বিবাহের হাদিস ও মহিলাদের মোহরানার বর্ণনা

বিবাহের হাদিস ও মহিলাদের মোহরানার বর্ণনা

বিবাহের হাদিস ও মহিলাদের মোহরানার বর্ণনা , এই অধ্যায়ে মোট ৬৬টি হাদীস (১০৮০-১১৪৫) >> সুনান তিরমিজি শরীফ এর মুল সুচিপত্র দেখুন

অধ্যায়-৯ঃ বিবাহ, অনুচ্ছেদঃ (১-৪৪)=৪৪টি

১. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের ফযিলত এবং এজন্য উৎসাহ দেয়া
২. অনুচ্ছেদঃ বিয়ে না করা বা চিরকুমার থাকা নিষিদ্ধ
৩. অনুচ্ছেদঃ তোমরা যে ব্যক্তির ধর্মপরায়ণতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট সে ব্যক্তির সাথে বিয়ে দাও
৪. অনুচ্ছেদঃ মেয়েদেরকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখে বিয়ে করা হয়
৫. অনুচ্ছেদঃ প্রস্তাবিত পাত্রীকে দেখা
৬. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের ঘোষণা করা
৭. অনুচ্ছেদঃ নব দম্পতিদের জন্য দুআ
৮. অনুচ্ছেদঃ সহবাসের সময়ে পঠিত দুআ
৯. অনুচ্ছেদঃ বিয়ে করার উত্তম সময়
১০. অনুচ্ছেদঃ ওয়ালীমার [বৌ-ভাতের] অনুষ্ঠান
১১. অনুচ্ছেদঃ দাওয়াত কবুল করা
১২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বিবাহভোজেদাওয়াত ছাড়াই হাযির হয়
১৩. অনুচ্ছেদঃ কুমারী মেয়েকে বিয়ে করা
১৪. অনুচ্ছেদঃ অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে সম্পন্ন হয় না
অনুচ্ছেদঃ ১৫ সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে হইতে পারে না
১৬. অনুচ্ছেদঃ –
১৭. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের খুতবা প্রসঙ্গে
১৮. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কুমারী [বিক্র] ও অকুমারী [সায়্যিব] অনুমতি নেয়া
১৯. অনুচ্ছেদঃ জোরপূর্বক ইয়াতীম মেয়েকে বিয়ে দেওয়া
২০. অনুচ্ছেদঃ দুই অভিভাবক [পৃথকভাবে] বিয়ে দিলে
২১. অনুচ্ছেদঃ মনিবের বিনা অনুমতিতে গোলামের বিয়ে
২২. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের মোহরের বর্ণনা
২৩. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের মোহরানার বর্ণনা
২৪. অনুচ্ছেদঃ নিজের দাসীকে আযাদ করে বিয়ে করা
২৫. অনুচ্ছেদঃ দাসীকে আযাদ করে তাকে বিয়ে করার ফযিলত
২৬. অনুচ্ছেদঃ সহবাসের পূর্বে তালাক দেয়া স্ত্রীর কন্যাকে বিয়ে করা যায় কি-না?
২৭. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর সে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করলে এবং সহবাসের পূর্বে সেও তালাক দিলে
২৮. অনুচ্ছেদঃ যে লোক হিলা করে এবং যে লোক হিলা করায়
২৯. অনুচ্ছেদঃ মুত্আ বিয়ে হারাম
৩০. অনুচ্ছেদঃ শিগার বিয়ে নিষিদ্ধ
৩১. অনুচ্ছেদঃ কোন মহিলাকে তার ফুফু অথবা খালার সতীন হিসেবে বিয়ে করা বৈধ নয়
৩২. অনুচ্ছেদঃ বিয়ে আকদ [বিধিবদ্ধ] হওয়ার সময় শর্তারোপ
৩৩. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার দশজন স্ত্রী থাকাবস্থায় মুসলমান হলে
৩৪. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার অধীনে দুই বোন স্ত্রী থাকাবস্থায় মুসলমান হলে
৩৫. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক গর্ভবতী দাসীকে ক্রয় করলে
৩৬. অনুচ্ছেদঃ যুদ্ধবন্দিনীর স্বামী থাকলে তার সাথে সহবাস করা বৈধ কি-না?
৩৭. অনুচ্ছেদঃ ব্যভিচারিনীর উপার্জন হারাম
৩৮. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব যেন না দেয়
৩৯. অনুচ্ছেদঃ আযল প্রসঙ্গে
৪০. অনুচ্ছেদঃ আযল করা মাকরূহ
৪১. অনুচ্ছেদঃ বাকিরা ও সাইয়্যিবা স্ত্রীর মধ্যে পালা বন্টন
৪২. অনুচ্ছেদঃ স্ত্রীদের মধ্যে আচরণে সমতা রক্ষা করা
৪৩. অনুচ্ছেদঃ মুশ্রিক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন একজন ইসলাম গ্রহণ করলে
৪৪. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের পরবর্তীতে সহবাস ও মোহর নির্ধারণের আগে স্বামী মৃত্যুবরণ করলে

১. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের ফযিলত এবং এজন্য উৎসাহ দেয়া

১০৮০. আবু আয়্যূব আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ চারটি জিনিস নাবীদের চিরাচরিত সুন্নাত। লজ্জা-শরম, সুগন্ধি ব্যবহার, মিসওয়াক করা এবং বিয়ে করা।

যঈফ, মিশকাত [৩৮২], ইরওয়া [৭৫] আর রাদ্দুআলা আল-কাত্তানী পৃঃ ১২। এ অনুচ্ছেদে উসমান, সাওবান, ইবনি মাসউদ, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, আবু নাজীহ, জাবির ও আক্কাফ [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আবু আয়্যূব [রাদি.]-এর হাদীসটি হাসান গারীব। মাহ্মূদ ইবনি খিদাশ-আব্বাদ ইবনিল আওয়াম হইতে তিনি আল-হাজ্জাজ হইতে তিনি মাকহূল হইতে তিনি আবুশ শিমাল হইতে তিনি আবু আয়্যূব [রাদি.], এর সূত্রেও উপরের হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন। উপরোক্ত হাদীস হুশাইম, মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াযীদ, আবু মুআবিয়া ও অন্যরা হাজ্জাজ হইতে তিনি মাকহূল হইতে তিনি আবু আয়্যূব [রাদি.], বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু এই সনদে আবুশ শিমালের উল্লেখ নেই। হাফ্স ইবনি গিয়াস ও আব্বাদ ইবনিল আওয়ামের হাদীসটি অনেক বেশী সহীহ। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১০৮১. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কোন এক সময় রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাথে আমরা বের হলাম। আমরা ছিলাম যুবক। [বিয়ের খরচ বহনের] আমাদের আর্থিক সামর্থ্য ছিল না। তিনি বললেনঃ হে যুব সমাজ। তোমাদের বিয়ে করা উচিত। কেননা, এটা দৃষ্টিকে সংযত রাখে এবং লজ্জাস্থানকে সুরক্ষিত রাখে। আর তোমাদের যে লোকের বিয়ের সামর্থ্য নেই সে লোক যেন রোযা আদায় করে। কেননা, তার যৌনশক্তিকে এটা নিয়ন্ত্রণে রাখবে।

– সহিহ , ইবনি মা-জাহ [১৮৪৫], বুখারী, মুসলিম । এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় আল-হাসান ইবনি আলী আল খাল্লাল আবদুল্লাহ ইবনি নুমাইর হইতে, তিনি আমাশ হইতে, তিনি উমারা এর সূত্রেও হাদীস বর্ণিত হয়েছে। আবু ঈসা বলেন, একাধিক বর্ণনাকারী আমাশ হইতে এই সনদে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। আবু মুআবিয়া ও আল মুহা-রিবী আমাশ হইতে, তিনি ইবরাহীম হইতে, তিনি আলকামা হইতে, তিনি আব্দুল্লাহ হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে অনুরূপ বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, উভয় সনদই সহীহ। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২. অনুচ্ছেদঃ বিয়ে না করা বা চিরকুমার থাকা নিষিদ্ধ

১০৮২. সামুরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

[বিয়ে না করে] চিরকুমার থাকতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন। যাইদ ইবনি আখযাম [রঃ]-এর বর্ণিত হাদীসে আরো আছেঃ এ আয়াতটি কাতাদাহ [রঃ] পাঠ করেনঃ

‏ولقدْ أَرْسَلْنا رُسُلاً مِنْ قَبْلِكَ وَجَعَلْنَا لَهُمْ أَزْوَاجًا وَذُرِّيَّةً

“আমরা আরো অনেক রাসূলকেই তোমার পূর্বে প্রেরণ করেছি এবং তাহাদেরকে স্ত্রী ও সন্তান দিয়েছি” [সূরা রাদ-৩৮]।

সহীহ, পূর্বের হাদীসের সহায়তায়। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৮৩. সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যিব [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

সাদ ইবনি আবু ওয়াক্কাস [রাদি.] বলেন, উসমান ইবনি মাযউন [রাদি.]-এর বিয়ে না করার [চিরকুমারের] প্রস্তাবকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] প্রত্যাখ্যান করিয়াছেন। তিনি তাকে অনুমতি দিলে আমরাও নিজেদেরকে চিরবন্ধা করে নিতাম।

সহীহ, বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। সাদ, আনাস ইবনি মালিক, আইশা ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আশআস ইবনি আব্দুল মালিক এই হাদীসটি হাসান হইতে তিনি সাদ ইবনি হিশাম হইতে, তিনি আইশা [রাদি.] হইতে, তিনি নাবী [সাঃ] হইতে পূর্বের হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসের দুটি সনদ সূত্রই সহীহ বলে কথিত। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩. অনুচ্ছেদঃ তোমরা যে ব্যক্তির ধর্মপরায়ণতা সম্পর্কে সন্তুষ্ট সে ব্যক্তির সাথে বিয়ে দাও

১০৮৪. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যে ব্যক্তির দীনদারী ও নৈতিক চরিত্রে সন্তুষ্ট আছ তোমাদের নিকট সে ব্যক্তি বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। তা যদি না কর তাহলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও চরম বিপর্যয় সৃষ্টি হইবে।

হাসান সহীহ, ইরওয়া [১৮৬৮], সহীহাহ [১০২২], মিশকাত [২৫৭৯] আবু হাতিম আল-মুযানী ও আইশ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেনঃ আবদুল হামীদের বিরোধিতা করা হয়েছে আবু হুরাইরা [রাদি.]-এর হাদীসের সনদে। এটাকে মুরসাল হিসেবে আবু হুরাইরা [রাদি.]-এর সূত্রে লাইস ইবনি সাদ ইবনি আজলান হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। লাইসের বর্ণনাটিকে ঈমাম বুখারীও বিশুদ্ধতার নিকটতর বলেছেন এবং আবদুল হামীদের বর্ণনাকে সংরক্ষিত বলে মনে করেন না। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

১০৮৫. আবু হাতিম আল-মুযানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা যে লোকের দীনদারী ও নৈতিক চরিত্র দ্বারা সন্তুষ্ট আছ, তোমাদের নিকট যদি সে বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তবে তার সাথে [তোমাদের পাত্রীর] বিয়ে দাও। তা না করলে পৃথিবীতে ফিতনা-ফ্যাসাদ ও বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়বে। সাহাবীগণ বলিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! কিছু [ক্রটি] তার মাঝে থাকলেও কি? তিনি বললেনঃ তোমাদের নিকটে যে লোকের দীনশীলতা ও নৈতিক চরিত্র পছন্দ হয় সে লোক তোমাদের নিকট বিয়ের প্রস্তাব করলে তবে তার সাথে বিয়ে দাও। [বর্ণনাকারী বলেন] একথা তিনি তিনবার বলিলেন।

হাসান, পূর্বের হাদীসের সহায়তায়। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহচর্য পেয়েছেন আবু হাতিম আল-মুযানী। তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এ হাদীসটি ব্যতীত আর কোন হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন কি-না তা আমাদের জানা নেই। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৪. অনুচ্ছেদঃ মেয়েদেরকে তিনটি বৈশিষ্ট্য দেখে বিয়ে করা হয়

১০৮৬. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ মহিলাদেরকে বিয়ে করা হয় তাহাদের দীনদারী, ধন-সম্পদ ও সৌন্দর্য দেখে। অবশ্যই তুমি দীনদার পাত্রীকে বেশি অগ্রাধিকার দিবে; কল্যাণে তোমার হাত পরিপূর্ণ হইবে।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৫৮], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। আওফ ইবনি মালিক, আইশা, আবদুল্লাহ ইবনি আমর ও আবু সাঈদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৫. অনুচ্ছেদঃ প্রস্তাবিত পাত্রীকে দেখা

১০৮৭. মুগীরা ইবনি শুবা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি এক মহিলার নিকট বিয়ের প্রস্তাব প্রেরণ করেন। নাবী [সাঃআঃ] বললেনঃ তাকে দেখে নাও, তোমাদের মধ্যে এটা ভালবাসার সৃষ্টি করিবে।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৬৫] মুহাম্মাদ ইবনি মাসলামা, জাবির, আবু হুমাইদ, আনাস ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী একদল আলিম আমল করিয়াছেন। তারা বলেছেন, বিয়ে করার পূর্বে নিষিদ্ধ অঙ্গের প্রতি না তাকিয়ে পাত্রী দেখাতে কোন সমস্যা নেই। এই মত ঈমাম আহমাদ ও ইসহাকেরও। তোমাদের উভয়ের মধ্যে ভালবাসার সৃষ্টি হইবে এ কথার অর্থ পাত্রীকে দেখে পছন্দ করার পর বিয়ে করলে দাম্পত্য জীবনের ভালোবাসা স্থায়ী হয়। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৬. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের ঘোষণা করা

১০৮৮. মুহাম্মাদ ইবনি হাতিব আল-জুমাহী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ দফ বাজানো ও ঘোষণা দেয়া হচ্ছে [বিয়েতে] হালাল ও হারামের পার্থক্য।

হাসান, ইবনি মা-জাহ [১৮৯৬] আইশা, জাবির ও রুবাই বিনতু মুআওব্বায [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। মুহাম্মাদ ইবনি হাতিব [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। আবু বালজের নাম ইয়াহ্ইয়া, পিতা আবু সুলাইম এবং তাকে ইবনি সুলাইমও বলা হয়। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে মুহাম্মাদ ইবনি হাতিব দেখিতে পেয়েছেন। সে সময় তিনি নাবালেগ ছিলেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১০৮৯. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমরা বিয়ের ঘোষণা দিবে, বিয়ের কাজ মসজিদে সম্পন্ন করিবে এবং এতে ঢোল পিটাবে।

বিয়ের ঘোষণা দিবে এই অংশটি ব্যতীত হাদীসটি যঈফ। ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৮৯৫] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ঈসা ইবনি মাইমূন হাদীস শাস্ত্রে দুর্বল। তবে যে ঈসা ইবনি মাইমূন তাফসীর সম্পর্কে ইবনি আবু নাজীহ হইতে বর্ণনা করিয়াছেন তিনি নির্ভরযোগ্য। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১০৯০. মুআওব্বিয কন্যা রুবাই [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমার বাসর রাতের সকালে আমার ঘরে এলেন। আমার কাছে তুমি [খালিদ ইবনি যাকওয়ান] যেভাবে বসে আছ, তিনি আমার বিছানায় ঠিক সেভাবে বসলেন। আমাদের বালিকারা এমন সময়ে দফ বাজিয়ে বদরের যুদ্ধের শহীদ হওয়া আমার বাপ-দাদার শোকগাঁথা গাইছিলো। তাহাদের কোন একজন গাইতে গাইতে বলিল, “আমাদের মাঝে একজন নাবী আছেন। আগামী কাল কি হইবে তা তিনি জানেন।” তিনি [রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]] তাকে বললেনঃ “এরূপ বলা হইতে বিরত থাক, বরং তাই বল এতক্ষণ যা বলিতেছিলে”।

সহীহ, আল আদাব [৯৪] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৭. অনুচ্ছেদঃ নব দম্পতিদের জন্য দুআ

১০৯১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যখন কোন লোক বিয়ে করত, তখন তার জন্য রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই দুআ পাঠ করিতেনঃ

بَارَكَ اللَّهُ لَكَ وَبَارَكَ عَلَيْكَ وَجَمَعَ بَيْنَكُمَا فِي خَيْرٍ

“বারাকাল্লাহু লাকা ওয়া বারাকা আলাইকা ওয়া জামাআ বাইনাকুমা ফিল খাইরি”। অর্থঃ আল্লাহ তাআলা তোমার জীবন বারকাতময় করুন আর তোমাদেরকে কল্যাণের মধ্যে একত্রিত করুন।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [২৯০৫] আকীল ইবনি আবু তালিব [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৮. অনুচ্ছেদঃ সহবাসের সময়ে পঠিত দুআ

১০৯২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের মধ্যে কোন লোক যখন তার স্ত্রীর সাথে সহবাস করে আর তখন [মিলনের পূর্বে] বলে,

بِسْمِ اللَّهِ اللَّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَجَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا

“বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শাইতানা ওয়া জান্নিবিশ শাইতানা মা রাযাকতানা”। তাহাদেরকে যদি আল্লাহ তাআলা তাহাদের এই সহবাসে সন্তান দেয়ার সিদ্ধান্ত করেন, তবে এ সন্তানের কোনরকম ক্ষতিই শাইতান করিতে পারে না ।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯১৯], বুখারী । এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহী্হ্ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৯. অনুচ্ছেদঃ বিয়ে করার উত্তম সময়

১০৯৩. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, শাওয়াল মাসে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বিয়ে করিয়াছেন এবং বাসর রাতও শাওয়াল মাসেই কাটিয়েছেন। শাওয়াল মাসে আইশা [রাদি.] তার পরিবারের মেয়েদের জন্য বাসর উদযাপনের ইচ্ছা করিতেন।

– সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৯০], মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এটিকে আমরা শুধুমাত্র ইসমাঈল ইবনি উমাইয়্যার সূত্রে যুহরীর বর্ণিত হাদীস হিসেবেই জানি । বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০. অনুচ্ছেদঃ ওয়ালীমার [বৌ-ভাতের] অনুষ্ঠান

১০৯৪. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আবদুর রাহমান ইবনি আওফ [রাদি.]-এর গায়ে [বা পোশাকে] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হলুদ রং-এর চিহ্ন দেখে প্রশ্ন করেন। কি ব্যাপার! তিনি বলিলেন, আমি এক মহিলাকে একটি খেজুর আঁটির অনুরূপ পরিমাণ সোনার বিনিময়ে বিয়ে করেছি। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তোমায় আল্লাহ তাআলা বারকাত দিন, ওয়ালীমার আয়োজন কর তা একটি ছাগল দিয়ে হলেও।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯০৭], বুখারী, মুসলিম। ইবনি মাসউদ, আইশা, জাবির ও যুহাইর ইবনি উসমান [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আহমাদ ইবনি হাম্বাল বলেন, প্রায় সাড়ে তিন দিরহাম ওজন হইবে একটি খেজুরের বীচির পরিমাণ সোনার ওজন। ইসহাক মনে করেন এর ওজন প্রায় সাড়ে পাঁচ দিরহামের সমান। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

সাফিয়্যা বিনতু হুয়াইকে নাবী [সাঃআঃ] বিয়ে করে ওয়ালীমা অনুষ্ঠান করেন ছাতু ও খেজুর দিয়ে।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯০৯], বুখারী, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯৬. মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহইয়া হইতে বর্ণীতঃ

মুহাম্মাদ ইবনি ইয়াহইয়া হুমাইদ হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন।

– সহীহ, দেখুন পূর্বের হাদীস। একাধিক বর্ণনাকারী হাদীসটি ইবনি উয়াইনা হইতে যুহরীর বরাতে আনাসের সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। তারা ওয়াইল তার পিতা হইতে এই কথাটি উল্লেখ করেননি। আবু ঈসা বলেন, সুফিয়ান ইবনি উয়াইনা এই হাদীসে তাদলীস করিয়াছেন অর্থাৎ নিজের সাক্ষাত বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ না করে তার উদ্ধতন বর্ণনাকারীর নাম উল্লেখ করিয়াছেন। তাই কোন কোন সময় ওয়াইল তার পিতা হইতে এর উল্লেখ করেননি আবার কোন কোন সময় তার উল্লেখ করিয়াছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১০৯৭. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ বিয়ের প্রথম দিনের ভোজের ব্যবস্থা করা আবশ্যকীয়, দ্বিতীয় দিনের ভোজের ব্যবস্থা করা সুন্নাত এবং তৃতীয় দিনের ভোজ হল নাম-ডাক ছড়ানোর উদ্দেশ্যে। যে ব্যক্তি নাম-ডাক ছড়াতে চায়, [কিয়ামাতের দিন] আল্লাহ তাআলা তাকে তদ্রূপ [অহংকারী ও মিথ্যুক হিসেবে] প্রকাশ করবেন।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৯১৫] আবু ঈসা বলেনঃ ইবনি মাসঊদের হাদীসটি আমরা শুধু যিয়াদ ইবনি আব্দুল্লাহ্‌র সূত্রেই মারফূ হিসেবে জেনেছি। কিন্তু যিয়াদ বেশিরভাগ সময়ই গারীব ও মুনকার [প্রত্যাখ্যাত] হাদীসগুলোই বর্ণনা করেন। ঈমাম বুখারী [রাহঃ] মুহাম্মাদ ইবনি উক্ববার সুত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, ওয়াকী বলেছেন, যিয়াদ সম্মানীত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও হাদীসে অনেক মিথ্যা বর্ণনা করে থাকেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১১. অনুচ্ছেদঃ দাওয়াত কবুল করা

১০৯৮. ইবনি উমার [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদের দাওয়াত দেওয়া হলে তোমরা তাতে অংশগ্রহণ কর।

— সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯১৪], বুখারী, মুসলিম। আলী, আবু হুরাইরা, বারাআ, আনাস ও আবু আইয়্যূব [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১২. অনুচ্ছেদঃ যে ব্যক্তি বিবাহভোজেদাওয়াত ছাড়াই হাযির হয়

১০৯৯. আবু মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আবু শুআইৰ নামক একজন লোক তার গোশত বিক্রেতা গোলামের নিকটে এসে বলিলেন, পাঁচজনের খাবার আমার জন্য বানিয়ে দাও। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর মুখমণ্ডলে আমি ক্ষুধার ছাপ দেখিতে পেয়েছি। সে খাবার বানানোর পর তিনি লোক পাঠিয়ে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এবং তাহাঁর সাথে বসে থাকা লোকদের দাওয়াত দেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] উঠে রাওয়ানা হলে এক লোক তাঁদের অনুসরণ করে, দাওয়াত দেওয়ার সময় সে লোকটি তাহাদের সাথে ছিল না। বাড়ীর দরজায় পৌছে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাড়ীর মালিককে বললেনঃ আরো এক লোক আমাদের পিছে পিছে এসেছে। তুমি আমাদের দাওয়াত দেওয়ার সময় সে আমাদের সাথে ছিল না। তুমি অনুমতি দিলে তবে সে তোমার বাড়ীতে আসবে। আবু শুআইব বলিলেন, তাকেও আমি অনুমতি দিলাম, সে যেন আসে।

সহীহ, বুখারী, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। ইবনি উমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৩. অনুচ্ছেদঃ কুমারী মেয়েকে বিয়ে করা

১১০০. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, এক মহিলাকে বিয়ে করে আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে গেলাম। তিনি বললেনঃ হে জাবির। তুমি কি বিয়ে করেছ? আমি বললাম, হ্যাঁ। তিনি বললেনঃ কুমারী মেয়ে না বিধবা মেয়ে? আমি বললাম, না, বরং বিধবা। তিনি বললেনঃ কুমারী মেয়েকে বিয়ে করলে না কেন? তাহলে তার সাথে তুমিও আনন্দ করিতে পারতে এবং তোমার সাথে সেও আমোদ-প্রমোদ করিতে পারত। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। মৃত্যুর সময় আবদুল্লাহ [আমার পিতা] সাতটি অথবা নয়টি মেয়ে রেখে গেছেন। এজন্য এমন মহিলাকে এনেছি যেন সে তাহাদের দেখাশোনা করিতে পারে। আমার জন্য তখন তিনি দুআ করিলেন।

সহীহ, ইরওয়া [১৭৮], বুখারী, মুসলিম। উবাই ইবনি কাব ও কাব ইবনি উজরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.]-এর হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৪. অনুচ্ছেদঃ অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে সম্পন্ন হয় না

১১০১. আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে সম্পন্ন হইতে পারে না।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৮১]। আইশা, ইবনি আব্বাস, আবু হুরাইরা ও ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০২. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ অভিভাবকের অনুমতি ব্যতীত কোন মহিলা বিয়ে করলে তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল, তার বিয়ে বাতিল। কিন্তু তার সাথে তার স্বামী সহবাস করলে তবে সে তার লজ্জাস্থান হালাল মনে করে সংগত হওয়ার কারণে তার নিকট মোহরের অধিকারী হইবে। যদি অভিভাবকগণ বিবাদ করে তাহলে যে ব্যক্তির কোন অভিভাবক নেই তার ওয়ালী হইবে দেশের শাসক।

সহীহ, ইরওয়া [১৮৪০] আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ইবনি জুরাইজ [রঃ] হইতে ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনি আইয়ুব ও সুফিয়ান সাওরসহ একদল হাফিজ মুহাদীস এরকমই বর্ণনা করিয়াছেন। আবু ঈসা বলেন, আবু মূসা [রাদি.]-এর সূত্রে বর্ণিত [১১০১ নং] হাদীসের সনদে মতের অমিল আছে। উপরোক্ত হাদীসটি ইসরাঈল, শারীক, আবু আওয়ানা, যুহাইর, কাইস ইবনির রাণী প্রমুখ আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু বুরদা হইতে, তিনি আবু মূসা [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। আসবাত ইবনি মুহাম্মাদ ও যাইদ ইবনি হুবাব-ইউনুস ইবনি আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু বুরদা হইতে, তিনি আবু মূসা [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। আবু উবাইদা আল-হাদাদ-ইউনুস ইবনি আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু বুরদা হইতে, তিনি আবু মূসা হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম হইতে একই রকম বর্ণনা করিয়াছেন। এ সনদের মধ্যে আবু ইসহাকের উল্লেখ নেই। এ সূত্রেও ইউনুস ইবনি আবু ইসহাক-আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু বুরদা হইতে, তিনি আবু মূসা হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এরকমই বর্ণিত আছে। শুবা ও সাওর-আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু বুরদা হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করেছেনঃ “অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে বিয়ে সম্পাদন হয় না”।

সুফিয়ানের কতক অনুসারী তার সূত্রে-আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু কুরদা হইতে, তিনি আবু মূসার সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন, কিন্তু তা সঠিক নয়। আমি মনে করি আবু ইসহাক আবু বুরদা হইতে, তিনি আবু মূসা [রাদি.]-এর সূত্রে যারা বর্ণনা করিয়াছেন যে, “অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে বিয়ে হয় না” তাহাদের বর্ণনাটি অনেক বেশি সহিহ। কারণ, তারা আবু ইসহাকের নিকট বিভিন্ন সময় এ হাদীস শুনেছেন। এ হাদীসটি আবু ইসহাকের নিকট হইতে যারা বর্ণনা করিয়াছেন তাহাদের তুলনায় শুবা ও সুফিয়ান সাওরী বেশি শরণশক্তির অধিকারী ও নির্ভরযোগ্য হলেও তাহাদের সবার বর্ণনাই আমার মতে বেশি সহিহ ও পরস্পর সংগতিপুর্ণ।

উক্ত হাদীস আবু ইসহাকের নিকট একই বৈঠকে শুবা ও সাওরী শুনেছেন এবং এ কথার প্রমাণ আছে মাহমূদ ইবনি গাইলানের বর্ণনায়। তিনি বলেন, আবু দাউদ বলেছেন যে, শুবা বলেছেন, আবু ইসহাকের নিকট আমি সুফিয়ান সাওরকে প্রশ্ন করিতে শুনেছিঃ আপনি কি আবু বুরদা [রাদি.]-কে বলিতে শুনেছেন যে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম ৰলেছেনঃ “অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে বিয়ে হয় না”?। তিনি উত্তরে বলিলেন, হ্যা। অতএব, উপরোক্ত বর্ণনা প্রমাণ করে যে, এই হাদীসটি একই সময়ে শুবা ও সাওরী শুনেছেন। ইসরাঈল আবু ইসহাকের নিকট হইতে রিওয়ায়াতের ক্ষেত্রে খুবই বিশ্বস্ত। মুহাম্মাদ ইবনিল মুসান্না বলেন, আবদুর রাহমান ইবনি মাহদীকে আমি বলিতে শুনেছিঃ ইসরাঈলের উপর যে সময় হইতে আমি নির্ভর করেছি আমি সে সময় হইতে বঞ্চিত হয়েছি সাওয়ারীর বরাতে বর্ণিত আবু ইসহাকের হাদীসমূহ হইতে। কেননা, তিনি পূর্ণভাবে আবু ইসহাকের রিওয়ায়াতগুলি বর্ণনা করিতেন। আমার মতে অত্র অনুচ্ছেদে আইশ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীস “অভিভাবক ব্যতীত বিয়ে ঠিক হয়না” হাদীসটি হাসান।

আলোচ্য হাদীসটি ইবনি জুরাইজ-সুলাইমান ইবনি মূসা হইতে, তিনি যুহরী হইতে, তিনি উরওয়া হইতে, তিনি আইশ [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। উপরোক্ত হাদীসটি হাজ্জাজ ইবনি আরতাত ও জাফর ইবনি রাবীআ-যুহরী হইতে, তিনি উরওয়া হইতে, তিনি আইশা [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় হিশাম ইবনি উরওয়া-উরওয়া হইতে, তিনি আইশা [রাদি.] হইতে, তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] হইতে এ সনদেও বর্ণিত আছে। এই শেষোক্ত সনদ প্রসঙ্গে কোন কোন হাদীস বিশারদ সামালোচনা করিয়াছেন। ইবনি জুরাইজ বলেন, এক সময় আমি এ হাদীস প্রসঙ্গে যুহরীর সাথে দেখা করে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি এটাকে অস্বীকার করেন। এ কারণেই উপরোক্ত সনদসূত্রটিকে মুহাদীসগণ দুর্বল বলেছেন। ইবনি মাঈন বলেন, উক্ত কথাটি ইবনি জুরাইজের বরাতে শুধুমাত্র ইসমাঈল ইবনি ইবরাহীমই উল্লেখ রাওয়াদের পাণ্ডুলিপির সাথে পাণ্ডুলিপিকে মিলিয়ে সংশোধন করে নেন। অন্যথায় ইসমাঈল ইবনি জুরাইজ হইতে তিনি কিছুই শুনেননি। ইবনি জুরাইজের বরাতে ইসমাঈলের বর্ণিত রিওয়ায়াতসমূহকে ইয়াহইয়া [রঃ] দুর্বল বলেছেন।

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিশেষজ্ঞ সাহাবীদের মধ্যে উমর ইবনিল খাত্তাব, আলী ইবনি আবু তালিব, আবদুল্লাহ ইবনি আব্বাস, আবু হুরাইরা [রাদি.] ও অন্যরা “অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে বিয়ে হইতে পারে না” এ হাদীস অনুযায়ী মত দিয়েছেন। একদল ফিকহবিদ তাৰিঙ্গ বলেছেন, অভিভাবকগণের বিনা অনুমতিতে কোন মহিলা বিয়ে করিতে পারে না [করলে তা বাতিল বলে গণ্য হইবে]। এদের মধ্যে আছেন সাঈদ ইবনিল মুসাইয়্যিৰ, হাসান বাসরী, শুরাইহ, ইবরাহীম নাখঈ, উমার ইবনি আবদুল আযীয ও অন্যরা। এই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওর, আওযাঈ, মালিক, আবদুল্লাহ ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাকও। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

অনুচ্ছেদঃ  ১৫ সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে হইতে পারে না

১১০৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেনঃ যেসব নারী সাক্ষী ছাড়া নিজেদেরকে বিয়ে দেয় তারা ব্যভিচারিনী, যেনাকারিনী।

যঈফ, ইরওয়া [১৮৬২] ইউসুফ ইবনি হাম্মাদ বলেন, আবদুল আলা এ হাদীসটি কিতাবুত তাফসীরে মারফূ [রাসূলের কথা] হিসেবে এবং কিতাবুত তালাকে মাওকূফ [ইবনি আব্বাসের কথা] হিসাবে বর্ণনা করিয়াছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১৬. অনুচ্ছেদঃ –

১১০৪. সাঈদ ইবনি আবী আরূবা হইতে বর্ণীতঃ

কুতাইবা-গুনদার মুহাম্মাদ ইবনি জাফর হইতে তিনি সাঈদ ইবনি আবী আরূবার সুত্রে উপরোক্ত হাদীসের মতই হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। এই সূত্রে এটা মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেন নাই।

আর এটাই অধিক সহীহ। দেখুন পূর্বের হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এটি একটি অরক্ষিত হাদীস। আবদুল আলা ব্যতিত অন্য কেউ এটাকে মারফূ হিসেবে বর্ণনা করেননি। আব্দুল আলা-এর সূত্রে সাঈদ হইতে এ হাদীসটি মাওকূফ হিসাবেও বর্ণিত হয়েছে। সঠিক কথা হল, হাদীসের উল্লেখিত কথাগুলো [সাক্ষী ব্যতীত বিয়ে হয় না] ইবনি আব্বাসের। একাধিক রাবী এটাকে সাঈদ ইবনি আবী আরূবা হইতেও মাওকূফ হিসেবে বর্ণনা করিয়াছেন। এ অনুচ্ছেদে ইমরান ইবনি হুসাইন, আনাস ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে।

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহাবী ও তাবিঈগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। তারা সবাই বলেছেন, সাক্ষীর হাযিরা ব্যতিত বিয়ে হয় না। পূর্বকালের আলিমদের কেউই এ ব্যাপারে মতপার্থক্য করেননি। মুতাআখরীন আলিমগণ এ বিষয়ে মতভেদ করিয়াছেন। তাহাদের মতদ্বৈততা হয়েছেঃ একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য দেয়ার পর অন্য একজন হাযির হয়ে সাক্ষ্য দিলে বিয়ে বৈধ হইবে কি না এ বিষয় নিয়ে। কূফার বেশীরভাগ আলিম ও অন্যান্যের মতে, একই সময়ে দুজন সাক্ষীর হাযিরা ছাড়া বিয়ের আক্‌দ অনুষ্ঠান জায়িয নয়। মাদীনার একদল আলিমের মতেঃ একজন সাক্ষী চলে যাবার পর আর একজন সাক্ষী হাযির হলে বিয়ে জায়িয হইবে, যদি তারা এর ঘোষণা দিয়ে থাকে। ঈমাম মালিকেরও এই মত। মাদীনাবাসীদের বর্ণনামতে ইসহাকেরও এই মত। ঈমাম আহ্‌মাদ ও ইসহাক বলেছেন, একজন পুরুষ ও দুইজন মহিলার সাক্ষ্যেও বিয়ের অনুষ্ঠান জায়িয। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৭. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের খুতবা প্রসঙ্গে

১১০৫. আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমাদেরকে নামাযের তাশাহহুদ এবং [বিয়ে ইত্যাদি] প্রয়োজনের তাশাহহদও রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ নামাযের তাশাহহুদ হচ্ছে,

التَّشَهُّدُ فِي الصَّلاَةِ التَّحِيَّاتُ لِلَّهِ وَالصَّلَوَاتُ وَالطَّيِّبَاتُ السَّلاَمُ عَلَيْكَ أَيُّهَا النَّبِيُّ وَرَحْمَةُ اللَّهِ وَبَرَكَاتُهُ السَّلاَمُ عَلَيْنَا وَعَلَى عِبَادِ اللَّهِ الصَّالِحِينَ أَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“সমস্ত সম্মান, ইবাদাত ও পবিত্রতা আল্লাহ তাআলার জন্য। হে নাৰী! আপনার উপর শান্তি বৰ্ধিত হোক এবং আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহ ও প্রাচুর্যও । আমাদের ও আল্লাহ তাআলার নেক বান্দাদের উপর শান্তি নেমে আসুক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি, আল্লাহ ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর বান্দা ও রাসূল”।

আর প্রয়োজনের [হাজাতের] তাশাহহুদ হলঃ

إِنَّ الْحَمْدَ لِلَّهِ نَسْتَعِينُهُ وَنَسْتَغْفِرُهُ وَنَعُوذُ بِاللَّهِ مِنْ شُرُورِ أَنْفُسِنَا وَسَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا فَمَنْ يَهْدِهِ اللَّهُ فَلاَ مُضِلَّ لَهُ وَمَنْ يُضْلِلْ فَلاَ هَادِيَ لَهُ وَأَشْهَدُ أَنْ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُهُ وَرَسُولُهُ

“সকল প্রশংসা শুধুমাত্র আল্লাহ তাআলার জন্য। তাহাঁর নিকটই আমরা সাহায্য চাই এবং তাহাঁর নিকটই ক্ষমা চাই। আমরা আল্লাহর নিকট আমাদের কু-প্রবৃত্তি ও আমাদের মন্দ কাজসমূহ হইতে আশ্রয় চাই। যে লোককে তিনি হিদায়াত দান করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করিতে পারে না, আর যাকে তিনি গুমরাহ করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ তাআলা ব্যতীত আর কোন মাবূদ নেই। আমি আরো সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর বান্দা ও তাহাঁর রাসূল”। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি আরো তিনটি আয়াত পাঠ করিতেন। বর্ণনাকারী আবসার বলেন, এ তিনটি আয়াত সুফিয়ান সাওরী উল্লেখ করেছেনঃ

‏اتَّقوا الله حقَّ تقاتهِ ولا تموتنَّ إلاَّ وأنتمْ مسلمونَ‏

১. “হে ঈমানদারগণ! বাস্তবিকই তোমরা আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর এবং তোমরা মৃত্যুর পূর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত মুসলিম [অনুগত] না হয়ে মৃত্যু বরণ করে না” [সূরাদি. আলে-ইমরান-১০২]।

‏اتّقوا الله الَّذي تساءلونَ بهِ والأرحامَ إنَّ اللهَ كانَ عليكُم رقيباً

২. “হে জনগণ ! ভয় কর তোমাদের প্রভুকে। তিনি একটি প্রাণ হইতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করিয়াছেন এবং তার জোড়াও তৈরী করিয়াছেন তা হইতেই। তিনি অসংখ্য পুরুষ ও স্ত্রীলোক তাহাদের উভয়ের মাধ্যমে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছেন। তোমরা ভয় কর আল্লাহ তাআলাকে, তোমরা যার দোহাই দিয়ে নিজ নিজ অধিকার দাবি কর একে অপরের নিকট এবং বিরত থাক আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্ট করা হইতে। আল্লাহ অবশ্যই তোমাদের কাজের পর্যবেক্ষণ করছেন” [সূরা নিসা-১]।

‏اتَّقوا الله وقولوا قولاً سديداً‏

৩. “হে ঈমানদারগণ! আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর এবং সত্য কথা ৰল। তোমাদের কাজ-কর্ম আল্লাহ সংশোধন করে দিবেন এবং তোমাদের গুনাহসমূহ মাফ করে দিবেন। যে লোক আল্লাহ ও তাহাঁর রাসূলের আনুগত্য করে, সে লোক বড় রকমের সাফল্য পেল” [সূরাদি. আহযাব- ৭০,৭১]।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৯২] আলী ইবনি হাতিম [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবদুল্লাহ [রাদি.]-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। আমাশ বর্ণনা করিয়াছেন আবু ইসহাক হইতে, তিনি আল আহওয়াস হইতে তিনি আব্দুল্লাহ হইতে, তিনি নাৰী [সাঃআঃ] হইতে। আর শুবা বর্ণনা করেছেনঃ আবু ইসহাক হইতে, তিনি আবু উবাইদাহ হইতে তিনি আব্দুল্লাহ হইতে তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে। উভয় সূত্রই সহিহ। সুফিয়ান সাওরী এবং অন্যান্য কিছু আলিম বলেছেন, খুতবা পাঠ ছাড়াও বিয়ে শুদ্ধ হইবে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যেসব খুতবায় [বক্তৃতায়] তাশাহহুদ পাঠ করা হয় না তা কাটা হাতের সমতুল্য।

সহীহ, আল আজবিতুন্ নাফিয়াহ [৪৮], তামামুল মিন্নাহ তাহকীক ছানী। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান গারীব বলেছেন।বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৮. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের ব্যাপারে কুমারী [বিক্র] ও অকুমারী [সায়্যিব] অনুমতি নেয়া

১১০৭. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ প্রাপ্তবয়স্কা [সায়্যিব] নারীকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। নীরবতাই তার অনুমতি।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৭১], বুখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফ। উমার, ইবনি আব্বাস, আইশা ও উরস ইবনি উমাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে, প্রাপ্তবয়স্কা [সায়্যিব] নারীকে তার সুস্পষ্ট অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয়া যাবে না। তার পিতা যদি তার প্রকাশ্য অনুমতি ব্যতীত তাকে বিয়ে দেয় এবং সে মেয়ে যদি এ বিয়ে পছন্দ না করে তাহলে সকল আলিমের মত অনুযায়ী তা বাতিল বলে গণ্য হইবে। পিতা কর্তৃক কুমারী মেয়েকে তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে করানোর বিষয়ে আলিমদের মধ্যে মত পার্থক্য আছে। যদি প্রাপ্তবয়স্কা কুমারী মেয়েকে তার পিতা তার অনুমতি ব্যতীত বিয়ে দেয় এবং এ বিয়ে যদি সে অপছন্দ করে, তবে কুফার বেশিরভাগ আলিমের মতে বিয়ে বাতিল বলে গণ্য হইবে। মদীনার একদল আলিমের মতে, যদি পিতা তাকে বিয়ে দেয় এবং তা যদি সে পছন্দ না করে তবুও এ বিয়ে জায়িয হইবে। এই মত দিয়েছেন ঈমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক । বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১০৮. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন, নিজের [বিয়ের] ব্যাপারে প্রাপ্তবয়স্কা নারী [আয়্যিম] তার অভিভাবক হইতে বেশি কর্তৃত্বশীল। কুমারীর [বিক্র, বিয়ের] ব্যাপারে তার মতামত নেয়া আবশ্যক। তার নীরবতাই তার সম্মতি।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৭০] মুসলিম। এ হাদীসটি হাসান সহীহ। এ হাদীসটি ঈমাম মালিকের সূত্রে শুবা ও সাওরী বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসকে দলীল হিসাবে গ্রহণ করে একদল লোক বলেছেন, অভিভাবকের অনুপস্থিতিতেও বিয়ে জায়িয। কিন্তু এ হাদীসে তাহাদের জন্য দলীল নেই। কেননা, একাধিকসূত্রে ইবনি আব্বাসের নিকট হইতে বর্ণিত আছে, রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম বলেছেনঃ “অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে বিয়ে হইতে পারে না।” ইবনি আব্বাস [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] মারা যাবার পর এ ফাতাওয়াই দিয়েছেন যে, অভিভাবকের অনুপস্থিতিতে বিয়ে হইতে পারে না। “বয়স্কা [আয়্যিম] নারী তার বিয়ের পারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশি কর্তৃত্বশীল”, বেশিরভাগ আলিমের মতে এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ বয়স্কা মহিলার অভিভাবক তার মতামত এবং সম্মতি না নিয়ে তাকে বিয়ে দিতে পারে না, যদি দেয় তাহলে তা বাতিল বলে গণ্য হইবে, খিযামের কন্যা খানাসার হাদীসের ভিত্তিতে। তিনি বয়স্কা ছিলেন। তার বাবা তাকে বিয়ে দিলে তিনি তা অপছন্দ করেন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার এ বিয়ে বাতিল করে দেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১৯. অনুচ্ছেদঃ জোরপূর্বক ইয়াতীম মেয়েকে বিয়ে দেওয়া

১১০৯. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইয়াতীম কুমারীর [বিয়ের] ব্যাপারে তার নিজের মত নিতে হইবে। সে চুপ থাকলে তবে এটাই তার সম্মতিগণ্য হয়ে যাবে। সে  অস্বীকার করলে তবে তার উপর জোর খাটানো যাবে না।

হাসান সহীহ, ইরওয়া [১৮৩৪], সহীহ আবু দাউদ [১৮২৫] আবু মূসা, আইশা ও ইবনি উমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। আলিমদের মধ্যে ইয়াতীম মেয়ের বিয়ের ব্যাপারে মতবিরোধ আছে। একদল আলিমের মতানুযায়ী ইয়াতীম মেয়েকে বিয়ে দিলে সে বালেগ না হওয়া পর্যন্ত তা স্থগিত থাকিবে। বলেগ হওয়ার পর সে চাইলে এ বিয়ে বহাল রাখতে পারে অথবা নাকচও করে দিতে পারে। এই মত দিয়েছেন একদল তাবিদ ও অপরাপর আলিম। আর একদল আলিম বলেছেন, বালেগ না হওয়া পর্যন্ত ইয়াতীম মেয়ের বিয়ে দেয়া যাবে না। কেননা, বিয়ের ক্ষেত্রে ইখতিয়ার জায়িয নেই। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, শাফিদ ও অপরাপর আলিম। আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, নয় বছরে পদার্পণ করার পর ইয়াতীম বালিকাকে বিয়ে দেয়া হলে এবং সে এতে রাজী থাকলে তা জায়িষ হইবে। বিয়ে বহাল রাখা বা ভেঙ্গে দেয়ার ক্ষেত্রে বালেগ হওয়ার পর তার কোন কর্তৃত্ব থাকিবে না। আইশা [রাদি.]-এর বিষয়কে তারা দলীল হিসাবে নিয়েছেন। আইশা [রাদি.]-কে নিয়ে তাহাঁর নয় বছর বয়সে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বাসর যাপন করিয়াছেন। আইশ [রাদি.] বলেছেন, কোন বালিকা নয় বছরে পদার্পণ করলে সে মহিলা বলে গণ্য হইবে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান সহীহ

২০. অনুচ্ছেদঃ দুই অভিভাবক [পৃথকভাবে] বিয়ে দিলে

১১১০. সামুরা ইবনি জুনদুব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ [সম-পর্যায়ের] দুইজন অভিভাবক কোন মেয়েকে [ভিন্ন দুই ব্যক্তির নিকট] বিয়ে দিলে প্রথম জনের বিয়ে বহাল হইবে। কোন ব্যক্তি [একই মাল] দুজন খরিদ্দারের নিকট বিক্রয় করলে তা প্রথম খরিদ্দারই পাবে।

যঈফ, ইরওয়া [১৮৫৩] বেচা কেনার হাদীস। আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান। আলিমগণ এ হাদীস অনুযায়ী আমল করেন। বিষয়টি নিয়ে তাহাদের মধ্যে কোন মতদ্বৈততা আছে বলে আমাদের জানা নেই। এক অভিভাবক অপর অভিভাবকের আগে কনেকে বিয়ে দিলে প্রথম অভিভাবকের বিয়ে বহাল হইবে এবং দ্বিতীয় অভিভাবকের দেয়া বিয়ে বাতিল বলে বিবেচিত হইবে। আর যদি দুইজন অভিভাবক একই সময় [দুইজনের কাছে] বিয়ে দেয় তবে উভয়ের প্রদত্ত বিয়ে বাতিল বলে বিবেচিত হইবে। সুফিয়ান সাওরী, আহ্‌মাদ ও ইসহাক এই মত দিয়েছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২১. অনুচ্ছেদঃ মনিবের বিনা অনুমতিতে গোলামের বিয়ে

১১১১. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে কোন গোলাম তার মনিবের বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে সে ব্যভিচারী।

হাসান, ইবনি মা-জাহ [১৯৫৯] ইবনি উমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। ইবনি উমার [রাদি.] হইতে আব্দুল্লাহ ইবনি মুহাম্মাদ ইবনি আকীলের সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত আছে, কিন্তু তা সহিহ নয়। জাবিরের সূত্রটিই সহিহ। এ হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সাহাবী ও তাবিঈগণ আমল করিয়াছেন। তাহাদের মতে, কোন গোলাম মনিবের বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে তা জারিয হইবে না। এই মত দিয়েছেন আহমদ, ইসহাক ও অন্যরাও। এতে কোন মতভেদ নেই। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১১১২. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেনঃ কোন গোলাম তার মনিবের বিনা অনুমতিতে বিয়ে করলে সে যিনাকারী বলে গণ্য হইবে।

হাসান, দেখুন পূর্বের হাদীস। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহীহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

২২. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের মোহরের বর্ণনা

১১১৩. আবদুল্লাহ ইবনি আমির ইবনি রাবীআ [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

ফাযারা গোত্রের এক মহিলা একজোড়া জুতার বদলে বিয়ে করলে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তুমি একজোড়া জুতার বদলে তোমার জিন্দেগী ও সম্পদ সপে দিতে রাজী হয়ে গেলে? সে বলিল, হ্যাঁ। রাবী বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] এই বিয়ে অনুমোদন করিলেন।

যইফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৮৮৮]. এ অনুচ্ছেদে উমার, আবু হুরাইরা, সাহল ইবনি সাদ, আবু সাঈদ, আনাস, আইশা, জাবির ও আবু হাদরাদ আল-আসলামী [রাদি.] হইতেও হাদীস বর্ণিত আছে। আবু ঈসা বলেন, আমির ইবনি রাবীয়া [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটি হাসান সহীহ। মোহরের পরিমাণ নিয়ে আলিমদের মধ্যে মতের অমিল আছে। সুফিয়ান সাওরী, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক বলেছেন, যে পরিমাণ মোহরে উভয়ে রাজী হইবে ততটুকুই মোহর হইবে। মালিক ইবনি আনাস বলেছেন, সর্বনিম্ন পরিমাণ মোহর এক দীনারের এক-চতুর্থাংশের কম হইতে পারবে না। কূফাবাসী একদল আলিম বলেছেন, সর্বনিম্ন পরিমাণ মোহর দশ দিরহাম। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৩. অনুচ্ছেদঃ মহিলাদের মোহরানার বর্ণনা

১১১৪. সাহল ইবনি সাদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে একজন স্ত্রীলোক বলিল, আমি আপনার জন্য নিজেকে দান [হেবা] করলাম। [একথা বলে] সে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তারপর এক ব্যক্তি বলিল, হে আল্লাহর রাসূল। আপনার যদি তাকে প্রয়োজন না হয় তবে আমার সাথে তার বিয়ে দিন। তিনি বললেনঃ তার মোহর আদায়ের মত তোমার নিকট কিছু আছে কি? সে বলিল, আমার এ কাপড়টি ব্যতীত আমার নিকট আর কিছুই নেই। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ তাকে যদি তোমার কাপড়টি দাও তবে তোমাকে তো [ঘরে] বসে থাকতে হইবে এবং তোমার কাপড় বলিতে আর কিছু থাকিবে না। অন্য কিছু খুঁজে নিয়ে আস। [কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে] সে বলিল, কিছুই খুঁজে পাইনি। তিনি বললেনঃ একটি লোহার আংটি হলেও খুঁজে আন। বর্ণনাকারী বলেন, সে কিছুই খুঁজে পেল না। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কুরআনের কিছু জানা আছে কি তোমারঃ সে বলিল, হ্যাঁ, অমুক অমুক সূরা জানি। সে সূরাগুলোর নামও বলিল। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ কুরাআনের যেটুকু অংশ তোমার জানা আছে তার বিনিময়ে তোমার সাথে তার বিয়ে দিলাম।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৮৯], বুখারী, মুসলিম

১১১৪/২. আবুল আজফা [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, উমার ইবনিল খাত্তাব [রাদি.] বলেছেন, সাবধান! তোমরা নারীদের মোহরানা উচ্চহারে বাড়িয়ে দিও না। কেননা, তা দুনিয়াতে যদি সম্মানের বস্তু অথবা আল্লাহ্ তাআলার নিকট তাকওয়ার বস্তু হত তবে এ ব্যাপারে আল্লাহর নাবী [সাঃআঃ] তোমাদের চেয়ে বেশি উদ্যোগী হইতেন। কিন্তু বার উকিয়ার বেশি পরিমাণ মোহরে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কোন স্ত্রীকে বিয়ে করিয়াছেন অথবা তার কোন কন্যাকে বিয়ে দিয়েছেন বলে আমার জানা নেই।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৮৭] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবুল আজফার নাম হারিম। আলিমদের মতে চল্লিশ দিরহামের সমান এক উকিয়া এবং চার শত আশি দিরহামের সমান বার উকিয়া। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী ঈমাম শাফিঙ্গ মত প্রকাশ করিয়াছেন। তিনি বলেছেন, বিয়ের জন্য কোন লোকের নিকটে যদি মোহর আদায়ের মত কিছু না থাকে এবং যদি সে লোক কোন নারীকে কুরআনের কোন সূরার বিনিময়ে বিয়ে করে তবে তা জায়িয হইবে। তার কর্তব্য হইবে ঐ মহিলাকে সে সূরাটি শিখিয়ে দেয়া। কৃফাবাসী আলিমগণ এবং আহমাদ ও ইসহাক বলেছেন, বিয়ে জায়িয হইবে। ঠিকই, কিন্তু তাকে মোহরে মিসাল পরিশোধ করিতে হইবে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৪. অনুচ্ছেদঃ নিজের দাসীকে আযাদ করে বিয়ে করা

১১১৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] সাফিয়্যাকে বিয়ে করেন তাকে আযাদ করে এবং তার মোহর নির্ধারণ করেন এই দাসত্ব মুক্তিকে।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৫৭], বুখারী, মুসলিম.। সাফিয়্যা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিদ আমল করিয়াছেন। এই মত দিয়েছেন ঈমাম শাফি, আহ্মাদ ও ইসহাকও। আযাদ করে তা মোহর হিসেবে গণ্য করাকে একদল আলিম মাকরূহ্ বলেছেন। এক্ষেত্রে তারা মোহর নির্ধারণের পক্ষপাতী। কিন্তু প্রথম মতই অনেক বেশি সহিহ। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৫. অনুচ্ছেদঃ দাসীকে আযাদ করে তাকে বিয়ে করার ফযিলত

১১১৬. আবু বুরদা ইবনি আবু মূসা [রাদি.] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি [আবু মূসা] বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তিন প্রকার লোকের সাওয়াব দ্বিগুণ করা হইবে। যে গোলাম আল্লাহ ও তার মনিবের হাক্ব সঠিকভাবে আদায় করেছে। তার সাওয়াব দ্বিগুণ করা হইবে। যে লোকের সুন্দরী বাঁদীঁ ছিল, সে তাকে উত্তম আচরণ ও আদব-কায়দা শিখিয়েছে এবং তাকে পরবর্তীতে মুক্ত করে বিয়ে করেছে শুধুমাত্র আল্লাহ্ তাআলার সন্তুষ্টির জন্য। তার সাওয়াবও দ্বিগুণ করা হইবে। পূর্ববর্তী কিতাবের প্রতি যে লোক ঈমান এনেছে, তারপর পরবর্তী কিতাব [কুরআন] আসার পর তার উপরও ঈমান এনেছে, তাকেও দ্বিগুণ সাওয়াব প্রদান করা হইবে।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৫৬] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর উপরোক্ত হাদীসের মত হাদীস আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন ইবনি আবু উমার সুফিয়ান হইতে, তিনি সালিহ ইবনি সালিহ হইতে, তিনি শাবী হইতে, তিনি আবু বুরদাহ হইতে। আবু মূসা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবু বুরদার নাম আমির, পিতা আবদুল্লাহ, দাদা কাইস। শুবা ও সুফিয়ান সাওরী এই হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন সালিহ ইবনি সালিহ এর সূত্রে। সালিহ ইবনি সালিহ হলেন আল-হাসান ইবনি সালিহের পিতা। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৬. অনুচ্ছেদঃ সহবাসের পূর্বে তালাক দেয়া স্ত্রীর কন্যাকে বিয়ে করা যায় কি-না?

১১১৭. আমর ইবনি শুআইব [রাহঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদা হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] বলেছেনঃ যে কোন লোক কোন নারীকে বিয়ে করে তার সাথে সহবাস করলে তার সাথে ঐ নারীর মেয়ের বিয়ে বৈধ নয়। সে যদি তার সাথে সহবাস না করে থাকে তবে সে তার কন্যাকে বিয়ে করিতে পারে। যে কোন লোক কোন নারীকে বিয়ে করার পর তার সাথে সহবাস করুক বা না করুক, তার মায়ের সাথে তার বিয়ে বৈধ নয়।

যঈফ, ইরওয়া [১৮৭৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সনদের দিক হইতে সহীহ নয়। আমর ইবনি শুআইব [রাহঃ] হইতে ইবনি লাহিয়া ও মুসান্না ইবনিস সাব্বাহ এই হাদীসটি বর্ণনা করিয়াছেন। হাদীস শাস্ত্রে তারা উভয়ে যঈফ [দুর্বল]। বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ আলিম এ হাদীস অনুযায়ী আমল করিয়াছেন। তারা বলেছেন, কোন ব্যক্তি কোন নারীকে বিয়ে করার পর এবং সহবাস করার আগে তালাক দিলে তার কন্যাকে তার বিয়ে করা বৈধ। এ লোক তার কন্যাকে বিয়ে করার পর এবং সহবাস করার আগে তাকে তালাক দিলে তার মাকে নতুন করে বিয়ে করা তার জন্য বৈধ হইবে না। যেহেতু আল্লাহ তাআলা বলেছেনঃ “এবং তোমাদের স্ত্রীদের মায়েদেরকে” [বিয়ে করা তোমাদের জন্য বৈধ নয়]। ঈমাম শাফি, আহ্‌মাদ ও ইসহাকও এই মত দিয়েছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

২৭. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেওয়ার পর সে দ্বিতীয় স্বামী গ্রহণ করলে এবং সহবাসের পূর্বে সেও তালাক দিলে

১১১৮. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকটে রিফাআ আল-কুরাযীর স্ত্রী এসে বললো, আমি রিফাআর স্ত্রী ছিলাম। সে আমাকে বাত্তা তালাক অর্থাৎ তিন তালাক দেয়। তারপর আমি বিয়ে করি আবদুর রাহমান ইবনি যুবাইরকে কিন্তু তার সাথে কাপড়ের পাড়ের মত [অকেজো পুরুষাঙ্গ] ব্যতীত আর কিছুই নেই। তিনি প্রশ্ন করিলেন, তুমি কি রিফাআর নিকটে আবার ফিরে যেতে চাও? কিন্তু তা হইবে না, তুমি যতক্ষণ না তার মধু আস্বাদন করিবে এবং সে তোমার মধু আস্বাদন করিবে [তারপর তালাক দিবে]।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৩৪], নাসা-ঈ। ইবনি উমার, আনাস, রুমাইসা অথবা গুমাইসা ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম মত দিয়েছেন। কোন লোক তার স্ত্রীকে তিন তালাক দেয়ার পর সে অন্য স্বামী গ্রহণ করলে এবং তার সাথে সহবাসের পূর্বেই এই দ্বিতীয় স্বামী তাকে তালাক দিলে সে পূর্ব স্বামীর জন্য হালাল হইবে না, দ্বিতীয় স্বামীর সাথে যে পর্যন্ত না তার সহবাস হইবে।বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৮. অনুচ্ছেদঃ যে লোক হিলা করে এবং যে লোক হিলা করায়

১১১৯. আলী [রাদি.] ও জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তারা উভয়ে বলেছেন, যে লোক হিলা করে এবং যে লোকের জন্য হিলা করা হয় তাহাদের উভয়ের প্রতি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] অভিসম্পাত করিয়াছেন।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৫৩৫]

ইবনি মাসউদ, আবু হুরাইরা, উকবা ইবনি আমির ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা মালুল [সনদে সূক্ষ্ম ক্রটি আছে] বলেছেন। আর এভাবে বর্ণনা করিয়াছেন আশআস ইবনি আব্দুর রাহমান মুজালিদ হইতে, তিনি আমির হইতে, তিনি আল-হারিস হইতে, তিনি আলী ও আমির হইতে, তিনি আলী ও আমির হইতে, তারা জাবির ইবনি আব্দুল্লাহ হইতে, তিনি নাবী [সাঃআঃ] হইতে, এ হাদীসের সনদ প্রতিষ্ঠিত নয়। কেননা, মুজালিদ ইবনি সাঈদকে ঈমাম আহ্মাদ ও অন্যরা যঈফ বলেছেন। মুজালিদ-আমির হইতে, তিনি জাবির [রাদি.] হইতে, তিনি আলী [রাদি.]-এর সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনি নুমাইর এই হাদীসটিকে বর্ণনা করিয়াছেন। কিন্তু তাতে ইবনি নুমাইর বিভ্রান্তির শিকার হয়েছেন। প্রথম সূত্রটিই অনেক বেশি সহিহ। এ হাদীসটি মুগীরা, ইবনি আবু খালিদ ও অন্যরা শাবী হইতে, তিনি হারিস হইতে, তিনি আলী [রাদি.] হইতে বর্ণনা করিয়াছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১২০. আবদুল্লাহ ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, যে লোক হিলা করে এবং যে লোকের জন্য হিলা করা হয় উভয়কেই রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] অভিসম্পাত করিয়াছেন।

সহীহ দেখুন পূর্বের হাদীস। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আবু কাইস আল-আওদীর নাম আবদুর রহমান, পিতা সারওয়ান। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট হইতে একাধিক সূত্রে এ হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ সাহাবীদের মধ্যে উমার ইবনিল খাত্তাব, উসমান ইবনি আফফান, আবদুল্লাহ ইবনি আমর [রাদি.] প্রমুখ সাহাৰী মত দিয়েছেন। এই মত ফিক্হবিদ তাবিঈদেরও। একই কথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনি মুবারাক, শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাকও। ওয়াকীও একইরকম মত দিয়েছেন এবং বলেছেন, এই বিষয়ে আহলুর রায়ের মত ছুড়ে ফেলে দেয়া কৰ্তব্য। ওয়াকী বলেন, সুফিয়ান সাওরী বলেছেন, হিলার উদ্দেশ্যে কোন নারীকে কোন লোক বিয়ে করার পর তাকে নিজের বিবাহধীনে রাখতে চাইলে তা জায়িয নয়। নতুনভাবে এই মহিলার সাথে তার বিয়ে হইতে হইবে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

২৯. অনুচ্ছেদঃ মুত্আ বিয়ে হারাম

১১২১. আলী ইবনি আবু তালিব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

খাইবারের যুদ্ধের দিন নারীদের সাথে মুত্আ বিয়ে করিতে এবং গৃহপালিত গাধার গোশত খেতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষিদ্ধ ঘোষণা করিয়াছেন।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৬১], বুখারী, মুসলিম। সাবরা আল-জুহানী ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আলী [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও ভাবিঈগণ আমল করিয়াছেন। ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে মুত্আর অনুমতি আছে বলে বর্ণিত আছে। কিন্তু এটা করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষেধ করিয়াছেন বলে তাকে জানানো হলে তিনি তার মত প্রত্যাহার করেন। মুত্আ বিয়ে বেশিরভাগ আলিমের মতে হারাম। একথা বলেছেন সুফিয়ান সাওরী, ইবনিল মুবারাক, শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাকও। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১২২. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেছেন, ইসলামের প্রথম যুগে মুতআ বিয়ের চর্চা ছিল। কোন ব্যক্তি কাজের উদ্দেশে কোন অপরিচিত লোকালয়ে গিয়ে পৌছত। সেখানে সে যত দিন থাকিবে বলে মনে করত তত দিনের জন্য সে কোন নারীকে বিয়ে করত। সে তার মাল-পত্রের দেখাশুনা করত এবং তাকে রান্না করে দিত। অবশেষে যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হলঃ “যারা নিজেদের লজ্জাস্থানের হিফাযাত করে; নিজেদের স্ত্রীদের ব্যতীত এবং তাহাদের ডান হাত যাদের মালিক হয় সেসব মেয়েলোক ব্যতীত। এসব ক্ষেত্রে [লজ্জাস্থানের হিফাযাত না করা হলেও] তারা ভৎর্সনা এবং তিরস্কারের যোগ্য নয়। এদের ব্যতীত অন্য কিছু চাইলে তারা অবশ্যই সীমালংঘনকারী হইবে”— সূরা মুমিনূনঃ ৫, ৬, ৭ এবং সূরা মাআরিজঃ ২৯, ৩০, ৩১ । ইবনি আব্বাস [রাদি.] বলেনঃ তারপর এ দুটি ব্যতীত সব লজ্জাস্থানই হারাম হয়ে গেল।

মুনকার, ইরওয়া [১৯০৩],মিশকাত তাহক্বীক্ব ছানী [৩১৫৮] বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ মুনকার

৩০. অনুচ্ছেদঃ শিগার বিয়ে নিষিদ্ধ

১১২৩. ইমরান ইবনি হুসাইন [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ ইসলামে জালাব, জানাব বা শিগার কোনটারই স্থান নেই। যে লোক ছিনতাই বা লুণ্ঠন করিল সে লোক আমাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সহীহ, মিশকাত তাহকীক ছানী [২৯৪৭], সহীহ আবু দাউদ [২৩২৪] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। আনাস, আবু রাইহান, ইবনি উমার, জাবির, মুআবিয়া, আবু হুরাইরা ও ওয়াঈল ইবনি হুজর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১২৪. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] শিগার নিষিদ্ধ করিয়াছেন।

সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৮৩],বুখারী, মুসলিম। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বেশিরভাগ আলিম আমল করিয়াছেন। তারা শিগার [অদল-বদল] প্রথায় বিয়েকে জায়িয বলে মনে করেন না। শিগারের অর্থ এই যে, কোন ব্যক্তি কর্তৃক এই শর্তে তার মেয়েকে অন্য ব্যক্তির সাথে বিয়ে দেওয়া যে, বিনিময়ে দ্বিতীয় ব্যক্তি তার মেয়ে অথবা বোনকে প্রথমোক্ত ব্যক্তির সাথে বিয়ে দিবে এবং এদের মধ্যে কোন মোহরের আদান-প্রদান হইবে না। এ ধরণের বিয়েকে নিকাহে শিগার বলে। ঈমাম শাফি, আহ্মাদ ও ইসহাক বলেছেন, নিকাহে শিগার বাতিল, এটা জায়িয নয়, এমনকি মোহর নির্ধারণ করলেও। আতা ইবনি আবু রাবাহ বলেছেন, উভয়ই নিজ নিজ বিয়েকে ঠিক রাখবে এবং উভয়ের স্ত্রীর জন্য “মোহরে মিসাল” নির্দিষ্ট হইবে। কুফার আলিমদেরও এই মত। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩১. অনুচ্ছেদঃ কোন মহিলাকে তার ফুফু অথবা খালার সতীন হিসেবে বিয়ে করা বৈধ নয়

১১২৫. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন মহিলাকে তার ফুফু অথবা খালার সাথে [সতীনরূপে] বিয়ে করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহীহ, ইরওয়া [২৮৮২], যঈফ আবু দাউদ [৩৫২] বর্ণনাকারী আবু হারীযের নাম আব্দুল্লাহ ইবনি হুসাইন। নাস্র ইবনি আলী আব্দুল আলা হইতে, তিনি হিশাম ইবনি হাসসান হইতে, তিনি ইবনি সীরীন হইতে, তিনি আবু হুরাইরাহ হইতে, তিনি নাৰী [সাঃআঃ] হইতে উপরোক্ত হাদীসের মতই বর্ণনা করিয়াছেন। সহীহ ইবনি মা-জাহ [১৯২৯], নাসা-ঈ। আলী, ইবনি উমার, আবদুল্লাহ ইবনি আমর, আবু সাঈদ, আবু উমামা, জাবির, আইশা আবু মূসা ও সামুরা ইবনি জুনদাব [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১২৬. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

কোন মহিলাকে তার ফুফুর সাথে অথবা ফুফুকে তার ভাইয়ের মেয়ের সাথে অথবা কোন মহিলাকে তার খালার সাথে অথবা খালাকে তার বোনের মেয়ের সাথে এবং ছোট বোনের সাথে বড় বোনকে এবং বড় বোনের সাথে ছোট বোনকে একত্রে [সতীনরূপে] বিয়ে করিতে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বারণ করিয়াছেন।

সহীহ, ইরওয়া [৬/২৮৯], সহিহ আবু দাউদ [১৮০২] ইবনি আব্বাস ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসদ্বয়কে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী সকল বিশেষজ্ঞ আলিম আমল করার কথা বলেছেন। কোন মহিলাকে তার ফুফু অথবা খালার সাথে একত্রে [সতীনরূপে] বিয়ে করা যে বৈধ নয় তাহাদের মধ্যে এই ব্যাপারে কোন মত পার্থক্য নেই। কোন মহিলাকে যদি কোন ব্যক্তি তার খালা অথবা ফুফুর সাথে একত্রে বিয়ে করে তবে পরের বিয়েটি বাতিল হয়ে যাবে। সকল আলিমই এ কথা বলেছেন। আবু ঈসা বলেন, আবু হুরাইরা [রাদি.]-এর দেখা পেয়েছেন শাবি [রঃ] এবং তার নিকট হইতে হাদীসও বর্ণনা করিয়াছেন। আমি ঈমাম বুখারীকে এ ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি এর সত্যতা স্বীকার করেন। শাবী এক রাবীর মধ্যস্থতায়ও আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩২. অনুচ্ছেদঃ বিয়ে আকদ [বিধিবদ্ধ] হওয়ার সময় শর্তারোপ

১১২৭. উকবা ইবনি আমির আল-জুহানী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ তোমাদেরকে [বিয়ের চুক্তির] যে সকল শর্ত পালন করিতে হয় তার মধ্যে সেসব শর্তই সবচেয়ে বেশি পালনীয় যার দ্বারা কোন মহিলাকে তোমরা হালাল কর।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৫৪], বুখারী, মুসলিম। উপরের হাদীসের মত আবু মূসা মুহাম্মাদ ইবনিল মূসান্না-ইয়াহইয়া ইবনি সাঈদ হইতে, তিনি আবদুল হামীদ ইবনি জাফরের সনদসূত্রেও বর্ণনা করিয়াছেন। এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী আমল করিয়াছেন। তাহাদের মধ্যে উমর [রাদি.]-ও অন্তর্ভুক্ত আছেন। তিনি বলেছেন, যদি কোন মহিলাকে বিয়ে করার সময় কোন লোক এই শর্ত করে যে, তার শহর হইতে তাকে অন্য কোথাও সে নিয়ে যেতে পারবে না, তবে তার শহর হইতে তাকে অন্য কোথাও স্বামী নিয়ে যেতে পারবে না। কিছু সংখ্যক আলিমেরও এই অভিমত। একথা বলেছেন ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাক [রঃ]-ও। আলী [রাদি.] বলেছেন, আল্লাহ তাআলার শর্ত নারীর শর্ত হইতে বেশি অগ্রগণ্য। অর্থাৎ তিনি বলিতে চান, কোন স্ত্রীলোক তার স্বামীর উপর তাকে তার শহর হইতে অন্য কোথাও নিয়ে যেতে পারবে না এরকম শর্ত দিলেও স্বামী তা মেনে নিতে বাধ্য নয়। এই মত একদল আলিম গ্রহণ করিয়াছেন। এই মত সুফিয়ান সাওরী ও কোন কোন কূফাবাসী আলিমেরও। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৩. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার দশজন স্ত্রী থাকাবস্থায় মুসলমান হলে

১১২৮. ইবনি উমর [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

যে সময়ে গাইলান ইবনি সালামা আস-সাকাফী ইসলাম গ্রহণ করেন সে সময়ে তার দশজন স্ত্রী ছিল, যাদের তিনি বিয়ে করেছিলেন জাহিলী যুগের মধ্যে। তার সাথে সাথে তারাও মুসলমান হয়। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাকে এদের মধ্যে যে কোন চারজনকে বেছে নেয়ার নির্দেশ দেন।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৫৩]। আবু ঈসা বলেন, মামার-যুহ্রী হইতে, তিনি সলিমের পিতার সূত্রেও একইরকম বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি আরও বলেনঃ আমি ঈমাম বুখারীকে বলিতে শুনিয়াছি, এ হাদীসটি সুরক্ষিত নয়। যুহরী হইতে শুআইব ইবনি আবু হামযা ও অন্যান্যদের বর্ণিত রিওয়ায়াতটিই সহিহ। ঈমাম বুখারী বলেন, আমি এ হাদীসটি মুহাম্মাদ ইবনি সুওয়াইদ সাকাফী হইতে পেয়েছি। এতে আছে, গাইলান ইবনি সালামা ইসলাম গ্রহণ করিলেন, সে সময় তার দশজন স্ত্রী ছিল। এই বর্ণনাটিই সহিহ। ঈমাম বুখারী আরো বলেন, যুহরী সলিমের সূত্রে, তিনি তার পিতার সূত্রে যে হাদীস বর্ণনা করিয়াছেন তা হলঃ “সাকীফ গোত্রের কোন এক লোক তার স্ত্রীদের তালাক প্রদান করলো। উমার [রাদি.] তাকে বলিলেন, পুনরায় তোমার স্ত্রীদেরকে তুমি ফিরিয়ে আনবে। অন্যথায় [সামূদ জাতির এক অভিশপ্ত ব্যক্তি] যেভাবে আবু রিগালের কবরে পাথর মারা হয়েছিল, সেভাবে আমিও তোমার কবরে পাথর মরব।” আবু ঈসা বলেন, আমাদের সাধীদের মতে, গাইলান ইবনি সালামার হাদীস অনুসারে আমল করিতে হইবে। তাহাদের মধ্যে ঈমাম শাফি, আহমাদ ও ইসহাকও অন্তর্ভুক্ত। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৪. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার অধীনে দুই বোন স্ত্রী থাকাবস্থায় মুসলমান হলে

১১২৯. ইবনি ফাইরূয আদ-দাইলামী [রঃ] হইতে তার পিতা হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি এবং আমার অধীনে দুই বোন স্ত্রী হিসেবে আছে। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ দুজনের মধ্যে যাকে ভালো লাগে তাকে বেছে নাও।

– হাসান, ইবনি মা-জাহ [১৯৫১]। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

১১৩০. ফাইরূয দাইলামী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল। আমি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছি, আমার অধীনে দুই বোন একত্রে স্ত্রী হিসেবে আছে। তিনি বললেনঃ তাহাদের মধ্যে যাকে খুশি তুমি বেছে নাও।

– হাসান, দেখুন পূর্বের হাদীস । এই হাদীসটি হাসান। আবু ওয়াহ্ব আল-জাইশানীর নাম আদ-দাইলাম, পিতার নাম হাওশা। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৫. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক গর্ভবতী দাসীকে ক্রয় করলে

১১৩১. রুআইফি ইবনি সাবিত [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ আল্লাহ ও আখিরাতের উপর যে লোক ঈমান রাখে সে লোক যেন নিজের পানি [বীর্য] দিয়ে অন্যের সন্তানকে সিক্ত না করে।

হাসান, ইরওয়া [২১৩৭], সহিহ আবু দাউদ [১৮৭৪] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এটি বিভিন্ন সূত্রে রুআইফি [রাদি.] হইতে বর্ণিত আছে। এ হাদীস অনুযায়ী আলিমগণ আমল করার কথা বলেছেন। তাহাদের মতে কোন লোক কোন গর্ভবতী দাসী ক্রয় করলে সন্তান জনের পূর্বে সে লোক তার সাথে সহবাস করিতে পারবে না। আবুদ দারদা, ইবনি আব্বাস, ইরবায ইবনি সারিয়া ও আবু সাঈদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ হাসান হাদীস

৩৬. অনুচ্ছেদঃ যুদ্ধবন্দিনীর স্বামী থাকলে তার সাথে সহবাস করা বৈধ কি-না?

১১৩২. আবু সাঈদ আল-খুদরী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা কিছুসংখ্যক মহিলাকে আওতাস যুদ্ধের দিন বন্দী করলাম। তাহাদের মধ্যে অনেকেরই স্বামী ছিল তাহাদের নিজ সম্প্রদায়ে। লোকেরা রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-কে বিষয়টি জানালেন। তখন এ আয়াতটি নাযিল হলঃ কারো বিয়ে বন্ধনে যেসব স্ত্রীলোক আবদ্ধ আছে তারাও তোমাদের জন্য হারাম; অবশ্য যারা [যুদ্ধে] তোমাদের হস্তগত হইবে তারা এর অন্তর্ভুক্ত নয় [সূরাদি. নিসা- ২৪]।

সহিহ, সহিহ আবু দাউদ [১৮৭১] এ হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান বলেছেন। এ হাদীসটি আরো কয়েকটি সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। সূত্রগুলো এরূপ-সাওর উসমান আল বাত্তী হইতে, তিনি আবুল খালীল হইতে, তিনি আবু সাঈদ হইতে তিনি। হাম্মাম কাতাদা হইতে, তিনি সালিহ আবুল খালীল হইতে, তিনি আবু আলকামা আল-হাশিমী হইতে, তিনি আবু সাঈদ হইতে। আবুল খালীলের নাম সালিহ, পিতার নাম আবু মারইয়াম। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৭. অনুচ্ছেদঃ ব্যভিচারিনীর উপার্জন হারাম

১১৩৩. আবু মাসউদ আল-আনসারী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, কুকুরের বিক্রয় মূল্য, ব্যভিচারিনীর উপার্জন এবং গণক ঠাকুরের উপটৌকন রাসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] নিষিদ্ধ করিয়াছেন।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২৫৯০], বুখারী, মুসলিম। রাফি ইবনি খাদীজ, আবু জুহাইফা, আবু হুরাইরা ও ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৮. অনুচ্ছেদঃ কোন লোক তার ভাইয়ের বিয়ের প্রস্তাবের উপর প্রস্তাব যেন না দেয়

১১৩৪. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেনঃ কোন লোক যেন তার অন্য ভাইয়ের ক্রয়-বিক্রয় প্রস্তাবের উপর নিজের ক্রয়-বিক্রয়ের প্রস্তাব না করে এবং তার বিয়ের প্রস্তাবের উপর যেন নিজের বিয়ের প্রস্তাব না দেয়।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২১৭২], বুখারী, মুসলিম। কুতাইবা বলেছেন, এ বর্ণনাটি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] পর্যন্ত আবু হুরাইরা [রাদি.] পৌছিয়েছেন এবং ঈমাম আহমাদ বলেছেন, তাহাঁর নিকট হইতে তিনি  বর্ণনা করিয়াছেন। সামুরা ও ইবনি উমর [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু হুরাইরা [রা] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। ঈমাম মালিক [রঃ] বলেন, এ হাদীসের অর্থ হলঃ কোন মহিলার নিকট যদি কোন লোক বিয়ের প্রস্তাব পাঠায় সে যদি তাতে সম্মত হয় তবে ঐ মহিলার নিকট অন্য কোন লোকের বিয়ের প্রস্তাব দেয়ার কোন অধিকার নেই। ঈমাম শাফিঙ্গ [রঃ] বলেন, এ হাদীসটির তাৎপর্য হচ্ছেঃ কোন মহিলার নিকটে কোন লোক বিয়ের প্রস্তাব পাঠানোর পর সে তা গ্রহণ করলে এবং তাতে আগ্রহ দেখালে এ অবস্থায় তার নিকট অন্য লোকের বিয়ের প্রস্তাব পাঠানো উচিত হইবে না। হ্যাঁ, যদি প্রথম ব্যক্তির প্রস্তাবের পক্ষে ঐ মহিলা আকৃষ্ট কি-না তা না যানা গেলে এরকম পরিস্থিতিতে তার নিকট অন্য কোন ব্যক্তির প্রস্তাব পাঠাতে কোন সমস্যা নেই। ফাতিমা বিনতু কাইস [রাদি.]-এর ঘটনা সম্বলিত হাদীসই এর দলীল। তিনি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে তাঁকে বলিলেন, তার নিকট আবু জাহ্ম ইবনি হুযাইফা ও মুআবিয়া ইবনি আবু সুফিয়ান বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তিনি তাকে পরামর্শ দিলেনঃ আবু জাহ্মের হাতের লাঠি নারীদের হইতে সরে না এবং মুআবিয়া নিঃস্ব-দরিদ্র ব্যক্তি, তার কোন ধন-সম্পদ নেই। বরং তুমি উসামাকে বিয়ে কর। আমাদের মতে এ হাদীসের তাৎপর্য হলঃ ফাতিমা [রাদি.] রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট তাহাদের কোন একজনের সাথে বিয়েতে আবদ্ধ হওয়ার সম্মতি চাননি। তিনি তা করলে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার নিকট অন্য ব্যক্তির প্রস্তাব করিতেন না। আল্লাহ তাআলাই ভালো জানেন।বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৩৫. আবু বকর ইবনি আবু জাহম [রঃ] হইতে বর্ণীতঃ

ফাতিমা বিনতু কাইসের নিকট আমি ও আবু সালামা ইবনি আবদুর রাহমান গেলাম। তিনি আমাদের বলিলেন, তাকে তার স্বামী তিন তালাক দিয়ে দিয়েছে কিন্তু সে তার জন্য থাকার ও ভরণপোষণের কোন ব্যবস্থা করেনি তবে আমার জন্য তার চাচাতো ভাইয়ের নিকট পাঁচ কাফীয যব ও পাঁচ কাফীয আটা মোট দশ কাফীযের ব্যবস্থা করেছে। ফাতিমা [রাদি.] বলেন, আমি বিষয়টি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে তাকে অবহিত করলাম। তিনি আরো বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বললেনঃ “সে ঠিকই করেছে”। তিনি আমাকে নির্দেশ দিলেন উন্মু শারীকের বাড়ীতে ইদ্দাত পালনের জন্য। আবার তিনি আমাকে বললেনঃ “মুহাজিরদের চলাচল খুব বেশি হয়ে থাকে উম্মু শারীকের বাড়ীতে। অতএব, তুমি ইদ্দাত পালন কর উন্মু মাকতূমের ছেলের বাড়ীতে। তুমি প্রয়োজনে কাপড় পরিবর্তন করলে সে তোমাকে দেখিতে পাবে না। কোন লোক যদি তোমাকে তোমার ইদ্দাত পূর্ণ হওয়ার পর বিয়ের প্রস্তাব দেয় তবে তুমি আমার নিকট এসো।” আমার ইদ্দাত শেষ হবার পর আবু জাহম ও মুআবিয়া উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠান। ফাতিমা [রাদি.] বলেন, আমি বিষয়টি রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর নিকট এসে তাকে জানালাম। তিনি বলিলেন মুআবিয়া দরিদ্র লোক, তার তেমন কোন ধন-সম্পদ নেই। আর স্ত্রীদের প্রতি আবু জাহম খুবই কঠোর। ফাতিমা [রাদি.] বলেন, তারপর আমার নিকট উসামা ইবনি যাইদ [রাদি.] প্রস্তাব করেন এবং আমাকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার সাথে বিয়ে দেন। আল্লাহ তাআলা আমাকে অশেষ কল্যাণ ও বারকাত দান করিয়াছেন উসামার মাধ্যমে।

সহিহ, ইরওয়া [৬/২০৯], সহিহ আবু দাউদ [১৯৭৬], মুসলিম। এ হাদীসটি হাসান সহিহ। এ হাদীসটি আবু জাহমের সূত্রে সুফিয়ান সাওরীও বর্ণনা করিয়াছেন। তাতে এ কথাও আছেঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] আমাকে বললেনঃ “তুমি উসামাকে বিয়ে কর।” আবু ঈসা বলেন, আমি এই হাদীসটি নিম্নোক্ত সূত্রেও পেয়েছিঃ মাহমুদ-ওয়াকী হইতে, তিনি সুফিয়ান হইতে, তিনি আবু বাকর ইবনি আবু জাহম হইতে। সহিহ, দেখুন পূর্বের হাদীস, ইরওয়া [১৮৬৪] বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৩৯. অনুচ্ছেদঃ আযল প্রসঙ্গে

১১৩৬. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আযল করতাম। কিন্তু এটাকে জীবন্ত কবর দেয়ার নামান্তর মনে করে ইয়াহুদীরা। তিনি বললেনঃ ইয়াহুদীরা মিথ্যা বলেছে। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা কোন কিছু সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নিলে কেউই তা বাধা দিয়ে রাখতে পারে না।

সহিহ, আল-আ-দাব [৫২], সহিহ আবু দাউদ [১৮৮৪] উমার, বারাআ, আবু হুরাইরা ও আবু সাঈদ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৩৭. জাবির ইবনি আবদুল্লাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমরা কুরআন অবতীর্ণ হইতে থাকাকালে [আল্লাহর রাসূলের জীবদ্দশায়] আযল করতাম।

– সহীহ, ইবনি মা-জাহ [১৯২৭], বুখারী, মুসলিম জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। তার নিকট হইতে এ হাদীসটি বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। আযল করার অনুমতির পক্ষে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈ মত দিয়েছেন। ঈমাম মালিক ইবনি আনাস [রঃ] বলেছেন, স্বাধীন স্ত্রীর অনুমতি নেওয়ার পর আযল করা জায়িয, কিন্তু দাসীর নিকট অনুমতির প্রয়োজন নেই। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪০. অনুচ্ছেদঃ আযল করা মাকরূহ

১১৩৮. আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আযল করা প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সামনে আলোচনা করা হলে তিনি বললেনঃ তোমাদের মাঝে কোন লোক তা করে কেন? [অধস্তন বর্ণনাকারী] ইবনি আবু উমারের বর্ণিত হাদীসের মধ্যে আরো আছেঃ রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] একথা বলেননি “তোমাদের মাঝে কোন লোক যেন তা না করে।” তারপর উভয়ের [কুতাইবা ও ইবনি আবু উমার] বর্ণনায় আরও উল্লেখ আছে, “আল্লাহ তাআলা সেসবকে অবশ্যই সৃষ্টি করবেন যেসব জীবন সৃষ্টি হওয়ার জন্য নিৰ্দ্ধারিত হয়ে আছে।”

সহিহ, আল-আ-দাব [৫৪, ৫৫], সহিহ আবু দাউদ [১৮৮৬], মুসলিম। জাবির [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবু সাঈদ [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। বিভিন্ন সূত্রে আবু সাঈদ [রাদি.]-এর নিকট হইতে উল্লেখিত হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। আযল করাকে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্যরা অপছন্দ করিয়াছেন। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪১. অনুচ্ছেদঃ বাকিরা ও সাইয়্যিবা স্ত্রীর মধ্যে পালা বন্টন

১১৩৯. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি যদি ইচ্ছা করি তবে বলিতে পারি যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] বলেছেন। কিন্তু তিনি বলেছেনঃ সুন্নাত নিয়ম হচ্ছে, নিজের স্ত্রী থাকার পরেও কোন লোক কুমারী নারীকে বিয়ে করলে একাধারে সাত দিন সে তার সাথে অবস্থান করিবে এবং সায়্যিবা [অকুমারী] নারীকে বিয়ে করলে একাধারে তিন দিন তার সাথে অবস্থান করিবে।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৯১৬], বুখারী, মুসলিম। উম্মু সালামা [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীসটিকে মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাক আইয়্যূব হইতে তিনি আবু কিলাবা হইতে তিনি আনাস [রাদি.]-এর সূত্রে মারফুভাবে বর্ণনা করিয়াছেন এবং মাওকুফভাবেও কিছু বর্ণনাকারী বর্ণনা করিয়াছেন। কোন কোন আলিম এ হাদীস মোতাবেক আমল করিয়াছেন। তারা বলেছেন, নিজের স্ত্রী থাকার পরেও কোন লোক কুমারী নারীকে বিয়ে করলে সাত দিন তার নিকট অবস্থান করিবে, তারপর উভয়ের মধ্যে সঠিকভাবে পালাবণ্টন করিবে। সায়্যিবা [অকুমারী] মহিলাকে যদি সে লোক বিয়ে করে তবে তিনদিন তার সাথে অবস্থান করিবে। এই মত দিয়েছেন ঈমাম মালিক, শাফিঈ, আহমাদ ও ইসহাক [রঃ]। কতিপয় তাবিঈ বলেন, নিজ স্ত্রী থাকাবস্থায় কোন লোক কুমারী নারীকে বিয়ে করলে তিন দিন এই শেষোক্তের নিকট অবস্থান করিবে এবং সায়্যিবা নারীকে বিয়ে করলে তার নিকট দুইদিন অবস্থান করিবে। তবে অধিক গ্রহণযোগ্য হচ্ছে প্রথমোক্ত অভিমতটি। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪২. অনুচ্ছেদঃ স্ত্রীদের মধ্যে আচরণে সমতা রক্ষা করা

১১৪০. আইশা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী [সাঃআঃ] তাহাঁর বিবিদের মাঝে খুবই ন্যায়সংগতভাবে পালা বন্টন করিতেন। আর তিনি বলিতেনঃ

 اللَّهُمَّ هَذِهِ قِسْمَتِي فِيمَا أَمْلِكُ فَلاَ تَلُمْنِي فِيمَا تَمْلِكُ وَلاَ أَمْلِكُ

“হে আল্লাহ! আমার সামর্থ্য অনুযায়ী এই আমার পালা বন্টন। যে ব্যাপারে শুধু তোমারই পূর্ণ শক্তি আছে, আমার কোন শক্তি নেই, সেই ব্যাপারে আমাকে তিরস্কার কর না।”

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[১৯৭১] আবু ঈসা বলেছেন, আইশা [রাদি.] বর্ণিত হাদীসটি একাধিক রাবী হাম্মাদ ইবনি সালামা হইতে উল্লিখিত সূত্রে বর্ণনা করিয়াছেন। কোন কোন বর্ণনায় আবু কিলাবার সূত্রে এ হাদীসটি মুরসাল হিসেবে বর্ণিত হয়েছে এবং এটাই বেশী সহীহ। “লা তালুম্‌নী ফীমা তামলিকু অলা আমলিকু”-এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে কোন কোন আলিম বলেছেনঃ আন্তরিক প্রেম-ভালোবাসার উপর আমার কোন নিয়ন্ত্রণ নেই [এটা কম-বেশী হইতে পারে]। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১১৪১. আবু হুরাইরা [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

নাবী সাল্লাল্লাহু ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে লোকের নিকট দুজন স্ত্রী আছে সে লোক যদি তাহাদের মধ্যে সমতা না রাখে তবে কিয়ামাতের দিন সে লোক তার দেহের এক পার্শ্ব ভাঙ্গা অবস্থায় উপস্থিত হইবে।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৯৬৯] এই হাদীসটি মুসনাদ হিসাবে কাতাদার সূত্রে হাম্মাম ইবনি ইয়াহইয়া বর্ণনা করিয়াছেন। কাতাদার সূত্রে হিশাম আদ-দাসতাওয়াঈও এটিকে বর্ণনা করিয়াছেন। তিনি বলেন, কথিত আছে যে, এটা মারফূ হিসাবে শুধু হাম্মামের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে। আর হাম্মাম একজন বিশ্বস্ত ও স্মরণশক্তি সম্পন্ন বর্ণনাকারী। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৩. অনুচ্ছেদঃ মুশ্রিক স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কোন একজন ইসলাম গ্রহণ করলে

১১৪২. আমর ইবনি শুআইব [রাহঃ] হইতে পর্যায়ক্রমে তার পিতা ও দাদা হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] স্বীয় কন্যা যাইনাবকে পুনরায় মোহর নির্ধারণ করে এবং নতুন বিয়ের মাধ্যমে আবুল আস ইবনির রাবীর নিকটে ফিরিয়ে দেন।

যঈফ, ইবনি মাজাহ হাদীস নং-[২০১০] আবু ঈসা বলেনঃ এ হাদীসের সনদ সম্পর্কে সমালোচনা রহিয়াছে। বিদ্বানগণ এই হাদীসের মর্মানুযায়ী আমল করিয়াছেন। কোন মহিলা যদি প্রথমে ইসলাম গ্রহণ করে এবং তার ইদ্দত পালনের সময়ই তার স্বামী ইসলাম গ্রহণ করে তবে তার পূর্ব স্বামীর অধিকার অগ্রগণ্য। মালিক ইবনি আনাস, আল-আওযায়ী, শাফিঈ, আহ্‌মাদ ও ইসহাক প্রমুখ ঈমামগণের ইহাই অভিমত। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ দুর্বল হাদীস

১১৪৩. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তাহাঁর মেয়ে যাইনবকে প্রথম বিয়ে বহাল রেখেই আবুল আস ইবনির রাবীকে ছয় বছর পর ফিরিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে বিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেননি।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [২০০৯] আবু ঈসা বলেন, এ হাদীসের সনদে কোন সমস্যা নেই। কিন্তু এর কারণ প্রসঙ্গে আমরা কিছু জানি না। সম্ভবতঃ এই বিষয়টি দাউদ ইবনি হুসাইনের স্মরণশক্তির দুর্বলতার জন্যেই উৎপত্তি হয়েছে। বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

১১৪৪. ইবনি আব্বাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর সময়ে এক লোক মুসলমান হয়ে আসার পর তার স্ত্রীও মুসলমান হয়ে আসে। লোকটি বলিল, হে আল্লাহর রাসূল! সে আমার সাথে মুসলমান হয়েছে। অতএব আমার স্ত্রী আমাকে ফিরিয়ে দিন। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার স্ত্রী তাকে ফেরত দিলেন। এ হাদীসটি সহীহ।

ইয়াযীদ ইবনি হারূন মুহাম্মাদ ইবনি ইসহাকের সূত্রে হাদীসটি উল্লেখ করিয়াছেন। হাজ্জাজের সূত্রে আমর ইবনি শুয়াইব হইতে তিনি তার পিতা হইতে তিনি তার দাদা হইতে বর্ণনা করিয়াছেন যে, রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] তার কন্যা যাইনাবকে নতুনভাবে মহরানা ধার্য্য করে নতুন বিয়ের মাধ্যমে আবুল আসের নিকট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ইয়াযীদ ইবনি হারুন বলেছেনঃ ইবনি আব্বাস [রাদি.] বর্ণিত হাদীস সনদের দিক হইতে খুবই উত্তম, কিন্তু আমর ইবনি শুআইবের হাদীস অনুসারে আমল প্রচলিত আছে।আমর ইবনি শুআইব এর হাদীসটি যঈফ; ইরওয়া [১৯১৮] । যঈফ আবু দাউদ [৩৮৭] বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

৪৪. অনুচ্ছেদঃ বিয়ের পরবর্তীতে সহবাস ও মোহর নির্ধারণের আগে স্বামী মৃত্যুবরণ করলে

১১৪৫. ইবনি মাসউদ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তাকে প্রশ্ন করা হলঃ এক লোক এক মহিলাকে বিয়ের পর তার মোহর না ঠিক করে এবং তার সাথে সহবাস না করেই মৃত্যুবরণ করিল, তার জন্য কি হুকুম আছে? ইবনি মাসউদ [রাদি.] বলিলেন, মহিলাটি তার পরিবারের অন্যান্য মেয়েদের সম-পরিমাণ মোহর পাবে, তার কমও পাবে না বেশিও পাবে না। তার স্বামীর মৃত্যুর জন্য সে মহিলাটি ইদ্দাত পালন করিবে এবং সে [তার] ওয়ারিসের অধিকারীও হইবে। তখন মাকিল ইবনি সিনান আল-আশজাঈ [রাদি.] দাঁড়িয়ে বলিলেন, আপনি যে ধরণের ফায়সালা করিয়াছেন, আমাদের বংশের মেয়ে ওয়াশিকের কন্যা বিরওয়াআ প্রসঙ্গে রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ] ও একই ফায়সালা করিয়াছেন। ইবনি মাসউদ [রাদি.] এটা শুনে খুবই আনন্দিত হন।

সহিহ, ইবনি মা-জাহ [১৮৯১]। আল-জাররাহ [রাদি.] হইতেও এ অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। উপরোক্ত হাদীসের মত ইয়াযীদ ইবনি হারূন ও আবদুর রাযযাক-সুফিয়ান হইতে, তিনি মানসূর হইতে এর সূত্রেও হাদীস বর্ণিত আছে। ইবনি মাসউদ [রাদি.]-এর বর্ণিত হাদীসটিকে আবু ঈসা হাসান সহিহ বলেছেন। এ হাদীসটি তার নিকট হইতে একাধিক সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীস অনুযায়ী রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অপরাপর আলিম আমল করিয়াছেন। এই মত দিয়েছেন সুফিয়ান সাওরী, আহমাদ ও ইসহাক [রঃ]-ও। রসুলুল্লাহ [সাঃআঃ]-এর অন্য একদল সাহাবী, যেমন আলী ইবনি আবু তালিব, যাইদ ইবনি সাবিত, ইবনি আব্বাস ও ইবনি উমর [রাদি.] বলেছেন, কোন স্ত্রীলোককে কোন লোক বিয়ে করে মোহর নির্ধারণ ও সহবাসের আগে মৃত্যুবরণ করলে সে মীরাস পাবে কিন্তু মোহর পাবে না এবং সেই মহিলাকে ইদ্দাত পালন করিতে হইবে। একথাটি ঈমাম শাফিও ব্যক্ত করিয়াছেন। তিনি আরো বলেছেন, ওয়াশিকের কন্যা বিরওয়াআর হাদীস [সহিহ] হিসেবে প্রমাণিত হলে তবে রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসায়াম হইতে প্রাপ্ত সর্বশেষ ফায়সালা হইবে এটাই। মিসর গিয়ে শাফিঙ্গ [রঃ] নিজের প্রথম অভিমতটি বাতিল করেন এবং এ হাদীস অনুযায়ী মত গ্রহণ করেন।বিবাহের হাদিস – এই হাদীসটির তাহকিকঃ সহীহ হাদীস

By ইমাম তিরমিজি

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply