ভিক্ষা করা ও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা

ভিক্ষা করা যার জন্য জায়িয

ভিক্ষা করা যার জন্য জায়িয  >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৩৩. অধ্যায়ঃ অন্যের কাছে হাত পাতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা
৩৪. অধ্যায়ঃ যে অভাবীর অভাব মানুষের নিকট প্রকাশের পূর্বে তাকে দান করা হয় তার প্রসঙ্গে
৩৫. অধ্যায়ঃ মানুষের নিকট চাওয়া অপছন্দনীয়
৩৬. অধ্যায়: ভিক্ষা করা যার জন্য জায়িয
৩৭. অধ্যায়: চাওয়া অথবা পাওয়ার আকাঙ্খা ছাড়াই যদি পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করা জায়িয
৩৮. অধ্যায়ঃ পার্থিব লোভ লালসার প্রতি অনীহা ও ঘৃণা পোষণ করা
৩৯. অধ্যায়: আদাম সন্তানের যদিও সম্পদের দুটি উপত্যকা থাকে তবু সে তৃতীয়টি অনুসন্ধান করিবে
৪০. অধ্যায়ঃ সম্পদের আধিক্যের কারণে ধনী বলে বিবেচিত নয়
৪১. অধ্যায়ঃ দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে
৪২. অধ্যায়ঃ ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা ও ধৈর্য ধারনের ফাযীলত
৪৩. অধ্যায়ঃ ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা এবং অল্পতুষ্ট থাকা সম্পর্কে
৪৪. অধ্যায়ঃ কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা
৪৫. অধ্যায়ঃ যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে
৪৬. অধ্যায়ঃ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে

৩৩. অধ্যায়ঃ অন্যের কাছে হাত পাতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা

২২৭৯. আবদুল্লাহ ইবনি আমির আল ইয়াহ্‌সাবী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুআবিয়াহ্‌ [রাদি.] বলেন, তোমরা হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কেবলমাত্র সে সকল হাদীস বর্ণনা করিতে পারো যা উমর [রাদি.]-এর সময় ছিল। কেননা উমর [রাদি.] লোকদের মনে আল্লাহ্‌র ভয় বদ্ধমূল করার প্রয়াস পেতেন। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ্‌ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন।” মুআবিয়াহ্‌ [রাদি.] বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে আরো বলিতে শুনেছিঃ “আমি তো শুধুমাত্র জনৈক খাজাঞ্চি। যাকে আমি স্বতস্ফূর্তভাবে দান করি, তাতে তার বারাকাত হয়। আর যাকে আমি তার সনির্বন্ধ মিনতি ও উত্যক্ত করার করার পর দেই তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মত যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হইতে পারে না।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৫৮, ইসলামিক সেন্টার- ২২৫৮]

২২৮০. মুআবিয়াহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা কোন কিছু পাওয়ার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত কাকুতি মিনতির আশ্রয় নিও না। কেননা, আল্লাহ্‌র শপথ! যে ব্যক্তি আমার কাছে কোন কিছু চায়, আর তার মিনতিপূর্ণ আকুল প্রার্থনাই আমাকে দানে বাধ্য করে অথচ আমি তা অপছন্দ করি, তাহলে এতে কী করে বারাকাত হইবে?

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৫৯, ইসলামিক সেন্টার- ২২৫৯]

২২৮১.আমর ইবনি দীনার থেকে ওয়াহ্ব ইবনি মুনাব্বিহ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সনাআ নামক স্থানে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে আখরোট দিয়ে আপ্যায়ণ করিলেন। তাহাঁর [ওয়াহ্ব ইবনি মুনাব্বিহ] ভাই বর্ণনা করেন, আমি আবু সুফ্ইয়ান [রাদি.] এর পুত্র মুআবিয়াহ্ [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনেছি … পূর্বের হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬০, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬০]

২২৮২. মুআবিয়াহ্‌ ইবনি আবু সুফ্‌ইয়ান [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি খুত্‌বাহ্‌ দেয়ার সময় বলিলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ “আল্লাহ্‌ তাআলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি জনৈক বণ্টনকারী আর দান করার মালিক আল্লাহ্‌ এবং তিনিই দিয়ে থাকেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬১, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬১]

৩৪. অধ্যায়ঃ যে অভাবীর অভাব মানুষের নিকট প্রকাশের পূর্বে তাকে দান করা হয় তার প্রসঙ্গে

২২৮৩. আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ “যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায় এবং দু এক গ্রাস খাবার বা দু একটা খেজুর ভিক্ষা নিয়ে ফিরে যায় তারা [প্রকৃত] মিসকীন নয়। এ কথা শুনে সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তাহলে মিসকীন কে? [উত্তরে] তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, মানবীয় মৌলিক প্রয়োজন মিটানোর মত সামর্থ্য যার নেই আর সমাজের মানুষও তাকে অভাবী বলে জানে না যাতে তাকে দান করিতে পারে এবং সে নিজেও [মুখ খুলে] কারো কাছে কিছু চায় না।” [এ ব্যক্তি হলো প্রকৃত মিসকীন অর্থাৎ আর্থিক অনটনভুক্ত গরীব ভদ্রলোক]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬২, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬২]

২২৮৪. আবু হুরায়রাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, যে ব্যক্তি দু একটি খেজুর বা দু এক গ্রাস খাবার ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায় এবং এ নিয়ে চলে যায় সে মিসকীন নয়। বরং প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে মানুষের কাছে হাত পাতে না। প্রকৃত মিসকীনের স্বরূপ জানতে চাইলে এ আয়াত পাঠ করো- “তারা মানুষের কাছে কাকুতি মিনতির সাথে হাত পাতে না”- [সুরা আল-বাক্বারাহ্‌ ২:২৭৩]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৩, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬৩]

২২৮৫. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রেও ইসমাঈল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬৪]

৩৫. অধ্যায়ঃ মানুষের নিকট চাওয়া অপছন্দনীয়

২২৮৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেনঃ তোমাদের কেউ কেউ মানুষের কাছে ভিক্ষা চাইতে চাইতে আল্লাহ্‌র সাথে এমন অবস্থায় মিলিত হইবে যে তার মুখমন্ডলে গোশ্‌তের কোন টুকরা অবশিষ্ট থাকিবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬৫]

২২৮৭. মামার [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] যুহরীর ভাই এর সুত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্র্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে [আরবী] “টুকরা”” শব্দটির উল্লেখ নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৫, ই,সে. ২২৬৬]

২২৮৮. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার পিতাকে [আবদুল্লাহ] বলিতে শুনেছেনঃ রসূলুলাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি অনবরত লোকের কাছে হাত পেতে প্রার্থনা [ভিক্ষা] করিতে থাকিবে। পরিণামে ক্বিয়ামাতের দিন যখন সে উপস্থিত হইবে তার মুখমন্ডলে গোশতের কোন টুকরা থাকিবে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ২২৬৭]

২২৮৯. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি [অভাবের তাড়না ছাড়াই] নিজের সম্পদ বাড়ানোর জন্য মানুষের কাছে সম্পদ ভিক্ষা করে বেড়ায় বস্তুতঃ সে আগুনের ফুলকি ভিক্ষা করছে। কাজেই এখন তার ভেবে দেখা উচিত সে বেশী নিবে না কম নিবে।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৭, ইসলামিক সেন্টার-২২৬৮]

২২৯০. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ “কোন ব্যক্তি সকালে উঠে গিয়ে লাকড়ি সংগ্রহ করে তা নিজের পিঠে বহন করে এনে অপরকে দান করে এবং এ দিয়ে অপরের দ্বারস্থ হওয়া থেকে মুক্ত থাকে। তার এ কাজ মানুষের দরজায় দরজায় বেড়ানোর চেয়ে উত্তম-তারা কিছু দিক বা না দিক। কেননা উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। যাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব তোমার উপর ন্যস্ত তাদের দিয়েই দান শুরু কর।”

[ই.ফা.২২৬৮, ই,সে ২২৬৯]

২২৯১. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ “আল্লাহর শপথ! যদি তোমাদের কোন ব্যক্তি সকালে গিয়ে এক বোঝা কাঠ সংগ্রহ করে তা পিঠে করে নিয়ে এসে বিক্রি করে।” ………. হাদীসের বাকি অংশ বায়ান বর্ণিত [উপরের] হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭০]

২২৯২. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুলাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যদি কোন ব্যক্তি নিজের পিঠে করে লাকড়ির বোঝা বয়ে এনে তা বিক্রি করে তবে এটা তার জন্য কোন লোকের কাছে ভিক্ষা চেয়ে বেড়ানো থেকে উত্তম। কেননা তার জানা নেই যে, সে ব্যক্তি তাকে দিবে না বিমুখ করিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭০,ইসলামিক সেন্টার- ২২৭১]

২২৯৩. আওফ ইবনি মালিক আল আশজাঈ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমাদের সাত বা আট বা নয় জন লোকের উপস্থিতিতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃতোমরা কেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে বায়আত করছো না?” অথচ আমরা ইতোপূর্বে বায়আত গ্রহণের সময় তাহাঁর হাতে বায়আত গ্রহণ করেছি। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তো আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করেছি। তিনি আবার বললেনঃ“তোমরা কেন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে বায়আত হচ্ছো না?” বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর আমরা হাত বাড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমরা তো ইতোপূর্বেই আপনার কাছে বায়আত গ্রহণ করেছি, এখন আবার আপনার কাছে কিসের বায়আত করবো? তিনি বললেনঃতোমরা আল্লাহর ইবাদাত করো, তার সাথে কাউকে অংশীদার স্থাপন করিবে না, ৫ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করিবে। এবং আল্লাহর আনুগত্য করিবে। তিনি আর একটি কথা বলিলেন চুপে চুপে, তা হলো লোকের কাছে কিছুর জন্য হাত পাতবে না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর আমি দেখেছি, সে বায়আত গ্রহণকারী দলের কারো কারো উটের পিঠে থাকা অবস্থায় হাত থেকে চাবুক পড়ে গেছে কিন্তু সে কাউকে তা তুলে দেয়ার জন্য অনুরোধ করেনি বরং নিজেই নীচে নেমে তুলে নিয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭১, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭২]

৩৬. অধ্যায়: ভিক্ষা করা যার জন্য জায়িয

২২৯৪. ক্ববীসাহ্ ইবনি মুখারিক্ব আল হিলালী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার আমি [দেনার জমিন হয়ে] বিরাট অঙ্কের ঋণী হয়ে পড়লাম। কাজেই আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে এসে এজন্য তাহাঁর নিকট চাইলাম। তিনি বলিলেন, “যাকাত বা সদাক্বার মাল আসা পর্যন্ত আমার কাছে অপেক্ষা কর। তা এসে গেলে আমি তোমাকে তা থেকে দিতে নির্দেশ দিবো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ হে ক্ববীসাহ্! মনে রেখো, তিন ব্যক্তি ছাড়া কারো জন্য হাত পাতা বা সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল নয়। [১] যে ব্যক্তি [কোন ভাল কাজ করিতে গিয়ে বা দেনার জমিন হয়ে] ঋণী হয়ে পড়েছে। ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা তার জন্য হালাল। যখন দেনা পরিশোধ হয়ে যাবে তখন সে এ থেকে বিরত থাকিবে। [২] যে ব্যক্তি প্রাকৃতিক দুর্যোগে পতিত হয়েছে এবং এতে তার যাবতীয় সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেছে। তার জন্য সাহায্য চাওয়া হালাল যতক্ষন না তার জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করিতে সক্ষম হয়। রাবীর সন্দেহ- তিনি কি ক্বিওয়াম শব্দ বলেছেন না সিদাদ শব্দ বলেছেন? [উভয় শব্দের অর্থ একই]। [৩] যে ব্যক্তি এমন অভাবগ্রস্ত হয়েছে যে, তার গোত্রের তিনজন জ্ঞান-বুদ্ধি সম্পন্ন লোক সাক্ষ্য দেয় যে, “সত্যিই অমুক অভাবে পড়েছে” তার জন্য জীবিকা নির্বাহের পরিমাণ সম্পদ লাভ করার পূর্ব পর্যন্ত সাহায্য প্রার্থনা করা হালাল। হে ক্ববীসাহ্! এ তিন প্রকার লোক ছাড়া আর সকলের জন্য সাহায্য চাওয়া হারাম। অতএব এ তিন প্রকার লোক ছাড়া যে সব লোক সাহায্য চেয়ে বেড়ায় তারা হারাম খায়।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭২, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭৩]

৩৭. অধ্যায়: চাওয়া অথবা পাওয়ার আকাঙ্খা ছাড়াই যদি পাওয়া যায় তবে তা গ্রহণ করা জায়িয

২২৯৫. সালিম ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] থেকে তাহাঁর পিতার সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি উমর ইবনি খাত্তাব [রাদি.] কে বলিতে শুনেছি : রসূলুলাহ [সাঃআঃ] আমাকে কিছু উপঢৌকন দিতেন এবং আমি বলতাম, এটা আমাকে না দিয়ে যে আমার চেয়ে বেশী অভাবী তাকে দিন। এমনকি একবার তিনি আমাকে কিছু মাল দিলেন। আমি বললাম, আমার তুলনায় যার প্রয়োজন বেশী এটা তাকে দিন। তখন রসূলুলাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ এটা গ্রহণ কর এবং এছাড়া ঐ সব মালও গ্রহণ কর, যা কোন প্রকার লালসা ও প্রার্থনা ব্যতীতই তোমার কাছে এসে যায়। আর যা এভাবে আসে তা পাওয়ার ইচ্ছাও রেখো না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭৪]

২২৯৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুলাহ [সাঃআঃ] উমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.]-কে কখনো কখনো কিছু মাল দান করিতেন। উমর [রাদি.] তাঁকে বলিতেন, হে আল্লাহর রসূল! আমার এ মালের প্রয়োজন নেই। আমার চেয়ে যার প্রয়োজন ও অভাব বেশী তাকে দিন। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে বললেনঃ“এ মাল লও এবং নিজের কাছে রেখে দাও অথবা সাদকাহ করে দাও। তোমার কামনা ও প্রার্থনা ছাড়াই যে মাল তোমার কাছে এসে যায় তা রেখে দাও। আর যা এভাবে না আসে তার জন্য অন্তরে আশা পোষন করো না। বর্ণনাকারী সালিম [রাদি.] বলেন, এ কারণে ইবনি উমর [রাদি.] কারে কাছে কিছু চাইতেন না এবং কেউ যদি [না চাওয়া সত্ত্বেও] তাকে কিছু দিতেন তাহলে তিনি এটা ফেরতও দিতেন না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৪, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭৫]

২২৯৭. উমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.] এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৫, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭৬]

২২৯৮. ইবনি সাইদী আল মালিকী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উমর [রাদি.] আমাকে যাকাত আদায়ের জন্য কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করিলেন। অতঃপর আমি যখন এ কাজ সমাধা করলাম এবং আদায়কৃত সম্পদ তাহাঁর কাছে দিলাম-তিনি আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দেয়ার নির্দেশ দিলেন। আমি বললাম, আমি এ কাজ শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছি। সুতরাং আমার পারিশ্রমিক শুধু আল্লাহর কাছেই পাওয়ার আশা করি। তিনি [উমর] বলিলেন, আমি যা দিচ্ছি, নিয়ে নাও। আমিও একবার রসূলুলাহ [সাঃআঃ] এর সময় এ কাজ করেছি। তিনি আমাকে পারিশ্রমিক হিসেবে কিছূ দিয়ে দিলেন তখন আমিও তাঁকে তোমার মত একই কথা বলেছিলাম। রসূলুলাহ [সাঃআঃ] আমাকে বলেছিলেন : “যদি তোমার আবেদন ছাড়াই কেউ কোন কিছু দান করে তুমি তা গ্রহণ করিবে এবং অপরকেও দান করিবে।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৬, ই.সে ২২৭৭]

২২৯৯. ইবনি আস্ সাদী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উমর ইবনিল খাত্ত্বাব [রাদি.] যাকাত আদায় করার জন্যে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ করিলেন …….. অবশিষ্ট অংশ লায়স বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৭, ই.সে ২২৭৮]

৩৮. অধ্যায়ঃ পার্থিব লোভ লালসা র প্রতি অনীহা ও ঘৃণা পোষণ করা

২৩০০. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন, জীবন ও সম্পদ- এ দুটির ভালবাসার ক্ষেত্রে বৃদ্ধের অন্তর চির যৌবনের অধিকারী। অর্থাৎ বেঁচে থাকার মায়া ও অর্থের মায়া।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৮, ইসলামিক সেন্টার- ২২৭৯]

২৩০১. আবু হুরায়রাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেনঃ দুটি জিনিসের ভালবাসায় বৃদ্ধের অন্তর চির যৌবনের অধিকারী- দীর্ঘ জীবন এবং ধন-সম্পদের মোহ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৭৯, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮০]

২৩০২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুলাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আদাম সন্তান বার্ধক্যে পৌছে যায়, কিন্তু দুটি ব্যাপারে তার আকাঙ্খা যৌবনে বিরাজ করে- সম্পদের লালসা এবং বেঁচে থাকার আকাঙ্খা।

[ই.ফা ২২৮০, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮১]

২৩০৩. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] বলেন ……. উপরের হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮১, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮২]

২৩০৪. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] থেকে নবী [সাঃআঃ] হইতে বর্ণীতঃ

একই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮২, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮৩]

৩৯. অধ্যায়: আদাম সন্তান এর যদিও সম্পদের দুটি উপত্যকা থাকে তবু সে তৃতীয়টি অনুসন্ধান করিবে

২৩০৫. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আদাম সন্তান যদি দুটি মাঠ ভর্তি সম্পদের অধিকারী হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় মাঠ ভর্তি সম্পদ খুঁজে বেড়াবে। আদাম সন্তানের পেট-মাটি ছাড়া কোন কিছুই ভরাতে পারে না। যে ব্যক্তি তাওবাহ্ করে আল্লাহ তার তাওবাহ্ কবূল করেন।

[ই.ফা ২২৮৩, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮৪]

২৩০৬. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুলাহ [সাঃআঃ] কে বলিতে শুনেছিঃ রাবী বলেন, তবে আমি সঠিক বলিতে পারব না যে, তাহাঁর উপর এ কথাগুলো অবতীর্ণ হয়েছিল, না তিনি নিজের পক্ষ থেকে বলেছিলেন। এ সূত্রে বর্ণিত হাদীস উপরোল্লেখিত আবু আওয়ানার বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৪, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮৫]

২৩০৭. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যদি কোন আদম সন্তান একটি স্বর্ণের উপত্যকার মালিক হয়ে যায় তাহলে সে এরূপ আরেকটি উপত্যকা পেতে আকাঙ্ক্ষা করে। মাটি ছাড়া আর কিছুই তার পেট ভরাতে পারে না। আর যে ব্যাক্তি তাওবাহ করে আল্লাহ্‌ তাআলা তার তাওবাহ কবূল করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৫, ইসলামিক সেন্টার-২২৮৬]

২৩০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছিঃ যদি কোন আদম সন্তানের পূর্ণ এক উদ্যান সম্পদ থাকে তাহলে সে অনুরূপ আরও সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না। যে ব্যাক্তি তওবাহ করে আল্লাহ্‌ তার তওবাহ কবুল করেন।

ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেন, এটা কুরআনের আয়াত কিনা আমি জানি না।

যুহায়রের বর্ণনায় আছে – এটা কুরআনের আয়াত কিনা আমি তা জানি না। এখানে তিনি ইবনি আব্বাসের নাম উল্লেখ করেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৬, ইসলামিক সেন্টার- ২২৮৭]

২৩০৯. আবুল আসওয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু মুসা আল আশআরী [রাদি.] একবার বাসরার ক্বারীদের [আলিমদের] ডেকে পাঠালেন। অতঃপর সেখানকার তিনশ ক্বারী তাহাঁর কাছে আসলেন এবং কুরআন পাঠ করিলেন। তিনি [তাদের উদ্দেশে] বলিলেন, আপনারা বাসরার মধ্যে উত্তম লোক এবং সেখানকার ক্বারী। সুতরাং আপনারা অনবরত কুরআন পাঠ করিতে থাকুন। অলসতায় দীর্ঘ সময় যেন কেটে না যায়। তাহলে আপনাদের অন্তর কঠিন হয়ে যেতে পারে যেমন আপনাদের পূর্ববর্তী একদল লোকের অন্তর কঠিন হয়ে গিয়েছিল। আমরা একটি সূরাহ পাঠ করতাম যা দীর্ঘ এবং কঠোর ভীতি প্রদর্শনের দিক থেকে সূরাহ বারাআতের সমতুল্য। পরে তা আমি ভুলে গেছি। তবে তার এতটুকু মনে রেখেছি – ““যদি কোন আদম সন্তান দুই উপত্যকা সম্পদের মালিক হয়ে যায় তাহলে সে তৃতীয় আরও একটি উপত্যকা ভর্তি সম্পদ পেতে চাইবে। মাটি ছাড়া আর কোন কিছুতেই আদম সন্তানের পেট ভরে না।” আমি আরও একটি সূরাহ পাঠ করতাম যা মুসাব্বিহাত [গুণগানপূর্ণ] সূরাগুলো সমতুল্য। তাও আমি ভুলে গেছি, শুধু তা থেকে এ আয়াতটি মনে আছে –

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لِمَ تَقُولُونَ مَا لاَ تَفْعَلُونَ

““হে ঈমানদারগণ! তোমরা কেন এমন কথা বল যা করো না” – [সুরা সফ ৬১ : ২]। আর যে কথা তোমরা শুধু মুখে আওড়াও অথচ করো না তা তোমরা তোমাদের ঘাড়ে সাক্ষী হিসাবে লিখে রাখা হয়। কিয়ামতের দিন তোমরাদেরকে এ সম্বন্ধে জিজ্ঞাসাবাদ করা হইবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৭, ইসলামিক সেন্টার-২২৮৮]

৪০. অধ্যায়ঃ সম্পদের আধিক্যের কারণে ধনী বলে বিবেচিত নয়

২৩১০. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ধন-সম্পদ ও পার্থিব সাজ-সরঞ্জামের প্রাচুর্য ও আধিক্য প্রকৃত ঐশ্বর্য নয়, বরং মনের ঐশ্বর্যই বড় ঐশ্বর্য।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৮, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৯]

৪১. অধ্যায়ঃ দুনিয়ার যে চাকচিক্য প্রকাশ পাবে তা থেকে বেঁচে থাকা প্রসঙ্গে

২৩১১. আবু সাইদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়ালেন, অতঃপর লোকদের উদ্দেশে ভাষন দিলেন। তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! না, আল্লাহ্‌র শপথ! তোমাদের ব্যাপারে আমার কোন কিছুর আশঙ্কা নেই। তবে আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য যে পার্থিব সৌন্দর্য ও চাকচিক্যের ব্যবস্থা করে রেখেছেন, এ সম্পর্কে তোমাদের ব্যাপারে আমার আশঙ্কা রয়েছে। এক ব্যক্তি বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কল্যাণের পরিণামে কি অকল্যাণও হয়ে থাকে? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছুক্ষণ চুপ থাকার পর জিজ্ঞেস করলেনঃ তুমি কি বলেছিলে? সে বলিল, আমি বলেছিলাম, “হে আল্লাহ্‌র রসূল! কল্যাণের সাথে কি অকল্যাণ আসবে?” রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে লক্ষ্য করে বলিলেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যেসব তৃণলতা ও সবুজ ঘাস উৎপন্ন হয় এটা কোন পশুকে ডায়রিয়ার প্রকোপে ফেলে না বা মৃত্যুর কাছাকাছিও নিয়ে যায় না। কিন্তু চারণভূমিতে বিচরণকারী পশুরা এগুলো খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর সূর্যের দিকে তাকিয়ে পেশাব-পায়খানা করিতে থাকে, অতঃপর জাবর কাটতে থাকে। এগুলো পুনরায় চারণভূমি তে যায় এবং এভাবে অত্যধিক খেতে খেতে একদিন মৃত্যুর শিকার হয়। অনুরূপভাবে যে ব্যক্তি সৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি অসৎ পন্থায় সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে – সে অনেক খাচ্ছে কিন্তু পরিতৃপ্ত হইতে পারছে না।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৮৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯০]

২৩১২. আবু সাইদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ আমি তোমাদের ব্যাপারে যেসব জিনিসের আশঙ্কা করছি এর মধ্যে অনন্য হল পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাদের জন্য উন্মুক্ত করবেন। সাহাবীগণ জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা বলিতে কি বুঝায়? তিনি বলিলেন, পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা হলো দুনিয়ার সম্পদের প্রাচুর্য। তারা পুনরায় জিজ্ঞেস করিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! “কল্যাণ কি অকল্যাণ বয়ে আনবে। তিনি বলিলেন, কল্যাণ তো অকল্যাণ বয়ে আনে না, কল্যাণ তো কল্যাণই বয়ে আনে, তবে কথা হল বসন্তকালে যে সব গাছপালা, তরুলতা ও সবুজ ঘাস জন্মায় কোন পশু তা অতিরিক্ত খেয়ে কলেরা হয়ে মারা যায় বা মরার নিকটবর্তী হয়। এসব তৃণভোজী পশু অতিরিক্ত খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে। অতঃপর রোদে দাঁড়িয়ে জাবর কাটে ও পেশাব করে মলমূত্র ত্যাগ করে। এরপর আবার চারণভূমিতে গিয়ে অতিরিক্ত খেয়ে থাকে। [এ অতি ভোজের কারণে কোন সময় পেট খারাপ হয়ে মারা যায়]। এ দুনিয়ার ধন-সম্পদ তিক্ত ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা সৎ পন্থায় উপার্জন করিল, সে সে পথেই থাকল। সে কতই না সাহায্য সহযোগিতার সুযোগ লাভ করে। আর যে ব্যক্তি তা অসৎ পন্থায় উপার্জন করিল তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে – এক ব্যক্তি খাচ্ছে অথচ পরিতৃপ্ত হইতে পারছে না।”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯১]

২৩১৩. আবু সাইদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] মিম্বারের উপরে বসলেন এবং আমরা তাহাঁর চারদিকে বসে পড়লাম। অতঃপর তিনি [আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে] বললেনঃ “আমার পরে তোমাদের ব্যাপারে আমি যে সব জিনিসের আশঙ্কা করছি তার মধ্যে অন্যতম হলো – পার্থিব চাকচিক্য ও শোভা সৌন্দর্য যা আল্লাহ্‌ তাআলা তোমাদের জন্য বের করবেন। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করিল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কল্যাণ কি অকল্যাণ নিয়ে আসবে?” বর্ণনাকারী বলেন, [লোকটির প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে] নবী [সাঃআঃ] চুপ থাকলেন। এতে [উপস্থিত লোকদের মধ্যে] কেউ কেউ তাকে বলিল, কী দুর্ভাগা তুমি! তুমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে কথা বলছ অথচ তিনি তোমার সাথে কথা বলছেন না। রাবী আরও বলেন, আমাদের মনে হলো তাহাঁর উপর ওয়াহী অবতীর্ণ হচ্ছে। অতঃপর তিনি তাহাঁর [মুখমণ্ডল থেকে] ঘাম মুছে জিজ্ঞেস করিলেন, প্রশ্নকারী কোথায়? তিনি মনে হলো তার প্রশংসাই করিলেন। তিনি বলিলেন, কল্যাণ মূলত অকল্যাণ বয়ে আনে না। তবে কথা হলো, বসন্তকালে যে সবুজ লতাপাতা ও তৃণরাজির আবির্ভাব ঘটে এগুলো অতি ভোজনে মৃত্যু ঘটায় বা মৃত্যুর নিকটবর্তী করে দেয়। কতিপয় তৃণভোজী পশু তা খেয়ে পেট ফুলিয়ে ফেলে, অতঃপর রোদের দিকে তাকিয়ে মল মূত্র ত্যাগ করে ও পেশাব করে এবং জাবর কাটতে থাকে। অতঃপর তা চারণভূমিতে ছুটে চলে এবং বেশি করে খায় [এ ভাবে অতিভোজের কারণে বদহজম হয়ে মারা যায়]। এ দুনিয়ায় ধন সম্পদ সবুজ এবং সুমিষ্ট। এ ধন কোন মুসলিমের কতই উত্তম বন্ধু যা থেকে সে নিঃস্ব, অনাথ, ইয়াতীম ও অসহায় এবং পথিককে দান করে। কিন্তু যে ব্যক্তি না – হাক্বভাবে ধন সম্পদ উপার্জন করে তার দৃষ্টান্ত হচ্ছে কোন ব্যক্তি আহার করে অথচ তৃপ্ত হয় না। আর ঐ সম্পদ কিয়ামতের দিন তার বিরুদ্ধে সাক্ষী হয়ে দাঁড়াবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯২]

৪২. অধ্যায়ঃ ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা ও ধৈর্য ধারনের ফাযীলত

২৩১৪. আবু সাইদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আনসার সম্প্রদায়ের কিছু সংখ্যক লোক রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট কিছু সাহায্য চাইল। তিনি তাদেরকে দান করিলেন। তারা আবারও চাইল তিনি আবারও দিলেন। এমনকি তার কাছে যে সম্পদ ছিল তাও ফুরিয়ে গেল। অতঃপর তিনি বলিলেন, আমার কাছে যখন কোন মালামাল থাকে তা তোমাদের দিতে কোন প্রকার কুণ্ঠাবোধ করি না। আর যে ব্যক্তি অন্যের কাছে চাওয়া থেকে বেঁচে থাকতে চায় আল্লাহ্‌ তাকে [পরের কাছে হাত পাতার অভিশাপ থেকে] বাঁচিয়ে রাখেন। আর যে ব্যক্তি স্বনির্ভর হইতে হইতে চায় আল্লাহ্‌ তাকে বেপরোয়া ও স্বনির্ভর করে দেন। আর যে ব্যক্তি ধৈর্যের পথে অগ্রসর হয় আল্লাহ্‌ তাকে ধৈর্য ধারণের ক্ষমতা দান করেন। বস্তুতঃ আল্লাহ্‌র দেয়া অবদানগুলোর মধ্যে ধৈর্য শক্তির চেয়ে উত্তম ও প্রশস্ত অবদান আর কিছু নেই।

[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯২, ইসলামিক সেন্টার- ২২৯৩]

২৩১৫. যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৩, ইসলামিক সেন্টার- ২২৯৪]

৪৩. অধ্যায়ঃ ভিক্ষাবৃত্তি থেকে বিরত থাকা এবং অল্পতুষ্ট থাকা সম্পর্কে

২৩১৬. আবদুল্লাহ ইবনি উমর ইবনিল আস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ যে ব্যক্তির ইসলাম কবুল করার সৌভাগ্য হয়েছে, যাকে প্রয়োজন পরিমাণ রিয্ক্ব দেয়া হয়েছে এবং আল্লাহ্‌ তাআলা তাকে যে সম্পদ দিয়েছেন এর উপর পরিতৃপ্ত হওয়ার শক্তি দিয়েছেন, সে-ই [জীবনে] সফলতা লাভ করেছে।

[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৪, ইসলামিক সেন্টার- ২২৯৫]

২৩১৭. আবু হুরায়রাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন

 اللَّهُمَّ اجْعَلْ رِزْقَ آلِ مُحَمَّدٍ قُوتًا

, “হে আল্লাহ্‌! মুহাম্মাদের পরিবার-পরিজনের রিয্ক্ব [বা পানাহারের ব্যবস্থা] প্রয়োজন পরিমান রাখুন।”

[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৫, ইসলামিক সেন্টার- ২২৯৬]

৪৪. অধ্যায়ঃ কঠোরতা ও অশোভন আচরণ করা সত্ত্বেও প্রার্থনাকারীকে কিছু দান করা

২৩১৮. উমর ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু যাকাতের মাল বন্টন করিলেন। আমি বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি যাদেরকে দিয়েছেন প্রকৃত পক্ষে এরা পাওয়ার যোগ্য নয়। বরং পাওয়ার যোগ্য হল অন্য লোক। উত্তরে তিনি বলিলেন, তারা আমাকে এমনভাবে বাধ্য করেছে যে, আমি তাদেরকে যদি না দিতাম তাহলে তারা আমার কাছে নির্লজ্জভাবে প্রশ্ন করত অথবা আমাকে কৃপন বলে আখ্যায়িত করত। সুতরাং আমি কৃপণতার আশ্রয় গ্রহণকারী নই [অর্থাৎ কৃপণ নই]।

[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৬, ইসলামিক সেন্টার-২২৯৭]

২৩১৯. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সাথে পথ চলছিলাম, তাহাঁর পরনে ছিল নাজরানের তৈরি মোটা আঁচল বিশিষ্ট চাদর। এক বেদুঈন তাহাঁর কাছে আসলো। সে তাহাঁর চাদর ধরে তাকে সজোরে টান দিল। আমি দেখলাম ফলে তাহাঁর ঘাড়ে দাগ পরে গেল। সজোরে তার এ টানের কারণে চাদরের আঁচলও পরে গেল। সে [বেদুঈন] বলিল, হে মুহাম্মাদ [সাঃআঃ] আল্লাহ্‌র দেয়া যে সব মাল তোমার কাছে আছে এ থেকে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য নির্দেশ দাও। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার দিকে তাকিয়ে হেসে দিলেন এবং তাকে কিছু মাল দেয়ার নির্দেশ দিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৭, ইসলামিক সেন্টার- ২২৯৮]

২৩২০. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রে নবী [সাঃআঃ] এর একই হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

আমরের বর্ণিত হাদিসে আরও আছে “তারপর সে [বেদুঈন] এমন জোরে চাদর ধরে টান দিল যে, আল্লাহ্‌র নবী [সাঃআঃ] বেদুঈনের ঘাড়ের সাথে লেগে গেল”।

আর হাম্মামের বর্ণনায় আছেঃ এমন জোরে তাহাঁর চাদর ধরে টান দিল যে, তা ফেটে গেল এবং এর আঁচল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – এর ঘাড়ে থেকে গেল।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৮, ইসলামিক সেন্টার-২২৯৯]

২৩২১. মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ্‌ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কিছু সংখ্যক ক্বাবা [শেরওয়ানী] বণ্টন করিলেন। কিন্তু [আমার পিতা] মাখরামাহ্‌কে একটিও দিলেন না। মাখরামাহ্‌ বলিলেন, বৎস ! আমার সাথে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে চলো। আমি তার সাথে গেলাম। তিনি বলিলেন, তুমি ঘরের ভিতর গিয়ে তাঁকে [রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম -কে] ডাক। আমি তাঁকে ডাকলাম। তিনি যখন বেরিয়ে আসলেন, ঐ ক্বাবাগুলোর একটি তার পরনে ছিল। তিনি বলিলেন, এটা আমি তোমার জন্যই রেখেছিলাম। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি মাখরামার দিকে তাকালেন এবং বলিলেন, “মাখরামাহ্‌ সন্তুষ্ট হয়েছে”।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২২৯৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০০]

২৩২২. মিসওয়ার ইবনি মাখরামাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] এর কাছে কিছু সংখ্যক ক্বাবা [পোশাক-পরিচ্ছেদ পরিধানের জন্য কাপড় বিশেষ] আসলো। আমার পিতা মাখরামাহ্‌ আমাকে বলিলেন, “আমার সাথে তাহাঁর [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] কাছে চলো, হয় তো তিনি আমাদেরকে তা থেকে দু একটা দিতে পারেন।” বর্ণনাকারী বলেন, আমার পিতা গিয়ে তাহাঁর দরজায় দাঁড়িয়ে কথা বলিলেন। নবী [সাঃআঃ] তার কণ্ঠস্বর বুঝতে পারলেন। তিনি একটি ক্বাবা সাথে করে তার কারুকাজ ও সৌন্দর্য দেখিতে দেখিতে বের হলেন এবং বলিতে থাকলেনঃ “আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম; আমি এটি তোমার জন্য উঠিয়ে রেখেছিলাম”।

[ ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০০, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০১]

৪৫. অধ্যায়ঃ যাকে না দিলে ঈমান থেকে বিচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে তাকে দান করা প্রসঙ্গে

২৩২৩.সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার উপস্থিতিতে কতিপয় লোককে কিছু দান করিলেন। আমিও তখন তাদের মধ্যে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে দেয়া থেকে বিরত থাকলেন। সে আমার দৃষ্টিতে তাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম লোক ছিল। সুতরাং আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে বললাম, হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে দেননি কেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি জানি সে মুমিন লোক। তিনি বলিলেন, বরং সে মুসলিম। অতঃপর আমি সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সৎগুলাবলী ও ঈমানী চরিত্র সম্পর্কে আমার অবগতি আমাকে প্রভাবিত করায় পুনরায় বললাম, “হে আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কেন দেননি? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি জানি সে মুমিন লোক”। তিনি [এবারও] বলিলেন, বরং সে মুসলিম। আমি এবারও সামান্য সময় চুপ করে থাকলাম। কিন্তু তার সম্পর্কে আমার অবগতি পুনরায় আমাকে প্রভাবিত করিল। তাই আমি বললাম, আল্লাহ্‌র রসূল! আপনি অমুক ব্যক্তিকে কিছু দেননি কেন? আল্লাহ্‌র শপথ! আমি ভাল করেই জানি সে মুমিন। তিনি বলিলেন, বরং সে মুসলিম। তৃতীয়বার বলিলেন, আমি অধিকাংশ সময় কোন ব্যক্তিকে দেই কিন্তু অপর ব্যক্তি আমার কাছে তার তুলনায় অধিক প্রিয়। এর কারণ হচ্ছে – যদি তাদেরকে না দেই তাহলে হয়তো তাদেরকে উপুড় করে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হইবে।

আল হুলওয়ানীর বর্ণনায় দুবারের উল্লেখ আছে।

[ ই.ফা.২৩০১, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০২]

২৩২৪. যুহরী [রাদি.] থেকে সালিহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] -এর সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০২, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৩]

২৩২৫. মুহাম্মাদ ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এ সূত্রেও যুহরী বর্ণিত হয়েছে। এ বর্ণনায় আরও আছে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] [স্নেহ ভরে] আমার ঘাড় ও কাধের মাঝে হাত মেরে বললেনঃ হে সাদ! তুমি কি আমার সাথে লড়তে চাও? নিশ্চয়ই আমি কোন ব্যক্তিকে দিয়ে থাকি।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৪]

৪৬. অধ্যায়ঃ ইসলামের প্রতি আকৃষ্ট করার জন্য মুয়াল্লিফাতে কুলুবকে দান করা এবং দৃঢ় ঈমানের অধিকারীকে না দেয়া প্রসঙ্গে

২৩২৬. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুনায়নের দিনে আল্লাহ তাআলা তাহাঁর রাসূলকে বিনা যুদ্ধে হাওয়াযিন গোত্রের ধন-সম্পদ থেকে যা [গনীমাত হিসাবে] দান করেছিলেন এ থেকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কুরাইশদের কয়েকজন লোককে একশ উট প্রদান করিলেন। আনসারদের মধ্যে কয়েক ব্যক্তি বলিল, “আল্লাহ্‌ তাহাঁর রাসূল কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ তাদের তরবারি থেকে এখনও তাদের রক্ত ঝরছে। ”

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] বলেন, এ খবর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে পৌঁছলে তিনি আনসারদেরকে ডেকে পাঠালেন। তিনি একটি চামড়ার তাঁবুতে তাদের একত্রিত করিলেন। তারা জড়ো হলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এসে বলিলেন, তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে যে কথা পৌঁছেছে তাহাঁর মানে কি? আনসারদের মধ্যে থেকে বুদ্ধিমান ব্যক্তিগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের মধ্যে যারা বুদ্ধিমান ও অভিজ্ঞ তারা তো কিছুই বলেনি। তবে আমাদের মধ্যে যারা কম বয়সী তারা বলেছেন – আল্লাহ্‌ তাআলা তাহাঁর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে ক্ষমা করুন, তিনি আমাদের না দিয়ে কুরাইশদের দিচ্ছেন। অথচ এখনো আমাদের তরবারি থেকে তাদের রক্ত টপকে পড়ছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, “আমি এমন লোকদের দিয়ে থাকি যারা সেদিনও কাফির ছিল যাতে তাদের মন সন্তুষ্ট [ও ইসলামের দিকে আকৃষ্ট] থাকে। তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, তারা [গনীমাতের] মাল নিয়ে তাদের ঘরে চলে যাবে আর তোমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে নিয়ে ঘরে যাবে?” আল্লাহ্‌র শপথ! ওরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে তার চেয়ে উত্তম হচ্ছে তোমরা যা নিয়ে ঘরে ফিরবে। সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমরা যা নিচ্ছি তাই উত্তম এবং আমরা সন্তুষ্ট আছি। পুনরায় তিনি বলিলেন, ভবিষ্যতেও এভাবে তোমাদের উপর অন্যদের [দানের ব্যাপারে] প্রাধান্য দেয়া হইবে। তখন তোমরা আল্লাহ্‌ ও তাহাঁর রাসূলের সাথে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করিবে এবং হাওযে কাওসারের কাছে থাকিবে। তারা বলিলেন, এখন থেকে আমরা ধৈর্য ধারণ করব।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৫]

২৩২৭. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] থেকে এ সূত্র হইতে বর্ণীতঃ

হাওয়াযিন গোত্র থেকে বিনা যুদ্ধে সম্পদ লাভ ও বণ্টন সম্পর্কিত উপরের হাদিসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এখানে আরও আছেঃ আনাস [রাদি.] বলেছেন, আমরা ধৈর্য ধারণ করিতে পারিনি এবং আমাদের কিছু লোক শব্দটি উল্লেখ করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৬]

২৩২৮. আনাস ইবনি মালিক [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে আনাস [রাদি.] বলেছেন যে, তারা বলিলেন, “আমরা ধৈর্য ধারণ করব।” যেমন যুহরী ইউনুসের রিওয়ায়াতে বর্ণিত আছে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৭]

২৩২৯. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আনসারদের এক স্থানে সমবেত করে বললেনঃ তোমরা অর্থাৎ আনসারগণ ছাড়া অন্য কেউ এখানে আছে কি? তারা [আনসারগণ] বলিলেন, না। তবে আমাদের এ ভাগ্নে এখানে উপস্থিত আছে। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, বোনের ছেলে বা ভাগ্নে [মাতুল] গোত্রের অন্তর্ভূক্ত। অতঃপর তিনি বললেনঃ কুরায়শরা কেবলমাত্র জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগ করেছে এবং সবেমাত্র বিপদ থেকে মুক্তি পেয়েছে। তাই আমি চাচ্ছি। তোমরা কি সন্তুষ্ট নও যে, মানুষ দুনিয়া নিয়ে ফিরে যাক, আর তোমরা আল্লাহর রসূলকে নিয়ে ঘরে প্রত্যাবর্তন কর? তোমাদের সাথে আমার ভালবাসা ও হৃদ্যতার স্বরূপ এই যে, দুনিয়ার সব লোক যদি উপত্যকার দিকে ছুটে আর আনসারগণ যদি কোন গিরিপথে যায় তাহলে আমি আনসারদের গিরিপথেই যাবো [তাদের সাথেই থাকব]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৭, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৮]

২৩৩০. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ্ বিজয়ের পরে গনীমাতের মাল কুরায়শদের মধ্যে বন্টন করা হলে আনসারগন বলিলেন, এটা অত্যন্ত আশ্চর্যের কথা যে, আমাদের তরবারি দিয়ে এখনো তাদের রক্ত ঝরছে আর আমাদের গনীমাত তারাই লুটে নিচ্ছে। এ কথা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে পৌঁছলে তিনি তাদেরকে সমবেত করে বলিলেন, এ কেমন কথা যা তোমাদের পক্ষ থেকে আমার কাছে পৌঁছেছে? তারা বলিলেন, হ্যাঁ; এ ধরনের কথা হয়েছে। তারা কখনো মিথ্যা বলেন না। তিনি বলিলেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরুক আর তোমরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? অন্যান্য লোকেরা যদি কোন উপত্যকা বা গিরিপথে চলে এবং আনসারগণ যদি অপর কোন উপত্যকা বা গিরিপথ ধরে চলে তাহলে আমি আনসারদের উপত্যকা বা গিরিপথেই চলব [আমি আনসারদের সাথেই থাকব]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৮, ইসলামিক সেন্টার- ২৩০৯]

২৩৩১. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, হুনায়নের যুদ্ধে হাওয়াযিন, গাত্বফান ও অন্যান্য গোত্রের লোকেরা তাদের সন্তান-সন্ততি ও গবাদি পশু নিয়ে এবং নবী [সাঃআঃ] দশ হাজারের এক বিরাট বাহিনী এবং মাক্কার তুলাক্বাদের নিয়ে সম্মুখ যুদ্ধে অবতীর্ণ হলেন। তুমুল যুদ্ধের মুখে এরা সবাই পিছে হটে গেল এবং [নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] একা যুদ্ধ ক্ষেত্রে রয়ে গেলেন। সেদিন তিনি দুটি ডাক দিলেন কিন্তু এর মাঝখানে কোন কথা বলেননি। প্রথমে তিনি ডান দিকে ফিরে ডাক দিয়ে বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়”! তারা তাকে সাড়া দিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি- আপনি এ সুসংবাদ গ্রহণ করুন। অতঃপর তিনি বাম দিকে ফিরে পুনরায় ডেকে বললেনঃ হে আনসার সম্প্রদায়! তারা ডাকে সাড়া দিয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি, আপনি সুসংবাদ গ্রহণ করুন। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় তিনি [সাঃআঃ] সাদা বর্ণের একটি খচ্চরের পিঠে উপবিষ্ট ছিলেন। অতঃপর তিনি নীচে নেমে এসে বলিলেন, “আমি আল্লাহর বান্দা ও তাহাঁর রসূল! মুশরিকরা পরাজিত হলো, গনীমাতের অনেক মাল রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হস্তগত হলো। তিনি এসব মাল মুহাজির ও তুলাক্বাদের মধ্যে বন্টন করে দিলেন। তিনি আনসারদের এ থেকে কিছুই দিলেন না। এতে অসন্তুষ্ট হয়ে আনসারগণ বলিলেন, “বিপদের সময় আমাদের ডাকা হয়, আর গনীমাত বন্টনের সময় মজা লুটে অন্যরা। তাঁদের এ উক্তি তাহাঁর কানে গিয়ে পৌঁছল। তিনি তাদেরকে একটি তাঁবুর নীচে একত্র করে বলিলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমাদের পক্ষ থেকে কী কথা আমার কাছে পৌঁছেছে? তাঁরা সবাই নীরব হয়ে গেলেন। তিনি বলেন, হে আনসার সম্প্রদায়! তোমরা কি এতে খুশী নও যে, অন্যান্য লোক দুনিয়া নিয়ে ঘরে ফিরবে আর তোমরা মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-কে সঙ্গে নিয়ে ফিরবে? তারা [উত্তরে] বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা এতে খুশী আছি। রাবী বলেন, অতঃপর নবী [সাঃআঃ] বলিলেন, “যদি অন্য লোকেরা এক গিরিপথের দিকে যায় আর আনসারগণ অন্য গিরিপথে চলে তাহলে আমি আনসারদের পথই আনুসরণ করব। বর্ণনাকারী হিশাম বলেন, “আমি আনসারকে জিজ্ঞেস করলাম, হে আবু হামযাহ্! আপনি কি তখন উপস্থিত ছিলেন! তিনি বলিলেন, আমি তাঁকে ছেড়ে কোথায় যাব?”

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩০৯, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১০]

২৩৩২. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা মাক্কাহ্ বিজয় করার পর হুনায়নের যুদ্ধ করলাম। আমি দেখেছি এ যুদ্ধে মুশরিকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সুবিন্যস্তভাবে কাতারবন্দী হয়েছিল। এদের প্রথম সারিতে অশ্বারোহীগণ, তারপর পদাতিকগণ, এদের পিছনে স্ত্রী লোকেরা যথাক্রমে বকরী অন্যান্য গবাদি পশুগুলো সারিবদ্ধ হয়েছিল। বর্ণনাকারী বলেন, আমরা সংখ্যায় অনেক লোক ছিলাম। আমাদের সংখ্যা প্রায় ছয় হাজার পৌঁছে ছিল। আমাদের একদিকে খালিদ ইবনি ওয়ালীদ [রাদি.] আমাদের অশ্বারোহী বাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন। যুদ্ধের এক পর্যায়ে আমাদের ঘোড়া পিছু হটতে লাগলো। এমনকি আমরা টিকে থাকতে পারছিলাম না। বেদুঈনরা পালাতে শুরু করিল। আমার জানা মতে আরো কিছু লোক পালিয়ে গেল। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রথম মুহাজিরদের ধমক দিয়ে ডাকলেন, হে মুহাজিরগণ! হে মুহাজিরগণ! অতঃপর আনসারদের ধমক দিয়ে বলিলেন, হে আনসারগণ! হে আনসারগণ! আনসার [রাদি.] বলেন, এ হাদীস আমার নিকট লোক বর্ণনা করিয়াছেন অথবা তিনি বলেছেন, আমার চাচা বর্ণনা করিয়াছেন। রাবী বলেন, আমরা তাহাঁর ডাকে সাড়া দিয়ে বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আমরা আপনার সাথেই আছি। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] সামনে অগ্রসর হলেন। আনসার [রাদি.] আরো বলেন, আল্লাহর শপথ! আমাদের পৌঁছার পূর্বেই আল্লাহ তাআলা তাদের পরাজিত করবেন এবং আমরা তাদের সকল প্রকার মাল হস্তগত করলাম। তারপর আমরা ত্বায়িফে গেলাম। ত্বায়িফের অধিবাসীদের চল্লিশ দিন যাবৎ অবরোধ করে রাখলাম, অতঃপর আমরা মাক্কায় ফিরে আসলাম এবং অভিযান সমাপ্ত করলাম। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রত্যেক ব্যক্তিকে একশটি করে উট দিলেন ও অতঃপর হাদীসের বাকী অংশ ক্বাতাদাহ্, আবু তাইয়্যাহ ও হিমাম ইবনি যায়দ বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১০, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১১]

২৩৩৩. রাফি ইবনি খাদীজ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু সুফ্ইয়ান ইবনি হার্ব, সফ্ওয়ান ইবনি উমাইয়্যাহ্, উয়াইনাহ্ ইবনি হিস্ন ও আক্বরা ইবনি হাবিসকে একশটি করে উট দিলেন এবং আব্বাস ইবনি মিরদাসকে এদের চেয়ে কিছু কম দিলেন। তখন মিরদাস এ কবিতা পাঠ করলেনঃ

আপনি কি আমার ও আমার উবায়দ নামক ঘোড়াটির অংশ

উয়াইনাহ্ ও আক্বরা-কে প্রদত্ত অংশের মাঝামাঝি নির্ধারণ করিয়াছেন?

বস্তুতঃ উয়াইনাহ্ এবং আক্বরা উভয়ই সমাজ ও সমাবেশে মিরদাসের চেয়ে

অধিক অগ্রসর হইতে বা শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করিতে পারে না।

আর প্রতিযোগিতায় আমি তাদের দুজনের তুলনায় পিছিয়ে নেই।

আজ যে অনগ্রসর ও হীন বলে গণ্য হইবে সে আর উর্ধ্বে উঠতে সক্ষম হইবে না।

বর্ণনাকারী বলেন, এ কবিতা শুনে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার উটের সংখ্যাও একশ পূর্ণ করে দিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১১, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১২]

২৩৩৪. উমর ইবনি সাঈদ ইবনি মাসরূক্ব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] থেকে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ] হুনায়ন যুদ্ধে প্রাপ্ত গনীমাতের মাল বন্টন করিলেন এবং আবু সুফ্‌ইয়ানকে একশ উট দিলেন। ….. অবশিষ্ট অংশ উপরে বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে- তিনি আলক্বামাহ্‌ ইবনি উলাসাকেও একশ উট দিলেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১২, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৩]

২৩৩৫. উমর ইবনি সাঈদ থেকে এ সানাদ হইতে বর্ণীতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে আলক্বামাহ্ ইবনি উসালাহ্ এবং সফ্ওয়ান ইবনি উমাইয়্যার নাম উল্লেখ নেই। তাছাড়া হাদীসে কবিতারও উল্লেখ নেই।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৩, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৪]

২৩৩৬. আবদুল্লাহ ইবনি যায়দ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

হুনায়নের যুদ্ধে জয়লাভ করার পর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমাতের মাল মুয়াল্লাফাতুল কুলূব-দের মধ্যে বন্টন করিলেন। অতঃপর তিনি জানতে পারলেন যে, অন্যান্য লোকেরা যেভাবে গনীমাতের মাল পেয়েছে আনসারগণও অনুরূপ পেতে চায়। তাই রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] দাঁড়িয়ে তাদের উদ্দেশ্যে খুতবাহ্ দান করিলেন। খুতবার শুরুতে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণগান করার পর বললেনঃ “হে আনসার সম্প্রদায়! আমি কি তোমাদের পথভ্রষ্ট, দারিদ্র্য ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন পাইনি?” তারপর আমার মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা তোমাদের সঠিক পথের সন্ধান দিয়েছেন, দারিদ্র্যের অভিশাপ হইতে মুক্ত করে ধনী করিয়াছেন। আর তাঁরা বলিতেন, আল্লাহ ও তাহাঁর রসূল অত্যন্ত আমানাতদার। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমরা আমার কথা জবাব দিচ্ছ না কেন? তখন তাঁরা বলিলেন, অত্যন্ত আমানাতদার। [অর্থাৎ তিনি যা করিয়াছেন ঠিক করিয়াছেন এবং এতে আমরা রাযী আছি]। অতঃপর তিনি বলিলেন, যদি তোমরা এভাবে এভাবে বলিতে চাও আর বাস্তবে কাজ এরূপ ও এরূপ হয়। আম্‌র [রাদি.] বলেন, এই বলে তিনি কতগুলো জিনিসের কথা উল্লেখ করিলেন যা আমি মনে রাখতে পারিনি। অতঃপর তিনি বলিলেন, তোমরা কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, অন্যান্য লোকেরা ছাগল ও উট নিয়ে ঘরে ফিরে যাক আর তোমরা রসূলুল্লাহ [সা]-কে নিয়ে ঘরে ফিরে যাও? তিনি আরো বললেনঃ আনসারগণ হচ্ছে আচ্ছাদন [শরীরের সাথে লেগে থাকা আবরণ] আর অন্য লোকেরা আমাদের থেকে দূরের। যদি হিজরাত না হতো তাহলে আমি আনসারদের মাঠ ও গিরিপথেই যাব। আমার পরে তোমাদেরকে [দেয়ার ব্যাপারে] পিছনে ফেলে রাখা হইবে। তখন তোমরা আমার সাথে হাওজের কাছে সাক্ষাৎ করা পর্যন্ত ধৈর্য ধারণ করিবে।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৪, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৫]

২৩৩৭. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন হুনায়ুনের যুদ্ধ সংঘটিত হলো রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমাতের মাল দেয়ার ব্যাপারে কতক লোককে প্রাধান্য দিলেন অর্থাৎ কতক লোককে বেশী দিলেন। সুতরাং তিনি আক্বরা ইবনি হাবিসকে একশ উট দিলেন, উয়াইনাকেও অনুরূপ সংখ্যক উট দান করিলেন এবং আরবের নেতৃস্থানীয় কিছু লোককেও অগ্রাধিকার দিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, আল্লাহর শপথ! এ বন্টন ইনসাফ ভিত্তিক হয়নি এবং এর মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টির দিকেও লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি তখন মনে মনে বললাম, আল্লাহর শপথ! আমি এ কথা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে পৌঁছাব। রাবী বলেন, আমি তাহাঁর কাছে গিয়ে লোকটির উক্তি তাঁকে শুনালাম। ফলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখমন্ডল রক্তিম বর্ণ ধারন করিল। তিনি বললেনঃ আল্লাহ এবং তাহাঁর রসূলই যদি সুবিচার না করেন তাহলে কে আর ইনসাফ করিবে? তিনি পুনরায় বললেনঃ আল্লাহ তাআলা মূসা [আঃ]-কে রহমাত করুন, তাঁকে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে। কিন্তু তিনি ধৈর্য ধারণ করিয়াছেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি মনে মনে সিদ্ধান্ত নিলাম আজ থেকে আর কখনও এ ধরনের কোন ব্যাপার তাঁকে জানাব না। [কেননা এতে তাহাঁর কষ্ট হয়]।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৫, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৬]

২৩৩৮. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] গনীমাতের কিছু মাল বন্টন করিলেন। এক ব্যক্তি বলিল, এ বন্টনে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের দিকে লক্ষ্য রাখা হয়নি। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নবী [সাঃআঃ]-এর কাছে গিয়ে এ কথা তাঁকে চুপে চুপে অবহিত করলাম, এতে তিনি অত্যন্ত রাগান্বিত হলেন। ফলে সিদ্ধান্ত নিলাম এ ধরনের কথা তাঁকে আর কখনও বলব না। রাবী বলেন, অতঃপর তিনি বললেনঃ মূসা [আঃ]-কে এর চেয়েও বেশী কষ্ট দেয়া হয়েছে এবং তিনি ধৈর্য ধারণ করিয়াছেন।

[ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ২৩১৬, ইসলামিক সেন্টার- ২৩১৭]

By ইমাম মুসলিম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply