সলাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির জন্য নামাজ

সলাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির জন্য নামাজ

 সলাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির জন্য নামাজ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

এ বিষয়ে আরও পড়ুন >> মুয়াত্তা মালিক >> সহীহ বুখারী >> সহীহ মুসলিম >> আবু দাউদ >> ইবনে মাজাহ >> তিরমিজি >> নাসাঈ >> মিশকাত হাদীস হতে

অধ্যায় ১৬ঃ সলাতুল ইসতিসকা বা বৃষ্টির জন্য নামাজ

পরিচ্ছেদ ২৫২ঃ বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ শরীয়তসম্মত ও নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পদ্ধতি
পরিচ্ছেদ ২৫৩ঃ বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজের পদ্ধতি ও তার খুতবা
পরিচ্ছেদ ২৫৪ঃ জুমু’আর খুতবায় বৃষ্টি প্রার্থনার বিধান
পরিচ্ছেদ ২৫৫ঃ সৎ ব্যক্তিদের দু’আর মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করার বিধান
পরিচ্ছেদ ২৫৬ঃ বৃষ্টির পানি গ্রহণ করা
পরিচ্ছেদ ২৫৭ঃ বৃষ্টি বর্ষণের সময় দু’আ করা মুস্তাহাব
পরিচ্ছেদ ২৫৮ঃ নামাজ ব্যতীত বৃষ্টি প্রার্থনার বিধান ।
পরিচ্ছেদ ২৫৯ঃ পূর্ববর্তী উন্মতের মাঝে বৃষ্টি প্রার্থনায় প্রচলন ছিল
পরিচ্ছেদ ২৬০ঃ বৃষ্টি প্রার্থনার দু’আ করার সময় দু’ হাত উত্তোলন করা শরীয়তসন্মত

পরিচ্ছেদ ২৫২ঃ বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজ শরীয়তসম্মত ও নামাজ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হওয়ার পদ্ধতি

৫১৩ – ইবনু`আব্বাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বিনয়ী ও নম্রভাবে, সাধারণ পোশাক পরে, ভীত বিহ্বল হয়ে রওয়ানা করে ধীরপদে [মাঠে] পৌঁছে দু’ রাক‘আত নামাজ পড়লেন, যেভাবে তিনি ঈদের নামাজ পড়েন। কিন্তু তিনি তোমাদের এই খুতবাহ্‌র ন্যায় খুতবাহ দেননি।–তিরমিজি, আবূ`আউয়ানাহ ও ইবনু হিব্বান একে সহিহ বলেছেন। {৫৪৯}

{৫৪৯} আবূ দাউদ ১১৬৫, ১১৬৬, তিরমিজি ৫৫৮, নাসায়ি হাদিস ১৫০৬, ১৫০৮ । ইবনু হিব্বান হাঃ ২৮৬২। [আরবী] শব্দের অর্থঃ সাজসজ্জা পরিত্যাগ করে স্বাভাবিক বেশভুষা ধারণ করা। আর [আরবী] হচ্ছেঃ হাটা-চলায় ধীরস্থিরতা অবলম্বন করা। তাড়াহুড়া না করা। বৃষ্টির জন্য নামাজ হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৫৩ঃ বৃষ্টি প্রার্থনার নামাজের পদ্ধতি ও তার খুতবা

৫১৪ – আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন- লোকেরা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] -এর নিকটে অনাবৃষ্টির অভিযোগ জানালে তিনি মিম্বার আনার আদেশ দিলেন-যেটি তার জন্য মুসল্লায় [মাঠে] পাতা হয়েছিল, তিনি লোকদিগকে নামাজের উদ্দেশে বের হবার জন্য একটি ধার্য দিনের ওয়াদাও করিলেন। তারপর তিনি সূর্যের একাংশ প্রকাশিত হবার সময় বেরিয়ে পড়লেন। এবং মিম্বারের উপর বসলেন, তারপর আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব ও তার মহিমা বর্ণনা করিলেন। তারপর বলিলেন, তোমরা তোমাদের অঞ্চলে খরা-পীড়িত হবার কথা বলেছ, আর আল্লাহও [বিপদ মুক্তির জন্য] তার নিকট প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর তিনি তোমাদের প্রার্থনা গ্রহণ করবেন বলে অঙ্গীকার করিয়াছেন। এ বলে তিনি দুয়া আরম্ভ করিলেন-

الْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِينَ، الرَّحْمَنِ الرَّحِيمِ، مَلِكِ يَوْمِ الدِّينِ، لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ، اللَّهُمَّ أَنْتَ اللَّهُ، لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ الْغَنِيُّ وَنَحْنُ الْفُقَرَاءُ، أَنْزِلْ عَلَيْنَا الْغَيْثَ، وَاجْعَلْ مَا أَنْزَلْتَ قُوَّةً وَبَلَاغًا إِلَى حِينٍ

উচ্চারণ ঃ আলহামদু লিল্লাহ রব্বিল`আলামীন। আররহমানির রহীম। মালিকি ইয়াউমিদীন। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু। ইয়াফ’আলু মা ইউরীদ। আল্লাহুম্মা আনতাল্লাহ। লা ইলাহা ইল্লা আনতা। আনতাল গানী। ওয়া নাহনুল ফুকারাউ । আনযিল ‘আলাইনাল গাইসা। ওয়াজ’আল মা আনযালতা`আলাইনা কুওওয়াতান ওয়া বালাগান ইলা হীন।

অর্থ ৪ “সকল প্রশংসা আল্লাহর নিমিত্তে যিনি সমগ্র বিশ্বের প্রতিপালক। তিনি করুণাময় অত্যন্ত দয়ালু। বিচার দিনের মালিক। আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তিনি যা ইচ্ছা করিতে পারেন। হে আল্লাহ! তুমিই আল্লাহ, তুমি ব্যতীত প্রকৃত কোন ইলাহ নেই। তুমি ধনাঢ্য আর আমরা অভাবগ্ৰস্ত, আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর, তুমি যা আমাদের জন্য বর্ষণ করিবে তাকে আমাদের জন্য শক্তির আধার কর ও এটাকে বিশেষ সময়ের জন্য উদ্দেশ্য পূরণের উপযোগী কর।” তারপর তিনি তার দুহাত উঠালেন ও তার বগলের শুভ্রতা প্রকাশ না পাওয়া পর্যন্ত তা উচু করিতেই থাকলেন। তারপর তিনি লোকেদের দিকে পিঠ করিলেন ও হাত উত্তোলন অবস্থায় তার চাদরকে উলটিয়ে নিলেন। এবারে আবার তিনি লোকেদের দিকে পুনঃ মুখ ফিরালেন ও মিম্বার হতে নামলেন। তারপর দু’রাকাআত নামাজ আদায় করিলেন। এরপরে আল্লাহ একখণ্ড মেঘের উদ্ভাবন করিলেন- মেঘ গর্জন করিতে লাগল, বিদ্যুৎ চমকাল তারপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। -আবু দাউদ গরীব বলেছেন, এর সানাদ জাইয়্যিদ [উত্তম]। {৫৫০}

{৫৫০} আবূ দাউদ ১১৭৩। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

৫১৫ – বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

চাদর উল্টানোর ঘটনাটি সহিহ বুখারীতেও আবদুল্লাহ বিন যায়দ কর্তৃক বর্ণিত হাদীসে রহিয়াছে, তাতে আরও আছে- অতঃপর ক্বিবলাহ্‌মুখী হয়ে দু’আ করিলেন তারপর দুরাকাআত নামাজ আদায় করিলেন। তিনি উভয় রাকাআতে সশব্দে কিরাআত পাঠ করিলেন। {৫৫১}

{৫৫১} বুখারী ১০০৫, ১০১১, ১০১২ ১০২৪, মুসলিম ৪৯৪, ১৯৫৭, তিরমিজি ৫৫৬। আব্দুল্লাহ বিন যায়েদঃ তিনি হচ্ছেন আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ বিন আসেম আল মাযেনী। তিনি রাসূল [সাঃআঃ] -এর মুয়াজ্জিন আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ নন। যারা তাকে মুয়াজ্জিন আব্দুল্লাহ বলেছেন, তন্মধ্যে একজন হলেন সুফইয়ান বিন উয়ায়নাহ [রহঃ]। বৃষ্টির জন্য নামাজ হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

৫১৬ – বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

এবং দারাকুতনিতে আৰূ জা’ফর বাকেরের মুরসাল হাদিস থেকে বর্ণিত হয়েছে। তিনি তার চাদরকে উল্টালেন যেন দুর্ভিক্ষও উল্টে গিয়ে সচ্ছলতা আসে। {৫৫২}

{৫৫২} দারাকুতনী ২/৬৬/২, হাকিম ১/৩২৬। হাদিসের তাহকীকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৫৪ঃ জুমু’আর খুতবায় বৃষ্টি প্রার্থনার বিধান

৫১৭ – আনাস ইবনু মালিক [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি জুমু’আর দিন মাসজিদে প্রবেশ করিল। এ সময় আল্লাহর নাবী [ সাল্লাল্লাহি`আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] দাঁড়িয়ে খুতবাহ দিচ্ছিলেন । লোকটি বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ নষ্ট হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেল । আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন যেন তিনি আমাদের বৃষ্টি দান করেন । তখন আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ ] দু’হাত তুলে দু’আ করিলেন,

اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا

আল্লা-হুম্মা আগিসনা, আল্লা-হুম্মা আগিসনা

হে আল্লাহ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন । হে আল্লাহ ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন। [তারপর রাবী হাদিসের বাকী অংশ উল্লেখ করিয়াছেন] তাতে বৃষ্টি বন্ধ করার দু’আও উল্লেখ আছে । {৫৫৩}

{৫৫৩} বুখারী ৯৩২ , ৯৩৩, ১০১৩, ১০১৪, মুসলিম ৮৯৫, ৮৯৭, ১৯৫৫ । হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৫৫ঃ সৎ ব্যক্তিদের দু’আর মাধ্যমে বৃষ্টি প্রার্থনা করার বিধান

৫১৮ – আনাস ইবনু মালিক [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

উমর ইবনু খাত্তাব [রাঃআঃ] অনাবৃষ্টির সময়`আব্বাস ইবনু আব্দুল মুত্তালিব [ সাল্লাল্লাহি`আলাইহি ওয়া সাল্লাম ] এর ওয়াসীলাহ দিয়ে বৃষ্টির জন্য দু’আ করিতেন এবং বলিতেন ,

হে আল্লাহ ! [আগে] আমরা আমাদের নাবী [সাঃআঃ] এর ওয়াসীলাহ দিয়ে দু’আ করতাম এবং আপনি বৃষ্টি দান করিতেন । এখন আমরা আমাদের নাবী [সাঃআঃ] এর চাচার ওয়াসীলাহ দিয়ে দু’আ করছি , আপনি আমাদে্রকে বৃষ্টি দান করুন । এর ফলে বৃষ্টি বর্ষিত হত । এর ফলে বৃষ্টি বর্ষণ হতো । বুখারী । {৫৫৪}

{৫৫৪} বুখারী ১০১০ , ২৭১০। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৫৬ঃ বৃষ্টির পানি গ্রহণ করা

৫১৯ – আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, একবার আমরা বৃষ্টিতে পড়লাম, তখন আমরা আল্লাহ্‌র রাসূল [সাঃআঃ] এর সঙ্গেই ছিলাম । তিনি তাহাঁর [শরীরের কিছু অংশ হতে] কাপড় হটিয়ে নিলেন ফলে বৃষ্টির পানি তাহাঁর শরীরে পড়লো । তিনি বললেনঃ এটা তাহাঁর প্রতিপালকের তরফ থেকে [রহম স্বরূপ] প্রথম বৃষ্টি হিসাবে আসলো [সেই মৌসুমের ] । {৫৫৫}

{৫৫৫} মুসলিম , ৮৯৮ , আবু দাউদ ৫৯০০ , আহমাদ ১১৯৫৭ । পুর্নাঙ্গ হাদিসটি হচ্ছে , হে আল্লাহ ! আমাদের বৃষ্টি দান করুন । আনাস [রাঃআঃ] বলেন, [আরবী] আল্লাহর কসম! আমরা তখন আকাশের দিকে তাকিয়ে দেখলাম মেঘ নাই । মেঘের সামান্য টুকরাও নেই। অথচ সাল’আ পর্বত ও আমাদের মধ্যে কোন ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি বলেন , হঠাৎ সাল’আর ওপাশ হতে ঢালের মত মেঘ উঠে এল এবং মধ্য আকাশে এসে ছড়িয়ে পড়লো । অতঃপর প্রচুর বর্ষণ হতে লাগলো । আল্লাহর কসম! আমরা ছয়দিন সূর্য দেখিতে পাইনি । এর পরের জুমু’আয় সে দরওয়াজা দিয়ে এক ব্যক্তি প্রবেশ করিল । এ সময় আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] দাঁড়িয়ে খুত্‌বাহ দিচ্ছিলেন । লোকটি তাহাঁর সন্মুখে দাঁড়িয়ে বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! ধন-সম্পদ ধ্বংস হয়ে গেল এবং রাস্তাঘাট বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল । কাজেই আপনি আল্লাহর নিকট দু’আ করুন। আনাস [রাঃআঃ] বলেন , আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] তখন দু’হাত তুলে দু’আ করিলেন , হে আল্লাহ! আমাদের আশে পাশে। আমাদের উপর নয়। হে আল্লাহ! টিলা। মালভূমি , উপতাক্যয় এবং বনভূমিতে বর্ষণ করুন । আনাস [রাঃআঃ] বলেন, তখন বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল এবং আমরা বেরিয়ে রোদে চলতে লাগলাম। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৫৭ঃ বৃষ্টি বর্ষণের সময় দু’আ করা মুস্তাহাব

৫২০ – আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

আল্লাহর রাসূল [সাঃআঃ] বৃষ্টি দেখলে বলিতেন,

اللَّهُمَّ صَيِّبًا نَافِعًا

আল্লাহুম্মা সাইয়াবান নাফিয়ান

হে আল্লাহ! মুষলধারায় কল্যাণকর বৃষ্টি দাও । {৫৫৬}

{৫৫৬} বুখারী ১০৩২ , নাসায়ি হাদিস ১৫২৩ , ইবনু মাজাহ ২৮৯০ , আহমাদ ২৩৬২৪। বৃষ্টির জন্য নামাজ হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৫৮ঃ নামাজ ব্যতীত বৃষ্টি প্রার্থনার বিধান ।

৫২১ – সা’দ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বৃষ্টি চাওয়ার [ইসতিকার] সময় এই বলে দু’আ করেছিলেনঃ

اللَّهُمَّ جَلِّلْنَا سَحَابًا كَثِيفًا قَصِيفًا دَلُوقًا ضَحُوكًا، تُمْطِرُنَا مِنْهُ رَذَاذًا قِطْقِطًا سَجْلًا، يَا ذَا الْجَلَالِ وَالْإِكْرَامِ

আল্লাহুম্মা যাল্লিলনা সাহাবান কাছিফান কসিফান দালুকান দাহুকান তুমতিরুনা মিনহু রাজাজান কিতকিতান সাজলান ইয়া যালজালা-লি ওয়াল ইকর-ম

হে আল্লাহ ! আমাদের এমন মেঘ দাও –যা ঘন , গর্জনকারী , বিদ্যুৎ চমকান মেঘ হয় যা থেকে তুমি আমাদের উপর মুষলধারায় বর্ষণকারী ছোট ও সূক্ষ্ম-ঘন ফোঁটাবিশিষ্ট পর্যাপ্ত বৃষ্টি দিবে–হে প্রবল প্রতাপশালী মহা সন্মানিত ।

আবু`আউওয়ানাহ তাহাঁর সহিহ গ্রন্থে এ হাদিসটি বর্ণনা করিয়াছেন । {৫৫৭}

{৫৫৭} আবু আওয়ানাহ তার সহিহ গ্রন্থে বর্ণনা করিয়াছেন । সনদ দুর্বল । আত-তালখীসুল হাবীর ২/৯৯ । শাইখ সুমাইর আয যুহাইর তালখীসুল হাবীর [২/৯৯] গ্রন্থের বরাতে বলেন, এ হাদিসর শব্দগুলা অপরিচিত, আবু আওয়ানা অত্যন্ত নিম্নমানের সনদে এটিকে বর্ণনা করিয়াছেন । হাদিসের তাহকীকঃ খুবই দুর্বল

পরিচ্ছেদ ২৫৯ঃ পূর্ববর্তী উন্মতের মাঝে বৃষ্টি প্রার্থনায় প্রচলন ছিল

৫২২ – আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

রাসূলাল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন , ইসতিকার নামাজ আদায়ের জন্য সুলাইমান [আঃ] বের হয়ে এসে দেখলেন যে, একটি পিঁপড়ে চিৎ হয়ে শুয়ে পা-গুলাকে আকাশের দিকে করে এই বলে প্রার্থনা করছে , হে আল্লাহ ! আমরা তোমার সৃষ্টির মধ্যে এক প্রকার সৃষ্ট জীব –আমরা তোমার পানির পূর্ণ মুখাপেক্ষী রয়েছি । এটা শুনে সুলাইমান [আঃ] তাহাঁর সঙ্গিদের বলিলেন, তোমরা ফিরে চলো—অন্যর প্রার্থনার ফলে তোমরাও পানি পেয়ে গেলে । হাকিম একে সহিহ বলেছেন । {৫৫৮}

{৫৫৮} হাকিম ১/৩২৫-৩২৬ । আলবানী ইরওয়াউল গালীল [৬৭০] গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। হাদিসের তাহকীকঃ খুবই দুর্বল

পরিচ্ছেদ ২৬০ঃ বৃষ্টি প্রার্থনার দু’আ করার সময় দু’ হাত উত্তোলন করা শরীয়তসন্মত

৫২৩ – আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] ইসতিকার নামাজে আকাশের দিকে হাতের পৃষ্ঠদেশ দ্বারা ইশারা করেছিলেন । {৫৫৯}

{৫৫৯} মুসলিম ৮৯৬, আবু দাউদ ১১৭১, ১৪৮৭, আহমাদ ৮৭৩০। বৃষ্টির জন্য নামাজ হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply