যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে

যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে

যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৫. অধ্যায়ঃ যে ব্যক্তি নিজে ব্যভিচার স্বীকার করে

৪৩১২

আবু হুরাইরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মুসলিমদের মধ্য থেকে এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এলো। তখন তিনি মাসজিদে বসে ছিলেন। সে তখন উচ্চৈঃস্বরে বলিল, হে আল্লাহর রসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]! আমি ব্যভিচার করেছি। তখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। সে লোকটি তাহাঁর [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] -এর চেহারার দিকে গিয়ে বলিল, হে আল্লাহর রসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে সে চারবার স্বীকারোক্তি প্রদান করিল। এরপর সে যখন চারবার নিজের উপর সাক্ষ্য দিল, তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে ডাকলেন এবং বলিলেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামী আছে? সে বলিল, না। তুমি কি বিবাহিত? সে বলিল, হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও এবং পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা কর।

ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] থেকে যিনি হাদীস শ্রবণ করিয়াছেন তিনি আমার কাছে বলেন যে, জাবির [রাদি.] বলেছেন, পাথর নিক্ষেপকারীদের মধ্যে আমিও একজন ছিলাম। আমারা তখন তাকে [ঈদের] নামাজ পড়ার স্থানে পাথর নিক্ষেপ করলাম। যখন তার উপর পাথর পড়তে লাগল তখন সে পলায়ন করিল। আমরা তাকে হার্রা নামক স্থানে ধরে ফেললাম এবং পাথর মেরে হত্যা করলাম। [ই. ফা ৪২৭৩, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৩]

৪৩১৩

মুসলিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন যে, লায়স [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ও আবদূর রহমান বিন খালিদ বিন মুসাফিরের মাধ্যমে ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ই. ফা ৪২৭৩, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৩]

৪৩১৪

আবদুল্লাহ ইবনি আবদুর রহমান দারিমী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবুল ইয়ামান এবং শুআয়বের মাধ্যমে যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বরাতে একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস শুনিয়েছেন। আর উভয়ের বর্ণিত হাদীসে ইবনি শিহাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন যে, আমার নিকট এমন এক ব্যক্তি হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন, যিনি জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] থেকে হাদীস শ্রবণ করিয়াছেন, যেমন উল্লেখ করিয়াছেন উকায়ল [রাদি.]। [ই. ফা ৪২৭৩, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৪]

৪৩১৫

জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] সূত্রে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হইতে বর্ণীতঃ

এভাবে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন যেভাবে উকায়ল যুহরীর মাধ্যমে আবু হুরাইরার বরাতে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] থেকে থেকে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৭৪, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৫]

৪৩১৬

জাবির ইবনি সামুরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি মাইয ইবনি মালিক [রাদি.]-কে দেখলাম, যখন তাকে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে প্রকৃতির সুঠাম দেহের অধিকারী। তাহাঁর গায়ে কোন চাদর ছিল না। তিনি নিজেই চারবার স্বীকারোক্তি করিলেন যে, তিনি ব্যভিচার করিয়াছেন। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ তুমি হয়তো [শুধু চুমু খেয়েছ অথবা স্পর্শ করেছ] তখন তিনি উত্তরে বলিলেন, না, আল্লাহর শপথ! নিশ্চয়ই এ হতভাগা ব্যভিচার করেছে। পরিশেষে তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপ করার আদেশ করিলেন। এরপর তিনি এক ভাষণ প্রদান করে বললেনঃ সাবধান! আমরা যখন আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে গমন করি, তখন কেউ কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে [-অর্থাৎ ছাগল যেমন সঙ্গমের সময় উচ্চৈঃস্বরে আওয়াজ করে তদ্রুপ] আর তাদেরকে সে অল্প দুধ দেয়। [-অর্থাৎ সঙ্গম করে, দুধের অর্থ বীর্য।] আল্লাহর শপথ! যদি আল্লাহ আমাকে এ শ্রেণীর কোন লোকের উপর ক্ষমতা প্রদান করেন, তবে আমি তাকে অবশ্যই শাস্তি দেব। [যেন অন্যেরা তার থেকে উপদেশ গ্রহণ করিতে পারে।] [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৭৫, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৬]

৪৩১৭

জাবির ইবনি সামুরাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এক ব্যক্তিকে আনা হলো। তিনি ছিলেন বেঁটে আকৃতির, চুল ছিল অবিন্যস্ত এবং বলিষ্ঠ দেহের অধিকারী। তার গায়ে ছিল একটি চাদর। তিনি ব্যভিচার করেছিলেন। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] দুবার তার স্বীকারোক্তি প্রত্যাখ্যান করিলেন। এরপর তার ব্যাপারে আদেশ দিলেন, তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেনঃ তোমরা জেনে রেখো; আমরা যখনই আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশে বের হই, তখন তোমাদের মধ্য হইতে কেউ না কেউ পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের ন্যায় আওয়াজ করে। সে তখন কোন নারীকে অল্প দুধ প্রদান করে। [অর্থাৎ-ব্যভিচার করে] নিশ্চয় আল্লাহ যদি আমাকে তাদের কারো উপর শক্তি দেন, তবে আমি তাকে এমন শাস্তি প্রদান করবো যা অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

বর্ণনাকারী বলেন, আমি এ হাদীসই সাঈদ ইবনি জুবায়র [রাদি.]-এর নিকট বর্ণনা করলাম। তখন তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ঐ ব্যক্তির স্বীকারোক্তি চারবার প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৭৬, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৭]

৪৩১৮

আবু বাকর ইবনি আবু শাইবাহ্ ও ইসহাক্ ইবনি ইব্রাহীম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] ….. উভয়েই জাবির ইবনি সামুরা [রাদি.] সূত্রে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] হইতে বর্ণীতঃ

ইবনি জাফার [রাদি.]-এর হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। আর শাবাবা [রাদি.]-ও তাহাঁর বাণী [আরবী] [তিনি তার স্বীকারোক্তি দুবার প্রত্যাখ্যান করেন]-এর সাথে একমত হয়েছেন। আবু আমির [রাদি.]-এর অপর এক হাদীসে [আরবী] [তিনি তাহাঁর স্বীকারোক্তি দুবার অথবা তিনবার প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন] বর্ণিত হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৭৭, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৮]

৪৩১৯

ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মাইয ইবনি মালিক [রাদি.] -কে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার সম্পর্কে আমার কাছে যে সংবাদ এসেছে তা সত্য কিনা? তিনি বলিলেন, আমার সম্পর্কে আপনার কাছে কী সংবাদ পৌঁছছে? তখন তিনি বলিলেন, আমার কাছে সংবাদ পৌঁছেছে যে, তুমি অমুক বংশের কোন এক দাসীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছ। তিনি উত্তরে বলিলেন, হ্যাঁ। এরপরে তিনি এ ব্যাপারে চারবার সাক্ষ্য দিলেন অর্থাৎ- স্বীকারোক্তি দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাহাঁর ব্যাপারে আদেশ দিলেন। তাকে তখন পাথর মারা হলো। [ই. ফা ৪২৭৮, ইসলামিক সেন্টার-৪২৭৯]

৪৩২০

আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আসলাম গোত্রের মাইয ইবনি মালিক নামক এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বলিল, আমি তো এক গর্হিত কাজ করে ফেলেছি। অতএব এর জন্য আমার উপর শারীআতের বিধান প্রয়োগ করুন। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাহাঁর এ স্বীকারোক্তি কয়েকবার প্রত্যাখ্যান করেন। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি ঐ ব্যক্তির স্বগোত্রীয় লোকের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন। তাঁরা বলিল, আমারা তো তার সম্বন্ধে কোন খারাপ জানি না। কিন্তু হঠাৎ করেই সে এমন অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়ে পড়েছে। সে এখন ভাবছে যে, তার প্রতি হদ [আরবী] শারীআতের বিধান প্রয়োগ ব্যতীত তার আর কোন নিষ্কৃতি নেই। বর্ণনাকারী বলেন যে, তখন সে রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট ফিরে এল। তখন তিনি তাকে পাথর নিক্ষেপের জন্য আমাদের নির্দেশ দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমারা তখন তাকে বাকীউল গারকাদ নামক স্থানে নিয়ে চললাম। আমরা তাকে বাঁধলাম না এবং মাটিতে পুঁতলামও না। এরপর আমরা তাঁকে হাড়, মৃত্তিকা, ঢিলা এবং ইট মারতে শুরু করলাম। হঠাৎ সে দৌঁড়ে পালাল, আমরাও তার পিছনে ছুটলাম। অবশেষে সে হাররাহ্ নামক স্থানে উপনীত হলো। আমারা তথায় তাকে ধরলাম এবং পাথর নিক্ষেপ করলাম। পরিশেষে সে নিশ্চল হয়ে গেল অর্থাৎ- মরে গেল। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ সন্ধ্যাবেলায় কিছু বলার উদ্দেশ্যে দণ্ডায়মান হলেন এবং বলিলেন, আমরা যখনই আল্লাহর পথে যখন যুদ্ধে গমন করি তখন কোন না কোন ব্যক্তি আমাদের পরিবার-পরিজনদের মাঝে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। আমার উপর কর্তব্য হল যদি এরূপ কোন ব্যক্তিকে আমার কাছে আনা হয়, তবে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করবো। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার জন্য [আল্লাহর কাছে] ক্ষমা প্রার্থনা করেননি এবং কোন গালিও দেননি। [দুআ এজন্য করেননি যে, হয়তো এ আশায় কেউ আবার পাপচারে লিপ্ত হয়ে যেতে পারে; মন্দ বলেননি এজন্য যে, তার পাপের প্রায়শ্চিত্ত হয়ে গেছে।] [ই. ফা ৪২৭৯, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮০]

৪৩২১

মুহাম্মাদ ইবনি হাতিম [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] দাঊদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদীসের মর্মার্থ বর্ণনা করেন। তিনি তাহাঁর হাদীসে উল্লেখ করেন যে, এরপর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] সন্ধ্যাবেলায় দাঁড়িয়ে আল্লাহর প্রশংসা শেষে বলিলেন, তাদের কী পরিণতি হইবে? যখন আমরা যুদ্ধে গমন করি তখন তাদের কেউ কেউ আমাদের পিছনে থেকে যায় এবং ছাগলের শব্দের ন্যায় আওয়াজ করে। [অর্থাৎ-ব্যভিচার করে।] কিন্তু তিনি তাহাঁর বর্ণনায় আমাদের পরিবারবর্গের মধ্যে কথাটি বর্ণনা করেননি। [ই. ফা ৪২৮০, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮১]

৪৩২২

সুরায়জ ইবনি ইউনুস ও আবু বাক্র ইবনি আবু শাইবাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] দাঊদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সূত্রে হইতে বর্ণীতঃ

উল্লেখিত হাদীসের অংশ বিশেষ বর্ণনা করিয়াছেন। তবে সুফ্ইয়ান [রহমাতুল্লাহি আলাইহি]-এর বর্ণিত হাদীসে [আরবী] [অতএব, সে তিনবার ব্যভিচারের স্বীকারোক্তি করেছে] এ কথা উল্লেখ রয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৮১, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮২]

৪৩২৩

মুহাম্মাদ ইবনি আলা হামদানী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] সুলাইমান ইবনি বুরাইদাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] তাহাঁর পিতার হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাইয ইবনি মালিক নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর চলে গিয়ে আবার ফিরে এলো। এরপর বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, লোকটি অল্প দূর গিয়ে আবার ফিরে আসলো এবং বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেন, তোমার দুর্ভাগ্য। তুমি প্রত্যাবর্তন কর এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। তখন নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] পূর্বের মতই কথা বলিলেন, যখন চতুর্থবার মাইয একই কথা বলিল, আমাকে পবিত্র করুন হে আল্লাহর রসূল! রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে বলিলেন, কোন বিষয়ে আমি তোমাকে পবিত্র করবো? তখন সে বলিল, যিনার পাপ হইতে। সুতরাং রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার [সঙ্গী-সাথীদের নিকট] জিজ্ঞেস করিলেন, তার মধ্যে কি কোন পাগলামী আছে? তখন তাঁকে জানানো হলো যে, সে পাগল নয়। এরপর তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, সে মদ্যপান করেছে কি? তখন এক ব্যক্তি দণ্ডায়মান হলো এবং তার মুখ শুঁকে দেখল, সে তার মুখ থেকে মদের গন্ধ পেল না। বর্ণনাকারী বলেন, এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ঐ ব্যক্তিকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি যিনা করেছ? প্রতি উত্তরে সে বলিল, জী-হ্যাঁ। অতএব রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার প্রতি [ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের] নির্দেশ দিলেন। এরপর তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো। সুতরাং এ ব্যাপারে জনগণ দুদলে বিভক্ত হয়ে গেল। একদল বলিতে লাগল, নিশ্চয় সে [মাইয] ধ্বংস হয়ে গেছে। নিশ্চয় তার পাপ কার্যত তাকে ঘিরে ফেলেছে। দ্বিতীয় দল বলিতে লাগল, মাইয এর তাওবার চেয়ে উত্তম [তাওবার অনুশোচনা] আর হয় না। সে প্রথমে নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে আগমন করলো এবং নিজের হাত তাহাঁর হাতের উপর রাখলো। এরপর বলিল,আমাকে পাথর দ্বারা হত্যা করুন। বর্ণনাকারী বলেন যে, দু তিন দিন পর্যন্ত মানুষ কেবল এ কথাই বলাবলি করছিল। এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আগমন করিলেন এবং দেখলেন যে, সাহাবাগণ বসে আছেন। তিনি প্রথমে সালাম দিলেন, এরপর বসলেন এবং বলিলেন, তোমরা মাইয ইবনি মালিক-এর জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর। তখন তাঁরা বলিলেন, আল্লাহ! মাইয ইবনি মালিককে ক্ষমা করুন। এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেন, সে এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে, যদি তা একটি উম্মাতের লোকদের মাঝে বণ্টিত হয় তবে সকলের জন্যই তা যথেষ্ট হতো।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর তাহাঁর নিকট আযদ গোত্রের গামিদ পরিবারের এক মহিলা আগমন করলো এবং বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি বলিলেন, তোমার দুর্ভাগ্য তুমি ফিরে যাও এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর ও তাওবাহ্ কর। তখন মহিলা বলিল, আপনি কি আমাকে সেভাবে ফিরিয়ে দিতে চান যেভাবে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মাইয ইবনি মালিককে? তখন তিনি বলিলেন, তোমার কী হয়েছে? মহিলা বলিল, আমি ব্যভিচারের কারণে গর্ভবতী হয়েছি। তিনি [রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি এমন কাজ করেছ? সে প্রতি উত্তরে বলিল, জী-হ্যাঁ। তখন তিনি তাকে বলিলেন, তোমার গর্ভের সন্তান প্রসব হওয়া পর্যন্ত তুমি অপেক্ষা কর। বর্ণনাকারী বলেন যে, এক আনসারী ব্যক্তি তার গর্ভের সন্তান প্রসবকাল পর্যন্ত তার দায়িত্ব গ্রহণ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, কিছুদিন পর ঐ ব্যক্তি নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বলিল, গামিদীয় মহিলা তো সন্তান প্রসব করিয়াছেন। তখন তিনি বলিলেন, এমতাবস্থায় তার ছোট শিশু সন্তানকে রেখে আমি তাকে রজম করিতে পারি না। কেননা তার শিশু সন্তানকে দুধপান করানোর মত কেউ নেই। তখন এক আনসারী লোক দাঁড়িয়ে বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমি তার দুধপান করানোর দায়িত্ব নিলাম। তখন তাকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করার আদেশ করিলেন। [ই. ফা ৪২৮২, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮৩]

৪৩২৪

বুরাইদাহ্ [রাদি.]-এর বরাতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

মাইয ইবনি মালিক আসলামী নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! নিশ্চয়ই আমি আমার আত্মার উপর জুলুম করেছি, অর্থাৎ ব্যভিচার করেছি। আমি চাই যে, আপনি আমাকে পবিত্র করবেন। তখন তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরের দিন সে আবার তাহাঁর [নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] ] কাছে এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। এবারও তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। এরপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কোন এক ব্যক্তিকে তার সম্প্রদায়ের লোকের কাছে পাঠালেন। লোক সেখানে গিয়ে তাদেরকে জিজ্ঞেস করিলেন, আপনারা কি মনে করেন যে, তার মস্তিষ্কের বিকৃতি ঘটেছে এবং সে মন্দ কাজে লিপ্ত হয়েছে? তারা প্রতি উত্তরে বলিলেন, আমরা তো তার মস্তিষ্কের বিকৃতি সম্পর্কে কোন কিছু জানি না। আমরা তো জানি যে, সে সম্পূর্ণ সুস্থ প্রকৃতির। এরপর মাইয তৃতীয়বার রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর কাছে আগমন করলো। তখন তিনি আবারও একজন লোককে তার গোত্রের কাছে তার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রেরণ করিলেন। তখনও তারা তাঁকে জানালো যে, আমরা তার সম্পর্কে খারাপ কোন কিছু জানি না এবং তার মস্তিষ্কেরও কোন বিকৃতি ঘটেনি। এরপর যখন চতুর্থবার সে আগমন করলো, তখন তার জন্য একটি গর্ত খনন করা হলো এবং তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার প্রতি [ব্যভিচারের শাস্তি প্রদানের] নির্দেশ প্রদান করিলেন। সুতরাং তাকে পাথর নিক্ষেপ করা হলো।

বর্ণনাকারী বলেন, এরপর গামিদী এক মহিলা এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি ব্যভিচার করেছি। সুতরাং আপনি আমাকে পবিত্র করুন। তখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে ফিরিয়ে দিলেন। পরবর্তী দিন আবার ঐ মহিলা আগমন করলো এবং বলিল, হে আল্লাহর রসূল [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]! আপনি কেন আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন। আপনি সম্ভবত আমাকে ঐভাবে ফিরিয়ে দিতে চান, যেমনভাবে আপনি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মাইযকে? আল্লাহর শপথ করে বলছি, নিশ্চয়ই আমি গর্ভবতী। তখন তিনি বলিলেন, তুমি যদি ফিরে যেতে না চাও, তবে আপাততঃ এখনকার মত চলে যাও এবং প্রসবকাল পর্যন্ত অপেক্ষা কর। রাবী বলেন, এরপর যখন সে সন্তান প্রসব করলো- তখন ভূমিষ্ঠ সন্তানকে এক টুকরা কাপড়ের মধ্যে নিয়ে তাহাঁর কাছে আগমন করলো এবং বলিল, এ সন্তান আমি প্রসব করেছি। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেন, যাও তাকে [সন্তানকে] দুধপান করাও। দুধপান করানোর সময় পার হলে পরে এসো। এরপর যখন তার দুধপান করানোর সময় শেষ হলো তখন ঐ মহিলা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে তাহাঁর কাছে মহিলাটি আবার আগমন করলো-এমন অবস্থায় যে, শিশুটির হাতে এক টুকরা রুটি ছিল। এরপর বলিল, হে আল্লাহর নবী! এইতো সেই শিশু, যাকে আমি দুধপান করানোর কাজ শেষ করেছি। সে এখন খাদ্য খায়। তখন শিশু সন্তানটিকে তিনি কোন একজন মুসলিমকে প্রদান করিলেন। এরপর তার প্রতি [ব্যভিচারের শাস্তি] প্রদানের নির্দেশ দিলেন। মহিলার বক্ষ পর্যন্ত গর্ত খনন করানো হলো এরপর জনগণকে [তার প্রতি পাথর নিক্ষেপের] নির্দেশ দিলেন। তারা তাকে পাথর মারতে শুরু করলো। খালিদ ইবনি ওয়ালীদ [রাদি.] একটি পাথর নিয়ে অগ্রসর হলেন এবং মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করিলেন, তাতে রক্ত ছিটকে পড়লো খালিদ [ইবনি ওয়ালীদ] [রাদি.]-এর মুখমন্ডলে। তখন তিনি মহিলাকে গালি দিলেন। নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার গালি শুনতে পেলেন। তিনি বলিলেন, সাবধান! হে খালিদ! সে মহান আল্লাহর শপথ, যাঁর হস্তে আমার জীবন, জেনে রেখো! নিশ্চয়ই সে এমন তাওবাহ্ করেছে, যদি কোন “হক্কুল ইবাদ” বিনষ্টকারী ব্যক্তিও এমন তাওবাহ্ করতো, তবে তারও ক্ষমা হয়ে যেত। এরপর তার জানাযার নামাজ আদায়ের নির্দেশ দিলেন। তিনি তার জানাযায় নামাজ আদায় করিলেন। এরপর তাকে দাফন করা হলো। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৮৩, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮৪]

৪৩২৫

ইমরান ইবনি হুসায়ন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জুহাইনাহ্ গোত্রের এক মহিলা নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট আগমন করিল। সে বলিল, হে আল্লাহর নবী! আমি হদ্দ [শারীআত কর্তৃক নির্ধারিত ব্যভিচারের শাস্তি]-এর উপযোগী হয়েছি। অতএব আমার উপর তা কার্যকর করুন। তখন আল্লাহর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার অভিভাবককে ডাকলেন এবং বলিলেন, তাকে ভালভাবে দেখাশোনা করো। তারপর সে যখন সন্তান প্রসব করিবে তখন তাকে আমার কাছে নিয়ে আসবে। সে তাই করলো। এরপর আল্লাহর নবী [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার প্রতি [শাস্তি প্রদানের নির্দেশ দিলেন। তখন মহিলার কাপড় শক্ত করে বাঁধা হলো। এরপর তিনি শাস্তি কার্যকর করার আদেশ দিলেন। তাকে পাথর মারা হলো। অতঃপর তিনি তার উপর জানাযার নামাজ আদায় করিলেন। তখন উমর [রাদি.] বলিলেন, হে আল্লাহর নবী! আপনি তার [জানাযার] নামাজ আদায় করিলেন অথচ সে তো ব্যভিচার করেছিল? তিনি বলিলেন, নিশ্চয়ই সে এমনভাবে তাওবাহ্ করেছে, যদি তা মাদীনার সত্তরজন লোকের মধ্যে বণ্টিত হতো, তবে তাদের জন্য তাই যথেষ্ট হতো। তুমি কি তার চেয়ে অধিক উত্তম তাওবাহ্কারী কখনও দেখেছ? সে-তো নিজের জীবন আল্লাহর জন্য দিয়ে দিয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৮৪, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮৫]

৪৩২৬

ইয়াহ্ইয়া ইবনি আবু কাসির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

একই সূত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৮৫, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮৬]

৪৩২৭

আবু হুরাইরাহ্ এবং যায়দ ইবনি খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাঁরা বলেন, এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম]-এর নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনাকে আল্লাহর কসম দিয়ে বলছি যে, আপনি আমার ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব অনুসারে হুকুম প্রদান করুন। তখন তার প্রতিপক্ষ অপর একব্যক্তি যে তার চেয়ে অধিক জ্ঞানী ছিল বলিল, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে ফায়সালা করুন, তবে এর আগে আমাকে [কথা বলার] অনুমতি দিন। তখন রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিলেন, বলো। লোকটি বলিল, আমার এক ছেলে ঐ ব্যক্তির বাড়িতে চাকর ছিল। সে তার স্ত্রীর সঙ্গে ব্যভিচার করেছে। অতএব, আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, আমার ছেলের উপর রজম [পাথর নিক্ষেপ]-এর শাস্তি আরোপিত হইবে। সুতরাং আমি সেটার বিনিময় প্রদান করলাম একশ ছাগল ও একটি দাসী। এরপর আমি এ ব্যাপারে আলিমগণের কাছে জিজ্ঞেস করলাম। তখন তাঁরা আমাকে বলিলেন যে, আমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছর কাল নির্বাসনের হুকুম বলবৎ হইবে। আর ঐ মহিলার উপর রজম [পাথর নিক্ষেপ]-এর হুকুম কার্যকর হইবে। রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তখন বলিলেন, সে মহান সত্তার শপথ! যাঁর হস্তে আমার জীবন, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব অনুসারে নিষ্পত্তি করে দেব। সুতরাং দাসী এবং ছাগল প্রত্যাখ্যাত হইবে। [অর্থাৎ-এগুলো তুমি ফিরিয়ে নেবে]। আর তোমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য নির্বাসনের হুকুম কার্যকর হইবে। হে উনায়স [রাদি.]! [একজন সাহাবা] তুমি আগামীকাল সকালে ঐ মহিলার কাছে গমন করিবে [এবং ঐ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিবে।] যদি সে তা স্বীকার করে তবে তাকে রজম [পাথর নিক্ষেপ] করে হত্যা করিবে।

বর্ণনাকারী বলেন, পরদিন সকালে তিনি মহিলার কাছে গেলেন [এবং এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিলেন।] সে তা স্বীকার করলো। অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] মহিলার প্রতি শারীআতের হুকুম কার্যকর করার নির্দেশ দিলেন এবং তাকে পাথর মারা হল। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৮৬, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮৭]

৪৩২৮

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

যুহরী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে একই সুত্রে উল্লেখিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৪২৮৭, ইসলামিক সেন্টার-৪২৮৮]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply