বিশেষ দোয়া ( মৌলিক দুয়া সমহু )

বিশেষ দোয়া ( মৌলিক দুয়া সমহু )

বিশেষ দোয়া ( মৌলিক দুয়া সমহু) >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ১০, অধ্যায়ঃ ৭

  • অধ্যায়ঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ৭. প্রথম অনুচ্ছেদ

২৪৮২. আবু মূসা আল আশ্আরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণনা করেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] কোন কোন সময় এরূপ দুআ করিতেন,

আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী খত্বীআতী ওয়া জাহলী ওয়া ইস্‌রা-ফী ফী আম্‌রী ওয়ামা- আন্‌তা আলামু বিহী মিন্নী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফির্‌লী জিদ্দী ওয়া হাযলী ওয়া খত্বায়ি ওয়া আম্‌দী ওয়া কুল্লু যা-লিকা ইনদী, আল্ল-হুম্মাগ্ ফিরলী মা- কদ্দামতু ওয়ামা- আখখারতু ওয়ামা- আসরারতু ওয়ামা- আলানতু ওয়ামা- আনতা বিহী আলামু বিহী মিন্নী আনতাল মুকদ্দিমু ওয়া আনতাল মুআখখিরু ওয়া আনতা আলা- কুল্লি শাইয়িন কদীর

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহসমূহ মাফ করো, আমার অজ্ঞতা ও আমার কাজে সীমালঙ্ঘন, আর যা তুমি আমার চেয়েও বেশি জানো। হে আল্লাহ! আমার গুনাহসমূহ মাফ করো যা আমার ঐকান্তিক প্রচেষ্টা, খামখেয়ালী করা, ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় করা আর যা সবগুলোই আমার মধ্যে পরিলক্ষিত হয়। হে আল্লাহ! তুমি আমার পূর্বের ও পরের গুনাহ, প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য গুনাহ মাফ করে দাও, আর যা তুমি আমার চেয়েও বেশি জানো। তুমিই আগে বাড়াও, তুমিই পেছনে হটাও এবং প্রত্যেকটি ব্যাপারেই তুমি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।]। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৩৯৮, মুসলিম ২৭১৯, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩৯২, মুজামুল আওসাত লিত্ব ত্ববারানী ৬৫৫২, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ১৯৪, সহীহ আল জামি ১২৬৪। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৮৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [দুআ] বলিতেন,

আল্ল-হুম্মা আস্‌লিহ লী দীনিল্লাযী হুওয়া ইস্‌মাতু আম্‌রী ওয়া আস্‌লিহ লী দুন্ইয়া- ইয়াল্লাতী ফীহা- মাআ-শী ওয়া আস্‌লিহ লী আ-খিরাতিল্লাতী ফীহা- মাআ-দী ওয়াজ্আলিল হায়া-তা যিয়া-দাতান লী ফী কুল্লি খয়রিন ওয়াজ্আলিল মাওতা রা-হাতান লী মিন কুল্লি শাররিন

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্য আমার দ্বীন {ধর্ম]-কে ঠিক করে দাও, যা ঠিক করে দেবে আমার কার্যাবলী। তুমি ঠিক করে দাও আমার দুনিয়া {ইহকাল], যাতে রয়েছে আমার জীবন। তুমি ঠিক করে দাও আমার আখিরাত {পরকাল], যেখানে আমি {অবশ্যই] ফিরে যাবো। আমার হায়াত {আয়ুষ্কাল] প্রত্যেক কল্যাণকর কাজের জন্য বাড়িয়ে দাও, আর আমার মৃত্যুকে আমার জন্য প্রত্যেক অকল্যাণ হইতে শান্তিস্বরূপ কর।]। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৭২০, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২৪৫, সহীহ আদাবুল মুফরাদ ৫১৯/৬৬৮, সহীহ আল জামি ১২৬৩। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৮৪. আবদুল্লাহ ইবনি মাস্ঊদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [দুআয়] বলিতেন,

আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাল হুদা- ওয়াত্তুকা- ওয়াল আফা-ফা ওয়াল গিনা-

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে হিদায়াত {সঠিক পথ], তাকওয়া {পরহেযগারিতা], হারাম থেকে বেঁচে থাকা ও অমুখাপেক্ষিতা প্রত্যাশা করি]। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৭২১, তিরমিজি ৩৪৮৯, ইবনি মাজাহ ৩৮৩২, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯১৯২, আহমাদ ৩৯৫০, সহীহ ইবনি হিব্বান ৯০০, সহীহ আল জামি ১২৭৫। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৮৫. আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, তুমি [দুআ] বল,

আল্ল-হুম্মাহদিনী ওয়া সাদ্দিদনী ওয়াযকুর বিলহুদা- হিদা-য়াতাকাত্ব ত্বরীকা ওয়াবিস্ সাদা-দি সাদা-দাস্ সাহমি

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে হিদায়াতের পথ দেখাও এবং আমাকে সরল-সোজা রাখো। আর হিদায়াত বলিতে মনে করিবে তুমি আল্লাহর পথ, আর সোজা বলিতে খেয়াল করিবে তীরের মতো সোজা।]। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৭২৫, আহমাদ ১৩২১, সহীহ আল জামি ৪৪০১। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৮৬. আবু মালিক আল আশ্জাঈ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি তার পিতা হইতে বর্ণনা করেন। তার পিতা বলেন, যখন কোন লোক ইসলাম গ্রহণ করিতেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে প্রথম নামাজ শিক্ষা দিতেন। তারপর তাকে এ পূর্ণ বাক্যগুলো পড়ে দুআ করিতে আদেশ করিতেন,

আল্ল-হুম্মাগফিরলী, ওয়ারহামনী, ওয়াহদিনী, ওয়া আ-ফিনী, ওয়ারযুকনী

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করো, আমাকে দয়া করো, আমাকে পথ দেখাও, আমাকে শান্তিতে রাখো এবং আমাকে রিযক দান করো]। ১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৬৯৭, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ৮৪৮। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৮৭.আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অধিকাংশ সময়ই এ দুআ করিতেন, আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতাওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- আযা-বান্না-র [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়ায় এবং আখিরাতে কল্যাণ দান করো। আর জাহান্নামের আযাব {শাস্তি] হইতে বাঁচাও]। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৩৮৯, মুসলিম ২৬৯০, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩০২, আহমাদ ১৩১৬৩, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২৮০, সহীহ ইবনি হিব্বান ৯৩৮। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ৭. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

২৪৮৮. আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুআ করিতেন,

রব্বি আইন্নী ওয়ালা- তুইন্ আলাইয়্যা ওয়ানসুরনী ওয়ালা- তানসুর আলাইয়্যা ওয়াম্‌কুরলী ওয়ালা- তাম্‌কুর আলাইয়্যা ওয়াহদিনী ওয়া ইয়াস্‌সিরিল হুদা- লী ওয়ানসুরনী আলা- মান্ বাগা- আলাইয়্যা রব্বিজ্আলনী লাকা শা-কিরান লাকা যা-কিরান লাকা র-হিবান লাকা মিত্বওয়া-আন লাকা মুখবিতান ইলায়কা আও্ওয়া-হান মুনীবান রব্বি তাকব্বাল তাওবাতী ওয়াগসিল হাওবাতী ওয়াআজিব্ দাওয়াতী ওয়া সাব্বিত্ হুজ্জাতী ওয়া সাদ্দিদ্ লিসা-নী ওয়াহদি কলবী ওয়াসলুল সাখীমাতা সদরী

[অর্থাৎ- হে রব! আমাকে সাহায্য করো, আমার বিপক্ষে সাহায্য করো না। আমাকে সহযোগিতা করো আমার বিরুদ্ধে সহযোগিতা করো না। আমার পক্ষে উপায়-উপকরণ উদ্ভাবন করো, আমার বিরুদ্ধে উপায়-উপকরণ উদ্ভাবন করো না। আমাকে পথ দেখাও, আমার জন্য পথ সহজ করে দাও। যে আমার ওপর জবরদস্তি করে, তার ওপর আমাকে বিজয়ী করো। হে রব! আমাকে তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ বানাও। আমাকে তোমার জিকিরকারী করো, তোমার ভয়ে আমাকে ভীত-সন্ত্রস্ত করো। তোমার প্রতি অনুগত করো, তোমারই প্রতি বিনম্র করো। {অনুতপ্তের জন্য] তোমার কাছে মনের দুঃখ জানাতে শিখাও, তোমার প্রতি আমাকে ঝুকাও। হে রব! তুমি আমার তাওবাহ্ কবূল করো, আমার গুনাহ ধুয়ে দাও। আমার ডাকে সাড়া দাও, আমার ঈমান দৃঢ় করো, আমার মুখ ঠিক রাখো, আমার অন্তরকে হিদায়াত দান করো এবং আমার অন্তরের কলুষতা দূরীভূত করো।]। {১}

{১} সহীহ : আবু দাউদ ১৫১০, তিরমিজি ৩৫৫১, ইবনি মাজাহ ৩৮৩০, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩৯০, আহমাদ ১৯৯৭, সহীহ আল জামি ৩৪৮৫, সহীহ ইবনি হিববান ৯৪৭, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ১৯৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯১০। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৮৯. আবু বাকর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একদিন মিম্বারের উপর দাঁড়িয়ে কেঁদে ফেললেন, অতঃপর বললেনঃ তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো এবং শান্তি চাও। কেননা ঈমান আনার পর কাউকেও শান্তির চেয়ে উত্তম আর কিছু দেয়া হয় না। {১}

{১} হাসান সহীহ : তিরমিজি ৩৫৫৮, ইবনি মাজাহ ৩৮৪৯, সহীহ আল জামি ৩৬৩২, সহীহ আত তারগীব ৩৩৮৭, ইরওয়া ৯১৭।এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান সহীহ

২৪৯০. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন জনৈক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নিকট এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দুআ সর্বোত্তম? উত্তরে তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, তোমার রবের কাছে দুনিয়া ও আখিরাতের শান্তি ও নিরাপত্তা কামনা করো। অতঃপর সেই ব্যক্তি আবার দ্বিতীয় দিন এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! কোন্ দুআ সর্বোত্তম? তখন তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তাকে আগের মতো বললেন। আবার সেই ব্যক্তি তৃতীয় দিন আসলো [একই প্রশ্ন করলে], তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] আগের মতই উত্তর দিলেন। অতঃপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, দুনিয়া ও আখিরাতে যখন শান্তি ও নিরাপত্তা লাভ করলে, তখন মুক্তি লাভ করলে। {১}

{১} জইফ : তিরমিজি ৩৫১২, ইবনি মাজাহ ৩৮৪৮, জইফ আল জামি ২৪৯০, জইফ আত তারগীব ১৯৭৭, যঈফাহ্ ২৪৫১, আহমাদ ১২২৯১। কারণ এর সানাদে সালামাহ্ ইবনি ওয়ার্দান একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৪৯১. আবদুল্লাহ ইবনি ইয়াযীদ আল খত্বমী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে বর্ণনা করেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] দুআ করার সময় বলিতেন, আল্ল-হুম্মার্ যুকনী হুব্বাকা ওয়াহুব্বা মান্ ইয়ানফাউনী হুব্বুহূ ইন্‌দাকা, আল্ল-হুম্মা মা- রযাকতানী মিম্মা- উহিব্বু ফাজ্আলহু ক্যুওয়াতান লী ফীমা- তুহিব্বু, আল্ল-হুম্মা মা যাওয়াইতা আন্নী মিম্মা- উহিব্বু ফাজ্আলহু ফারা-গান লী ফীমা- তুহিব্বু

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে তোমার ভালোবাসা এবং যার ভালোবাসা তোমার কাছে আমার জন্য কল্যাণকর হবে মনে করো তার ভালোবাসা আমাকে দান করো। হে আল্লাহ! আমি ভালোবাসি এমন যা তুমি আমাকে দিয়েছো, একে তুমি আমার অনুকূল করে দাও যা তুমি তার জন্য ভালোবাসো। হে আল্লাহ! আমি যা ভালোবাসি তার যতখানি তুমি আমার কাছ হইতে দূরে রেখেছো, তাকে তুমি যা আমার পক্ষে ভালোবাসো তা করার জন্য সুযোগ-সুবিধা দান করো।]। {১}

{১} জইফ : তিরমিজি ৩৪৯১, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৫৯২, জইফ আল জামি ১১৭২। কারণ সুফ্ইয়ান বিন ওয়াকিঈ দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৪৯২. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কোন মাজলিস [বৈঠক] হইতে খুব কমই উঠতেন, যতক্ষণ পর্যন্ত তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তার সাহাবীগণের জন্য এ দুআ না করিতেন-

আল্ল-হুম্মাকসিম লানা- মিন্ খশ্ইয়াতিকা মা- তাহূলু বিহী বায়নানা- ওয়া বায়না মাআ-সীকা ওয়ামিন্ ত্ব-আতিকা মা- তুবাল্লিগুনা- বিহী জান্নাতাকা ওয়ামিনাল ইয়াক্বীনি মা- তুহাওবিনু বিহী আলায়না- মুসীবা-তিদ্ দুন্ইয়া- ওয়া মাত্তিনা- বিআসমা-ইনা- ওয়া আবস-রিনা- ওয়া ক্যুওয়াতিনা- মা- আহ্ইয়াইতানা- ওয়াজ্আলহুল ওয়া-রিসা মিন্না- ওয়াজ্আল সারানা- আলা- মান্ যলামনা- ওয়ানসুরনা- আলা- মান আ-দা-না ওয়ালা- তাজ্আল মুসীবাতানা- ফী দীনিনা- ওয়ালা- তাজ্আলিদ্ দুন্ইয়া- আকবারা হাম্মিনা- ওয়ালা- মাব্‌লাগা ইলমিনা- ওয়ালা- তুসাল্লিত্ব আলায়না- মান্ লা- ইয়ার্‌হামুনা-

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাদের মধ্যে ঐ পরিমাণ তোমার ভীতি-সঞ্চার করো যা দিয়ে তুমি আমাদের মাঝে ও তোমার নাফরমানীর মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করিবে। তোমার ইবাদাত-আনুগত্যের ঐ পরিমাণ আমাদেরকে দান করো, যা দিয়ে তুমি আমাদেরকে তোমার জান্নাতে প্রবেশ করাবে এবং তোমার ওপর ঈমানের ঐ পরিমাণ দান করো যা দিয়ে তুমি দুনিয়ার বিপদাপদ সহজ করে দেবে। হে আল্লাহ! আমাদের উপকার সাধন করো আমাদের কানের মাধ্যমে, আমাদের চোখের মাধ্যমে ও আমাদের শক্তির মাধ্যমে, যতক্ষণ না তুমি আমাদেরকে বাঁচিয়ে রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের উত্তরাধিকারী জারী রাখো। হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রতিশোধ-প্রতিরোধকে সীমাবদ্ধ রাখো তাদের ওপর, যারা আমাদের ওপর যুলম {অত্যাচার-অবিচার] করেছে এবং আমাদের সাহায্য-সহযোগিতা করো তাদের বিরুদ্ধে, যারা আমাদের সাথে শত্রুতা করেছে। হে আল্লাহ! আমাদের দ্বীন সম্পর্কে আমাদেরকে কোন বিপদে ফেলো না এবং দুনিয়াকে আমাদের মৌলিক চিন্তার বিষয় ও জ্ঞানের পরিসীমা করো না। হে আল্লাহ! যারা আমাদের ওপর দয়া প্রদর্শন করিবে না, তাদেরকে আমাদের ওপর চাপিয়ে দিও না।]।{১}

{১} হাসান : তিরমিজি ৩৫০২, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ২২৬, সহীহ আল জামি ১২৬৮। এই হাদিসটির তাহকীকঃ হাসান হাদিস

২৪৯৩. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [দুআ] বলিতেন,

আল্ল-হুম্মান্ ফানী বিমা- আল্লামতানী ওয়া আল্লিমনী মা- ইয়ানফাউনী ওয়া যিদ্‌নী ইলমা-, আলহামদু লিল্লা-হি আলা- কুল্লি হা-লিন্ ওয়া আঊযুবিল্লা-হি মিন হা-লি আহলিন্‌না-র

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে যা শিক্ষা দিয়েছো তা আমাদের উপকারে লাগাও এবং আমাদের উপকারে আসে এমন শিক্ষা দান করো, আর আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি করো। প্রত্যেক অবস্থায়ই আল্লাহর কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছি জাহান্নামীদের অবস্থা হইতে এবং আমি আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই।]।{১}

{১} সহীহ : তবে الحمد لله…….النار]] অংশটুকু ব্যতীত। তিরমিজি ৩৫৯৯, ইবনি মাজাহ ৩৮৩৩, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩৯৩, শুআবুল ঈমান ৪০৬৬, সহীহাহ্ ৩১৫১, জইফ আল জামি ১১৮৩। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৯৪. উমার ইবনুল খাত্ত্বাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ওপর যখন ওহী অবতীর্ণ হতো তাহাঁর মুখে মৌমাছির গুন্ গুন্ শব্দের মতো আওয়াজ শোনা যেতে। এভাবে একদিন তাহাঁর ওপর ওহী নাযিল করা হলো। আমরা কিছু সময় তাহাঁর কাছে অপেক্ষা করলাম। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] স্বাভাবিক হয়ে কিবলার দিকে ফিরলেন এবং হাত উঠিয়ে বললেন,

আল্ল-হুম্মা যিদনা- ওয়ালা- তানক্বুসনা- ওয়া আকরিমনা- ওয়ালা- তুহিন্না- ওয়া আত্বিনা- ওয়ালা- তাহ্‌রিম্‌না- ওয়া আ-সির্‌না- ওয়ালা- তুসির আলায়না- ওয়া আর্‌যিনা- ওয়ার্‌যা আন্না-

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদের জন্য {তোমার দান] বাড়িয়ে দাও, কম করো না। আমাদেরকে সম্মানিত করো, অপমানিত করো না। আমাদেরকে দান করো, বঞ্চিত করো না। আমাদেরকে ক্ষমতা দাও, কাউকেও আমাদের বিপক্ষে ক্ষমতা দিও না। তুমি আমাদেরকে খুশী করো, আমাদের প্রতিও তুমি খুশী থাকো।]।

অতঃপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, এখন আমার ওপর দশটি আয়াত নাযিল হলো, যে ব্যক্তি এ আয়াত বাস্তবায়ন করিবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করিবে। এরপর তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] তিলাওয়াত করিতে লাগলেন, [সূরা মুমিনূন-এর শুরু হইতে] কদ্ আফলাহাল মুমিনূন [অর্থাৎ- মুমিনগণ কৃতকার্য হয়েছে]- এভাবে দশটি আয়াত [তিলাওয়াত] শেষ করিলেন। ]{১}

{১} জইফ : তিরমিজি ৩১৭৩, ইবনি আবী শায়বাহ্ ৬০৩৮, আহমাদ ২২৩, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯৬১, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২৪০, যঈফাহ্ ১২৪২, জইফ আল জামি ১২০৮। কারণ এর সানাদে ইউনুস ইবনি সুলায়ম একজন মাজহূল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

অধ্যায়ঃ ৭. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

২৪৯৫. উসমান ইবনি হুনায়ফ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, জনৈক দৃষ্টিহীন ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে এসে বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করুন, তিনি যেন আমাকে আরোগ্য [দৃষ্টিশক্তি] দান করেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, তুমি চাইলে আমি আল্লাহর কাছে দুআ করবো। কিন্তু তুমি যদি চাও ধৈর্যধারণ করিতে পারো, আর এটাই তোমার জন্য উত্তম হবে। লোকটি বললো, হে আল্লাহর রসূল! আমার জন্য দুআ করুন। বর্ণনাকারী {উসমান [রাদি.]] বলেন, তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] লোকটিকে উত্তমরূপে উযূ করিতে ও এ দুআ পড়তে বললেন,

আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ওয়া আতাওয়াজ্জাহূ ইলায়কা বিনাবিয়্যিকা মুহাম্মাদিন নাবিয়্যির্ রহমাতি ইন্নী তাওয়াজ্জাহতু বিকা ইলা- রব্বী লিইয়াকযিয়া লী ফী হা-জাতী হা-যিহী আল্ল-হুম্মা ফাশাফ্‌ফিহু ফিয়্যা

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তোমার নবী মুহাম্মাদ, যিনি রহমতের নবী। তাহাঁর ওয়াসীলায় আমি তোমার কাছে প্রার্থনা করছি ও তোমার দিকে ফিরছি। হে নবী! আমি আপনার ওয়াসীলায় আমার রবের দিকে ফিরছি, তিনি যেন আমার এ প্রয়োজন পূরণ করেন। হে আল্লাহ! তুমি আমার জন্যে তাহাঁর সুপারিশ কবূল করো।]।{১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ৩৫৭৮, আহমাদ ১৭২৪০, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১১৮০, সহীহ ইবনি খুযায়মাহ্ ১২১৯, সহীহ আল জামি ১১৭৯। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৯৬. আবু দারদা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ দাউদ [আঃ]-এর দুআ ছিল এটা, তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিতেন,

আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা হুব্বাকা ওয়াহুব্বা মান্ ইউহিব্বুকা ওয়াল আমালাল্লাযী ইউবাল্লিগুনী হুব্বাকা, আল্ল-হুম্মাজ্আল হুব্বাকা আহাব্বা ইলাইয়্যা মিন্ নাফসী ওয়ামা- লী ওয়া আহলী ওয়ামিনাল মা-য়িল বা-রিদ

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার ভালোবাসা প্রত্যাশা করি, আর যে তোমাকে ভালোবাসে, তার ভালোবাসা চাই এবং আমি ঐ কাজের শক্তি চাই, যে শক্তি আমাকে তোমার ভালোবাসার দিকে নিয়ে যাবে। হে আল্লাহ! তোমার ভালোবাসাকে আমার কাছে আমার জীবন, আমার ধন-সম্পদ, আমার পরিবার-পরিজন ও ঠাণ্ডা পানির চেয়েও বেশি পছন্দনীয় করে তোলো।]

বর্ণনাকারী {আবু দারদা [রাদি.]] বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন দাউদ [আঃ]-কে স্মরণ করিতেন, তাহাঁর ঘটনা বর্ণনা করিতেন। তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বলিতেন, দাউদ [আঃ] তাহাঁর যুগের সর্বাধিক ইবাদাতগুজার ছিলেন।{১}

{১} জইফ : তিরমিজি ৩৪৯০, রিয়াযুস্ সলিহীন ১৪৯৮, যঈফাহ্ ১১২৫, জইফ আল জামি ৪১৫৩। কেননা এর সানাদে আবদুল্লাহ ইবনি রবীআহ্ আদ্ দিমাশক্বী একজন মাজহূল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৪৯৭. আত্বা ইবনুস্ সায়িব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণীতঃ

তার পিতা সায়িব হইতে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, একদিন সাহাবী আম্মার ইবনি ইয়াসির আমাদেরকে এক নামাজ আদায় করালেন। এতে তিনি [সূরা-কিরাআত] সংক্ষেপ করিলেন। তখন নামাজ আদায়কারীদের মধ্যে একজন বলে উঠলো, আপনি এত তাড়াতাড়ি নামাজ আদায় করালেন ও সংক্ষেপ করিলেন। তিনি বললেন, এতে আমার অসুবিধা হবে না। কেননা এতে আমি যেসব দুআ পড়েছি তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে শুনিয়াছি। অতঃপর জনৈক ব্যক্তি তার অনুকরণ করলো। আত্বা বলেন, তিনি হলেন আমারই পিতা সায়িব, তবে তিনি নিজের নাম প্রকাশ না করে ইশারায় বললেন। তিনি আম্মারকে দুআটির বিষয়ে জিজ্ঞেস করিলেন এবং পরে এসে লোকদেরকে তা জানালেন। দুআটি হলো,

আল্ল-হুম্মা বিইলমিকাল গয়বা ওয়া ক্বুদরতিকা আলাল খলকি আহয়িনী মা- আলিমতাল হায়া-তা খয়রল লী, আল্ল-হুম্মা ওয়া আস্আলুকা খশ্ইয়াতাকা ফিল গয়বি ওয়াশ্ শাহা-দাতি ওয়া আস্আলুকা কালিমাতাল হাক্কি ফিররিযা- ওয়াল গযাবি ওয়া আস্আলুকাল কসদা ফিল ফাকরি ওয়াল গিনা- ওয়া আস্আলুকা নাঈমাল লা- ইয়ানফাদু ওয়া আস্আলুকা ক্বুররতা আয়নিল লা- তানক্বত্বিউ ওয়া আস্আলুকার্ রিযা- বাদাল কযা-য়ি ওয়া আস্আলুকা বার্‌দাল আয়শি বাদাল মাওতি ওয়া আস্আলুকা লায্যাতান্ নাযারি ইলা- ওয়াজহিকা ওয়াশ্ শাওকা ইলা- লিকা-য়িকা ফী গয়রি যররা-আ মুযির্‌রতিন ওয়ালা- ফিত্‌নাতিন মুযিল্লাতিন, আল্ল-হুম্মা যায়ইয়ানা- বিযীনাতিল ঈমা-নি ওয়াজ্আলনা- হুদা-তান মাহদীয়্যিন

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার গায়বের ইলম ও সৃষ্টির উপর তোমার ক্ষমতা রাখার দোহাই দিয়ে বলছি, তুমি আমাকে ততদিন জীবিত রাখবে, যতদিন আমার জীবন আমার জন্য কল্যাণকর বলে মনে করিবে। আর আমাকে মৃত্যুদান করিবে, যখন তুমি মৃত্যুকে আমার জন্য কল্যাণকর বলে মনে করিবে। হে আল্লাহ! আমি গোপনে ও প্রকাশ্যে যেন তোমাকে ভয় করি, তোমার কাছে সন্তুষ্ট ও অসন্তুষ্ট অবস্থায় সত্য বলার সাহস চাই। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে স্বচ্ছলতা ও অভাবে মধ্যপন্থা অবলম্বনের তাওফীক চাই। তোমার নিকট চাই এমন নিয়ামত যা কক্ষনো নিঃশেষ হবে না। আমি তোমার কাছে আরো চাই চোখ জুড়াবার বিষয়, যা কক্ষনো বন্ধ হবে না। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে তোমার হুকুমের উপর পরিতুষ্ট থাকতে চাই। তোমার কাছে চাই মৃত্যুর পরের উত্তম জীবন। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে [জান্নাতে] তোমার প্রতি দৃষ্টি দেবার স্বাদ গ্রহণ করিতে চাই এবং ক্ষতিকর কষ্ট ও পথভ্রষ্টকারীর ফাসাদে পড়া ছাড়া তোমার সাক্ষাতের আশা-আকাঙ্খা করি। হে আল্লাহ! আমাদেরকে ঈমানের বলে বলীয়ান করো আর হিদায়াতপ্রাপ্ত ও হিদায়াত প্রদর্শনকারী করো।]।{১}

{১} সহীহ : নাসায়ী ১৩০৫, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩৪৬, আহমাদ ১৮৩২৫, মুসতাদারাক লিল হাকিম ১৯২৩, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২৫১, সহীহ ইবনি হিববান ১৯৭১, আল কালিমুত্ব ত্বইয়্যিব ১০৬, সহীহ আল জামি ১৩০১। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৯৮. উম্মু সালামাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের নামাজ আদায় করে বলিতেন,

আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা ইলমান না-ফিআন ওয়া আমালান মুতাকব্বালান ওয়া রিযকন ত্বইয়্যিবা-

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে উপকারী জ্ঞান, কবূলযোগ্য আমাল ও হালাল রিযক চাই]।{১}

{১} সহীহ : ইবনি মাজাহ ৯২৫, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯২৬৫, আহমাদ ২৬৫২১, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ১১৯, শুআবুল ঈমান ১৬৪৫। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৪৯৯.আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হইতে একটি দুআ মুখস্থ করেছি, যা আমি কক্ষনো পরিত্যাগ করি না- [দুআটি হলো] আল্ল-হুম্মাজ্আলনী উযিমু শুক্‌রাকা ওয়া উকসিরু যিক্‌রাকা ওয়া আত্তাবিউ নুস্‌হাকা ওয়া আহফাযু ওয়াসিয়্যাতাকা [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমাকে এমন তাওফীক দাও, যাতে আমি তোমার শুকর-গুজার হইতে পারি, বেশি বেশি তোমার জিকির {স্মরণ] করিতে পারি, তোমার নাসীহাত {উপদেশ] পালন করিতে পারি এবং তোমার হুকুম রক্ষা করিতে পারি।]।১}

{১} জইফ : তিরমিজি ৩৬০৪, আহমাদ ৮১০১, জইফ আল জামি ১১৬৬। কারণ এর সানাদে ফারায ইবনি ফুযালাহ্ একজন দুর্বল রাবী। আর আবু সাঈদ আল হিম্সী একজন মতভেদপূর্ণ রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৫০০. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম [দুআয়] বলিতেন,

আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকাস্ সিহহাতা ওয়াল ইফফাতা ওয়াল আমা-নাতা ওয়া হুস্‌নাল খুলুকি ওয়ার্ রিযা- বিল কদার

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে সুস্বাস্থ্য, পবিত্রতা, আমানাতদারী, উত্তম চরিত্র এবং তাকদীরের উপর সন্তুষ্ট থাকার তাওফীক কামনা করছি]।{১}

{১} জইফ : মুজামুল কাবীর লিত্ব ত্ববরানী ৬০, আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২৫৯, শুআবুল ঈমান ৮১৮১, জইফ আল আদাবুল মুফরাদ ৪৭/৩০৭, জইফ আল জামি ১১৯১। কারণ আবদুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আন্উম আর আবদুর রহমান বিন রাফি দুজন দুর্বল রাবী । এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৫০১. উম্মু মাবাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-কে বলিতে শুনিয়াছি, {তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] দুআ করিতেন]

আল্ল-হুম্মা ত্বহ্‌হির কলবী মিনান্ নিফা-কি ওয়া আমালী মিনার্ রিয়া-য়ি ওয়া লিসা-নী মিনাল কাযিবি ওয়া আয়নী মিনাল খিয়া-নাতি ফাইন্নাকা তালামু খ-য়িনাতাল আইউনি ওয়ামা- তুখফিস্ সুদূর

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার অন্তরকে মুনাফিক্বী হইতে, আমার কাজকে লোক দেখানো হইতে, আমার জবানকে মিথ্যা বলা হইতে এবং {আমার] চোখকে খিয়ানাত করা হইতে পাক-পবিত্র করো। তুমি অবশ্যই জানো চোখ যা খিয়ানাত করে এবং অন্তরসমূহ যা গোপন করে।{১}

{১} জইফ : আদ্ দাওয়াতুল কাবীর ২৫৮, জইফ আল জামি ১২০৯। কারণ আবদুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আন্উম আর ফারাজ বিন ফুযালাহ্ দুজন দৃর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

২৫০২. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একদিন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একজন রোগীকে দেখিতে গেলেন, যে পাখির বাচ্চার মতো শুকিয়ে দুর্বল হয়ে গিয়েছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে জিজ্ঞেস করিলেন, তুমি কি আল্লাহর কাছে কোন বিষয়ে দুআ করেছিলে অথবা তা তাহাঁর কাছে কামনা করেছিলে? উত্তরে সে বললো, হ্যাঁ, আমি বলতাম, হে আল্লাহ! তুমি আমাকে আখিরাতে যে শাস্তি দিবে তা আগেই দুনিয়াতে দিয়ে দাও। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সুবহা-নাল্ল-হ! আখিরাতের শাস্তি তুমি দুনিয়াতে সহ্য করিতে পারবে না এবং আখিরাতেও সহ্য করিতে পারবে না। তুমি এভাবে বলনি কেন- আল্ল-হুম্মা আ-তিনা- ফিদ্দুন্ইয়া- হাসানাতওঁ ওয়াফিল আ-খিরাতি হাসানাতাওঁ ওয়াকিনা- আযা-বান্না-র [অর্থাৎ- হে আল্লাহ! আমাদেরকে দুনিয়াতে ও আখিরাতে কল্যাণ দাও এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর]। বর্ণনাকারী {আনাস [রাদি.]] বলেন, পরে ঐ ব্যক্তি এভাবে দুআ করলো এবং আল্লাহ তাআলা তাকে আরোগ্য দান করিলেন। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ২৬৮৮, তিরমিজি ৩৪৮৭, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৩৪০, আহমাদ ১২০৪৯, সহীহ ইবনি হিব্বান ৯৪১। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৫০৩. হুযায়ফাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মুমিনের কাম্য নয় সে নিজেকে লাঞ্ছিত করা। লোকেরা জিজ্ঞেস করলো, হে আল্লাহর রসূল! নিজেকে লাঞ্ছিত করে কিভাবে? তিনি [সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম] বললেন, এমন বিপদাপদ কামনা করা যা সহ্য করা সাধ্যাতীত। {১}

{১} সহীহ : তিরমিজি ২২৫৪, ইবনি মাজাহ ৪০১৬, আহমাদ ২৩৪৪৪, সহীহাহ্ ৬১৩। বিশেষ দোয়া -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

২৫০৪. উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এ দুআটি শিখিয়েছেন, তিনি বলেছেনঃ তুমি বল,

আল্ল-হুম্মাজ্আল সারীরতী খয়রান মিন্ আলা-নিয়াতী ওয়াজ্আল আলা-নিয়াতী স-লিহাতান, আল্ল-হুম্মা ইন্নী আস্আলুকা মিন্ স-লিহি মা- তুতিন্না-সা মিনাল আহলি ওয়াল মা-লি ওয়াল ওয়ালাদি গয়রিয্ য-ল্লি ওয়ালা-ল মুযিল্লি

[অর্থাৎ- হে আল্লাহ! তুমি আমার ভিতরকে বাহির হইতে উত্তম করো এবং আমার বাহিরকে মার্জিত করো। হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে ভালো চাই যা তুমি মানুষকে দিয়েছো- পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদ, সন্তান-সন্ততি, যারা পথভ্রষ্ট বা পথভ্রষ্টকারী নয়।] {১}

{১} জইফ : তিরমিজি ৩৫৮৬, ইবনি আবী শায়বাহ্ ২৯৮২৪, জইফ আল জামি ৪০৯৭। কারণ আবদুর বিন ইসহাকব আল কূফী একজন দুর্বল রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ দুর্বল হাদিস

By মিশকাত মুহিউস সুন্নাহ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply