বয়স্কদের দুধপান করানো

বয়স্কদের দুধপান করানো

বয়স্কদের দুধপান করানো >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৭. অধ্যায়ঃ বয়স্কদের দুধপান করানো

৩৪৯২

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সুহায়ল-এর কন্যা সাহ্‌লাল্‌ নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট হাযির হয়ে বলিল, হে আল্লাহর রসূল, আমার সাথে সালিমের দেখা সাক্ষাৎ করার কারণে আমি আবু হুযায়ফার মুখমন্ডলে অসন্তুষ্টির আলামত দেখিতে পাচ্ছি অথচ সালিম হল তাহাঁর হালীফ [পোষ্য পুত্র]। নবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও। তিনি বলেন, আমি কেমন করে তাকে দুধপান করাব, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ। এতে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] মুচকি হাসি দিলেন এবং বলিলেন, আমি জানি যে, সে একজন বয়স্ক পুরুষ।

আম্‌র [রাবী] তাহাঁর হাদীসে অতিরিক্ত বলেছেন, সালিম বদর যুদ্বে অংশগ্রহণ করেছিলেন। আর ইবনি আবু উমারের বর্ণনায় রয়েছে যে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হেসে দিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৬৪]

৩৪৯৩

আয়েশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবু হুযায়ফার মুক্তদাস সালিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবু হুযাইফাহ্‌ ও তাহাঁর পরিবারের সাথে একই ঘরে বসবাস করত। একদা সুহায়লের কন্যা [হুযায়ফার স্ত্রী] রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলিল, সালিম বয়স্ক পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে, সে বুঝে লোকে যা বুঝতে পারে অথচ সে আমাদের নিকট প্রবেশ করে থাকে। আমি ধারণা করি এ কারণে আবু হুযায়ফার মনে অভিযোগের ভাব সৃষ্টি হয়েছে। নবী [সাঃআঃ] তাকে বলিলেন, তুমি তাঁকে দুধপান করিয়ে দাও, তুমি তাহাঁর জন্য হারাম হয়ে যাবে এবং আবু হুযায়ফার মনের অভিযোগ দূরীভূত হইবে। অতঃপর তিনি তাহাঁর [আবু হুযায়াফার] নিকট ফিরে এসে বলিলেন, আমি তাকে [সালিমকে] দুধপান করিয়েছি। তাতে আবু হুযায়ফার মনের অসন্তোষ দূর হয়ে যায়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৬৫]

৩৪৯৪

আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সুহায়ল ইবনি আম্‌র-এর কন্যা সাহ্‌লাহ্‌ নবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! সালিম আবু হুযায়ফার মুক্তদাস আমাদের সাথে একই ঘরে থাকে, অথচ সে বয়স্ক ও জ্ঞান সম্পন্ন পুরুষের স্তরে পৌছে গেছে। তিনি বলিলেন, তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তাতে তুমি তার প্রতি হারাম হয়ে যাবে। রাবী [ইবনি আবু মুলায়কাহ্‌] বলেন, অতঃপর আমি এক বছর বা প্রায় এক বছর কাল ভয়ে উক্ত হাদীস বর্ণনা করিনি। অতঃপর কাসিমের সাথে সাক্ষাৎ করে বললাম, আপনি আমার নিকট এতদিন এমনি এক হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন যা আমি অদ্যাবধি কারোর নিকট বর্ণনা করিনি। তিনি বলিলেন, তা কোন হাদীস? তখন আমি তাকে ঐ হাদীসখানার বিষয়ে অবহিত করলাম। তখন তিনি বলিলেন, তুমি তা আমা হইতে এ সুত্রে বর্ণনা কর যে, আয়িশা [রাদি.] আমাকে সে সম্পর্কে অবহিত করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৬৬]

৩৪৯৫

যায়নাব বিনতু উম্মু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আয়িশা [রাদি.]-কে বলিলেন, তোমার নিকট বালিগ হওয়ার নিকটবর্তী ছেলে প্রবেশ করে থাকে, কিন্তু আমার নিকট ঐ ধরনের ছেলের প্রবেশ করাকে পছন্দ করি না। রাবী বলেন, আয়িশা [রাদি.] বলিলেন, তোমার জন্য কি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মধ্যে সুন্দর আদর্শ বিদ্যমান নেই? তিনি আরো বলিলেন, একদা আবু হুযায়ফার স্ত্রী আরয করিল, হে আল্লাহর রসূল! সালিম আমার নিকট প্রবেশ করে থাকে, অথচ সে একজন বয়স্ক পুরুষ এবং এজন্য আবু হুযায়ফার অন্তরে কিছুটা অসন্তোষ ভাব বিদ্যমান। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি তাকে তোমার দুধপান করিয়ে দাও যাতে সে তোমার নিকট প্রবেশ করিতে পারে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৬৭]

৩৪৯৬

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সহধর্মিনী উম্মু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদিন আয়িশা [রাদি.]-কে বলিলেন, আল্লাহর কসম আমি পছন্দ করি না যে, যে ছেলে দুধপানের সম্পর্ক থেকে মুক্ত আমাকে দেখুক। তিনি বলিলেন, কেন? একদা সুহায়ল-এর কন্যা সাহ্‌লাহ্ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আল্লাহর কসম আমার নিকট সালিমের প্রবেশ করার কারণে আমি আবু হুযায়ফার মুখমন্ডলে অসন্তোষের লক্ষণ দেখিতে পাচ্ছি। আয়িশা [রাদি.] বলেন, তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি তাকে দুধপান করিয়ে দাও, তাতে আবু হুযায়ফার মুখমন্ডলের মলিনতা দূর হয়ে যাবে।

সাহ্‌লার বর্ণনা, আমি আল্লাহর কসম করে বলছি যে, তারপরে আমি আবু হুযায়ফার চেহারায় মলিনতা আর দেখিতে পাইনি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৬৮]

৩৪৯৭

উম্মু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সকল সহধর্মিনী দুধপান সম্পর্কের দ্বারা কাউকে তাদের নিকট প্রবেশ করিতে নিষেধ করেন এবং তারা আয়িশা [রাদি.]-কে বলেন, আল্লাহর কসম, আমরা এটাকে [প্রাপ্ত বয়সে দুধপান দ্বারা হুরমত সাব্যস্ত হওয়াকে] একটি বিশেষ অনুমতি মনে করি যা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কেবল সালিমের জন্য দিয়েছিলেন। অতএব এ ধরনের দুধপানের মাধ্যমে কেউ আমাদের নিকট প্রবেশ করিতে পারবে না এবং আমাদের প্রতি দৃষ্টিপাতও করিতে পারবে না। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩৪৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৩৪৬৯]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply