নতুন লেখা

একমাত্র বীর্যপাত থেকে গোসল ফার্‌য করণ

একমাত্র বীর্যপাত থেকে গোসল ফার্‌য করণ

একমাত্র বীর্যপাত থেকে গোসল ফার্‌য করণ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

২১. অধ্যায়ঃ একমাত্র বীর্যপাত থেকে গোসল ফার্‌য করণ {৯৪}

{৯৪} কিন্তু পরবর্তীতে এ হুকুম মানসুখ [রহিত] হয়ে যায় এবং শুধু সহবাসের দ্বারাই গোসল ফারয হয়।

৬৬২

আব্দুর রহমান ইবনি আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] তাহাঁর পিতা আবু সাঈদ আল খুদরী হইতে বর্ণীতঃ

কোন এক সোমবারে আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সঙ্গে কুবা এলাকার দিকে গেলাম। আমরা বানু সালিম গোত্রের মহল্লায় পৌঁছালে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ইত্‌বান এর গেইটে দাঁড়ালেন এবং তাকে উচ্চঃস্বরে ডাকলেন। তৎক্ষণাৎ তিনি পরনের লুঙ্গি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বের হয়ে আসলেন। এ অবস্থা দেখে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, আমরা কি লোকটিকে তাড়াহুড়োয় ফেলে দিলাম? তখন ইতবান বলিলেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি কোন ব্যক্তি তাহাঁর স্ত্রীর সাথে সহবাসের সময় তাড়াহুড়ো করে এবং তাতে বীর্যপাত না হয় তখন তাকে কি করিতে হইবে? [অর্থাৎ তাকে গোসল করিতে হইবে কিনা?] জবাবে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, বস্তুত বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করিতে হইবে। {৯৫} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮১]

{৯৪} কিন্তু পরবর্তীতে এ হুকুম মানসুখ [রহিত] হয়ে যায় এবং শুধু সহবাসের দ্বারাই গোসল ফারয হয়।

{৯৫} “বস্তুতঃ বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করিতে হইবে।” এ কথার ব্যাখ্যায় ঈমাম নাবাবী [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, সহবাস করলেই গোসল ফরয হয়ে যায়। এ ব্যাপারে উম্মাতের ইজমা [ঐকমত্য] হয়েছে। সহবাস দ্বারা বীর্যপাত হোক বা না হোক শুদুমাত্র পুরুষদের যৌনাঙ্গের অগ্রভাগ মহিলার গুপাতাঙ্গে প্রবেশ করলেই গোসল করিতে হইবে। “বীর্যপাত ঘটলেই গোসল করিতে হইবে” এ হাদীস মানসুখ [রহিত] হয়েছে। অর্থাৎ ইসলামের প্রথম যুগে এ হুকুম ছিল যে, সহবাসে বীর্যপাত না ঘটলে গোসল করা অপরিহার্য নয়। কিন্তু পরবর্তীতে তা রহিত হয়ে গেছে। এ অধ্যায়ে [৮৭-৩৪৮] নম্বর হাদীসটি নাসিখ [রহিতকারী]

৬৬৩

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, পানির [ধাতু বের হলে] দ্বারা [গোসল] ফারয হয়। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮২]

৬৬৪

আবুল আলা ইবনি শিখ্‌খীর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]- এর এক হাদীস অপর হাদীসকে মানসুখ [রহিত] করে দিতে যেমনিভাবে কুরআনের এক আয়াত অপর আয়াতকে মানসুখ করে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৩]

৬৬৫

আবু সাঈদ আল খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এক আনসারীর [বাড়ির] সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন। এরপর রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে সংবাদ পাঠালেন। সে বেরিয়ে এলো আর তার মাথা থেকে তখন ফোঁটা ফোঁটা পানি ঝরছিল। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেন, সম্ভবত আমরা তোমাকে তাড়াহুড়োর মধ্যে ফেলেছি। সে বলিল হ্যাঁ, ইয়া রাসুলুল্লাহ! তিনি বলিলেন, যখন [কোন কারণে] তোমাকে তাড়াতাড়ি [বীর্য বের হবার আগেই উঠে পড়তে হয়] অথবা বীর্য বের হইতে বাধাপ্রাপ্ত হও তখন তোমার উপর গোসল করা [ফারয] নয় বরং তোমার উপর শুধু ওযূ করা জরুরী। আর ইবনি বাশশার বলেন, যখন তোমাকে তাড়াহুড়ার মধ্যে ফেলা হয়েছে বা তোমাকে বীর্যপাত করিতে বাধা দেয়া হয়েছে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৬৬৮]

৬৬৬

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে প্রশ্ন করলাম সে ব্যক্তি সম্পর্কে যে স্ত্রী সহবাস করে [অথচ] তারপর বীর্যপাত হল না। তিনি বলিলেন, স্ত্রীর [লজ্জাস্থান] থেকে তার [লজ্জাস্থানে] যা লেগেছে তা ধুয়ে ফেলবে। তারপর ওযূ করিবে এবং নামাজ আদায় করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৫]

৬৬৭

উবাই ইবনি কাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যে ব্যক্তি তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে তারপর বীর্যপাত হয় না- তাহাঁর সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেন, সে তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে এবং ওযূ করিবে। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৬]

৬৬৮

যায়দ ইবনি খালিদ আল জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

একদা তিনি উসমান ইবনি আফফান [রাদি.]-কে প্রশ্ন করেন, কোন লোক যদি তাহাঁর স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করে এবং বীর্যপাত না হয় তাহলে তাহাঁর হুকুম কি? উসমান [রাদি.] বলিলেন, সে সালাতের ওযূ করে নিবে। এবং তার লজ্জাস্থান ধুয়ে ফেলবে। উসমান [রাদি.] বলেন, আমি এটা রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে শুনেছি। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৭]

৬৬৯

আবু আইয়ুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] থেকে এমন শুনেছেন। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৭৩, ইসলামিক সেন্টার- ৬৮৮]

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে”

মহান আল্লাহর বাণী : “তারা দুটি বিবদমান পক্ষ তাদের প্রতিপালক সম্পর্কে বাক-বিতণ্ডা করে” মহান আল্লাহর …

Leave a Reply

%d bloggers like this: