বুলগুল মারাম হাদীস শরীফ – অযূর বিবরণ

বুলগুল মারাম হাদীস শরীফ – অযূর বিবরণ

 বুলগুল মারাম হাদীস শরীফ – অযূর বিবরণ >> বুলুগুল মারাম এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় -৪ঃ অযূর বিবরণ

পরিচ্ছেদ ২৭. অযূর সময় মেসওয়াক করার বিধান
পরিচ্ছেদ ২৮. নবী [সাঃআঃ] এর অযূর পদ্ধতি
পরিচ্ছেদ ২৯. মাথা একবার মাসাহ করা
পরিচ্ছেদ ৩০. মাথা মাসাহ করার বিবরণ
পরিচ্ছেদ ৩১. দু’কান মাসাহ করার বিবরণ
পরিচ্ছেদ ৩২. ঘুম থেকে উঠার সময় নাক পরিষ্কার করা শরীয়ত সম্মত
পরিচ্ছেদ ৩৩. ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দু হাতের তালু কোন পাত্রে প্রবেশ করার পুর্বে ধৌত করা আবশ্যক
পরিচ্ছেদ ৩৪. অযুর পদ্ধতির বিবরন
পরিচ্ছেদ ৩৫. অযুতে দাড়ি খেলাল [ভেজা আংগুল দিয়ে দাড়ির গোড়া ভিজানো] করার বিধান
পরিচ্ছেদ ৩৬. অযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো ঘষা শরীয়তসম্মত
পরিচ্ছেদ ৩৭. মাথা মাসহ করার জন্য নতুন পানি গ্রহন করা শরীয়তসম্মত
পরিচ্ছেদ ৩৮. অযুর ফযিলত এবং তার সওয়াবের বিবরন
পরিচ্ছেদ ৩৯. সকল বিষয় বিশেষ করে অযু ডান দিক থেকে শুরু করার বিধান
পরিচ্ছেদ ৪০. অযূতে ডান দিক থেকে শুরু করার নির্দেশ
পরিচ্ছেদ ৪১. পাগড়ি সহকারে মাথার সম্মুখভাগ মাসাহ করা যথেষ্ট
পরিচ্ছেদ ৪২. অযূতে ধারাবাহিকতা রক্ষা আবশ্যক
পরিচ্ছেদ ৪৩. অযূতে দু’কনুইকে অযূর অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা
পরিচ্ছেদ ৪৪. অযূতে বিসমিল্লাহ্‌ বলার বিধান
পরিচ্ছেদ ৪৫. কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার পদ্ধতি
পরিচ্ছেদ ৪৬. অযুর মাঝে বিরতি না দেয়া
পরিচ্ছেদ ৪৭. কতটুকু পরিমাণ পানি দিয়ে অযূ ও গোসল যথেষ্ট হইবে
পরিচ্ছেদ ৪৮. অযূর পর যা বলিতে হয়

পরিচ্ছেদ ২৭. অযূর সময় মেসওয়াক করার বিধান

৩২- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] হতে বর্ণনা করেন, তিনি [রাঃআঃ] এর এরশাদ করেন,`আমি আমার উম্মাতের উপর কঠিন হওয়ার ধারণা না করতাম তবে প্রত্যেক উযুর সঙ্গে মিসওয়াক করার আদেশ দিতাম। মালিক, আহমাদ ও নাসায়ি হাদিস। ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন, বুখারি এটিকে মুআল্লাক রুপে বর্ণনা করিয়াছেন। [ইবনু খুযাইমাহ হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন] {৪২}

{৪২} ইমাম বুখারি [ফাতহুল বারি ৪৫৮] দৃঢ়তার শব্দে হাদিসটিকে মু’আল্লাক হিসেবে বর্ণ্ননা করিয়াছেন, তার বর্ণনায় [আরবী] শব্দের পরিবর্তে [আরবী] শব্দ রয়েছে। আহমাদ [২/৪৬০, ৫১৭]; নাসায়ি হাদিস তাহাঁর সুনানুল কুবরায় [২৯৮]; ইবনু খুযাইমাহ [১৪০]। বুখারী মুসলিম ও অন্যান্ন হাদিস গ্রন্থে আরো বিভিন্ন শব্দ এবং সনদ রয়েছে। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৮. নবী [সাঃআঃ] এর অযূর পদ্ধতি

৩৩- হুমরান [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

একদা`উসমান [রাঃআঃ] উযুর পানি নিয়ে ডাকলেন এবং তিনি প্রথমে তিনবার দু’হাতের কব্জি পর্যন্ত ধুলেন। তারপর কুলি করিলেন ও নাকে পানি দিয়ে নাক ঝাড়লেন, তারপর তিবার তাহাঁর মুখমন্ডল ধৌত করিলেন। তারপর তিনবার ডান হাত কনুই পর্যন্ত ধৌত করিলেন। অতঃপর বাম হাতও অনুরূপভাবে ধৌত করিলেন। অতঃপর তিনবার ডান পা`টাখুনু সহ ধৌত করিলেন, তারপর বাম পা একইভাবে ধৌত করিলেন। তারপর বলিলেন,`আমি আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] -কে আমার এ উযুর মতই উযু করিতে দেখেছি। {৪৩}

{৪৩} বুখারী [১৫৯]; মুসলিম [২২৬] আতা বিন ইয়াজিদ আল-লাইসী সূত্রে হুমরান থেকে বর্ণনা করিয়াছেন। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ২৯. মাথা একবার মাসাহ করা

৩৪- আলী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] -এর উযু করার পদ্ধতি বর্ণনা প্রসঙ্গে বলেন, তিনি [সাঃআঃ] মাত্র একবার মাথা মাসহ করেছিলেন। -আবূ দাউদ। নাসায়ি হাদিস ও তিরমিজি সহিহ সানাদে; বরং তিরমিজি বলেন, এ বাবে বর্ণিত হাদিসগুলির মধ্যে এটি সর্বাধিক সহিহ। {৪৪}

{৪৪} আবূ দাউদ [১১১], হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩০. মাথা মাসাহ করার বিবরণ

৩৫- আব্দুল্লাহ বিন যায়েদ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর দু’হাতকে [মাথা মাসহর সময়] সামনে থেকে পিছনে এবং পিছন থেকে সামনে টেনে নিয়ে এলেন। {৪৫} তাদের উভয়ের অন্য বর্ণনায় আছে, মাথার সম্মুখভাগ হতে মাসহ শুরু করিলেন এবং হাতদ্বয়কে মাথার শেষ অবধি নিয়ে গেলেন অতঃপর সেখান থেকে হাতদ্বয়কে শুরু করার স্থানে ফিরিয়ে আনলেন। {৪৬}

{৪৫} বুখারী [১৮৬]; মুসলিম [২৩৫], ৬} বুখারী [১৮৫]; মুসলিম [২৩৫],হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩১. দু’কান মাসাহ করার বিবরণ

৩৬- আব্দুল্লাহ বিন`আমর [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি ওযুর নিয়ম পদ্ধতি সম্পর্কে বলেন, অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর মাথা মাসহ করার জন্য তাহাঁর দু’হাতের শাহাদাত আঙ্গুলদ্বয়কে তাহাঁর দু’কানের ছিদ্রে ঢুকালেন ও বৃদ্ধাঙ্গুলদ্বয় দিয়ে দু’কানের উপরিভাগে মাসহ করিলেন। ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন। {৪৭}

{৪৭} আবূ দাউদ [৯১৩৫]; নাসায়ি হাদিস [১/৮৮]`আমর বিন শুয়াইব সূত্রে তিনি তাহাঁর পিতা হতে, তিনি তাহাঁর দাদা হতে বর্ণনা করেন। এর আরো সমর্থক হাদিস রয়েছে। কিন্তু আবূ দাঊদে যে শব্দে হাদিসটি বর্ণিত হয়েছে তা সহিহ নয়।.হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩২. ঘুম থেকে উঠার সময় নাক পরিষ্কার করা শরীয়ত সম্মত

৩৭- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ নিদ্রা হতে জাগ্রত হইবে তখন সে যেন তিনবার তার নাক ঝেড়ে নেয়, কেননা শয়তান নাকের ছিদ্রপথে রাত্রি যাপন করে। {৪৮}

{৪৮} বুখারি- ৩২৯৫, মুসলিম- ২৩৮, হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩৩. ঘুম থেকে জাগ্রত ব্যক্তির দু হাতের তালু কোন পাত্রে প্রবেশ করার পুর্বে ধৌত করা আবশ্যক

৩৮- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘তোমাদের কেউ যেন ঘুম থেকে উঠে তিনবার হাত ধুয়ে না নেয়ার পুর্বে পানির পাত্রে না ডুবিয়ে দেয়। কেননা, সেতো জানেনা যে, ঘুমের অবস্থায় তার হাত কোথায় ছিল। {৪৯}

{৪৯} সহিহ। [বুখারি- ১৬২, মুসলিম- ২৭৮] শব্দ মুসলিমের, হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩৪. অযুর পদ্ধতির বিবরন

৩৯- লাকীত বিন সাবিরাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, “ভালভাবে উযু কর ও আংগুলের ফাকা স্থানে খিলাল কর, সাওম পালনকারি না হলে নাকে পুর্নভাবে পানি প্রবেশ করাও।“ আবূ দাউদ, নাসায়ি হাদিস, তিরমিজি, ইবনু মাজাহ। ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন। {৫০} আবূ দাঊদের অন্য বর্ননায় রয়েছে যখন তুমি উযু করিবে তখন কুলি করিবে। {৫১}

{৫০} সহিহ। আবূ দাউদ [১৪২, ১৪৩] নাসায়ি হাদিস [১/৬৬,৬৯], তিরমিজি [৩৮], ইবনু মাজাহ [৪৪৮], ইবনু খুযাইমাহ [১৫০, ১৬৮]`আসিম বিন লাক্বীত বিন সাবেরাহ সুত্রে, তিনি তার পিতা হতে। {৫১} সুনান আবূ দাউদ [১৪৪], হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩৫. অযুতে দাড়ি খেলাল [ভেজা আংগুল দিয়ে দাড়ির গোড়া ভিজানো] করার বিধান

৪০- ‘উসমান [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উযু করার সময় তার দাড়ি খিলাল করিতেন। {৫২}

{৫২} হাদিসটি জয়ীফ, অনেক শাহীদ হাদিস থাকা সত্ত্বেও ত্রুটিমুক্ত হয়নি [তাওযিহুল আহকাম ১/২২০], তিরমিযি [৩১], ইবনু খুযাইমাহ [১/৭৮-৭৯]। ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন। ইমাম তিরমিজি বলেন, হাদিসটি হাসান সহিহ। মুহাক্কিক সুমাইর আয যুহরি বুল্গুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, শাহেদের কারনে হাদিসটি হাসান সহিহ। কেননা হাদিসটি দশের অধিক সাহাবা থেকে সমর্থক হাদিস বর্নিত হয়েছে। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩৬. অযুর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গুলো ঘষা শরীয়তসম্মত

৪১- আব্দুল্লাহ বিন যায়দ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘নাবী [সাঃআঃ] এর খেদমতে দুই তৃতীয়াংশ মুদ [প্রায় আধা সের] পরিমান পানি পেশ করা হলে তিনি তা দিয়ে তার দুই হাতের কনুই পর্যন্ত ঘষে ধুতে লাগলেন।’ {৫৩}

{৫৩} আহমাদ [৪/৩৯], ইবনু খুযাইমাহ [২২৮], ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন। হাদিসের শব্দ ইবনু খুযাইমার। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩৭. মাথা মাসহ করার জন্য নতুন পানি গ্রহন করা শরীয়তসম্মত

৪২- আব্দুল্লাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘তিনি নাবী [সাঃআঃ] -কে মাথা মাসাহ -এর অবশিষ্ট পানি ব্যতীত কান মাসহ করিতে নতুনভাবে পানি নিতে দেখেছেন। {৫৪}

মুসলিমের সুরক্ষিত শব্দ বিন্যাস এরুপ-`এবং তিনি তাহাঁর মাথা মাসহ করেছিলেন। তাহাঁর হস্তদ্বয়ের অবশিষ্ট পানি ব্যতীত অন্য পানি দিয়ে।’ {৫৫} {হাদিসের প্রথম অংশ শায ও দ্বিতীয় অংশ মাহফুয, শায প্রত্যাখ্যাত ও মাহফুয গ্রহণীয়}

{৫৪} বায়হাক্বী [১/৬৫], বায়হাক্বী বলেন হাদিসটির সনদ সহিহ। তিরমিজিও একে সহিহ বলেছেন। ইমাম নাবাবী তার আল মাজমূ’ [১/৪১২] গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। ইবনু উসাইমীন আশ-শারহুল মুমত্বী [১/১৭৮] ও শারহে বুলুগুল মারাম [১/১৮৯] গ্রন্থে হাদিসটিকে শায বলেছেন। শাতখ আলবানী সিলসিলা সহীহা [১/৯০৫] গ্রন্থে হাদিসটি শায ও সহিহ নয়। {৫৫} মুসলিম [২৩৬], ইমাম বায়হাক্বী বলেন, এটি পুর্বে এ বিষয়ে বর্নীত হাদিসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সহিহ। হাদিসের তাহকীকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩৮. অযুর ফযিলত এবং তার সওয়াবের বিবরন

৪৩- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] -কে বলিতে শুনিয়াছি,`ক্বিয়ামাতের দিনে আমার উম্মাত অযুর চিহ্ন বহনকারী গুররান মুহাজ্জালীন [উজ্জ্বল মুখমন্ডল ও হাত পা] সহ হাযির হইবে। তাই ওই উজ্জলতা যারা বৃদ্ধি করিতে সক্ষম তারা যেন তা বৃদ্ধি করে নেয়। {৫৬}

{৫৬} সহিহ। বুখারি [১৩৬]। মুসলিম [৩৫, ২৪৬] শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। আর [আরবী] কথাটি আবূ হুরাইরাহ [রাঃআঃ] হতে মুদরাজ হিসেবে বর্নিত। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৩৯. সকল বিষয় বিশেষ করে অযু ডান দিক থেকে শুরু করার বিধান

৪৪- আয়িশা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] তাহাঁর জুতা পরিধান করা, চুল আচঁড়ানো, উযু সহ সকল ভাল কাজ ডান দিক থেকে শুরু করা পছন্দ করিতেন।’ {৫৭}

{৫৭} বুখারি [৬৮]। মুসলিম [৬৭, ২৬৮] মাসরুকের সুত্রে আয়িশাহ [রাঃআঃ] হতে। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪০. অযূতে ডান দিক থেকে শুরু করার নির্দেশ

৪৫- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম] বলেছেন,`তোমরা যখন উযু করিবে তখন ডান দিক থেকে আরম্ভ করিবে।’ {৫৮}

{৫৮} আবূ দাউদ [৪১৪১], তিরমিজি [১৭৬৬], নাসায়ি হাদিস তার সুনানুল কুবরায় [৫/৪৮২], ইবনু মাজাহ [৪০২] ইবনু খুযাইমাহ [১৭৮] ইবনু খুযাইমাহ একে সহিহ বলেছেন। হাদিসের শব্দ ইবনু মাজাহর। আর আবূ দাউদ ও ইবনু মাজাহর শব্দ হল [আরবী] তোমরা যখন পোশাক পরবে বা ওযু করিবে তখন তোমাদের ডান দিক হতে শুরু করিবে। তিরমিজি ও নাসায়ি হাদিসর শব্দ হচ্ছেঃ [আরবী] তিনি যখন পোশাক পরতেন তখন ডান দিক হতে শুরু করিতেন। এ থেকে পরিষ্কার হয়ে যায় যে, হাফেয ইবনু হাজার তাখরিজ করার ক্ষেত্রে ভুল করিয়াছেন। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪১. পাগড়ি সহকারে মাথার সম্মুখভাগ মাসাহ করা যথেষ্ট

৪৬- মুগীরাহ বিন শু‘বাহ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘নাবী [সাঃআঃ] ওযু করা কালে তাহাঁর কপাল, পাগড়ি ও মুজাদ্বয়ের উপর মাসহ করিয়াছেন।’ {৫৯}

{৫৯} সহিহ মুসলিম [৮৩, ২৭৪], হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪২. অযূতে ধারাবাহিকতা রক্ষা আবশ্যক

৪৭- জাবির বিন্`আবদুল্লাহ্ [রাঃআঃ] নাবী [সাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেন,`[কুরআনে] আল্লাহ্ যা দিয়ে শুরু করিয়াছেন তোমরাও [সায়ী] তা দিয়ে শুরু কর।’ নাসায়ি হাদিস আদেশমূলক শব্দে বর্ণনা করিয়াছেন। {৬০} এবং মুসলিমে [এটা বিবৃতি সূচক শব্দ দ্বারা] বর্ণিত হয়েছে। {৬১}

{৬০} সহীহ্ নাসায়ি হাদিস [৫৩৬],{৬১} মুসলিম [২/৮৮৮]; তিনি [আরবী] শব্দে বর্ণনা করেন। দেখুন [৭৪২], হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪৩. অযূতে দু’কনুইকে অযূর অঙ্গের অন্তর্ভুক্ত করা

৪৮- জাবির [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘নাবী [সাঃআঃ] ওযু করার সময় তাহাঁর দু’ কনুই-এর উপর পানি ফিরাতেন।’ –দারাকুতনী দুর্বল সানাদে এটি বর্ণনা করিয়াছেন। {৬২}

{৬২} অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী [১/১৫/৮৩] এ হাদিসের সানাদে কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল মাতরূক। যিয়াউদ্দীন মাকসেদী তাহাঁর আস সুনান ওয়াল আহকাম [১/৯৫] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উকাইল রয়েছে। ইমাম আহমাদ তাহাঁর সম্পর্কে বলেন, তিনি তেমন কেউ নন। আবূ হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি মাতরূকুল হাদিস। ইমাম যাহাবী তাহাঁর তানকীহুত তাহক্বীক [১/৪৭] গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম হচ্ছে মাতরূক। ইমাম যঈলয়ীও তাহাঁর তাখরীজুল কাশশাফ [১/৩৮৩] গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করিয়াছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাহাঁর আল কাফী আশ শাক [৯০] গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। ইমাম সনআনী তাহাঁর সুবুলুস সালাম [১/৮০] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আল কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন উকাইল রয়েছে যিনি মাতরূক। ইমাম দারাকুতনীও তাহাঁর সুনানে [১/২১৫] উক্ত রাবী শক্তিশালী বলে মন্তব্য করিয়াছেন। ইমাম শওকানী ফাতাহুল কাদীর [২/২৭] গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ মাতরূক আর তার দাদা দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শওকানী তাহাঁর সাইলুল জাররার [১/৮৩] গ্রন্থে বলেন, উক্ত রাবীর বিতর্কের বিষয়টি অতি প্রসিদ্ধ। ইমাম তাহাঁর খুলাসা [১/১০৮] এবং আল মাজমূ’ [১/৩৮৫] গ্রন্থেও হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন।তবে শাইখ আলবানী তাহাঁর সিলসিলা সহীহাহ [২০৬৭] গ্রন্থে বলেন, এর আরও সূত্র থাকায় এটি শক্তিশালী হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি সহীহুল জামে’ [৪৬৯৮] গ্রন্থে হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন। হাদিসের তাহকীকঃ খুবই দুর্বল

পরিচ্ছেদ ৪৪. অযূতে বিসমিল্লাহ্‌ বলার বিধান

৪৯- আবূ হুরাইরা [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল [সাঃআঃ] বলেন,`[ওযুর শুরুতে] যে ব্যক্তি`বিসমিল্লাহ্‌’ না বলে তার ওযু শুদ্ধ হয় না।’ ইবনু মাজাহ এটি দুর্বল সানাদে বর্ণনা করিয়াছেন। {৬৩}

{৬৩} কতক শাওয়াহেদ তথা সমর্থক হাদিস থাকার কারণে হাদিসটি হাসান। আহমাদ [২/৪১৮]; আবূ দাউদ [১০১], ইবনু মাজাহ [৩৯৯], হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

৫০- বর্ণনাকারী থেকে বর্ণিতঃ

তিরমিজিতে হাদিসটি সা‘ঈদ বিন্‌ যায়দ থেকে বর্ণিত হয়েছে। {৬৪}

{৬৪} সুনান তিরমিজি [২৫], হাদিসের তাহকীকঃ অন্যান্য

৫১- আবূ সা‘ঈদ খুদ্‌রী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

অনুরূপ হাদিস বর্ণনা করিয়াছেন। {৬৫} আহমাদ বলেন,`বিসমিল্লাহ্‌ বলা প্রসঙ্গে কিছু প্রমাণিত নেই।’ {৬৬}

{৬৫} আল-ইলালুল কুবরা [১১২-১১৩]

{৬৬} যেমনটি “মাসায়েল ইবনু হানী” তে [১/১৬/৩] বর্ণিত হয়েছে। মুহাক্কিত সুমাইর আয-যুহাইরি বুলগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেনঃ কিন্তু হাদিসটি কতক সমর্থক থাকার কারণে সহিহ। হাফেজ ইবনু হাজার ব্যতীত অন্যরা একে সহিহ বলেছেন। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪৫. কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার পদ্ধতি

৫২- ত্বালহা বিন মুসরিফ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

নাবী [সাঃআঃ] -কে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়ার ক্ষেত্রে পার্থক্য করিতে দেখেছি। [অর্থাৎ দুই কাজে আলাদা আলাদা পানি ব্যবহার করিতেন]। আবূ দাউদ এটি দুর্বল সানাদে বর্ননা করিয়াছেন। {৬৭}

{৬৭} জঈফ। আবূ দাউদ [১৩৯], ইবনুল মুলকিন তাহাঁর খুলাসা আল বাদরুল মুনীর [১/৩২] গ্রন্থে হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন, আর তিনি একই গ্রন্থে [২/১০৪] এবং তুহফাতুল মুহতাজ [১/১৮২] গ্রন্থে বলেন, হাদিসটি দুর্বল, কেননা প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিসগণের নিকট লাইস বিন আবূ সুলাইম দুর্বল বর্ণনাকারী হিসেবে পরিগণিত। ইমাম তাহাঁর খুলাসা [১/১০১] গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন আর আল মাজমু’ [১/৩৮৫] গ্রন্থে বলেছেনঃ এর সনদ শক্তিশালী নয়। ইমাম সনআনী তাহাঁর সুবুলুস সালাম [১/৮২] গ্রন্থে বলেন, এর সনদে লাইস বিন আবূ সুলাইম রয়েছেন যিনি দুর্বল বর্ণনাকারী।ইমাম শওকানী তাহাঁর সাইলুল জাররার গ্রন্থে বলেন, এ হাদিসটিকে মুসরিফ ওয়ালিদ ত্বলহার অজ্ঞতার কারণে ত্রুটিপূর্ণ মনে করা হয় কিন্তু ইবনুস সালাহ এর সনদকে হাসান বলেছেন ………। মুহাদ্দিস আযীমাবাদী তাহাঁর গায়াতুল মাকসুদ [১/৪০৪], আওনুল মা’বুদ [১/১১৭] গ্রন্থেও হাদিসটিকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী জঈফ আবূ দাউদ [১৩৯] গ্রন্থে একে দুর্বল বলেছেন।ইবনু হাজার তাহাঁর আত তালখীসুল হাবীর [১/১১৫] গ্রন্থে বলেন, এর সনেদ লাইস বিন আবূ সুলাইম দুর্বল বর্ণনাকারী রয়েছে যাকে ইয়াহইয়া ইবনুল কাত্তান, ইবনু মুঈন, আহমাদ বিন হাম্বাল পরিত্যাগ করিয়াছেন। হাদিসের তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

৫৩- আলী [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

“অতঃপর নাবী [সাঃআঃ] কুলি করিলেন ও তিনবার নাকে পানি দিয়ে নাক ঝেড়ে নিলেন। তিনি কুলি করা এবং নাক ঝাড়ার কাজ একবার নেয়া পানিতেই সমাধা করিলেন।” –আবূ দাউদ ও নাসায়ি হাদিস। {৬৮}

৬৮} এটি পূর্বের হাদিসের একটি অংশ। হাঃ ৩৪, হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

৫৪- আবদুল্লাহ্‌ বিন্‌ যায়দ [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

‘নাবী [সাঃআঃ] পাত্রে হাত প্রবেশ করালেন এবং একবারে নেয়া পানিতেই কুলি করিলেন ও নাকে পানি দিলেন। তিনি অনুরূপ তিনবার করিলেন। {৬৯}

{৬৯} এটি পূর্বের হাদিসের একটি অংশ। হাঃ ৩৫, হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪৬. অযুর মাঝে বিরতি না দেয়া

৫৫- আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, নাবী [সাঃআঃ] জনৈক ব্যক্তির পায়ে নখ পরিমাণ জায়গায় ওযুর পানি না পৌঁছা দেখে তাকে বলিলেন, “তুমি ফিরে গিয়ে তোমার ওযুকে ভালভাবে সমাধা কর।” আবূ দাউদ নাসায়ি হাদিস এটি বর্ণনা করিয়াছেন। {৭০}

{৭০} আবূ দাউদ [১৭৩], হাদিসটিকে ইবনু হাজার নাসায়ি হাদিসর সাথে সম্পৃক্ত করে ভুল করিয়াছেন। কেননা হাদিসটিকে সুনানুল কুবরা ও সুনানুল সুগরাতে পাওয়া যায় না। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪৭. কতটুকু পরিমাণ পানি দিয়ে অযূ ও গোসল যথেষ্ট হইবে

৫৬- আনাস [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, “রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক`মুদ্দ’ [ছয় শত গ্রাম] পানি দিয়ে ওযু ও এক সা‘ [আড়াই কেজির সামান্য বেশী] থেকে পাঁচ`মুদ্দ’ পরিমাণ পানি দিয়ে গোসল করিতেন।” [এক সা‘ অর্থাৎ ৪ মুদ বা ২৬৬০ গ্রাম] {৭১}

{৭১} বুখারী [২০১]; মুসলিম [৫১, ৩২৫], nহাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদ ৪৮. অযূর পর যা বলিতে হয়

৫৭- উমার [রাঃআঃ] থেকে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি উত্তমরূপে উযু করিবে অতঃপর বলবে-

أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ، إِلَّا فُتِحَتْ لَهُ أَبْوَابُ الْجَنَّةِ

উচ্চারণঃ আশহাদু আল্লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহু আহ্দাহু লা-শারীকালাহু অ আশহাদু আন্না মুহাম্মাদান্ আবদুহু অ রসূলুহু; আল্লাহুম্মাজ্ আলনী মিনাত্ তওয়াবীন অজ্ আলনী মিনাল মুতাত্বহহেরীন। অর্থঃ “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই, এবং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ [সাঃআঃ] তাহাঁর বান্দা ও রসূল।” যে্ এই দুয়া পাঠ করিবে সে যে কোন দরজা দিয়ে ইচ্ছে জান্নাতে প্রবেশ করিতে পারবে- মুসলিম {৭২} ও তিরমিজি। তিরমিজিতে অতিরিক্ত আছে, “হে আল্লাহ্ আমাকে তওবাহকারী ও পবিত্রতা হাসিলকারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কর।” তার জন্য জান্নাতের ৮টি দরজা খুলে দেয়া হইবে। {৭৩}

{৭২} মুসলিম [২৩৪] উকবাহ বিন আমির হতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমাদের উপর উট চরানোর দায়িত্ব ছিল। অতঃপর আমার বিশ্রামের পালা এসে গেল। আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কে মানুষের মাঝে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলিতে লক্ষ্য করলাম। আমি এ কথাটুকু শুনতে পেলাম, “কোন মুসলিম যখন উত্তমরূপে ওযূ করে গভীর মনোযোগের সাথে দু’রাকাত সালাত আদায় করে। তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায়। রাবী বলেন, আমি বললাম এটা কতনা উত্তম। আমাকে হঠাৎ করে একজন বলিল, এটা পূর্ব থেকেই উত্তম। অতঃপর আমি দেখি যে তিনি উমার [রাঃআঃ]। তিনি বলিলেন, আমি তো দেখছি যে, তুমি এইমাত্র বুঝতে পেরেছ। তারপর তিনি এ হাদিস শুনালেন। এবং এর সাথে আরো বৃদ্ধি করে বলিলেন, আটটি দরজার যেকোনটি দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করিতে পারবে। {৭৩} সানান তিরমিজি [৫৫], তিরমিজি হতে এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি সহিহ নয়। হাদিসের তাহকীকঃ সহিহ হাদিস

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply