বেগানা নারী, বালকের দিকে তাকানো ও কালো কলপ হারাম

বেগানা নারী, বালকের দিকে তাকানো ও কালো কলপ হারাম

বেগানা নারী এবং কোনো সুদর্শন বালকের দিকে তাকানো হারাম >> রিয়াদুস সালেহীন  হাদিস শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে রিয়াদুস সালেহীন হাদিস শরীফ এর কয়েকটি পরিচ্ছেদের হাদিস পড়ুন

বেগানা নারী, বালকের দিকে তাকানো ও কালো কলপ হারাম

পরিচ্ছেদ – ২৯০ঃ বেগানা নারী এবং কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম
পরিচ্ছেদ – ২৯১ঃ বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা
পরিচ্ছেদ – ২৯২ঃ বেশ-ভূষায়, চাল-চলন ইত্যাদিতে নারী-পুরুষের পরস্পরের অনুকরণ হারাম
পরিচ্ছেদ – ২৯৩ঃ শয়তান ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ
পরিচ্ছেদ – ২৯৪ঃ কালো কলপ ব্যবহার নর-নারী সকলের জন্য নিষিদ্ধ
পরিচ্ছেদ – ২৯৫ঃ মাথার কিছু অংশ মুন্ডন করা ও কিছু অংশ ছেড়ে রাখা অবৈধ। পুরুষ সম্পূর্ণ মাথা মুন্ডন করিতে পারে; কিন্তু নারীর জন্য তা বৈধ নয়।
পরিচ্ছেদ – ২৯৬ঃ [মহিলাদের কৃত্রিম রূপচর্চা]
পরিচ্ছেদ – ২৯৭ঃ মাথা ও দাড়ি ইত্যাদি থেকে সাদা চুল উপড়ে ফেলা এবং সাবালক ছেলের সদ্য গজিয়ে উঠা দাড়ি উপড়ে ফেলা নিষিদ্ধ

পরিচ্ছেদ – ২৯০ : বেগানা নারী এবং কোনো সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম

মহান আল্লাহ বলেছেন,

﴿ قُل لِّلۡمُؤۡمِنِينَ يَغُضُّواْ مِنۡ أَبۡصَٰرِهِم ٣٠ ﴾ [النور : ٣٠] 

অর্থাৎ ঈমানদারগণকে বল, তারা যেন তাহাদের দৃষ্টিকে সংযত করে। [সূরা নূর ৩০ আয়াত]

    তিনি আরও বলেছেন,

﴿ إِنَّ ٱلسَّمۡعَ وَٱلۡبَصَرَ وَٱلۡفُؤَادَ كُلُّ أُوْلَٰٓئِكَ كَانَ عَنۡهُ مَسۡ‍ُٔولٗا ٣٦ ﴾ [الاسراء: ٣٦] 

অর্থাৎ নিশ্চয় কর্ণ, চক্ষু ও হৃদয় ওদের প্রত্যেকের নিকট কৈফিয়ত তলব করা হইবে। [সূরা বানী ইস্রাঈল ৩৬ আয়াত]

তিনি অন্যত্র বলেছেন, 

﴿ يَعۡلَمُ خَآئِنَةَ ٱلۡأَعۡيُنِ وَمَا تُخۡفِي ٱلصُّدُورُ ١٩ ﴾ [غافر: ١٩] 

অর্থাৎ চক্ষুর চোরা চাহনি ও অন্তরে যা গোপন আছে সে সম্বন্ধে তিনি অবহিত। [সূরা মুমিন ১৯ আয়াত]

তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,

﴿ إِنَّ رَبَّكَ لَبِٱلۡمِرۡصَادِ ١٤ ﴾ [الفجر: ١٤] 

অর্থাৎ নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক সময়ের প্রতীক্ষায় থেকে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন। [সূরা ফাজ্র ১৪ আয়াত]

পরিচ্ছেদ – ২৯০: বেগানা নারী এবং কোন সুদর্শন বালকের দিকে শরয়ী প্রয়োজন ছাড়া তাকানো হারাম

১৬৩০. আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের জন্য ব্যভিচারের অংশ লিখে দিয়েছেন; যা সে অবশ্যই পাবে। সুতরাং চক্ষুদ্বয়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) দর্শন। কর্ণদ্বয়ের ব্যভিচার (অবৈধ যৌনকথা) শ্রবণ, জিভের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) কথন, হাতের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ) ধারণ এবং পায়ের ব্যভিচার (সকাম অবৈধ পথে) গমন। আর হৃদয় কামনা ও বাসনা করে এবং জননেন্দ্রিয় তা সত্য বা মিথ্যায় পরিণত করে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৬২৪৩, ৬৬১২, মুসলিম ২৬৫৭, আবু দাঊদ ২১৫২, আহমাদ ৭৬৬২, ৮১৫৬, ৮৩২১, ৮৩৩৪, ৮৩৯২, ৮৬২৬, ৯০৭৬, ৯২৭৯) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৩১. আবু সাঈদ খুদরী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।’’ লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! ওখানে আমাদের বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় নেই। আমরা (ওখানে) বসে বাক্যালাপ করি।’ রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বললেন, ‘‘যদি তোমরা রাস্তায় বসা ছাড়া থাকতে না পার, তাহলে রাস্তার হক আদায় কর।’’ তারা নিবেদন করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! রাস্তার হক কী?’ তিনি বললেন, ‘‘দৃষ্টি অবনত রাখা, (অপরকে) কষ্ট দেওয়া থেকে বিরত থাকা, সালামের জবাব দেওয়া এবং ভাল কাজের আদেশ দেওয়া ও মন্দ কাজে বাধা প্রদান করা।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২৪৬৫, ৬২২৯, মুসলিম ১২১১, ২১১৬, আবু দাঊদ ৪৮১৫, আহমাদ ১০৯১৬, ১১০৪৪, ১১১৯২) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৩২. আবু ত্বালহা যায়েদ ইবনে সাহ্ল রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একদা আমরা ঘরের বাইরে অবস্থিত প্রাঙ্গণে বসে কথাবার্তায় রত ছিলাম। ইত্যবসরে রসুলুল্লাহ সাঃআঃ (সেখানে) এসে আমাদের নিকট দাঁড়িয়ে বললেন, ‘‘তোমরা রাস্তায় বৈঠক করছ? তোমরা রাস্তায় বসা থেকে বিরত থাক।’’ আমরা নিবেদন করলাম, ‘আমরা তো এখানে এমন উদ্দেশ্যে বসেছি, যাতে (শরীয়তের দৃষ্টিতে) কোন আপত্তি নেই। আমরা এখানে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করা ও কথাবার্তা বলার জন্য বসেছি।’ তিনি বললেন, ‘‘যদি রাস্তায় বসা ত্যাগ না কর, তাহলে তার হক আদায় কর। আর তা হল, দৃষ্টি সংযত রাখা, সালামের উত্তর দেওয়া এবং সুন্দরভাবে কথাবার্তা বলা।’’

(মুসলিম ২১৬১, আহমাদ ১৫৯৩২) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৩৩. জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বললেন, আচমকা দৃষ্টি সম্পর্কে আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ-কে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি বললেন, ‘‘তুমি তোমার দৃষ্টি ফিরিয়ে নাও।’’

(মুসলিম ২১৫৯, তিরমিজী ২৭৭৬, আবু দাঊদ ২১৪৮, আহমাদ ১৮৬৭৯, ১৮৭১৫, দারেমী ২৬৪৩) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৩৪. উম্মু সালামাহ্ রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট ছিলাম। তখন তাঁর নিকট মাইমুনাহ রাদিয়াল্লাহু আনহা-ও ছিলেন। এমন সময় আবদুল্লাহ ইবনু উম্মু মাকতুম এসে হাজির হন। এটা আমাদেরকে পর্দার হুকুম দেয়ার পরবর্তী ঘটনা। রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বললেন: ‘‘তার সম্মুখে পর্দা কর। আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল সাঃআঃ! সে কি অন্ধ নয়? সে তো আমাদেরকে দেখতে পায় না, চিনতেও পারে না। নাবী সাঃআঃ বললেন: তোমরা দু’জনও কি অন্ধ? তাকে কি তোমরা দেখতে পাও না?’’

[আবু দাঊদ, তিরমিজী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন] (আমি [আলবানী] বলছিঃ তিনি এরূপই বলেছেন। আর এর সনদের মধ্যে উম্মু সালামার দাস নাবহান রয়েছেন। তার ব্যাপারে অজ্ঞতা রয়েছে। অর্থাৎ তিনি মাজহূল। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন শাইখ আলবানী রচিত গ্রন্থ ‘‘আররাদ্দুল মুকহিম’’ [১/৬২ হা নং ৫)

হাদীসটির মানঃ অন্যান্য

১৬৩৫. আবু সাঈদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘কোন পুরুষ অন্য পুরুষের গুপ্তাঙ্গের দিকে যেন না তাকায়। কোন নারী অন্য নারীর গুপ্তস্থানের দিকে যেন না তাকায়। কোন পুরুষ অন্য পুরুষের সঙ্গে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে। (অনুরূপভাবে) কোন নারী, অন্য নারীর সাথে একই কাপড়ে যেন (উলঙ্গ) শয়ন না করে।

(মুসলিম ৩৩৮, আহমাদ ১১২০৭) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯১: বেগানা নারীর সঙ্গে নির্জনে একত্রবাস করার নিষেধাজ্ঞা

১৬৩৬. উক্বা ইবনে আমের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

একদা রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বললেন, ‘‘তোমরা (বেগানা) নারীদের নিকট (একাকী) যাওয়া থেকে বিরত থাক।’’ (এ কথা শুনে) জনৈক আনসারী নিবেদন করল, ‘স্বামীর আত্মীয় সম্পর্কে আপনার অভিমত কী?’ তিনি বললেন, ‘‘স্বামীর আত্মীয় তো মুত্যুসম (বিপজ্জনক)।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫২৩২, মুসলিম ২১৭২, তিরমিজী ১১৭১, আহমাদ ১৬৮৯৬, ১৬৯৪৫, দারেমী ২৬৪২)হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৩৭.ইবনে আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘মাহরামের উপস্থিতি ছাড়া কোন পুরুষ যেন কোনো মহিলার সাথে নির্জন-বাস না করে।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ১৮৬২, ৩০০৬, ৩০৬১, ৫২৩৩, মুসলিম ১৩৪১, ইবনু মাজাহ ২৯০০, আহমাদ ১৯৩৫, ৩২২১) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৩৮.বুরাইদা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকদের পক্ষে মুজাহিদদের স্ত্রীদের মর্যাদা তাদের নিজেদের মায়ের মর্যাদার মত। স্বগৃহে অবস্থানকারী লোকদের মধ্যে যে ব্যক্তি কোন মুজাহিদ ব্যক্তির পরিবারের প্রতিনিধিত্ব (দেখা-শুনা) করে, অতঃপর তাদের ব্যাপারে সে তার খেয়ানত ক’রে বসে, তবে কিয়ামতের দিন তাকে মুজাহিদের সম্মুখে দাঁড় করানো হবে এবং সে তার নেকীসমূহ থেকে সন্তুষ্ট না হওয়া পর্যন্ত ইচ্ছামত নেকী নিয়ে নেবে।’’ অতঃপর রসুলুল্লাহ সাঃআঃ আমাদের প্রতি মুখ ফিরিয়ে বললেন, ‘‘তোমাদের ধারণা কী? (সে কি তখন তার কাছ থেকে নেকী নিতে ছাড়বে?]’’

(মুসলিম ১৮৯৭, নাসাঈ ৩১৮৯, ৩১৯০, ৩১৯১, আবু দাঊদ ২৪৯৬, আহমাদ ২২৪৬৮, ২২৪৯৫) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯২:বেশ-ভূষায়, চাল-চলন ইত্যাদিতে নারী-পুরুষের পরস্পরের অনুকরণ হারাম

১৬৩৯. ইবনে আব্বাস রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাঃআঃ নারীর বেশ ধারণকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষের বেশ ধারণকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করিয়াছেন।’

অন্য বর্ণনায় আছে, ‘আল্লাহর রসূল সাঃআঃ মহিলাদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী পুরুষদেরকে এবং পুরুষদের সাদৃশ্য অবলম্বনকারী মহিলাদেরকে অভিশাপ করিয়াছেন।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৮৮৫, ৫৮৮৬, ৬৮৩৬, তিরমিজী ২৭৮৪, আবু দাঊদ ৪০৯৭৮, ৪৯৩০, ইবনু মাজাহ ১৯০৪, আহমাদ ১৯৮৩, ২০০৭, ২১২৪, ২২৬৩, ২২৯১, ৩১৪১, ৩৪৪৮, দারেমী ২৬৪৯) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪০. আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল সাঃআঃ সেই পুরুষকে অভিসম্পাত করিয়াছেন, যে মহিলার পোশাক পরে এবং সেই মহিলাকে অভিসম্পাত করিয়াছেন যে পুরুষের পোশাক পরিধান করে।’

(আবু দাঊদ ৪০৯৮, আহমাদ ৮১১০) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪১.উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘দুই প্রকার জাহান্নামী লোক আমি (এখন পর্যন্ত) প্রত্যক্ষ করিনি (অর্থাৎ পরে তাদের আবির্ভাব ঘটবে) : (১) এমন এক সম্প্রদায় যাদের কাছে গরুর লেজের মত চাবুক থাকবে, যা দিয়ে তারা জনগণকে প্রহার করিবে। (২) এমন এক শ্রেণীর মহিলা, যারা (এমন নগ্ন) পোশাক পরবে যে, (বাস্তবে) উলঙ্গ থাকবে, (পর পুরুষকে) নিজেদের প্রতি আকর্ষণ করিবে ও নিজেরাও (পর পুরুষের প্রতি) আকৃষ্ট হবে। তাদের মাথা হবে উটের হেলে যাওয়া কুঁজের মত। এ ধরনের মহিলারা জান্নাতে প্রবেশ করিবে না এবং তার সুগন্ধও পাবে না। অথচ জান্নাতের সুগন্ধ এত এত দূরত্বের পথ থেকে পাওয়া যাবে।’’

(মুসলিম ২১২৮, আহমাদ ৮৪৫১, ৯৩৩৮৮) উক্ত হাদীসে كَاسِيَات عَارِيَات এর ব্যাখ্যায় অনেকে বলেছেন, তারা আল্লাহর নেয়ামতের লেবাস পরে থাকবে, কিন্তু তাঁর শুকর আদায় থেকে নগ্ন বা শূন্য হবে। অথবা তারা এমন পোশাক পরবে, যাতে তারা তাদের দেহের কিছু অংশ ঢাকবে এবং সৌন্দর্য ইত্যাদি প্রকাশের জন্য কিছু অংশ বের ক’রে রাখবে। অথবা তারা এমন পাতলা পোশাক পরিধান করিবে, যাতে তাদের ভিতরের চামড়ার রঙ বুঝা যাবে। হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯৩: শয়তান ও কাফেরদের অনুকরণ করা নিষেধ

১৬৪২. জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা বাম হাতে আহার করো না। কারণ, শয়তান বাম হাত দিয়ে পানাহার করে।’’

(মুসলিম ২০১৯, ইবনু মাজাহ ৩২২৮, আহমাদ ১৩৭০৪, ১৩৭৬৬, ১৪০৪৩, ১৪০৯৫, ১৪১৭৭, ১৪২৯৫, ১৪২৯৫, ১৪৪৪২, ১৪৭৩৩, মুওয়াত্তা মালিক ১৭১১) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪৩. ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমাদের কেউ যেন বাম হাত দিয়ে অবশ্যই আহার না করে এবং তা দিয়ে অবশ্যই পানও না করে। কেননা, শয়তান বাম হাত দিয়ে পানাহার ক’রে থাকে।’’

(মুসলিম ২০২০, তিরমিজী ১৭৯৯, ১৮০০, আবু দাঊদ ৩৭৭৬, আহমাদ ৪৫২৩, ৪৮৭১, ৫৪৯০, ৫৮১৩, ৬০৮২, ৬০৮২, ৬১৪৯, ৬২৯৬, মুওয়াত্তা মালিক ১৭১২, দারেমী ২০৩০) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪৪. আবু হুরাইরা রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘ইহুদী-খৃষ্টানরা (দাড়ি-মাথার চুলে) কলপ লাগায় না। সুতরাং তোমরা তাদের বিরোধিতা করো।’’ (অর্থাৎ তোমরা তা লাগাও।)

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৪৬২, ৫৮৯৯, মুসলিম ২১০৩, নাসাঈ ৫০৬৯, ৫০৭১, ৫০৭২, ৪২০৩, ইবনু মাজাহ ৩৬২১, আহমাদ ৭২৩২, ৭৪৮৯, ৮০২২, ৮৯৫৬) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯৪: কালো কলপ ব্যবহার নর-নারী সকলের জন্য নিষিদ্ধ

১৬৪৫. জাবের রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আবু বকর সিদ্দীক রাঃআঃ-এর পিতা আবু কুহাফাকে, মক্কা বিজয়ের দিনে এমন অবস্থায় আনা হল যে, তার মাথা ও দাড়ি ‘সাগামাহ’ ঘাসের (সাদা ফুলের) মত সাদা ছিল। (এ দেখে) রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বললেন, ‘‘এ (সাদা রঙ) পরিবর্তন কর। আর কালো রং থেকে দূরে থাকো।’’

(মুসলিম ২১০২, নাসাঈ ৫০৭৬, ৫২৪২, আবু দাঊদ ৪২০৪, ইবনু মাজাহ ৩৬২৪, আহমাদ ১৩৯৯৩, ১৪০৪৬, ১৪২৩১) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯৫: মাথার কিছু অংশ মুণ্ডন করা ও কিছু অংশ ছেড়ে রাখা অবৈধ। পুরুষ সম্পূর্ণ মাথা মুণ্ডন করতে পারে; কিন্তু নারীর জন্য তা বৈধ নয়।

১৬৪৬. ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘রসুলুল্লাহ সাঃআঃ মাথার কিছু অংশ নেড়া করতে ও কিছু অংশে চুল রেখে দিতে নিষেধ করিয়াছেন।’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৯২০, ৫৯২১, মুসলিম ২১২০, নাসাঈ ৫০৫০, ৫০৫১, ৫২২৮-৫২৩১, অদা ৪১৯৩, ৪১৯৪, ইবনু মাজাহ ৩৬৩৭, ৩৬৩৮, আহমাদ ৪৪৫৯, ৪৯৫৩, ৫১৫৩, ৫৩৩৩, ৫৫২৩, ৫৫২৫, ৫৫৮৩, ৫৮১২, ৬৪২৩) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪৭. উক্ত রাবী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ একটি শিশুকে দেখলেন যে, তার মাথার কিছু চুল কামানো হয়েছে এবং কিছু চুল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। (এরূপ দেখে) তিনি তাদের (লোকদের)কে এ কাজ থেকে নিষেধ করলেন এবং বললেন, ‘‘(হয়) সম্পূর্ণ মাথার চুল চেঁছে দাও; না হয় সম্পূর্ণ মাথার চুল রেখে দাও।’’

[আবু দাঊদ, বুখারী-মুসলিমের শর্তাধীন সূত্রে] (সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৯২০, ৫৯২১, মুসলিম ২১২০, নাসাঈ ৫০৫০, ৫০৫১, ৫২২৮-৫২৩১, আবু দাঊদ ৪১৯৩, ৪১৯৪, ৪১৯৫, ইবনু মাজাহ ৩৬৩৭, ৩৬৩৮, আহমাদ ৪৪৫৯, ৪৯৫৩, ৫১৫৩, ৫৩৩৩, ৫৫২৩, ৫৫২৫, ৫৫৮৩, ৫৮১২, ৬৪২৩) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪৮. আব্দুল্লাহ ইবনে জা’ফর রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

নবী সাঃআঃ জা’ফরের পরিবারকে (তার শাহাদত বরণের সময় শোক পালনের উদ্দেশ্যে) তিনদিন পর্যন্ত অবকাশ দিয়েছিলেন। তারপর তিনি তাদের কাছে এসে বললেন, ‘‘তোমরা আজ থেকে আমার ভাইয়ের জন্য কান্না করিবে না।’’ তারপর বললেন, ‘‘আমার জন্য আমার ভাইপোদেরকে ডেকে দাও।’’ সুতরাং আমাদেরকে (রসুলুল্লাহ-এর সামনে) এমন অবস্থায় উপস্থিত করা হল, যেন আমরা পাখীর ছানা। অতঃপর তিনি বললেন, ‘‘নাপিত ডেকে নিয়ে এসো।’’ (সে উপস্থিত হলে) তাকে (আমাদের চুল কামানোর জন্য) আদেশ করলেন। সে আমাদের মাথা নেড়া ক’রে দিল।

[আবু দাঊদ, বুখারী-মুসলিমের শর্তানুযায়ী বিশুদ্ধ সনদ-সূত্রে] (আবু দাঊদ ৪১৯২, নাসাঈ ৫২২৭, আহমাদ ১৭৫৩ ) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৪৯. আলী রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ নারীদেরকে তাদের মাথার চুল মুণ্ডন করতে নিষেধ করিয়াছেন।

(নাসাঈ, আমি [আলবানী] বলছিঃ তিরমিজীও বর্ণনা করিয়াছেন এবং তিনি এর সনদে ইযতিরাব সংঘটিত হয়েছে বলে সমস্যা বর্ণনা করিয়াছেন। আমি ‘‘য‘ঈফাহ্’’ গ্রন্থে [নং ৬৭৮] বিস্তারিত আলোচনা করেছি।) হাদীসটির মানঃ দুর্বল হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯৬: (মহিলাদের কৃত্রিম রূপচর্চা)

১৬৫০. আসমা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

এক মহিলা নবী সাঃআঃ-এর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করল, ‘হে আল্লাহর রসূল! আমার মেয়ে এক প্রকার চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে। ফলে তার মাথার চুল ঝরে গেছে। আর আমি তার বিয়েও দিয়েছি। এখন কি আমি তার মাথায় পরচুলা লাগিয়ে দেব?’ তিনি বললেন, ‘‘যে পরচুলা লাগিয়ে দেয় এবং যার লাগানো হয় উভয় মহিলাকে আল্লাহ অভিসম্পাত করুন বা করিয়াছেন।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৯৩৫, ৫৯৩৬, ৫৯৪১, মুসলিম ২১২২, নাসাঈ ৫০৯৪, ৫২৫০, ইবনু মাজাহ ১৯৮৮, আহমাদ ২৪২৮২, ২৬৩৭৮, ৩৬৩৯১, ২৬৪২০, ২৬৪৩৯) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৫১. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

উক্ত-রূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫২০৫, মুসলিম ২১২৩, নাসাঈ ৫০৯৭, আহমাদ ২৪২৮২, ২৪৩২৯, ২৫৩৮১, ২৫৪৩৮, ২৫৫৯৭, ২৫৬৭৪) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৫২. হুমাইদ ইবনে আব্দুর রাহমান রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি হজ্জ করার বছরে মুআবিয়া রাঃআঃ-কে মিম্বরে দাঁড়িয়ে বলতে শুনেছেন—ঐ সময়ে তিনি জনৈক দেহরক্ষীর হাত থেকে এক গোছা চুল নিজ হাতে নিয়ে বললেন, ‘হে মদীনাবাসীগণ! তোমাদের আলেমগণ কোথায়? আমি রসুলুল্লাহ সাঃআঃ-কে এরূপ জিনিস (ব্যবহার) নিষেধ করতে শুনেছি। তিনি বলতেন, ‘‘বানী ইস্রাঈল তখনই ধ্বংস হয়েছিল, যখন তাদের মহিলারা এই জিনিস ব্যবহার করতে আরম্ভ করেছিল।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৩৪৬৮, ৩৪৮৮, ৫৯৩৩, ৫৯৩৮, মুসলিম ২১২৭, তিরমিজী ২৭৮১, নাসাঈ ৫২৪৫, ৫২৪৬, আবু দাঊদ ৪১৬৭, আহমাদ ১৬৩৮৮, ১৬৪০১, ১৬৪২৩, ১৬৪৮২, ২৭৫৭৮, মুওয়াত্তা মালিক ১৭৬৫) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৫৩. ইবনে উমার রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

রসুলুল্লাহ সাঃআঃ পরচুলা যে মহিলা লাগিয়ে দেয় এবং যে পরচুলা লাগাতে বলে, আর যে মহিলা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে উলকি উৎকীর্ণ করে ও যে উলকি উৎকীর্ণ করতে বলে তাদেরকে অভিশাপ করিয়াছেন।

(সহীহুল বুখারী শরীফ ৫৯৩৭, ৫৯৪০, ৫৯৪২, ৫৯৪৭, মুসলিম ২১২৪, তিরমিজী ১৭৫৯, ২৭৮৩, নাসাঈ ৩৪১৬, ১৫৯৫, ৫২৫১, আবু দাঊদ ৪১৬৮, ইবনু মাজাহ ১৯৮৭, আহমাদ ৪৭১০) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

১৬৫৪. আব্দুললাহ ইবনে মাসঊদ রাঃআঃ হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, ‘আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা দেহাঙ্গে উলকি উৎকীর্ণ করে এবং যারা উৎকীর্ণ করায় এবং সে সব নারীদের উপর, যারা ভ্রূ চেঁছে সরু (প্লার্ক) করে, যারা সৌন্দর্যের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, যারা আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।’ জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তাঁর (ইবনে মাসঊদের) প্রতিবাদ করলে তিনি বললেন, ‘আমি কি তাকে অভিসম্পাত করব না, যাকে আল্লাহর রসূল সাঃআঃ অভিসম্পাত করিয়াছেন এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে? আল্লাহ বলেছেন, ‘‘রসূল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহণ কর, আর যা থেকে নিষেধ করিয়াছেন, তা থেকে বিরত থাক।’’

[সূরা হাশর ৭ আয়াত, বুখারী ও মুসলিম] ( সহীহুল বুখারী শরীফ ৪৮৮৬, ৪৮৮৭, ৫৯৩১, ৫৯৩৯, ৫৯৪৩, ৫৯৪৮, মুসলিম ২১২৫, তিরমিজী ২৭৮২, নাসাঈ ৫০৯৯, ৫১০৭-৫১০৯, ৫২৫২-৫২৫৪, আবু দাঊদ ৪১৬৯, ইবনু মাজাহ ১৯৮৯, আহমাদ ৩৮৭১, ৩৯৩৫, ৩৯৪৫, ৩৯৪৬, ৪০৭৯, ৪১১৮, ৪২১৮, ৪২৭১, ৪৩৩১, ৪৩৮৯, ৪৪১৪, ৪৪২০, দারেমী ২৬৪৭) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ – ২৯৭: মাথা ও দাড়ি ইত্যাদি থেকে সাদা চুল উপড়ে ফেলা এবং সাবালক ছেলের সদ্য গজিয়ে উঠা দাড়ি উপড়ে ফেলা নিষিদ্ধ

১৬৫৫. আমর ইবনে শুআইব রাঃআঃ তাঁর পিতা হইতে হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তাঁর (আমরের) দাদা থেকে বর্ণনা করিয়াছেন, নবী সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘তোমরা সাদা পাকা চুল উপড়ে ফেলো না। কেননা, কিয়ামতের দিন তা মুসলিমের জন্য জ্যোতি হবে।’’

[হাসান হাদীস, আবু দাঊদ, তিরমিজী, নাসাঈ, হাসান সূত্রে, ইমাম তিরমিজী বলেন, এটি হাসান হাদীস] (আবু দাঊদ ৪২০২, তিরমিজী ২৮২১, নাসাঈ ৫০৬৮, ইবনু মাজাহ ৩৭২১) হাদীসটির মানঃ হাসান হাদীস

১৬৫৬. আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি এমন কর্ম করল, যার সম্পর্কে আমাদের কোন প্রকার নির্দেশ নেই—তা প্রত্যাখ্যাত।’’

(সহীহুল বুখারী শরীফ ২৬৯৭, মুসলিম ১৭১৮, আবু দাঊদ ৪৬০৬, ইবনু মাজাহ ১৪, আহমাদ ২৩৯২৯, ২৪৬০৪, ২৪৯৪৪, ২৫৫০২, ২৫৬৫৯, ২৫৭৯৭) হাদীসটির মানঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম নওয়াবী

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply