বেতের নামাজের নিয়ম । রাকাত সংখ্যা কিরাত ও দোয়া কুনুত

বেতের নামাজের নিয়ম

বেতের নামাজের নিয়ম । রাকাত সংখ্যা কিরাত ও দোয়া কুনুত , এই অধ্যায়ে মোট হাদীস ১৪০ টি (১৪১৬ – ১৫৫৫)>>আবুদ দাউদ শরীফ এর মুল সুচিপত্র পড়ুন

অধ্যায়ঃ ৮, অনুচ্ছেদঃ ৩৩৬-৩৬৭=৩২টি, হাদীসঃ (১৪১৬-১৫৫৫)=১৪০টি

অনুচ্ছেদ-৩৩৬ বেতের নামাজ মুস্তাহাব
অনুচ্ছেদ-৩৩৭ যে ব্যক্তি বেতের নামাজ আদায় করেনি
অনুচ্ছেদ-৩৩৮ বেতের নামাজের রাকআত সংখ্যা
অনুচ্ছেদ-৩৩৯ বেতের নামাজের ক্বিরাআত
অনুচ্ছেদ-৩৪০ বেতের নামাজের দুআ কুনুত
অনুচ্ছেদ-৩৪১ বিতরের পরে দুআ পাঠ
অনুচ্ছেদ-৩৪২ ঘুমানোর পূর্বে বেতের নামাজ আদায় করা
অনুচ্ছেদ-৩৪৩ বেতের নামাজের ওয়াক্ত
অনুচ্ছেদ-৩৪৪ বেতের নামাজ দুইবার আদায় করিবে না
অনুচ্ছেদ-৩৪৫ অন্যান্য নামাজে কুনূত পাঠ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৪৬ নফল নামাজ ঘরে আদায়ের ফাযীলাত
অনুচ্ছেদ-৩৪৭ নামাজে দীর্ঘ ক্বিয়াম
অনুচ্ছেদ-৩৪৮ ক্বিয়ামুল লাইল করতে উৎসাহ প্রদান
অনুচ্ছেদ-৩৪৯ কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব
অনুচ্ছেদ-৩৫০ সূরাহ আ্ল-ফাতিহা
অনুচ্ছেদ-৩৫১ যিনি বলেন, সূরাহ ফাতিহা দীর্ঘ সূরাহসমূহের অন্তর্ভূক্ত
অনুচ্ছেদ-৩৫২ আয়াতুল কুরসী সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৫৩ সূরাহ আস-সমাদ (আল-ইখলাস) সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৫৪ সূরাহ আল-ফালাক্ব ও সূরাহ আন-নাস সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৫৫ তারতীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত পছন্দনীয়
অনুচ্ছেদ-৩৫৬ কুরআন হিফয করার পর তা ভুলে যাওয়ার পরিণাম
অনুচ্ছেদ-৩৫৭ কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে
অনুচ্ছেদ-৩৫৮ দুআ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৫৯ কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করা
অনুচ্ছেদ-৩৬০ নামাজে সালাম ফিরানোর পর কি পড়বে?
অনুচ্ছেদ-৩৬১ (ইস্তিগফার) ক্ষমা প্রার্থণা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৬২ কোন ব্যক্তির স্বীয় পরিবার ও সম্পদকে বদ্দুআ করা নিষেধ
অনুচ্ছেদ-৩৬৩ নাবী-রসূল ছাড়া অন্যের উপর দরূদ পাঠ সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৬৪ কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৬৫ কোন সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতির আশংকা করলে যে দুআ পড়তে হয়
অনুচ্ছেদ-৩৬৬ ইস্তিখারা সম্পর্কে
অনুচ্ছেদ-৩৬৭ (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় প্রার্থণা করা

অনুচ্ছেদ-৩৩৬ বেতের নামাজ মুস্তাহাব

১৪১৬. আলী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ হে কুরআনের ধারকগণ! তোমরা বেতের নামাজ আদায় করো। কেননা আল্লাহ বেজোড়, তাই তিনি বেজোড়কে ভালবাসেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪১৭. আবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে মারফুভাবে বর্ণিত। পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে রয়েছেঃ এক বেদুঈন জিজ্ঞেস করলো, আপনি কি বলেছেন? তিনি বলিলেন, এটা তোমার ও তোমার সাথীদের জন্য প্রযোজ্য নয়।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪১৮. খারিজাহ ইবনি হুযাফা আল-আদাবী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ মহা মহীয়ান আল্লাহ তোমাদেরকে একটি অতিরিক্ত নামাজ দিয়েছেন, সেটা তোমাদের জন্য লাল উটের চেয়েও উত্তম। তা হলো বেতের। তোমাদের জন্য এ নামাজ আদায়ের সময় হচ্ছেইশা নামাজের পর হইতে ফাজ্‌র উদয় হওয়া পর্যন্ত। {১৪১৮}

দুর্বলঃ মিশকাত (১২৬৭)। {১৪১৮} তিরমিযী (অধ্যায়ঃ নামাজ, অনুঃ বেতের নামাজের ফাযীলত, হাঃ ৪৫২), ইবনি মাজাহ (অধ্যায়ঃ নামাজ ক্বায়িম, অনুঃ বেতের নামাজ, হাঃ ১১৬৮), দারিমী (হাঃ ১৫৭৬), হাকিম (১/৩০৬) ঈমাম হাকিম বলেনঃ সানাদ সহিহ, তবে বোখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করিয়াছেন। আলবানী একে দুর্বল বলেছেন। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৩৭ যে ব্যক্তি বেতের নামাজ আদায় করেনি

১৪১৯. আবদুল্লা ইবনি বুরাইদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছিঃ বেতের নামাজ সত্য। যে ব্যক্তি বেতের আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বেতের নামাজ সত্য। যে ব্যক্তি বেতের আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। বেতের নামাজ সত্য। যে ব্যক্তি বেতের আদায় করে না সে আমার দলভুক্ত নয়। {১৪১৯}

দুর্বলঃ মিশকাত (১২৭৮)। {১৪১৯} তিরমিযী (অধ্যায়ঃ নামাজ, অনুঃ বেতের নামাজের ফাযীলাত, হাঃ ৪৫২), ইবনি মাজাহ (অধ্যায়ঃ নামাজ ক্বায়িম, অনুঃ বেতের নামাজ, হাঃ ১১৬৮), দারিমী (হাঃ ১৫৭৬), হাকিম (১/৩০৬) ঈমাম হাকিম বলেনঃ সানাদ সহিহ, তবে বোখারি ও মুসলিম এটি বর্ণনা করেননি। যাহাবী তার সাথে একমত পোষণ করিয়াছেন। আলবানী একে দুর্বল বলেছেন। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪২০. ইবনি মুহাইরীয (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

বনু কিনানাহ্‌র আল-মুখদাজী সিরিয়াতে আবু মুহাম্মাদ নামক এক ব্যক্তিকে বলিতে শুনেছেন, বেতের ওয়াজিব। মুখদাজী বলেন, আমিউবাদাহ ইবনিস সামিতের (রাঃআঃ) কাছে গিয়ে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি বলিলেন, আবু মুহাম্মাদ মিথ্যা বলেছে। আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছিঃ আল্লাহ তাহাঁর বান্দাদের উপর পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরয করিয়াছেন। যে ব্যক্তি তা যথাযথভাবে পালন করিবে, আর অবহেলাহেতু এর কোনটি পরিত্যাগ করিবে না, মহান আল্লাহ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানোর অঙ্গীকার করিয়াছেন। আর যে ব্যক্তি তা (যথাযথভাবে) আদায় করিবে না, তার জন্য আল্লাহর কাছে কোন প্রতিশ্রুতি নেই। তিনি ইচ্ছা করলে তাকে শাস্তি দিবেন কিংবা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৩৮ বেতের নামাজের রাকআত সংখ্যা

১৪২১. ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা এক বেদুঈন নাবী (সাঃআঃ)-কে রাতের নামাজ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি তাহাঁর দুই আঙ্গুল দিয়ে ইশারা করে বলেনঃ দু দু রাকআত এবং রাতের শেষভাগে বেতের এক রাকআত।

সহীহঃ মুসলিম। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪২২. আবু আইয়ূব আল-আনসারী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ প্রত্যেক মুসলিমের উপর বেতের নামাজ অপরিহার্য। সুতরাং কেউ ইচ্ছে হলে পাঁচ রাকআত আদায় করিবে, কেউ তিন রাকআত আদায় করতে চাইলে সে তাই করিবে এবং কেউ এক রাকআত বেতের আদায় করতে চাইলে সে এক রাকআত আদায় করিবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৩৯ বেতের নামাজের ক্বিরাআত

১৪২৩. উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলু্ল্লাহ (সাঃআঃ) বেতের নামাজে

সূরাহসাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা,

ক্বুল ইয়া-আইয়্যুহাল কাফিরূন এবং

ক্বুল হুওয়াল্লাহু আহাদ আল্লাহুস সমাদ তিলাওয়াত করতেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪২৪. আবদুলআযীয ইবনি জুরাইজ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি উম্মুল মুমিনীনআয়েশা (রাঃআঃ)-কে বেতের নামাজে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কোন কোন সূরাহ তিলাওয়াত করতেন তা জিজ্ঞেস করি। এরপর উপরোক্ত হাদিসের অনুরূপ। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তৃতীয় রাকআতে

কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ,

কুল আঊযু বিরাব্বিল ফালাক্ব এবং

কুল আঊযু বিরাব্বিন নাস সূরাহ তিনটি তিলাওয়াত করতেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪০ বেতের নামাজের দুআ কুনুত

১৪২৫. আবুল হাওরা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল-হাসান ইবনি আলী (রাঃআঃ) বলেছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে এমন কতগুলো বাক্য শিখিয়েছেন, যা আমি বেতের নামাজে পাঠ করে থাকি। তা হলোঃ

اللَّهُمَّ اهْدِنِي فِيمَنْ هَدَيْتَ وَعَافِنِي فِيمَنْ عَافَيْتَ وَتَوَلَّنِي فِيمَنْ تَوَلَّيْتَ وَبَارِكْ لِي فِيمَا أَعْطَيْتَ وَقِنِي شَرَّ مَا قَضَيْتَ إِنَّكَ تَقْضِي وَلاَ يُقْضَى عَلَيْكَ وَإِنَّهُ لاَ يَذِلُّ مَنْ وَالَيْتَ وَلاَ يَعِزُّ مَنْ عَادَيْتَ تَبَارَكْتَ رَبَّنَا وَتَعَالَيْتَ

“আল্লাহুম্মা ইহদিনী ফীমান হাদাইতা ওয়াআ-ফিনী ফীমানআ-ফাইতা ওয়া তাওয়াল্লানী ফীমান তাওয়াল্লাইতা ওয়া বা-রিক লী ফীমা আতাইতা ওয়াক্বিনী শাররা মা ক্বাদাইতা, ইন্নাকা তাক্বদী ওয়ালা ইউক্‌দাআলাইকা ওয়া ইন্নাহু লা ইয়াযিল্লু মান ওয়ালাইতা ওয়ালা ইয়াইয্‌যু মানআ-দাইতা তাবা-রাকতা র ব্বানা ওয়া তাআলাইতা।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪২৬. আবু ইসহাক হইতে বর্ণিতঃ

উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে বর্ণিত। তাতে শেষাংশে রয়েছেঃ এগুলো বিতরের কুনূতে বলেছেন। কিন্তু এ কথা উল্লেখ নেই যে,আমি এগুলো বিতরে বলেছি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪২৭. আলী ইবনি আবু তালিব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁর বেতের নামাজ শেষে বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِرِضَاكَ مِنْ سَخَطِكَ وَبِمُعَافَاتِكَ مِنْ عُقُوبَتِكَ وَأَعُوذُ بِكَ مِنْكَ لاَ أُحْصِي ثَنَاءً عَلَيْكَ أَنْتَ كَمَا أَثْنَيْتَ عَلَى نَفْسِكَ

আল্লাহুম্মা ইন্নী আউযু বিরিদাকা মিন সাখাতিকা ওয়া বিমুআফাতিকা মিনউকুবাতিকা ওয়া আউযুবিকা মিনকা লা উহসী সানাআলাইকা আনতা কামা আসনাইতাআলানাফসিকা।

(অর্থ ঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার সন্তুষ্টির মাধ্যমে আপনার ক্রোধ হইতে আশ্রয় চাই। আপনার শাস্তি হইতে আপনার ক্ষমার মাধ্যমে আশ্রয় চাই।

আমি আপনার থেকে সর্বপ্রকারের আশ্রয় চাই। আমি আপনার প্রশংসা গণনা করে শেষ করতে পারবো না, বরং আপনি আপনার নিজের যেরূপ প্রশংসা করিয়াছেন, ঠিক সেরূপই।”

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, হিশাম হাম্মাদের প্রাক্তন শায়খ এবং ইয়াহইয়া ইবনি মাঈন হইতে আমার কাছে এ হাদিস পৌঁছে যে, তার থেকে হাম্মাদ ইবনি সালামাহ ছাড়া অন্য কেউ এ হাদিস বর্ণনা করেননি। উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) সূত্রে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বেতের নামাজে রুকূর আগে কুনূত পাঠ করিয়াছেন। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সাঈদ ইবনিআবদুর রহমান ইবনি আবযা হইতে তার পিতা থেকে নাবী (সাঃআঃ) এর সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তবে এ হাদীসে কুনূতের কথা এবং উবাইয়ের নাম উল্লেখ নেই। অনুরূপ ভাবেআবদুল আলা এবং মুহাম্মাদ ইবনি বিশর আল-আবদী বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তিনি এ হাদিসটি ঈসা ইবনি ইউনুসের সাথে কুফাতে শুনেছেন। তবে কুনূতের কথা উল্লেখ করেননি। একইভাবে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈ এবং শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) ক্বাতাদাহ (রাঃআঃ) সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। এখানেও কুনূতের কথা উল্লেখ নেই। যুবাইদী সূত্রে বর্ণিত হাদীসে তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) রুকূর পূর্বে কুনূত পাঠ করিয়াছেন। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এরূপও বর্ণিত হয়েছে যে, উবাই (রাঃআঃ) রমাযানের অর্ধ মাস কুনূত পাঠ করতেন। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪২৮. মুহাম্মাদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার এক সাথীর সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) রমাযানে তাহাঁদের ঈমামতি করিয়াছেন এবং রমাযানের শেষ দিকে কুনূত পড়েছেন। {১৪২৮}

{১৪২৮} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন । এর সানাদ দুর্বল । সানাদটি মুনকাতি। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪২৯. হাসান বাসরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনিল খাত্তাব (রাঃআঃ) (তারাবীহ নামাজের জন্য) উবাই ইবনি কাবের পিছনে লোকদের জামাআতবদ্ধ করিলেন। তিনি তাহাঁদেরকে নিয়ে বিশ রাত নামাজ আদায় করিলেন। কিন্তু তিনি রামাযান মাসের অর্ধেক পর্যন্ত কুনূত পাঠ করেননি। অতঃপর যখন রমাযানের শেষ দশকে তিনি মাসজিদ ছেড়ে নিজ ঘরে নামাজ আদায় করিলেন। লোকেরা বলাবলি করতে লাগলো, উবাই পালিয়ে গেছে। {১৪২৯}

দুর্বল। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এ হাদিস এটাই প্রমাণ করে যে, কুনূত সংক্রান্ত যা কিছু উল্লেখ হয়েছে তা অনির্ভরযোগ্য এবং উল্লেখিত হাদিসদ্বয় দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, নাবী (সাঃআঃ) বিতরে কুনূত পড়েছেন এ মর্মে উবাইর বর্ণনা দুর্বল।

{১৪২৯} আবু দাউদ এটি এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন । এর সানাদ দুর্বল । তাবরীযী একে মিশকাত গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন (হাঃ ১২৯৩) হাসান হইতেউমার সূত্রে। এর সানাদ মুনকাতি। হাসানউমার ইবনিল খাত্তবকে পাননি । যেমন আত-তাহযীব গ্রন্থে এসেছে। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪১ বিতরের পরে দুআ পাঠ

১৪৩০.উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বেতের নামাজের সালাম ফিরিয়ে বলিতেনঃ

‏ سُبْحَانَ الْمَلِكِ الْقُدُّوسِ

সুব্‌হানাল মালিকিন কুদ্দুস।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩১. আবু সাঈদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি বেতের নামাজ আদায় না করেই ঘুমায় অথবা আদায় করতে ভুলে যায়, পরে স্মরণ হওয়া মাত্রই সে যেন তা আদায় করে নেয়।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪২ ঘুমানোর পূর্বে বেতের নামাজ আদায় করা

১৪৩২. আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সাঃআঃ) আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করিয়াছেন, যা আমি সফরে কিংবা বাড়িতে থাকাকালেও পরিহার করি না। তা হলো ঃ চাশতের দু রাকাআত নামাজ, প্রতি মাসে তিন দিন (১৩,১৪ ও ১৫ আওয়ামে বিযের) সওম পালন এবং বেতের আদায় না করা পর্যন্ত না ঘুমানো।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম, এ কথা বাদে ঃ সফরে কিংবা বাড়িতেও নয়। বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩৩. আবু দারদা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু (সাঃআঃ) আমাকে তিনটি কাজের ওয়াসিয়াত করিয়াছেন যা আমি কখনো বর্জন করি না। তিনি আমাকে ওয়াসিয়াত করিয়াছেন প্রতি মাসে তিন দিন সওম পালন করতে, বেতের নামাজ আদায়ের পূর্বে নিদ্রা না যেতে এবং বাড়িতে ও সফরে প্রত্যেক অবস্থায় চাশতের নামাজ আদায় করতে।

সহিহ ঃ তার এ কথা বাদে ঃ মুকীম অবস্থায় ও সফর অবস্থায়ও নয়।বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩৪. আবু ক্বাতাদাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা নাবী (সাঃআঃ) আবু বকর (রাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করিলেনঃ বেতের নামাজ তুমি কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বলিলেন, আমি রাতের প্রথমাংশে বেতের আদায় করি। তিনিউমার (রাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি বেতের কোন সময়ে আদায় করো? তিনি বলিলেন, আমি বেতের শেষ রাতে আদায় করি।

অতঃপর তিনি আবু বকর (রাঃআঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে সতর্কতা অবলম্বন করেছে এবংউমার (রাঃআঃ) সম্পর্কে বলেনঃ সে শক্তভাবে ধারণ করেছে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৩ বেতের নামাজের ওয়াক্ত

১৪৩৫

মাসরূক (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমিআয়েশা (রাঃআঃ)-কে জিজ্ঞেস করি, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বেতের কোন সময়ে আদায় করতেন? তিনি বলেন, রাতের প্রথমভাগে, মধ্যভাগে এবং শেষভাগে-এগুলোর প্রত্যেক সময়েই বেতের আদায় করিয়াছেন। তবে তিনি ইন্তিকালের পূর্বে বেতের নামাজ সাহারীর শেষ সময়ে আদায় করিয়াছেন।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩৬

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ তোমরা সুবহি সাদিকের আগেই বেতের আদায় করে নিবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩৭

আবদুল্লা ইবনি ক্বায়িস (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমিআয়েশা (রাঃআঃ)-কে রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) বেতের নামাজ সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি বেতের নামাজ কখনো রাতের প্রথমাংশে আবার কখনো শেষাংশে আদায় করিয়াছেন। আমি জিজ্ঞেস করি, নাবী (সাঃআঃ) কিভাবে ক্বিরাআত করিয়াছেন? তিনি কি নিঃশব্দে পড়তেন নাকি সশব্দে? তিনি বলেন, তিনি কখনো আস্তে এবং কখনো জোরে-উভয় ভাবেই পড়েছেন। তিনি কখনো গোসল করে ঘুমিয়েছেন এবং কখনো উযু করে ঘুমিয়েছেন।

সহিহ ঃ মুসলিম।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, কুতাইবাহ ছাড়া অন্যরাস্ত্রী সহবাসের গোসল বলেছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৩৮

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ বেতেরকে তোমাদের রাতের শেষ নামাজে পরিণত করিবে।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৪ বেতের নামাজ দুইবার আদায় করিবে না

১৪৩৯

ক্বায়িস ইবনি ত্বালক্ব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রমযান মাসে ত্বালক্ব ইবনিআলী (রাঃআঃ) আমাদের সাথে দেখা করতে এসে এখানে সন্ধ্যা অতিবাহিত করেন এবং এখানেই ইফতার করেন। অতঃপর রাতে আমাদেরকে নিয়ে তারাবীহ ও বেতের নামাজ আদায় করেন। অতঃপর তিনি নিজেদের মাসজিদে গিয়ে তার সাথীদেরকে নিয়েও নামাজ আদায় করেন। অতঃপর বেতের নামাজের জন্য এক ব্যক্তিকে সম্মুখে এগিয়ে দিয়ে বলেন, তোমার সাথীদেরকে বেতের পড়াও। কেননা আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনছি ঃ একই রাতে দুইবার বেতের হয় না।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৫ অন্যান্য নামাজে কুনূত পাঠ সম্পর্কে

১৪৪০

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাদেরকে রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) নামাজের নিকটবর্তী করবো। আবু হুরাইরা (রাঃআঃ) যুহর,ইশা এবং ফাজ্‌রের নামাজের শেষ রাকাআতে দুআ কুনূত পাঠ করতেন। এতে মুমিনদের জন্য দুআ এবং কাফিরদের জন্য বদদুআ করতেন।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৪১

আল-বারাআ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) ফাজ্‌রের নামাজে দুআ কুনূত পাঠ করতেন। ইবনি মুয়াযের বর্ণনায় মাগরিবের নামাজেও কুনূত পড়ার কথা রহিয়াছে।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৪২

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এক মাস পর্যন্তইশার নামাজে দুআ কুনূত পাঠ করিয়াছেন। তিনি কুনূতে বলেছেনঃ হে আল্লাহ! “ওয়ালীদ ইবনি ওয়ালীদকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! সালামহ ইবনি হিশামকে মুক্ত করুন! হে আল্লাহ! দুর্বল মুমিনদেরকে মুক্তি দিন। হে আল্লাহ! মুদার গোত্রের উপর আপনি কঠোর হোন! হে আল্লাহ! তাহাঁদের উপর এমন দুর্ভিক্ষ দিন যেমন দুর্ভিক্ষ দিয়েছিলেন ইউসুফ (আ)-এর যুগে।” আবু হুরাইরা (রাঃআঃ) বলেন, একদিন ভোরে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আর দুর্বল ও নির্যাতিত মুমিনদের জন্য দুআ না করায় আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে তিনি বলেনঃ তুমি কি তাহাঁদেরকে (নির্যাতিত মুসলিমদের) দেখছ না যে তারা মদিনায় ফিরে এসেছে?

সহিহ ঃ মুসলিম। বোখারিতে এ কথা বাদে ঃ “আমি তাকে তা স্মরণ করিয়ে দিলে…।”

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৪৩

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) পুরো এক মাস যুহর,আসর মাগরিব,ইশা ও ফাজ্‌রের নামাজে শেষ রাকাআতে “সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ” বলার পর কুনূত পাঠ করিয়াছেন। এ সময় তিনি বনু সুলাইমের কয়েকটি গোত্র, যেমন রিল, যাকওয়ান ও উসাইয়্যার উপর বদদুআ করিয়াছেন এবং তাহাঁর পিছনের মুক্তাদীরা আমীন আমীন বলেছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৪৪৪

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) ফাজ্‌রের নামাজে কুনূত পড়েছেন কিনা এ সম্পর্কে তাকে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, হাঁ। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, রুকূর পূর্বে নাকি পরে? তিনি বলেন, রুকূর পরে। মুসাদ্দাদ বলেন, ছোট কুনূত পড়েছেন।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৪৫

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) পুরো এক মাস কুনূত পড়েছেন। অতঃপর তা ছেড়ে দিয়েছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৪৬

মুহাম্মাদ ইবনি সীরীন (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) এর সাথে ফাজ্‌রের নামাজ আদায়কারী এক সাহাবী আমাকে বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃআঃ) দ্বিতীয় রাকাআতে (রুকূ) হইতে মাথা উঠিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকেছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৬ নফল নামাজ ঘরে আদায়ের ফাযীলাত

১৪৪৭

যায়িদ ইবনি সাবিত (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাসজিদে একটি হুজরাহ বানিয়ে নিলেন। রাতে সেখানে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজ আদায় করতেন। বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরাও তাহাঁর সাথে নামাজ আদায় করতো এবং তারা প্রতি রাতে সেখানে একত্র হতো। এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁদের নিকট (মাসজিদে) না আসায় তারা গলা খাকাড়ি ও উচ্চস্বরে কথাবার্তা বললো, এমনকি তাহাঁর দরজায় কংকর নিক্ষেপ করলো। বর্ণনাকারী বলেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) অসন্তুষ্ট মনে তাহাঁদের নিকট এসে বললেনঃ হে লোকেরা! তোমাদের কি হলো যে, তোমরা (নফল নামাজ জামাআতে আদায়ের জন্য) ব্যতিব্যস্ত হচ্ছো? আমি আশংকা করছি, তোমরা এভাবে এলে রাতের নফল নামাজ তোমাদের উপর ফরয করা হইতে পারে? কাজেই নফল নামাজ তোমাদের নিজ নিজ ঘরে আদায় করা উচিত। কেননা ফরয নামাজ ছাড়া প্রত্যেক ব্যক্তির নফল নামাজ নিজ ঘরে আদায় করাই উত্তম।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৪৮

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের কিছু নামাজ নিজ নিজ ঘরে আদায় করিবে এবং তোমাদের ঘরগুলোকে ক্ববরস্থানে পরিণত করিবে না।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম। এটি গত হয়েছে (১০৪৩)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৭ নামাজে দীর্ঘ ক্বিয়াম

১৪৪৯

আবদুল্লা ইবনি হুবশী আল-খাসআমী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা নাবী (সাঃআঃ)-কে সর্বোত্তম কাজ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করা। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন সদাক্বাহ উত্তম? তিনি বলেনঃ নিজ শ্রমে উপার্জির্ত সামান্য সম্পদ হইতে যে দান করা হয় সেটা। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো কোন হিজরাত উত্তম? তিনি বলেনঃ আল্লাহর নিষিদ্ধ বস্তু হইতে দূরে থাকা। জিজ্ঞেস করা হলো কোন জিহাদ উত্তম? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি নিজের জান ও মাল দ্বারা মুশরিকদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে। জিজ্ঞেস করা হলো কোন ধরণের হত্যা মর্যাদা সম্পন্ন? তিনি বলেনঃ যে ব্যক্তি (যুদ্ধের ময়দানে) নিজের ঘোড়া সহ নিহত হয়।

সহিহ ঃ এ শব্দে ঃ (কোন নামাজ?)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৮ ক্বিয়ামুল লাইল করতে উৎসাহ প্রদান

১৪৫০

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ আল্লাহ এমন ব্যক্তিকে দয়া করুন, যে রাতে উঠে নিজেও নামাজ আদায় করে এবং তার স্ত্রীকেও জাগায় এবং সেও নামাজ আদায় করে। সে উঠতে না চাইলে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। আল্লাহ এমন নারীর প্রতিও অনুগ্রহ করুন, যে রাতে উঠে নিজে নামাজ আদায় করে এবং তার স্বামীকেও জাগায়। সে উঠতে না চাইলে তার মুখমণ্ডলে পানি ছিটিয়ে দেয়। {১৪৫০}

হাসান সহিহ ঃ এটি গত হয়েছে (১৩০৮)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৪৫১

আবু সাঈদ আল-খুদরী ও আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তারা বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি রাতে নিজে সজাগ হলো এবং তার স্ত্রীকেও জাগিয়ে দিলো। অতঃপর উভয়েই একত্রে দু রাকাআত নামাজ আদায় করলো। তাহাঁদের দুজনকেই (আল্লাহর) অধিক যিকিরকারী ও যিকিরকারিণীর তালিকায় লিপিবদ্ধ করা হয়।

সহিহ ঃ এটি গত হয়েছে (১৩০৯)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৪৯ কুরআন তিলাওয়াতের সওয়াব

১৪৫২

উসমান (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে উত্তম ঐ ব্যক্তি, যে ব্যক্তি কুরআন নিজে শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয়।

সহিহ ঃ বোখারি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৫৩

সাহল ইবনি মুআয আল-জুহানী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করে এবং তদনুযায়ী আমল করে, ক্বিয়ামতের দিন তার পিতা-মাতাকে এমন মুকুট পরানো হইবে যার আলো সূর্যের আলোর চাইতেও উজ্জ্বল হইবে। ধরে নাও, যদি সূর্য তোমাদের ঘরে বিদ্যমান থাকে (তাহলে তার আলো কিরূপ হইবে?)। তাহলে যে ব্যক্তি কুরআন অনুযায়ী আমল করে তার ব্যাপারটি কেমন হইবে, তোমরা ধারণা করো তো! {১৪৫৩}

{১৪৫৩} আহমাদ (৩/৪৪০) যাব্বান ইবনি ফায়িদ হইতে । এর সানাদ দুর্বল । সানাদের যাব্বান ইবনি ফায়িদ সম্পর্কে হাফিজ ইবনি হাজারআত তাক্ববীর গ্রন্থে বলেন ঃ তিনি সৎ এবং ইবাদাতগুজারী হওয়া সত্ত্বেও জঈফ ।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪৫৪

আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কুরাআন পাঠে দক্ষ ব্যাক্তি উচ্চ মযাদা সম্পন্ন ফেরেশতাহাঁদের সঙ্গী হইবে। আর যে ব্যাক্তি কুরাআন পড়ার সময় আটকে যায় এবং কষ্ট করে তিলাওয়াত করে তার জন্য রহিয়াছে দ্বিগুণ সওয়াব।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৫৫

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, যখন কোন সম্প্রদায় আল্লাহর কোন ঘরে সমবেত হয়ে আল্লাহর কিতাব তিলাওয়াত করে এবং পরস্পরে তা নিয়ে আলোচনা করে, তখন তাহাঁদের উপর শান্তি বর্ষিত হয়, তাহাঁদেরকে রহমাত ঢেকে নেয়, ফেরেশতাগণ তাহাঁদেরকে ঘিরে রাখে, এবং আল্লাহ তাহাঁর নিকটবর্তী ফেরেশতাহাঁদের কাছে তাহাঁদের প্রশংসা করেন।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৫৬

উক্ববাহ ইবনিআমির আল-জুহানী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা সুফ্‌ফাতে (মাসজিদে নাববীর আঙ্গিনায়) অবস্থান করছিলাম এমন সময় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদের কাছে এসে বললেনঃতোমাদের মধ্যে কে পছন্দ করিবে যে, ভোরে বুতহান অথবা আক্বীক্ব উপত্যকায় গিয়ে সেখান থেকে আল্লাহর সাথে কোনরূপ অন্যায় না করে ও আত্নীয়তা ছিন্ন না করে উঁচু কুঁজবিশিষ্ট উজ্জ্বল বর্ণের সুন্দর দুটি উটনী নিয়ে আসবে? তারা বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! আমরা সবাই। তিনি বললেনঃ অবশ্য তোমাদের কেউ ভোরে মাসজিদে এসে আল্লাহর কিতাব হইতে দুটি আয়াত শিক্ষা করা এরূপ দুটি উটনীর চেয়েও উত্তম এবং তিনটি আয়াত শিক্ষা করা এরূপ তিনটি উটের চেয়েও উত্তম। আয়াতের সংখ্যা যত বেশি হইবে তা তত সংখ্যক উটের চেয়ে উত্তম হইবে।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫০ সূরাহ আ্ল-ফাতিহা

১৪৫৭

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ সূরাহ “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিলআলামীন” হচ্ছে উম্মুল কিতাব, উম্মুল কুরআন এবং বারবার পঠিতব্য সাতটি আয়াত।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৫৮

আবু সাঈদ ইবনিল মুআল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা তিনি নামাজে রত থাকাবস্থায় নাবী (সাঃআঃ) তার পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ডাকলেন। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নামাজ আদায় শেষে তাহাঁর নিকট এলে তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ আমার ডাকে সাড়া দিতে কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে? তিনি বলিলেন, আমি নামাজ রত ছিলাম। তিনি বললেনঃ মহান আল্লাহ কি বলেননিঃ “হে মুমিনগণ! যখন আল্লাহ ও তাহাঁর রসূল তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকে যা তোমাদেরকে প্রাণবন্তকরে। (সূরাহ আল-আনফালঃ ২৪) আমি মাসজিদ থেকে বের হবার পূর্বেই তোমাকে কুরআনের অত্যধিক মর্যাদা সম্পন্ন একটি সূরাহ শিক্ষা দিবো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি আপনার কথাটি স্মরণ রাখবো। তিনি (সাঃআঃ) বললেনঃ “আলহামদু লিল্লাহি রব্বিলআলামীন”, এটি হচ্ছে সাত আয়াতবিশিষ্ট সূরাহ। আমাকে এটি এবং কুরআনুলআযীম প্রদান করা হয়েছে।

সহীহঃ বোখারি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫১ যিনি বলেন, সূরাহ ফাতিহা দীর্ঘ সূরাহসমূহের অন্তর্ভূক্ত

১৪৫৯

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে সাবউ মাসানী (সাত আয়াতবিশিষ্ট) নামক দীর্ঘ সূরাহ দেয়া হয়েছে এবং মূসা (আ)-কে দেয়া হয়েছিল ছয়টি। অতঃপর তিনি তাওরাতের লিখিত ফলকগুলো ছুড়ে ফেলায় দুটি উঠিয়ে নেয়া হয় এবং চারটি অবশিষ্ট থাকে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫২ আয়াতুল কুরসী সম্পর্কে

১৪৬০

উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাহাঁর রসূলই অধিক জ্ঞাত। তিনি আবার বলেন, হে আবুল মুনযির! তোমার কাছে আল্লাহর কিতাবের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ? আমি বললাম,

هُ لاَ إِلَهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّومُ

“আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম” (আয়াতুল কুরসী)।

তখন তিনি আমার বুকে (হালকা) আঘাত করে বলেনঃ হে আবুল মুনযির! তোমার জ্ঞান আনন্দদায়ক হোক।

সহীহঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৩ সূরাহ আস-সমাদ (আল-ইখলাস) সম্পর্কে

১৪৬১

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা এক ব্যক্তি আরেক ব্যক্তিকে বারবার সূরাহকুল হুওয়াল্লাহু আহাদ পাঠ করতে শুনে ঘটনাটি ভোর বেলায় রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর নিকট এসে উল্লেখ করলো। লোকটি যেন এ সূরাহ বারবার পাঠ করাকে তুষ্ট মনে করলো। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ ঐ সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! এ সূরাহটি পুরো কুরআনের এক-তৃতীয়াংশের সমান।

সহীহঃ বোখারি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৪ সূরাহ আল-ফালাক্ব ও সূরাহ আন-নাস সম্পর্কে

১৪৬২

উক্ববাহ ইবনিআমির (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি সফরকালে রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) উষ্ট্রীর লাগাম টেনে নিয়ে যেতাম। একদা তিনি আমাকে বললেনঃ হেউক্ববাহ! আমি কি তোমাকে পঠিতব্য দুটি সূরাহ শিক্ষা দিবো না? অতঃপর তিনি আমাকে সূরাহকুল আঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব এবং কুল আঊযু বিরব্বিন নাস শিখালেন। এতে তিনি আমাকে তেমন খুশী হইতে দেখেননি। অতঃপর তিনি নামাজের জন্য অবতরণ করে লওকদেরকে নিয়ে ফাজর নামাজে এ দুটি সূরাহ পাঠ করিলেন। নামাজ শেষে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে লক্ষ্য করে বললেনঃ কেমন দেখলে, হেউক্ববাহ!

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৬৩

উক্ববাহ ইবনিআমির (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাথে আল-জুহফা ও আল-আবওয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় সফরকালে আমরা হঠাৎ প্রবল বাতাস ও ঘোর অন্ধকারের কবলে পড়ি। তখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কুল আঊযু বিরব্বিল ফালাক্ব এবং কুল আঊযু বিরব্বিন নাস সূরাহ দুটি পাঠ করে আশ্রয় প্রার্থনা করতে লাগলেন এবং বললেনঃ হেউকবাহ! এ সূরাহ দুটি দ্বারা পানাহ চাও। কেননা পানাহ চাওয়ার জন্য এরূপ সূরাহ নেই। বর্ণনাকারী বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ)-কে এ দুটি সূরাহ দ্বারা নামাজের ঈমামতি করতেও শুনিয়াছি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৫ তারতীলের সাথে কুরআন তিলাওয়াত পছন্দনীয়

১৪৬৪

আবদুল্লা ইবনি আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ (ক্বিয়ামাতে) কুরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হইবে, কুরআন পাঠ করতে করতে উপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরেসুস্থে পাঠ করতে সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হইবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৪৬৫

ক্বাতাদাহ (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আনাস (রাঃআঃ)-কে নাবী (সাঃআঃ) এর ক্বিরাআত সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি যেখানে যতটুকু দীর্ঘ করা প্রয়োজন, সেখানে ততটুকু দীর্ঘ করে টেনে পাঠ করতেন।

সহীহঃ বোখারি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৬৬

ইয়ালা ইবনি মামলাক (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা তিনি উম্মু সালামাহ (রাঃআঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর নামাজ ও ক্বিরাআত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তাহাঁর নামাজ সম্পর্কে জেনে তোমাদের কি দরকার? তিনি নামাজ আদায় করতেন এবং নামাজ আদায়ের সমপরিমান সময় ঘুমাতেন, আবার যেটুকু সময় ঘুমাতেন সে পরিমাণ সময় নামাজ আদায় করতেন। আবারো নামাজ আদায়ের সমপরিমান সময় ঘুমাতেন। এভাবেই ভোর হয়ে যেতো। তিনি তাহাঁর ক্বিরাআতের বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, তিনি ক্বিরাআতে এক একটি হরফ স্পষ্ট উচ্চারণ করতেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪৬৭

আবদুল্লা ইবনি মুগাফফাল (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি মাক্কাহ বিজয়ের দিন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে তাহাঁর উষ্ট্রীতে আরোহিত অবস্থায় সূরাহআল-ফাতহ পাঠ করতে শুনিয়াছি এবং প্রতিটি আয়াত পুনরাবৃত্তিসহ।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৬৮

আল-বারাআ ইবনিআযিব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা সুললিত কন্ঠে কুরআনকে সুসজ্জিত করো।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৬৯

আবুল ওয়ালীদ, কুতাইবাহ ইবনি সাঈদ ও ইয়াযীদ ইবনি খালিদ হইতে বর্ণিতঃ

পুর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ অর্থবোধক হাদিস বর্ণিত আছে। সাঈদ ইবনি আবু সাঈদ (রাঃআঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি মধুর সূরে কুরআন পাঠ করে না, সে আমাদের দলভুক্ত নয়।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৭০

সাদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সূত্রে পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১৪৭১

উবায়দুল্লাহ ইবনি আবু ইয়াযীদ (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা আবু লুবাবাহ (রাঃআঃ) আমাদের পাশ দিয়ে অতিক্রম করলে আমরা তার অনুসরণ করি। যখন তিনি তার ঘরে ঢুকলেন, আমরাও তাতে ঢুকে পড়ি এবং দেখি, তিনি এমন লোক যার ঘরটি একেবারে জীর্ণ-শীর্ণ এবং অবস্থাও অসচ্ছল। আমি তাকে বলিতে শুনি, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যে কুরআনকে মধুর সূরে পাঠ করে না সে আমাদের দলভুক্ত নয়। বর্ণনাকারী বলেন, আমি ইবনি আবু মুলায়কাহকে বলি, হে আবু মুহাম্মাদ! যদি কারো স্বরই শ্রুতিমধুর না হয়? তিনি বলিলেন, সাধ্যমত সুন্দরভাবে পড়ার চেষ্টা করিবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৪৭২

ওয়াকী ও ইবনিউয়াইনাহ (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

মান লাম ইতাগান্না এর অর্থ হচ্ছেমধুর সূরে স্পষ্ট আওয়াযে কুরআন পড়ার চেষ্টা করা।

সহিহ মাক্বতূঃ বোখারি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

১৪৭৩

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ মহান আল্লাহ অন্য কিছু এতো মনোযোগ দিয়ে শুনেন না, যেভাবে তিনি নাবীর সুমধুর কন্ঠে স্পষ্ট উচ্চারণে কুরআন পাঠ শুনেন।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৬ কুরআন হিফয করার পর তা ভুলে যাওয়ার পরিণাম

১৪৭৪

সাদ ইবনিউবাদাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ (মুখস্ত) করার পর তা ভুলে যায়, সে ক্বিয়াময়াতের দিন আল্লাহর সাথে পঙ্গু অবস্থায় (বা খালি হাতে) সাক্ষাত করিবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৭ কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে

১৪৭৫

উমার ইবনিল খাত্তাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি হিশাম ইবনি হাকীম ইবনি হিযামকে সূরাহ আল-ফুরক্বান আমার পড়ার নিয়মের ব্যতিক্রম পড়তে শুনিয়াছি। অথচ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নিজে আমাকে তা পড়িয়েছেন। আমি তার উপর ঝাপিয়ে পড়তে চাইলাম। কিন্তু আমি তাকে পড়া শেষ করতে সুযোগ দিলাম। তার নামাজ শেষ হলে আমি আমার চাদর দিয়ে তার গলা পেঁচিয়ে ধরে তাঁকে টেনে রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) কাছে নিয়ে এসে বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমি তাকে সূরাহ আল-ফুরক্বান পড়তে শুনিয়াছি আপনি আমাকে যেভাবে পড়িয়েছেন তার বিপরীতভাবে। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাকে বললেনঃ আচ্ছা পাঠ করো তো! তখন সে ঐরূপে পড়লো যেভাবে আমি তাকে পড়তে শুনিয়াছি। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ তা এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ আচ্ছা তুমি পড়ো তো। তখন আমিও পাঠ করলাম। তিনি বললেনঃ এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। অতঃপর তিনি বললেনঃ এ কুরআন সাত হরফে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং যেভাবে পড়তে সহজ হয় পড়ো।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৭৬

মামার (রঃ) হইতে বর্ণিতঃ

ঈমাম যুহরী (রঃ) বলেছেন, উল্লেখিত বর্ণের পার্থক্য এক একটি বর্ণে সীমিত (অর্থাৎ তা কেবল অক্ষরিক পার্থক্য), এখানে হালাল-হারাম সম্পর্কে কোন বিভেদ নেই।

সহিহ মাক্বতূঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ মাকতু

১৪৭৭

উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ হে উবাই! আমাকে কুরআন শিখানো হয়েছে। আমাকে বলা হলো, এক হরফে নাকি দু হরফে? তখন আমার সঙ্গী ফেরেশতা বলিলেন, বলুন, দু হরফে। আমি বললাম, দু হরফে। অতঃপর আমাকে বলা হলো, দু হরফে নাকি তিন হরফে? আমার সঙ্গী ফেরেশতা বলিলেন,বলুন, তিন হরফে। তখন আমি বললামঃ আমি তিন হরফে (রীতিতে) পাঠ করতে চাই। এভাবে পর্যায়ক্রমে সাত হরফে পৌঁছে। অতঃপর ফেরেশতা বলিলেন, এর যে কোনো রীতিতে পাঠ করা মুর্খতার নিরাময় এবং নামাজের জন্য যথেষ্ট। অতঃপর বলিলেন, আপনি সামীআন,আলীমান,আযীযান, হাকীমান- এর স্থলে অন্য কোনো সিফাত পরিবর্তন করে পাঠ করলে দোষ নেই, যতক্ষণ পর্যন্তআযাবের আয়াতকে রহমত দিয়ে এবং রহমাতের আয়াতকেআযাবের আয়াত দিয়ে পরিবর্তন না করা হয়।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৭৮

উবাই ইবনি কাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা নাবী (সাঃআঃ) বনু গিফারের কূপ বা ঝর্ণার নিকট অবস্থানকালে জিবরাঈল (আঃ) এসে বলিলেন, আল্লাহ আপনার উম্মাতকে এক হরফে (রীতিতে) কুরআন পড়ানোর জন্য আপনাকে আদেশ করিয়াছেন। তিনি বলেন, আমি আল্লাহর কাছে তাহাঁর ক্ষমা ও উদারতা কামনা করি যে, আমার উম্মাত (ভাষা ও আঞ্চলিকতার বিভিন্নতার দরুন) এই এক হরফে পাঠ করতে সক্ষম হইবে না। অতঃপর জিবরাঈল দ্বিতীয়বার এসে আগের মতই বলিলেন। অবশেষে সাত হরফ পর্যন্ত পৌঁছে বলিলেন, আল্লাহ আপনার উম্মাতকে সাত হরফে কুরআন পড়াতে আপনাকে আদেশ করিয়াছেন। আপনার উম্মাত এর যে কোনো হরফে পড়লেই তাঁদের পড়া নির্ভুল হইবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৮ দুআ সম্পর্কে

১৪৭৯

নুমান ইবনি বাশীর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ দুআও একটিইবাদাত। তোমাদের রব্ব বলেছেনঃ

قَالَ رَبُّكُمُ ادْعُونِي أَسْتَجِبْ لَكُمْ

“তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো।“ (সূরাহ আল-মুমিনঃ৬০)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮০

সাদ (রাঃআঃ) এর এক পুত্রের সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমার আব্বা আমাকে বলিতে শুনলেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জান্নাত, তাহাঁর সমস্ত নিয়ামত ও আনন্দদায়ক বস্তু চাই এবং ইত্যাদি ইত্যাদি। আপনার কাছে আশ্রয় জাহান্নামের আগুন হইতে ও তথাকার শক্ত শিকল ও হাতকড়া বেড়ী হইতে, এবং ইত্যাদি। তিনি বলিলেন, হে আমার পুত্র! আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছিঃ শীঘ্রই এমন জাতির আবির্ভাব হইবে যারা দুআর মধ্যে সীমালঙ্ঘন করিবে। সাবধান! তুমি তাঁদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। তোমাকে জান্নাত দেয়া হলে সমগ্র জান্নাত ও তাহাঁর যাবতীয় কল্যাণকর সম্পদও তোমাকে দেয়া হইবে। আর যদি জাহান্নামের আগুন হইতে রেহাই পাও তাহলে তথাকার যাবতীয় অমঙ্গল ও কষ্টদায়ক সব কিছু হইতেই রেহাই পাবে।

হাসান সহীহঃ অনুরূপ গত হয়েছে (৯৬৫)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৪৮১

ফাদালাহ ইবনিউবাইদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এক ব্যক্তিকে নামাজের মধ্যে দুআকালে আল্লাহর বড়ত্ব ও গুণাবলী বর্ণনা এবং নাবী (সাঃআঃ)-এর প্রতি দরূদ পাঠ করতে শুনলেন না। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ এ ব্যক্তি তাড়াহুড়া করেছে। অতঃপর তিনি ঐ ব্যক্তিকে অথবা অন্য কাউকে বললেনঃ তোমাদের কেউ নামাজ আদায়কালে যেন সর্বপ্রথম তাহাঁর প্রভুর মহত্ব ও প্রশংসা বর্ণনা করে এবং পড়ে নাবী (সাঃআঃ) এর উপর দরূদ পাঠ করে, অতঃপর ইচ্ছানুযায়ী দুআ করে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮২

আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) পরিপূর্ণ বাক্যে দুআ করা পছন্দ করতেন (যে দুআয় দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণের কথা থাকে), এছাড়া অন্যান্য দুআ ত্যাগ করতেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮৩

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন এরূপ না বলে, হে আল্লাহ! তোমরা ইচ্ছা হলে আমার প্রতি অনুগ্রহ করো। বরং যা চাওয়ার দৃঢ়তার সাথে চাইবে। কেননা তাহাঁর উপর কারোর প্রভাব চলে না।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮৪

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের দুআ কবুল হয়ে থাকে, যতক্ষণ না সে তাড়াহুড়া করে এবং বলে, আমি তো দুআ করেছি, অথচ কবুল হয়নি?

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮৫

আবদুল্লা ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা তোমাদের ঘরের দেয়ালগুলো পর্দায় আবৃত করো না। যে ব্যক্তি বিনা অনুমতিতে তার ভাইয়ের চিঠিতে দৃষ্টি নিক্ষেপ করলো, সে যেন জাহান্নামের আগুনের দিকে তাকালো। তোমরা হাতের পৃষ্ঠের দ্বারা নয় এবং হাতের তালুর দ্বারা আল্লাহর কাছে চাইবে। অতঃপর দুআ শেষে তোমাদের হাতের তালু দিয়ে নিজের চেহারা মুছবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪৮৬

মালিক ইবনি ইয়াসার আস-সাকূনী আল-আওফী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা আল্লাহর নিকট দুআর সময় হাতের তালুকে সম্মুখে রেখে দুআ করিবে, হাতের পৃষ্ঠ দিয়ে নয়।

হাসান সহিহ।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সুমায়মান ইবনিআবদুল হামীদ (রঃ) বলেন, আমাদের মতে মালিক ইবনি ইয়াসার (রাঃআঃ) রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-এর সাহচর্য পেয়েছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহিহ

১৪৮৭

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে কখনো তাহাঁর দু হাতের তালু দ্বারা এবং কখনো দু হাতের পৃষ্ঠ দ্বারা দুভাবেই দুআ করতে দেখেছি।

সহিহঃ এ শব্দেঃ —( আরবী)

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮৮

সালমান ফারসী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয় তোমাদের রব্ব চিরঞ্জীব ও মহান দাতা। বান্দাহ দু হাত তুলে তাহাঁর নিকট চাইলে তিনি খালি হাত ফেরত দিতে লজ্জাবোধ করেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৮৯

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, তুমি উভয় হাতকে তোমার কাঁধ বরাবর বা অনুরূপ উঁচু করে দুআ করিবে এবং ইস্তিগফারের সময় এক আঙ্গুল দ্বারা ইশারা করিবে এবং দুআতে কাকুতি মিনতির সময় দু হাত প্রসারিত করিবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৯০

আব্বস ইবনিআবদুল্লা ইবনি মাবাদ ইবনি আব্বাস  (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছেন, কাকুতি মিনতির প্রার্থনা এরূপঃ দু হাতের পৃষ্ঠকে চেহারার কাছাকাছি নিয়ে যাবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৯১

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন…অতঃপর পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৯২

আস-সায়িব ইবনি ইয়াযীদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) দুআর সময় দু হাত উপরে উঠাতেন এবং দু হাত দিয়ে স্বীয় মুখমন্ডল মুছতেন। {১৪৯২}

{১৪৯২} এ সূত্রে আবু দাউদ একক হয়ে গেছেন। এর সানাদ দূর্বল। সানাদে হাফস ইবনি হাশিম অজ্ঞাত। অনুরূপ ইবনি লাহীআহ একজন মুদাল্লিস এবং তিনি এটি আন্ আন্ শব্দে বর্ণনা করিয়াছেন। হাদিসটির শাহিদ (সমর্থক) বর্ণনা রহিয়াছে তিরমিযীতে হাম্মাদ ইবনি জুহানী হইতে ইবনি উমার সূত্রে। ঈমাম তিরমিযী বলেনঃহাদিসটি সহিহ গরীব। আমরা এটি কেবল হাম্মাদ ইবনি ঈসার হাদিস বলেই জানি। তিনি এতে একক হয়ে গেছেন। তার হাদিস কম। হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ তিনি দুর্বল। আলবানী ইওয়াউল গালীল (২/১৭৯) গ্রন্থে বলেনঃ এর সানাদ দুর্বল। কঠিন দুর্বল হওয়ার কারনে উভয় সূত্র একটি অপরটিকে শাহিদ হিসেবে শক্তি যোগাবে না।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪৯৩

আবদুল্লা ইবনি বুরাইদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এক ব্যক্তিকে বলিতে শুনলেন ঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে চাই, আমি সাক্ষ্য দেই যে, তুমিই আল্লাহ, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি একক, তুমি ঐ সত্তা যে, তুমি কারো হইতে জন্ম নাওনি এবং কাউকে জন্মও দাওনি, কেউই তোমার সমকক্ষ নয়”। তিনি বললেনঃ তুমি এমন নামে আল্লাহর কাছে চেয়েছো, যে নামে চাওয়া হলে তিনি দান করেন এবং যে নামে ডাকা হলে সাড়া দেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৯৪

মালিক ইবনি মিগওয়াল (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

এ হাদিস বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃতুমি আল্লাহর ইসমে আযম দ্বারাই প্রার্থনা করেছো।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৯৫

আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) সাথে বসা ছিলেন। এসময় এক ব্যক্তি নামাজ আদায় করে এই বলে দুআ করলোঃ “হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করি। তুমিই তো সকল প্রশংসার মালিক, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি দয়াশীল। তুমিই আকাশসমূহ ও পৃথিবী একমাত্র সৃষ্টকর্তা! হে মহান সম্রাট ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী, হে চিরন্জ্ঞীব, হে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী”। নাবী (সাঃআঃ) বলেনঃ এ ব্যক্তি ইসমে আযম দ্বারা দুআ করেছে, যে নামে ডাকলে তিনি সাড়া দেন এবং যে নামে তাহাঁর নিকট চাওয়া হলে তিনি দান করেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৪৯৬

আসমা বিনতু ইয়াযীদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেছেনঃ ইসমে আযম এ দুটি আয়াত রহিয়াছেঃ (এক) তোমাদের ইলাহ একমাত্র ইলাহ, তিনি ছাড়া আর কোন ইলাহ নাই, তিনি অতি দয়ালু মেহেরবান (সূরা আল-বাক্বারাহঃ ১৬৩)। (দুই) সূরা আলে-ইমরানের প্রথমাংশ, আলিফ-লাম-মীম, তিনি সেই আল্লাহ, তিনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী। {১৪৯৬}

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৪৯৭

আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা তার একখানা চাদর চুরি হয়ে যায়। তিনি চোরকে বদদুআ করতে শুরু করলে নাবী (সাঃআঃ) বলেন, তুমি তার পাপকে হালকা করো না। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন,লা তুসাববিখী এর অর্থ হচ্ছে, হালকা করো না। {১৪৯৭}

{১৪৯৭} ইবনি আবু শায়বাহমুসান্নাফ (১০/৩৪৮), আলবানী একে উল্লেখ করিয়াছেন জঈফ আল-জামি (৬২৩৩), এবং একে জঈফ বলেছেন সম্ভবতঃ এর দোষ হচ্ছে সানাদের হাবীব ইবনি আবু সাবিত। হাফিযআত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ তার ইরসাল ও তাদলীস অধিক।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪৯৮

উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমিউমরাহ করতে যাবার জন্য নাবী (সাঃআঃ) এর অনুমতি চাইলে তিনি আমাকে অনুমতি দিয়ে বললেনঃহে আমার ছোট ভাই! তোমার দুআয় আমাদেরকে যেন ভুলো না। পরবর্তীতেউমার (রাঃআঃ) বলেন, তাহাঁর এ একটি শব্দ আমাকে এতোটা অনন্দ দিয়েছে যে, এর বিনিময়ে সমগ্র দুনিয়ার সম্পদও আমাকে এতোটা অনন্দিত করতে পারতো না। শুবাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, পরবর্তীতে আমি মদিনায়আসিমের সাথে দেখা করলে তিনি আমাকে এ হাদিসটি বর্ণনা করেন। তবে তিনিআমাদেরকে ভুলো না এর স্থলেআমাদেরকেও শরীক করো বলেছেন। {১৪৯৮}

{১৪৯৮} বায়হাক্বীসুনানুল কুবরা (৫/২৫১), ইবনি সাদত্বাবাক্বাত (৩/১৯৫)আসিম ইবনিউবাইদুল্লাহ হইতে। এর সানাদ দুর্বল। সানাদেরআসিম ইবনিউবাইদুল্লাহ সম্পর্কে হাফিযআত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃ দুর্বল।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৪৯৯

সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি দু আঙ্গুল উঠিয়ে দুআ করছিলাম, এমন সময় নাবী (সাঃআঃ) আমার পাশ দিয়ে অতিক্রমকালে বললেনঃএক আঙ্গুল উঠিয়ে দুআ করো এবং তিনি তর্জনী (শাহাদাত আঙ্গুল) দ্বারা ইশারা করিলেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৫৯ কংকর দ্বারা তাসবীহ পাঠ করা

১৫০০

আয়েশা বিনতু সাদ (রাঃআঃ) হইতে তার পিতা হইতে বর্ণিতঃ

একদা তিনি রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) সাথে এক মহিলার কাছে গিয়ে তার সম্মুখে খেজুর বিচি অথবা কংকর দেখিতে পেলেন। মহিলাটি ওগুলোর সাহায্যে তাসবীহ পাঠ করছিলো। নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ আমি কি তোমাকে এর চাইতে অধিক সহজ ও উত্তম পদ্ধতি জানাবো না! “আকাশের সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ সুবহানাল্লাহ এবং যমীনের সমস্ত সৃষ্টির সংখ্যা পরিমাণ সুবহানাল্লাহ। আকাশ ও যমীনের মাঝে যা কিছু রহিয়াছে সে পরিমাণ সুবহানাল্লাহ এবং অনুরূপ সংখ্যক আল্লাহু আকবার, আল্‌হামদুলিল্লাহ , লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।” {১৫০০}

{১৫০০} তিরমিযী (অধ্যায়ঃ দাওয়াত অনুঃ প্রত্যেক ফর্‌য নামাজে নাবী (সাঃআঃ) -এর দুআ ও আশ্রয় প্রার্থনা, হাঃ ৩৫৬৮) ইবনি ওয়াহাব হইতে, ঈমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদিসটি হাসান গরীব)। এর সানাদে খুযাইমাহ রহিয়াছে। হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে বলেনঃআয়েশা বিনতু সাদ হইতে খুযাইমাকে চেনা যায়নি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫০১

ইউসায়রাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) তাহাঁদেরকে নির্দেশ দিয়েছেনঃ তোমরা তাকবীর, তাকদীস এবং তাহলীল এগুলো খুব ভালো ভাবে স্মরণে রাখবে এবং এগুলোকে অঙ্গুলে গুনে রাখবে। কেননা আঙ্গুলগুলোকে জ্ঞিজ্ঞাসা করা হইবে এবং এগুলোও সেদিন (ক্বিয়ামাতে) কথা বলবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫০২

আবদুল্লা ইবনি আমর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) -কে আঙ্গুলে গুনে গুনে তাসবীহ পাঠ করতে দেখেছি। ইবনি কুদামাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, ডান হাতের আঙ্গুল দ্বারা।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫০৩

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) জুওয়াইরিয়াহ (রাঃআঃ) এর কাছ থেকে বেরিয়ে এলেন। ইতিপূর্বে তার নাম ছিলো বাররাহ, নাবী (সাঃআঃ) তার এ নাম পরিবর্তন করেন। তিনি তার কাছ থেকে বেরিয়ে আসার সময়ও মুসাল্লায় বসে তাসবীহ পাঠ করতে করতে দেখেন এবং ফিরে এসেও তাকে ঐ মুসাল্লায় বসে থাকতে দেখেন। তিনি জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি তখন থেকে একটানা এ মুসাল্লায় বসে রয়েছো? তিনি বলিলেন, হাঁ। তিনি বলিলেন, তোমার কাছ থেকে যাওয়ার পর আমি তিনবার চারটি কালেমা পড়েছি; এ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত তুমি যা কিছু পাঠ করেছো, উভয়টিওজন হলে আমার ঐ চারটি কালেমা ওজনে ভারী হইবে। তা হচ্ছেঃ “সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহিআদাদা খালক্বিহি, ওয়া রিদা নাফসিহি, ওয়া যিনাতাআরশিহি, ওয়া মিদাদা কালিমাতিহি।”

সহিহঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫০৪

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আবু যার (রাঃআঃ) বলেন, হে আল্লাহর রসূল! ধনীরা তো সওয়াবে অগ্রগামী হয়ে যাচ্ছে। আমরা যেমন নামাজ আদায় করি, তেমন তারাও নামাজ আদায় করে, আমরা যেমন সওম পালন করি, তারাও তেমন সওম পালন করে। কিন্তু তারা তাহাঁদের অতিরিক্ত ধন-সম্পদ দান-খয়রাত করে। (দান খয়রাতের জন্য) আমাদের তো পর্যাপ্ত সম্পদ নেই। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ হে আবু যার! আমি কি তোমাকে এমন দুটি বাক্য শিক্ষা দিবো না যা পাঠ করলে তুমি তোমার চেয়ে অগ্রগামীদের সমপর্যায় হইতে পারবে এবং তোমার পিছনের লোকেরাও তোমাকে অতিক্রম করতে পারবে না? তবে তার কথা ভিন্ন যে তোমার মতো আমল করে। তিনি বলিলেন, হাঁ, নিশ্চয়। তিনি বললেনঃ তুমি প্রত্যেক নামাজের পর তেত্রিশবারআল্লাহু আকবার, তেত্রিশবারআলহামদু লিল্লাহ, তেত্রিশবারসুবহানাল্লাহ এবং শেষে একবার “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়াআলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর” বলবে। কেউ এ দুআ পড়লে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা হইবে।

সহিহঃ কিন্তুঃ “কেউ এ দুআ পড়লে তার গুনাহ সমুদ্রের ফেনারাশি পরিমাণ হলেও তা ক্ষমা হইবে।” তার এ কথাটুকু মুদরাজ।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬০ নামাজে সালাম ফিরানোর পর কি পড়বে?

১৫০৫

মুগীরাহ ইবনি শুবাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নামাজের সালাম ফিরানোর পর কোন দুআ পাঠ করতেন তা জানার জন্য মুআবিয়াহ (রাঃআঃ) মুগীরাহ ইবনি শুবাহর কাছে পত্র লিখলেন। অতঃপর মুগীরাহ (রাঃআঃ) মুআবিয়াহর (রাঃআঃ) নিকট পত্রের জবাব লিখে পাঠালেন যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিতেন “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়াআলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। আল্লাহুম্মা লা মানিআ লিমা আত্বায়তা ওয়ালা মুত্বিআ লিমা মানাতা ওয়ালা ইয়ানফাউ যাল জাদ্দু মিনকাল জাদ্দ।”

সহিহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫০৬

আবুয-যুবাইর (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমিআবদুল্লা ইবনিয যুবাইর (রাঃআঃ)-কে মিম্বারে দাঁড়িয়ে ভাষণে বলিতে শুনিয়াছি, নাবী (সাঃআঃ) ফরয নামাজ শেষে বলিতেনঃ ““লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহুল হামদু ওয়াহুয়াআলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুদ দ্বীন ওয়ালাও কারিহাল কফিরুন। আহলুন নিআমি ওয়াল ফাদলি, ওয়াস সানায়িল হুসনি লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুখলিসীনা লাহুল দ্বীন ওয়ালাও কারিহাল কাফিরুন।”

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫০৭

আবুয-যুবাইর (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন,আব্দুল্লাহ ইবনিয যুবাইর (রাঃআঃ) প্রত্যেক ফার্য নামাজের পরলা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পাঠ করতেন। অতঃপর উপরোক্ত দুআর অনুরূপ। আরো বৃদ্ধি করেনঃ লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহি, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ লা নাবুদু ইল্লা ইয়্যাহু লাহুন নিমাতু..।” অতঃপর অবশিষ্ট হাদিস বর্ণনা করেন।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫০৮

যায়িদ ইবনি আরক্বাম (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর নাবী (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি। বর্ণনাকারী সুলায়মানের বর্ণনায় রহিয়াছে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) প্রত্যেক ফার্য নামাজের পর বলিতেনঃ “ হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এবং প্রত্যেক বস্তুর রব। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, মুহাম্মাদ আপনার বান্দাহ ও রসূল। হে আল্লাহ! আপনি আমাদের এবং প্রত্যেক বস্তুর রব্ব! আমাকে এবং আমার পরিবার-পরিজনকে দুনিয়া ও আখিরাতের প্রতি মূহুর্তে আপনার অকৃত্রিমইবাদতকারী বানিয়ে দিন। হে মহান পরাক্রমশালী ও সম্মানের অধিকারী! আমার ফরিয়াদ শুনুন, আমার দুআ কবুল করুন। আল্লাহ মহান, আপনি সবচেয়ে মহান। হে আল্লাহ! আসমান ও যমীনের নূর। সুলায়মান ইবনি দাউদ বলেছেন, আপনিই আকাশ ও যমীনের রব্ব! হে আল্লাহ! আপনি মহান, অতি মহান। আল্লাহই আমার জন্য যথেষ্ট এবং উত্তম অভিভাবক। হে আল্লাহ! আপনি মহান! অতি মহান। {১৫০৮}

{১৫০৮} আহমাদ (৪/৩৬৯), নাসায়ীআমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ (১৮৩, হাঃ ১০১)। এর সানাদ দুর্বল। সানাদে দাউদ তুফাবিয়্যা রহিয়াছে। ইবনি মাঈন বলেন ঃ তিনি কিছুই না। হাফিযআত-ত্বাকরীব বলেন ঃ তিনি হাদিস বর্ণনায় শিথিল।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫০৯

আলী ইবনি আবু ত্বালিব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) নামাজের সালাম ফিরানোর পর বলিতেনঃ আল্লাহুম্মাগ ফিরলী মা ক্বাদ্দামতু ওয়ামা আখ্খারতু ওয়ামা আসরারতু ওয়ামা আলানতু ওয়ামা আসরাফতু ওয়ামা আনতা আলামু বিহি মিন্নী আনতাল মুকাদ্দিমু ওয়া আনতাল মুয়াখখিরু লা ইলাহা ইল্লা আনতা।” অর্থঃ হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করুন যা কিছু আমি পূর্বে ও পরে করেছি, গোপনে, প্রকাশ্যে ও সীমালঙ্ঘন করেছি, এবং যা আমার চেয়ে আপনি অধিক জ্ঞাত। আপনিই আদি ও অন্ত। আপনি ছাড়া কোন ইলাহ নেই।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১০

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) দুআ করতেন ঃ “হে আমার রব্ব! আমাকে সাহায্য করুন, আমার বিরুদ্ধে সাহায্য করবেন না। শত্রুর বিরুদ্ধে আমাকে প্রতারিত করুন, কিন্তু তাকে আমার উপর প্রতারক বানাবেন না। আমাকে কল্যাণের পথ দেখান, অভিষ্ট লক্ষ্যে পৌছার পথকে আমার জন্য সহজ করুন, যে আমার বিরুদ্ধে বিদ্রোহী আমাকে তার বিরুদ্ধে সাহায্য করুন, হে আল্লাহ! আমাকে আপনার কৃতজ্ঞ ও স্মরণকারী, ভীত ও আনুগত্যকারী, আপনার প্রতি আস্থাশীল ও আপনার দিকে প্রত্যাবর্তনকারী বানিয়ে দিন। হে রব্ব! আমার তাওবাহ কবুল করুন, আমার সমস্ত গুনাহ ধুয়ে পরিস্কার করুন, আমার ডাকে সাড়া দিন, আমার ঈমান ওআমলের প্রমাণে আমাকে ক্ববরে ফেরেশতাহাঁদের প্রশ্নে স্থির রাখুন, আমার অন্তরকে সরল পথের অনুসারী করুন, আমার জিহ্বাকে সদা সত্য বলার তাওফীক দিন এবং আমার অন্তরকে হিংসা বিদ্বেষ ও যাবতীয় দোষ হইতে মুক্ত রাখুন।”

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১১

সুফয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমিআমর ইবনি মুররাহকে উপরোক্ত সানাদ ও অর্থে হাদিস বর্ণনা করতে শুনিয়াছি। তিনিওয়া ইয়াসসিরিল হুদা ইলাইয়্যা বলেছেন, কিন্তুহুদায়া বলেননি।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১২

আয়েশা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) নামাজের সালাম ফিরানোর পর বলিতেনঃ “আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম ওয়া মিনকাস সালাম তাবারকতা ইয়া যালজালালি ওয়াল ইকরাম”। ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, সুফয়ান (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)আমর ইবনি মুররাহ হইতে আঠারটি হাদিস শুনেছেন, এ হাদিস সেগুলোরই একটি।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১৩

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মুক্তদাস সাওবান (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) নামাজ শেষে তিনবারইস্তিগফার পাঠ করতেন। অতঃপর সাওবান (রাঃআঃ)আল্লাহুম্মা হইতে …..আয়েশার (রাঃআঃ) হাদিসের ভাবার্থ বর্ণনা করেন।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬১ (ইস্তিগফার) ক্ষমা প্রার্থণা সম্পর্কে

১৫১৪

আবু বকর সিদ্দীক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি গুনাহ করার পরপরই ক্ষমা চায়, সে বারবার গুনাহকারী গণ্য হইবে না। যদি সে দৈনিক সত্তর বারও ঐ পাপে লিপ্ত হয়। {১৫১৪}

{১৫১৪} তিরমিযী (অধ্যায় ঃ দাওয়াত, হাঃ ৩৫৫৯, ঈমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদিসটি গরীব, আমরা এটি আবু নাযরাহর হাদিস বলে জানি, এর সানাদ মজবুত নয়উসমান ইবনি ওয়াক্বিদ সূত্রে)। সানাদে আবু বাকর এর মুক্তদাসের জাহলাতের কারণে এর সানাদ দুর্বল।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫১৫

আগার আল-মুযানী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কখনো কখনো আমার হৃৎপিন্ডের উপরও আবরণ পড়ে। তাই আমি দৈনিক একশো বার ক্ষমা চাই।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১৬

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে একশো বার এ দুআ পাঠ করিয়াছেন এবং আমরা তা গণনা করেছি ঃ “রাব্বিগফিরলি ওয়াতুবআলাইয়া ইন্নাকা আনতাত্ তাওয়াবুর রহীম।” প্রভূ হে! আমাকে ক্ষমা করে দাও, আমার তাওবাহ কবুল করে নাও, তুমিই তাওবাহ কবুলকারী ও দয়ালু।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১৭

নাবী (সাঃআঃ) এর মুক্তদাস বিলাল ইবনি ইয়াসার ইবনি যায়িদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

আমি আমার আব্বাকে আমার দাদার সূত্রে বর্ণনা করতে শুনিয়াছি, তিনি নাবী (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি দুআ পাঠ করিবে ঃ “আসতাগফিরুল্লাহ আল্লাযী লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়ুম ওয়া আতূবু ইলাইহি” সে জিহাদের ময়দান হইতে পলায়ন করলেও তাকে ক্ষমা করা হইবে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫১৮

ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কোন ব্যক্তি নিয়মিত ইসতিগফার পড়লে আল্লাহ তাকে প্রত্যেক বিপদ হইতে মুক্তির ব্যবস্থা করবেন, সকল দুশ্চিন্তা হইতে মুক্ত করবেন এবং তাকে এমন উৎস থেকে রিযিক্ব দিবেন যা সে কল্পনাও করতে পারবে না। {১৫১৮}

{১৫১৮} ইবনি মাজাহ (অধ্যায় ঃ আদব, অনুঃ ইসতিগফার, হাঃ ৩৮১৯), বায়হ্বাকীসুনানুল কুবরা (৩/৩৫১) হিশাম ইবনিউমারাহ হইতে। এর সানাদ দুর্বল। সানাদে হাকাম ইবনি মুসআব সম্পর্কে হাফিয বলেন ঃ মাজহুল (অজ্ঞাত)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫১৯

আবদুলআযীয ইবনি সুহাইব (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা ক্বাতাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আনাস (রাঃআঃ)-কে নাবী (সাঃআঃ) অধিকাংশ সময় কোন দুআ পাঠ করতেন তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি অধিকাংশ সময় এ দুআ পাঠ করতেনঃ “আল্লাহুম্মা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতান ওয়া ফিল আখিরাতি হাসনাতাও ওয়াক্বিনাআযাবান নারি।” যিয়াদের বর্ণনায় এটাও রহিয়াছে যে, আনাস (রাঃআঃ) কেবল একটি দুআ দিয়ে মুনাজাতের ইচ্ছা করলে এটিই পাঠ করতেন, আর একাধিক দুআ পড়তে চাইলেও তাতে এ দুআ শামিল করতেন।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২০

আবু উমামাহ ইবনি সাহল ইবনি হুনাইফ (রাঃআঃ) হইতে তার পিতার সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি খাঁটি অন্তরে আল্লাহর নিকট শাহাদাত চায়, আল্লাহ তাকে শহীদদের মর্যাদা দিবেন, যদিও সে নিজ বিছানায় মৃত্যুবরণ করে।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২১

আসমা ইবনিল হাকাম (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমিআলী (রাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, আমি এমন এক ব্যক্তি, যখন আমি  রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) হইতে কোনো হাদিস শুনি, তখন তার মাধ্যমে মহান আল্লাহ যতটুকু চান কল্যাণ লাভ করি। কিন্তু যদি তাহাঁর কোন সাহাবী আমাকে হাদিস বর্ণনা করেন, আমি তাকে (সত্যতা যাচাইয়ের জন্য) শপথ করাতাম। তিনি শপথ করলে আমি তাকে বিশ্বাস করতাম। তিনি বলেন, আবু বকর (রাঃআঃ) আমাকে একটি হাদিস বর্ণনা করিলেন, মূলতঃ তিনি সত্যই বলেছেন। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনিয়াছি, যখন কোনো বান্দা কোনরূপ গুনাহ করার পর উত্তমরূপে উযু করে দাঁড়িয়ে দু রাকআত নামাজ আদায় করে এবং আল্লাহর নিকট গুনাহের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তাকে ক্ষমা করেন। অতঃপর তিনি প্রমাণ হিসেবে এ আয়াত তিলাওয়াত করেন ঃ “এবং যখন তারা কোনো অন্যায় কাজ করে কিংবা নিজেদের উপর অত্যাচার করে……..আয়াতের শেষ পর্যন্ত (সূরাহ আলেইমরান ঃ ১৩৫)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২২

মুআয ইবনি জাবাল (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তার হাত ধরে বলিলেন, হে মুআয! আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি, আল্লাহর শপথ! আমি অবশ্যই তোমাকে ভালবাসি। তিনি বলিলেন, হে মুআয! আমি তোমাকে ওয়াসিয়াত করছি, তুমি প্রত্যেক নামাজের পর এ দুআটি কখনো পরিহার করিবে না ঃ “আল্লাহুম্মা আঈন্নীআলা যিকরিকা ওয়া শুকরিকা ওয়া হুসনিইবাদাতিকা” (অর্থ ঃ হে আল্লাহ! আপনার স্মরণে, আপনার কৃতজ্ঞতা প্রকাশে এবং আপনার উত্তমইবাদাতে আমাকে সাহায্য করুন)। অতঃপর মুআয (রাঃআঃ) আস-সুনাবিহী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি)-কে এবং আস-সুনাবিহীআবদুর রহমানকে এরূপ দুআ করার ওয়াসিয়াত করেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২৩

উক্ববাহ ইবনিআমির (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে প্রত্যেক নামাজের পরকুল আঊযু বি-রব্বিল ফালাক্ব ও কুল আঊযু বি-রব্বিন্ নাস সূরাহ দুটি পাঠ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২৪

আবদুল্লা ইবনি মাসউদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তিনবার দুআ পাঠ করা এবং তিনবার ক্ষমা চাওয়া পছন্দ করতেন। {১৫২৪}

{১৫২৪} আহমাদ (হাঃ ৩৭৪৪) শায়খ আহমাদ শাকির বলেন ঃ এর সানাদ সহিহ। নাসায়ীআমালুল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ (৪৫৭), ইবনি হিব্বানমাওয়ারিদ (হাঃ ২৪১০) এবংইহসান (হাঃ ৯১৯) সকলে আবু ইসহাক্ব হইতে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫২৫

আসমা বিনতু উমাইস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে বলেন, আমি কি তোমাকে এমন কয়েকটি বাক্য শিক্ষা দিবো না, যা তুমি বিপদের সময় পাঠ করিবে? তা হচ্ছে ঃ “আল্লাহু আল্লাহু রব্বী লা উশরিকু বিহি শাইয়ান” (অর্থ ঃ আল্লাহ! আল্লাহ! আমার রব্ব! তাহাঁর সাথে আমি কাউকে শরীক করি না)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২৬

আবুউসমান আন-নাহদী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃআঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) সাথে এক সফরে ছিলাম। অতঃপর আমরা মদীনার নিকটবর্তী হলে লোকেরা উচ্চস্বরে তাকবীর বললো। তখন রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা তো কোনো বধির কিংবা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না, যাকে তোমরা ডাকছো তিনি তোমাদের বাহনের ঘাড়ের চাইতেও অতি নিকটে আছেন। এরপর রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ হে আবু মূসা! আমি কি তোমাকে আল্লাহর ধন-ভান্ডারসমূহ হইতে একটি ভান্ডারের খোঁজ দিবো না। আমি বললাম, সেটা কি? তিনি বললেনঃ “লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।”

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম এ কথাটি বাদে ঃ “তোমরা যাকে ডাকছো তিনি তোমাদের বাহনের ঘাড়ের চাইতেও অতি নিকটে আছেন।” কেননা এ অংশটুকু মুনকার।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২৭

আবু মূসা আল-আশআরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

একদা তারা আল্লাহর নাবী (সাঃআঃ) এর সঙ্গে পাহাড়ী পথে এক টিলার চূড়ায় আরোহণকালে এক ব্যক্তি উচ্চস্বরে বললো,লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবার। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বললেনঃ নিশ্চয়ই তোমরা কোনো বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না। অতঃপর তিনি বললেনঃ হেআবদুল্লা ইবনি ক্বায়িস….এরপর অবশিষ্ট পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ।১

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২৮

আবু মূসা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

পূর্ববর্তী হাদিসের অনুরূপ বর্ণিত। তাতে তিনি বলেন, অতঃপর নাবী (সাঃআঃ) বললেনঃ হে লোক সকল! তোমরা নিজেদের নফসের প্রতি সদয় হও।

সহিহ ঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫২৯

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন যে ব্যক্তি বলে ঃ আমি আল্লাহকে রব্ব, ইসলামকে দ্বীন এবং মুহাম্মদ (সাঃআঃ)-কে রসূল হিসেবে সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিয়েছি, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৩০

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ কেউ আমার উপর একবার দরূদ পড়লে আল্লাহ তার উপর দশটি রহমাত বর্ষণ করেন।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৩১

আওস ইবনি আওস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) বলেছেন, তোমাদের সর্বোত্তম দিনগুলোর মধ্যে জুমুআহর দিনটি উৎকৃষ্ট। কাজেই এ দিনে তোমরা আমার প্রতি বেশী পরিমাণে দরূদ পাঠ করিবে। কেননা তোমাদের দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়। বর্ণনাকারী বলেন, তারা বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমাদের দরূদ আপনার কাছে কিভাবে উপস্থিত করা হইবে অথচ আপনি তো মাটির সাথে মিশে যাবেন? বর্ণনাকারী বলেন, লোকেরা বললো, আপনি তো নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবেন। তিনি (সাল্লাল্লাহিআলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ নাবীদের দেহকে মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬২ কোন ব্যক্তির স্বীয় পরিবার ও সম্পদকে বদ্দুআ করা নিষেধ

১৫৩২

জাবির ইবনিআবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেনঃ তোমরা নিজেদেরকে বদ্দুআ করো না, তোমাদের সন্তানদের বদ্দুআ করো না, তোমাদের খাদিমদের বদ্দুআ করো না এবং তোমাদের ধন-সম্পদের উপরও বদ্দুআ করো না। কেননা ঐ সময়টি আল্লাহর পক্ষ হইতে কবুলের মূহুর্তও হইতে পারে, ফলে তা কবুল হয়ে যাবে।

সহিহ ঃ মুসলিম।

ঈমাম আবু দাউদ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) বলেন, এ হাদিসটি মুত্তাসিল।উবাদা ইবনিল ওয়ালীদ ইবনিউবাদাহ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) জাবিরের (রাঃআঃ) সাক্ষাত পেয়েছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬৩ নাবী-রসূল ছাড়া অন্যের উপর দরূদ পাঠ সম্পর্কে

১৫৩৩

জাবির ইবনিআবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নাবী (সাঃআঃ)-কে বললো, আপনি আমার ও আমার স্বামীর জন্য দুআ করুন। তখন নাবী (সাঃআঃ) বলিলেন, তোমার উপর ও তোমার স্বামীর উপর আল্লাহর রহমাত বর্ষণ করুন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬৪ কারো অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করা সম্পর্কে

১৫৩৪

আবু দারদা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ)-কে বলিতে শুনেছেন, যখন কোন ব্যক্তি তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করে, তখন ফেরেশতাগণ বলেন, আমীন, এবং তোমার জন্যও অনুরূপ হইবে।

সহিহ ঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৩৫

আবদুল্লা ইবনি আমর ইবনিলআস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, অনুপস্থিত ব্যক্তিদের পরস্পরের জন্য দুআ অতি দ্রুত কবুল হয়। {১৫৩৫}

{১৫৩৫} এর সানাদ দুর্বল। বোখারিআদাবুল মুফরাদ (অধ্যায় ঃ আদাব, অনুঃ ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দুআ করা, হাঃ ৬২৩), তিরমিযী (অধ্যায় ঃ বির ওয়াস সিলাহ, অনুঃ এক ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে আরেক ভাইয়ের তার জন্য দুআ করা, হাঃ ১৯৮০, ঈমাম তিরমিযী বলেন, এ হাদিসটি গরীব, আমরা এটি কেবল এ সূত্রেই অবগত হয়েছি, সানাদের আফরীকীকে হাদীসে দুর্বল বলা হয়)। হাফিয আত-তাক্বরীব গ্রন্থে আফরীকীকে দুর্বল বলেছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৩৬

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলেন, তিন ব্যক্তির দুআ নিঃসন্দেহে কবুল হয় ঃ (এক) পিতার দুআ, (দুই) মুসাফিরের দুআ, (তিন) মজলুমের দুআ।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬৫ কোন সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতির আশংকা করলে যে দুআ পড়তে হয়

১৫৩৭

আবু বুরদা ইবনিআবদুল্লা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তার পিতা তাকে বর্ণনা করেন যে, নাবী (সাঃআঃ) কোন সম্প্রদায় দ্বারা ক্ষতির আশংকা করলে বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমরা তাহাঁদের মোকাবিলায় তোমাকে যথেষ্ট ভাবছি এবং তাহাঁদের অনিষ্ট হইতে তোমার কাছে আশ্রয় চাইছি”।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬৬ ইস্তিখারা সম্পর্কে

১৫৩৮

জাবির ইবনিআবদুল্লা (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাদেরকে কুর্‌আনের সুরাহ্‌ শিক্ষা দানের মত ইস্তিখারাও শিক্ষা দিতেন। তিনি (সাঃআঃ) আমাদেরকে বলেতেনঃ তোমাদের কেউ কোন গুরুত্বপূর্ণ কাজের মনস্থ করলে সে যেন ফরয ছাড়া দু রাকআত নফল নামাজ আদায় করে এবং বলেঃ হে আল্লাহ! আমি আপনার অবগতির মাধ্যমে আপনার কাছে ইস্তিখারা করছি। আপনার কুদরত এর মাধ্যমে আমি শক্তি কামনা করি। আমি আপনার মহান অনুগ্রহ কামনা করি। আপনিই ক্ষমতাবান, আমার কোন ক্ষমতা নেই। আপনিই সবকিছু অবগত, আমি অজ্ঞ। আপনিই অদৃশ্য সম্পর্কে জ্ঞাত। হে আল্লাহ! আপনি জানেন যে আমার এ কাজ (এ সময় নির্দিষ্ট কাজের নাম বলবে) আমার দ্বীন, পার্থিব জীবন, পরকাল এবং সর্বোপরি আমার পরিণামে কল্যাণকর হলে তা আমাকে হাসিল করার শক্তি দিন, আমার জন্য তা সহজ করে দিন এবং আমার জন্য তাতে বরকত দিন। আর আপনার অবগতিতে সেটা আমার জন্য প্রথমে উল্লিখিত কাজসমূহে অকল্যাণকর হলে আমাকে তা থেকে দূরে রাখুন এবং সেটিকেও আমার থেকে দূরে রাখুন। আমার জন্য যা কল্যাণকর আমাকে তাই হাসিল করার শক্তি দিন, তা যেখানেই থাক না কেন। অতঃপর আপনি আমার উপর সন্তুষ্ট থাকুন, অথবা বলেছেন, অবিলম্বে কংবা দেরীতে।

সহীহঃ বোখারি।

ঈমাম আবু দাউদ বলেন, ইবনি মাসলাম ও ইবনি ঈসা (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) মুহাম্মদ ইবনিল মুনকাদির থেকে তিনি জাবির (রাঃআঃ) থেকে হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন।

এক নজরে ইস্তিখারা নামাজের পদ্ধতিঃ

(১) ইস্তিখারা করতে হইবে সাদা মনে। এ সময় কোন বিষয়ে দৃঢ় সকল্প করিবে না। কেননা তাতে ইস্তিখারা করার পরে ও তার ঐ দৃঢ় সকল্পই তার মনে উদয় হইবে।

(২) ইস্তিখারার পর তার মন যেদিকে টানবে সে তাই করিবে। এতে ইনশাআল্লাহ সে নিরাশ হইবে না। উল্লেখ্য-ইস্তিখারার পরে ঐ বিষয়ে স্বপ্ন দেখা বা উক্ত বিষটি তার কাছে পরিস্কার হয়ে যাওয়া-এমন কোন শর্ত নাই। বরং মনের আকর্ষণ যে দিকে যাবে সেভাবেই কাজ করতে হইবে।

(৩) ইস্তিখারার নামাজ দিনে রাতে যে কোন সময় পড়া যাবে। তবেইশার নামাজের পরে ঘুমানোর পূর্বে এটি আদায় করা উত্তম। আর এর পর সে কোন কথা বলবে না।

(৪) ঈমাম শাওকানী বলেনঃ ইস্তিখারা একই বিষয়ে একাধিক বার করা যেতে পারে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে যে, নাবী (সাঃআঃ) কখনো দুআ করলে একই সময়ে তিনবার দুআ করতেন।

(৫) ফার্‌য নামাজের জন্য নির্ধারিত সুন্নাত সমূহে কিংবা তাহিয়্যাতুল মাসজিদের দুরাকাআত নামাজে অথবা পৃথকভাবে দুরাকাআত নফল নামাজে ইস্তিখারার দুআ পাঠের মাধ্যমে এ নামাজ আদায় করা যেতে পারে।

(৬) ইস্তখারার নামাজে সূরা ফাতিহা পাঠের পরে যে কোন সূরা পাঠ করিবে। অতঃপর হামদ ও দরূদ পাঠ করিবে। তারপর ইস্তিখারার দুআটি পাঠ করিবে।

(৭) ইস্তিখারার দুআ নামাজের মধ্যে ক্বিরাতের পর রুকূর পূর্বে, কিংবা সিজদাতে অথবা সালাম ফিরানোর পূর্বে সর্বাবস্থায় পাঠ করা যাবে।

(৮) ঈমাম শাওকানী বলেনঃ নামাজ শেষে সালাম ফিরানোর পরে অন্যান্য দুআর ন্যায় ইস্তিখারার দুআ পাঠ করা যাবে এবং এ বিষয়ে কোন মতভেদ নেই। (নায়লুল আওত্বার, সালাতুর রাসূল ও অন্যান্য)

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

অনুচ্ছেদ-৩৬৭ (আল্লাহর কাছে) আশ্রয় প্রার্থণা করা

১৫৩৯

উমার ইবনিল খাত্তাব (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন নাবী (সাঃআঃ) পাঁচটি বস্তু হইতে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেনঃ ভীরুতা, কৃপণতা, বয়োবৃদ্ধি জনিত দূরাবস্থা, অন্তরের ফিতনাহ এবং ক্ববরের শাস্তি হইতে। {১৫৩৯}

{১৫৩৯} নাসায়ী (অধ্যায়ঃ আশ্রয় প্রার্থণা করা, হাদীসঃ ৫৪৪৩), ইবনি মাজাহ (অধ্যায়ঃ দুআ, হাঃ ৩৮৪৪)।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৪০

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট অক্ষমতা, অলসতা, ভীরুতা, কৃপণতা ও বার্ধক্য হইতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই ক্ববরের শাস্তি হইতে এবং আশ্রয় চাই জীবন ও মরণের বিপদাপদ হইতে”।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪১

আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নাবী (সাঃআঃ) এর খিদমাত করতাম। আমি তাকে অধিকাংশ সময় বলিতে শুনেছিঃ “হে আল্লাহ! আমি দুশ্চিন্তা, দুঃখ-বেদনা, ঋণের বোঝা এবং মানুষের নির্যাতন হইতে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”।

সহীহঃ বোখারি

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪২

আবদুল্লা ইবনি আব্বাস  (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাহাঁদের নিচের দুআটি এমনভাবে শিখাতেন, যেমনভাবে তাহাঁদেরকে কুর্‌আনের সূরাহ শিক্ষা দিতেন। তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জাহান্নামের আযাব হইতে আশ্রয় চাই, ক্ববরের আযাব হইতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই মাসীহ দাজ্জালের ফিতনাহ হইতে এবং আশ্রয় চাই জীবন মরণের বিপদাপদ হইতে”।

সহীহঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৩

আশিয়াহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) এ বাক্যগুলো দিয়ে দুআ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি জাহান্নামের পরীক্ষা, আগুনের আযাব এবং প্রাচুর্য ও দারিদ্র্যের মধ্যে নিহিত অকল্যাণ হইতে আপনার কাছে আশ্রয় চাই”।

সহীহঃ বোখারি ও মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৪

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাইছি দরিদ্রতা হইতে, আপনার কম দয়া হইতে ও অসম্মানী হইতে। আমি আপনার নিকট আরো আশ্রয় চাইছি যুলুম করা হইতে অথবা অত্যাচারিত হওয়া হইতে।”

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৫

ইবনি উমার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহর (সাঃআঃ) বিভিন্ন দুআর মধ্যে এটাও অন্যতমঃ “হে আল্লাহ ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই আপনার নিয়ামতে বিলুপ্তি, আপনার অনুকম্পার পরিবর্তন, আকস্মিক শাস্তি এবং আপনার সমস্ত ক্রোধ হইতে”।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৬

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এ বলে দুআ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট ঝগঢ়া-বিবাদ, মুনাফেকী ও দুশ্চরিত্রতা থেকে আশ্রয় চাই। ” {১৫৪৬}

{১৫৪৬} নাসায়ী (অধ্যায়ঃ আশ্রয় প্রার্থণা করা, অনুঃ মুনাফিকী হইতে আশ্রয় চাওয়া,হাঃ ৫৪৮৬), হাদিসটি মুনষিরীআত-তারগীব গ্রন্থে (৩/৪১৩) এবং তাবরীযীমিশকাত গ্রন্থে (২৪৬৮) উল্লেখ করিয়াছেন।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

১৫৪৭

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুর্ভিক্ষ ও ক্ষুধা হইতে আশ্রয় চাই, কারণ তা নিকৃষ্ট শয্যাসঙ্গী। আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই খিয়ানত করা হইতে, কেননা তা খুবই নিকৃষ্ট বন্ধু”। {১৫৪৭}

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫৪৮

আবু হুরাইরাহ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চারটি বস্তু হইতে আশ্রয় চাইঃ এমন জ্ঞান যা উপকারে আসে না, এমন হৃদয় যা ভীত হয় না, এমন আত্মা যা তৃপ্ত হয় না এবং এমন দুআ যা কবুল হয় না”।

সহীহঃ মুসলিম,যায়দ ইবনি আরক্বাম হইতে।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৪৯

আবুল মুতামির (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

আমার ধারণা আনাস ইবনি মালিক (রাঃআঃ) আমাদেরকে এ হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন যে, নাবী (সাঃআঃ) বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই এমন নামাজ হইতে যা উপকার দেয় না। ” এছাড়া অন্য দুআ ও উল্লেখ করেন”।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫০

ফারওয়াহ ইবনি নাওফাল আল-আশজাঈ (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমি উম্মুল মুমিনীন (রাঃআঃ) কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কি দুআ পড়তেন তা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, তিনি বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আমার কর্মের অনিষ্টতা হইতে আশ্রয় চাই, যা আমি করেছি এবং যা আমি এখনও করি নাই। ”

সহীহঃ মুসলিম।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫১

আবু আহমাদ শাকাল ইবনি হুমাইদ (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আমাকে একটি দুআ শিক্ষা দিন। তিনি বললেনঃ তুমি বলোঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কানের অশ্লীল শ্রবণ, চোখের কুদৃষ্টি, জিহবার কুবাক্য, অন্তরের কপটতা ও কামনার অনিষ্টতা হইতে আশ্রয় চাই। ”

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫২

আবুল ইয়াসার (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এরূপ দুআ করতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ হইতে আশ্রয় চাই, আশ্রয় চাই গহ্বরে পতিত হয়ে মৃত্যুবরণ হইতে, আমি আপনার নিকট হইতে আশ্রয় চাই পানিতে ডুবে ও আগুনে পুড়ে মৃত্যুবরণ হইতে এবং অতি বার্ধক্য হইতে। আমি আপনার নিকট আশ্রয় চাই মৃত্যুকালে শাইত্বানের প্রভাব হইতে, আমি আশ্রয় চাই আপনার পথে জিহাদ থেকে পলায়নপর অবস্থায় মৃত্যুবরণ করা হইতে এবং আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই বিষাক্ত প্রানীর দংশনে মৃত্যুবরণ হইতে। ”

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৩

আবুল ইয়াসার (রাঃআঃ) সূত্র হইতে বর্ণিতঃ

(পূর্বোক্ত হাদিসের অনুরূপ) বর্ণিত। তাতে আরো রয়েছেঃ “দুশ্চিন্তা হইতে আশ্রয় চাই”।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৪

আনাস (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

নাবী (সাঃআঃ) বলিতেনঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই শ্বেত, উন্মাদনা, কুষ্ঠ এবং সমস্ত দুরারোগ্য ব্যাধি হইতে। ”

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

১৫৫৫

আবু সাঈদ আল-খুদরী (রাঃআঃ) হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাসজিদে প্রবেশ করে সেখানে আবু উমামাহ নামক এক আনসারী সাহাবীকে দেখিতে পেয়ে তাকে বললেনঃ হে আবু উমামাহ! কি ব্যাপার! আমি তোমাকে নামাজের ওয়াক্ত ছাড়া মাসজিদে বসে থাকতে দেখছি? তিনি বলিলেন, সীমাহীন দুশিন্তা ও ঋণের বোঝার কারণে হে আল্লাহর রসূল! তিনি বললেনঃ আমি কি তোমাকে এমন কিছু বাক্য শিখিয়ে দিবো না, তুমি তা বললে আল্লাহ তোমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন এবং তোমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থা ও করে দিবেন? তিনি বলিলেন,আমি বললাম, হাঁ, হে আল্লাহর রসূল! তিনি (সাঃআঃ) বললেনঃ তুমি সকাল সন্ধ্যায় বলবেঃ “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে দুশ্চিন্তা ও অস্থিরতা থেকে আশ্রয় চাই। আমি আশ্রয় চাই অক্ষমতা ও অলসতা থেকে, আপনার কাছে আশ্রয় চাই ভীরুতা ও কার্পণ্য হইতে, আমি আপনার কাছে আশ্রয় চাই ঋণের বোঝা ও মানুষের রোষানল হইতে”। আবু উমামাহ (রাঃআঃ) বলেন, আমি তাই করলাম। ফলে মহান আল্লাহ আমার দুশ্চিন্তা দূর করিলেন এবং আমার ঋণ পরিশোধের ব্যবস্থাও করে দিলেন। {১৫৫৫}

১৫৫৫} আবু দাউদ এটি একক ভাবে বর্ণনা করিয়াছেন। যুবাইদী একেআল-ইলতিহাফ (৫/১০০) এবং মুনযিরীআত-তারগীব (হাঃ ২) গ্রন্থে উল্লেখ করিয়াছেন আবু সাঈদ খুদরী সূত্রে। এর সানাদ দুর্বল। সম্ভবত এর দোষ হচ্ছে সানাদের গাস্‌সান ইবনিআওফ। হাফিয বলেনঃ তিনি হাদীসে শিথিল।

বেতের নামাজের নিয়ম হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

By ইমাম আবু দাউদ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply