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা এ শহরের মর্যাদা ও সম্মান অক্ষুণ্ণ রাখবেন। তিনি এ শহরে আমার পূর্বে আর কারও জন্য যুদ্ধ বৈধ করেননি। আমার জন্য মাত্র এক দিনের কিছু সময় তিনি এখানে যুদ্ধ বৈধ করেছিলেন। অতএব তথায় যুদ্ধ বিগ্রহ করা হারাম। আল্লাহ তাআলা কর্তৃক ক্বিয়ামাত পর্যন্ত নিষিদ্ধ করার কারণে এখানকার কোন কাঁটাযুক্ত গাছ উপড়ানো যাবে না, এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তখন আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কিন্তু ইয্খির [লম্বা ঘাস] সম্পর্কে [অনুমতি দিন]। কারণ তা স্বর্ণকার ও তাদের ঘরের কাজে লাগে। তিনি বলিলেন, কিন্তু ইযখির [তোলার অনুমতি দেয়া হল]। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৬৫]

৩১৯৪

মুহাম্মাদ ইবনি রাফি [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

মানসূর [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সূত্রে সামান্য শাব্দিক পার্থক্য সহকারে উপরোক্ত সানাদে অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এতে তিনি “যেদিন আসমান ও জমিন সৃষ্টি করিয়াছেন” কথাটুকুর উল্লেখ করেননি এবং ক্বিতাল শব্দের পরিবর্তে ক্বতল শব্দ ব্যবহার করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৬৬]

৩১৯৫

আবু শুরায়হ আল আদাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আম্‌র ইবনি সাঈদ [ইবনিল আস ইবনি উমাইয়্যাহ্] যখন মাক্কাহ অভিযানের উদ্দেশে সৈন্য বাহিনীসহ রওনা করেন তখন আবু শুরায়হ [রাদি.] তাকে বলেন, হে আমীর! আমাকে অনুমতি দিন একটি কথা বলিতে যা রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মাক্কাহ বিজয়ের দিন সকাল বেলা দাঁড়িয়ে বলেছিলেন- যা আমার দুকান শুনেছে, আমার অন্তর সংরক্ষণ করেছে এবং উভয় চোখ সে দৃশ্য দেখেছে। যখন তিনি তা বলেছিলেন, প্রথমে তিনি আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করিলেন। অতঃপর বলিলেন, নিশ্চয়ই মাক্কাকে আল্লাহ তাআলা হারামে পরিণত করিয়াছেন- কোন মানুষ তাকে হারামের মর্যাদায় উন্নীত করেনি। অতএব যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের দিনের উপর ঈমান রাখে- তার পক্ষে সেখানে রক্ত প্রবাহিত করা বা সেখানকার কোন গাছ উপড়ানো হালাল নয়। যদি কোন ব্যক্তি আল্লাহর রসূলের উদাহরণ পেশ করে এখানে রক্তপাত বৈধ করিতে চায় তবে তোমরা তাকে বলে দিও, আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রসূল [সাঃআঃ]-কে এজন্য অনুমতি দিয়েছিলেন এবং তোমাদের জন্য কখনও অনুমতি দেননি। আর আমার জন্য তিনি তাও এক দিনের সামান্য সময় সেখানে যুদ্ধের অনুমতি দিয়েছিলেন। আজকে তার সে হুরমাত [মর্যাদা] গতকালের মতো পুণঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। উপস্থিত লোকেরা যেন [এ কথা] অনুপস্থিতদের নিকট পৌঁছে দেয়। আবু শুরায়হ [রাদি.]-কে জিজ্ঞেস করা হল- আম্‌র আপনাকে কী জবাব দিল? তিনি বলিলেন, হে আবু শুরায়হ্! এ সম্পর্কে আমি আপনারে চেয়ে অধিক জ্ঞাত আছি। নিশ্চয়ই হারাম [কাবা] কোন পাপীকে, কোন হত্যাকারীকে এবং কোন অনিষ্টকারীকে আশ্রয় দেয় না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৬৭]

৩১৯৬

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা যখন তাহাঁর রসূল [সাঃআঃ]-কে মাক্কাহ্ বিজয় দান করিলেন- তখন তিনি লোকদের উদ্দেশে দাঁড়িয়ে ভাষণ দিলেন। তিনি প্রথমে আল্লাহর প্রশংসা ও মহিমা বর্ণনা করিলেন। অতঃপর বলিলেন, নিশ্চিত আল্লাহ তাআলা হস্তী বাহিনীর মক্কায় প্রবেশে বাধা প্রদান করিয়াছেন এবং তাহাঁর রসূল [সাঃআঃ] ও মুমিনদেরকে মাক্কাহ্ অভিযানে বিজয়ী করিয়াছেন। আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত বৈধ ছিল না। আর আমার জন্যও একদিনের কিছু সময় এখানে যুদ্ধ করা হালাল করা হয়েছিল। আমার পরে আর কারও জন্য তা কখনও হালাল করা হইবে না। অতএব এখানকার শিকারের পশ্চাদ্ধাবণ করা যাবে না, এখানকার কাঁটাদার গাছও উপড়ানো যাবে না এবং এখানকার পতিত জিনিস তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী [তা তুলে নিতে পারবে]। কারও কোন আত্মীয় নিহত হয়ে তার জন্য দুটি অবস্থার যে কোন একটি গ্রহণের অধিকার রয়েছে : হয় ফিদ্য়া [রক্তপণ] গ্রহণ করিতে হইবে নতুবা হত্যাকারীকে ক্বিসাস স্বরূপ হত্যা করিতে হইবে। আব্বাস [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর রসুল! কিন্তু ইযখির ঘাস যা আমরা ক্ববরে দিয়ে থাকি এবং আমাদের ঘরের চালায় ব্যবহার করি। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কিন্তু ইযখির ঘাস [এর কাটার অনুমতি দেয়া হল]। ইয়ামানের অধিবাসী আবু শাহ্ [রাদি.] দাঁড়িয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসুল! আমাকে [এ কথাগুলো] লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তোমরা আবু শাহকে লিখে দাও।

ওয়ালীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, আমি আওযাঈ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-কে জিজ্ঞেস করলাম : “হে আল্লাহর রসূল! আমকে লিখে দেয়ার ব্যবস্থা করুন”- তাহাঁর এ কথার অর্থ কী? তিনি বলিলেন, যে ভাষণ তিনি রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে দিতে শুনলেন তা। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৬৮]

৩১৯৭

আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বানূ লায়স কর্তৃক বানূ খুযাআর এক ব্যক্তি হত্যার প্রতিশোধ স্বরূপ শেষোক্ত গোত্রের লোকেরা মাক্কাহ্ বিজয়ের সময়ে প্রথমোক্ত গোত্রের এক ব্যক্তিকে হত্যা করে। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এ খবর পৌঁছলে তিনি নিজ সওয়ারীতে আরোহণ পূর্বক ভাষণ দেন এবং বলেনঃ নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা হস্তী বাহিনীর মক্কায় প্রবেশ প্রতিরোধ করেন এবং তাহাঁর রসূল [সাঃআঃ] ও মুমিনদেরকে এর উপর বিজয়ী করেন। সাবধান! আমার পূর্বে কারও জন্য এখানে রক্তপাত হালাল ছিল না এবং আমার পরেও কখনও কারও জন্য তা হালাল নয়। সাবধান! আমার জন্যও এক দিনের সামান্য সময় এখানে [রক্তপাত] বৈধ করা হয়েছিল। সাবধান! এ মুহূর্তে আবার তা [আমার জন্যও] হারাম হয়ে গেল। অতএব এখানকার কাঁটাযুক্ত বৃক্ষও উপড়ানো যাবে না, গাছপালাও কাটা যাবে না এবং পথে পড়ে থাকা বস্তুও তোলা যাবে না। তবে ঘোষণা প্রদানকারী ব্যক্তি [তা তুলতে পারবে]। যার কোন আত্মীয় নিহত হয়েছে তার দুটি ব্যবস্থার যে কোন একটি গ্রহণ করার অধিকার রয়েছে। হয় ফিদ্য়া [রক্তপণ] গ্রহণ করিতে হইবে, নতুবা ক্বিসাস স্বরূপ হত্যাকারীকে হত্যা করিতে হইবে। রাবী বলেন, আবু শাহ্ [রাদি.] নামক ইয়ামানের এক ব্যক্তি এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আামকে লিখে দিন। তিনি বলিলেন, তোমরা আবু শাহ্কে লিখে দাও। কুরায়শ বংশের এক ব্যক্তি বলিলেন, কিন্তু ইযখির ঘাস- আমরা তো তা আমাদের ঘর তৈরির কাজে এবং ক্ববরে ব্যবহার করে থাকি। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, ইযখির ঘাস ব্যতীত। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩১৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৩১৬৯]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: