ভয়ের নামাজের মাসালা – হেদায়া কিতাব বাংলা

ভয়ের নামাজের মাসালা – হেদায়া কিতাব বাংলা

ভয়ের নামাজের মাসালা – হেদায়া কিতাব বাংলা >> আল হিদায়া ফিকহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

কিতাবঃ আল হিদায়া, বিংশ অনুচ্ছেদ : ভয়কালীন নামাজ

যখন (শত্রুর) ভয় তীব্র হয়, তখন ইমাম লোকদের দু্ই দলে ভাগ করবেন। একদলকে শত্রুর মুখোমুখি রাখবেন আবার দ্বিতীয় দলকে নিজের পিছনে দাড় করাবেন।

এরপর এই দলকে নিয়ে এক রাকাআত ও দুই সাজদা আদায় করবেন। যখন তিনি দ্বিতীয় সাজদা থেকে মাথা তুলবেন, তখন এই দলটি শত্রুর সামনে অবস্থান নিতে চলে যাবে। এবং (শত্রু মুখোমুখি অবস্থানকারী) ঐ দলটি চলে আসবে। আর ইমাম তাহাদের নিয়ে এক রাকআত ও দুই সাজদা আদায় করবেন এবং তাশাহ্‌হুদ পড়ে সালাম ফিরাবেন। কিন্তু পিছনে ইকতিদাকারী দলটি সালাম ফেরাবে না বরং শত্রুর সামনে (অবস্থান গ্রহণ করিতে) চলে যাবে। এবং প্রথম দলটি এসে একা একা ও কিরাত ছাড়া এক রাকাআত ও দুই সাজদা আদায় করবে।

(কিরাত না পড়ার) কারণ এই যে, তাহারা হল ‘লাহিক আর তাশাহ্হুদ পড়ে সালাম ফিরিয়ে শত্রুর মুখোমুখি চলে যাবে। আর অপর দলটি ফিরে এসে কিরাত সহ এক রাকাআত ও দুই সাজদা আদায় করবে। কেননা তাহারা হল মাসবূক (আর মাসবূকের উপর কিরাত পড়া ওয়াজিব)।

এবং তাহারা তাশাহ্হুদ পড়ে সালাম ফেরাবে। এ বিষয়ে মূল হল ইব্ন মাসউদ (রাঃআঃ) বর্ণীত হাদিস যে, নাবী করিম (সাঃআঃ) উপরে বর্ণীত নিয়মে সালাতুল খাওফ বা ভয়কালীন নামাজ আদায় করেছেন।
ইমাম আবূ ইউসুফ (রঃআঃ) যদিও আমাদের যামানায় এর শরীআত সম্মত হওয়া অস্বীকার করেছেন, কিন্তু তার বিপরীতে দলিল রহিয়াছে আমাদের বর্ণীত হাদিস।

ইমাম যদি মুকীম হন তবে প্রথম দলটির সংগে দুই রাকাআত এবং দ্বিতীয় দলের সংগে দুই রাকাআত পড়বেন। কেননা বর্ণীত আছে যে, নাবী (সাঃআঃ) যুহরের নামাজ উভয় দলের সংগে দুই দুই রাকাআত করে পড়েছেন।
নামাজের অবস্থায় তাহারা লড়াই করবে না। যদি করে তবে তাহাদের নামাজ বাতিল হয়ে যাবে। কেননা খন্দক যুদ্ধের দিন নাবী করিম (সাঃআঃ) ব্যস্ততার কারণে চার ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেননি। যদি লড়াই করা অবস্থায়ও আদায় করা জাইয হতো, তবে কিছুতেই তিনি তা তরক করিতেন না।

যদি ভয়ভীতি আরো তীব্র হয় তবে লোকেরা সওয়ার অবস্থায় একা একা নামাজ আদায় করবে আর যদি কিবলামুখী হওয়া সম্ভব না হয় তবে যেদিকে সম্ভব সেদিকে অভিমুখী হয়ে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সাজদা আদায় করবে। কেননা আল্লাহ তা’আলা ইরশাদ করেছেন- যদি তোমরা ভীত হয়ে পড় তবে হাটা অবস্থায় কিংবা সওয়ার অবস্থায় (নামাজ আদায় করবে)।

আর কিবলামূখী হওয়ার হুকুম প্রয়োজনের কারণে রহিত হয়ে যাবে।
ইমাম মুহাম্মাদ (রঃআঃ) হতে বর্ণীত আছে যে, (সেই অবস্থায়ও) তাহারা জামাআতের সাথে নামাজ পড়বে। কিন্তু এটা বিশুদ্ধ মত নয়। কেননা (জামাআতের জন্য) অভিন্ন স্থান বিদ্যমান নেই। ভয়ের নামাজের মাসালা

By ফিকাহ কিতাব

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply