নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে নামাজ আদায় করা মাকরূহ

নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে নামাজ আদায় করা মাকরূহ

নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে নামাজ আদায় করা মাকরূহ >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

৪১. অধ্যায়ঃ নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে নামাজ আদায় করা মাকরূহ আর ঈমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করিবে?

১৩৫১

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে নামাজ আদায় না করে দেরী করে আদায় করিবে তাহলে কী করিবে? আবু যার বলেন – এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম [হে আল্লাহর রসূল!] , এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করিতে আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলিলেন, তুমি উত্তম সময়ে নামাজ আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ- ইমামের সাথে জামাআতে নামাজ পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করিবে। এটা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হইবে।

তবে বর্ণনাকারী খালাফ তার বর্ণনায় [আরবী] কথাটা উল্লেখ করেননি। [ই.ফা.১৩৩৮, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫০]

১৩৫২

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃহে আবু যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে নামাজ আদায় করিবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো [নামাজের উত্তম সময়ে] নামাজ আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে নামাজ আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হইবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্তত তোমার নামাজ রক্ষা করিতে সক্ষম হলে। [ই.ফা.১৩৩৯, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫১]

১৩৫৩

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে আমীরের বা নেতার আদেশ শুনতে ও মানতে আদেশ করিয়াছেন যদিও সে একজন হাত-পা কাটা ক্রীতদাস হয়। আর আমি যেন সময় মতো [প্রথম ওয়াক্তে] নামাজ আদায় করি। এরপরে তুমি দেখ যে, লোকজন [জামাআতে] নামাজ আদায় করে নিয়েছে তাহলে তুমি তো আগেই তোমার নামাজ হিফাযাত করেছ। অন্যথায় [অর্থাৎ- তাদের সাথে জামাআতের নামাজ পেলে] তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হইবে। [ই.ফা.১৩৪০, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫২]

১৩৫৪

আবু যার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার উরুর উপর সজোরে হাত মেরে বললেনঃ যারা সময় মতো নামাজ আদায় না করে দেরী করে আদায় করে, তোমাকে যদি এমন লোকদের মাঝে থাকতে হয় তাহলে কী করিবে? বর্ণনাকারী আবদুল্লাহ ইবনিস সাবিত বলেন – আবু যার জিজ্ঞেস করিলেন, তাহলে আপনি আমাকে কী আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি সময় মতো [প্রথম ওয়াক্তে] নামাজ আদায় করে নাও এবং নিজের কাজে চলে যাও। তারপর যখন নামাজ আদায় করা হইবে তখন যদি তুমি মসজিদে উপস্থিত থাক তাহলে [তাদের সাথে জামাআতে] নামাজ আদায় করে নাও। [ই.ফা.১৩৪১, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৩]

১৩৫৫

আবুল আলিয়াহ্ আল বাররা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, [একদিন] আবদুল্লাহ ইবনি যিয়াদ নামাজ আদায় করিতে দেরী করিল। এরপরেই আবদুল্লাহ ইবনিস্ সামিত আমার কাছে আসলেন। আমি তাকে একখানা চেয়ার পেতে দিলে তিনি বসলেন। তখন আমি তার কাছে আবদুল্লাহ ইবনি যিয়াদ – এর কৃতকর্মের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ঠোঁট কামড়িয়ে সজোরে আমার উরুর উপর হাত মেরে বলিলেন – আমিও এ ব্যাপারে আবু যারকে জিজ্ঞেস করে ছিলাম, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে। আর আমি যেভাবে তোমার উরুর উপরে সজোরে হাত মারলাম তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বলিলেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক তেমনি আমিও রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর আমি যেমন তোমার উরুর উপর সজোরে আঘাত করলাম ঠিক তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেনঃ তুমি সময় মতো [প্রথম ওয়াক্তে] নামাজ আদায় করে নিবে। তবে সবার সাথে জামাআতে যদি নামাজ আদায় করার সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথেও নামাজ আদায় করে নিবে – এক্ষেত্রে বলবে না যে, আমি নামাজ আদায় করে নিয়েছি তাই এখন আমি নামাজ আদায় করব না। [ই.ফা.১৩৪২, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৪]

১৩৫৬

আবদুল্লাহ ইবনিস সামিত [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু যার তাকে বলিলেন – তোমরা অথবা বলিলেন [বর্ণনাকারীর সন্দেহ] তুমি যদি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করো যারা সময় মতো নামাজ আদায় না করে দেরী করে পড়ে তাহলে কী করিবে? এরপর আবার নিজেই বলিলেন, তুমি সময়মত [প্রথম ওয়াক্তে] নামাজ আদায় করে নিবে। তারপর জামাআতে নামাজ হলে তাদের সাথেও নামাজ আদায় করে নিবে। কারণ এটি তোমার জন্য বাড়তি সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হইবে। [ই.ফা.১৩৪৩, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৫]

১৩৫৭

আবুল আলিয়াহ্ আল বাররা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবদুল্লাহ ইবনিস সামিতকে বললাম, আমি এমন সব আমীর বা নেতার পিছনে জুমুআর নামাজ আদায় করি যারা দেরী করে নামাজ আদায় করে থাকে। মাত্বার বলেনঃ এ কথা শুনে আবুল আলিয়াহ্ আল বাররা আমার উরুর উপরে সজোরে এমনভাবে হাত দিয়ে চাপড়ালেন যে, আমি ব্যথাই পেলাম। এবার তিনি বলিলেন- এ বিষয়ে আমি আবু যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও আমার উরুর উপরে সজোরে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে বলিলেন – আমি রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] – কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা সময়মত [প্রথম ওয়াক্তে] নামাজ আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে জামাআতের নামাজকে নাফল হিসেবে আদায় করিবে। আবুল আলিয়াহ্ আল বাররা আরো বলেন, আবদুল্লাহ ইবনিস্ সামিত বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, [এ কথা বলার সময়] আল্লাহর নবী [সাঃআঃ] ও আবু যার – এর উরুর উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন। [ই.ফা.১৩৪৪, ইসলামিক সেন্টার-১৩৫৬]

By বুলূগুল মারাম

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। তবে আমরা রাজনৈতিক পরিপন্থী কোন মন্তব্য/ লেখা প্রকাশ করি না। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই লেখাগুলো ফেসবুক এ শেয়ার করুন, আমল করুন

Leave a Reply