দৈহিক ও আর্থিক দিক থেকে সামর্থ্য ব্যক্তির বিবাহ করা মুস্তাহাব

দৈহিক ও আর্থিক দিক থেকে সামর্থ্য ব্যক্তির বিবাহ করা মুস্তাহাব

দৈহিক ও আর্থিক দিক থেকে সামর্থ্য ব্যক্তির বিবাহ করা মুস্তাহাব >> সহীহ মুসলিম শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন >> নিম্নে মুসলিম শরীফ এর একটি অধ্যায়ের হাদিস পড়ুন

১. অধ্যায়ঃ দৈহিক ও আর্থিক দিক থেকে সামর্থ্য ব্যক্তির বিবাহ করা মুস্তাহাব, আর্থিক অস্বচ্ছল ব্যক্তি সওম পালন করিবে

৩২৮৯

আলক্বামাহ্‌ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাদি.]-এর সঙ্গে মিনায় পৌঁছলাম। এ সময় উসমান [ইবনি আফ্‌ফান] [রাদি.] এসে তাহাঁর সাথে মিলিত হলেন। তখন তিনি তাহাঁর সঙ্গে দাঁড়িয়ে কথা বলিতে লাগলেন। উসমান [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, হে আবু আবদুর রহমান! আমরা কি আপনার সঙ্গে এমন একটি যুবতী মেয়ের বিয়ে দিব না, যে হয়ত আপনার অতীত কিছু স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিবে? রাবী বলেন, আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাদি.] বলিলেন, আপনি যদি এ কথা বলেন তবে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলেছেনঃ “হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে দাম্পত্য জীবনের ব্যয়ভার বহন করিতে সক্ষম সে যেন বিবাহ করে। কারণ তা [বিবাহ] দৃষ্টিকে নিচু করে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত করে। আর যে সক্ষম নয় তার সিয়াম পালন করা উচিত। কারণ তা তার জন্য যৌন কামনা দমনকারী।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৬৪, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬১]

৩২৯০

আলক্বামাহ্ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

আমি আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.]-এর সাথে মিনায় হাঁটছিলাম। এ সময় উসমান ইবনি আফ্‌ফান [রাদি.] তাহাঁর সাথে সাক্ষাৎ করিলেন। রাবী বলেন, তিনি বললেনঃ হে আবু আবদুর রহমান! এখানে আসুন। রাবী বলেন, তিনি তাকে একান্তে ডেকে নিলেন এবং আবদুল্লাহ [রাদি.] যখন দেখলেন গোপনীয়তার কোন প্রয়োজন নেই তখন তিনি আমাকে বলিলেন, হে আলক্বামাহ্‌! আসো, তখন আমি তাদের সাথে যোগ দিলাম। উসমান [রাদি.] তাঁকে বলিলেন, হে আবু আবদুর রহমান! আমরা কি তোমাকে একটি কুমারী মেয়ের সাথে বিবাহ দিব না, হয়ত সে তোমার অতীত স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিবে? আবদুল্লাহ [রাদি.] বলিলেন, আপনি যদি তাই বলেন,…অবশিষ্ট বর্ণনা আবু মুআবিয়ার হাদীসের অনুরূপ। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৬৫, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬২]

৩২৯১

আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাদের বলেছেনঃ হে যুব সমাজ! তোমাদের মধ্যে যে বৈবাহিক জীবনের ব্যয়ভার বহনে সক্ষম সে যেন বিয়ে করে। কারণ তা দৃষ্টিকে নিচু করে দেয় এবং লজ্জাস্থানকে সংরক্ষণ করে। আর যে [ভরণপোষনে] সমর্থ নয়, তাকে অবশ্যই সওম পালন করিতে হইবে। কারণ তা তার যৌবন কামনা দমনকারী। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৬৬, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬৩]

৩২৯২

আবদুর রহমান ইবনি ইয়াযীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার চাচা আলক্বামাহ্‌ ও আল আসওয়াদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] আবদুল্লাহ ইবনি মাসঊদ [রাদি.] এর নিকট গেলাম। এ সময় আমি যুবক ছিলাম। তিনি একটি হাদীস উল্লেখ করিলেন। আমি বুঝতে পারলাম যে, তিনি আমাকে লক্ষ্য করেই হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ উপরোক্ত হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরো আছে, “অতঃপর আমি বিয়ে করিতে আর বিলম্ব করিনি।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৬৭, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬৫]

৩২৯৩

আবদুর রহমান ইবনি ইয়াযীদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা আবদুল্লাহ [ইবনি মাসঊদ] [রাদি.]-এর নিকট গেলাম এবং আমি ছিলাম দলের মধ্যে সব চাইতে তরুন। ….. উপরের হাদীসের অনুরূপ। তবে এ সূত্রে “অতঃপর আমি বিয়ে করিতে আর বিলম্ব করিনি” কথাটুকু উল্লেখ নেই। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৬৮, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬৬]

৩২৯৪

আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নবী [সাঃআঃ]-এর কতিপয় সহাবী নবী [সাঃআঃ]-এর সহধর্মিণীদের নিকট তাহাঁর গোপন ইবাদাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিলেন। তাঁদের মধ্যে কেউ বলিলেন, আমি কখনও বিয়ে করব না, কেউ বলিলেন, আমি কখনও গোশ্‌ত খাব না, কেউ বলিলেন, আমি কখনও বিছানায় ঘুমাব না। রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] আল্লাহর প্রশংসা ও গুনাগান করিলেন এবং বললেনঃ “লোকদের কী হল যে, তারা এরূপ এরূপ বলছে? অথচ আমি তো নামাজও আদায় করি আবার নিদ্রাও যাই, সওম পালন করি এবং ইফ্‌ত্বারও করি এবং বিয়েও করেছি। অতএব যে ব্যক্তি আমার সুন্নত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, সে আমার কেউ নয়।” [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৬৯, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬৭]

৩২৯৫

সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলু্ল্লাহ [সাঃআঃ] উসমান ইবনি মাযঊন [রাদি.]-এর নারী সাহচর্য থেকে দূরে থাকার ইচ্ছাকে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি যদি তাকে অনুমতি দিতেন, তবে আমরা নিজেদের খোজা হয়ে যেতাম।{৪৫} [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭০, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬৮]

{৪৫} এ হাদীসে এ ইঙ্গিত করেছে যে, লোকেরা নিজস্বে মতানুসারে খাসি হওয়াকে বৈধ জানতেন, অতঃপর রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] যখন অনুমতি না দিলেন তখন এর হারাম হওয়া প্রমাণিত হল। অতঃপর তারা নিজস্ব মত পরিত্যাগ করিলেন। ক্বিয়ামাত পর্যন্ত সৎকর্মশীল উম্মাতের নীতি ও তরীকা এটাই যে, যখন রসূলু্ল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীস পেয়ে যাবে তখন নিজেদের মত হোক বা কোন পীর, মুজতাহিদ বা ইমামের মত হোক না কেন তাকে সালাম জানিয়ে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর হাদীসের উপর আমাল করিবে। আর যে ব্যক্তি এ নীতিতে বিশ্বাসী নয় সে সালফে সালিহীনের নীতির উপর নেই।

৩২৯৬

সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি সাদ [ইবনি আবু ওয়াক্কাস] [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছি- উসমান ইবনি মাযঊন [রাদি.]-এর কৌমার্যব্রত অবলম্বনের প্রস্তাব [রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] কর্তৃক] প্রত্যাখ্যাত হয়। তাকে অনুমতি দেয়া হলে আমরা অবশ্যই নিজেদের খোজা করে নিতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭১, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৬৯]

৩২৯৭

সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যাব [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন, উসমান ইবনি মাযঊন [রাদি.] কৌমার্যব্রত অবলম্বনের প্রস্তাব করলে রসূলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাঁকে [তা করিতে] নিষেধ করে দেন। তিনি যদি তাঁকে অনুমতি দিতেন তবে অবশ্যই আমরা নিজেদের খোজা করে নিতাম। [ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৩২৭২, ইসলামিক সেন্টার- ৩২৭০]

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply