রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় । তাঁর জীবনধারার বিবরণ

রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয়

রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় , এই অধ্যায়ে হাদীস ১১ টি ( ২৫৪-২৬৩ পর্যন্ত ) << শামায়েলে তিরমিযী হাদীসের মুল সুচিপত্র দেখুন 

অধ্যায়-৪৭ঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বিনয়

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তাঁকে নিয়ে বাড়াবাড়ি করিতে নিষেধ করিয়াছেন

২৫৪. উমার ইবনি খাত্ত্বাব [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেন, তোমরা আমার সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করো না। যেমন খ্রিষ্টানরা ঈসা ইবনি মারইয়াম সম্পর্কে বাড়াবাড়ি করে থাকে। আমি আল্লাহর বান্দা। তাই আমাকে আল্লাহর বান্দা ও তাহাঁর রাসূলই বলো।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৩৪৪৫; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৬৪; দারিমী, হাদিস নং/২৭৮৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৬৮১; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৬২৩৯; জামেউস সগীর, হাদিস নং/১৩৩১৯; মুসনাদে হুমাইদী, হাদিস নং/৩০। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সামান্য খাবারে দাওয়াত দিলেও অংশগ্রহণ করিতেন

২৫৫. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, নাবী (সাঃআঃ) কে যবের রুটি এবং কয়েক দিনের পুরনো চর্বির তরকারী খাওয়ার দাওয়াত করলেও তা গ্রহণ করিতেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর একটি বর্ম এক ইয়াহুদির নিকট বন্ধক ছিল। শেষ জীবন পর্যন্ত তা ছাড়ানোর মতো পয়সা তাহাঁর হাতে ছিল না।{১}

{১} মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং/৪০১৫; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/২১২৯; জামেউস সগীর, হাদিস নং/৯০৭০; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হাদিস নং/১১৬৩২। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) একটি পুরনো আসনে বসে হজ্জ পালন করেন

২৫৬.আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) একটি পুরনো আসনে বসে হজ্জ পালন করেন। তাহাঁর আসনের উপর একটি কাপড় ছিল, যার মূল্য চার দিরহামও ছিল না। অতঃপর তিনি বলিলেন, হে আল্লাহ! তুমি এ হজ্জকে লৌকিকতা ও প্রচার বিলাস হতে মুক্ত করো।{১}

{১} ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/২৮৯০ঃ সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/২৬১৭; সহিহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং/১১২২ মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৭৩৪৩। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) তার জন্য কারো দাঁড়ানোকে পছন্দ করিতেন না

২৫৭. আনাস [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, সাহাবীগণের কাছে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর চেয়ে প্রিয় কোন ব্যক্তিত্ব এ পৃথিবীতে ছিল না। তা সত্ত্বেও তারা রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে দেখে দাঁড়াতেন না। কারণ, তারা জানতেন যে, তাকে দেখে দাঁড়ানোটা তিনি পছন্দ করিতেন না।{১}

{১} আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং/৯৪৬; তাহযীবুল আছার, হাদিস নং/২৭৪; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৩২৯; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১২৩৬৭; মুসন্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস নং/২৬০৯৬; সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/৩৫৮ ।রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর জীবনধারার আরো কিছু বিবরণ

২৫৮. হাসান ইবনি আলী [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আমি আমার মামা হিন্দ ইবনি আবু হালা [রাদি.] কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর অবস্থা জানার জন্য জিজ্ঞেস করলাম, যিনি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর অবস্থা অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে বর্ণনা করিতেন। তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর দেহাকৃতি ছিল উচ্চ ও মর্যাদাসম্পন্ন। তাহাঁর চেহারা ছিল পূর্ণিমা রাতের চাঁদের ন্যায় উজ্জ্বল। অতঃপর পূর্ণ বিবরণ পেশ করেন। হাসান [রাদি.] বলেন, এ হাদিস হুসাইন [রাদি.] এর কাছে বেশ কিছু কাল বর্ণনা করিনি। পরে বলা হলে জানা গেল যে, তিনি আমার আগেই এ হাদিসটি শুনেছেন। শুধু তাই নয়, তিনি এ হাদিসটি কেবল মামার কাছ থেকে শুনেননি; উপরন্তু পিতা আলী [রাদি.] এর কাছ হতেও রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর ঘরে প্রবেশ করা, বাইরে যাওয়া ও অন্যান্য রীতিনীতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। এ সম্পর্কে কোন কিছুই তিনি ছাড়েননি।

হুসাইন [রাদি.] বলেন, আমি আমার পিতা আলী [রাদি.] কে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর গৃহে প্রবেশ করার কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) যখন গৃহে প্রবেশ করিতেন, তখন তাহাঁর গৃহের অবস্থানকে তিনটি ভাগে ভাগ করিতেন। এক ভাগ আল্লাহর ইবাদাতের জন্য, এক ভাগ পরিবার-পরিজনের জন্য এবং এক ভাগ নিজের কাজকর্মের জন্য। এ কাজকর্মের সময়কেও তিনি ২ ভাগে বিভক্ত করেন। এক ভাগে নেহায়তই নিজের জন্য এবং এক ভাগ অন্যান্য লোকের জন্য। এ সময়ে বিশেষ বিশেষ সাহাবীগণ তাহাঁর নিকট আসতেন। তাহাদের কাছে কোন কিছুর অব্যক্ত থাকত না। এ সকল লোকের মধ্যে আলেমগণ প্রথমে আসার অনুমতি পেতেন। তাহাদের ধর্মীয় মর্যাদার বিচারে তাহাদেরকে সময় দিতেন। কেউ এক, কেউ দুই, আবার কেউ ততোধিক প্রয়োজন নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর কাছে আসতেন। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সকলের প্রয়োজন মিটিয়ে দিতেন এবং তাহাদেরকে এমন কাজের নির্দেশ দিতেন, যা তাহাদের নিজেদের এবং পুরো উম্মতের উপকারে আসে।

এ সময় তিনি সমবেতদের লক্ষ্য করে বলিতেন, তোমরা যারা এখানে উপস্থিত আছ, তারা আমার বাণী অনুপস্থিতদের কাছে পৌছে দেবে। যারা কোন কারণে আমাকে জিজ্ঞেস করিতে পারনি, তোমরা তাহাদের জিজ্ঞাসা আমার কাছ থেকে জেনে নিয়ে তাহাদেরকে জানিয়ে দেবে। কারণ, যে ব্যক্তি এমন কোন নিবেদন বাদশাহের কাছে পৌছায় যে বাদশা পর্যন্ত পৌছতে পারে না, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তাহাঁর কদমকে অটল রাখবেন। তোমরা এ ব্যাপারে সতর্ক হও। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর মজলিসে কেবল এসব আলোচনাই চলত। রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) সাহাবীগণের থেকে এসব আলাপ-আলোচনাই শুনতেন। সেখানে কোন প্রকার বাহুল্য কথাবার্তা হতো না। সাহাবীরা ধমীয় জ্ঞান আহরণের আগ্রহ নিয়ে আসতেন এবং দ্বীনের স্বাদ গ্রহণ করিতেন এবং তারা কল্যাণের দিশারী হয়ে ফিরে যেতেন।

হুসাইন [রাদি.] বলেন, আমি আমার পিতাকে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বাইরে যাওয়ার সময় কীরূপ করিতেন? তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) অহেতুক কথাবার্তা হতে স্বীয় জবানকে সংযত রাখতেন। মানুষের সাথে সুন্দর ব্যবহার করিতেন। তাহাদেরকে কোনভাবেই নিরুৎসাহিত করিতেন না। সকল গোত্রের সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান করিতেন এবং তাহাদের মধ্য হতে তাহাদের নেতা মনোনীত করিতেন। লোকদের আল্লাহর শাস্তির ভয় দেখাতেন। স্বীয় সঙ্গীদের খোজ-খবর রাখতেন এবং লোকদের পারস্পরিক সম্পর্ক অনুসন্ধান করে [কোন প্রকার জটিলতা থাকলে] তা সংশোধন করে দিতেন। ভালোকে সমর্থন করে তাকে শক্তিশালী করিতেন এবং খারাপকে খারাপ বলে প্রতিহত করিতেন। কোন প্রকার মতবিরোধ সৃষ্টি না করে সবকিছুতেই মধ্যমপস্থা অনুসরণ করিতেন। লোকদের সংশোধন করিতে কোন প্রকার অলসতা করিতেন না। নসীহত ও উপদেশ দানের সময় লোকেরা যেন উদাসীন ও বিরক্ত হয়ে না পড়ে, তিনি সে দিকেও খেয়াল রাখতেন। প্রত্যেক কাজের জন্য তাহাঁর কাছে বিশেষ ব্যবস্থা থাকত। সত্যের ব্যাপারে কোন প্রকার সংকীর্ণতা ছিল না, সীমা অতিক্রম হতো না। যেসব লোক তাহাঁর কাছে আসত, তারা উৎকৃষ্ট লোকে পরিণত হতো। যেই ব্যক্তি অপরের মঙ্গল কামনা করত, সে-ই তাহাঁর নিকট উত্তম ব্যক্তিরূপে সম্মানিত হতো। আর সে ব্যক্তিই তাহাঁর কাছে মর্যাদাসম্পন্ন ব্যক্তিরূপে মনে হতো, যে অন্যদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগিতায় অতি উৎসাহী ছিল।

হুসাইন [রাদি.] বলেন, আমি আমার মামার কাছে রসূলুল্লাহ এর মজলিস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) উঠা-বসায় সর্বাবস্থায় আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকতেন। যখন কোথাও যেতেন, যেখানেই তাঁকে বসতে দিত, তিনি সেখানেই বসতেন। অন্যদেরকেও অনুরূপ করার নির্দেশ দিতেন। তিনি লোকের মাথা ডিঙ্গিয়ে যেতে নিষেধ করেন। এ কথা সত্য যে, তিনি যে আসনেই বসতেন, তাই মধ্যমনির আসনে পরিণত হতো। তিনি উপস্থিত সকলেরই কথা শুনতেন। উপস্থিত সকলেই মনে করত যে, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমাকে অধিক মর্যাদা দিচ্ছেন। তাহাঁর কাছে কেউ আসলে সে নিজে উঠে না যাওয়া পর্যন্ত তিনি উঠতেন না। কেউ তাহাঁর কাছে কিছু চাইলে তা না দিয়ে তিনি তাকে ফিরিয়ে দিতেন না। না থাকলে নম্রভাবে বুঝিয়ে বলিতেন। তাহাঁর দান সবার জন্যই অবধারিত ছিল। মায়া-মমতায় তিনি সকলের পিতা স্বরূপ ছিলেন। ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে তাহাঁর নিকট সবাই সমান ছিল। তাহাঁর মজলিস ছিল জ্ঞান, লজ্জা, ধৈর্য ও আমানতের। সেখানে কোন প্রকার হট্টগোল হতো না এবং কারো মান-সম্মানেরও ক্ষতি হতো না। সকলেই সমান মর্যাদা পেতেন। তবে তাকওয়ার বিচারে একে অন্যের উপর মর্যাদাসম্পন্ন হতেন। একে অন্যের সঙ্গে বিনম্র ব্যবহার করিতেন। বড়কে শ্রদ্ধা ও ছোটকে স্নেহ করিতেন। প্রয়োজনধারীকে অগ্রাধিকার দেয়া হতো এবং ভিনদেশীকে হেফাযত করা হতো।{১}

{১} মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হাদিস নং/১৭৮৬৮; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৭০৫; জামেউস সগীর, হাদিস নং/৯৯৪৭; শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/১৩৬২। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৫৯. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) বলেছেন, আমাকে যদি ছাগলের একটি পা-ও দান করা হয়, তাহলে আমি অবশ্যই তা গ্রহণ করব। এ জন্য যদি আমাকে এতে দাওয়াত করা হয়, তবে আমি দাওয়াত গ্রহণ করব।{১}

1} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৩২০০; ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৫২৯১; মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৭৫২৯; সুনানুল কাবীর লিল বায়হাকী, হাদিস নং/১২২৯১; মুসান্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস নং/২২৪১৯ জামেউস সগীর, হাদিস নং/৯৩৮৮। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

২৬০. জাবির [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমার কাছে আসলেন; কিন্তু তখন তিনি খচ্চর বা তুর্কি ঘোড়ার উপর আরোহী ছিলেন না।{১}

{১} সহিহ বোখারী, হাদিস নং/৫৬৬৪; আবু দাউদ, হাদিস নং/৩০৯৮; মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদিস নং/১২৬৩; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং/২১৪০। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ তিনি নবজাতক বাচ্চাকেও কোলে তুলে নিতেন

২৬১. ইউসুফ ইবনি আবদুল্লাহ ইবনি সালাম [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) আমার নাম রাখেন ইউসুফ। অতঃপর তিনি আমাকে কোলে তুলে নেন এবং মাথার উপর হাত রাখেন।{১}

{১} আদাবুল মুফরাদ, হাদিস নং/৩৬৭; মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/১৬৪৫১; মুজামুল কাবীর লিত তাবারানী, হাদিস নং/১৮১৮৩; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৩৬৮; মুসান্নাফে ইবনি আবি শাইবা, হাদিস নং/৬৯০; মুসনাদে হুমাইদী, হাদিস নং/৯০৯। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছেদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) মাত্র ৪ দিরহাম মূল্যের হাওদার উপর বসে হজ্জ পালন করেন

২৬১. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) উটের পুরনো একটি হাওদায় বসে হজ্জ পালন করেন। এর উপর এক টুকরো কাপড় ছিল। আমাদের মতে এর মূল্য ৪ দিরহাম হইবে। হাওদায় উপবিষ্ট অবস্থায় তিনি এ দুআ করছিলেন যে, হে প্ৰভু! আমি হজ্জে তোমার দরবারে হাজির হয়েছি। তুমি একে লৌকিকতা ও প্রচারণার হতে মুক্ত রাখ।{1}

{1} ইবনি মাজাহ, হাদিস নং/২৮৯০ঃ সিলসিলা সহিহাহ, হাদিস নং/২৬১৭ সহিহ তারগীব ওয়াত তারহীব, হাদিস নং/১১২২ মুসনাদুল বাযযার, হাদিস নং/৭৩৪৩। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) লাউ খুব পছন্দ করিতেন

২৬২. আনাস ইবনি মালিক [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

এক দর্জি রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) কে দাওয়াত করে। তাহাঁর খাবারের জন্য লাউ মিশ্রিত সারীদ উপস্থিত করা হয়। লাউ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) এর খুব প্রিয় খাদ্য ছিল। এজন্য তিনি লাউ খেতে শুরু করেন।

সাবিত বলেন, আমি আনাস [রাদি.] কে বলিতে শুনিয়াছি, এরপর হতে আমার জন্য যে তরকারী রান্না করা হতো, তাতে লাউ দেয়া হতো, যদি তা সম্ভব হতো হতো।{১}

{১} শুআবুল ঈমান, হাদিস নং/৫৫৪৬; মুস্তাখরাজে আবু আওয়ানা, হাদিস নং/৬৭২০; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদিস নং/১৯৬৬৭ রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

পরিচ্ছদঃ রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করিতেন

২৬৩. আমরাহ [রাদি.] হইতে বর্ণীতঃ

তিনি বলেন, আয়েশাহ [রাদি.] কে জিজ্ঞেস করা হলো, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ঘরে অবস্থানকালে কি করিতেন? জবাবে তিনি বলিলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃআঃ) ছিলেন একজন মানুষ। পোশাকের মধ্যে তিনি উকুন তালাশ করিতেন, ছাগল দোহন করিতেন এবং নিজের কাজ নিজেই সম্পন্ন করিতেন।{১}

{১} মুসনাদে আহম্মদ, হাদিস নং/২৬২৩৭; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদিস নং/৪৮৭৩; শারহুস সুন্নাহ, হাদিস নং/৩৬৭৬; সহিহ ইবনি হিব্বান, হাদিস নং/৫৬৭৫। রসূলুল্লাহ [সাঃ] এর বিনয় হাদিসের তাহকিকঃ সহিহ হাদিস

By মুসলিম শরীফ

এখানে কুরআন শরীফ, তাফসীর, প্রায় ৫০,০০০ হাদীস, প্রাচীন ফিকাহ কিতাব ও এর সুচিপত্র প্রচার করা হয়েছে। প্রশ্ন/পরামর্শ/ ভুল সংশোধন/বই ক্রয় করতে চাইলে আপনার পছন্দের লেখার নিচে মন্তব্য (Comments) করুন। “আমার কথা পৌঁছিয়ে দাও, তা যদি এক আয়াতও হয়” -বুখারি ৩৪৬১। তাই এই পোস্ট টি উপরের Facebook বাটনে এ ক্লিক করে শেয়ার করুন অশেষ সাওয়াব হাসিল করুন

Leave a Reply