বৃষ্টির জন্য দোয়া করা । ঈমাম কখন ইস্তিস্কা করবেন ?

ইস্তিস্কা – বৃষ্টির জন্য দোয়া করা

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা । ঈমাম কখন ইস্তিস্কা করবেন ? >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১৭, বৃষ্টির জন্য দোয়া করা, হাদীস (১৫০৪ – ১৫২৮)

পরিচ্ছেদ: ঈমাম কখন ইস্তিস্কা করবেন?
পরিচ্ছেদ: ইমামের বৃষ্টির দোয়া করার জন্য সালাতের স্থান অভিমুখে রওয়ানা হওয়া
পরিচ্ছেদ: বের হওয়াকালীন সময়ে ইমামের যে অবস্থায় থাকা মুস্তাহাব
পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার জন্য ইমামের মিম্বরে বসা
পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার দোয়া করার সময় ইমামের পিঠ মানুষের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া
পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার সময় ইমামের চাদর উল্টিয়ে দেওয়া
পরিচ্ছেদ: ঈমাম কখন তাহাঁর চাদর উল্টিয়ে দেবেন?
পরিচ্ছেদ: ইমামের হাত উঠানো
পরিচ্ছেদ: [হস্তদ্বয়] কিভাবে উঠাবেন?
পরিচ্ছেদ: দোয়ার উল্লেখ
পরিচ্ছেদ: দোয়ার পরে নামাজ আদায় করা
পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার নামাজ কত রাকআত?
পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার নামাজ কিরূপ?
পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার সালাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করা
পরিচ্ছেদ: বৃষ্টির সময় কথা বলা
পরিচ্ছেদ: তারকার সাহায্যে বৃষ্টি কামনার অপছন্দনীয়তা
পরিচ্ছেদ: বৃষ্টির ক্ষতির আশংকা হলে তা বন্ধ করার জন্য ইমামের দোয়া করা
পরিচ্ছেদ: বৃষ্টি বন্ধের দোয়ার সময় ইমামের হস্তদ্বয় উঠান

পরিচ্ছেদ: ঈমাম কখন ইস্তিস্কা করবেন?

১৫০৪. আনাস ইব্‌ন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলিল, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! গবাদি পশুগুলো তো [ঘাস বিচালির সংকটজনিত কারণে] অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে এবং এ কারণে রাস্তা ঘাটও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব, আল্লাহ্‌র সমীপে দোয়া করুন। তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] দোয়া করিলেন। ফলে আমাদের উপর এক জুমুআর দিন থেকে শুরু করে দ্বিতীয় জুমুআর দিন অবধি [অনবরত] বৃষ্টি বর্ষিত হইতে লাগল। এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলিল, ইয়া রসূলুল্লাহ! বাড়ী-ঘর তো ধীরে ধীরে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে। আর [পানির আধিক্যের কারণে] রাস্তাঘাটও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং গবাদি পশুগুলোও [ঠাণ্ডার আধিক্যে হেতু] অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি বলিলেন,

اللَّهُمَّ عَلَى رُءُوسِ الْجِبَالِ، وَالْآكَامِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

আল্লাহুম্মা আলা রুউসিল জিবালি ওয়াল আকামি ওয়া বুতুনিল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাঝারি।’

হে আল্লাহ, [তুমি এই বৃষ্টি] পাহাড় ও টিলার চূড়ায় চূড়ায় উপত্যকার মাঝে মাঝে এবং গাছ-পালার গোড়ায় গোড়ায় [বর্ষণ কর]। তখন মদীনার আকাশ থেকে মেঘ এমনভাবে সরে গেল যেমনভাবে পরিধানকারীর দেহ থেকে বস্ত্র খুলে যায়।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদ: ইমামের বৃষ্টির দোয়া করার জন্য সালাতের স্থান অভিমুখে রওয়ানা হওয়া

১৫০৫. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন যায়দ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন যে, রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] বৃষ্টির দোয়া করার জন্য সালাতের স্থান অভিমুখে রওয়ানা হলেন, তখন তিনি কিবলা অভিমুখী হলেন ও তাহাঁর [পরিধেয়] চাদর উল্টিয়ে দিলেন এবং দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: বের হওয়াকালীন সময়ে ইমামের যে অবস্থায় থাকা মুস্তাহাব

১৫০৬. ইসহাক ইব্‌ন আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, ওয়ালীদ ইব্‌ন আকাবা [রাঃআঃ] আমাকে ইব্‌ন আব্বাস [রাঃআঃ]-এর কাছে পাঠালেন, যেন আমি তাহাঁকে রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর ইস্তিস্কা নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] বিনয় ও মিনতির সাথে ছিন্ন বস্ত্রে বের হয়েছিলেন এবং তোমাদের এই খুৎবার ন্যায় খুত্‌বা না দিয়ে দু’রাকআত নামাজ আদায় করেছিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

১৫০৭. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন যায়দ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] বৃষ্টির জন্য দোয়া করেছিলেন, তখন তাহাঁর পরিধানে কালো রংয়ের চাদর ছিল।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার জন্য ইমামের মিম্বরে বসা

১৫০৮. ইসহাক ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্‌ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমি ইব্‌ন আব্বাস [রাঃআঃ]-কে রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর ইস্তিস্কা নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] ছিন্ন বস্ত্রে বিনয় ও মিনতি সহকারে বের হয়েছিলেন। তিনি মিম্বরের উপর বসেছিলেন কিন্তু তোমাদের এই খুতবার ন্যায় কোন খুৎবা দেননি। বরং তিনি সর্বক্ষণ দোয়া করেছিলেন, মিনতি জানিয়েছিলেন, তাকবীর বলেছিলেন এবং দু’রাকআত নামাজ আদায় করেছিলেন যেরূপ দু্ই ঈদে নামাজ আদায় করিতেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার দোয়া করার সময় ইমামের পিঠ মানুষের দিকে ফিরিয়ে দেওয়া

১৫০৯. আব্বাদ ইব্‌ন তামীম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর সাথে বৃষ্টির দোয়া করার জন্য বের হলেন। রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] তাহাঁর চাদর উল্টিয়ে দিলেন এবং মানুষের দিকে তাহাঁর পিঠ ফিরিয়ে দিয়ে দোয়া করিলেন, তারপর দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন, আর তাতে উচ্চস্বরে কিরাআত পড়লেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার সময় ইমামের চাদর উল্টিয়ে দেওয়া

১৫১০. আব্বাদ ইব্‌ন তামীম-এর চাচা হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] [একবার] বৃষ্টির জন্য দোয়া করিলেন ও দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন আর তাহাঁর চাদর উল্টিয়ে দিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: ঈমাম কখন তাহাঁর চাদর উল্টিয়ে দেবেন?

১৫১১. আব্বাদ ইব্‌ন তামীম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আব্দুল্লাহ ইব্‌ন যায়দ [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন যে, [একবার] রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] বের হয়ে বৃষ্টির জন্য দোয়া করিলেন এবং কিবলামুখী হওয়ার সময় তাহাঁর চাদর উল্টিয়ে দিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইমামের হাত উঠানো

১৫১২. আব্বাদ ইব্‌ন তামীমের চাচা হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-কে ইস্তিস্কার সময় দেখলেন যে, তিনি কিবলামুখী হয়ে চাদর উল্টিয়ে দিলেন ও হস্তদ্বয় উত্তোলন করিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: [হস্তদ্বয়] কিভাবে উঠাবেন?

১৫১৩. আনাস [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] ইস্তিস্কার সময় ছাড়া অন্য কোন দোয়ায় হস্তদ্বয় উঠাতেন না। তিনি তখন হস্তদ্বয় এতটুকু পর্যন্ত উঠাতেন যে, তাহাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দেখা যেত।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫১৪. আবিল লাহ্‌ম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-কে “আহজারুয্‌যায়ত” নামক স্থানে ইস্তিস্কা করিতে দেখেছিলেন। তখন তিনি হস্তদ্বয় উঠিয়ে দোয়া করেছিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫১৫. শরীক ইব্‌ন আব্দুল্লাহ [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি আনাস মালিক [রাঃআঃ]-কে বলিতে শুনেছেন যে, একদা আমরা জুম‘আর দিনে মসজিদে ছিলাম এবং রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] মানুষের সামনে খুতবা দিচ্ছিলেন, একজন লোক দাঁড়িয়ে বলিল, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌ ! গরমের আধিক্য হেতু রাস্তা ঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, গবাদি পশুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে এবং শহরে দ্রব্য মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহর সমীপে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] তাহাঁর উভয় হাত মুখমনণ্ডল বরাবর উঠালেন এবং বলিলেন, ইয়া আল্লাহ, তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। আল্লাহর শপথ! তিনি মিম্বর থেকে তখনও অবতরণ করেছিলেন না। ইত্যবসরে আমাদের বৃষ্টি দ্বারা পরিতৃপ্ত করে দেওয়া হলো এবং ঐ দিন থেকে পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হলো। তখন এক ব্যক্তি দাঁড়াল, আমি জানি না যে, সে ঐ ব্যক্তি যে রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-কে বলেছিল “আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণের জন্য দোয়া করুন” না অন্য ব্যক্তি সে বলিল, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌ ! পানির আধিক্যের কারণে রাস্তাঘাট তো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং গবাদি পশুগুলোও অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহ্‌র সমীপে দোয়া করুন যেন আমাদের উপর লোক বৃষ্টি বন্ধ করে দেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] বলিলেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، وَلَكِنْ عَلَى الْجِبَالِ وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা ওয়া লাকিনআলাল জিবালি ওয়া মানাবিতিশ শাঝারি।

ইয়া আল্লাহ! [তুমি বৃষ্টি] আমাদের আশে পাশে বর্ষণ কর, আমাদের উপর নয় বরং পাহাড়ের উপর এবং গাছের গোড়ায়।

তারপর তিনি বলিলেন, আল্লাহর শপথ! রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] এই দোয়া করিতেই মেঘমালা এমনভাবে ছিন্ন ভিন্ন হয়ে গেল যে, আমরা তার কিছুই দেখিতে পেলাম না।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদ: দোয়ার উল্লেখ

১৫১৬. আনাস ইব্‌ন মালিক [রহঃ] হইতে বর্ণীত

যে, নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন,

اللَّهُمَّ اسْقِنَا

আল্লাহুম্মাসক্বিনা

হে আল্লাহ্‌! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করাবৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫১৭. আনাস ইব্‌ন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] জুম‘আর দিন খুৎবা দিচ্ছিলেন। এমন সময় কতক মানুষ দাঁড়িয়ে গেল, তারা চিৎকার করে বলিতে লাগল, ইয়া নাবীয়াল্লাহ [সাঃআঃ]! বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে এবং চতুষ্পদ জন্তুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে, অতএব আপনি আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমীপে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তিনি বলিলেন,

اللَّهُمَّ اسْقِنَا، اللَّهُمَّ اسْقِنَا

আল্লাহুম্মাসক্বিনা আল্লাহুম্মাসক্বিনা

ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর। ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর।

আনাস [রাঃআঃ] বলেন, আল্লাহর শপথ! আমরা আকাশে মেঘের কোন চিহ্নও দেখছিলাম না। তিনি বলেন, ইত্যবসরে মেঘ সৃষ্টি হলো, তারপর তা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল, পরে তা [আমাদের উপর] বর্ষিত হল। তারপর রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] নীচে নেমে আসলেন এবং নামাজ আদায় করিলেন। আর মানুষেরা নামাজ শেষ করে ফিরে গেল। তারপর পরবর্তী জুমু‘আ পর্যন্ত অনবরত বৃষ্টি বর্ষিত হইতে লাগল। যখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] খুৎবা দেওয়ার জন্য দাঁড়ালেন, মানুষ চিৎকার করে বলিতে লাগল, ইয়া নাবীয়াল্লাহ [সাঃআঃ]! [পানির আধিক্য হেতু] বাড়ী ঘরতো ধীরে ধীরে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব আপনি আল্লাহ্‌র সমীপে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] মুচকী হেসে বলিলেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا

আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

হে আল্লাহ! তুমি আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর; আমাদের উপরে নয়।

তখন মদীনা থেকে মেঘমালা বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল, আর মদীনার আশে পাশে বৃষ্টি হচ্ছিল কিন্তু মদীনায় এক ফোঁটাও বৃষ্টি হচ্ছিল না। তখন আমি মদীনার দিকে তাকিয়ে দেখলাম যে, মদীনা মেঘমালার চক্র বু্হ্যের মাঝখানে অবস্থিত।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫১৮. আনাস ইব্‌ন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

এক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করিল, তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] দাঁড়ানো অবস্থায় খুতবা দিচ্ছিলেন, সে রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর দিকে মুখ করে দাঁড়িয়ে বলিল, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌ ! [ঘাস বিচালির সংকট হেতু] চতুষ্পদ জন্তুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে, [গরমের আধিক্য হেতু] রাস্তাঘাটও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। অতএব আল্লাহ তা‘আলার সমীপে দোয়া করুন, তিনি যেন আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেন। তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] তাহাঁর হস্তদ্বয় উঠালেন এবং বলিলেন,

اللَّهُمَّ أَغِثْنَا، اللَّهُمَّ أَغِثْنَا

আল্লা-হুম্মা আগিসনা, আল্লা-হুম্মা আগিসনা

ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর, ইয়া আল্লাহ! তুমি আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ কর।

আনাস [রাঃআঃ] বলেন, আমরা তখন আকাশে কোন মেঘ বা মেঘের টুকরা দেখছিলাম না, আর আমাদের “সালআ” পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে কোন ঘর-বাড়ীও ছিল না। হঠাৎ থালের ন্যায় একখণ্ড মেঘ প্রকাশ পেল, যখন তা মধ্যাকাশে পৌছল, বিস্তৃত হয়ে গেল এবং তা বৃষ্টির আকারে বর্ষিত হইতে লাগল। আনাস [রাঃআঃ] বলেন, আল্লাহ্‌র শপথ! আমরা এক সপ্তাহ অবধি সূর্য দেখেছিলাম না। তিনি বলেন, তারপর পরবর্তী জুমু‘আয় ঐ দরজা দিয়ে অন্য এক ব্যক্তি প্রবেশ করিল, তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] দাঁড়ানো অবস্থায় খুতবা দিচ্ছিলেন। সে রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর সামনে তাহাঁর দাঁড়ানো অবস্থায় আসলো এবং বলিল, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌ ! বৃষ্টির আধিক্য হেতু চতুষ্পদ জন্তুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে এবং রাস্তাঘাটও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, অতএব আল্লাহ্‌ তা‘আলার সমীপে দোয়া করুন যেন তিনি আমাদের উপর থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেন, তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] তাহাঁর হস্তদ্বয় উঠালেন এবং বলিলেন,

ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর, আমাদের উপর নয়। ইয়া আল্লাহ! পাহাড় এবং টিলার চূড়ায় চূড়ায় উপত্যকার মাঝে মাঝে এবং গাছপালার গোড়ায় গোড়ায় [বর্ষণ কর]।

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا، اللَّهُمَّ عَلَى الْآكَامِ وَالظِّرَابِ، وَبُطُونِ الْأَوْدِيَةِ، وَمَنَابِتِ الشَّجَرِ

আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা; আল্লাহুম্মা আলাল আকামি ওয়াল ঝিবালি ওয়া বুতুনিল আওদিয়াতি ওয়া মানাবিতিশ শাঝারি।’

আনাস [রাঃআঃ] বলেন, তারপর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল, আর আমরা সূর্যের আলোতে হেঁটে হেঁটে বের হলাম। রাবী শরীফ [রহঃ] বলেন, আমি আনাস [রাঃআঃ]-কে প্রশ্ন করলাম সে ব্যক্তি কি পূর্বের ব্যক্তি ছিল? তিনি বলিলেন, না।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান সহীহ

পরিচ্ছেদ: দোয়ার পরে নামাজ আদায় করা

১৫১৯. আব্বাদ ইব্‌ন তামীম [রহঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি তাহাঁর চাচাকে যিনি রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]-এর সাহাবীদের অন্তর্ভূক্ত ছিলেন, তাহাঁকে বলিতে শুনেছেন যে, রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] একদা ইস্তিস্কার জন্য বের হলেন। তিনি মানুষের দিকে তাহাঁর পিঠ ফিরিয়ে আল্লাহর সমীপে দোয়া করিতে লাগলেন আর তিনি কিবলামুখী হয়ে চাদর উল্টিয়ে দিলেন, তারপর দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন। ইব্‌ন আবু যি’ব [রহঃ] হাদিস সম্পর্কে বলেন, আর ঐ দু’রাকাআতে কিরাআত পড়েছিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার নামাজ কত রাকআত?

১৫২০. আব্দুল্লাহ ইব্‌ন যায়দ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

নাবী [সাঃআঃ] ইস্তিস্কার উদ্দেশ্যে বের হয়ে কিবলামুখী হয়ে দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার নামাজ কিরূপ?

১৫২১. ইসহাক ইব্‌ন আব্দুল্লাহ্‌ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, আমীরদের মধ্যে কেউ আমাকে [একবার] ইব্‌ন আব্বাস [রাঃআঃ]-এর কাছে পাঠালেন, আমি যেন তাহাঁকে ইস্তিস্কা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করি। তখন ইব্‌ন আব্বাস [রাঃআঃ] বলিলেন, আমার কাছে জিজ্ঞাস করিতে ঐ আমীরকে কে বারণ করেছে? [তারপর বলিলেন] একবার রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] বিনীতভাবে ছিন্ন বস্ত্রে মিনতি সহকারে বের হলেন এবং দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন যেমনভাবে তিনি উভয় ঈদে আদায় করিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের ঈদের খুতবায় ন্যায় খুতবা দেননি।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ হাসান হাদিস

পরিচ্ছেদ: ইস্তিস্কার সালাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করা

১৫২২. আব্বাদ ইব্‌ন তামীমের চাচা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] [একদিন] বের হলেন এবং ইস্তিস্কার দু’রাকআত নামাজ আদায় করিলেন তাতে উচ্চস্বরে কুরআন পাঠ করিলেন।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: বৃষ্টির সময় কথা বলা

১৫২৩. আয়েশাহ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] যখন বৃষ্টি হত তখন বলিতেন,

اللَّهُمَّ اجْعَلْهُ صَيِّبًا نَافِعًا

আল্লাহুম্মাজ আলহু সাইয়াবান নাফিয়ান

হে আল্লাহ! তুমি এ বৃষ্টিকে প্রবাহমান এবং উপকারী করে দাও।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: তারকার সাহায্যে বৃষ্টি কামনার অপছন্দনীয়তা

১৫২৪. আবু হুরাইরা [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ্ তাআলা বলেছেন, আমি আমার বান্দাদের যে কোন নেয়ামত দান করি না কেন তাহাদের একদল ঐ নেয়ামতের অস্বীকারকারী হয়ে যায়। তারা বলে নক্ষত্র আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করেছে। নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫২৫. যায়দ ইব্‌ন খালিদ জুহানী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন,একবার রাসূলল্লাহ্ [সাঃআঃ] –এর যুগে মানুষদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। তখন তিনি বলিলেন, তোমরা কি শুনতে পাওনি, তোমাদের রব গত রাত্রে কি বলেছিলেন? তিনি বলেছিলেন, আমি আমার বান্দাদের কোন নেয়ামত দান করলে তাহাদের একদল ঐ নেয়ামতের অস্বীকারকারী হয়ে যায়। তারা বলে অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে। অতএব, যারা আমার উপর ঈমান এনেছ এবং আমার বৃষ্টি দেয়ার কারণে আমার প্রশংসা করিল,প্রকৃতপক্ষে তারাই আমার উপর ঈমান এনেছে। আর নক্ষত্রের প্রভাবকে অস্বীকার করেছে। আর যারা বলে, অমুক অমুক নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে, তারাই আমাকে অস্বীকার করেছে এবং নক্ষত্রের প্রভাবের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

১৫২৬. আবু সাঈদ খুদরী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, আল্লাহ্ তা’আলা যদি পাঁচ বছর তাহাঁর বান্দাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ রাখেন তারপর তা পাঠান তাহলে মানুষের একদল কাফির হয়ে যাবে। তারা বলবে, মিজদাহ্ নক্ষত্রের প্রভাবে আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হয়েছে।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ: বৃষ্টির ক্ষতির আশংকা হলে তা বন্ধ করার জন্য ইমামের দোয়া করা

১৫২৭. আনাস ইব্‌ম মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন [একবার] এক বৎসর বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেল, তখন কোন কোন মুসলমান জুম‘আর দিন রাসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]–এর সামনে দাঁড়িয়ে গেল এবং বলিল, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]! বৃষ্টি বন্ধ হয়ে গেছে এবং যমীন শুষ্ক হয়ে গেছে আর গবাদি পশুগুলো অকর্মণ্য হয়ে গেছে। তিনি বলেন, তিনি তখন তাহাঁর উভয় হাত উঠালেন। তখন আমরা কোন মেঘ দেখছিলাম না। তিনি তাহাঁর হস্তদ্বয় এমনিভাবে প্রসারিত করিলেন যে, আমি তাহাঁর উভয় বগলের শুভ্রতা দেখিতে পেলাম। তিনি আল্লাহ্‌র কাছে বৃষ্টির জন্য দোয়া করছিলেন। আনাস [রাঃআঃ] বলেন, আমরা জুম‘আর দিন নামাজ আদায় করে উঠতে পারিনি ইত্যবসরে [বৃষ্টির আধিক্য হেতু] নিকটবর্তী ঘরের যুবকেরা তাহাদের ঘরে ফিরে উদ্যত হয়ে গেল। বৃষ্টি এক সপ্তাহ স্থায়ী হল। যখন পরবর্তী জুম‘আর দিন আসল, লোকেরা বলিল, ইয়া রাসুলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]![বৃষ্টির আধিক্য হেতু] ঘর-বাড়ী তো ধীরে ধীরে ধ্বসে যাচ্ছে, আরোহীরা আটকা পড়েছে। তিনি বলেন, তখন তিনি ইব্‌ন আদমের দ্রুত বিষণ্নতার কারণে মুচকী হাসলেন এবং তাহাঁর হস্তদ্বয় ইশারা করে বলিলেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا

আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

ইয়া আল্লাহ্! তুমি বৃষ্টি আমাদের আশে পাশে বর্ষণ কর, আমাদের উপরে নয়।

তখন মেঘ মদীনা থেকে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

পরিচ্ছেদ: বৃষ্টি বন্ধের দোয়ার সময় ইমামের হস্তদ্বয় উঠান

১৫২৮. আনাস ইব্‌ন মালিক [রাঃআঃ] হইতে বর্ণীত

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর যুগে একবার দুর্ভিক্ষ দেখা দিল। এমতাবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] জুম‘আর দিন মিম্বারের উপর খুতবা দিচ্ছিলেন। এক গ্রাম্য ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলিল, ইয়া রাসূলূল্লাহ্ [সাঃআঃ]![ঘাস বিচালির সংকট হেতু] গবাদি পশুগুলো অকর্মণ্য হয়ে যাচ্ছে, আর পরিবারবর্গ ক্ষুধায় কষ্ট পাচ্ছে। অতএব আপনি আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র সমীপে দোয়া করুন। তখন রাসূলূল্লাহ্‌ [সাঃআঃ] তাহাঁর হস্তদ্বয় উঠালেন। ঐ সময় আমরা আকাশে মেঘের কোন টুকরাও দেখেছিলাম না। ঐ সত্তার শপথ! যাঁর কুদরতী হাতে আমার প্রাণ, তিনি হস্তদ্বয় নামাতেও পারলেন না, ইত্যবসরে মেঘমালা পাহাড়ের ন্যায় বিস্তৃত হয়ে গেল। আর তিনি মিম্বর থেকে নামতেও পারছিলেন না, আমি দেখলাম, ইতিমধ্যে বৃষ্টি তাহাঁর দাঁড়ি বেয়ে ফোঁটায় ফোঁটায় গড়িয়ে পড়ছে। সে দিন, পরবর্তী দিন এবং তার পরের দিন থেকে থেকে পরবর্তী জুম‘আ পর্যন্ত আমাদের উপর বৃষ্টি বর্ষিত হল। রাবী বলেন, তখন উক্ত গ্রাম্য ব্যক্তি অথবা অন্য এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বললো, ইয়া রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ]! [বৃষ্টির আধিক্য হেতু] ঘর-বাড়ী তো ধীরে ধীরে বিধ্বস্ত হয়ে যাচ্ছে এবং গবাদি পশুগুলো ডুবে যাচ্ছে। অতএব, আপনি আমাদের জন্য আল্লাহ্‌র সমীপে দোয়া করুন। তখন রসূলুল্লাহ্‌  [সাঃআঃ] তাহাঁর হস্তদ্বয় উঠালেন এবং বলিলেন,

اللَّهُمَّ حَوَالَيْنَا وَلَا عَلَيْنَا

আল্লাহুম্মা হাওয়ালাইনা ওয়া লা আলাইনা

ইয়া আল্লাহ্‌! তুমি আমাদের আশে পাশে বৃষ্টি বর্ষণ কর, আমাদের উপরে নয়।

তিনি তাহাঁর হাত দ্বারা মেঘমালার কোন খন্ডের দিকে ইশারা করিতেই তা এমনভাবে বিক্ষিপ্ত হয়ে গেল যাতে মদীনার [আকাশ] একটি বড় গর্তের মত দেখাচ্ছিল [অর্থাৎ মদীনার আকাশের চতুস্পার্শ্বে মেঘমালা এমনভাবে বিস্তৃত হলো যে, মদীনা বরাবর আকাশ একটি গোলাকার গর্তের ন্যায় মেঘমুক্ত হলো এবং মাঠে ময়দানে বৃষ্টির পানি প্রবাহিত হচ্ছিল আর মদীনার আশ-পাশ থেকে যারাই আসছিল তারাই বৃষ্টির আধিক্যের সংবাদ দিচ্ছিল।

বৃষ্টির জন্য দোয়া করা হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদিস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply