নতুন লেখা

আল্লাহ রাঃসাঃ কে সব বিপাদাপদ থেকে রক্ষা করেছেন।

আল্লাহ রাঃসাঃ কে সব বিপাদাপদ থেকে রক্ষা করেছেন।

আল্লাহ রাঃসাঃ কে সব বিপাদাপদ থেকে রক্ষা করেছেন। << নবুওয়তের মুজিযা হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন

ষোড়শ পরিচ্ছেদ: আল্লাহ রাঃসাঃ কে সব বিপাদাপদ থেকে রক্ষা করেছেন।

আল্লাহ বলিয়াছেন,

আর আল্লাহ তোমাকে মানুষ থেকে রক্ষা করবেন। [কোরআনের সুরা মায়েদা: ৬৭]

`আয়েশা রাদি. আনহা হইতে বর্ণিত। তিনি বলেন, যুরাইক গোত্রের লাবীদ ইবনু আ`সাম নামক এক ব্যক্তি রাঃসাঃ কে জাদু করে।। রাঃসাঃ এর খেয়াল হতো তিনি একটি কাজ করছেন, অথচ তা তিনি করেন নি। একদিন বা এক রাত্রি তিনি আমার কাছে ছিলেন। তিনি বার বার দো`আ করতে থাকেন। তারপর তিনি বলেন, হে `আয়েশা! তুমি কি উপলব্ধি করতে পেরেছ যে, আমি আল্লাহর কাছে যা জানতে চেয়েছিলাম, তিনি আমাকে তা জানিয়ে দিয়েছেন। [স্বপ্নে দেখি] আমার নিকট দু`জন লোক আসেন। তাদের একজন আমার মাথার কাছে এবং অপরজন দু`পায়ের কাছে বসেন। একজন তাহাঁর সঙ্গীকে বলেন, এ লোকটির কি ব্যথা [অসুখ]? তিনি বলেন, জাদু করা হয়েছে। প্রথম জন বলল, কে জাদু করেছে? দ্বিতীয় জন বলেন, লাবীদ ইন `আসাম। প্রথম জন জিজ্ঞাসা করেন, কিসের মধ্যে? দ্বিতীয়জন উত্তর দেন, চিরুনী, মাথা আচড়ানোর সময় উঠা চুল এবং এক পুং খেজুর গাছের `জুব`-এর মধ্যে। প্রথম জন বলেন, তা কোথায়? দ্বিতীয় জন বলেন, `যারওয়ান` নামক কুপের মধ্যে। তখন রাঃসাঃ এর কয়েকজন সাহাবী সঙ্গে নিয়ে তথায় যান। পরে ফিরে এসে বলেন, হে আয়েশা! সে কুপের পানি মেহেদী পানির মত [লাল] এবং তার পাড়ের খেজুর গাছের মাথাগুলো শয়তানের মাথার মত। আমি বলিলাম, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি কি এ কথা প্রকাশ করে দিবেন না? তিনি বলিলেন, আল্লাহ আমাকে আরোগ্য দান করেছেন, আমি মানুষকে এমন ব্যাপারে প্ররোচিত করতে পছন্দ করি না, যাতে অকল্যাণ রয়েছে। তারপর রাঃসাঃ নির্দেশ দিলে সেগুলো মাটিতে পুঁতে ফেলা হয়। আবূ উসামা, আবূ দামরা, ও ইবনু আবূ যিনাদ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হিশাম থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। লাইস ও ইবনু উয়াইনা [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] হিশাম থেকে বর্ণনা করেছেন, চিরুনী ও কাতানের টুকরায়। আবূ `আবদুল্লাহ [রহমাতুল্লাহি আলাইহি] বলেন, `আল-মুশাতা` হল চিরুণী করার পর যে চুল বের হয়। `মুশাকা` হল কাত্তান। [1]

আবূ হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, খাইবার যখন বিজয় হয়, তখন রাঃসাঃ এর নিকট হাদীয়া স্বরূপ একটি [ভুনা] বকরী প্রেরিত হয়। এর মধ্যে ছিল বিষ। তখন রাঃসাঃ বলিলেন, এখানে যত ইয়াহূদী আছে আমার কাছে তাদের জমায়েত করো। তাহাঁর কাছে সবাইকে জমায়েত করা হল। রাঃসাঃ তাদের সম্বোধন করে বলিলেন, আমি তোমাদের নিকট একটি বিষয়ে জানতে চাই, তোমরা কি সে বিষয়ে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম। রাঃসাঃ বলিলেন, তোমাদের পিতা কে? তারা বলল, আমাদের পিতা অমুক। রাঃসাঃ বলিলেন, তোমরা মিথ্যে বলেছ বরং তোমাদের পিতা অমুক। তারা বলল, আপনি সত্য বলিয়াছেন ও সঠিক বলিয়াছেন। এরপর তিনি বলিয়াছেন, আমি যদি তোমাদের নিকট আর একটি প্রশ্ন করি, তাহলে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমাকে সত্য কথা বলবে? তারা বলল, হ্যাঁ, হে আবুল কাসিম যদি আমরা মিথ্যে বলি তবে আপনি আমাদের মিথ্যে জেনে ফেলবেন, যেমনিভাবে জেনেছেন আমাদের পিতার ব্যাপারে। তখন রাঃসাঃ তাদের বলিলেন, জাহান্নামী কারা? তারা বলল, আমরা সেখাসে অল্প দিনের জন্য থাকবো। তারপর আপনারা আমাদের স্থলাবিষিক্ত হবেন। রাঃসাঃ বলিলেন, তোমরাই সেখানে লাঞ্চিত হয়ে থাকো। আল্লাহর কসম! আমরা কখনোই সেখানে স্থলাবিষিক্ত হবো না। এরপর রাঃসাঃ তাদের বলিলেন, আমি যদি তোমাদের কাছে আর একটি বিষয়ে প্রশ্ন করি, তবে কি তোমরা সে ব্যাপারে আমার কাছে সত্য কথা বরবে? তারা বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি বলিলেন, তোমরা কি এ বকরীর মধ্যে বিষ মিশ্রিত করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ। তিনি বলিলেন, কিসে তোমাদের এ কাজে উদ্ধুদ্ধ করেছে? তারা বললো, আমরা চেয়েচি, যদি আপনি [নবুওয়তের দাবীতে] মিথ্যাবাদী হন, তবে আমরা আপনার থেকে মুক্তি পেয়ে যাব। আর যদি আপনি [সত্য] নাবী হন, তবে এ বিষ আপনার কোনো ক্ষতি করবে না। [2]

জাবির ইবনু আবদুল্লাহ রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত আছে যে, তিনি নাবী রাঃসাঃ এর সঙ্গে নাজদের দিকে কোনো এক যুদ্ধে বের হয়েছিলেন। নাবী রাঃসাঃ প্রত্যাবর্তন করলে তিনিও তাহাঁর সঙ্গে প্রত্যাবর্তন করেন। তারা যখন কন্টকাকীর্ণ বৃক্ষরাজীতে ঢাকা এক উপত্যকায় উপস্থিত হলেন তখন তাহাঁদের দিবা বিশ্রামের সময় এলো। রাঃসাঃ সেখানে অবতরণ করেন। লোকেরা ছায়ার আশ্রয়ে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়ল। রাঃসাঃ  একটি বাবলা গাছের নীচে অবতরণ করিলেন এবং তাতে তাহাঁর তরবারী ঝুলিয়ে রাখলেন। তারপর আমরা সকলেই ঘুমিয়ে পড়লাম। হঠাৎ এক সময় রাঃসাঃ  আমাদের ডাকতে লাগলেন। দেখলাম তাহাঁর পার্শ্বে একজন গ্রাম্য আরব। তিনি বলিলেন, আমার নিদ্রাবস্থায় এই ব্যক্তি আমারই তরবারী আমারই উপর বের করে ধরেছে। জেগে উঠে দেখতে পেলাম যে, তার হাতে খোলা তরবারী। সে বলল, আমার থেকে তোমাকে কে রক্ষা করবে, আমি বলিলাম, আল্লাহ! আল্লাহ! তিনবার। এবং তার উপর তিনি কোনো প্রতিশোধ নেননি, অথচ সে সেখানে বসে আছে। [3]

আবু হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আবু জাহল বলেছিল, মুহাম্মাদ কি তার মুখমন্ডল যমীনের উপর রাখছে? লোকেরা বলল, হ্যাঁ, রাখছে। তখন সে বলল, আমি লাত এবং উযযার কসম করে বলছি, আমি যদি তাকে এমন করতে দেখি তবে অবশ্যই আমি তার ঘাড় পদদলিত করবো। অথবা তার মুখমন্ডল আমি মাটিতে মেখে দিব। [নাউযু বিল্লাহ]…… অতঃপর একদা রাঃসাঃ  নামায আদায়ে মগ্ন ছিলেন। এমতাবস্থায় আবু জাহল রাঃসাঃ  এর ঘাড়কে পদদলিত করার লক্ষ্যে তার নিকট আসল। হঠাৎ করে লোকেরা দেখতে পেল যে, সে একা একা-স্বীয় হস্তদ্বয়ের দ্বারা কোনো কিছুকে প্রতিহত করা অবস্থায় পা পা করে পেছনের দিকে সরে আসছে। এ দেখে তাকে জিজ্ঞেস করা হল, তোমার কি হায়ছে? উত্তরে সে বলল, আমি দেখেছি যে, আমার এবং তাহাঁর মাঝে আশুণের একটি প্রকান্ড খাদক, ভয়াবহ অবস্থা এবং কতগুলো ডানা। রাঃসাঃ  বলেন, সে যদি আমার নিকটে আসতো, তবে ফিরিশতাগণ তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ টুকরা টুকরা করে ছিঁড়ে নিয়ে যেতো। অতঃপর আল্লাহ তা`আলা নাযিল করিলেন, [বর্ণনাকারী বলেন, আবু হুরাইরা রাদি. আনহুর হাদীসের মধ্যে এ কথাটি আছে, না এ মর্মে তার নিকট সংবাদ পৌছেছে, এ বিষয়টি আমার জানা নেই !] কখনো নয়, নিশ্চয় মানুষ সীমালঙ্ঘন করে থাকে। কেননা সে নিজকে মনে করে স্বয়ংসম্পূর্ণ। অর্থাৎ তার সম্প্রদায়কে আহ্বান করুক। নিশ্চয় তোমার রবের দিকেই প্রত্যাবর্তন। তুমি কি তাকে দেখেছ যে নিষেধ করে। এক বান্দাকে, যখন সে নামায আদায় করে? তুমি কি দেখেছ, যদি সে হিদায়াতের উপর থাকে, অথবা তাকওয়ার নির্দেশ দেয়? যদি সে মিথ্যারোপ করে এবং মুখ ফিরিয়ে নেয়? [অর্থাৎ আবু জেহেল] সে কি জানেনা যে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ দেখেন? কখনো নয়, যদি সে বিরত না হয়, তবে আমি তাকে কপালের সম্মুখভাগের চুল ধরে টেনে- হিঁচড়ে নিয়ে যাব। মিথ্যাবাদী, পাপিষ্ঠ কপাল। অতএব, সে তার সভাসদদের আহবান করুক। অচিরেই আমি ডেকে নেব জাহান্নামের প্রহরীদেরকে। কখনো নয়, তুমি তার আনুগত্য করবে না”। [কোরআনের সুরা আল্-আলাক: ৬-১৯] উবাইদুল্লাহ রহ. তাহাঁর রেওয়ায়েতে আরো বলিয়াছেন, তিনি বলেন, তাকে যা আদেশ দিয়েছেন তিনি তা আদেশ করেছেন। ইবনু আব্দুল `আলা বলিয়াছেন, فَلۡيَدۡعُ نَادِيَهُۥ তার সম্প্রদায়কে আহবান করুক।” [4]

আবূ হুরাইরা রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাঃসাঃ বলিয়াছেন, আশ্চর্যান্বিত হওনা? [তোমরা কি দেখছনা] আমার প্রতি আরোপিত কুরাইশদের নিন্দা ও অভিশাপকে আল্লাহ তা`আলা কি চমৎকারভাবে দূরীভূত করছেন? তারা আমাকে নিন্দিত মনে করে গালি দিচ্ছে, অভিশাপ করছে অথচ আমি মুহাম্মদ-চির প্রশংশিত। [কাজেই তাদের গাল-মন্দ আমার উপর পতিত হয় না] [5]

সা`দ ইবনু আবূ ওয়াক্কাস রাদি. আনহু হইতে বর্ণিত, তিনি বলেন, উহুদ যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর সাথে আমি আরো দুই ব্যক্তিকে দেখলাম, যারা সাদা পোশাক পরিহিত অবস্থায় রাসূলুল্লাহ্ রাঃসাঃ এর পক্ষ হয়ে তুমুল লড়াই করেছে। আমি তাদেরকে পূর্বেও কোনোদিন দেখিনি এবং এর পরেও কোনোদিন দেখিনি। [6]


[1] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭৬৩, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২১৮৯।

[2] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৫৭৭৭।

[3] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ২৯১০, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ৮৪৩।

[4] সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৭৯৭।

[5] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৩৫৩৩।

[6] সহিহ বুখারি, হাদিস নম্বর ৪০৫৪, সহিহ মুসলিম, হাদিস নম্বর ২৩০৬।

About halalbajar.com

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Check Also

কাসাসুল আম্বিয়া pdf তথা নাবীগণের ঘটনা এবং বর্ণনা

কাসাসুল আম্বিয়া pdf তথা নাবীগণের ঘটনা এবং বর্ণনা কাসাসুল আম্বিয়া pdf তথা নাবীগণের ঘটনা এবং …

Leave a Reply

%d bloggers like this: