বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস । বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস । বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস । বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়, এই অধ্যায়ে হাদীস =৫৯ টি ( ১০৯৮-১১৫৬ পর্যন্ত )>> মুয়াত্তা ইমাম মালিক এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায় – ২৮ঃ বিবাহ

  • পরিচ্ছেদ ১ -বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়
  • পরিচ্ছেদ ২ -কুমারী ও তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা হইতে বিবাহের সম্মতি নেয়ার বিধান
  • পরিচ্ছেদ ৩ -মহর ও উপঢৌকন
  • পরিচ্ছেদ ৪ -পর্দা টাঙানো
  • পরিচ্ছেদ ৫ -আইয়্যেম ও বাকেরা-এর নিকট অবস্থান করা
  • পরিচ্ছেদ ৬ -বিবাহে যে সকল শর্ত বৈধ নয়
  • পরিচ্ছেদ ৭ -মুহাল্লিল {১} -এর বিবাহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিবাহ
  • পরিচ্ছেদ ৮ -যে মহিলাকে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ করা বৈধ নয়
  • পরিচ্ছেদ ৯ -আপন স্ত্রীর জননীর সাথে বিবাহ বৈধ না হওয়া
  • পরিচ্ছেদ ১০ -যে মহিলার সহিত অবৈধ পন্থায় সহবাস করা হয়েছে সে মহিলার মাতাকে বিবাহ করা
  • পরিচ্ছেদ ১১ -বিভিন্ন অবৈধ বিবাহ
  • পরিচ্ছেদ ১২ -আযাদ স্ত্রীর উপর দাসীকে বিবাহ করা
  • পরিচ্ছেদ ১৩ -যে ব্যক্তি এমন মহিলার মালিক হয় পূর্বে যে মহিলা তার স্ত্রী ছিল এবং তাকে তালাক দিয়েছে এ সম্পর্কে হুকুম
  • পরিচ্ছেদ ১৪ -ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দুই বোনের সাথে মিলিত হওয়া এবং স্ত্রী ও তার কন্যার সাথে একত্রে মিলিত হওয়া হারাম
  • পরিচ্ছেদ ১৫ -পিতার দাসীর সাথে সহবাস নিষিদ্ধ হওয়া
  • পরিচ্ছেদ ১৬ -কিতাবীগণের দাসীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ
  • পরিচ্ছেদ ১৭ -সাধবী {১} -এর বর্ণনা
  • পরিচ্ছেদ ১৮ -মুতআ {১} বিবাহ
  • পরিচ্ছেদ ১৯ -ক্রীতদাসের বিবাহ
  • পরিচ্ছেদ ২০ -মুশরিক স্বামীর পূর্বে তার স্ত্রী মুসলমান হলে তাদের বিবাহ সম্পর্কিত হুকুম
  • পরিচ্ছেদ ২১ -ওয়ালিমা

পরিচ্ছেদ ১ -বিবাহ সম্পর্কিত অধ্যায়

১০৮৩ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ইরশাদ করিয়াছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়।

[সহীহ, বুখারি ৫১৪৪] বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮৪ আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ইরশাদ করিয়াছেন, কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। [বুখারি ৫১৪৪, মুসলিম ১৪১৩]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের মতে [আল্লাহ সর্বজ্ঞ] রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর বাণী “কেউ যেন তার ভাইয়ের বিবাহের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব না দেয়। এর ব্যাখ্যা এই যদি কোন পুরুষ কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দেয়।” মহিলাটি তার প্রস্তাবের প্রতি আকৃষ্ট হয় এবং উভয়ে একটি নির্দিষ্ট মোহরের উপর ঐকমত্যে পৌঁছে। উভয়ে এইভাবে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার উপর রাজি হয়েছে এবং উক্ত মহিলা তাকে বিবাহ করার জন্য প্রস্তাবকারীর উপর শর্ত করিয়াছেন। এমতাবস্থায় কোন পুরুষের পক্ষে তার ভাইয়ের এই প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব দেওয়া নিষেধ। এক ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহের প্রস্তাব দিল। কিন্তু উক্ত মহিলা তার এই প্রস্তাবের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপন করেনি এবং তার দিকে আকৃষ্টও হয়নি। এরূপ মহিলার বিবাহের জন্য কেউ প্রস্তাব দিবে না। এই হাদীসের অর্থ ইহা নয়। কারণ এতে লোকের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টির দরজা উন্মুক্ত হইবে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮৫ আবদুর রহমান ইবনি কাসেম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলিতেন, “আল্লাহ তাআলার এই বাণীর ব্যাখ্যা এই কোন পুরুষ কর্তৃক কোন মহিলাকে তার স্বামীর ওফাতের ইদ্দত পালনের সময়ে এইরূপ বলা “তুমি আমার নিকট সম্মানিত”, “আমি তোমাকে পছন্দ করি”, “আল্লাহ তাআলা নিশ্চয়ই তোমার জন্য মংগল ও জীবিকা প্রেরণ করিবেন।” আরও এই জাতীয় উক্তি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২ -কুমারী ও তালাকপ্রাপ্ত এবং বিধবা হইতে বিবাহের সম্মতি নেয়ার বিধান

১০৮৬ আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ইরশাদ করিয়াছেন, আইয়্যেম {১} তার ব্যাপারে অভিভাবকের তুলনায় অধিক হকদার এবং কুমারীর বিবাহের ব্যাপারে তার অনুমতি নিতে হইবে। চুপ থাকাই হচ্ছে তার অনুমতি।

[সহীহ, মুসলিম ১৪২১]{১} আভিধানিক অর্থে আইয়্যেম বলা হয় স্বামীবিহীন মহিলা এবং স্ত্রীবিহীন পুরুষকে। হাদীসে উল্লিখিত আইয়্যেমের ব্যাখ্যায় হিজাজের ফকীহ্ ও আলিমগণ বলেছেন- এর অর্থ তালাকপ্রাপ্তা অথবা বিধবা মহিলা।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮৭ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

অভিভাবক বা উক্ত পরিবারের বুদ্ধিমান ব্যক্তি অথবা রাষ্ট্রপ্রধানের অনুমতি ব্যতীত কোন মহিলাকে যেন বিবাহ দেওয়া না হয়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৮৮ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কাসেম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ] ও সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁরা উভয়ে নিজেদের কুমারী কন্যাদেরকে তাদের অনুমতি না নিয়ে বিবাহ দিতেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কুমারীদের বিবাহের ব্যাপারে আমাদের নিকটও ইহা পছন্দনীয়।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : স্বামীর গৃহে না আসা [স্বামীর সঙ্গে দাম্পত্য সম্পর্ক স্থাপন না করা] এবং তার যোগ্যতার যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কুমারী মেয়ে তার সম্পদের উপর ক্ষমতা প্রয়োগের অধিকারী হয় না।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১০৮৯ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কাসেম ইবনি মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ] সালিম ইবনি আবদুল্লাহ [রাহিমাহুল্লাহ]-ও সুলাইমান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁরা সকলেই কুমারীর ব্যাপারে বলিতেন, তার পিতা তার অনুমতি না চেয়ে তাকে বিবাহ দিলে সে বিবাহ প্রযোজ্য হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৩ -মহর ও উপঢৌকন

১০৯০ সাহ্ল ইবনি সাদ সায়িদী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট একজন মহিলা এসে বললঃ ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আমি আমার সত্তাকে আপনার জন্য হিবা [দান] করলাম। ইহা বলার পর সে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করিল। অতঃপর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল : ইয়া রাসূলুল্লাহ ! আপনার প্রয়োজন না থাকলে এই মহিলাকে আমার নিকট বিবাহ দিন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : এই মহিলাকে মোহরানা বাবদ দিবার মত তোমার কাছে কিছু আছে কি ? লোকটি বলল : আমার নিকট আমার এই তাহ্বন্দ্ [পরিচ্ছেদ-লুঙ্গী অথবা পায়জামা] ব্যতীত আর কিছু নেই। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বললেনঃ তোমার এই তাহ্বন্দ্ উহাকে প্রদান করলে তোমার নিকট কোন পরিচ্ছেদ থাকিবে না। তাই তুমি অন্য কিছু তালাশ কর। সে ব্যক্তি বলল : আমি কিছু পাব না। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : তুমি একটি লোহার আংটিও পাও কিনা দেখ। সে তালাশ করিল। কিন্তু কিছুই পেল না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাকে বলিলেন : কুরআনের কিছু অংশ তোমার জানা আছে কি? সে সূরার নাম উল্লেখ করে বলল : অমুক অমুক সূরা আমার কণ্ঠস্থ আছে। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : কুরআন শরীফের যে কয়টি সূরা তোমার কণ্ঠস্থ আছে সেইগুলির বিনিময়ে এই মহিলাকে আমি তোমার নিকট বিবাহ দিলাম। অর্থাৎ এ সূরাগুলো তুমি তাকে শিখিয়ে দিবে। [বুখারি ৫১৩৪, মুসলিম ১৪২৫]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯১ সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলেছেন : যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করিল যে মহিলার পাগলামী, কুষ্ঠ ও শ্বেত রোগ রয়েছে, উক্ত ব্যক্তি সে মহিলার সাথে সহবাস করলে সে মহিলা পূর্ণ মোহরানার হকদার হইবে এবং উক্ত মহিলার অভিভাবকের উপর সেই মোহরানার অর্থ দণ্ড বর্তাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক, যে তাকে বিবাহ দিয়েছে তার পিতা বা ভাই অথবা এমন কোন আত্মীয় হয়, যে মহিলার রোগের খবর জানে, তবে তার স্বামীকে মোহরানার অর্থ ফেরৎ দিতে হইবে। পক্ষান্তরে যদি উক্ত মহিলার অভিভাবক তার চাচাত ভাই অথবা তার আযাদকৃত গোলাম অথবা তার গোত্রের অন্য কোন লোক হয়, যার সম্পর্কে ধারণা করা যায় যে, সে তার রোগের খবর জানে না। তবে তার উপর অর্থদন্ড বর্তাবে না। উক্ত মহিলা মোহরানার নিম্নতম পরিমাণ অর্থ রেখে মোহরানার অবশিষ্ট অংশ স্বামীকে ফেরৎ দিবে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৯২ নাফি [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উবায়দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর কন্যা আবদুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-এর পুত্রের স্ত্রী ছিলেন এবং তার মাতা ছিলেন যাইদ ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-এর কন্যা। তাঁর সাথে তলব সহবাসের পূর্বে তাঁর স্বামীর মৃত্যু হল। অথচ তাঁর মহর ধার্যকৃত ছিল না। স্বামীর মৃত্যুর পর তাঁর মাতা মোহরানা করলেন। আবদুল্লাহ ইব্নু উমার [রাদি.] বলিলেন : তিনি মহর পাবেন না। যদি তাঁর পাওনা থাকত, তবে আমরা অবশ্যই দিতাম এবং তার হক আদায় করিতে কোন প্রকার ক্রটি করতাম না। কন্যার মাতা এই কথা মানলেন না। যাইদ ইব্নু সাবিত [রাদি.] তাদের উভয়ের মীমাংসাকারী নিযুক্ত হলেন। তিনি রায় দিলেন যে, কন্যা মোহরানা পাবেন না। তিনি স্বামীর সম্পদে উত্তরাধিকারিণী হইবেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৯৩ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ]- হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইব্নু আবদুল আযীয [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁর খিলাফতকালে জনৈক কর্মকর্তার নিকট এই মর্মে পত্র লিখলেন যে, বিবাহ প্রদানকারী তিনি পিতা হোক বা অন্য কেউ স্বামীর নিকট হইতে কোন প্রকার উপঢৌকন বা সম্মানীর শর্ত করে থাকলে স্ত্রী দাবী করলে সে তা পাবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] সেই মহিলা সম্পর্কে বলেন, যে মহিলাকে তার পিতা বিবাহ দিয়েছে এবং কন্যার মোহরানাতে কন্যার পিতা নিজের জন্য কিছু উপঢৌকনের শর্ত করেছে। তবে যেসব শর্তে বিবাহ সংঘটিত হয়েছে, সেই সব প্রাপ্য হইবে কন্যার, যদি সে দাবি করে। আর যদি তার স্বামী সহবাসের পূর্বে তাকে তালাক দেয় তবে শর্তকৃত উপঢৌকন স্বামীকে পরিশোধ করিতে হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি তার অপ্রাপ্ত বয়স্ক পুত্রকে বিবাহ দেয়, যে পুত্র কোন সম্পদের মালিক নয়। বিবাহ অনুষ্ঠানে যদি সে পুত্র সম্পদের মালিক না থাকে তবে মহর ওয়াজিব হইবে তার পিতার উপর। আর যদি পুত্র সম্পদের মালিক থাকে তবে পিতা স্বয়ং মহর-এর দায়িত্ব গ্রহণ না করে থাকে তবে পুত্রের সম্পদ হইতে মহর আদায় করিতে হইবে। কেননা পুত্র পিতার কর্তৃত্বাধীন থাকলে এবং পুত্র অপ্রাপ্ত বয়স্ক হলে এই বিবাহ পুত্রের জন্য অপরিহার্য হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন ব্যক্তি সহবাসের পূর্বে তার কুমারী স্ত্রীকে তালাক দিল। কন্যার পিতা তার কন্যার অর্ধেক মহর মাফ করে দিল। কন্যার পিতা যে পরিমাণ মহর মাফ করে দিল সে পরিমাণ মহর না দেওয়া স্বামীর জন্য বৈধ হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, উপরিউক্ত মাসআলার দলীল এই যে, আল্লাহ তাআলা কুরআনুল করীমে ইরশাদ করেছে, إِلَّا أَنْ يَعْفُوْنَ “যদি না স্ত্রী মাফ করে দেয়।” এতে ঐ সকল স্ত্রীলোকের কথা বলা হয়েছে যাদের সাথে তাদের স্বামীগণ সহবাস করেছে।

أَوْ يَعْفُوَ الَّذِي بِيَدِهِ عُقْدَةُ النِّكَاحِ.

“অথবা যার হাতে বিবাহ বন্ধন রয়েছে সে মাফ করে দেয়।” {১}

আয়াতে উল্লেখিত, “যার হাতে বিবাহ বন্ধন রয়েছে” দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে, কুমারী কন্যার পিতা এবং ক্রীতদাসীর মালিক যাদের হাতে বিবাহ বন্ধনের অধিকার রয়েছে।”

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই বিষয়ে আমি এইরূপই শুনিয়াছি এবং আমাদের মদীনাবাসীর আমলও অনুরূপ।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা ইহুদী অথবা খ্রিস্টান স্বামীর বিবাহ বন্ধনে থাকলে এবং ইহুদী অথবা খ্রিস্টান মহিলা স্বামীর সহিত সহবাসের পূর্বে মুসলমান হলে তবে মহর তাদের প্রাপ্য হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : দীনার-এর এক-চতুর্থাংশের কম পরিমাণ মহর-এর বিনিময়ে মহিলাকে বিবাহ দেওয়া আমি বৈধ মনে করি না। এই পরিমাণই হচ্ছে সর্বনিম্ন পরিমাণ যাতে চোরের হাত কাটা হয়।

{১} পূর্ণ আয়াতটি এই, তোমরা যদি তাদেরকে স্পর্শ করার পূর্বে তালাক দাও অথচ মহর ধার্য করে থাক তবে যা তোমরা ধার্য করেছ তার অর্ধেক যদি না স্ত্রী অথবা যার হাতে বিবাহ বন্ধন রয়েছে সে মাফ করে দেয়; এবং মাফ দেওয়াই তাকওয়ার নিকটতর। তোমরা নিজেদের মধ্যে সদাশয়তার কথা বিস্মৃত হইও না। তোমরা যা কর আল্লাহ তার সম্যক দ্রষ্টা।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৪ -পর্দা টাঙানো

১০৯৪ সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] ফায়সালা দিয়েছেন যে, কোন মহিলাকে কোন পুরুষ বিবাহ করলে এবং বিবাহের পর [স্বামী স্ত্রী গৃহাভ্যন্তরে প্রবেশ করার পর] পর্দা টাঙ্গান হলে তবে স্বামীর উপর মহর ওয়াজিব হইবে। {১} [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} পর্দা টাঙান হলে-এর অর্থ স্বামী-স্ত্রী একান্তে মিলিত হওয়া এবং সহবাসের মতো নির্জন পরিবেশ সৃষ্টি হওয়া।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১০৯৫ ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কোন ব্যক্তি তার স্ত্রীর নিকট প্রবেশ করার পর পর্দা টাঙ্গানো হলে তার মহরানা ওয়াজিব হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন : কোন ব্যক্তি তাঁর স্ত্রীর সহিত স্ত্রীর গৃহে মিলিত হলে সঙ্গম সম্পর্কে স্বামীর কথাই সত্য বলে গণ্য হইবে। আর যদি স্ত্রী স্বামীর গৃহে আগমন করে এবং মিলিত হয় সেই ক্ষেত্রে স্ত্রীর কথাই গ্রাহ্য করা হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমি মনে করি, উহা হচ্ছে স্পর্শ করার ব্যাপার স্বামী স্ত্রীর গৃহে তার সাথে মিলিত হলে তবে স্ত্রী যদি বলে, “সে আমাকে স্পর্শ [সহবাস] করেছে” আর স্বামী বলে, “আমি তাকে স্পর্শ করিনি।” এমতাবস্থায় স্বামীর দাবী বিশ্বাসযোগ্য হইবে। পক্ষান্তরে যদি স্ত্রী স্বামীর গৃহে মিলিত হয়, অতঃপর [সহবাসের ব্যাপারে] স্বামী দাবি করে, “আমি তাকে স্পর্শ করিনি।” স্ত্রী দাবি করে, “আমাকে সে স্পর্শ করেছে।” এই ক্ষেত্রে স্ত্রীর দাবি বিশ্বাসযোগ্য হইবে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৫ -আইয়্যেম ও বাকেরা-এর নিকট অবস্থান করা

১০৯৬ আবদুর রহমান ইব্নু হারিস ইব্নু হিশাম মাখযুমী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসুলুল্লাহ সাঃআঃ [উম্মুল মুমিনীন] উম্মে সালামাহ্ [রাদি.]-কে বিবাহ করেন এবং উম্মে সালামাই [রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট রাত্রি যাপন করে] ফজর করলেন। তখন রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাহাকে বলিলেন : “তোমার স্বামীর নিকট তোমার মর্যাদা কম নয়। তুমি ইচ্ছা করলে আমি তোমার নিকট এক সপ্তাহ অবস্থান করব এবং অন্যান্য স্ত্রীর নিকটও এক এক সপ্তাহ করে অবস্থান করব। আর যদি তুমি ইচ্ছা কর আমি তোমার নিকট তিনদিন অবস্থান করব আর অন্যান্য স্ত্রীর নিকট পর্যায়ক্রমে অবস্থান করব। উম্মে সালামাহ্ [রাদি.] বলিলেন : আমার নিকট তিনদিন অবস্থান করুন।

[সহীহ, মুসলিম ১৪৬০]বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯৭ হুমাইদ তাবীল [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইব্নু মালিক [রাদি.] বলিতেন : [অবস্থানের হক] কুমারীর জন্য সাত দিন, আর অকুমারীর জন্য তিন দিন। মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, মদীনাবাসীদের আমলও অনুরূপ। [বুখারি ৫২১৩, মুসলিম ১৪৬১]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : নতুন স্ত্রী ব্যতীত যদি কোন ব্যক্তির স্ত্রী থাকে, তবে যে স্ত্রীকে [সদ্য] বিবাহ করেছে সেই স্ত্রীর [নির্দিষ্ট বিশেষ] দিন অতিবাহিত হওয়ার পর সে উভয়ের মধ্যে সমান সমান পালা ভাগ করিবে। আর [সদ্য] বিবাহিতা স্ত্রীর নিকট যে কয়দিন অবস্থান করেছে পালা বণ্টনের মধ্যে সেই দিনগুলো হিসাব করা হইবে না।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৬ -বিবাহে যে সকল শর্ত বৈধ নয়

১০৯৮ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করা হল : কোন স্ত্রীলোক স্বামীর উপর এই শর্ত আরোপ করেছে যে, স্বামী তাকে নিজ শহর হইতে বাহির করিবে না। উত্তরে সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব বলিলেন : স্বামী ইচ্ছা করলে উহাকে তার শহরের বাইরে নিতে পারবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এই ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত এই, যদি বিবাহ বন্ধন স্থির করার সময় পুরুষ মহিলার জন্য এই শর্ত মেনে নেয়, “আমি তোমার উপর অন্য বিবাহ করব না এবং কোন ক্রীতদাসীও রাখব না” এরূপ শর্ত অর্থহীন। কিন্তু এরূপ করলে স্ত্রীর তালাক এবং ক্রীতদাসীর আযাদ হওয়ার কথা যুক্ত করা হয়, তবে সে শর্ত স্বামীর উপর ওয়াযিব হইবে এবং [শর্ত লঙ্ঘন করলে] তালাক ও আযাদী প্রযোজ্য হইবে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৭ -মুহাল্লিল {১} -এর বিবাহ এবং এই জাতীয় অন্যান্য বিবাহ

১০৯৯ যুবাইর ইব্নু আবদুর রহমান ইব্নু যুবাইর [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রিফাআ ইবনি সিমওয়াল [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁর স্ত্রী তামীমা বিন্তে ওয়াহ্ব-কে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সময়ে তিন তালাক দিলেন। অতঃপর তামীমা আবদুর রহমান ইব্ন যুবাইরকে বিবাহ করলেন। কিন্তু তাঁর সাথে মিলিত হইতে বিপত্তি {২} ঘটল যদ্দরুন আবদুর রহমান তাহাকে স্পর্শ করিতে পারল না। তাই তিনি তামীমাকে ত্যাগ করলেন। অতঃপর রিফাআ তাকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করলেন। এই রিফাআ তার প্রথম স্বামী যিনি তাহাকে তালাক দিয়েছিলেন। রিফাআ এই বিষয়টি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর নিকট উত্থাপন করলেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তামীমাকে বিবাহ করিতে তাহাকে নিষেধ করলেন এবং বলিলেন, لَا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَذُوقَ الْعُسَيْلَةَ [অন্য স্বামী] সহবাস না করা পর্যন্ত তামীমা তোমার জন্য হালাল হইবে না।” [বুখারি ৫৭৯২, মুসলিম ৪১৩৩]

{১} তিন তালাকপ্রাপ্তা মহিলাকে তার তালাকদাতা পূর্ব স্বামীর সাথে বিবাহ হালাল করার জন্য যে ব্যক্তি বিবাহ করে এবং পরে তালাক দেয় এইরূপ ব্যক্তিকে মুহাল্লিল বলা হয়।{২} বিপত্তি: রোগ উন্মাদনা বা অন্য কোন বাধা।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০০ আয়িশা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট প্রশ্ন করা হল এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছে। তারপর তাকে অন্য এক ব্যক্তি বিবাহ করেছে। কিন্তু সে তাকে স্পর্শ [সহবাস] করার পূর্বেই তালাক দিয়েছে। এই অবস্থাতে প্রথম স্বামীর জন্য তাকে পুনরায় বিবাহ করা বৈধ হইবে কি? আয়িশা [রাদি.] বলিলেন : না, তাকে স্পর্শ [সহবাস] না করা পর্যন্ত বৈধ হইবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১০১ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, কাশেম ইব্নু মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করা হল, যে ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তিন তালাক দিল, এর পর অন্য এক ব্যক্তি তাকে বিবাহ করিল। স্ত্রীকে স্পর্শ করার পূর্বেই সে ব্যক্তির মৃত্যু হল। এইরূপ অবস্থাতে তার প্রথম স্বামীর পক্ষে তাকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হইবে কি? কাশেম ইব্নু মুহাম্মাদ বলিলেন : প্রথম স্বামীর পক্ষে সেই স্ত্রীকে পুনরায় গ্রহণ করা হালাল হইবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : পূর্ব স্বামী যে স্ত্রীকে তালাক দিয়েছে সেই স্বামীর জন্য স্ত্রীকে হালাল করার উদ্দেশ্যে যে ব্যক্তি বিবাহ করিবে তার সেই বিবাহ ভেঙ্গে দেয়া হইবে। এবং [হালাল করার নিয়ত ছাড়া] নূতনভাবে দ্বিতীয়বার বিবাহ করিবে। কিন্তু [উপরিউক্ত অবৈধ বিবাহে] যদি সে স্ত্রীর সহিত সহবাস করে থাকে তবে স্ত্রী মহর পাবে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৮ -যে মহিলাকে স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহ করা বৈধ নয়

১১০২ আবু হুরায়রা [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন : কোন নারীকে তার ফুফুর সাথে এবং কোন নারীকে তার খালার সাথে বিবাহে একত্র করা যাবে না {অর্থাৎ একই পুরুষ এইরূপ দুই নারীকে এক সঙ্গে দুই স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিবে না}।

[বুখারি ৫১০৯, মুসলিম ১৪০৮] বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০৩ ইয়াহ্ইয়া ইবনি সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিতেন : কোন নারীকে তার ফুফু কিংবা খালার সঙ্গে একই পুরুষের স্ত্রী হইতে নিষেধ করিতে হইবে। আরো নিষেধ করা হইবে, কোন ব্যক্তিকে এমন দাসীর সহিত সহবাস করা হইতে, যে দাসীর গর্ভে অন্য পক্ষের সন্তান রয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ৯ -আপন স্ত্রীর জননীর সাথে বিবাহ বৈধ না হওয়া

১১০৪ ইয়াহ্ইয়া ইব্নু সাঈদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

যাইদ ইব্নু সাবিত [রাদি.]-কে প্রশ্ন করা হল এক ব্যক্তি সম্পর্কে, যে ব্যক্তি একজন মহিলাকে বিবাহ করেছে। অতঃপর তার সাথে সহবাস করার পূর্বে উহাকে তালাক দিয়েছে। উক্ত ব্যক্তির জন্য সে মহিলার মাতাকে বিবাহ করা বৈধ হইবে কি? উত্তরে যাইদ ইব্নু সাবিত [রাদি.] বলিলেন : না, বৈধ হইবে না। কারণ জননীর ব্যাপারে [কুরআনুল করীমে] কোন শর্ত আরোপ করা হয়নি। বরং শর্ত রয়েছে স্ত্রীর সৎ কন্যাদের ব্যাপারে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১০৫ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

একাধিক শায়খ হইতে বর্ণনা করেন, আবদুল্লাহ ইব্নু মাসউদ [রাদি.]-এর নিকট কুফাতে ফতোয়া জিজ্ঞেস করা হল, কোন মহিলার কন্যাকে বিবাহ করার পর উহার সহিত সহবাস না করা হলে, সেই কন্যার মাতাকে বিবাহ করা যাবে কিনা ? তিনি এই বিবাহের ব্যাপারে অনুমতি দিলেন। অতঃপর ইব্নু মাসঊদ [রাদি.] যখন মদীনাতে আগমন করলেন তখন তিনি এই বিষয়ে [অন্যান্য সাহাবীর নিকট] জিজ্ঞেস করলেন। তাহাকে বলা হল যে, তিনি [কুফাতে] যেরূপ বলেছেন আসল ব্যাপার সেরূপ নয়। [শর্ত আরোপ করা হয়েছে কেবলমাত্র পোষ্য কন্যাদের ব্যাপারে।] তারপর ইব্নু মাসঊদ কুফাতে প্রত্যাবর্তন করলেন এবং নিজ গৃহে না গিয়ে যে ব্যক্তিকে এরূপ ফতোয়া দিয়েছিলেন সে ব্যক্তির নিকট গমন করলেন। অতঃপর সে ব্যক্তিকে তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করেছে, অতঃপর সেই মহিলার মাতাকেও বিবাহ করেছে এবং তার [স্ত্রীর মাতার] সহিত সহবাস করেছে, সেই ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে। সে স্ত্রী ও স্ত্রীর মাতা উভয়কে পরিত্যাগ করিবে। উভয়ে তার জন্য সর্বদা হারাম হইবে। ইহা তখন হইবে যখন সে স্ত্রীর মাতার সহিত সহবাস করে। আর যদি সহবাস না করে থাকে তবে তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হইবে না। [কেবলমাত্র] স্ত্রীর মাতাকে পরিত্যাগ করিবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি কোন মহিলাকে বিবাহ করে, অতঃপর সেই স্ত্রীর মাতাকেও বিবাহ করে এবং তার সাথে সহবাস করে, সে ব্যক্তির জন্য তার স্ত্রীর মাতা কখনো হালাল হইবে না। আর হালাল হইবে না তার ছেলের জন্য এবং হালাল হইবে না তার পিতার জন্য। আর সে ব্যক্তির জন্য উহার কন্যাও হালাল হইবে না এবং তার স্ত্রী তার জন্য হারাম হয়ে যাবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ব্যভিচার ইহার কোনটিকেই হারাম করিবে না। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করিয়াছেন : وَأُمَّهَاتُ نِسَائِكُمْ “তোমাদের স্ত্রীগণের মাতাগণও তোমাদের জন্য হারাম।” উক্ত আয়াতে বিবাহের কারণে [স্ত্রীর মাতাকে] হারাম করা হয়েছে। ব্যভিচারের দ্বারা হারাম হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে যে কোন বিবাহ হালাল পন্থায় অনুষ্ঠিত হইবে এবং স্বামী স্ত্রীর সহিত মিলিত হইবে। সেই বিবাহ হালাল বিবাহের মত গণ্য হইবে। এটাই আমি শুনিয়াছি। মদীনাবাসীদের নিকট ইহাই গৃহীত মত।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১০ -যে মহিলার সহিত অবৈধ পন্থায় সহবাস করা হয়েছে সে মহিলার মাতাকে বিবাহ করা

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি কোন নারীর সহিত ব্যভিচার করেছে সেই কারণে সে ব্যক্তির উপর [শরীয়তের বিধান মতে] শাস্তিও প্রয়োগ করা হয়েছে। সেই ব্যক্তি সেই মহিলার কন্যাকে বিবাহ করিতে পারবে এবং সে ব্যক্তি যার সাথে ব্যভিচার করেছে ইচ্ছা করলে সে মহিলার সাথে তার পুত্রের বিবাহ দিতে পারবে। ইহা এইজন্য যে, উক্ত ব্যক্তি এই মহিলার সহিত হারাম পন্থায় সহবাস করিয়াছেন। আর আল্লাহ তাআলা যে মহিলার কন্যার বিবাহকে হারাম করিয়াছেন তা হল সেই মহিলা যার সাথে হালাল পন্থায় অথবা সন্দেহযুক্ত বিবাহ বন্ধনে মিলিত হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করিয়াছেন :

وَلَا تَنْكِحُوا مَا نَكَحَ آبَاؤُكُمْ مِنْ النِّسَاءِ

যে সকল স্ত্রীলোককে তোমাদের পিতৃপুরুষগণ বিবাহ করেছে তোমরা সে সকল স্ত্রীলোকদের বিবাহ করো না।” [সূরা: আন-নিসা, ২২]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যদি কোন ব্যক্তি কোন মহিলাকে তার ইদ্দতের সময়ে বৈধ বিবাহের মাধ্যমে স্ত্রীরূপে গ্রহণ করিল এবং তার সাথে সহবাসও করিল, তবে তার ছেলের জন্য সে মহিলাকে বিবাহ করা হারাম হইবে। ইহা এই জন্য যে, তার পিতা সেই মহিলাকে হালাল পন্থায় বিবাহ করেছে যাতে তার উপর কোন প্রকার শাস্তি প্রয়োগ করা হয় না। এই বিবাহে যে সন্তান জন্ম লাভ করিবে সে সন্তানও তার পিতার বলে গণ্য হইবে। তদ্রূপ পুত্রের জন্য উক্ত মহিলাকে বিবাহ করা হারাম, যে মহিলার সাথে তার পিতা উহার ইদ্দতের সময় বিবাহ করেছে ও তার সাথে সহবাস করেছে। তদ্রূপ পিতার জন্যও উক্ত স্ত্রীলোকের কন্যাকে বিবাহ করা হারাম যে কন্যার মাতার সহিত সে সহবাস করেছে।

পরিচ্ছেদ ১১ -বিভিন্ন অবৈধ বিবাহ

১১০৬ আবদুল্লাহ ইব্নু উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ নিকাহ শিগারকে নিষিদ্ধ করিয়াছেন। শিগার হচ্ছে : কোন ব্যক্তি নিজের কন্যাকে এই শর্তে অন্যের নিকট বিবাহ দিচ্ছে যে, কন্যার জামাতা ব্যক্তিটি তার আপন কন্যাকে ঐ ব্যক্তির নিকট [যার কন্যাকে সে নিজে বিবাহ করেছে তার নিকট অর্থাৎ শ্বশুরের নিকট] বিবাহ দিবে। আর এতদুভয়ের মধ্যে কোন মহরও ধার্য করা হয়নি। [বুখারি ৫১১২, মুসলিম ১৪১৫]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০৭ ইয়াযিদ ইব্নু জারিয়াহ আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি যখন অকুমারী [সাইয়্যিব] ছিলেন তখন তার পিতা তাকে বিবাহ দিলেন। তিনি এ বিবাহকে পছন্দ করলেন না। তাই তিনি রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সমীপে এলেন [এবং তাঁর অসন্তুষ্টির কথা জানালেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাঁর এই বিবাহকে রদ করে দিলেন। [সহীহ, বুখারি ৫১৩৮]বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০৮ আবু যুবাইর মাক্কী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট এমন একটি বিবাহের ঘটনা উপস্থিত করা হল, যে বিবাহে একজন পুরুষ ও একজন নারী ব্যতীত অন্য কোন সাক্ষী ছিল না। তিনি বলিলেন : এটা গোপন বিবাহ। আমি একে জায়েয বলি না। যদি আমার এ সিদ্ধান্ত আমি পূর্বে প্রকাশ করতাম তবে আমি তোমাকে শাস্তি দিতাম। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১০৯ সাঈদ ইব্নু মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তুলায়হা আসদিয়া রুশাইদ ছাক্বাফী [রাদি.]-এর স্ত্রী ছিলেন। তিনি তাহাকে তালাক দিলেন। তারপর তুলায়হা ইদ্দতের ভিতরে বিবাহ করলেন। এই কারণে উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] তাকে এবং তার স্বামীকে কয়েকটি চাবুক মারলেন এবং উভয়কে পৃথক করে দিলেন। তারপর উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] বলিলেন : যে স্ত্রীলোক ইদ্দতের ভিতর বিবাহ করিয়াছে, বিবাহকারী তার সেই স্বামী যদি তার সাথে সহবাস না করে থাকে তবে উভয়কে পৃথক করে দেয়া হইবে। তারপর স্ত্রীলোকটি প্রথম স্বামীর পক্ষের অসম্পূর্ণ ইদ্দত পূর্ণ করিবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামী স্বাভাবিক নিয়মে বিবাহের প্রস্তাবকারীগণের মধ্যে একজন প্রস্তাবকারী হিসেবে গণ্য হইবে। আর যদি দ্বিতীয় ব্যক্তি তার সাথে সহবাস করে থাকে তবে উভয়কে পৃথক করা হইবে। তারপর প্রথম স্বামীর [পক্ষের] অবশিষ্ট ইদ্দত পূর্ণ করিবে। অতঃপর দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত পূর্ণ করিবে। আর তাঁরা [দ্বিতীয় স্বামী ও স্ত্রী] উভয়ে আর কখনো মিলিত হইতে পারবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলেছেন : সেই স্ত্রীলোক মহর-এর হকদার হইবে। কারণ তার সঙ্গে [বিবাহের মাধ্যমে] সহবাস করা হয়েছে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমাদের সিদ্ধান্ত হল, স্বামীর মৃত্যু হয়েছে, এমন স্বাধীন নারী চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করিবে। আর তার হায়েযের ব্যাপারে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়ায় গর্ভধারণের আশংকা দেখা দিলে সে নারী সন্দেহমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত বিবাহ করিবে না।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১২ -আযাদ স্ত্রীর উপর দাসীকে বিবাহ করা

১১১০ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস ও আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.]-কে এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে প্রশ্ন করা হল, যে ব্যক্তির নিকট আযাদ স্ত্রী ছিল, এমতাবস্থায় সে দাসীকে বিবাহ করিতে ইচ্ছা করিল। উত্তরে তারা উভয়ে বলিলেন : আযাদ স্ত্রী {১} ও দাসীকে স্ত্রী হিসাবে একত্র করাকে আমরা পছন্দ করি না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} আযাদ স্ত্রী: যে মহিলা কারো ক্রীতদাসী নয়, সে মহিলাকে আযাদ স্ত্রী বলা হয়। যে পুরুষ কারো ক্রীতদাস নয় সে পুরুষকে আযাদ বলা হয়।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১১১ সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলিতেন, আযাদ স্ত্রী থাকতে তাহার অনুমতি ব্যতীত দাসী বিবাহ করা যাবে না, আযাদ স্ত্রী অনুমতি দিলে তিনি বন্টনে দুই-তৃতীয়াংশের অধিকার লাভ করিবেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন আযাদ ব্যক্তির উচিত নয় ক্রীত দাসীকে বিবাহ করা, যদি আযাদ মহিলাকে বিবাহ করার সামর্থ্য সে ব্যক্তির থাকে। আর সামর্থ্য না থাকলেও ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়ার আশংকা না হলে দাসী মহিলাকে বিবাহ করিবে না। ইহা এইজন্য যে, কুরআনুল করীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেনঃ

وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمْ الْمُؤْمِنَاتِ

“তোমাদের মধ্যে কারো স্বাধীনা বিশ্বাসী নারী বিবাহের সামর্থ্য না থাকলে তোমরা তোমাদের অধিকারভুক্ত বিশ্বাসী যুবতী বিবাহ করিবে।” [সূরা: আন-নিসা, ২৫] আরও ইরশাদ করিয়াছেন

ذَلِكَ لِمَنْ خَشِيَ الْعَنَتَ مِنْكُمْ

“তোমাদের মধ্যে যারা ব্যভিচারকে ভয় করে ইহা তাদের জন্য।” [সূরা: আন-নিসা, ২৫]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আনাতের অর্থ ব্যভিচার।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

পরিচ্ছেদ ১৩ -যে ব্যক্তি এমন মহিলার মালিক হয় পূর্বে যে মহিলা তার স্ত্রী ছিল এবং তাকে তালাক দিয়েছে এ সম্পর্কে হুকুম

১১১২ যাইদ ইবনি সাবিত [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

যে ব্যক্তি দাসী স্ত্রীকে [তার স্ত্রী থাকা অবস্থায়] তিন তালাক প্রদান করে, পরে সে উহাকে ক্রয় করে নেয়; সেই দাসী সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না, যাবৎ সে দাসী [ইদ্দতের পর] অন্য স্বামীকে বিবাহ না করে। [অর্থাৎ প্রথমাবস্থায় সে অন্যের দাসী ও তার স্ত্রী ছিল। পরে সে তালাক দিয়ে উহাকে ক্রয় করে নেয়েছে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১১৩ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব ও সুলায়মান ইবনি ইয়াসার [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করা হল এক ব্যক্তি সম্পর্কে যে ব্যক্তি তার এক ক্রীতদাসের নিকট তার দাসীকে বিবাহ দিয়েছে। অতঃপর ক্রীতদাস [স্বামী] উহাকে তিন তালাক দিয়েছে। তারপর সেই দাসীকে তার কর্তা হিবা [দান] করলেন তালাকদাতা ক্রীতদাসের নিকট। তবে দাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার কারণে এই দাসী সেই ক্রীতদাসের জন্য হালাল হইবে কি? তাঁরা উভয়ে বলিলেন : না, যাবত স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১১৪ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইবনি শিহাব যুহরী [রাহিমাহুল্লাহ]-কে প্রশ্ন করলেন এমন এক ব্যক্তি সম্বন্ধে, যার অধীনে [বিবাহ সূত্রে] অন্যের ক্রীতদাসী ছিল, পরে সে উহাকে ক্রয় করেছে। [ক্রয় করার পূর্বে] সে উহাকে এক তালাক দিয়েছিল। [এখন তার জন্য উক্ত স্ত্রীলোকটি হালাল হইবে কি?] ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলিলেন : [মিলকে ইয়ামীন] ক্রয়ের মাধ্যমে দাসদাসীর স্বত্বাধিকারী হওয়ার দ্বারা সেই দাসী উক্ত ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে তিন তালাক না দেওয়া পর্যন্ত। আর যদি দিয়ে থাকে তবে তার জন্য উক্ত দাসী মিলকে ইয়ামীনের দ্বারা হালাল হইবে না, যাবৎ সে স্ত্রীলোকটি অন্য স্বামী গ্রহণ না করে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ব্যক্তি [অন্যের] ক্রীতদাসীকে বিবাহ করে এবং তার সন্তান জন্মে। অতঃপর সেই দাসীকে সে ক্রয় করে। সন্তান হওয়ার দরুন এই ক্রীতদাসী তার উম্মে ওয়ালাদ {১} হইবে না। কারণ সে অন্যের ক্রীতদাসী। তবে উহাকে ক্রয় করার পর তার [এই] মালিকের স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সেই ক্রীতদাসী সন্তান জন্ম দিলে উম্মে ওয়ালাদ হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যদি উক্ত ক্রীতদাসকে ক্রয় করে এবং সেই দাসী তার দ্বারা অন্তঃসত্বা হয়। অতঃপর তারই স্বত্বাধিকারে থাকাকালীন সে সন্তান জন্ম দেয় তবে আমাদের মতে গর্ভ ধারণের কারণে এই দাসী উম্মে ওয়ালাদ বলে গণ্য হইবে। আল্লাহই ভাল জানেন।

{১} উম্মে ওয়ালাদ: যেই ক্রীতদাসী তার মালিকের ঔরসে সন্তান জন্ম দিয়েছে সেই ক্রীতদাসীকে উম্মে ওয়ালাদ বলা হয়।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৪ -ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে দুই বোনের সাথে মিলিত হওয়া এবং স্ত্রী ও তার কন্যার সাথে একত্রে মিলিত হওয়া হারাম

১১১৫ উবায়দুল্লাহ্ ইবনি আব্দুল্লাহ ইবনি উৎবা ইবনি মাসঊদ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-কে প্রশ্ন করা হল এমন স্ত্রীলোক ও তার কন্যা সম্পর্কে যাদের উভয়কে ক্রয়সূত্রে মালিক হয়ে পর্যায়ক্রমে সহবাস করা হয়েছে। উমার [রাদি.] বলিলেন : উভয়কে একত্র করে পর্যায়ক্রমে সহবাস করাকে আমি পছন্দ করি না। তিনি এইরূপ করিতে নিষেধ করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১১৬ কাবীসা ইবনি যুয়াইব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি উসমান ইবনি আফ্ফান [রাদি.]-কে এমন দুই বোন সম্পর্কে প্রশ্ন করিল যে দুই বোনের ক্রয়সূত্রে [কেউ] মালিক হয়েছে। এমতাবস্থায় উভয়ের সঙ্গে সংগত হওয়া যাবে কি? উসমান [রাদি.] বলিলেন : উভয়ের সঙ্গে সংগত হওয়া [কুরআনুল] এক আয়াত অনুযায়ী হালাল করা হয়েছে। আবার অন্য আয়াত অনুযায়ী একে হারাম করা হয়েছে। তাই আমি একে [দুই বোনের সঙ্গে একত্রে সংগত হওয়া] পছন্দ করি না। প্রশ্নকারী ব্যক্তি তাঁর নিকট হইতে প্রস্থান করার পর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর অন্য একজন সাহাবীর সঙ্গে সাক্ষাত হল। তখন সে এই বিষয়ে তাঁর নিকট প্রশ্ন করিল। তিনি বলিলেন : লোকের উপর যদি আমার অধিকার থাকত তবে কাউকেও এইরূপ করিতে পাইলে আমি তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতাম। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : আমি মনে করি এই সাহাবী আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যুবাইর ইবনি আউয়াম [রাদি.] হইতেও অনুরূপ রেওয়ায়ত তাঁর নিকট পৌঁছেছে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১১৭ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

জনৈক ব্যক্তির নিকট এক ক্রীতদাসী আছে। সে উহার সহিত সংগত হয়ে থাকে। অতঃপর সেই দাসীর বোনের সহিত সংগত হইতে ইচ্ছা করিল। ইহা সে ব্যক্তির জন্য হালাল হইবে না যাবৎ এর বোন তার জন্য হারাম না হয়; [পূর্ববর্তী বোনকে] অন্যের নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে অথবা আযাদ করে দিয়ে অথবা এই ধরনের অন্য কোন উপায়ে কিংবা এই দাসীকে তার ক্রীতদাস অথবা অন্য কারো নিকট বিবাহ দেওয়ার ফলে।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৫ -পিতার দাসীর সাথে সহবাস নিষিদ্ধ হওয়া

১১১৮ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর কাছে রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.] তাঁর পুত্রকে একটি দাসী দান করলেন। এবং বলে দিলেন : তুমি একে স্পর্শ [সহবাস] করো না। কারণ আমি উহার পর্দা উন্মোচন করেছি [অর্থাৎ সহবাস করেছি]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

আবদুর রহমান ইবনি মুজাব্বার {১} [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : মালিক ইবনি আব্দুল্লাহ [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁর এক পুত্রকে একটি দাসী দান করলেন এবং তিনি পুত্রকে বলে দিলেন, তুমি এর নিকট গমন [সহবাস] করো না, কারণ আমি উহার সাথে সংগত হওয়ার ইচ্ছা করেছি। সুতরাং আমি তোমাকে উহার সহিত মিলিত হওয়ার অনুমতি দিতে পারি না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} মুজাব্বার: উল্লেখ্য যে, তাঁর নামও আবদুর রহমান। তাঁর বংশের সিলসিলাÑ আবদুর রহমান ইবনি আবদুর রহমান ইবনি আবদুর রহমান ইবনি উমার ইবনি খাত্তাব।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১১৯ ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু নাহ্শল ইব্নু আসওয়াদ, কাসেম ইব্নু মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিলেন : আমার এক দাসীকে চাঁদনী রাতে পরিচ্ছেদ খোলা অবস্থায় দেখেছি। সংগত হওয়ার উদ্দেশ্যে কোন পুরুষ তার স্ত্রীর নিকট যেভাবে বসে আমিও উহার নিকট সেইরূপ বসলাম। সে দাসী বলল : আমি ঋতুমতী। এটা শুনে আমি তার সাথে সংগত হলাম না। এখন আমি উহাকে সহবাসের জন্য আমার পুত্রকে দান করিতে চাই কিন্তু কাসেম তাহাকে এইরূপ করিতে নিষেধ করলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১২০ ইবরাহীম ইব্নু আবি আবলা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আবদুল মালিক ইব্নু মারওয়ান তাঁর এক সঙ্গীকে একটি দাসী দান করলেন। তারপর তাঁর নিকট উহার অবস্থা জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে তিনি বলিলেন {১} : আমি উহা আমার পুত্রকে দান করিতে ইচ্ছা করেছি। সে উহার সহিত এমন এমন [অর্থাৎ সহবাস] করিবে। আবদুল মালিক বলিলেন : মারওয়ান তোমার তুলনায় অধিক সাবধানী ছিলেন। তিনি তাঁর পুত্রকে একটি দাসী দান করলেন। অতঃপর বলে দিলেন : তুমি এর নিকট গমন [সহবাস] করো না। কারণ, আমি উহার হাটু অনাবৃত অবস্থায় দেখেছি। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} “আমি উহার সাথে সহবাস করার ইচ্ছা করেছিলাম। সফলকাম হই নাই।” -এই কথাটি এই স্থানে উহ্য রয়েছে।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৬ -কিতাবীগণের দাসীকে বিবাহ করা নিষিদ্ধ

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেনঃ ইয়াহুদী এবং খ্রীষ্টান ক্রীতদাসীকে বিবাহ করা হালাল নহে। কারণ আল্লাহ তাআলা কিতাবে ইরশাদ করিয়াছেনঃ

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنْ الْمُؤْمِنَاتِ وَالْمُحْصَنَاتُ مِنْ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ

“এবং মুমিন সচ্চরিত্রা নারী ও তোমাদের পুর্বে যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে, তাহাদের সচ্চরিত্রা নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হইল।”

আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেনঃ

وَمَنْ لَمْ يَسْتَطِعْ مِنْكُمْ طَوْلًا أَنْ يَنْكِحَ الْمُحْصَنَاتِ الْمُؤْمِنَاتِ فَمِمَّا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ مِنْ فَتَيَاتِكُمْ الْمُؤْمِنَاتِ

“তোমাদের মধ্যে কাহারও স্বাধীনা ঈমানদার নারী বিবাহের সামর্থ না থাকিলে তোমরা তোমাদের অধিকারভূক্ত ঈমানদার নারী বিবাহ করিবে। [৪ : ২৫] ইহারা হইলেন মুমিনা ক্রীতদাসিগণ।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমাদের মতে মুমিন ক্রীতদাসিগণকেই আল্লাহ তাআলা হালাল করিয়াছেন। যাহাদিগকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে [ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান] তাহাদের ক্রীতদাসিগণকে [আল্লাহ তাআলা] হালাল করেন নাই।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, ইয়াহুদী ও খ্রিস্টান ক্রীতদাসিগণের খরিদসূত্রে মালিক হলে তবে মালিকদের জন্য উহারা হালাল হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, ক্রয়সূত্রে মালিক হলেও অগ্নিপূজারী দাসীর সাথে সহবাস করা হালাল নয়।

পরিচ্ছেদ ১৭ -সাধবী {১} -এর বর্ণনা

১১২১ ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

সাঈদ ইবনি মাসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কুরআনের আয়াতে উল্লিখিত الْمُحْصَنَاتُ مِنْ النِّسَاءِ সাধ্বী রমণিগণ “এরা হলেন ঐ সকল নারী যাদের স্বামী আছে।” এটা দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, আল্লাহ তাআলা ব্যভিচারকে হারাম করিয়াছেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} ইহসানের অভিধানিক অর্থ দুর্ভেদ্য করা। হিসন বলা হয় দুর্গকে। শরীয়তের পরিভাষায় পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী পুরুষ ও নারী, বিবাহিত পুরুষ ও নারীকে যথাক্রমে মুহসান এবং মুহসানা বলা হয়।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১২২ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

ইব্নু শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] ও কাসেম ইব্নু মুহাম্মাদ [রাহিমাহুল্লাহ] তারা উভয়ে বলিতেন : স্বাধীন ব্যক্তি কোন দাসীকে বিবাহ করলে, অতঃপর উহার সহিত সহবাস করলে এর দ্বারা সে মুহসান বলে গণ্য হইবে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন, আমি যে সকল বিজ্ঞজনের সাক্ষাত পেয়েছি তারা বলিতেন : ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তিকে মুহসান {১} করে যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয়।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ক্রীতদাস স্বাধীন মহিলাকে মুহসান বানায় যদি সে উহাকে বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয়। কিন্তু স্বাধীনা নারী ক্রীতদাসকে তদ্রূপ করে না। কিন্তু ক্রীতদাস তার স্বামী যদি তাকে আযাদ করে দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী যদি তাকে আযাদ করে দেয় এবং স্বাধীন হওয়ার পর স্বামী হিসাবে সে তার সাথে সহবাস করে তবে সে মুহসান হইবে। আর যদি মুক্ত হওয়ার পূর্বে সে স্ত্রীকে পৃথক করে দেয় তবে সে মুহসান হইবে না যাবৎ মুক্ত হওয়ার পর উহাকে বিবাহ না করে এবং উহার সহিত সংগত না হয়।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : যে ক্রীতদাসী স্বাধীন ব্যক্তির স্ত্রীরূপে রয়েছে তার মুক্ত হওয়ার পূর্বে স্বামী তাকে তালাক দিলে উক্ত বিবাহ সে ক্রীতদাসীকে মুহসানা করিবে না। অবশ্য মুক্তি পাওয়ার পর তাহাকে বিবাহ করে তার সাথে সংগত হলে সে মুহসানা [সধবা] হইবে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ক্রীতদাসী যদি আযাদ ব্যক্তির স্ত্রী হয় এবং তার নিকট থাকাকালীন তৎকর্তৃক পরিত্যক্ত হওয়ার পুর্বে সে দাসত্ব হইতে মুক্ত হয় তবে সে মুহসানার [সধবা] অন্তর্ভুক্ত হইবে। এই ব্যাপারে শর্ত এই যে, উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকা অবস্থায় সে মুক্তিপ্রাপ্ত হয় এবং এর পর তার স্বামী তার সাথে সহবাস করে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : খ্রিস্টান ও ইহুদী স্বাধীনা নারী এবং মুসলিম ক্রীতদাসী এই তিনজনের একজনকে যদি কোন আযাদ মুসলিম ব্যক্তি বিবাহ করে এবং তার সাথে সংগত হয় তবে সে স্ত্রী লোক মুহসানা [সাধবা] হইবে।

{১} মুহসান করে অর্থাৎ তাকে পাপাচার হইতে রক্ষা এবং পূত-পবিত্র চরিত্রের অধিকারী হইতে সহায়ক হয়।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৮ -মুতআ {১} বিবাহ

১১২৩ আলী ইব্নু আবু তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ খায়বর দিবসে মুতআ বিবাহ করিতে নিষেধ করিয়াছেন এবং তিনি গৃহপালিত গাধার গোশ্ত আহার করিতেও নিষেধ করিয়াছেন। [বুখারি ৪২১৬, মুসলিম ১৪০৭]

{১} মুতআ: মুতআ হল নির্দিষ্ট মালের বিনিময়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিবাহ করা। সময় উত্তীর্ণ হলে তালাক ব্যতীত স্ত্রী পরিত্যক্ত হইবে। এই বিবাহ ইসলামের শুরুর দিকে বৈধ ছিল। খায়বর দিবসে উহাকে চিরকালের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১২৪ খাওলা বিন্তে হাকিম [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রবিআ ইব্নু উমাইয়া [রাদি.] এক মুওয়াল্লাদ {১} নারীকে মুতআ বিবাহ করেন এবং সে নারী গর্ভবতী হয়। উমার ইব্নু খাত্তাব এটা শুনে ঘাবড়ে গেলেন এবং আপন চাদর টানতে টানতে বের হলেন। অতঃপর তিনি বলিলেন : মুতআ নিষিদ্ধ। লোকদের মধ্যে যদি এ বিষয়ে আমি পূর্বে ঘোষণা করতাম তবে এই [মুতআর কারণে] ব্যভিচারীর প্রতি রজম [প্রস্তর নিক্ষেপ] করতাম। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

{১} মুওয়াল্লাদা: যে মহিলা আরব নয় কিন্তু তার জন্ম হয়েছে আরবে এবং আরবীয় রীতিনীতি আদব-কায়দা মুতাবিক তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ১৯ -ক্রীতদাসের বিবাহ

১১২৫ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি রবীআ ইব্নু আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ]-কে বলিতে শুনেছেন, ক্রীতদাস চারটি বিবাহ করিতে পারে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : এ বিষয়ে আমি যা শুনিয়াছি তন্মধ্যে এটাই উত্তম।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ক্রীতদাসের বিবাহ এবং মুহাল্লিল-এর বিবাহের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কারণ ক্রীতদাসের মালিক যদি বিবাহের অনুমতি দেয় তবে তার বিবাহ বৈধ হইবে। আর যদি মালিক তার বিবাহের অনুমতি না দেয় তবে তাদের উভয়কে [স্বামী ও স্ত্রী] পৃথক করে দেয়া হইবে।

পক্ষান্তরে মুহাল্লিল ও তার স্ত্রীকে সর্বাবস্থায় পৃথক করে দেওয়া হইবে যদি সে হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ করে থাকে।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেনঃ কোন ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি তার মালিক হয়, অথবা স্বামী স্ত্রীর মালিক হয় এমতাবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীর অথবা স্ত্রী তার স্বামীর মালিক হওয়ার ফলে তালাক ছাড়াই তাদের বিবাহ ভঙ্গ হয়ে যাবে। আর যদি তারা উভয়ে নূতন বিবাহের মাধ্যমে একে অপরের প্রতি প্রত্যাবর্তন করে তবে তাদের পূর্ববর্তী পৃথকীকরণ তালাক বলে গণ্য হইবে না।

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : ক্রীতদাসের স্ত্রী যদি ক্রীতদাসকে মুক্ত করে দেয় এমতাবস্থায় যে, সে তার মালিক হয়েছে, তখন স্ত্রী [বিবাহ বিচ্ছেদের কারণে] ইদ্দতের মধ্যে রয়েছে, তবে তারা উভয়ে নূতন বিবাহ ছাড়া একে অপরের দিকে প্রত্যাবর্তন করিতে পারবে না। [অর্থাৎ নূতনভাবে বিবাহ করিতে হইবে]।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২০ -মুশরিক স্বামীর পূর্বে তার স্ত্রী মুসলমান হলে তাদের বিবাহ সম্পর্কিত হুকুম

১১২৬ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তাঁর নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর যুগে স্ত্রীলোকেরা তাঁদের নিজের শহরে থেকে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করিতেন। তাঁরা মদীনার দিকে হিজরত করিতে পারতেন না। তাঁরা মুসলমান হইতেন অথচ তাঁদের স্বামীগণ কাফির রয়েছে। এইরূপ স্ত্রীলোকের মধ্যে ছিলেন ওলীদ ইবনি মুগীরার কন্যা। তিনি সাফওয়ান ইবনি উমাইয়ার স্ত্রী ছিলেন, মক্কা বিজয়ের সময় তিনি মুসলমান হলেন। আর তাঁর স্বামী সাফওয়ান ইবনি উমাইয়া ইসলাম কবুল না করে পলায়ন করলেন। সাফওয়ানকে নিরাপত্তা প্রদানের প্রতীক স্বরূপ রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাঁর পবিত্র চাদরসহ সফওয়ানের চাচাতো ভাই ওহাব ইবনি উমায়রকে প্রেরণ করলেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলেন এবং তাঁর নিকট আসতে বলিলেন, যদি সে খুশীতে মুসলমান হয়, তবে উহা গ্রহণ করা হইবে, নতুবা তাকে দুই মাস সময় দেয়া হইবে। সাফওয়ান রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর চাদর নিয়ে আগমন করিল এবং লোক সম্মুখে চিৎকার করে বলল, হে মুহাম্মদ, এই যে ওহাব ইবনে উমায়র, সে আপনার চাদর নিয়ে আমার কাছে গিয়েছিল এবং সে বলেছে, আপনি আমাকে আপনার নিকট আসতে আহ্বান জানিয়েছেন, আমি যদি খুশীতে মুসলমান হই, উহা গ্রহণ করা হইবে। নতুবা আপনি আমাকে দুই মাস সময় দিবেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : হে আবু ওহাব; [ইহা সাফওয়ানের কুনিয়াত], তুমি [উটের পিঠ হইতে] অবতরণ কর। সাফওয়ান বলল, না নামিব না। আল্লাহর কসম, যাবৎ আপনি ব্যাখ্যা না করিবেন [ইহা সত্য কিনা]। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : বরং তোমাকে চার মাস সময় দেয়া হইবে। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ হুনায়নের হাওয়াযিন গোত্রের দিকে [অভিযান] বের হলেন, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সাফওয়ানের দিকে লোক প্রেরণ করলেন তার নিকট যে সকল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল সেগুলি [আরিয়ত] ধারস্বরূপ দেয়ার জন্য। সাফওয়ান বলিলেন, বাধ্যতামূলক না স্বেচ্ছায়? তিনি {রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ} বলিলেন, [বাধ্যতামূলক নয়] বরং খুশীতে।

সে তার নিকট যা ছিল আসবাব ও যুদ্ধাস্ত্র রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে দিল। অতঃপর [মক্কা হইতে] হুনায়ন-এর দিকে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সঙ্গে বাহির হল। সে তখনও কাফির। তারপর হুনায়ন ও তায়েফ-এর অভিযানে শরীক হল, সে তখনও কাফির আর তার স্ত্রী মুসলমান। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সাফওয়ান ও তার স্ত্রীকে পৃথক করেননি। পরে সাফওয়ান মুসলমান হলেন। তার স্ত্রীকে তাহার কাছে রাখা হল সেই [আগের] বিবাহে। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১২৭ মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেছে : সাফওয়ান ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ও তার স্ত্রীর ইসলাম ধর্ম গ্রহণের মধ্যে ব্যবধান ছিল অন্ততঃ দুই মাসের। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

ইব্নু শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : কোন স্ত্রীলোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে হিজরত করলে এবং তার স্বামী কাফের অবস্থায় দারুল কুফর থাকলে তবে তাঁর হিজরত তাঁর ও তাঁর স্বামীর মধ্যে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করিবে। তবে যদি তাঁর স্বামী ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে হিজরত করে। [এমতাবস্থায় স্ত্রী তারই থাকিবে]। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১২৮ ইবনি শিহাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

হারিস ইবনি হিশামের কন্যা উম্মে হাকীম ইকরাম ইবনি আবু জাহলের স্ত্রী ছিল। উম্মে হাকীম মক্কা বিজয়ের দিন ইসলাম ধর্ম কবূল করেন। তার স্বামী ইকরামা ইবনি আবু জাহল ইসলাম গ্রহণ না করে পলায়ন করে ইয়ামনের দিকে চলে যায়। উম্মে হাকীম ইয়ামনে গিয়ে তার স্বামীর নিকট উপস্থিত হন এবং তাকে ইসলামের দিকে আহ্বান জানান। ইকরামা ইসলাম কবূল করেন এবং মক্কা বিজয়ের বৎসর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর খিদমতে উপস্থিত হন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাকে দেখে আনন্দে এত দ্রুত উঠলেন যে, তাঁর পবিত্র দেহ তখন চাদরে আবৃত রইল না। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ ইকরামার বায়আত গ্রহণ করলেন এবং স্বামী স্ত্রী উভয়ের পূর্ব বিবাহ বহাল রাখলেন। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

মালিক [রাহিমাহুল্লাহ] বলেন : স্ত্রীর পূর্বে কোন ব্যক্তি ইসলাম গ্রহণ করলে অতঃপর স্ত্রীকে ইসলামের দিকে আহ্বান করলে সে যদি মুসলমান না হয় তবে উভয়ের মধ্যে বিচ্ছেদ হয়ে যাবে। কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করিতেছেন :

وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ .

তোমরা অবিশ্বাসী নারীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বজায় রেখ না। [সূরা: মুমতাহিনাহ, ১০]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

পরিচ্ছেদ ২১ -ওয়ালিমা

১১২৯ আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ সমীপে আবদুর রহমান ইবনি আউফ [রাদি.] উপস্থিত হলেন। তাঁর [দেহে ও বস্ত্রে] হলুদ বর্ণের সুগন্ধ দ্রব্যের চিহ্ন ছিল। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ তাহাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলেন। আবদুর রহমান ইবনি আউফ তাকে জানালেন যে, তিনি জনৈক আনসার মেয়েলোককে বিবাহ করিয়াছেন। রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ জিজ্ঞেস করলেন : তুমি উহাকে কত মহর প্রদান করেছে ? তিনি বলিলেন : এক খেজুরের বীচি পরিমাণ স্বর্ণ। অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলিলেন : ওয়ালীমা {১} কর একটি বকরী দিয়ে হলেও।

[বুখারি ৫১৫৩, মুসলিম ১৪২৭]{১} বিবাহের পর ভোজের আয়োজনই ওয়ালীমা হিসাবে প্রসিদ্ধ। এটা সুন্নত।বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস১১৩০

ইয়াহইয়া [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আমার নিকট রেওয়ায়ত পৌঁছেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ [এমনও] ওয়ালীমা করিতেন যে, যাতে রুটি ও গোশ্ত থাকত না। [সহীহ, ইবনি মাজাহ ১৯১০, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন {সহীহ ও যয়ীফ সুনানে ইবনি মাজাহ} তবে ঈমাম কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৩১ আব্দুল্লাহ ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন : তোমাদের কাউকে ওয়ালীমায় দাওয়াত করা হলে সে যেন উহাতে অংশগ্রহণ করে।

[বুখারি ৫১৭৩, মুসলিম ১৪২৯] বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৩২ আরাজ [রাদি.] হইতে বর্ণিতঃ

আবু হুরায়রা [রাদি.] বলেছেন : সর্বাপেক্ষা মন্দ আহার হচ্ছে সেই ওয়ালীমার আহার, যেই ওয়ালীমাতে ধনী লোকদের দাওয়াত দেয়া হয় এবং মিসকিনদেরকে দাওয়াত হইতে বাদ দেয়া হয়। আর যে ব্যক্তি দাওয়াত গ্রহণ করে না, সে অবশ্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের নাফরমানী করিল।

[বুখারি ৫১৭৭, মুসলিম ১৪৩২]বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৩৩ ইসহাক ইবনি আব্দুল্লাহ ইবনি আবি তালহা [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

আনাস ইবনি মালিক [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন জনৈক দরজী এক প্রকারের খাদ্য প্রস্তুত করে উহা আহারের জন্য রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে দাওয়াত করলেন। আনাস [রাদি.] বলেন : সেই দাওয়াতে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ-এর সঙ্গে আমিও গিয়েছিলাম। তাঁর নিকট পেশ করা হল যবের রুটি ও ঝোল, যাতে কদু ছিল। আনাস বলেন : আমি পেয়ালার আশপাশ হইতে রাসূলুল্লাহ সাঃআঃকে কদু অনুসন্ধান করিতে দেখলাম। সেই দিন হইতে আমি সর্বদা কদুকে পছন্দ করি।

[বুখারি ৫৩৭৯, মুসলিম ২০৪১]বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

পরিচ্ছেদ ২২ -বিবাহ সম্পর্কিত বিষয়

১১৩৪ যায়দ ইবনি আসলাম [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ সাঃআঃ বলেছেন : তোমাদের কেউ কোন স্ত্রীলোককে বিবাহ করলে অথবা দাসী ক্রয় করলে তবে উহার ললাট [কপালের উপরের চুল] ধরে বরকতের দুআ করিবে। আর উট ক্রয় করলে তবে উহার কোহান [উটের পিঠের কুঁজ]-এর উপরিভাগ ধরে অভিশপ্ত শয়তান হইতে আল্লাহর আশ্রয় চাইবে

। [হাসান, আবু দাঊদ ২১৬০, ইবনি মাজাহ ১৯১৮, আলবানী হাদীসটি হাসান বলেছেন {সহীহ আল জামে ৩৬০} তবে ঈমাম মালিক কর্তৃক বর্ণিত হাদীসটি মুরসাল]বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

১১৩৫ আবুয-যুবায়র মক্কী [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি অন্য এক লোকের নিকট ভগ্নীর বিবাহের পয়গাম দিয়েছে। সেই ব্যক্তির নিকট কেউ উল্লেখ করিল যে, উক্ত স্ত্রীলোক ব্যভিচার করেছে। উমার ইবনি খাত্তাব [রাদি.]-এর নিকট এই সংবাদ পৌঁছালে তিনি সেই লোককে মারলেন অথবা মারতে উদ্যত হলেন। অতঃপর বলিলেন : তোমার এই খবর বলার কি প্রয়োজন ছিল? [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৩৬ রবীআ ইবনি আবু আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ এবং উরওয়াহ ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁরা উভয়ে বলিতেন : যে ব্যক্তির চারজন স্ত্রী রয়েছে এবং সে উহাদের একজনকে তালাক আল-বাত্তা [তিন তালাক] প্রদান করেছে। এমতাবস্থায় সে ব্যক্তি ইচ্ছা করলে বিবাহ করিতে পারবে। [তালাকপ্রাপ্তা] স্ত্রীর ইদ্দত শেষ হওয়ার অপেক্ষা করিবে না। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৩৭ রবীআ ইবনি আবদুর রহমান [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

কাসিম ইবনি মুহাম্মাদ এবং উরওয়াহ ইবনি যুবায়র [রাহিমাহুল্লাহ] তাঁরা উভয়ে ওয়ালীদ ইবনি আবদুল মালিকের নিকট যে বৎসর তিনি মদীনাতে আগমন করেছিলেন সেই বৎসর অনুরূপ ফতওয়া দিয়েছেন। তবে কাসেম ইবনি মুহাম্মাদ এই প্রসঙ্গে স্ত্রীকে [একত্রে না দিয়ে] বিভিন্ন মজলিসে তিন তালাক দেওয়ার কথা তাঁর নিকট উল্লেখ করিয়াছেন।

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ নির্ণীত নয়

১১৩৮ সাঈদ ইবনি মুসায়্যাব [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিন [প্রকার] বস্তুতে বিদ্রূপ নাই । [১] নিকাহ, [২] তালাক, [৩] মুক্তি প্রদন।

[সহীহ মারফু, হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন, ঈমাম আবু দাঊদ মারফু সনদে বর্ণনা করেন ২১৯৪, তিরমিজি ১১৮৪, ইবনি মাজাহ ২০৩৯, আলবানী হাদীসটি সহীহ বলেছেন {সহীহ আল-জামে ৩০২৭}]বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৩৯ রাফি ইবনি খাদীজ [রাহিমাহুল্লাহ] হইতে বর্ণিতঃ

তিনি মুহাম্মাদ ইবনি মাসলামা আনসারীর কন্যাকে বিবাহ করেন। সে তাঁর স্ত্রীরূপে থাকতেই বৃদ্ধা হয়। রাফি সেই বৃদ্ধা স্ত্রীর বর্তমানে আর একজন যুবতীকে বিবাহ করেন এবং পূর্ব স্ত্রী অপেক্ষা যুবতী স্ত্রীর দিকে অধিক ঝুকে পড়েন। বয়োপ্রাপ্তা স্ত্রী তাঁর নিকট তালাক কামনা করেন আল্লাহর কসম দিয়ে। তিনি স্ত্রীকে এক তালাক দিলেন। অতঃপর তাকে অবকাশ দিয়ে রাখলেন। যখন ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার সময় সন্নিকট হল তার দিকে প্রত্যাবর্তন করলেন। কিন্তু তিনি পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে আকৃষ্ট হয়ে পড়লেন। ফলে প্রথম স্ত্রী কসম দিয়ে তালাক কামনা করেন। আবার তাকে এক তালাক দিলেন। ইদ্দত যাওয়ার পূর্বে আবার প্রত্যাবর্তন করলেন [অর্থাৎ পুনরায় স্ত্রীর ন্যায় গ্রহণ করলেন]। অতঃপর পুনরায় যুবতী স্ত্রীর দিকে বেশি ঝুকে পড়েন। ফলে প্রথমা স্ত্রী আল্লাহর কসম দিয়ে আবার তালাক কামনা করে। তখন তিনি বলিলেন : চিন্তা করে দেখ, এখন মাত্র আর এক তালাক অবশিষ্ট আছে। যুবতী স্ত্রীর দিকে মনোযোগ বেশি থাকিবে তা তুমি লক্ষ্য করেছো। এই অবস্থার উপর ইচ্ছা করলে থাকতে পার। আর ইচ্ছা হলে বিবাহ বিচ্ছেদও করিতে পার। স্ত্রী উত্তর দিল : আমাকে এভাবেই থাকতে দাও; ফলে তাকে এইরূপে রাখা হয়। রাফি উহাতে কোন ক্ষতি মনে করিতেন না। যখন সে [স্ত্রী] স্বেচ্ছায় এই অবস্থায় থাকতে রাজী হয়। [হাদীসটি ঈমাম মালিক এককভাবে বর্ণনা করিয়াছেন]

বিবাহ সম্পর্কিত হাদিস -এই হাদীসটির তাহকিকঃ অন্যান্য

By মুয়াত্তা মালিক

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply