বিশেষ দান । নাহল সম্পর্কিত নুমান ইবনি বশীর এর হাদিস

বিশেষ দান

 >> সুনানে নাসাই শরিফের মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৩১, বিশেষ দান, হাদীস (৩৬৭২ – ৩৬৮৭)

১.পরিচ্ছেদঃ নাহল সম্পর্কিত নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ] –এর হাদিসের বর্ণনায় বিরোধ

৩৬৭২

নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাহাঁর পিতা তাঁকে একটি দাস দান করিলেন। এরপর তিনি এর সাক্ষী রাখার জন্য নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তুমি কি তোমার প্রত্যেক সন্তানকে দান করেছো ? তিনি বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ তা হলে তা প্রত্যাহার করে নাও।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৩

নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাহাঁর পিতা তাকে সাথে নিয়ে রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললেনঃ আমি আমার একটি গোলাম আমার এ ছেলেকে দান করেছি। তিনি বললেনঃ তুমি তোমার প্রত্যেক সন্তানকেই দান করেছ? তিনি বললেনঃ না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি তা [তোমার দান] ফিরিয়ে নাও।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৪

নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাহাঁর পিতা বশীর ইবনি সাদ [রাঃআঃ] তার ছেলে নুমানকে সঙ্গে নিয়ে এসে বললেনঃ ইয়া রসূলুল্লাহ্ ! আমি আমার এই ছেলেকে একটি দাস দান করেছি। রসূলুল্লাহ্ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমার সকল ছেলেকে কি দান করেছ? তিনি [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]] বললেনঃ না। তিনি বললেনঃ তাহলে তা ফিরিয়ে নাও।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৫

বশীর ইবনি সাদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি নুমান ইবনি বশীরকে নিয়ে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললেনঃ আমি আমার এই ছেলেকে একটি দাস দান করেছি। যদি আপনি অনুমতি দেন, তাহলে আমি এই দান বহাল রাখবো। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি কি তোমার সকল ছেলেকে দান করেছ? বশীর বললেনঃ না। তিনি [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ] বললেনঃ তুমি তা ফিরিয়ে নাও।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৬

নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাহাঁর পিতা তাঁকে কিছু দান করিলেন; তখন তাহাঁর মাতা তাহাঁর পিতাকে বলিলেনঃ এই দানের জন্য আপনি নাবী [সাঃআঃ]-কে সাক্ষী রাখুন। তিনি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে একথা তাহাঁর কাছে উল্লেখ করলে নাবী [সাঃআঃ] তার জন্য সাক্ষী হওয়া অপছন্দ করিলেন।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৭

বশীর [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি তার এক ছেলেকে একটি দাস দান করিলেন, তিনি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে নাবী [সাঃআঃ]-কে এ ব্যাপারে সাক্ষী রাখতে ইচ্ছা করিলেন। তিনি বলিলেনঃ তুমি কি তোমার প্রত্যেক ছেলেকে অনুরূপ দান করেছ? তিনি [বশীর] বলিলেনঃ না। তখন তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ তাহলে তা [এই দান] ফিরিয়ে নাও।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৮

উরওয়া [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

বশীর [রাঃআঃ] নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বলিলেনঃ হে আল্লাহর নাবী! আমি নুমানকে কিছু দান করেছি। তিনি বলিলেনঃ তুমি কি তার ভাইদেরকেও দান করেছ? বশীর বলিলেনঃ না। তিনি বলিলেনঃ তাহলে তুম\ ি তা ফিরিয়ে নাও।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৭৯

নুমান [রাঃআঃ] থেকে হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ তাহাঁর পিতা তাঁকে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট নিয়ে গেলেন এবং বলিলেন, আপনি সাক্ষী থাকুন আমি আমার ছেলে নুমানকে আমার এই এই মাল দান করেছি। তিনি বলিলেনঃ তুমি তোমার প্রত্যেক ছেলেকে অনুরূপ দান করেছ, যা নুমানকে করেছ?

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮০

নুমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তাহাঁর পিতা তাঁকে নিয়ে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট আসেন, তাকে যে দান করেন তার ব্যাপারে তাঁকে সাক্ষী করার জন্য। তখন তিনি বলিলেনঃ তোমার প্রত্যেক ছেলেকেই কি তার দানের মত দান করেছ? তিনি বলিলেনঃ না। তিনি [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহলে এ ধরনের দানের ব্যাপরে আমি সাক্ষী থাকছি না। বশীরকে বলিলেনঃ তোমাকে আনন্দিত করে না যে, তারা [পুত্ররা] সকলেই তোমার সাথে ভাল ব্যবহার করুক। তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ-অবশ্যই। তখন তিনি বলিলেনঃ তবে এমন [কাজ] করো না [সাক্ষী বানিয়ো না।]

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮১

নুমান ইবনি বশীর আনসারী [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তার মাতা, রাওয়াহার কন্যা তার পিতার কাছে তার মাল হইতে তার পুত্রের জন্য কিছু দান দাবি করিলেন। তিনি এক বছর পর্যন্ত এ ব্যাপারে টাল-বাহানা করিতে লাগলেন। পরে ভাল মনে হলে তিনি তাকে দান করিলেন। তিনি [নুমানের মা] বলিলেন ঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। এরপর তিনি [নুমানের পিতা রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] এর নিকট গিয়ে] বলিলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্‌! এর মা রাওয়াহার কন্যা একে কিছু দান করার জন্য আমার সাথে ঝগড়া করায় আমি তাকে দান করেছি। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরও ছেলে আছে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তুমি এই ছেলেকে যেরূপ দান করেছ, সেরূপ তাহাদের সকলকে দান করেছ? তিনি বলিলেনঃ না। তখন রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেনঃ তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কেননা আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮২

নুমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমার মাতা আমার পিতার নিকট আমার জন্য কিছু দান চাইলে তিনি আমাকে তা দান করিলেন। তখন আমার মাতা বলিলেনঃ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে সাক্ষী না করা পর্যন্ত আমি সন্তুষ্ট হবো না। তিনি {নুমান [রাঃআঃ]} বলেনঃ আমার পিতা আমার হাত ধরে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট নিয়ে গেলেন। ঐ সময় আমি ছোট বালক ছিলাম। তিনি বলিলেনঃ ইয়া রাসূলাল্লাহ্! এর মা, রাওয়াহার কন্যা আমার নিকট কিছু দান চায় এবং এতে আপনি সাক্ষী থাকলে সে সন্তুষ্ট হইবে। তখন তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ হে বশীর! এই ছেলে ব্যতীত তোমার আর কোন ছেলে আছে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ তুমি একে যা দান করেছো তাকেও কি এই দানের অনুরূপ দান করেছ? তিনি বলিলেনঃ না। তখন তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ তাহলে তুমি আমাকে সাক্ষী রেখো না। কারণ আমি যুলুমের সাক্ষী হই না।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮৩

আমির [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ আমাকে অবহিত করা হইয়াছে যে, বশীর ইবনি সাদ রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর কাছে এসে বলিলেনঃ আমার স্ত্রী, আমার বিন্‌ত রাওয়াহা আমাকে তার ছেলে নুমানকে কিছু দান করিতে বলছে; সে আরো বলছে যে, আমি যেন এ ব্যাপারে আপনাকে সাক্ষী রাখি। নাবী [সাঃআঃ] তাকে বলিলেনঃ এই ছেলে ব্যতীত তোমার কি আরো ছেলে আছে? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ একে যেমন দান করেছ, তাহাদেরকেও তেমন দান করেছ? তিনি বলিলেনঃ না। তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ তাহলে তুমি আমাকে যুলুমের সাক্ষী রেখো না।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৬৮৪

আবদুল্লাহ্‌ ইবনি উৎবা ইবনি মাসঊদ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললোঃ আমি আমার ছেলেকে কিছু দান করেছি। আপনি এর সাক্ষী থাকুন। তিনি বলিলেনঃ এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরো ছেলে আছে কি? সে বললোঃ হ্যাঁ। তিনি বলিলেনঃ এই ছেলেকে যেমন দান করেছ, তাহাদেরকেও কি তেমন দান করেছ, সে বললোঃ না। তিনি বলিলেনঃ আমি [কি] যুলুমের সাক্ষী হবো?

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ লিগাইরিহি

৩৬৮৫

মুসলিম ইবনি সুবায়হ [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেনঃ নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ]-কে আমি বলিতে শুনিয়াছিঃ আমার পিতা আমাকে নিয়ে নাবী [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হলেন, আমাকে যা দান করিয়াছেন, তাঁকে তার সাক্ষী করার জন্য। তিনি বলিলেনঃ এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরো ছেলে আছে কি? তিনি বলিলেনঃ হ্যাঁ। তিনি তালুর সাথে হাত একত্রিত করে ইশারা করে বলিলেন যে, তাহাদের মধ্যে সমতা রক্ষা করলে না কেন?

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮৬

নুমান [রাঃআঃ] হইতে বর্ণিতঃ

আমার পিতা আমাকে নিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট উপস্থিত হন, তিনি আমাকে যে দান করেন, তাঁকে তার সাক্ষী করার জন্য। তিনি বলিলেনঃ এই ছেলে ব্যতীত তোমার আরও ছেলে আছে কি? তিনি [পিতা] বলিলেনঃ হ্যাঁ। তিনি {রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]} বলিলেনঃ তাহাদের মধ্যে সমতা বিধান কর।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৬৮৭

জাবির ইবনি মুফায্‌যাল ইবনি মুহাল্‌লাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি নুমান ইবনি বশীর [রাঃআঃ]-কে খুতবায় বলিতে শুনিয়াছি, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের ছেলেদের মধ্যে [সমতা এবং] ইনসাফ করিবে, তোমরা তোমাদের ছেলেদের মধ্যে [সমতা এবং] ইনসাফ করিবে।

বিশেষ দান হাদিসের তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম নাসাঈ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply