ব্যভিচারীর দণ্ড প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে – দণ্ড বিধি

ব্যভিচারীর দণ্ড প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে – দণ্ড বিধি

ব্যভিচারীর দণ্ড -দণ্ড বিধি ১২০৫ -১২৫৮ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ১ঃ ব্যভিচারীর দণ্ড

পরিচ্ছেদ ০১. ব্যভিচারীর দণ্ড প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে
পরিচ্ছেদ ০২. বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপ করা প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ ০৩. যিনার অপরাধের স্বীকারোক্তি এবং তা একাধিকবার স্বীকার করা শর্ত কিনা?
পরিচ্ছেদ ০৪. ব্যাভিচারের স্বীকারোক্তিকারীকে বার বার জিজ্ঞেস করা যাতে শাস্তি থেকে রক্ষা পায়
পরিচ্ছেদ ০৫. যা দ্বারা ব্যভিচার সাব্যস্ত হয়
পরিচ্ছেদ ০৬. দাসীর ব্যভিচার করার বিধান
পরিচ্ছেদ ০৭. মনিব স্বীয় দাসের উপর হাদ্দ কায়েম করিবে
পরিচ্ছেদ ০৮. সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত গর্ভবতীর রজম [পাথর নিক্ষেপ করা] বিলম্বিত করা
পরিচ্ছেদ ০৯. আহলে কিতাবের বিবাহিত ব্যক্তিকে রজম মারা
পরিচ্ছেদ ১০. অসুস্থ ব্যক্তির উপর হাদ্দ জারী করা প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ ১১. যে ব্যক্তি লুত সম্প্রদায়ের ন্যায় সমকামীতে লিপ্ত হইবে অথবা কোন জন্তুর সাথে ব্যভিচার করিবে তার বিধান
পরিচ্ছেদ ১২. দেশ থেকে বিতাড়িত করার বিধান এখনও চালু রয়েছে, রহিত করা হয়নি
পরিচ্ছেদ ১৩. পুরুষের মেয়েলী সাজে সজ্জিত হয়ে মেয়েদের কাছে প্রবেশ করার বিধান
পরিচ্ছেদ ১৪. সন্দেহের অবকাশ থাকলে হাদ্দকে প্রতিহত করা প্রসঙ্গে
পরিচ্ছেদ ১৫. যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করে ফেলে তাহলে তার তা গোপন করা উচিত

পরিচ্ছেদ ০১. ব্যভিচারীর দণ্ড প্রসঙ্গে যা বর্ণিত হয়েছে

১২০৫. যায়দ ইব্‌নু খালিদ জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক বেদুঈন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট এসে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি আল্লাহর কসম খেয়ে বলছি যে, আপনি আল্লাহর কিতাব মুতাবেক আমাদের মাঝে ফয়সালা করে দিন। তখন তার প্রতিপক্ষ যে এর থেকেও বেশি বাকপটু সে দাঁড়িয়ে বলিল, সে ঠিকই বলেছে, হ্যাঁ, আপনি আমাদের মাঝে কিতাবুল্লাহ্‌ মুতাবেক ফয়সালা করুন এবং আমাকে কথা বলার অনুমতি দিন। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি বলো। তখন বেদুঈন বলিল, আমার ছেলে এ লোকের বাড়িতে মজুর ছিল। অতঃপর তার স্ত্রীর সঙ্গে সে যিনা করে। লোকেরা আমাকে বললোঃ তোমার ছেলের উপর রজম [পাথরের আঘাতে হত্যা] ওয়াজিব হয়েছে। তখন আমার ছেলেকে একশ বকরী এবং একটি বাঁদীর বিনিময়ে এর নিকট হতে মুক্ত করে এনেছি। পরে আমি আলিমদের নিকট জিজ্ঞেস করলে তারা বলিলেন, তোমার ছেলের উপর একশ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের নির্বাসন ওয়াজিব হয়েছে। আর এ নারীকে রজম করিতে হইবে। সব শুনে নাবী [সাঃআঃ] বলিলেন, যে সত্ত্বার হাতে আমার প্রাণ! আমি তোমাদের মাঝে কিতাবুল্লাহ মুতাবেকই ফয়সালা করব। বাঁদী এবং বকরী পাল তোমাকে ফেরত দেয়া হইবে, আর তোমার ছেলেকে একশ বেত্রাঘাতসহ এক বছরের নির্বাসন দেয়া হইবে। আর অপরজনের ব্যাপারে বলিলেন, হে উনাইস! তুমি আগামীকাল সকালে এ লোকের স্ত্রীর নিকট যাবে, সে যিনা করার স্বীকৃতি দিলে তাকে রজম করিবে। {১৩১২}

{১৩১২} বোখারী ২৩১৫, ২৬৪৯, ২৭২৫, মুসলিম ১৬৯৮, তিরমিজি ১৪৩৩, নাসাঈ ৫৪১০, আবু দাঊদ ৪৪৪৫, ইবনি মাজাহ ২৫৪৯, আহম্মদ ১৬৫৯০, মালেক ১৫৫৬ দারিমী ২৩১৭। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০২. বেত্রাঘাত এবং পাথর নিক্ষেপ করা প্রসঙ্গে

১২০৬. উবাদাহ ইবনি সামিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আমার কাছ থেকে নাও আমার কাছে থেকে নাও, অবশ্য আল্লাহ ব্যভিচারিণীদের জন্য ব্যবস্থা করিয়াছেন; তা হচ্ছে কুমার-কুমারী ব্যভিচার করলে তাহাদের শাস্তি হইবে-একশত বেত্রাঘাত ও এক বছরের জন্য দেশ হতে বহিস্কার করা, আর বিবাহিত পুরুষ ও বিবাহিতা স্ত্রীলোক যিনা করলে তাহাদের প্রত্যেককে একশ করে দুর্রা মারা এ রজম [পাথর নিক্ষেপে হত্যা] করা হইবে। {১৩১৩}

{১৩১৩} মুসলিম ১৬৯০, তিরমিজি ১৪৩৪, আবু দাঊদ ৪৪১৫, ইবনি মাজাহ ২৫৫০, আহম্মদ ২২১৫৮, ২২১৯৫, ২২২০৮, দারিমী ২৩২৭। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৩. যিনার অপরাধের স্বীকারোক্তি এবং তা একাধিকবার স্বীকার করা শর্ত কিনা?

১২০৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক মুসলিম ব্যক্তি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে এল। তিনি তখন মাসজিদে ছিলেন। সে তাঁকে ডেকে বলিল, হে আল্লাহর রসূল! আমি যিনা করেছি। তিনি তার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন। এভাবে কথাটি সে চারবার বলিল। যখন সে নিজের বিরুদ্ধে চারবার সাক্ষ্য দিল তখন নাবী [সাঃআঃ] তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করিলেন, তোমার মধ্যে কি পাগলামির দোষ আছে? সে বলিল, না। তিনি বললেনঃ তাহলে কি তুমি বিবাহিত? সে বলিল, হ্যাঁ। তখন নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমরা তাকে নিয়ে যাও আর পাথর মেরে হত্যা করো। {১৩১৪}

{১৩১৪} বোখারী ৬৮১৫,৬৮২৫, ৭১৬৭, মুসলিম ১৬৯১ তিরমিজি ১৪২৮, ১৪২৯, নাসাঈ ১৯৫৬, আবু দাঊদ ৪৪২৮, ৪৪৩০ আহম্মদ ৭৭৯০, ২৭২১৭, ৯৫৩৫। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৪. ব্যাভিচারের স্বীকারোক্তিকারীকে বার বার জিজ্ঞেস করা যাতে শাস্তি থেকে রক্ষা পায়

১২০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যখন মায়িয ইব্‌নু মালিক নাবী [সাঃআঃ]-এর কাছে এল তখন তাকে বলিলেন সম্ভবত তুমি চুম্বন করেছ অথবা ইশারা করেছ অথবা [খারাপ দৃষ্টিতে] তাকিয়েছ? সে বলিল, না, হে আল্লাহর রসূল! {১৩১৫}

{১৩১৫} বোখারী ২৮২৪, মুসলিম ১৬৯৩, তিরমিজি ১৪২৭, আবু দাঊদ ৪৪২১, ৪৪২৬, ৪৪২৭, আহম্মদ ২১৩০, ২৩১০, ২৪২৯। হাদিসটির বাকী অংশ হচ্ছেঃ [আরবী] তিনি বললেনঃ তাহলে কি তার সঙ্গে তুমি সঙ্গম করেছ? কথাটি তিনি তাকে অস্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করেননি, [বরং স্পষ্টভাবে জিজ্ঞেস করিয়াছেন]। সে বলিল, হ্যাঁ। তখন তাকে রজম করার নির্দেশ দিলেন। বোখারী ৬৮২৪, মুসলিম ১৬৯৩, তিরমিজি ১৪২৭, আবু দাঊদ ৪৪২১, ৪৪২৭, আহম্মদ ২১৩০, ২৩১০, ২৪২৯। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৫. যা দ্বারা ব্যভিচার সাব্যস্ত হয়

১২০৯.উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তাহাঁর ভাষণে বলেছিলেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ মুহাম্মাদ [সাঃআঃ]-কে সত্য সহকারে পাঠিয়েছেন। আর তাহাঁর উপর কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন। এবং আল্লাহর অবতীর্ণ বিষয়াদির একটি ছিল রজমের আয়া-ত.। আমরা সে আয়াত পড়েছি, বুঝেছি, আয়ত্ত করেছি। আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] পাথর মেরে হত্যা করিয়াছেন। আমরাও তাহাঁর পরে পাথর মেরে হত্যা করেছি। আমি আশংকা করছি যে, দীর্ঘকাল অতিবাহিত হবার পর কোন লোক এ কথা বলে ফেলতে পারে যে, আল্লাহর কসম! আমরা আল্লাহর কিতাবে পাথর মেরে হত্যার আয়াত পাচ্ছি না। ফলে তারা এমন একটি ফর্‌য ত্যাগের কারণে পথভ্রষ্ট হইবে, যা আল্লাহ অবতীর্ণ করিয়াছেন। আল্লাহর কিতাব অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির উপর পাথর মেরে হত্যা অবধারিত যে বিবাহিত হবার পর যিনা করিবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, যখন সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে অথবা গর্ভ বা স্বীকারোক্তি পাওয়া যাবে। {১৩১৬}

{১৩১৬} বোখারী ২৪৬২, ৩৪৪৫, ৩৯২৮, ৪০২১, ৬৮৩০, মুসলিম ১৬৯১, তিরমিজি ১৪৩২, আবু দাঊদ ৪৪১৮, ইবনি মাজাহ ২৫৫৩, আহম্মদ ১৫১, ১৫৫, মালেক ১৫৫৮, দারিমী ২৩২২। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৬. দাসীর ব্যভিচার করার বিধান

১২১০. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ]-কে আমি বলিতে শুনিয়াছি, তোমাদের কোন দাসী ব্যভিচার করলে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হলে তাকে হদ স্বরূপ বেত্রাঘাত করিবে এবং তাকে ভর্ৎসনা করিবে না। এরপর যদি আবার ব্যভিচার করে তাকে হদ হিসাবে বেত্রাঘাত করিবে কিন্ত তাকে ভর্ৎসনা করিবে না। তারপর সে যদি তৃতীয়বার ব্যভিচার করে এবং তার ব্যভিচার প্রমাণিত হয় তবে তাকে বিক্রি করে দেবে, যদিও তা চুলের রশির [তুচ্ছ মূল্যের] বিনিময়ে হয়। {১৩১৭}

{১৩১৭} বোখারী ২১৫৪, ২২৩৩, ২২৩৪, মুসলিম ১৭০৩, ১৭০৪, তিরমিজি ১৪৩৩, ১৪৪০, আবু দাঊদ ৪৪৬৯, ৪৪৭০, আহম্মদ ৭৩৪৭, ১৬৫৯৫, মালেক ১৫৬৪, দারিমী ২৩২৬। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৭. মনিব স্বীয় দাসের উপর হাদ্দ কায়েম করিবে

১২১১. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের দাস-দাসীর উপরও দণ্ড জারী করিবে। আবু দাঊদ মুসলিমে হাদিসটি মাওকূফ হিসেবে বর্ণিত আছে। {১৩১৮}

{১৩১৮} মুসলিমের বর্ণনায় রয়েছে, [আরবী] আবু আব্দুর রহমান হইতে বর্ণীত, তিনি বলেনঃ একবার আলী [রাদি.] খুতবাতে বলেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তোমাদের দাস-দাসীদের উপর হদ্দ কায়েম কর; বিবাহিত হোক কিংবা অবিবাহিত। কেননা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এ জনৈক দাসী ব্যভিচার করলো। তখন তিনি তাকে বেত্রাঘাত করিতে আমাকে নির্দেশ দিলেন। তখন দাসীটি নিফাস অবস্থায় ছিল। তাই আমি আশংকা করছিলাম যদি আমি তাকে বেত্রাঘান করি হয়ত তাকে হত্যা করে ফেলতে পারি। তাই আমি বিষয়টি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর কাছে উল্লেখ করলে তিনি বলিলেন, তুমি ভাল করেছ। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৮. সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত গর্ভবতীর রজম [পাথর নিক্ষেপ করা] বিলম্বিত করা

১২১২. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

জুহাইনাহ গোত্রের কোন এক স্ত্রীলোক যিনার দ্বারা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থয় রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকটে হাজির হয়ে বললঃ হে আল্লাহর নাবী! আমি হদ্দের উপযুক্ত হয়েছি, আপনি আমার উপর যিনার হদ্দ ক্বায়িম করুন [প্রস্তরাঘাতে হত্যা করে আমার প্রায়শ্চিত্ত বা তাওবার ব্যবস্থা করুন]। নাবী [সাঃআঃ] তার ওয়ালীকে [অভিভাবককে] ডাকালেন ও বলিলেন, তার সাথে ভাল ব্যবহার কর, সন্তান প্রসব করলে আমার নিকট তাকে নিয়ে এসো।

অভিভাবক তাই করলো [সন্তান প্রসব করার পর তাকে নাবীর দরবারে নিয়ে এলো]; রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার পরনের কাপড় শক্ত করে বেঁধে দিতে আদেশ করিলেন, তারপর তার আদেশক্রমে তাকে রজম করা হলো। তারপর তার জানাযা নামায পড়ালেন। উমার [রাদি.] বললেনঃ হে আল্লাহর নাবী! সে ব্যভিচার করেছে তবু আপনি তার জানাযা নামায পড়লেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] উত্তরে বলেনঃ সে তো এমন তাওবাহ করেছে যে, যদি তা মাদীনাসীর ৭০ জনের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হয় তবে তাহাদের জন্য তার এ তাওবাহ যথেষ্ট হয়ে যাবে। [হে উমার!] তুমি কি এর চেয়ে উৎকৃষ্ট কোন ব্যক্তি পেয়েছ? যে স্বয়ং আল্লাহর জন্য প্রাণ বিসর্জন করেছে। সহিহ মুসলিম {১৩১৯}

{১৩১৯} মুসলিম ১৬৯৬, তিরমিজি ১৪৩৫, নাসাঈ ১৯৯৭, আবু দাঊদ ৪৪৪০, ইবনি মাজাহ ২৫৫৫, আহম্মদ ১৯৩৬০, ১৯৪০২, দারিমী ২৩২৫। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ০৯. আহলে কিতাবের বিবাহিত ব্যক্তিকে রজম মারা

১২১৩. জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আসলাম গোত্রের একজন পুরুষ, একজন ইয়াহুদী পুরুষ ও একজন রমণীকে রজম করেছিলেন। মুসলিম {১৩২০}

{১৩২০} মুসলিম ১৭০১, আবু দাঊদ ৪৪৫৫, আহম্মদ ১৪৭৩১। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১২১৪. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

দুজন ইয়াহুদীকে রজম করা প্রসঙ্গে বোখারী ও মুসলিমের হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। বোখারী {১৩২১}

{১৩২১} বোখারী ১৩২৯, ৩৬৩৫, ৪৫৫৬, ৬৮১৯, ৭৩৭২, ৭৫৪৩। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১০. অসুস্থ ব্যক্তির উপর হাদ্দ জারী করা প্রসঙ্গে

১২১৫. সাঈদ ইবনি সাদ ইবনি উবাদাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ আমাদের মহল্লায় একটা জীর্ণ শীর্ণ ক্ষুদ্র লোক বাস করত। সে তাহাদের কোন এক দাসীর সাথে নোংরা কাজ [যিনা] করে ফেলে। ফলে সাদ এ ঘটনা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকটে ব্যক্ত করেন। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ ওর উপর হদ্দ জারি কর। লোকেরা বললঃ সে এর থেকে অনেক দুর্বল [একশ দুররা তো বরদাস্ত করার কোন শক্তি ওর নেই]। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ একটা ডাল নাও, যাতে একশো শাখা থাকে, তারপর তাকে ঐটি দিয়ে একবার প্রহার কর ফলে লোকেরা তাই করলো। {১৩২২}

{১৩২২} ইবনি মাজাহ ২৫৭৪, আবু দাঊদ ৪৪৭২, আহম্মদ ২১৪২৮, নাসাঈ কুবরা ৪র্থ খণ্ড ৩১৩ পৃষ্ঠা। হাদিসটির মুত্তাসিল বা মুরসাল হওয়ার ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ১১. যে ব্যক্তি লুত সম্প্রদায়ের ন্যায় সমকামীতে লিপ্ত হইবে অথবা কোন জন্তুর সাথে ব্যভিচার করিবে তার বিধান

১২১৬. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যাকে তোমরা লুত [আঃ]র কওমের ন্যায় পুরুষে পুরুষে ব্যভিচার করিতে দেখবে তাহাদের উভয়কে হত্যা করিবে, আর যাকে কোন জন্তুর সাথে ব্যভিচার করিতে দেখবে তাকে এবং জন্তুটিকেও হত্যা করিবে। {১৩২৩}

{১৩২৩} আবু দাঊদ ৪৪৬২, ৪৪৬৩, তিরমিজি ১৪৫৬, আহম্মদ ২৭২২। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১২. দেশ থেকে বিতাড়িত করার বিধান এখনও চালু রয়েছে, রহিত করা হয়নি

১২১৭. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] হদ্দের দুররা মেরেছেন [মারিয়েছেন] ও দেশ হতে বিতাড়িত করিয়াছেন। আবু বাকর [রাদি.] তার খিলাফতকালে দুররা মেরেছেন ও দেশ হতে বিতাড়িত করিয়াছেন। উমার [রাদি.] দুররা মেরেছেন ও দেশ হতে বিতাড়িত করিয়াছেন। {১৩২৪}

{১৩২৪} তিরমিজি ১৪৩৮। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১৩. পুরুষের মেয়েলী সাজে সজ্জিত হয়ে মেয়েদের কাছে প্রবেশ করার বিধান

১২১৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] লানত করিয়াছেন নারীরূপী পুরুষ ও পুরুষরূপী নারীদের উপর এবং বলেছেন, তাহাদেরকে বের করে দাও তোমাদের ঘর হতে এবং তিনি অমুক অমুককে বের করে দিয়েছেন। {১৩২৫}

{১৩২৫} বোখারী ২১৫২, ২১৫৪, ২২৩৩, মুসলিম ১৭০৩, ১৭০৪, তিরমিজি ১৪৩৩, ১৪৪০, আবু দাউদ ৪৪৬৯, ৪৪৭০, ইবনি মাজাহ ২৫৬৫, আহম্মদ ৭৩৪৭, ৮৬৬৯, মালেক ১৫৬৪, দারিমী ২৩২৬। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ১৪. সন্দেহের অবকাশ থাকলে হাদ্দকে প্রতিহত করা প্রসঙ্গে

১২১৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, সম্ভব হলে হাদ্দকে এড়িয়ে চলো [হাদ্দ জারি করিবে না বাধ্য হলে করিবে।] {১৩২৬}

{১৩২৬} ইবনি মাজাহ ২৫৪৫, ইবনিল কীসরানী তাহাঁর দাখীরাতুল হুফফায [১/২৫৯] গ্রন্থে বলেন, এর সানাদে ইবরাহীম আল মাদানী রয়েছেন। যিনি মাতরুকুল হাদিস। ঈমাম শওকানী তাহাঁর নাইলুল আওত্বার [৭/২৭১] গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। তিনি তাহাঁর আস সাইলুল জাররার [৪/৩১৬] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে ইবরাহীম ইবনিল ফযল রয়েছেন; যিনি দুর্বল। আবদুর রহমান মুবারকপুরী তাহাঁর তুহফাতুল আহওয়াযী [৪/৩৪০], শাইখ আলবানী তাহাঁর ইরওয়াউল গালীল [২৩৫৬], যঈফুল জামে [২৬১] গ্রন্থে দুর্বল বলেছেন। ইবনি উসাইমীন ও তাহাঁর শরহে বুলুগুল মারাম [৫/৩৬৮] গ্রন্থে একই কথা বলেছেন। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১২২০. আয়িশাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিরমিজিতে এরূপ শব্দে আছে, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, সাধ্যানুযায়ী মুসলিমদের উপর হতে হাদ্দকে প্রতিহত কর। {১৩২৭}

{১৩২৭} হাকিম ৪র্থ খন্ড ৩৮৪ পৃষ্ঠা। ইবনি হযম তাহাঁর আল মাহাল্লী [১১/১৫৪] গ্রন্থে হাদিসটিকে মুরসাল বলেছেন। ঈমাম বোখারী তাহাঁর ইলালুল কাবীর [২২৮] গ্রন্থে বলেন, এর বর্ণনাকারীর মধ্যে ইয়াযীদ বিন যিয়াদ আদ দিমাশকী মুনকারুল হাদিস। ঈমাম তিরমিজি [১৪২৪] গ্রন্থে ও উক্ত রাবীকে দুর্বল বলেছেন, বাইহাকী তাহাঁর সুনান আল কুবরার মধ্যে হাদিসটিকে মাওকুফ ও দুর্বল বলেছেন, ইবনি হাজার তাহাঁর মাওয়াফিকাতুল খবরিল খবর [১/৪৪৪] গ্রন্থে একে গরীব বলেছেন। ঈমাম শওকানী তাহাঁর নাইলুল আওত্বার [৭/২৭১] ও সাইলুল জাররার [৪/৩১৬] গ্রন্থে ইয়াযীদ বিন যিয়াদ আদ দিমাশকীর দুর্বলতার দিকেই ইঙ্গিত করিয়াছেন। শাইখ আলবানী তাহাঁর জঈফ তিরমিজি [১৪২৪], তাখরীজুল মিশকাত ৩৫০৩, যঈফুল জামে ২৫৯, সিলসিলা যঈফা ২১৯৭ গ্রন্থসমূহে দুর্বল বলেছেন। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১২২১. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেনঃ সন্দেহের অবকাশ থাকলে দন্ডকে প্রতিহত করিবে। {১৩২৮}

{১৩২৮} ইবনি কাসীর তুহফাতুত ত্বলিব ১৯২, গ্রন্থে বলেন, আমি এই হাদিসটি এই শব্দে দেখিনি। মুহাম্মাদ জারুল্লাহ আস সাদী তাহাঁর আন নাওয়াফেহুল উত্বরাহ ২৫ গ্রন্থে বলেন, হাদিসটি মাওকুফ হিসেবে সহিহ, আর মারফু হিসেবে হাসান লিগাইরিহী। ইবনি হযম তাহাঁর আল মাহাল্লী ৯/১৫৪ গ্রন্থে হাদিসটিকে মুরসাল হিসেবে আখ্যায়িত করিয়াছেন, ঈমাম যায়লায়ী তাহাঁর নাসবুর রায়াহ ৩/৩৩৩ গ্রন্থে বলেন, এই শব্দে হাদিসটি শায বা বিরল। বিন বায তাহাঁর মাজমুআ ফাতওয়া ২৫/২৬৩ গ্রন্থে বলেনঃ এর অনেক সানাদ রয়েছে, তবে তাতে দুর্বলতা রয়েছে। সার্বিকভাবে একটি অপরটিকে শক্তিশালী করে বিধায় এ হাদিসটি হাসান লিগাইরিহী পর্যায়ের। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ১৫. যে ব্যক্তি কোন পাপ কাজ করে ফেলে তাহলে তার তা গোপন করা উচিত

১২২২. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, যেসব নোংরা বস্তু হতে দূরে থাকার জন্য আল্লাহর নির্দেশ দিয়েছেন তা হতে দূরে থাকিবে। আল্লাহ না করুন যদি কেউ তাতে পড়েই যায়, তবে যেন সে তা গোপন করে নেয়- আল্লাহর পর্দা দিয়ে আর মহান আল্লাহর কাছে তাওবাহ করে। কেননা যে ব্যক্তি নিজের রহস্যাবৃত বস্তুকে প্রকাশ করে ফেলবে তার উপরে আমরা আল্লাহর কিতাবের ফায়সালা জারি করব। {১৩২৯}

{১৩২৯} ঈমাম সুয়ূত্বী তাহাঁর আল জামেউস সগীর [১৭৫] গ্রন্থে একে সহিহ বলেছেন। শাইখ আলবানী সহীহুল জামে ১৪৯। সিলসিলা সহিহাহ ৬৬৩। ব্যভিচারীর দণ্ড হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply