বিলম্বে আযান

বিলম্বে আযান

বিলম্বে আযান >> মিশকাতুল মাসাবীহ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

পর্বঃ ৪, অধ্যায়ঃ ৬

  • অধ্যায়ঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ
  • অধ্যায়ঃ ৬. তৃতীয় অনুচ্ছেদ

অধ্যায়ঃ ৬. প্রথম অনুচ্ছেদ

৬৮০. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, বিলাল রাত থাকতে আযান দেয়। তাই তোমরা উম্মু মাকতূমের আযান না দেয়া পর্যন্ত খাওয়া-দুওয়া করিতে থাকিবে। ইবনি উমার [রাদি.] বলেন, ইবনি উম্মু মাকতূম [রাদি.] অন্ধ ছিলেন। ভোর হয়ে গেছে, ভোর হয়ে গেছে তাকে না বলা পর্যন্ত তিনি আযান দিতেন না। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬১৭, মুসলিম ১০৯২, নাসায়ী ৬৩৮, তিরমিজি ২০৩, আহমাদ ৪৫৫১, দারিমি ১২২৬, সহীহ ইবনি হিব্বান ৩৪৭০, ইরওয়া ২১৯। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৬৮১. সামুরাহ্ ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন : বিলালের আযান ও সুবহে কাযিব তোমাদেরকে সাহরী খাওয়া হইতে যেন বিরত না রাখে। কিন্তু সুবহে সাদিক যখন দিগন্তে প্রসারিত হয়। [তখন খাবার-দাবার ছেড়ে দেবে]। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৭৬, মুসলিম ১০৯৪, তিরমিজি ৭০৬, ইরওয়া ৯১৫। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৬৮২. মালিক ইবনুল হুওয়াইরিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি ও আমার চাচাতো ভাই, নবী [সাঃআঃ] এর নিকট গেলাম। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা সফরে গেলে আযান দিবে ও ইক্বামাত বলবে এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ঈমামতি করিবে। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬২৮, ২৮৪৮, মুসলিম ৬৭৪, নাসায়ী ৬৩৪, তিরমিজি ২০৫, ইবনি মাজাহ ৯৭৯, ইরওয়া ২১৫, সহীহ আল জামি ৫৮৮; শব্দবিন্যাস আত তিরমিজির। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৬৮৩. মালিক ইবনি হুওয়াইরিস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বেলন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদেরকে বলেছেন : তোমরা সলাত আদায় করিবে যেভাবে আমাকে সলাত আদায় করিতে দেখছ। সলাতের সময় হলে তোমাদের মধ্যে একজন আযান দিবে। এরপর তোমাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে তোমাদের সলাতের ইমামাত করিবে। {১}

1] সহীহ : বোখারী ৬৩১, সহীহ ইবনি খুযাইমাহ্ ৩৯৭, সহীহ ইবনি হিব্বান ১৬৫৮, সহীহ আল জামি ৮৯৩। লেখক যদিও বোখারী মুসলিমের উদ্ধৃতি দিয়েছেন কিন্তু মুসলিমে صَلُّوا كَمَا رَأَيْتُمُونِيْ أُصَلِّيْ অংশটুকু নেই শুধুমাত্র বোখারীতে রয়েছে। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৬৮৪. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নবী [সাঃআঃ] খায়বার যুদ্ধ হইতে ফেরার পথে রাতে পথ চলছেন। এক সময়ে তন্দ্রায় আচ্ছন্ন হলে তিনি শেষ রাতে বিশ্রাম গ্রহণ করিলেন। বিলালকে বলে রাখলেন, সলাতের জন্য রাতে লক্ষ্য রাখতে। এরপর বিলাল, তার পক্ষে যা সম্ভব হয়েছে সলাত আদায় করিলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও তাহাঁর সাথীগণ ঘুমিয়ে রইলেন। ফাজ্‌রের সলাতের সময় কাছাকাছি হয়ে আসলে বিলাল সূর্যোদয়ের দিকে মুখ করে নিজের উটের গায়ে হেলান দিলেন। বিলালকে তার চোখ দুটো পরাজিত করে ফেলল [অর্থাৎ- তিনি ঘুমিয়ে পড়লেন]। অথচ তখনো বিলাল উটের গায়ে হেলান দিয়েই আছেন। নবী [সাঃআঃ] ঘুম থেকে জাগলেন না। বিলাল জাগলেন না, না রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথীদের কেউ। যে পর্যন্ত না সূর্যের তাপ তাদের গায়ে লাগল। এরপর তাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-ই প্রথম ব্যক্তি, যিনি ঘুম থেকে জাগলেন। তিনি ব্যতিব্যস্ত হয়ে বললেন, হে বিলাল! [কী হল তোমার]। বিলাল উত্তরে বললেন, রসূল! আপনাকে যে পরাজিত করেছে সেই পরাজিত করেছে আমাকে। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেন, সওয়ারী আগে নিয়ে চল। উটগুলো নিয়ে কিছু সামনে এগিয়ে গেলেন। এরপর নবী [সাঃআঃ] উযূ করিলেন। বিলালকে তাক্ববীর দিতে বললেন। বিলাল তাকবীর দিলেন। তারপর তিনি তাদের ফাজ্‌রের সলাত আদায় করালেন। সলাত শেষে নবী বললেন, সলাতের কথা ভুলে গেলে যখনই তা মনে পড়বে তখনই আদায় করে নিবে। কারণ আল্লাহ বলেছেন, “সলাত কাযিম কর আমার স্মরণে। {১}

{১} সহীহ : মুসলিম ৬৮০, আবু দাউদ ৪৩৫, ইবনি মাজাহ ৬৯৭, সহীহ ইবনি হিব্বান ২০৬৯। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৬৮৫. আবু ক্বাতাদাহ্ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন : যখন সলাতের জন্য ইক্বামাত দেয়া হবে, তোমরা আমাকে বের হয়ে আসতে না দেখা পর্যন্ত দাঁড়াবে না। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৬৩৭, মুসলিম ৬০৪, আবু দাউদ ৫৩৯, নাসায়ী ৬৮৭, তিরমিজি ৫৯২, আহমাদ ২২৫৩৩, দারিমি ১২৯৬, সহীহ আল জামি ৩৭০; শব্দবিন্যাস মুসলিমের। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

৬৮৬. আবু হুরাইরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন : সলাতের ইক্বামাত দেয়া শুরু হলে তোমরা দৌড়িয়ে আসবে না, বরং শান্তভাবে হেঁটে আসবে। তারপর যা ইমামের সাথে পাবে তাই পড়বে। আর যা ছুটে যাবে তা পরে পড়ে নিবে। {১}

তবে মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, “তোমাদের কেউ সলাতের জন্য বের হলে তখন সে সলাতেই থাকে”।

{2]

{১} সহীহ : বোখারী ৯০৮, মুসলিম ৬০২, বোখারী ৬৩৬, ৯০৮, আবু দাউদ ৫৭২, তিরমিজি ৩২৭, ইবনি মাজাহ ৭৭৫, দারিমি ১৩১৯। {2] সহীহ : মুসলিম ৬০২। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

অধ্যায়ঃ ৬. দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ

৬৮৭. যায়দ ইবনি আসলাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, একবার মাক্কার পথে এক রাতে শেষের দিকে রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাহন হইতে নেমে বিশ্রাম গ্রহণ করিলেন। বিলালকে নিযুক্ত করিলেন তাদেরকে সলাতের জন্য জাগিয়ে দিতে। বিলালও পরিশেষে ঘুমিয়ে পড়লেন। তারা ঘুমিয়েই রইলেন। অবশেষে তারা যখন জাগলেন; সূর্য উপরে উঠে গেছে। জেগে উঠার পর তারা সকলে ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠলেন। রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] নির্দেশ দিলেন বাহনে উঠতে ও ময়দান পার হয়ে যাওয়া পর্যন্ত চলতে থাকতে। নবী [সাঃআঃ] বললেন, এ ময়দানে শাইত্বন বিদ্যমান। তারা আরোহীতে সওয়ার হয়ে চলতেই থাকলেন। অবশেষে ময়দান পার হয়ে গেলেন। এরপর নবী [সাঃআঃ] তাদেরকে অবতরণ করিতে ও উযূ করিতে নির্দেশ দিলেন। বিলালকে নির্ধেশ দিলের আযান দিতে অথবা ইক্বামাত দিতে। তারপর তিনি লোকজনদের নিয়ে সলাত আদায় করিলেন। সলাত হইতে অবসর হওয়ার পর তাদের উপর ভীতি বিহবলতা পরিলক্ষিত হল। নবী [সাঃআঃ] বললেন, হে লোকেরা! আল্লাহ আমাদের প্রাণসমূহকে ক্ববয করে নিয়েছিলেন। যদি তিনি ইচ্ছা করিতেন এ সময়ের আরো পরেও আমাদের প্রাণসমূহ ফেরত দিতেন। তাই যখনই তোমাদের কেউ সলাত আদায় না করে ঘুমিয়ে পড়ে অথবা সলাত ভুলে যায়, জেগে উঠেই সে যেন এ সলাত সেভাবেই আদায় করে যেভাবে সময়মত আদায় করত। এরপর রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আবু বাক্‌রকে লক্ষ্য করে বলেন, শয়তান বিলালের নিকট আসে। সে তখন দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করছিল। তাকে সে শুইয়ে দিল। [এরপর শয়তান ঘুম পাড়াবার জন্য] চাপড়াতে লাগল শিশুদেরকে চাপড়ানের মতো, যতক্ষণ সে ঘুমিয়ে না পড়ে। তারপর তিনি বিলালকে ডাকলেন। বিলালও ঠিক সে কথাই বললেন, যা নবী [সাঃআঃ] আবু বাক্‌রকে বলছিলেন। তখন আবু বাক্‌র [রাদি.] ঘোষণা দিলেন, আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি নিশ্চয়ই আপনি আল্লাহর রসূল। {১}

{১} সানাদ সহীহ, তবে মুরসাল : মুয়াত্ত্বা মালিক ২৬।এই হাদিসটির তাহকীকঃ অন্যান্য

৬৮৮. আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন : মুসলিমদের দুটি ব্যাপার মুয়ায্‌যিনদের ঘাড়ে ঝুলে থাকে। সিয়াম [রোযা] ও সলাত। {১}

{১} জাল বা বানোয়াট : ইবনি মাজাহ ৭১২, সিলসিলাহ্ আয্ যঈফাহ্ ৯০১। কারণ এর সানাদে বাক্বিয়্যাহ্ রয়েছে যিনি একজন মুদাল্লিস রাবী। আর তার শিক্ষক মারওয়ান ইবনি সালিম সম্পর্কে ঈমাম বোখারী বলেনঃ সে মুনকিরুল হাদিস। আর আবু আরুরাহ্ এর মন্তব্য হলো, সে একজন মিথ্যুক রাবী। এই হাদিসটির তাহকীকঃ জাল হাদিস

৬৮৯. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, মাক্কাহ্‌ বিজয়ের দিন নবী [সাঃআঃ] কাবাহ্‌ ঘরে প্রবেশ করে প্রত্যেক কোণে দুআ করিলেন, কিন্তু সলাত আদায় করিলেন না। পরে বের হয়ে এলেন। কাবার সামনে দুই রাক্‌আত সলাত আদায় করিলেন এবং বললেন, এটিই ক্বিবলাহ্‌। {১}

{১} সহীহ : বোখারী ৩৯৮, মুসলিম ১৩৩০, সহীহ ইবনি হিব্বান ৩২০৮। বিলম্বে আযান -এই হাদিসটির তাহকীকঃ সহীহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply